একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে এক মাস পর টানা চার দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করেনি। গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার( ২৬ আগস্ট) পর্যন্ত এই চার দিনে আক্রান্তের হারও অনেক কম। চার দিনে ১৯৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার( ২৬ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩১৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ১৯, মধুপুরে ১১, গোপালপুরে ৬, কালিহাতীতে ৪, ভুঞাপুর ও ধনবাড়িতে ৩ জন করে, দেলদুয়ার ও নাগরপুরে দুজন করে ও বাসাইলে একজন রয়েছেন। আক্রান্তের হার ১৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ২৭৫ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় কেউ মারা যায়নি। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৫১ জন। আরোগ্য লাভ করেছেন ১০ হাজার ৯৬৭ জন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৪৯৫ জন।
এর আগে করোনায় মৃত্যু শূন্য ছিল গত ২২ জুলাই। তার আগে মৃত্যুশূন্য দিন ছিল এক জুলাই। জেলায় প্রথম করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ এপ্রিল। করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুবরণ করে ওই বছরের ২০ এপ্রিল।
গত এপ্রিল থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। জুন মাস থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। জুলাই মাসে সর্বাধিক ছয় হাজার ৩০ জন শনাক্ত হন এবং ১০৫ জন মৃত্যুবরণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে টাঙ্গাইলের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বৃহস্পতিবার(২৬ আগস্ট) সকালে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার ধলেশ্বরীতে ৪ সেণ্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২৩ সেণ্টিমিটার এবং ঝিনাই নদীর পানি ৯ সেণ্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে এ তথ্য জানাগেছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) জানায়, গত দুই দিন যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকার পর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের করণে জেলার অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বাড়ছে। ফলে জেলার চরাঞ্চল, নিম্নাঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নদী তীরবর্তী এলাকার ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, কালিহাতী, বাসাইল, ভূঞাপুর, মির্জাপুর, বাসাইল ও নাগরপুর উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। কোথাও কোথাও নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
টাঙ্গাইল পাউবো ও কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বাড়লেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পানি বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীসহ জেলার সব নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নদীর পানি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের ছিটমামুদপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার(২৬ আগস্ট) ভোরে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে আশিক(২১) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আশিক ছিটমামুদপুর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে।
নিহতের চাচা শওকত হোসেন জানান, বুধবার রাতের খাবার শেষে আশিক প্রতিদিনের ন্যায় নিজের ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় গভীর রাতে তাকে সাপে কামড় দেয়। পরে রাতেই তাকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম (অপারেশন) অনিমেষ ভৌমিক জানান, সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যুর বিষয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
মির্জাপুর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আইনী প্রক্রিয়া শেষে আশিকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ দ্বিতীয় স্ত্রী সৈয়দা আমেনা পিংকিকে হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনার দ্রুত তদন্ত শেষ করে পৌর কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিচারের দাবি উঠেছে। বুধবার( ২৫ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দা আমেনার বাবা সৈয়দ শরিফ উদ্দিন এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ শরিফ উদ্দিন বলেন, টাঙ্গাইলে থাকার সময় ২০১২ সালের জুন মাসে তার মেয়ে সৈয়দা আমেনাকে মোর্শেদের লোকজন অপহরণ করে। পরে মোর্শেদ আমেনাকে জোরপূর্বক বিয়ে করেন। এরপর মোর্শেদ আমেনাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘর সংসার করতে থাকে। মোর্শেদের দুই স্ত্রী থাকায় পরিবারে মাঝে মাঝে ঝগড়া হয়। তাদের সংসারে এক কন্যা সন্তান মায়শা জন্মগ্রহন করে, যার বয়স এখন ছয় বছর। আমেনার সংসারে এক মুহুর্তের জন্য শান্তি দেয়নি সন্ত্রাসী মোর্শেদ ও তার প্রথম স্ত্রী। তাকে প্রচুর মারধর করত। ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাতে মোর্শেদ তার এক সহযোগির বাসায় দাওয়াতের কথা বলে আমেনাকে নিয়ে যান। সেখানে নিয়েই মোর্শেদ কয়েকজনের সহায়তায় আমেনাকে হত্যা করে লাশ গুম করে।
সৈয়দ শরিফ উদ্দিন জানান, এতো দিন মোর্শেদের ভয়ে তিনি আইনগত পদক্ষেপ নিতে সাহস পাননি। সম্প্রীতি মোর্শেদ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ শরিফ উদ্দিন মোর্শেদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।
সৈয়দ শরিফ উদ্দিন নীলফামারী শহরের হাড়োয়া আদর্শপাড়ার বাসিন্দা। তিনি এক সময় টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় মোর্শেদের বাড়ির পাশে ভাড়া থাকতেন।
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদকে গত ১৯ আগস্ট গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। পরে তার বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে দু’টি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে পুলিশ।
আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা, ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা, ব্যবসায়ী তুহিন হত্যা মামলাসহ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের এক ডজন মামলা হয়েছে। মোর্শেদ টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। পরে জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে দলীয় পদ না থাকলেও শহর আওয়ামী লীগের দলীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশ নিতেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি-দক্ষিণ) বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের টেংগুরিয়াপাড়া গ্রামে বুধবার(২৫ আগস্ট) দুপুরে অভিযান চালিয়ে ৮০০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ দুই বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- ওই এলাকার মো. সাগর মিয়া(২৫) ও মো. জাকির হোসেন রিপন(৩৮)।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি-দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ মো. দেলওয়ার হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. রাইজ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চৌকশ দল টেংগুরিয়াপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়।
এ সময় ৮০০ পিস ইয়াবা সহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের বাজার মূল্য দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামে বুধবার (২৫ আগস্ট) ভোরে অভিযান চালিয়ে সাত বছরের এক প্রতিবন্ধী শিশুকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে শফিকুল ইসলাম(১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত শফিকুল ইসলাম আলোকদিয়া গ্রামের আলতাফ প্রামাণিকের ছেলে।
র্যাব-১২, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার লেফটেন্যাণ্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন (জি) বিএন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আলোকদিয়া এলাকায় সাত বছরের একজন প্রতিবন্ধী মেয়েকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে লেবু বাগানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চালিয়ে ধর্ষণে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শফিকুলের নামে টাঙ্গাইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার চাঞ্চল্যকর ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি সুজন হত্যা মামলার নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত ও আসামি পক্ষের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা ও হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার(২৪ আগষ্ট) সকালে মধুপুর প্রেসক্লাবে নিহত সুজনের পরিবার ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদসম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মামলার বাদী ধলপুর গ্রামের মো. জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, তার ভাই সুজন মিয়া একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। একই গ্রামের কাজিম উদ্দিনের ছেলে মহির উদ্দিনের সাথে বিদুৎতের মিটার সংযোগ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ওই কথা কাটাকাটির জের ধরে গত ৩ জানুয়ারি একই গ্রামের রেজাউল করিম (৩৫), মো. উজ্জল মিয়া (৩২), মো. শামীম(৩০), মো. ইউসুব আলী(৫০), মো. ইয়ামিন(২৮), মহির উদ্দিন(৫০), বাদশা মিয়া (৫৫), মো. রাসেল(২২), মো. সেলিম মিয়া(৩০), রুহুল আমিন(২৬), জয়নাল আবেদীন(৪৬), রেজিয়া বেগম(৪৫)ও বোয়ালী গ্রামের আ. জলিলসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে। এ বিষয়ে মধুপুর থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি বলেন, মামলার আসামিদের মধ্যে বর্তমানে পাঁচজন জেল-হাজতে রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধুপুর থানার এসআই আল আমিন (বর্তমানে কালিহাতী থানায় কর্মরত) তদন্ত শেষে ৭ জনকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। চার্জশীটে বাদির অভিযোগ যথাযথভাবে উপস্থাপন না হওয়ায় তিনি আদালতে নারাজী আবেদন দাখিল করেন। আদালত নারাজী গ্রহন করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয়।
বাদি আরও বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে সঠিকভাবে তদন্ত না করে এজাহারভুক্ত আসামীদের বাদ দিয়ে চার্জসীট দাখিল করেছেন। বর্তমানে বাদ পড়া আসামিরা নানাভাবে হুমকি- ধমকি দিচ্ছে। আসামিরা সুজন হত্যা মামলার বাদি পক্ষকে চারটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত সুজনের বাবা নজর আলী, মাতা ফাতেমা, বোন চায়না বেগম, ভাই দুলাল, আয়নাল হকসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার(২৪ আগস্ট) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সহিদুর সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ভাই ও টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ আতাউর রহমান খানের ছেলে। আট মাস ধরে তিনি কারাগারে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত বুধবার (১৮ আগস্ট) বুকে ব্যথা অনুভব করায় সহিদুর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর পরীক্ষা–নিরীক্ষায় হৃদ্যন্ত্রে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তবে থাইরয়েড ও কিডনিতে কিছু সমস্যা পাওয়া যায়। তাঁর চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী গতকাল সোমবার করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা নেওয়া হয়। পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ হন তিনি।
টাঙ্গাইল আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, চিকিৎসার জন্য সহিদুরের আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার ও গতকাল সোমবার দুই দফা টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অন্তর্বর্তী জামিন আবেদন করেন। তাঁরা সহিদুরের চিকিৎসার জন্য যেকোনো শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালতের বিচারক মাসুদ পারভেজ দুই দিনই তাঁর আবেদন নামঞ্জুর করেন।
প্রকাশ, ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর গত বছরের ২ ডিসেম্বর সহিদুর টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। তার পর থেকেই তিনি টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে। এ পর্যন্ত ১৩ বার আদালতে জামিন আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।
একতার কন্ঠঃ অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান ওরফে মোর্শেদের বিরুদ্ধে এবার স্ত্রীকে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার(২৪ আগস্ট) টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মোর্শেদের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা সৈয়দ শরিফ উদ্দিন (৫৬) বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল আলম মামলাটি গ্রহণ করেন। তিনি সাড়ে চার বছর আগের এ ঘটনার বিষয়ে কোনো মামলা বা তদন্ত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি টাঙ্গাইলের আদালত পুলিশের পরিদর্শক তানভীর আহমেদ নিশ্চিত করেছেন। এত দিন কাউন্সিলর মোর্শেদের ভয়ে মামলার সাহস পাননি বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী।
মামলায় মোর্শেদ ছাড়াও আরও আটজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা তিন–চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হচ্ছেন শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার মুন্সী তারেক পটন (৪৯), পারভেজ খান ওরফে রনি (৩৬), সোহেল ওরফে বাবু (২৭), অন্তর সূত্রধর (২৭), মোর্শেদের প্রথম স্ত্রী সুমা ওরফে মনা (৪৫), মুন্সী তারেক পটনের স্ত্রী লিনা (৪০), রাফসান (২৮), আয়নাল মিয়া (৪৫)।
মামলায় বাদী সৈয়দ শরিফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, মোর্শেদের বাসার পাশে তিনি পরিবার নিয়ে বাসা ভাড়া থাকতেন। ২০১২ সালের জুন মাসে তাঁর মেয়ে সৈয়দ আমেনাকে মোর্শেদের লোকজন অপহরণ করেন। পরে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার গোলাম মোস্তফার মাধ্যমে মোর্শেদ আমেনাকে বিয়ে করেন। কিছুদিন পর জোর করে নিকাহ রেজিস্ট্রারের বালাম বই থেকে মোর্শেদ তাঁদের কাবিননামা ছিঁড়ে ফেলে দেন। তাঁদের সংসারে ছয় বছরের এক মেয়েও রয়েছে। দুই স্ত্রী থাকায় মোর্শেদের পরিবারে মাঝেমধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাতে ওই এলাকার এক বাসায় দাওয়াতের কথা বলে মোর্শেদ আমেনাকে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় মোর্শেদ তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম করেন। এত দিন মোর্শেদের ভয়ে মামলা করতে সাহস পাননি বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোর্শেদকে গত বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে পুলিশ। গত শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোর্শেদকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। সোমবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
একতার কণ্ঠঃ অস্ত্র মামলায় রিমান্ড শেষে টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান ওরফে মোর্শেদকে সোমবার( ২৩ আগস্ট) বিকেলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শামীম হোসেন তাঁকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। পরে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সামসুল আলম তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদকে গত বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে পৌরসভার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোর্শেদকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুই যুবলীগ নেতাকে হত্যা, ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা, ব্যবসায়ী তুহিন হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের এক ডজন মামলা হয়েছে
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদে মোর্শেদ তাঁর ওই অস্ত্র এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল সদর থানা সূত্র জানায়, আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুই যুবলীগ নেতাকে হত্যা, ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা, ব্যবসায়ী তুহিন হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের এক ডজন মামলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মোর্শেদ টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। পরে জেলা যুবলীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে দলীয় পদ না থাকলেও শহর আওয়ামী লীগের দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ঘরের দরজা ভেঙ্গে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার (২৩ আগস্ট) দিনগত রাত একটার দিকে পৌর এলাকার শান্তিনগর থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।তার নাম সাইফুর রহমান বিপ্লব (৪৫)। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। গ্রামের বাড়ী ঘাটাইল ইউনিয়নের বীরহামপুর গ্রামে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিপ্লব দীর্ঘদিন প্রবাসী ছিলেন। কিছুদিন পূর্বে দেশে ফিরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিনে নিজেই চালাচ্ছিলেন।কয়েকদিন আগে বিপ্লব সম্ভবত গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। সোমবার রাতে তালাবদ্ধ ওই ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। ঘাটাইল থানা পুলিশের সদস্যরা স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ঘরের তালা ভেঙ্গে বিপ্লবের অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ।
সাইফুর রহমান বিপ্লবের স্ত্রী জানান, তাকে কয়েকদিন আগে বিপ্লব তার বাবার বাড়ী পাঠিয়ে দেয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার সময় তার সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তারপরে তার সাথে আর কোন কথা হয়নি এবং মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পারিবারিক কোন দাম্পত্য কলহ বা কারও সাথে তার তেমন কোন শত্রুতা ছিল না বলে জানিয়ে বিপ্লবের স্ত্রী আরও বলেন, টেনশন থেকে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা হচ্ছে।
ঘাটাইল থানা অফিসার-ইন-চার্জ আজহারুল ইসলাম সরকার (বিপিএম) জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। বিপ্লব তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ী পাঠিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত তার সাথে স্ত্রীর যোগাযোগ ছিল। আত্মহত্যার ঘটনাটি কয়েকদিন আগে সম্পন্ন হওয়ায় নিহতের শরীর অনেকটা বিকৃত হয়ে যায়। এলাকাবাসী খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইলে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে তিনি আরো জানান।
একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর নামক স্থানে সোমবার(২৩ আগস্ট) সকালে কাভার্ডভ্যান ও বুলডোজারের সংঘর্ষে কাভার্ডভ্যানের চালক নিহত হয়েছেন। কাভার্ডভ্যানের চালকের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট সৌরভ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সার্জেন্ট সৌরভ জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা একটি কাভার্ডভ্যান ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কাভার্ড ভ্যানটি দাঁড়িয়ে থাকা একটি বুলডোজারের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই কাভার্ডভ্যানের চালকের মৃত্যু হয়। লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।