একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় অপর মোটরসাইকেলের আরোহী মুনিয়া মুক্তি (২১) নামে এক কলেজ ছাত্রী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সখীপুর-বাসাইল আঞ্চলিক সড়কের বাসুলিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মুক্তি জেলার সখীপুর উপজেলার গজারিয়া গ্রামের মজিবুর রহমানের মেয়ে।
বুধবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত মুনিয়া মুক্তি টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত কলেজের রসায়ন বিভাগের (অনার্স) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহত মুনিয়ার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার জরুরি কাজে বাড়ি এসে সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলযোগে কলেজের আবাসিক হলে ফিরছিলেন সে। বাসাইলের বাসুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া মোটরসাইকেল তাঁদের ধাক্কা দেয়। তাতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন মুনিয়া। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত মুনিয়ার চাচাতো ভাই আমিনুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মুনিয়ার লাশ সখীপুরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, দুর্ঘটনাস্থল আমাদের উপজেলার বাইরে। তাই এ বিষয়ে আমাদের কেউ কিছু জানায়নি।
একতার কণ্ঠঃ খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের লাশ তার শ্বশুরবাড়ি টাঙ্গাইল শহরের পলাশতলী এলাকায় পৌছেছে। বৃহস্পতিবার(১৪ সেপ্টেম্বর )সকাল থেকেই এই গুনি পরিচালকের মুখটা একবার দেখতে ভীড় করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
স্বজনরা জানিয়েছেন স্ত্রী ও তার (সোহানুর রহমান) ইচ্ছে ছিল মৃত্যুর পর তাদের দুইজনকে যেন পাশাপাশি দাফন করা হয়। সকাল ৯টায় টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদে জানাযা শেষে সেই ইচ্ছে পূরণেই টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে স্ত্রীর কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়েছে।
তার জানাযার নামাজে জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত পরিচালক রিয়াজুল রিজু, চলচ্চিত্র লেখক আবু সাঈদ চৌধুরী, শ্যালক শাহী, আত্মীয় স্বজনসহ স্থানীয় গন্যামান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর)বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ব্রেইন স্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করেন তার স্ত্রী প্রিয়া রহমান। পরদিন বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খ্যাতিমান পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান।
মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে দুইজনের মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে আছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
বহু ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রের নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘বিশ্বাস অবিশ্বাস’। এ নির্মাতার হাত ধরেই চলচ্চিত্রে আসেন সালমান শাহ, মৌসুমী, পপি ও ইরিন জামান। শাকিব খানের মুক্তি পাওয়া প্রথম সিনেমার পরিচালকও ছিলেন তিনি।
সোহানুর রহমান সোহানের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- ‘বিশ্বাস অবিশ্বাস’, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’, ‘আমার দেশ আমার প্রেম’, ‘অনন্ত ভালোবাসা’।
সোহানুর রহমান সোহান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে টানা দুইবার মহাসচিব এবং দু‘বার সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। শিবলি সাদিকের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রের কর্মজীবন শুরু করেন সোহানুর রহমান সোহান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ মতবিনিময় সভার অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শামীম আরা রিনি, সিভিল সার্জন ডা. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওলিউজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) নাফিসা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন আক্তার, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, পৌর মেয়রবৃন্দ ও বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিতি ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বনের ভেতর আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় নাসিমা খাতুন (৬২) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের মহানন্দপুর এলাকা থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত বৃদ্ধা ওই এলাকার আবুল হোসেনের স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে বাড়ির পাশে বনের ভেতর একটি আম গাছে নাসিমা খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও পারিবারিক কলহের কারণে ওই বৃদ্ধা আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, এ ঘটনায় সখীপুর থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক-মিনি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোবাহান মিয়া বহিরাগতদের নিয়ে বর্তমান সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যাকরী পরিষদের সদস্যদের উপর হামলা ও অফিস ভাঙচুরের প্রতিবাদে বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের নগরজালফৈ নিজস্ব কার্যালয়ে এ জরুরী মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. বালা মিয়া।
সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মাহতাবের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন,জেলা ট্রাক শমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সদস্য মো. আমিনুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. ফরহাদ আলী,মো. ইকবাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ছানি, সহ-সম্পাদক জামাল হোসেন ভুয়াপুরী,শহিদুল ইসলাম আনন্দ, কোষাদক্ষ মাহবুব আলম তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুর রউফসহ উপজেলা পর্যায়ের সংগঠনের সকল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগন।
সভায় বক্তারা বলেন, টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বালা মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মাহতাব একদিনে গড়ে উঠেনি। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে এবং কাঠখড় পুড়িয়ে তারা আজ এ পর্যায়ে এসেছেন। এছাড়াও নির্বাচনের মাধ্যমে তারা বারবার সভাপতি-সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। শ্রমিকদের ভালোবাসা আছে বিধায় তারা বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের উপর বর্বরোচিত এ ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোবাহান মিয়া সংগঠনের ৬০ লাখ টাকা হিসাব-নিকাশ না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এব্যাপারে আদালতে মামলাও হয়েছেন।
বক্তব্য শেষে সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য পদ থেকে অভিযুক্ত সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোবাহান মিয়াকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এর আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ট্রাক-শ্রমিক সংগঠন থেকে খন্ড-খন্ড মিছিল নিয়ে ৫ শতাধিক শ্রমিক মত বিনিময় সভায় অংশ নেয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার(১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার করটিয়া চরপাড়া হাটবাইপাস এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের কান্দিলা গ্রামের আব্দুল খলিল দেওয়ানের ছেলে ইয়াছিন দেওয়ান (৩৮), শহরের কোদালিয়া এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে মো. রনি আহমেদ (৩৯) ও ভূঞাপুর উপজেলার টেপিবাড়ি গ্রামের আব্দুল আজিজ ফনির ছেলে মো. শুভ মিয়া (২৯)।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, গ্রেপ্তারকৃত ইয়াছিন দেওয়ানের বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইসহ মোট তিনটি, রনি আহমেদের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও মাদকসহ পাঁচটি এবং মো. শুভ মিয়ার বিরুদ্ধে একটি ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা রয়েছে।
তিনি আরও জানান,মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলসহ তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে টাঙ্গাইল শহরের মুসলিম পাড়া (আবহাওয়া অফিস) থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, টাঙ্গাইল শহরের পার দিঘুলীয়া এলাকার কালাচান মিয়ার ছেলে রাসেল গোপা (৩৫), আকুরটাকুর পাড়া এলাকার শামছুল হকের ছেলে জনি (২৩) ও দক্ষিণ কলেজপাড়া এলাকার মৃত স্বপন মিয়ার ছেলে ফেরদৌস হাসান পাপ্পু (২০)।
পুলিশ জানায়, শহরের বেড়াডোমা এলাকার ভাড়াটিয়া জুয়েল মিয়ার কাছ থেকে গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় প্যাড়াডাইসপাড়া এলাকার ব্রীজের পাশ থেকে তার মোটরসাইকেলটি তিন ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ছিনতাই করে। পরে সোমবার জুয়েলের মা জবেদা বেগম বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সোমবার দিবাগত রাতে শহরের আবহাওয়া অফিসের পাশ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, মামলার পর পরই আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রাসেল গোপার বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, চুরি ও মাদকসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এছাড়াও জনির বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, চুরিসহ দুইটি এবং ফেরদৌস হাসান পাপ্পুর বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘আমি কী করব। বঙ্গবন্ধুকে যারা খুন করেছে, এখন তারা আমার বোনের পেছনে, কী করার আছে আমার। এ জন্য কিছু করতে পারি না, কিন্তু তাই বলে আমার এলাকায় রাস্তাঘাটে শিশুকে মেরে ফেলবে, আর পুলিশ এভাবে ভুঁড়ি ভাসিয়ে হাঁটবে, তাহলে তাদের দরকার কী।’ এ সময় তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ পুলিশকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে বলেন, ‘আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
মঙ্গলবার(১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিহত শিশুর সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশের সমালোচনা করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুটির বাবা পুলিশকে চারজনের নাম বলেছেন, অথচ ঘটনার আট দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি তারা। এই রকম গা ভাসানো পেটে চর্বিযুক্ত পুলিশ দিয়ে কী হবে।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় সবাই যখন পালিয়ে গিয়েছিল, তখন আমার ২৫ বছর বয়সে মনে হয়েছিল, যদি মা-বোনের ইজ্জত রক্ষা করতে না পারি, মানুষকে নিরাপত্তা দিতে না পারি; তাহলে বেঁচে থাকার চাইতে মরে যাওয়া অনেক ভালো। আমি সে জন্য যুদ্ধ করেছি, কিন্তু যুদ্ধের পরে দেখেছি, ওই সময় যারা পালিয়ে গিয়েছিল, ভয়ে নদীতে হাবুডুবু খেয়েছে, এখন আমার চাইতে তাদেরই দাম বেশি।’
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, ‘এভাবে দেশ চলতে পারে না, আমি এই দেশ চাই নাই। আমি সেই দেশ চেয়েছি, যে দেশে একজন সাধারণ মানুষের সন্তানও নিরাপদে থাকবে, রাজা-বাদশার মতো মানুষের মাথার ওপরে পা দিয়ে কেউ যেতে পারবে না।’
প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি আমার চাইতে পাঁচ মাসের ছোট, তারপরও আমি তাঁকে মায়ের মতো মনে করি। আর আমার মা কোনো রাস্তাঘাটের মানুষ নন। মায়ের প্রতি আমার সম্মানবোধ অনেক বেশি।’
সানোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীরপ্রতীক, সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব, নিহত শিশু সামিয়ার বাবা রঞ্জু মিয়া, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতা আশিক জাহাঙ্গীর, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
প্রকাশ,গত বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়াকে (৯) অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। ওই দিনই তারা পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে শিশুর বাবার মুঠোফোনে অডিও বার্তা পাঠায়। দুই দিন পর শুক্রবার বাড়ির কাছে ঝোপঝাড়ের মধ্যে শিশুটির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে রুবেল মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের হামিদপুর উত্তর পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম।
নিহত রুবেল উপজেলার সালেংকা গ্রামের সাইদুর রহমান কালুর ছেলে। দীর্ঘদিন যাবত তারা হামিদপুর বসবাস করেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, রুবেল বাড়ির পাশেই তাদের নিজস্ব রাইস মিলের গুদাম ঘরে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য একটি অটো গাড়ির গ্যারেজ তৈরি করেন। সোমবার দুপুরের দিকে গ্যারেজে বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। এ সময় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। স্বজনদের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতের মরদেহ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর শহীদ জিয়া মহিলা কলেজের শিক্ষক নূরুল আমিন (৫৮) রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে বড় ভাই আবুল হোসেন (৭০) সন্ধ্যায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি সরিষাবাড়ীর তারাকান্দি যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানির কর্মকর্তা ছিলেন।
শহীদ জিয়া মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মো. আবু সাদত বিপলু বলেন, জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূরুল আমিন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিকের জীববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রধান পরীক্ষক নিযুক্ত হন। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) সপরিবারে তিনি ঢাকা যান। রাতে বড় ভাই আবুল হোসেনের বাসায় ছিলেন। শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার পথে গুলশান-২ এলাকায় স্ট্রোক করেন। পরে পথচারীরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে তাঁর বড় ভাই আবুল হোসেন অসুস্থ থাকায় মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়নি। পরে সন্ধ্যায় ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে তিনিও স্ট্রোক করেন। পরে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকেও মৃত ঘোষণা করেন।
দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে পরিবার, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। রবিবার এশার নামাজের পর নূরুল আমিনকে এবং সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় তাঁর বড় ভাই আবুল হোসেনকে ভূঞাপুরের চর নিকলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিয়ের দুই দিনের মাথায় শ্যালিকাদের নিয়ে শ্বশুর বাড়ির পুকুরে গোসল করতে নেমে জাহাঙ্গীর হোসেন(২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর)দুপুরে মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের চাতারবাইদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত জাহাঙ্গীর ওই ইউনিয়নের আতেক্কার চালা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।
সোমবার (১১ সেপ্টেম্ব) দুপুরে মহিষমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শুক্রবার জাহঙ্গীরের সঙ্গে চাতারবাইদ গ্রামের সেলিম উদ্দিনের মেয়ের বিয়ে হয়। এরপর রবিবার সকালে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ‘ফিরানী’ তে যান জাহাঙ্গীর। মেজবানি শেষে ওইদিন বিকেলেই আবার বাড়ি ফেরার কথা ছিল জাহঙ্গীরের। দুপুরে শ্বশুরবাড়ির পাশের পুকুরে শ্যালক-শ্যালিকাদের সঙ্গে গোসলে নামেন জাহাঙ্গীর। হঠাৎ পুকুরে ডুবে যান তিনি। এরপর ভেসে না উঠায় ডাকাডাকি শুরু করে শ্যালক-শ্যালিকারা। এ সময় আশপাশের সবাই এগিয়ে এসে পানিতে নেমে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। প্রায় আধা ঘন্টা চেষ্টার পর জাহাঙ্গীরের নিথর দেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, পুকুরে ডুবে জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়। ধারনা করা হচ্ছে সাঁতার না জানায় মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটতে পারে।
তিনি আরও জানান,মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ঘরে থাকা ইঁদুর মারার বিষ পান করে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দুই শিশু ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের শালিয়াবহ গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
মৃত দুই শিশু হলেন, ওই গ্রামের শাহ-আলম মিয়ার ছেলে তাওহীদ মিয়া (৪) ও মেয়ে তানজিলা আক্তার (২)।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেলে পারিবারিক কাজে শাহ-আলমের স্ত্রী ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় ঘরে থাকা ইঁদুর মারার বিষ পান করে ফেলে তাওহীদ ও তানজিলা। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় পেঁচারআটা বাজারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাহ-আলম বলেন, আমি কাজে বাড়ির বাইরে ছিলাম। এসময় তাওহীদের মা পারিবারিককাজে ব্যস্ত ছিল। এর ফাঁকে ছেলে-মেয়েরা ঘরে রাখা ঈদুরের বিষ খেয়ে ফেলে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মাহবুব উল হক মাছুদ বলেন, ঘরে থাকা বিষ খেয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। তারা তদন্ত করছে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বলেন, শিশু দুটি কৃষক পরিবারের সন্তান। তাদের মা পারিবারিক কাজে ব্যস্ত ছিলনে। ধারণা করা হচ্ছে ঘরে রাখা কলা পাকানোর রাসায়নিক বা ইঁদুরের বিষ পান করে ফেলে শিশুরা। এক পর্যায়ে তাদের মৃত্যু হয়। বর্তমানে লাশ দুটি তাদের বাড়িতে রয়েছে।
ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মারুফ বলেন, মৃত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মৃত অবস্থায় আনার কারণে প্রাথমিকভাবে বিষের নমুনা পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের লোকজন বলছিল ইঁদুরের বিষ খেয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।