একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বন্ধুর হয়ে (প্রক্সি) পরীক্ষা দিতে আসায় রায়হান কবির নামে এক যুবককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে তাকে আটক করা হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাবলী শবনম অভিযুক্ত রায়হানকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করেন। তিনি ওই কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, সকালে টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে টাঙ্গাইল শহরের অক্সফোর্ড কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চতুর্থ সেমিস্টারের ড্রয়িং-২ (ক্যাড) বিষয়ের পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা চলাকালীন প্রক্সি দিতে আসা রায়হান কবিরের প্রবেশপত্রে মূল পরীক্ষার্থীর ছবির মিল না পাওয়ায় ওই কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষক খাতাটি নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনকে অবগত করেন। পরে রায়হানকে ওই কেন্দ্রের অধ্যক্ষের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি জানান, টাঙ্গাইল শহরের অক্সফোর্ড কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে অষ্টম পর্বে অধ্যয়নরত তার বন্ধু সায়েমের পরিবর্তে পরীক্ষা দিতে এসেছেন।
কেন্দ্র সচিব টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বিএম আমিনুল ইসলাম বলেন, সায়েমের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া তাকে পরবর্তী তিন শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি না দিতে সুপারিশ করা হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট বাবলী শবনম বলেন, রায়হান কবির তার বন্ধু সায়েমের রেফার্ড পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে যান। পরে শিক্ষকরা তার প্রবেশপত্র ও কাগজপত্র যাচাই করলে রায়হান ভুয়া প্রমাণ হয়। তাকে এক বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুইশ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের শ্যামার ঘাট আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (৪ এপ্রিল) সকালে আশ্রায়ন প্রকল্পের ৪০ টি পরিবারের মাঝে ওই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসার রানুয়ারা খাতুন এই খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারে হাতে তুলে দেন। এ সময় টাঙ্গাইল উপজেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রতিটি খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট ছিল, ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবন, ১ কেজি চিনি, ২ কেজি চিড়া, ১ লিটার সয়াবিন তেল ও নুডুলস এক প্যাকেট।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ট্রাক্টর (টলি ট্রাক্টর) ও সিএনজি অটোরিক্সার সংঘর্ষে আনোয়ারা (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এঘটনায় আরো চারজন আহত হয়েছেন। রোববার (৩ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের জাইলাবাড়ির মোড়ে ওই দূর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আনোয়ারা (৫০) টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ডাক্তার কাদেরের স্ত্রী বলে জানাগেছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বড় ভাইয়ের মূত্যুর খবর শুনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চৌহালী উপজেলার পাথরাইল গ্রামে যাবার পথে নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের জাইলাবাড়ির মোড় নামক স্থানে আসলে অপর দিক থেকে রফিক মোল্লার টলি ট্রাক্টরটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সিএনজিটিকে চাপা দিলে ড্রাইভার সহ ৫ জন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়দের সহযোগীতায় নাগরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। টাঙ্গাইল হাসপাতালে নেবার পথে আনোয়ারা মৃত্যুবরণ করেন।
পরিবারের আহত তিনজন সদস্য হচ্ছেন, নিহতের ভাই আ. সামাদ ও তার স্ত্রী এবং ছেলে ফয়জুল্লাহ। আহতদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, দূর্ঘটনায় একজন নারী নিহত হয়েছে বলে সংবাদ পেয়েছি। গাড়ি দুটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।ঘাতক গাড়ি ও তার চালক কাউকে আটক করা যায়নি।
তিনি আরো জানান, নিহতের পরিবার থেকে কোন অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে শিক্ষকের বেতের আঘাতে এক মাদরাসাছাত্রের শরীরে পচন ধরেছে। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ওই ছাত্রের নাম মো. ইব্রাহিম (৮)। সে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ক্ষুদিরামপুর গ্রামের রিকশাচালক আমিনুল ইসলামের ছেলে। অভিযুক্ত শিক্ষক তানজিম ময়মনসিংহের মো. বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিনুল তার ছেলেকে শহরের ঢাকা ক্লিনিকের চিকিৎসক শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. আকমলের প্রতিষ্ঠিত মীরের বেতকা (উত্তরপাড়া) মাদরাসাতুল কুরআন আল কারীম মাদরাসায় আবাসিকে পড়তে দেন। হঠাৎ করেই গত সপ্তাহে মাদরাসা থেকে আমিনুলকে ফোন করে জানানো হয় তার ছেলে অসুস্থ। মাদরাসার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য জন্যও। একপর্যায়ে আমিনুল তার ছেলেকে শুক্রবার বাড়ি নিয়ে যায়। বাড়িতে যাওয়ার পর ছেলেকে গোসল করানোর সময় তিনি ইব্রাহিমের শরীরে ক্ষত দেখতে পান। এ সময় তার ছেলে তাকে শিক্ষক মো. তানজিম তাকে বেত দিয়ে আঘাত করেছেন বলে জানায়। এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে মাদরাসাছাত্রের পরিবার কর্তৃপক্ষের কাছে উক্ত বিষয়টি অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন মাদরাসার প্রিন্সিপাল মো. আবদুল্লাহ আল মামুনকে ওই আঘাতের চিহ্ন দেখান। সে সময় ওই ক্ষতস্থান থেকে রক্ত এবং পানি বের হচ্ছিল।
এ বিষয়ে ওই মাদরাসাছাত্র মো. ইব্রাহিম বলেন, গত এক মাস আগে মাদরাসার শিক্ষক মো. তানজিম তাকে নীম গাছের ডাল দিয়ে পেটান। সে সময় এই পেটানোর কথা বাবা-মাকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতিও দেখান ওই শিক্ষক। এই বলেই কান্নায় ভেঙে পড়ে ইব্রাহিম।
এ বিষয়ে শিক্ষক তানজিম বলেন, কথা না শোনার কারণে ইব্রাহিমকে পেটানো হয়েছিল। তবে এমনটা হবে তা আগে বুঝতে পারিনি। তবে পরিবারের কাউকে বিষয়টি জানাতে ইব্রাহিমকে মানা করেছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।
ইব্রাহিমের মা রোজিনা বেগম বলেন, তার ছেলেকে যেভাবে পেটানো হয়েছে, ঠিক সেভাবে ওই শিক্ষককে পেটালে তিনি শান্তি পাবেন এই বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওয়াছেরুর রহমান নেছার বলেন, তিনি বিষয়টি জেনেছেন। এর আগেও বেশ কয়েকবার ওই মাদরাসায় অনৈতিক কাজের জন্য সালিশ বৈঠক হয়েছে। তবে এ ঘটনার জন্য তিনি জড়িত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে ওই মাদরাসায় প্রিন্সিপাল মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কামাল মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (০১ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের ধলাটেংগর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।
কামাল মিয়া নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার জালাকান্দি এলাকার আব্দুল আওয়ালের ছেলে। পেশায় অটোরিকশা চালক।
আরো পড়ুনঃটাঙ্গাইলে ছাত্রদলের একাংশের বিক্ষোভ সমাবেশ
নিহতের স্ত্রী আছিয়া জানান, বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ফোনে নজরুল ও আবুল মিয়া নামে দুইজন তার স্বামীকে মাছ ধরার কথা বলে নিয়ে যান। এরপর ওই দিনই নজরুল ফোন করে জানায় তার স্বামী টাঙ্গাইলে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা গেছেন। সেখান থেকে মরদেহ আনতে বলা হয়। পরে কালিহাতী উপজেলার মহাসড়ক ও রেললাইনের মাঝখানের ডোবায় মরদেহ পাওয়ার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।
বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত রিকশা চালকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর আগে তার স্ত্রী পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, পৌর শহর, এমএম আলী কলেজ, সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের অর্থের বিনিময়ে নবগঠিত কমিটি ঘোষণার অভিযোগ এনে এবং এ কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদলের একাংশের নেতা-কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার(৩১ মার্চ) বিকেলে শহরের ভাসানী হল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এসে এক সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক মো. আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-আহবায়ক নয়ন ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান, কাব্য, কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আমিনুর ইসলাম, এলেঙ্গা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব রকি মোল্লা, মধুপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়ির যুগ্ম আহবায়ক হারুন অর রশিদ, ধনবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আব্দুল বাতেন, মধুপুর উপজেলা ছাত্রনেতা মানিক মিয়া প্রমুখ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মগড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আলী হোসেন সরকার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সুজন মাহমুদ।
বিক্ষোভ সমাবেশে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, পৌর শহর, এমএম আলী কলেজ, সা’দত বিশ^বিদ্যালয় কলেজ, মধুপুর-ধনবাড়ী ও কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা অংশ নেয়।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির কতিপয় নেতা ও জেলা ছাত্রদলের কয়েক জন নেতার যোগসাজশে তৃণমূল ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মতামতকে উপেক্ষা করে এ কমিটিগুলো করা হয়। এই পকেট কমিটির অধীনে এবং ছাত্রলীগ নেতা দিয়ে কমিটির অধিনে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। অর্থের বিনিময়ে নবগঠিত কমিটি ঘোষণা করেছে জেলা ছাত্রদল। ছাত্রদলের মামলা হামলা খাওয়া ও ত্যাগী নেতাদের মুল্যায়ন করা হয়নি। এ কমিটিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে দুই ট্রাকে বহনকারী বিপুল পরিমান গজারী কাঠসহ ট্রাকের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে বন বিভাগ। বুধবার( ৩০ মার্চ) ভোরে সাগরদিঘী-হাটুভাঙ্গা গোড়াই সড়কের বোয়ালী ও মির্জাপুর-কামালপুর সড়কের কামালপুর এলাকায় টহলকালে গজারি কাঠ ও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, ঘাটাইলের সাগরদিঘী গ্রামের মৃত আ. কাদেরের ছেলে ট্রাক চালক মো. সেলিম ও ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আনুহাতি গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে ট্রাকের হেলপার মো. জুলহাস।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে বিএনপি’র গণ অনশন কর্মসুচী পালন
টাঙ্গাইল সদর রেঞ্জার মো. এমরান আলী জানান, ভোর রাত ৩ টায় মির্জাপুর-কামালপুর সড়কের উয়ার্সী এলাকায় টহলকালে গজারী বল্লী ভর্তি একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো- ট-১৫-৪৯২৭) থামাতে বললে চালক ট্রাকটি না থামিয়ে চলে যায়। পরে ওই ট্রাকের পিছু নিলে ট্রাকটি কামালপুর এলাকায় রাস্তার উপর রেখে চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পরে ওই ট্রাক থেকে ২১০ টি গজারী বল্লী জব্দ করা হয়। এ সব গজারী বল্লীর কোন বৈধ কাগজপত্র ও কাঠের গায়ে কোন বৈধ হাতুড়ীর চিহ্ন নেই।
তিনি আরো জানান, অপর দিকে ভোর ৬ টায় বোয়ালী এলাকায় অপর একটি ট্রাককে (ঢাকা মেট্রো ট-২০-৮২৬৬) থামানোর সংকেত দেয়া হয়। ট্রাকটি না থামিয়ে চালক সামনের দিকে অগ্রসর হয়। পরে ট্রাকের পিছু নিয়ে ট্রাকটির গতি রোধ করে থামানো হয়। পরে ওই ট্রাকে থাকা ৬৫ টুকরা গজারি কাঠের কোন কাগজপত্র না থাকায় চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়। এছাড়াও কাঠ গুলো জব্দ করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা করে বুধবার (৩০ মার্চ) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ চাল,ডাল,তেল সহ দ্রব্য মুল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে গণ অনশন কর্মসূচী পালন করেছে জেলা বিএনপি।বুধবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ভিক্টোরিয়া রোডস্থ জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ অনশন কর্মসুচীর আয়োজন করা হয়।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ডায়রিয়ার প্রকোপ আরো বেড়েছে
এই গণঅনশন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সহ সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, বিএনপি নেতা কাজী শফিকুর রহমান লিটন, অমল ব্যানার্জি, দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, আবুল কাশেম, আশরাফ পাহেলী, একেএম মনিরুল হক মনির প্রমুখ।
এ ছাড়া জেলা যুবদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, হাদিউজ্জামান সোহেল, সদর থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক সহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গণ অনশনে বক্তারা সরকারকে রমজান মাসের আগে চাল,ডাল তেল, গ্যাস সহ দ্রব্যমুল্য জনগনের ক্রয় ক্ষমতার আওতায় আনার দাবী জানান। অন্যথায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী গ্রহন করে সরকারকে দাম কমাতে বাধ্য করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। রোগী সংখ্যা বেশি হওয়ায় সিট পূর্ণ হয়ে অনেকে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশু ও মহিলা রোগীর সংখ্যাই বেশি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ধারনা আগামী পনের দিন রোগীর সংখ্যা আরো বাড়বে।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বুধবার(৩০ মার্চ)দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায় সিট পূর্ণ হয়ে ভর্তি রোগীরা মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে মহিলা ও শিশু রোগীই বেশি। এ ছাড়া মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫ জন পুরুষ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছে।হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায়, এখন পর্যন্ত কোন রোগী মৃত্যুবরণ করেনি ও কোন রোগীকে ঢাকায় রেফার্ড করতে হয়নি।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স জোবায়েদা খাতুন বলেন,বুধবার দুপুর পর্যন্ত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হল ৪৯ জন। এ ছাড়া মেডিসিন ওয়ার্ডে পূর্ন বয়স্ক পুরুষ রোগী ভর্তি রয়েছে আরো ৫ জন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে সিট রয়েছে মাত্র ১৮টি। ফলে রোগীদের নিজ উদ্যোগে বিছানা নিয়ে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। কর্মরত নার্স রযেছে মাত্র ৬ জন । ফলে রোগী সামলানোও বেশ সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া এক জন চিকিৎসক দিনে দুইবার রাউন্ডে আসে ফলে জরুরী রোগীদের চিকিৎসা সেবা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতলে একটি প্রকল্পে কর্মরত আইসিডিডিআরবি’র ফিল্ড রিসার্চ এ্যাসিস্ট্যান্ট মো. সানাউল্লাহ জানান, চলতি মাসের ২৩ মার্চ ৫২ জন, ২৪ মার্চ ৫০ জন এবং ২৫ মার্চ ৪৩ জন ডায়রিয়া রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, এখন ডায়রিয়ার পিক সিজন চলছে। আগামী ১৫ দিন প্রকোপ আরো বাড়বে। তার পর আক্রান্তে সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে থাববে।
মো. সানাউল্লাহ জানান, ডায়রিয়া হাত থেকে বাঁচতে হলে, বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। খাবারের আগে ও টয়লেটের পরে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। সব ধরনের স্ট্রিট ফুড পরিহার করতে হবে। কেউ ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে প্রাথমিক ভাবে খাবার স্যালাইন খেতে হবে। যদি বমি ও পাতলা পায়খানা হয় তাহলে অবশ্যই নিকটস্থ হাসপাতাল কিম্বা চিকিৎকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের নামে র্যাগিংয়ের অভিযোগ করেছেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১ম বর্ষ ও ১ম সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থী মোঃ তারেক।
মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মোঃ রোকনুজ্জামানের সুপারিশক্রমে লিখিত অভিযোগ জমা দেন তিনি।
র্যাগিংয়ের অভিযোগে তার লিখিত আবেদনে গত ২৮ মার্চ (২০২২) রাতে ক্যাম্পাসের নিকটস্থ সন্তোষ আরিফ নগরে অবস্থিত ছাত্রাবাসে, ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম, আজমাইন, সেলিম, মাহিন ও রাহাত এবং ফার্মেসী বিভাগের সাফি ও আরো অনেকের র্যাগিংয়ের শিকার হওয়ার কথা জানান।
আরো পড়ুনঃ আমি প্রতিবাদই করি, লুটপাট তো আর করি না : টাঙ্গাইলে ব্যারিস্টার সুমন
এছাড়া আবেদনে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও লেখাপড়া চালানো কঠিন হওয়া ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, সে অভিযোগ করেছে। অভিযোগের আলোকে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করব। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার গভীর রাতে তারেককে টাঙ্গাইলের সন্তোষ আরিফ নগরে অবস্থিত ছাত্রাবাসের সামনে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে স্থানীয় জনগণ, পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মঙ্গলবার সকালে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ওপর অমানবিক র্যাগিং এবং শারীরিক, মানসিক অত্যাচার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষেধ থাকলেও রাতে তারা বিভিন্ন মেসে ডেকে নিয়ে সারা রাত র্যাগিং চালায়। উল্টাপাল্টা হলে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। আমরা অসহায় আমাদের বলার কেউ নাই। বললেও কাকে বলবো জানি না বললে পরে আরো শাস্তি পেতে হয়।
একতার কণ্ঠঃ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, বাংলাদেশে এমন কোনো মানুষ নেই যে চাপে নেই। দেশের সবাই চাপে আছে। সরকারি দলের চাপ আছে বিরোধী দলের কাছে, আবার বিরোধী দলের চাপ আছে সরকারি দলের কাছে। আমি প্রতিবাদই করি, লুটপাট তো আর করি না। প্রতিবাদ করি দেশের জন্য, ব্যক্তি স্বার্থে না।মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘ডুবাইল ক্রিকেট লীগ’ ম্যাচ চলাকালীন তিনি এসব কথা বলেন।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে স্ত্রীর সাথে অভিমান করে প্রবাসীর আত্মহত্যা
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর যে সোনার বাংলার কথা বলা হয়, সেই সোনার বাংলার জন্য একজন সোনার মানুষ হতে চাই। তরুণদের বলতে চাই, সোনার মানুষ ছাড়া কোনো দিন সোনার বাংলা বানানো সম্ভব না। দলেও যদি সোনার মানুষ না থাকে তাহলে দলটিও ভালো চলবে না।তিনি আরও বলেন, এলাকায় একটি মাঠ না থাকলে এলাকাটি বেশি দিন বাঁচতে পারে না। তরুণ সমাজ মাদকে আসক্ত হওয়ার কারণ হচ্ছে এলাকায় খেলাধুলার মাঠ না থাকা। মাঠের মধ্যে বাণিজ্য মেলা, গরু-ছাগলের হাট-বাজার বসানো হচ্ছে। এতে তরুণরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং মাদকে আসক্ত হচ্ছে।ব্যারিস্টার সুমন বলেন, মনের মধ্যে যদি থাকে আপনি কবে এমপি হবেন, মন্ত্রী হবেন, এই মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে সোনার বাংলা বানানো সম্ভব না। সোনার বাংলা গড়তে হলে বাংলাদেশকে মনের মধ্যে ধারণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান মারুফ, ডুবাইল জাগরণী সমাজ কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি মোন্তাজ আলী, ব্যবসায়ী মো. ফয়সাল, ব্যারিস্টার মনির হোসেন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কের কালিহাতীতে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অর্নব স্পেশাল পরিবহন বাসের সুপারভাইজার নিহত হয়েছেন।এঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৫জন। মঙ্গলবার(২৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বিয়ারামারুয়া এলাকায় ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে।বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহত লাল মিয়া (৪৫) অর্নব স্পেশাল পরিবহন বাসের সুপারভাইজার।সে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ডমেরহাট এলাকার মৃত মহিউদ্দিন মিয়ার ছেলে।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে দখল ও দূষনে মৃত প্রায় লৌহজং নদী
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী অর্নব স্পেশাল পরিবহন নামের যাত্রীবাহী বাসটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এসময় গুরুতর আহত বাসের সুপারভাইজারসহ ৬ জনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে বাসের সুপারভাইজার লাল মিয়া মারা যায়।
বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, বাস ও ট্রাকের চালক পলাতক রয়েছে।
তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।