মোঃ আরমান কবীর সৈকত (সম্পাদক)

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের শিকার কৃষক ও মুদি দোকানদার মেছের আলী - Ekotar Kantho

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের শিকার কৃষক ও মুদি দোকানদার মেছের আলী

একতার কণ্ঠঃ সাম্প্রদায়িক আধিপত্য ও উগ্র সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী কর্তৃক সংগঠিত ধারাবাহিক অপরাধ ষড়যন্ত্র, অবৈধ সমাবেশ, হুমকি, দোকান ভাংচুর ও বন্ধকরণ, একঘরে করণ, ঈদের নামাজ ও কুরবানী নিষিদ্ধকরণ, চুরি, ডাকাতি, চাদাদাবী, হামলা, মিথ্যাচার, অপপ্রচার, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, সংবাদপত্রে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদ এর প্রতিবাদে গত ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২১ ও ১২ ই মার্চ ২০২২ ইং তারিখে ভূক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ও কৃষিবিদ মো. দুলাল মিয়া টাংগাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনের বিবৃতি ও বাস্তবসম্মত সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত, প্রচারিত হয়।

সন্ত্রাসীদের অপকর্ম ও আইন বিরোধী আচরণের সংবাদ ইতোপূর্বে ১১, ২০ ও ২২ ডিসেম্বর, ২০২১ ইং তারিখে পাঁচটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা মিথ্যা তথ্য প্রচার করতে থাকে।

নিরুপায় ও অসহায় হয়ে এসবের প্রতিকার চেয়ে গত ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২১ ইং তারিখে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বরাবর মেছের আলী আবেদন করেন।

দুলাল মিয়া বলেন, মেছের আলীর মামলায় সদ্য জামিনে মুক্ত আসামীরা তাদের অপকর্ম ধামাচাপা দিয়ে ভয়ংকর অপরাধ সংগঠনের উদ্দেশ্যে এবং সমগ্র দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র পূর্বক, গত ২২ ই ডিসেম্বর, ২০২১ ইং তারিখে সকাল ১১ টায় সিংজুরী নাট মন্দিরের সামনে প্রকাশ্য জনসম্মুখে অবৈধ সমাবেশের মাধ্যমে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের শতভাগ মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাঁচটি পত্রিকায় শতভাগ মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায়। মানববন্ধন ইস্যুতে উক্ত অবৈধ সমাবেশে দুলাল মিয়া, মেছের আলী ও তাদের পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট, মানহানিকর বিবৃতি প্রদান করে সন্ত্রাসীরা এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক পরিচয়ে সন্ত্রাসীরা তাদের অপকর্মের সমর্থন চেয়ে সাংবাদিক ও দেশবাসীকে উদ্ধাত্তভাবে আহবান করে। সন্ত্রাসীদের উগ্রতা, মিথ্যাচারের ভিডিও, পত্রিকায় প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদ ফেসবুকে পোস্টিং, লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ারিং এর মাধ্যমে সমগ্র দেশে প্রচার করার চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসী কর্তৃক সংগঠিত ধারাবাহিক অপরাধ ও সৃষ্ট উগ্র সাম্প্রদায়িকতার কারণে মেছের আলীসহ প্রায় ২০০ (দুইশত) টি পরিবারের ২০০০(দুই হাজার) জন ব্যক্তি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

লিখিত বক্তব্যে দুলাল মিয়া বলেন, টাংগাইলের মির্জাপুর উপজেলার সিংজুরী গ্রামের আশুতোষ সরকার, গৌড় সরকার, নুরুল ইসলাম এর নেতৃত্ত্বে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম ও মেম্বার নাজিম উদ্দিন সহ স্থানীয় ৩০-৩৫ জন একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তুলেছে যা সাংগঠনিকভাবে দেশব্যাপী বিরাজমান।

তিনি আরও বলেন, এই সকল সন্ত্রাসীরা নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী একজন অপরজনের সহিত আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ। এদের অনেকে আত্মীয়তার সূত্রে অন্যত্র হতে এসে অত্র গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। নৈতিকতা বিরোধী অপরাধের জন্য এদের অনেকের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে একাধিক গ্রাম্য সালিস হয়েছে। চক্রটির অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। চক্রটির অনেকে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায় জড়িত। শান্তি, সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাপূর্বক স্বাধীন, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন যাপন নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক মর্মে তিনি বিবৃতি প্রদান করেন।

লিখিত বক্তব্যে দুলাল মিয়া আরও বলেন, সন্ত্রাসী চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নৈকট্য লাভ করে এলাকায় বিশেষ আধিপত্য বিরাজ করে আসছে। অপরদিকে, সংখ্যা লঘু আইনের প্রচার এবং অপকৌশল ব্যবহার করে মন্দিরে নিয়মিত সমাবেশ করে ধারাবাহিক অপরাধ করছে। হিন্দু ইজম, হিন্দু আধিপত্য, ভীতি সৃষ্টি, অবৈধ চুক্তি এবং অবৈধ তদবীরের মাধ্যমে তারা পারিপার্শ্বিক সব নিয়ন্ত্রণ করছে। সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে দুলাল মিয়া বলেন, সন্ত্রাসীদের সকল অপকর্মের প্রতিবাদ করায় মেছের আলীর একমাত্র আশ্রয় আমাকে নির্ণয় করে আমাকে হয়রানী করছে সাংগঠনিকভাবে। আমার উপর দোষ চাপানোর ষড়যন্ত্র চলছে, আমি অন্যয়ের প্রতিবাদ করছি, সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে আছি, থাকবো, আমার প্রতিবাদ ন্যায় সঙ্গত, বিধি সম্মত। তিনি আরও বলেন, সমস্যার শুরুতেই আমরা জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করেছি, সবাই জানে সমস্যাটা কোথায়, তাই হয়তো কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলেন না, কিন্তু বাস্তবতা সবাই বুঝেন। শান্তি সমাধানের জন্য সন্ত্রাসীদের সাথেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের কৌশল হলো, বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত করা এবং আমাদের প্রতিপক্ষ করা, যাতে কেউ আমাদের নৈতিক সমর্থন না করে। সবাইকে প্রতিপক্ষ হিসেবে চাই না, এটা সম্ভব না, যদিও ইউনিয়ন পরিষদ কে আমাদের প্রতিপক্ষ করেছে।

তিনি আরও বলেন, মেছের আলীর ক্রয়সূত্রে রেজিস্ট্রি দলিলমূলে ২৭ বছরের স্বত্ব দখলীয় ভূমি বেআইনীভাবে একই গ্রামের রতন বিশ্বাস কে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সাংগঠনিক এজেন্ডায় ইস্যু তৈরী করে। পারিপার্শ্বিক সকল কিছু সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রণপূর্বক, মেছের আলীর একমাত্র আশ্রয় আমাকে নির্ণয় করে আমাকে এবং মেছের আলী কে হয়রানী করে আসছে সাংগঠনিকভাবে।

লিখিত বক্তব্যে দুলাল মিয়া বলেন, ২০২১ সালের ৪ মার্চ ও ৩১ মার্চ মেছের আলী ভূমি বিষয়ে ১৪৪ ধারা ও ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক দখলাবস্থা বজায় রাখার আদেশ হয়। উক্ত আদেশের প্রেক্ষিতে ২৪ এপ্রিল/২১ মির্জাপুর থানা কর্তৃক শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার নোটিশ জারী করা হয়। গত ২৪ শে মার্চ/২১ রতন বিশ্বাস বাদী হয়ে হুমকির মিথ্যা একটা মামলা দায়ের করে। গত ৯ মে/২১ মেছের আলী বাদী হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে চুরি, চাদাদাবীর মামলা দায়ের করেন। পাঁচবারের সকল তদন্তে মেছের আলীর দাবী এবং অভিযোগের সত্যতা মিলে, নামজারী ও তদন্ত প্রতিবেদনসহ ভূমি বিষয়ক কর্মকর্তার চারটি প্রতিবেদন মেছের আলীর পক্ষে, বিজ্ঞ আদালতের চারটি মামলার সকল আদেশ মেছের আলীর পক্ষে। রতন বিশ্বাস কর্তৃক দায়েরকৃত হয়রানীমূলক হুমকির মামলায় গত ১৪ ই ফেব্রুয়ারী/২২ মেছের আলীসহ চারজন অব্যাহতি পেয়েছে। মির্জাপুর থানার দুটি তদন্তে সন্ত্রাসীরা অপকর্মের স্বীকারোক্তি দিয়ে আপোষ মীমাংসার অজুহাতে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ ও মির্জাপুর থানার নোটিশ অমান্য করে সন্ত্রাসীরা ধারাবাহিকভাবে অপরাধ করেছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মির্জাপুর থানায় একাধিক জিডি, অভিযোগ, আবেদন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভূমি বিষয়ে মেছের আলীর দায়েরকৃত তিনটি মামলা, থানায় দায়েরকৃত জিডি, অভিযোগ যৌক্তিক, প্রাসঙ্গিক, আবশ্যকীয়। রতন বিশ্বাসের দায়েরকৃত হয়রানীমূলক হুমকির মামলার আর্জির বিবৃতি শিষ্টাচার বহির্ভূত, প্রত্যেকটি বক্তব্য মিথ্যা, ধারাবাহিক অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। চক্রটি কর্তৃক অদূর ভবিষ্যতে খুন, জখম, অপহরণের ইঙ্গিত বহন করে। বিজ্ঞ আদালতে রতন বিশ্বাস গং যে জবাব দাখিল করেছে, তাতে প্রত্যকটি বিবৃতি মিথ্যা। সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের শতভাগ মিথ্যা তথ্য দিয়ে যেসকল পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে, তার প্রত্যেকটি বক্তব্য মিথ্যা। সকল মিথ্যাচার, অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, অপকর্ম কে প্রতিরোধ করে সত্য স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি বিবৃতি প্রদান করেন।

দুলাল মিয়া বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের সংবাদ সম্মেলনের খবর প্রকাশিত হলে, সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয় দে, তারা মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে পরবর্তী উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করবে, প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে। গত বছরের ২ মে থেকে বন্ধ মুদি দোকানের ডিসেম্বর/২১ পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করেও নিরুপায় হয়ে সিংজুরী নতুন ব্রিজ সংলগ্ন ভূমিতে মেছের আলী দোকান চালু করেন। গত ০৩ জানুয়ারী, ২০২২ রাতে সন্ত্রাসীরা উক্ত দোকানের সামগ্রী ভাংচুর করে। গত ৫ ই ডিসেম্বর র‌্যাব, মহাপরিচালক বরাবর মেছের আলী আবেদন করেন। মেছের আলীর জমিতে কোনো কৃষি শ্রমিক, ট্রাক্টর যাতে যেতে না পারে সেমর্মে আসামীরা এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি করেছে। আমিসহ মেছের আলী ও তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন কে হয়রানী করার জন্য আসামীরা নিয়মিত ষড়যন্ত্র করছে, হুমকি প্রদান করছে, ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। অদ্যাবধি সন্ত্রাসীদের মোট আট টি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করলেও সন্ত্রাসীরা কোনো জবাব দেয় নাই, সংশোধন হয় নাই, সতর্ক হয় নাই, ধারাবাহিকভাবে বহুমুখী অপরাধ করে যাচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে দুলাল মিয়া বলেন, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নাটকীয়তা, হঠকারীতা, মিথ্যাচার, উৎপাত, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, প্রতারণা, অপপ্রচার, মিথ্যা স্বাক্ষ্য প্রদান, কুপরামর্শ, পরোচনা, অপ্রাসঙ্গিকতা, বিশিষ্ট ব্যক্তির রেফারেন্স ব্যবহার ও বিভ্রান্তিকর প্রচারনা, দায়িত্বশীল ব্যক্তির ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারসহ বহুমুখী কৌশল ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা অপরাধ করে আসছে। খুন, জখম, গুম, ছিনতাই, অপহরণ, চাকরিচ্যুতি, সাসপেন্ড, ডিমোশন, পোস্ট ব্লক ইত্যাদির হুমকি দিয়ে আসছে। এসিড নিক্ষেপ, অগ্নি সংযোগ, গণধর্ষণ, মন্দির ভাঙ্গার কেস, সংখ্যা লঘু নির্যাতন সহ বিভিন্ন রকম হয়রানী মামলা দায়ের করবে মর্মে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে সন্ত্রাসীরা। এছাড়াও সন্ত্রাসীরা আরও কিছু নোংরা কৌশল ব্যবহার করে সংখ্যাধিক্য ও অনৈতিক সমর্থন নেয়ার কাজ করছে যা প্রকাশ করা যাবে না। সন্ত্রাসীদের কৌশল কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। মির্জাপুর থানায় আপোস মীমাংসার মাধ্যমে রতন বিশ্বাস কে জমির দখল বুঝিয়ে না দিলে, হয়রানীমূলক মামলা দেওয়া হবে মর্মে সন্ত্রাসীদের পক্ষ হতে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইতোপূর্বে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে রতন বিশ্বাস কে দখল বুঝিয়ে দিতে বাধ্য করার জন্য রতন বিশ্বাস কে বাদী করিয়ে সন্ত্রাসীরা হয়রানীমূলক হুমকির মামলা দায়ের করায়। ১৮ জন বাদী হয়ে ১৮ টি হুমকির মামলা দায়ের করে একতরফা ডিক্রি নিবে মর্মে সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয়। সন্ত্রাসীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য প্রদান বাধাগ্রস্থ করার জন্য একঘরে করে, নিজ সমাজ সহ আশেপাশের যেকোনো মসজিদে মেছের আলীর ঈদের নামাজ ও কুরবানী নিষিদ্ধ করে, অতঃপর তা বাস্তবায়ন করে। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য মেছের আলীর মুদি দোকান সন্ত্রাসীরা বন্ধ করে দেয়। দুলাল মিয়া আরও বলেন, মেছের আলীর দলিল নাই মর্মে সন্ত্রাসীরা অপপ্রচার করেছে, প্রকৃতপক্ষে রতন বিশ্বাসের কোনো দলিল নাই। গত তদন্তে প্রথমবারের মতো রতন বিশ্বাস একটা দলিল প্রদর্শন করেছে যা প্রতারণামূলক প্রমাণ করার জন্য বিজ্ঞ আদালতের শরনাপন্ন হওয়া আবশ্যক। সিএস রেকর্ডীয় মালিক হতে বিগত আশিবছরে মালিকানা ও দখল হস্তান্তরের মাধ্যমে চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে বিগত ২৮ বছর যাবত মেছের আলী ভোগদখল করছে যা অদ্যাবধি চলমান, বিরাজমান, দৃশ্যমান, সর্বজন জ্ঞাত, সন্ত্রাসীরা অবগত। প্রকৃতপক্ষে, মেছের আলী জবরদখলকারী নন। মিথ্যা স্বাক্ষী ও বিবৃতির মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। রতন বিশ্বাস সিএস মালিকের ওয়ারিশ না হয়েও আশিবছর পরে এসে নিজেকে সিএস রেকর্ডীয় মালিকের ওয়ারিশ দাবী করছে। রেকর্ডসূত্রে রতন বিশ্বাস জমি দাবী করলেও রেকর্ড সংশোধনের ঘোষণামূলক মামলায় মেছের আলী স্থিতিবস্থা আদেশ পেয়েছে যা এক প্রকার অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। সন্ত্রাসীরা অপপ্রচার করছে এই মর্মে যে, মেছের আলী নিষেধাজ্ঞা পায় নাই, কোর্ট থেকে রতন বিশ্বাস দখল পেয়েছে। বেআইনী দখলের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা অবৈধ সমাবেশের ষড়যন্ত্র করছে। সকল দ্বিধা, দ্বন্দ, বিভ্রান্তি স্থায়ীভাবে নির্মূল আবশ্যক মর্মে দুলাল মিয়া বিবৃতি প্রদান করেন।

দুলাল মিয়া আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা একাধিক ধারাবাহিক অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও কর্মজীবনে মেছের আলীসহ আমাকে হয়রানী, হেয় ও ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য সাংগঠনিকভাবে দীর্ঘবছর যাবত ষড়যন্ত্র করে আসছে। অনৈতিক কাজের কোনো ইতিহাস আমার নাই। আমার পরিবার সম্পর্কে যারা মিথ্যা, বানোয়াট, অগ্রহণযোগ্য, মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধ হতে শুরু করে এযাবতকাল তারাও আমার পরিবারের কাছে নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে। স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় তারা বিপদগামী হয়েছে। সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে দুলাল মিয়া বলেন, ভূমি বিরোধ এখানে মূল বিষয় নয়, এটা শুধুমাত্র একটা ইস্যু, মূল কারণ উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। বিজ্ঞ আদালতের সকল মামলায় সন্ত্রাসীরা নিয়মিত সময়ের আবেদন করে থাকে, অপরদিকে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ এবং থানার নোটিশ অমান্য করে সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত ধারাবাহিকভাবে বহুমুখী অপরাধ করছে, যা পূর্বপরিকল্পিত। তাদের সব অপরাধ মামলায় আনা সম্ভব না, জনসচেতনতা দরকার। শুধুমাত্র জরুরী এবং আবশ্যিক বিষয়েই মামলা করা হচ্ছে।

সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে দুলাল মিয়া আরও বলেন, আমরা অতিরজ্ঞিত কিছুই করি নাই। সাম্প্রদায়িক ইস্যুটা সন্ত্রাসীরাই সামনে এনেছে। এখানে অনেকগুলো ইস্যু আছে যা সেনসিটিভ, আমাদের এখন ভাবার সময় এসেছে। আমরা শুধু বাচার জন্য ডিফেন্স করছি। নিরীহ সংখ্যালঘু গৃহবধু শব্দগুলো তারাই ব্যবহার করেছে বিশেষ অপকৌশল হিসেবে। রতন বিশ্বাস মামলার আর্জি ও জবাবে পরিচয় ও পেশা হিসেবে নিরীহ সংখ্যালঘু ব্যবহার করেছে। ২য় পক্ষগণ এলাকার হিন্দুদের জায়গা জমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করে মর্মে রতন বিশ্বাস আর্জিতে বিবৃতি দিয়েছে। আমরাও নোটিশে প্রতিবাদ করেছি, বিজ্ঞ আদালতে জবাব দিয়েছি। সাম্প্রদায়িক ইস্যু এখানে লুকোচুরি নয়, অপেন সিক্রেট বিষয়। বিজ্ঞ আদালত পর্যন্ত চলে গেছে। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিচ্ছে যে, তারা খুন করলেও তাদের বিচার হবে না। দেশের কালচার অনুযায়ী, এসকল অপরাধ সংগঠিত করতে বিপুল পরিমান অর্থের প্রয়োজন হয়। সন্ত্রাসীরা নিজেরাও বলছে, টাকায় সব হয়। সন্ত্রাসীদের এই অর্থের উৎস্য কোথায় ? তাদের এই শক্তির উৎস্য কোথায়? তিনি আরও বলেন, মেছের আলীর আইনগত উদ্যোগ এবং আমার প্রতিবাদের সহিত কোনো সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা নাই, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে নিজস্ব অর্থায়নে স্বতন্ত্র ও একক আইনী লড়াই। কোনো নিষিদ্ধ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, সংগঠনের সহিত আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নাই। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা নৈতিক ও যথার্থ জীবনযাপন করি। যেকোনো প্রকার শান্তি সম্প্রীতি শৃংখলা ভংগের বিন্দুমাত্র মনোভাব আমাদের কখনও ছিল না, এখনো নাই। আমরা অধিকারের জন্য লড়ছি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করছি, একই সঙ্গে সমাজ, দেশ ও জনস্বার্থ বিবেচনা করেই সত্যটা প্রকাশ করে চূড়ান্ত ঝুঁকি বহন করার মানসিকতা নিয়ে জীবনযাপন করছি।

লিখিত বক্তব্যে দুলাল মিয়া বলেন, নিরুপায় ও অসহায় হয়ে এসবের প্রতিকার চেয়ে গত ২৮ শে ফেব্রুয়ারী মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ, মহাপরিচালক জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর এবং সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থা প্রধান বরাবর মেছের আলী দ্বিতীয় বারের মত একাধিক আবেদন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, দেশ ব্যাপী তৃণমূল হতে পাবলিক সার্ভিস, জনপ্রতিনিধি সর্বত্র সক্রিয় সদস্য বিদ্যমান। এই সন্ত্রাসী চক্রটির পরিচয় হলো তারা দেশবিরোধী মনোভাব সম্পন্ন কিছু সংখ্যক ব্যক্তি, যারা নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত, মারাত্মক হিংসাপরায়ণ, সুযোগ সন্ধানী, স্বার্থান্বেষী, বহুজাতীয় কিন্তু দুষ্টু প্রকৃতির সমচরিত্রের বটে। চক্রটির পরিবারের নারী ও শিশু সদস্য সন্ত্রাসী কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে থাকে। তাদের অপকর্ম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিস্তার করছে। বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা, বয়স ও ধর্মের কিছু সংখ্যক ব্যক্তি সমন্বয়ে হিন্দু আধিপত্য উগ্র সাম্প্রদায়িক চক্রটি গঠিত হয়েছে। বিষয়টি দেশ ও জনগুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

সন্ত্রাসী কর্তৃক সংগঠিত অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধকরণ, ভবিষ্যতে সংগঠিতব্য অপরাধ রোধকরণ, সুশাসনের অন্তরায় চিহ্নিতকরণ ও স্থায়ী নিমূল, মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিকরণ এবং পরিচ্ছন্ন আগামী প্রজন্ম গঠনে জনসাধারণ, সুশীল সমাজ, বিজ্ঞানী, গবেষক, সাংবাদিক, কলামিস্ট, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, দেশ ও জনস্বার্থে তিনি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেছেন বলে জানান।

স্থানীয়রা জানান, কৃষিবিদ দুলাল মিয়ার জন্যই সন্ত্রাসীরা আগাতে পারে নাই। সন্ত্রাসীরা অপকর্ম ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে। মেছের বহুকাল ধরেই জমি ভোগ দখল করছে। রতন আর বলরামের বংশ আলাদা, রতন ওয়ারিশ হয় কিভাবে? হঠাৎ করেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ভবিষ্যতেও প্রত্যাখ্যান করবেন। এইরকম ঘটনা এলাকার ইতিহাসে কখনও ঘটে নাই। এলাকায় ভাল লোকের সংখ্যা বেশি। গুটি কয়েক দুষ্ট লোক এলাকায় সিন্ডিকেট করে ত্রাস আর সন্ত্রাসের রাজত্ব করেছে। সন্ত্রাসীদের শক্তি আসে টেলিফোনে আর ফান্ডের টাকায়। শান্তিভঙ্গ করলে পুরস্কার হিসেবে টাকা পায়, ভাগাভাগি করে, এটা এদের পেশা। রতন ইস্যু শেষ হলে আরেকটা ইস্যুতে জড়িয়ে পড়বে। এলাকাবাসী অতি দ্রুত এলাকায় শান্তি শৃংখলা দেখতে চান। এজাতীয় সামাজিক অপরাধ যাতে আর না ঘটে, সে মর্মে তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. এপ্রিল ২০২২ ০২:৩৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লাঠিবারি খেলা ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যান থেকে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয় ।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে গৃহবধূর আত্মহত্যা

শোভাযাত্রাটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ।

এই সকল কর্মসূচিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. এপ্রিল ২০২২ ০৩:৪৮:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে গৃহবধূর আত্মহত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে গৃহবধূর আত্মহত্যা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে অভিমানে বীথি আক্তার (২৮) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার শোলা প্রতিমা গ্রামের বাবার বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ‘প্রেমিকের হাতে’ প্রবাসীর স্ত্রী খুনের অভিযোগ

নিহত বীথি আক্তার উপজেলার শোলা প্রতিমা গ্রামের তুলা মিয়ার মেয়ে এবং কৈয়ামধু গ্রামের সৌদি প্রবাসী আসরব আলীর স্ত্রী। তাঁদের ৮ বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত বেশ কয়েক দিন ধরে মোবাইল ফোনে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে গৃহবধূ বীথির কথা-কাটাকাটি চলছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে গৃহবধূর মা ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় বীথি আক্তারকে দেখতে পান। তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সখীপুর থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন  বলেন, ‘সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশ ওই গৃহবধূর মরদেহটি উদ্ধার করে। পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. এপ্রিল ২০২২ ০২:০৫:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেলো বীর মুক্তিযোদ্ধার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেলো বীর মুক্তিযোদ্ধার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কলা বোঝাই একটি ট্রাকের ধাক্কায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রহমান (৭০) নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের বেইলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন বেইলা-সাগরদিঘী আঞ্চলিক সড়কে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ‘প্রেমিকের হাতে’ প্রবাসীর স্ত্রী খুনের অভিযোগ

নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রহমান উপজেলার বেইলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আকন্দের বাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০০৮ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসরে যান ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বাড়ি থেকে অটোভ্যান যোগে বেইলা আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে সাগরদিঘী বাজারে যাচ্ছিলেন। কিছু দূর গেলে বেইলা হাফেজিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে আসা একটি কলাবাহী ট্রাক তার অটোভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সুরুজ্জামান মিয়া গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রহমানকে উদ্ধার করে সাগরদিঘী বাজারে একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেছে সাগদিঘী পুলিশ ফাঁড়ি । তবে চালক পলাতক রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. এপ্রিল ২০২২ ০৪:৫৬:এএম ৪ বছর আগে
কালিহাতী’র গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আ’লীগের ত্যাগী নেতা নুরুল ইসলাম - Ekotar Kantho

কালিহাতী’র গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আ’লীগের ত্যাগী নেতা নুরুল ইসলাম

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের নুরুল ইসলাম আওয়ামীলীগের একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে সুপরিচিতি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নে দলের ভিত মজবুত করতে দীর্ঘদিন যাবত নেতাকর্মী ও মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি । এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দ্বিতীয়বারের মতো বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য (মেম্বার)নির্বাচিত হয়েছেন।বর্তমানে তিনি প্যানেল চেয়ারম্যানের হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ‘প্রেমিকের হাতে’ প্রবাসীর স্ত্রী খুনের অভিযোগ।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসেবে  কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে দলের জন্য কাজ করে স্হানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারীর বিশ্বস্ততা অর্জন করেছেন । দলীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে নেতাকর্মীদের কাছে হয়ে উঠেছেন আস্থাভাজন।

কিছুদিনের মধ্যেই গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন হবে।আর এই কমিটির সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন নরুল ইসলাম। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী সমর্থকরাও নুরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদকের পদে দেখতে চায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্হানীয় আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, নুরুল ইসলামের জনপ্রিয়তার রয়েছে। যার কারণে তার মতো নিঃস্বার্থ আওয়ামীলীগকর্মীকে অন্য দলের তকমা লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা।

এ ব্যাপারে নুরুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছি। বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছি। তৃণমূল পর্যায়ে আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে নিয়ে গুটিকয়েক হীন চরিত্রের মানুষ মিথ্যা বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করছেন পদ পাওয়ার আশায়।

গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাসুদ সরকার জানান, ছাত্রজীবনে নুরুল ইসলাম বিদেশ চলে যান। প্রবাসে জীবন শেষ করে এলাকায় এসে তার বড় ভাই গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুল বাছেদের হাত ধরে আওয়ামীলীগের কর্মী হয়ে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। তাহলে কীভাবে সে বিএনপির রাজনীতি করেছেন এটা আমার বোধগম্য নয়।

গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি খায়রুল আলম বলেন,নুরুল ইসলামের রাজনীতির শুরুটাই আওয়ামীলীগ দিয়ে।তার মতো কর্মীকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করলে দলের জন্য উপকার হবে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সংরক্ষিত আসনের সদস্য মোরশেদা খানম ডলি বলেন,কয়েক যুগ ধরে আওয়ামীলীগ করি।এই ইউনিয়নে কে কোন দল করে আমি খুব ভালো করেই জানি।নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট। দলের মধ্যে এমন বিভেদ সৃষ্টি যারা করছে তারা কখনো দলের মঙ্গল চায় না।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম ঠান্ডু বলেন,নুরুল ইসলাম আওয়ামীলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে সে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. এপ্রিল ২০২২ ০৩:০৮:এএম ৪ বছর আগে
যমুনায় চায়না জালে জাটকা নিধন, ১০ জেলেকে জরিমানা - Ekotar Kantho

যমুনায় চায়না জালে জাটকা নিধন, ১০ জেলেকে জরিমানা

একতার কণ্ঠঃ উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টির পানিতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে, অসাধু কিছু জেলে যমুনা নদীতে অবৈধ চায়না (আপা) জাল ব্যবহার করে জাটকা নিধন শুরু করেছেন।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ঝড়ে ঘরের নিচে চাপা পড়ে নিহত ১

এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (১১ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এটিএম শামসুজ্জামান জাটকা ধরা বন্ধে নদীতে অভিযান চালায়।

এ সময় অভিযান চালিয়ে ১০ জেলেকে আটকসহ অবৈধ চায়না জাল জব্দ করা হয়। অভিযানে সহযোগিতা করেন গোবিন্দাসী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।

এরপর গোবিন্দাসী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ মো. আলাউল ইসলাম।

এ সময় আটককৃত ১০ জেলেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া জব্দকৃত ৬টি চায়না জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ মো. আলাউল ইসলাম জানান, নদীতে অবৈধ চায়না জাল দিয়ে জাটকা নিধন বন্ধে প্রশাসন তৎপর। জাটকা ধরা বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. এপ্রিল ২০২২ ০৩:৫৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ঝড়ে ঘরের নিচে চাপা পড়ে নিহত ১ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ঝড়ে ঘরের নিচে চাপা পড়ে নিহত ১

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঝড়ের সময় ঘরের নিচে চাপা পড়ে আছাতন নেছা নামের এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে।রবিবার (১০ এপ্রিল) ইফতারের পর বয়ে যাওয়া মাঝারি ঝড়ে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ওই ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ নিহত ৩

নিহত আছাতন নেছা উপজেলার কালিয়া ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ কিসমত আলীর মাতা।

জানা যায়, ঝড়ের সময় বাতাসে ঘরের উপর গাছ ভেঙ্গে পড়লে ঘরের নিচে চাপা পড়ে তিনি মারা যান।এ সময় ঘরে তিনি একাই ছিলেন। তার স্বামী শাহাবুদ্দিন মুদি দোকানদার ঝড়ের সময় বাজারের দোকানে ছিলেন।

পরিবার সুত্রে জানা যায়, সোমবার (১১ এপ্রিল) সকালে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. এপ্রিল ২০২২ ০৩:৫০:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বজ্রপাতে বৃদ্ধের মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বজ্রপাতে বৃদ্ধের মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে বজ্রপাতে মঈন উদ্দিন (৫০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এসময় তার সঙ্গে থাকা দুটি গরুও মারা গেছে।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রোববার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার গোলাবাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন কাইতকাইত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

গোলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা খান বলেন, ‘মঈন উদ্দিন সন্ধ‌্যায় মাঠে গরু আনতে যায়। বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। এসময় তার সঙ্গে থাকা একটি গাভী ও বকনা বাছুরও বজ্রপাতে মারা যায়।’

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. এপ্রিল ২০২২ ০৪:৩৭:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে শো-রুম পুড়ে ছাই - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে শো-রুম পুড়ে ছাই

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের নামদার কুমল্লি খান পাড়া গ্রামে ”মেসার্স জিহাদ মটর’স নামে একটি শো-রুম বৃহস্পতিবার(৭ এপ্রিল) রাতে দুর্বত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের ঘটনাটি পুর্বপরিকল্পিত এবং এতে শো-রুমের দুইটি সিএনজি , কাগজ পত্র ও নগদ টাকাসহ ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি শো-রুমের মালিক মো. ইব্রাহীম খাঁন অনিকের।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইল কারাগারে নারী হাজতির মৃত্যু

জানাগেছে, প্রতিদিনের ন্যায় মেসার্স জিহাদ শোরুমের মালিকের শ্বশুর মো. মনির হোসেন খান(৬৫) আছরের আযান দেওয়ার পর শো-রুম বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। রাত সাড়ে দশটার দিকে শোরুমে আগুন দেখেন আশেপাশের লোকজন। এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণের আনার চেষ্টা করে এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু তার আগেই জিহাদ মটরসে বিক্রয়ের জন্য রাখা দুইটি নতুন সিএনজি (বাজাজ), গুরুত্বপূর্ন কাগজ-পত্রসহ ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত অনিকের পিতা, মো. সোরহাব আলী খান বলেন, তিনি পয়ত্রিশ বছর সৌদি আরবে থেকে তার সারাজীবনের অর্জিত টাকা দিয়ে ছেলেকে শোরুম করে দিয়েছিলেন।

তিনি আরো বলেন, পুর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলের শোরুমে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে ত্রিশ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. এপ্রিল ২০২২ ০৩:৩৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইল কারাগারে নারী হাজতির মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল কারাগারে নারী হাজতির মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল কারাগারে নাদিরা জাহান শেলী (৪০) নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ( ৯ এপ্রিল) ভোর রাতে কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু

তিনি সখীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিনহাজের স্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জেল সুপার জানান, ‘গত সোমবার ৪২০ ধারায় প্রতারণা মামলায় সখীপুর থানা থেকে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।  শুক্রবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত শেলী সুস্থ ছিলেন। রাত ৩টার সময় সবাই সাহরি খাওয়ার সময় ঘুম থেকে উঠলে তাঁর আশপাশের লোকজন শেলীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’

জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও জানান, ‘ধারণা করা হচ্ছে-শেলী ঘুমের মধ্যে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. এপ্রিল ২০২২ ০৯:১৪:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার দাপনাজোড় রেল ক্রসিং এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

নিহত কলেজছাত্র অন্তর খান (১৮) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার টি-ভাতকুড়া এলাকার মো. নজরুল খানের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল সৃষ্টি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলে অন্তর খান মোটরসাইকেল নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে তিনি বাসাইল উপজেলার দাপনাজোড় এলাকার রেল ক্রসিং এলাকায় ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে কাটা পড়েন।

এ সময় তার সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটি পাশেই পার্কিং করা ছিল। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশের ঘারিন্দা ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরে শনিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

ঘারিন্দা রেলের স্টেশন মাস্টার সোহেল খান বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. এপ্রিল ২০২২ ০২:৫০:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝে চাওয়ায় ভাতিজার বিরুদ্ধে মামলা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝে চাওয়ায় ভাতিজার বিরুদ্ধে মামলা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝে চাওয়ায় ভাতিজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এর প্রতিবাদে ভাতিজা হিমেল রহমান নামের এক ব্যবসায়ী শনিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হিমেল রহমান জানান, তার বাবার মৃত্যুর পরে তাদের গ্রামের বাড়ি ও জমি ভাগ বন্টন করা হয়। তার চাচা লুৎফর রহমান সবকিছুর সিদ্ধান্ত নেয়। তার সকল সিদ্ধান্তই ছিলো আইন বহির্ভূত ছিল। ওই সময় তারা দুই ভাই থাকায় জমি-জমা সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিলো না। বর্তমানেও জমির কাগজপত্র তেমন বুঝে না। চাচা লুৎফর রহমান সরলতার সুযোগ নিয়ে নিম্নমানের জমিগুলো তাদেরকে দিয়ে এবং চাচা ভালো মানের জমিগুলো নিয়েছে। ঠিক তেমনভাবে তাদের শহরের বাসায় রাস্তার সাথের দামি জমি লুৎফর রহমান নিয়েছে এবং তাদেরকে পেছনের জমি দিয়েছে।

তিনি আরো জানান, সেই জমির পরিমানও কম ছিলো। শহরের পূর্ব আদালত পাড়াই তাদের বাসায় তিনিসহ তার তিন চাচার জমি। সাড়ে ১৭ শতাংশ জমিতে ডেভোলাপারের কাছে বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য দেয়া হয়। সেখানে তার জমি রয়েছে সারে ৪ শতাংশ। আর বাকি জমি লুৎফর রহমানসহ তার তিন চাচার। ডেভোলাপার কাজ শুরু করলে তার চাচা বিভিন্ন সময় ডেভোলাপারের সাথে খারাপ আচরণ করত। তার এই খারাপ আচরণের কারণে ডেভোলাপার কাজ বন্ধ করে চলে যায়। এই ভবন নির্মাণের কাজ বিভিন্ন কারণে শুরুতেই ৪ বছর বন্ধ থাকে। এদিকে তারা অনেকবার ডেভোলাপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বেশ কয়েকজন কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন।

তিনি আরও জানান, তার চাচা তাদেরকে জানান কোন ডেভোলাপারকে কাজ দেয়া যাবে না। তিনি নিজেই কাজ করবেন। তখন তিনিসহ তার আরও দুই চাচা লুৎফর রহমানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। লুৎফর রহমান ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চীপ ইঞ্জিনিয়ার। তিনি এই বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করার পর বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তালবাহানা করতে থাকেন। চারটি ছাদ করার পর হঠাৎ একদিন তাদের চাচা জানান, তার পক্ষে এই ভবনের আর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরে তিনি ছেলে ও মেয়ের সাথে আমেরিকায় চলে যান। এই ভবনের ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার লুৎফর রহমানের কাছে টাকা পাওনা রয়েছে। পরে তিনি ৮০ লাখ টাকা দেনা পরিশোধ করে। তারপর পুনরায় ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে পর্যায়ক্রমে ১০ তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই শেষ করে। দুই বছর পর ২০২০ সালে চাচা দেশে চলে আসে। দেশে এসে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তার চাচা মাঝে মধ্যে এসে তার কাছ হতে ফ্লাট বিক্রি করার টাকা ধাপে ধাপে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে এই ভবনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নানান কৌশল অবলম্বন করে চাচা। এক পর্যায়ে তিনি ভবন নির্মাণের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে ভবন নির্মাণের যাবতীয় টাকা দাবি করলে টাকা ও ফ্লাটও রেডি কওে হিমেলকে দেয়া হয়নি।

হিমেল জানান, বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর কামরুল ইসলাম মামুনকে জানানো হলে ২০২১ সালে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরের মাধ্যমে শালিসী বৈঠক করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ শালিসী বৈঠকে ৩ মাসের মধ্যে ৬টি ফ্লাট তাকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। কোনভাবেই তার চাচা মানতে রাজি হয়নি। প্রতিবাদ করলে তার চাচা ও চাচীর নির্দেশে ৬ তলার আমার ফ্লাটটি ভেঙে দেয়া হয়। বিষয়টি তার চাচার কাছে জানতে চাইলে হুমকি দেয় হিমেলকে। গত ১৪ মার্চ তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় দুই কোটির টাকার মামলা দেয়া হয়। তার চাচা প্রভাবশালী ও বিত্তশালী হওয়ার কারণে কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া তাকে ধরার জন্য পুলিশ মরিয়া হয়ে উঠে। তিনি আইনজীবীদের পরামর্শে হাইকোর্ট থেকে জামিনে আসেন। সরকার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‌্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা কামনা করেন হিমেল।

অভিযোগ প্রসঙ্গে চাচা লুৎফর রহমান বলেন, আমরা আমেরিকায় চলে যাওয়ার পরে হিমেলকে এ ভবনটি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তখন সে বেশ কয়েকটি ফ্লাটও বিক্রি করেছে। আমি হিমেলকে কোন প্রকার ভয়ভীতি দেখায়নি। উল্টো হিমেল আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। পরে আমি টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দিয়েছি। অপরদিকে হিমেলও আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দিয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. এপ্রিল ২০২২ ০৪:৩৩:এএম ৪ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।