একতার কণ্ঠঃ কিছুদিন আগেই জানা গিয়েছে প্রথমবারের মতো অনুদানের সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। খোরশেদ আলম খসরু প্রযোজিত শাকিব খানের অনুদানের সিনেমা ‘গলুই’ পরিচালনা করছেন এস এ হক অলিক। সম্প্রতি জানা গেছে সিনেমাটি নিয়ে নতুন খবর। প্রকাশিত খবরে প্রকাশ যমুনার চর থেকে শুরু হচ্ছে শাকিব খানের অনুদানের সিনেমা ‘গলুই’ এর দৃশ্যধারনের কাজ। সবকিছু ঠিক থাকলে এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো শাকিব খানের নায়িকা হয়ে পর্দায় আসছেন পূজা চেরী।
জানা গেছে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে শাকিব খানের অনুদানের সিনেমা ‘গলুই’ এর দৃশ্যধারনের কাজ। ম্যাসব্যাপী সিনেমাটির দৃশ্যধারন হবে টাঙ্গাইল ও জামালপুরের বিভিন্ন লোকেশনে। প্রথম দিন জামালপুরের যমুনার চর এলাকায় শুরু হবে দৃশ্যধারন। আর এই লটের শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন ঢাকাই সিনেমার সময়ের সবচেয়ে বড় তারকা শাকিব খান।
এ প্রসঙ্গে একটি অনলাইন পত্রিকার সাথে আলাপকালে এস এ হক অলিক বলেন, ‘আমাদের টানা শুটের পরিকল্পনা আছে জামালপুর ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন লোকেশনে। ৩৫ থেকে ৪০ দিন লাগবে সিনেমাটির শুট করতে। অভিনয় শিল্পীরা যাওয়া-আসার মধ্যে থাকবেন, যাঁর যখন শুট, তখন তিনি যোগ দেবেন।‘ তবে শাকিব খান ছাড়া সিনেমাটির অন্য শিল্পীদের নাম এখনই প্রকাশ করতে চান না এই নির্মাতা। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘সিনেমাটিতে কারা অভিনয় করছেন, সেটি মহরত অনুষ্ঠানেই জানাতে চাই; সেটি শুট শুরুর কয়েক দিন আগে ঢাকায় করা হবে।’
ছবির নাম ‘গলুই’ রাখা হয়েছে নৌকা চালানোর জন্য যে গলুই লাগে তা থেকে। নৌকা বাইচ, একজন মাঝির জীবন জীবিকা, প্রেম, ভালোবাসার মাধ্যমে সমাজের প্রতিচ্ছবি উঠে আসবে ‘গলুই’ সিনেমায়। সিনেমাটিতে একজন মাঝির চরিত্রে অভিনয় করবেন ঢাকাই সিনেমার সময়ের সেরা নায়ক শাকিব খান। প্রযোজক সূত্রে জানা গেছে সিনেমাটি ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৬০ লাখ টাকার অনুদান পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, শাকিব খান এবং পূজা চেরী ছাড়াও সিনেমাটিতে আরো অভিনয় অভিনয় করছেন আজিজুল হাকিম ও ফজলুর রহমান বাবু। আর সিনেমাটির বিভিন্ন গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কুমার বিশ্বজিৎ এবং হাবিব ওয়াহিদ সহ অনেকেই।
উল্লেখ্য যে, এস এ হক অলিক একাধারে নাটক এবং সিনেমা নির্মান করে থাকেন। অলিক পরিচালিত ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’ সিনেমা দুটি দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলো। এছাড়া অলিক এর আগে সুপারস্টার শাকিব খানকে নিয়ে ‘আরো ভালোবাসব তোমায়’ নামের একটি সিনেমা নির্মান করেছিলেন। ২০১৫ সালে মুক্তি পেয়েছিলো এই সিনেমাটি।
একতার কণ্ঠঃ অতীতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ তো দূরে থাক, টি-টোয়েন্টিতে জয়ের দেখাও পায়নি বাংলাদেশ।ক্রিকেট খেলুড়ে শক্তিশালী এই দুই দলকে ঘরের মাঠে ডেকে এনে সিরিজে হারাল বাংলাদেশ।বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ।
নিউজিল্যান্ডকে চলমান পাঁচ ম্যাচের সিরিজের চতুর্থ খেলায় ৩-১ ব্যবধানে হারাল টাইগাররা। সিরিজের শেষ ম্যাচটি শুক্রবার মিরপুরের একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নাসুম আহমেদের স্পিন আর মোস্তাফিজুর রহমানের গতির মুখে পড়ে ১৯.৩ ওভারে ৯৩ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। কিউইদের হয়ে উইলি ইয়াং একাই করেন ৪৬ রান। বাংলাদেশ দলের হয়ে চার ওভারে ১০ ও ১২ রান খরচায় সমান ৪টি করে উইকেট নেন নাসুম আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।
৯৪ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমেও ৬ ওভারে মাত্র ৩৭ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ৬৭ রানে নিজের ভুলে রান আউট হয়ে ফেরেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম।
এরপর আফিফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ১৯.৩ ওভারে ৯৩/১০
বাংলাদেশ: ১৯.১ ওভারে ৯৬/৪ (রিয়াদ ৪৩*, নাঈম ২৯)।
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বন্যার পানিতে ডুবে তানহা নামের দেড় বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের খিলগাতি গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।নাগবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান সিদ্দিকী মিল্টন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মর্মান্তিক ঘটনার শিকার শিশু তানহা নাগবাড়ী ইউনিয়নের খিলগাতি গ্রামের বাবুল মিঞার মেয়ে।
নাগবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান সিদ্দিকী মিল্টন জানান, নিহত শিশু তানহার মা বাড়ির পাশে পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছিল। সেখান থেকে ২০ গজ দূরে রাস্তায় তানহা তার বড় বোনের সঙ্গে খেলছিল। খেলতে খেলতে তানহা রাস্তার পাশের একটি জমিতে বন্যার পানিতে পড়ে গিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছিল। পরে তানহার চাচাতো ভাই তাকে পানি থেকে উদ্ধার করে দ্রুত কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তানহাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শিশু তানহার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ১৪২ পিস ইয়াবা সহ রাজিব মিয়া (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার(৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের শুভকী পুটিয়াজানী গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-১২, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন(বিএন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃত রাজিব মিয়া উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের মঙ্গলহোড় গ্রামের শরিফ মিয়ার ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন(বিএন) জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার(৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের শুভকী পুটিয়াজানী গ্রাম থেকে রাজিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ১৪২ পিস ইয়াবা একটি মোবাইল ফোন, একটি সিম কার্ড এবং নগদ ৩ হাজার টাকা সহ তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে দেলদুয়ার থানায় মাদকের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে খাদ্যে ভেজাল মেশানোর দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।মঙ্গলবার(৭ সেপ্টেম্বর)দিন ব্যাপী টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলায় ওই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী ওই ভ্র্যাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।।
এ প্রসঙ্গে ইফতেখারুল আলম রিজভী জানান, মঙ্গলবার দিনব্যাপী পৃথক দুটি অভিযানে জেলার মধুপুর এবং ধনবাড়ী উপজেলায় খাদ্যে ভেজাল এবং বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন ২০০৯ এর ৪৩ ধারায় ধনবাড়ীর বেদারপাড়ায় একটি আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ৩০ হাজার টাকা, একই উপজেলার মেসার্স মনছুর সুইটস এন্ড বেভারেজকে ৫০ হাজার টাকা ও মধুপুরের কাইতকাইয়ের মীম ফুড প্রোডাক্টস নামক প্রতিষ্ঠানকে ১৫হাজার টাকা সহ মোট ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় র্যাব-১২ সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন(বিএন) সহ বিপুল সংখ্যাক র্যাব সদস্য উপস্থিত ছিল।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কোথাও উন্নতি আবার কোথাও স্থিতিশীল রয়েছে। এতে চরম দূর্ভোগে রয়েছেন পানিবন্দি মানুষ। বন্যা কবলিত অধিকাংশ এলাকায়ই দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব। চলতি বন্যায় জেলার ৮০ কিলোমিটার নদী বিধৌত এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি কমলেও বংশাইসহ অন্যান্য শাখা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যমুনা নদীর পানি ২৪ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার, ঝিনাই নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার এবং ধলেশ্বরী নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৭২ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে বংশাই নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বংশাই নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, জেলার ভূঞাপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন, কালিহাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৭টি ইউনিয়ন, নাগরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন, বাসাইল পৌরসভাসহ ৬ টি ইউনিয়ন, মির্জাপুর উপজেলার ৪টি ইউানয়ন ও দেলদুয়ার উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন। চলতি বন্যায় জেলার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে নদী, খাল, বিল ও বাড়ির আঙিনা পানিতে থই থই করছে। এতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকায় এখনও লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এতে চরম দূর্ভোগে রয়েছেন পানিবন্দি মানুষ। অধিকাংশ এলাকায়ই দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব।

বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের উত্তর-পূর্বাংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাছ বেথইর এলাকায় বাঁধের ১০০মিটারে ভাঙনের কবলে পড়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়াও ভূঞাপুর, কালিহাতী, বাসাইল, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল সদর আর নাগরপুর অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে টাঙ্গাইল-পটলবাজার, টাঙ্গাইল-কাকুয়া, এলেঙ্গা-মগড়া, ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী বাজার থেকে ভালকুটিয়া পর্যন্ত পাকা সড়ক, বাসাইল পৌরসভার একটি ব্রিজ ও কাঞ্চনপুরের গ্রোথ সেন্টার-কাজিরাপাড়া সড়কে কালভার্ট প্রবল স্রোতে ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এসব এলাকার কাঁচা-পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানায়, জেলার ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর উপজেলার বন্যা দুর্গতদের জন্য ৪০ মে.টন খাদ্যশষ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের জন্য প্রতিটি উপজেলায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে যথাস্থানে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠানো হবে। এ ছাড়াও কালিহাতী উপজেলায় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ১১৮ টি পরিবারের মাঝে নগদ ৫ হাজার টাকা ও ঢেউটিন দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৯০টি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার জানান, চলতি বন্যার পানি এক সপ্তাহের মধ্যে নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৯০ হেক্টর জমির আবাদকৃত রোপা আমনের ৫০-৬০ ভাগ ধান রক্ষা পেতে পারে। তিনি জানান, পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে নাভি জাতের আমন রোপনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনার পাশাপাশি আগাম রবিশষ্য চাষে সহায়তা দিয়ে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন তারা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, জেলার ৮০ কিলোমিটার নদী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পানি কমে গেলে স্থায়ীভাবে নদী তীর সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নিষিদ্ধ চায়না জালের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিস।সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কালিহাতী পৌরসভার সিলিমপুর, নিশ্চিন্তপুর, বাংড়া ইউনিয়নের দয়থা ও কোকডহরা ইউনিয়নের মহিষজোড়ায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫০০ মিটার চায়না জাল জব্দ করেন কালিহাতী সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুল হাসান। পরে জব্দকৃত চায়না জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চায়না জাল দিয়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। বর্ষাকালে দেশীয় মাছের প্রজনন মৌসুম। এই মৌসুমে অবৈধ চায়না জাল ব্যবহার করে ছোট মাছ ও ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন করা হচ্ছে। ছোট মাছ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী এ ধরনের অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিতভাবে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ সময় উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ও কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ নানা জটিলতায় প্রায় দুই যুগ ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারসহ সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। অবশেষে দীর্ঘ ২১ বছর পর সিজার অপরেশন শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভূঞাপুরবাসী। রবিবার( ৫ সেপ্টেম্বর) দু’টি সিজারের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রথম দিনে করা দু’টি সিজারের দু’জনেই সুস্থ আছেন। তাঁরা দু’জন হলেন, উপজেলার পূর্ব ভূঞাপুরের আসাদুজ্জামানের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার (২৫) এবং পাশের ঘাটাইল উপজেলার যোগিহাটি গ্রামের মোস্তফার স্ত্রী তাহমিনা খাতুন (২০)।
সিজার দুটি সম্পূর্ণ করেন ডা. মোছা. সালমা জাহান। এ সময় তাঁকে সহযোগিতা করেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. খন্দকার সাঈদ হোসেন, অ্যানেসথেসিয়া ডা. মো. আজিজুল হক, আরএমও ডা. এনামুল হক ও ডা. নিশাদ সাইদা।
সিজারিয়ান দম্পতি ও তাঁদের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাইরের অন্যান্য ক্লিনিকের চেয়ে এখানে টাকা কম খরচ হয়েছে ও সিজারের সময়ও কম লেগেছে। মা ও নবজাতক দু’জনেই সুস্থ আছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. এএফএম সাহাবুদ্দিন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহীউদ্দিন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার ও তার ছেলে ওবায়দুর তালুকদারকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
সোমবার(৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কালিহাতী) আমলী আদালতের বিচারক শামসুল আলম একটি মারামারী মামলায় তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ জানান, একটি মারামারি মামলায় মেডিকেল রিপোর্টের(এমসি) ভিত্তিতে গত বছরের ১৩ অক্টোবর থেকে ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার জামিনে ছিলেন।সোমবার আদালতে হাজির হলে তার ও তার ছেলের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। পরে তাদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রকাশ, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তে বাসেক’র ভূমিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে ট্রাকে মালামাল লোড-আনলোড করা হতো। ওই অস্থায়ী স্টেশনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুলি সর্দার আকবর আলীর সাথে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদারের বিরোধ চলছিল।
ওই বিরোধের জের ধরে গত বছরের ৬ অক্টোবর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কুলি সর্দার আকবর আলীকে মারধর করা হয়। পরে ওই দিন বিকালে কুলি সর্দার আকবর আলীর ছোট ভাই আবু বক্কর বাদি হয়ে কালিহাতী থানায় ইউপি চেয়ারম্যান সহ ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন।
একতার কণ্ঠঃ কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের চরহামজানী গ্রামের সাংবাদিক আব্বাস আলীর বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। রবিবার( ৫ সেপ্টেম্বর) সকালে চরহামজানী গ্রামের সাত্তার মাষ্টারের বাড়ীর রাস্তার পাশে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী।মানববন্ধন শেষে আব্বাস আলীর বিচারের দাবীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে স্থানীয় ইউপি সদস্য সোলায়মানসহ দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সাধারন লোক অংশ গ্রহন করেন।
মানববন্ধনে ইউপি সদস্য সোলায়মান, আব্দুল মোতালেব,তপন পাল বলেন, বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভয় দেখিয়ে আব্বাস আলী বেশ কয়েক জন গ্রামবাসীর কাছ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অসহায় গ্রামবাসী প্রতিবাদ করলে তাদেরও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
বক্তরা আরো বলেন, স্থানীয়দের বিভিন্ন ভাবে হয়রানির পাশাপাশি অন্যের জমি দখল করে বাংলা ডেজার বসিয়ে সাধারণ মানুষের চাষের জমির ক্ষতি করছে,এ ছাড়া আরো বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে কথিত সাংবাদিক আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে।মানববন্ধন থেকে বক্তারা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আব্বাস আলীর বিচার দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, এলাকায় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে।
একতার কন্ঠঃ বঙ্গবন্ধু সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাক চালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন। রবিবার( ৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আজিজুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ট্রাকচালক মমতাজ মিয়া (৩৫) দিনাজপুর সদরের চপরামপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে। দুর্ঘটনায় নিহত ট্রাক চালকের সহকারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাক টাঙ্গাইলের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি মহাসড়কের ডুবাইল এলাকায় পৌঁছলে সামনে থাকা অপর একটি ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। এ সময় ট্রাকটি সড়ক ডিভাইডার এর উপরে উল্টে যায়। মাইক্রোবাসটিও দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই ট্রাকচালক মমতাজ মিয়া ও তার সহকারী।
এ বিষয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আজিজুল হক জানান, নিহত ট্রাকচালকের সহকারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনা কবলিত দু’টি ট্রাক ও মাইক্রোবাসটি পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএ অফিসে সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২৭ জন দালালকে আটক করেছে র্যাব। রোববার( ৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালত আটকৃত ২৭ জনের প্রত্যেককেই ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলো- টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী এলাকার মৃত বজলুর রশিদের ছেলে মো: আ: আল মামুন (৩২), গোপালপুর উপজেলার খরুরিয়া এলাকার মৃত হামিদুর রহমানের ছেলে মো: আ: বারী (৪০), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার মো: তাইজ উদ্দিনের ছেলে মো: মামুন (২৭), দেলদুয়ার উপজেলার নাল্লাপাড়া গ্রামের মৃত খোরশেদ মিয়ার ছেলে মো: ইয়ামিন (৩৫), টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার মো: বাবুল মিয়ার ছেলে মো: তোফাজ্জল (৩৭), ঘাটাইল উপজেলার ভদ্রবাড়ী গ্রামের মৃত মাজম আলীর ছেলে মো: আ: হাই (৫০), টাঙ্গাইল পৌর সভার সাবালিয়া এলাকার মৃত একাববর আলীর ছেলে মো: আ: ছামাদ, পাড়দিঘুলিয়া এলাকার মৃত ওমেদ আলীর ছেলে মো: মামুন মিয়া (৪৪), সদর উপজেলার চৌবাড়িয়া এলাকার মৃত সুমার আলীর ছেলে মো: আমিনুল ইসলাম (৩৫), নাগরপুর উপজেলার আটপাড়া গ্রামের মৃত আনোয়ার মোল্লার ছেলে মো: বুদ্দু মিয়া (৩৫), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এনায়েতপুর এলাকার মৃত খুশীমন পাালের ছেলে তুষার পাল (৩২), গোপালপুর উপজেলার বেতবাড়ী গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে মো: শরিফুল ইসলাম (২২), সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের আ: রশিদের ছেলে মো: সাজ্জাদ হোসেন (২৭), মিরপুর এলাকার এলাকার মো: আজাদ হোসেনের ছেলে মো: আবুল হোসেন (৪৬), কলেজপাড়া এলাকার শাহাজাদা মিয়ার ছেলে মো: সম্রাট মিয়া (২৭), সদর উপজেলার এনায়েতপুর এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো: আশরাফুল (৩২), হাজরা ঘাট এলাকার সিজুর ছেলে রনি (৩২), কালিহাতী উপজেলার বহরমপুর এলাকার আ: হামিদের ছেলে আ: খালেক (৫০), মির্জাপুর উপজেলার আ: খালেকের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৪), মির্জাপুর উপজেলার আড়াইপাড়া গ্রামের জাবেদ আলীর ছেলে আ: আজিজ (৩৮), কালিহাতী উপজেলার আদাবাড়ী এলাকার দেওয়ান মোশারফ হোসেনের ছেলে দেওয়ান মেহেদী হাসান (৪০), শহরের সাবালিয়া এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান(৪৩), ইছাপুর এলাকার সৈকত আলী তালুকদারের ছেলে মো: কামরুল হাসান সাগর (৩০), শহরের কাগমারা এলাকার মো: জয়নাল আবেদীন এর ছেলে মো: রুবেল মিয়া (৩৩), দিঘুলিয়া এলাকার আ: হাকিমের ছেলে আ: রায়হান (৩৯) ও সিটকি বাড়ী এলাকার মো: রসুল উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৯)।
অভিযান প্রসঙ্গে র্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন, (জি), বিএন জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে ১২জন, পাসপোর্ট অফিস থেকে ৮ জন এবং বিআরটিএ অফিস থেকে ৭জন সহ মোট ২৭ জন দালালকে আটক করা হয়। পরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ম্যাজিস্টেট) গোলাম মাসুম প্রধান ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আটককৃতদের ৭ দিনের বিনাশ্রম কারদন্ড প্রদান করেন।
তিনি আরো জানায়, র্যাবের উদ্যোগে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।