একতার কণ্ঠঃ সংকট, চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ৭৪ বছর অতিক্রম করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তাঁর ৭৫তম জন্মদিন। স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা। চার দশক ধরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এখন চতুর্থ দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। দেশের ইতিহাসে এমন রেকর্ড আর কারও নেই।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন করছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। আজ বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও গির্জায় আজ বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন তিনি। পার্বত্য চুক্তি, ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি, ছিটমহল সমস্যার সমাধান, একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়সহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে তাঁর সময়ে।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেওয়া পদক্ষেপ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হয়েছে। মিয়ানমারে নৃশংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে যে মানবিকতার পরিচয় তিনি দিয়েছেন, তা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এ ছাড়া দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিতে তিনি রূপকল্প ২০৪১ ঘোষণা করেন। নদীমাতৃক বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ ও ভৌত উন্নয়নের জন্য তিনি ১০০ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা ‘ডেলটা প্ল্যান’ বা ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা’ নামে পরিচিত।
১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। এরপর সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হন।
শৈশব, শিক্ষা, পরিবার ও ছাত্ররাজনীতি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে বড়। আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকার সময় তিনি ১৯৬২ সালের হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে পথে নেমে আন্দোলন করেছেন। তিনি শৈশব থেকেই ছিলেন স্পষ্টভাষী, স্কুলে তিনি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনেও নেতৃত্ব দিতেন।
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের (সাবেক ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজে) ছাত্রী থাকা অবস্থায় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন শেখ হাসিনা। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলনে অংশ নেন এবং কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন ১৯৬৭ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থাতেই তিনি পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।
বঙ্গবন্ধু ষাটের দশকে প্রায়ই কারান্তরীণ থাকতেন। বড় মেয়ে শেখ হাসিনার বিয়ের সময়েও তিনি কারাগারে ছিলেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের তত্ত্বাবধানেই ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এখন প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন।
সংকটময় পথে
শেখ হাসিনার জীবনে গভীরতম সংকট নেমে এসেছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে। সামরিক বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তা ও সদস্য সপরিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। তিনি তখন স্বামী-সন্তান, ছোট বোন শেখ রেহানাসহ অবস্থান করছিলেন বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে। দেশে না থাকায় সেদিন তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান। তবে শুরু হয় দুঃসহ এক জীবন। প্রথমে জার্মানি এবং পরে ভারতে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে বাধ্য হন।
সপরিবার বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে এক ক্রান্তিকাল দেখা দেয়। জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মনসুর আলী ও কামারুজ্জামানকে কারাগারে হত্যা করায় গভীর সংকট দেখা দেয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। দলের সেই বেসামাল পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ইডেন হোটেল প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে সভানেত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করা হয়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আসে সেই দিন, ১৯৮১ সালের ১৭ মে। সেদিন বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দলের অগণিত নেতা-কর্মী বিমানবন্দরে সমবেত হন তাঁদের সভাপতি শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে।
স্বজন হারানোর ছয় বছর পর শোকাচ্ছন্ন শেখ হাসিনা দেশের ভেজা মাটিতে পা রাখলেন। তিনি সমবেত জনতাকে বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আজ আমি এসেছি বাংলায়। এ দেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অংশ নিতে। আমার আজ হারানোর কিছুই নেই।’ দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অন্তত ২২ বার হামলা হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
সংগ্রামী পথচলা
দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তাঁর দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার সঙ্গে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৬ সালে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে।
প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম সাফল্য ছিল ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ৩০ বছরের চুক্তি এবং পাহাড়ে সংঘাত নিরসনে সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি। এ ছাড়া কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারপ্রক্রিয়াও শুরু করেছিলেন তিনি।
বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে ২০০৬ সালে বিচারপতি কে এম হাসানের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের উদ্যোগ নিলে আন্দোলন শুরু করে আওয়ামী লীগ। নানা সংকটময় পরিস্থিতির পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের দলগুলো নিয়ে গঠিত হয় ১৪-দলীয় মহাজোট। এই জোট ভোটে জয়লাভ করে।
শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দায়িত্ব নেন। এরপর ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। এ ছাড়া তিনি তিন মেয়াদে সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিশুমৃত্যুর হার কমানো, নারীশিক্ষায় অগ্রগতি, বিভিন্ন ভাতা ও বৃত্তি প্রদানের মধ্য দিয়ে প্রান্তিক জনগণের আর্থিক সুরক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, উড়ালসড়ক, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড, জিডিপির ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিসহ জাতীয় জীবনের নানা ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সাফল্য রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে লাইসেন্স ব্যতিতই চলছে প্রায় দুই শতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নানা প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ওই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলমান থাকলেও লাইসেন্স নবায়ন না থাকার অজুহাতেই সিলগালা করা হয়েছে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের নামকরণের হসপিটালটি।
জাতীয় নেতার নামে গড়ে উঠা শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটালটি সিলগালা করার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ মানুষ। আওয়ামীলীগ কে বিতর্কিত করতেই ও অদৃশ্য কোন মহলের প্ররোচনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এর নামের হসপিটালটি সিলগালা করেছে এমন অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার সাধারণ মানুষও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৩৫০টিরও বেশি রয়েছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে বৈধ কাগজ পত্র রয়েছে ৮৯টির আর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ৫৮টির।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের নামে পরিচালিত হচ্ছে এই হসপিটাল। এখানে বিনা পয়সা গরীব রোগীদের চিকিৎসা দেয়াসহ খুব অল্প টাকায় নানা ধরণের জটিল অপারেশন করে থাকেন হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। এতে অন্যান্য ক্লিনিকের ব্যবসা নষ্ট হচ্ছে। এ ক্ষোভেই ওই ক্লিনিক মালিকরা ষড়যন্ত্র করে হসপিটালটি বন্ধ করিয়েছেন। জেলায় অবৈধভাবে অসংখ্য ক্লিনিক পরিচালিত হলেও লাইসেন্স নবায়ন না থাকার মত কারণে আওয়ামীলীগের মহান নেতা শামসুল হকের নামে প্রতিষ্ঠিত এ হসপিটালটি সিলগালা করার ঘটনাটি রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন তারা। দ্রুত হসপিটালটি খুলে দেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনাও করেছেন তারা।
১৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মালেক তপু’র অভিযোগ , মহান নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত হসপিটালটিকে বিতর্কিত করাসহ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের ইতিহাস ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা চেষ্টা চলছে। যে হসপিটালটি প্রতিষ্ঠান লগ্ন থেকে লাইসেন্সসহ সকল প্রকার বৈধতা নিয়ে গরীব অসহায় মানুষের সেবা চালিয়ে যাচ্ছে, করোনা এই দূর্যোগে সেই প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নবায়ন করতে না পারার বিষয়টি সিলগালা করার মত অপরাধ ? জেলায় যেখানে অবৈধভাবে চলছে প্রায় দুই শতাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এই বিপুল সংখ্যক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার যদি অবৈধভাবে চলতে পারে সেখানে মহান নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটালটির অপরাধ কি ? এটি সিলগালা করার বিষয়টি কি রহস্যজনক নয় ? আমার ধারণা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের জামায়াত শিবিরের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারি বর্তমান সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে হসপিটালটি সিলগালা করার মত ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্তে জেলা প্রশাসনের উচ্চতর কমিটি হস্তক্ষেপ ও জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান খান শাকিব বলেন, মহান নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটালটি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ অঞ্চলের গরীব অসহায় মানুষকে বিনা পয়সা সেবা দিয়ে আসছে। এছাড়াও মহান নেতার নাম উজ্জল করতে এই হসপিটালে হয়ে আসছে অল্প টাকায় নানা ধরণের অপারেশন। জেলায় অসংখ্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে পরিচালিত হলেও প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই লাইসেন্সসহ সকল প্রকার বৈধতা নিয়েই পরিচালিত হয়ে আসছিল এ হসপিটালটি। সম্প্রতি জানতে পারলাম লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দায়িত্বরত ডাক্তার না থাকায় হসপিটালকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করাসহ সিলগালা করা হয়েছে। এ অপরাধে হসপিটালটির জরিমানা বিষয়টি মেনে নেয়া গেলেও সিলগালা করার বিষয়টি আমি মানতে পারছিনা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কারো প্ররোচনায় এটি করছেন কিনা এ নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ আমি। মহান নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত হসপিটাল সিলাগালা করাটা কতটা যৌক্তিযুক্ত সে বিষয়টি দেখতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সরকারি এম এম আলী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও আওয়ামীলীগ নেতা বিপ্লব আরেফিন খান বলেন, অভিযানের দিন আমি হসপিটালে উপস্থিত ছিলাম। মহান নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত এ হসপিটালটিতে বিনা পয়সায় চিকিৎসাসহ অল্প টাকায় নানা ধরণের অপারেশনের সুবিধা পায় সাধারণ মানুষ, এ বিষয়টি আমি ভ্রাম্যামান আদালত কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছিলাম। হসপিটালটি সিলগালা না করে ত্রুটি সংশোধনের জন্য আমি সময় দেয়ার জন্যও অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমিসহ স্থানীয় অন্যান্যদের অনুরোধ না রেখে হসপিটালটি সিলগালা করেছেন।
তিনি বলেন, যে অপরাধে মহান নেতা শামসুল হকের নামে প্রতিষ্ঠিত হসপিটালটি সিলগালা করা হয়েছে, তার থেকে অনেক বেশি অপরাধ নিয়ে এই শহরেই চলছে অসংখ্য ক্লিনিক। অবৈধ ওই ক্লিনিক গুলো সচল রেখে শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটাল সিলগালা করাটি খুবই দুঃখজনক। এছাড়াও ওই দিনের পরিচালিত অভিযানে আরো কয়েকটি ক্লিনিককে সময় দেয়া হলেও সিলগালা করা হয় শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটারটি। দ্রুত প্রতিটি অবৈধ ক্লিনিককে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে লাইসেন্সসহ সকল প্রকার সরকারি নির্দেশনা মেনে টাঙ্গাইল পৌর শহরের থানাপাড়া শান্তি কুঞ্জের মোড়ে যাত্রা শুরু করে শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটাল। ১৯১৬; ৪২২২ রেজিস্ট্রেশনকৃত ১০ শষ্যার এই হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন তিনজন চিকিৎসক, একজন মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট, চারজন নার্স, একজন ল্যাব টেকনেসিয়ানসহ তিনজন আয়া।
শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটাল এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন, ২০২০সালের জুন পর্যন্তÍ লাইসেন্স নবায়ন ফি জমা দেয়া আছে। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে সংশ্লিষ্ট অফিস কার্যক্রম এখনও আমি নবায়নের কাগজ হাতে পাননি। এর ফলে চলতি বছরের নবায়নও করা যায়নি। দ্রুতই চলতি বছরের নবায়ন করা হবে। আবেদন ও নবায়ন ফি জমা দেয়ার বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অবগত ছিল। এরপরও নবায়নের জন্য সাতদিনের সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে সে সময়টুকু না দিয়ে হসপিটালের অপারেশন থিয়েটার, কেবিন, ওয়ার্ড সিলগালা করা হয়েছে। এরপরও হসপিটাল ভবনের ৪র্থ তলায় একজন স্টাফ সন্তান নিয়ে থাকেন তাকেও সেখান থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। যদিও ৪র্থ তলাটি হসপিটালের কোন অংশ না।
দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি লায়ন এম শিবলী সাদিক বলেন,পরিচালিত অভিযানের বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আমাদের কিছুই অবগত করেননি। লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দায়িত্বরত ডাক্তার না থাকার অপরাধে মহান নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটালের জরিমানা করার বিষয়টি ঠিক ছিল। তবে সিলগালা না করে বৈধ কাগজ পত্র করার সময় দেয়াটাই যৌক্তিক ছিল বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান বলেন , লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দায়িত্বরত ডাক্তার না থাকায় শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটালকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করাসহ সিলগালা করার নির্দেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক। সেটি শুধুই ভ্রাম্যমান আদালতের বিষয়। ওই নির্দেশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের কিছুই করার নেই। এরপরও হসপিটাল কর্তৃপক্ষ আমার কাছে এসেছিলেন আমি তাদের কাগজপত্র ঠিক করে আসতে বলেছি। কাগজপত্র ঠিক হলেই হসপিটাল চালু করার অনুমতি দেয়া হবে। এছাড়াও জেলায় অবৈধভাবে যে সকল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে সেগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালিত হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দায়িত্বরত ডাক্তার না থাকায় শহরের শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটালকে ১৫ হাজার টাকা ও সোনার বাংলা ক্লিনিক মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে দুটি ক্লিনিকই সিলগালা করা হয়। এ ছাড়াও ফাতেমা ক্লিনিক ও রোকেয়া আইকেয়ার সেন্টারকে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করে বৈধ কাগজ পত্র করার জন্য সাত দিনের সময় দেয়া হয়েছিল।
একতার কণ্ঠঃ যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে নাগরপুরের বিভিন্ন ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় প্রকল্প গ্রহনে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব কবির-বিন-আনোয়ার। রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনভর তিনি স্পিডবোর্ড যোগে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের জাতীয় সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটুকে সাথে নিয়ে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর ভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।
দুপুরে তিনি উপজেলার খাষঘুনিপাড়া এলাকার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থদের সাথে কথা বলেন। এসময় ভাঙনরোধে পাউবোর চলমান প্রকল্পেরও খোজ খবর নেন। এদিকে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব পরিদর্শনে এসেছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে নদী পাড়ের হাজারো অসহায় পরিবার সেখানে উপস্থিত হয়। তারা ভাঙন কবলিত এলাকায় তীর সংরক্ষন বাঁধ নির্মানে ব্যবস্থা গ্রহনে জোর দাবি জানায় ।
পরে সাংবাদিকদের সিনিয়র সচিব কবির-বিন-আনোয়ার জানান, যমুনার পশ্চিম পাড় মোটামুটি বাঁধের আওতায় আসলেও পূর্ব পাড়ের বেশিরভাগ অঞ্চল এখনও অরক্ষিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ১০০ বছরের ডেল্টা প্লান হাতে নিয়েছেন, তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে নদীর এ পাড়ও বাঁধের আওতায় আসবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান সিরাজ, টাঙ্গাইল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমদাদুল হক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুরুজ্জামান, সোলাইমান ভূইয়া, আবু ইউসুফ, নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত-ই-জাহান প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে প্রতিযোগিতা চলাকালে আল্লাহ ভরসা ও যমুনার তরী নামক নৌকার সঙ্গে সংঘর্ষে যমুনার তরী নৌকাটি ডুবে যায়। এতে নৌকার প্রতিযোগীদের মাঝে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ৫ জন আহত হন।এ ঘটনায় গাবসারা ও নিকরাইল ইউনিয়নবাসীর মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে এ ঘটনায় আহতরা হলেন- বিল্লাল, রাজ্জাক, শামীম, হৃদয়, হাবিল। এদের মধ্যে বিল্লাল, রাজ্জাক ও হৃদয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
অপরদিকে, একই সময়ে আরও দুটি নৌকার সঙ্গে সংঘর্ষ হলে তাদের মধ্যেও মারামারি হয়। ডুবে যাওয়া নৌকার প্রতিযোগীরা সাঁতরিয়ে পাড়ে উঠলে দেখা দেয় উত্তেজনা ও মারামারি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে নৌকাবাইচ কমিটি বাইচ স্থগিত ঘোষণা করেন।
গাবসারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জানান, শনিবার নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে যে সংঘর্ষ হয়েছিল তার জের ধরে ইউনিয়নের কালিপুর গ্রামের দারাজ আলী (৪৬) ও তার ছেলে সোহেল (২৫) রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় যমুনা নদীতে মাছ ধরতে গেলে ওই এলাকার যমুনার তরী নৌকার লোকজন তাদের মারধর করে আটক করে রাখে। পরবর্তীতে আটক এবং মারধরের বিষয়টি নিকরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মতিন সরকারকে জানালে তিনি আটককৃতদের নিয়ে আসার জন্য বলেন। আমি এ ব্যাপারে তাদের সুস্থভাবে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। এছাড়া ভূঞাপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
নৌকাবাইচ পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকরাম উদ্দিন তারা মৃধা জানান, স্থানীয় এমপি ছোট মনিরের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারো দুই দিনব্যাপী নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। প্রথম দিনে সুষ্ঠুভাবে সম্পূর্ণ হলেও দ্বিতীয় দিনে একাধিক নৌকার সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বাইচ চলাকালে একটি নৌকা ডুবে যায়, এতে নৌকাবাইচ স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আব্দুল ওহাব জানান, এ ব্যাপারে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের তদারকি অব্যাহত আছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় পরকীয়ার সন্দেহ স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার স্বামী আবদুল লতিফ বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার(২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘাটাইলের রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর তেঁতুলতলা গর্জনাপাড় গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। স্ত্রী পরকীয়ার সন্দেহের বহির্প্রকাশে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে ।
নিহতের নাম সবুরা বেগম (৪৫) বেগম। তিনি রসুলপুর তেঁতুলতলা গর্জনা গ্রামের মৃত ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই কায়ছার হামিদ বাদী হয়ে রবিবার( ২৬ সেপ্টেম্বর) ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন,
মামলার বাদী কায়ছার হামিদ বলেন, তার বোনজামাই কাতার প্রবাসী। তিন মাস আগে দেশে ফেরেন। ফেরার পর থেকে মিথ্যা অপবাদে তার বোনের সঙ্গে ঝগড়া করত। তাকে ভয় দেখিয়ে বলত— ‘আমি যদি আজকে তোকে মেরে ফেলি তবে আজকেই বিদেশ চলে যাব’-এ রকম ভাবে বকাবকি ও নির্যাতন করত।
তিনি আরো বলেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার ভাগ্নে সাব্বির স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় যায়। সেখান থেকে দুপুর ১২টার বাড়ি ফিরে ঘরের ভেতরে দেখতে পায় তার বোনের মুখে টেপ পেঁচানো অবস্থায় একখাটে আর বোনজামাই বিষপান করে অন্য খাটে পড়ে রয়েছে।পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার বোনের মুখে টেপ পেঁচানো লাশ দেখতে পাই। আর তার বোনস জামাইকে প্রথমে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে তিনি দাবি করেন।
ঘাটাইল থানা অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে এটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী বিষপানে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ঘটনার পর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কাজ চলছে।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, তৃণমূলের কর্মীরা দলের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে। সামাজিক সম্মানটুকু ছাড়া আর কোন সুযোগ সুবিধা তারা পান না। কাজেই, তৃণমূলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন হবে, প্রার্থী মনোনয়ন করা হবে। আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খলিত একটি রাজনৈতিক দল। নতুন প্রজন্মের মেধাবী তরুণদের আওয়ামীলীগের পতাকাতলে নিয়ে আসতে হবে। এই মেধাবীরা আগামী দিনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামী নির্বাচনের আগে জেলার সম্মেলন শেষ করতে হবে। ।
রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা সদরে অবস্থিত টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ওই সব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন থেকে শুরু করে টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সম্মেলন শেষ করা হবে। দলকে সুশৃংখল এবং ঐক্যবদ্ধ করে নতুন ও শিক্ষিত তরুণ সমাজকে নেতৃত্বে আনা হবে। শিক্ষিত মানুষ দ্বারা দলকে পরিচালনা করতে হবে। তারা র্নিমোহ জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করবে। শুধু ধর্ম নিরপেক্ষতা বললেই মানবতাবাদী হবে না। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে জাতিকে মানবিক চেতনায় উদ্ধুদ্ব করতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, আগামীতে বিএনপি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও করতে চাইবে। তাদেরকে রাজনৈতিকভাবেই প্রতিহত করার জন্য নেতাকর্মীদের মোকাবেলা করার প্রস্তুত থাকতে হবে। অতীতেও আমরা টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, আগামীতেও বিএনপি জামাতের আন্দোলন প্রতিহত করতে হবে। বিএনপির মতো আওয়ামী লীগ কোনদিন চোরাগলি পথে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগ সবসময় সহজ-সরল পথে হেঁটে, গণতান্ত্রিকভাবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সরকার গঠন করেছে, দেশ পরিচালনা করেছে এবং এখনও করছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এখনো তৎপর। তারা এখনো নানান ষড়যন্ত্র করছে। তারা এখনো এই বাংলাদেশকে পাকিস্তানের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করছে। তাদের প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যারা আজও পর্দার অন্তরাল থেকে নীল কুটির, লাল কুটির ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায়। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।
বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, ছানোয়ার হোসেন এমপি, হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি, আতাউর রহমান খান এমপিসহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির নেতৃবৃন্দ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের চার জন আশ্রয়হীনকে টিনশেড ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার( ২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই ঘরগুলো হস্তান্তর করেন টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব মোঃ ছানোয়ার হোসেন।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা নবীন,টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষায়ক সম্পাদক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মির্জা মইনুল হোসেন লিন্টু, ,সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান,শহর আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকশনা সম্পাদক কাজী শফিকুল মওলা দোয়েল, ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ আবুল কালাম আজাদ, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুর রফিক প্রমুখ।
উল্লেখ্য,‘‘আশ্রয়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার” শ্লোগানে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি.আর) কর্মসূচি এর আওতায়,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এর অধীনে টাঙ্গাইলে আশ্রয়হীনদের মাঝে টিনশেড ঘর প্রদান প্রকল্পের আওতায় ওই ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়। প্রতিটি টিনশেড ঘরে আছে দুটি রুম, একটি বড় বারান্দা, রান্নাঘর ও শৌচাগার।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুৃপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুল ইসলাম (১৬) নামে দশম শ্রেনীর এক ছাত্র নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নে কালিয়াকুড়ি নামক স্থানে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।রফিকুৃল ইসলাম কালিয়াকুড়ি গ্রামের ময়েন উদ্দিনের ছেলে এবং কালিয়াকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নের কালিয়াকুড়ি জামালের মোড় নামক স্থানে রাস্তার পাশে বসে দশম শ্রেনীর ছাত্র রফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে গেমস খেলছিল। হঠাৎ বেপোরয়া গতিতে একটি মাইক্রো (হায়েচ) রফিকুলের উপর দিয়ে তুলে দেয়। স্থানীয়রা গুরতর আহত অবস্থায় রফিকুলকে উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। গাড়ী চালক সুভকচনা গ্রামের সালেম মারাকের ছেলে ফারুক নকরেককে স্থানীয়রা আটক করে।
ঘটনার ধামাচাপা দিতে তরিঘড়ি করে স্থানীয় ফুলবাগচালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বেনু, সদস্য ময়নাল হক ও মোস্তফা মিয়া পরিষদে বসে নিহতের পিতা ময়েন উদ্দিন, অভিযুক্ত গাড়ী চালক ফারুক নকরেক, তার পিতা সালেম মারাকসহ স্থানীয় আধিবাসী নেতা তুষার নকরেক মধ্যস্থতায় মাঝরাত পর্যন্ত সালিশী বৈঠক করে। বৈঠকে নিহত রফিকুলের পিতাকে ক্ষতিপুরণ বাবদ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার সাব্যস্ত হয়। শনিবার কোন রকম ময়না তদন্ত ছাড়াই দুর্ঘটনায় নিহত রফিকুল ইসলামের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ময়নাল হক বলেন, সালিশের মীমাংসার বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান জানেন।
ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বেনু সালিশে মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সালিশের সময় আমি অন্য রুমে ছিলাম, সিদ্ধান্তটি ইউপি সদস্য ময়নাল হক, মোস্তফা মিয়া, আদিবাসী নেতা তুষার নকরেক, গাড়ী চালক ফারুক নকরেক ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকায় মীমাংসা করেন।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) তারিক কামাল জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি তিনি জানেন, নিহতের পিতা মামলা না করায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। তবে ঘটনার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.আব্দুস সোবহান (৫৫) ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উল্টে নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌর শহরের ডুবাইল বাজার রোডে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস সোবহান ডুবাইল গ্রামের উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইকবাল হোসাইনের পিতা।
জানা যায়, আব্দুস সোবহান ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ডুবাইল বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কয়েকটি ছাগল সড়কের মাঝে চলে এলে চালক ছাগল বাঁচাতে গিয়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। তখন অটোরিকশাটি যাত্রীসহ উল্টে যায়। অটো থেকে পড়ে আব্দুস সোবহান মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তার মৃত্যুর খবর পেয়ে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে ও অস্ত্র দেখিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে ধর্ষণের অভিযোগ কবির সরকার (২৬) নামের এক ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার রুলীপাড়া গ্রামের শহিদ জামান সরকারের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের চরাঞ্চল রুলীপাড়া এলাকায় গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামী বাড়িতে না থাকায় গৃহবধূর সিঁধ কেটে ঘরে ঢোকে একই গ্রামের কবির সরকার ও শাহদত। পরে ঘরে ঢুকে ছুড়ি দিয়ে মেয়ে ও ধর্ষিতা গৃহবধূকে গলা কেটে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। পরে ওই গৃহবধূ ডাকচিৎকার করতে থাকলে ধর্ষকরা তাকে মারধর করায় সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। এঘটনায় ২৩ সেপ্টেম্বর ভূঞাপুর থানায় ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে দুইজনের নামে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় কবির নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ওই গৃহবধূর মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা সদরে অবস্থিত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন সংলগ্ন আমতলা থেকে রাশেদুল ইসলাম ফকির (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, নিহত রাশেদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জের মিস্ত্রিগাতি এলাকার রওশন আলী ফকিরের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় রিকশা চালাতেন।
পুলিশ জানায়, রাশেদুলের মাথায় ও মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মরদেহ পাশ থেকে একটি রক্তমাখা হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় ছিনতাইকারী চক্র তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় এবং মুখে আঘাত করে হত্যা করেছে।
টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক আরিফ ফয়সাল জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাস-ট্রাক ও পিকআপের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ৯ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার চরভাবলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষনিকভাবে হতাহতদের কারো নাম পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ষ্টেশন অফিসার মো. রাসেল নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মফিজ এগ্রো ফুডসের একটি ট্রাক উত্তর বঙ্গের দিকে যাচ্ছিলো। বিপরিত দিকে আসা একটি কাভার্ডভ্যান ঢাকা দিকে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে পৌছলে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। একই সময় পাবনা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী নাইফ পরিবহনের বাসের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। আহত ১০ জনের মধ্যে গুরুত্বর আহত তিনজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পুলিশ বক্সের ইনচার্জ (এএসআই) মো. নবীন জানান, হাসপাতালে আনার পর একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় বাকি দুইজনকে ভর্তি করা হয়েছে।