একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৭তম ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ মে) সকালে ভাসানী পরিষদ, পীর শাহজামান বাজার কমিটি ও ন্যাপ ভাসানীর পক্ষ থেকে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে মাজারে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এ সময় ন্যাপ ভাসানী ও খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি ও পীর শাহজামান বাজার কমিটির আহবায়ক হাসরত খান ভাসানী, ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য-সচিব আজাদ খান ভাসানী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক হোসেন বিএসসি, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের সভাপতি ও মাভাবিপ্রবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনু, মাভাবিপ্রবি ভাসানী পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ ইপিয়ার হোসেন ও কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান খানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ফারাক্কা বাঁধের ফলে পদ্মা নদীর নাব্যতা হারানোর আশঙ্কায় ও পানির নায্য হিসসার দাবিতে ১৯৭৬ সালের এই দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান থেকে ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে লাখো জনতার সেই লংমার্চ রওনা হয় ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে। লংমার্চ শেষে কানসাট হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশে বক্তব্য দেন মজলুম জননেতা। সেই থেকে ১৬ মে ফারাক্কা দিবস নামে পরিচিতি লাভ করে।
একতার কণ্ঠঃ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিলে ভূঞাপুর ও গোপালপুরে আগুন জ্বলবে বলে প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর- গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির।
তিনি বলেন, ঢাকা ক্লাবে বসে বসে আপনারা আসবেন আর ষড়যন্ত্র করবেন। শেখ হাসিনা আমাকে এ আসনে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। এমপি হওয়ার পর এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। সুতরাং এ আসনে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে আমি কোনো চিন্তাই করি না। যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন তাদেরকেও প্রতিযোগী হিসেবে সমকক্ষ মনে করি না।
সোমবার (১৫ মে) রাত ৯টায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ মাঠে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তার ওই বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভক্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন।
ছোট মনির বলেন, আজকে তারা নোংরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের জবাব তারা পাবে। আমরাও বসে থাকব না। আমি একটা পরিবর্তনের ডাক নিয়ে এসেছি। সেখানে কোনো মারামারি, কাটাকাটি হবে না। একটা পরিবর্তন করতে এসেছি, কারও মাথায় বাড়ি দিয়ে জমি নেয়ার জন্য নয়। কারও ক্ষতি করার জন্য নয়। তারা ভেবেছে আমরা কানা হয়ে গেছি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনারা সাবধান হয়ে যান। মানুষকে সম্মান করলে মানুষ সম্মান করবে। যারা দল করে না, দলের আদর্শ বিশ্বাস করে না তারাই এসব কার্যকলাপ করে।
এদিকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় কোন্দল শুরু হয়েছে। এতে প্রকাশ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে নেতাকর্মীরা। এছাড়া এমপি ছোট মনিরের বড় ভাই টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় ভূঞাপুরে পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল ও সমাবেশ হচ্ছে।
এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ছাড়াও ঢাকা ক্লাবের সভাপতি ও সাবেক এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামানের ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ, গোপালপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে।
প্রতিদিনই এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীরা গণসংযোগ করছেন নিজেদের সমর্থন আদায়ে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিব মিয়ার (২৪) বিরুদ্ধে ঘরে ঢুকে এক নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ মে) দুপুরে ওই গৃহবধূ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে সাকিব ও তার আরও দুই সহযোগির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামি সাবিক মিয়া উপজেলার বাসাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে। মামলায় অন্য দুই আসামী হচ্ছেন, বাসাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত হাকিম মিয়ার ছেলে সাইদুল মিয়া (৩০) ও একই গ্রামের জুয়েল মিয়ার ছেলে মো. শাহেদ (২৫)।
মামলা ও ভিকটিম সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৪ মে) দিবাগত রাতের খাবার খেয়ে ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসাইল পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিব ও তার দুইজন বন্ধু ওই গৃহবধূর স্বামীকে ডাক দেন। এসময় সাকিব জানায় তার এক স্বজন অসুস্থ তাকে দেখতে যেতে হবে। এজন্য সাকিব ওই গৃহবধূর স্বামীর মোটরসাইকেলটি চেয়ে নেন। পার্শ্ববর্তী বাড়ি হওয়ায় সরল বিশ্বাসে গৃহবধূর স্বামী ঘর থেকে মোটরসাইকেলটি বের করে দেন। পরে মোটরসাইকেলটি কিছুদূর নিয়ে যাওয়ার পর পুনরায় তার স্বামীকে ডাকতে থাকেন এবং মোটরসাইকেলটি স্টার্ট করে দিতে বলেন। এসময় তার স্বামী মোটরসাইকেলটি স্টার্ট দিতে গেলে কৌশলে সাকিব ঘরে ঢুকে তার স্ত্রীকে ওড়না দিয়ে মুখ বেধে ধর্ষণ করতে থাকে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মুখের বাধন খুলে গেলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। এসময় তার স্বামী ও আশপাশের লোকজন এসে সাকিবকে হাতেনাতে আটক করে। খবর পেয়ে তার অন্য সহযোগিরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাকিবকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। এ বিষয়ে কাউকে জানালে বা মামলা করলে হত্যারও হুমকি দেওয়া তাদের।
এদিকে, এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাসাইল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলেও আদালতে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ওই মেয়ের মাত্র তিন মাস আগে বিয়ে হয়েছে। এই সময়ে বখাটে সাকিব এরকম ঘটনা ঘটিয়েছে। সাকিব উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিয়ার রহমান গাউসের ভাতিজা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। এঘটনায় ভিকটিমের পরিবার চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কামরান খান বিপুল বলেন, ঘটনায় ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা নের্তৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিয়ার রহমান গাউস জানান, এই ধর্ষণের ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ ওই গৃহবধূকে দিয়ে এই ধর্ষণ মামলাটি করিয়েছে।
এঘটনায় অভিযুক্ত সাকিব মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভূক্তভোগি নববধূর মামলা না নেওয়ার বিষয়ে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কেউ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করতে থানায় আসেনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে কারাগার থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অসুস্থতা জনিত কারণে জেলা কারাগার থেকে তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে গোলাম কিবরিয়া বড় মনির টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৩য় তলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে এক কিশোরীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক মাহমুদুল মহসীন জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গোলাম কিবরিয়া বড় মনির টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই এবং জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মকলেছুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। কিছুক্ষণ পর আবার যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাদিকুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনিরকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তার শরীরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। কোন সমস্যার কারণে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে পরে বিস্তারিত জানা যাবে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়েছে। এদিকে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা বলে প্রমাণ পেয়েছে মেডিকেল বোর্ড। এছাড়াও ওই কিশোরী গত ৬ এপ্রিল দুপুরে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের এলেংজানী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে মাটি খেঁকো সালাম খান গংদের বিরুদ্ধে। ফসলি জমি দিয়ে ট্রাক নিতে বাঁধা দেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলা করেছে বালু খেঁকোরা। এতে দুই বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ তিন জন আহত হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলার পর এক আসামীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
হামলায় আহতরা হচ্ছেন, উত্তর তারটিয়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল হোসেন ও মো. একাব্বর আলী। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল হোসেন বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ঘারিন্দার রাশেদ খানের হস্তক্ষেপে তার বোন জামাই সালাম খান দীর্ঘ দিন যাবত নওগাঁ ও তারটিয়া গ্রামের এলেংজানী নদী থেকে রাতের আধারে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে। প্রথমে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী তার জমি দিয়ে ট্রাক নেয়ার অনুমতি দিলেও পরবর্তীতে তিনি মৌখিকভাবে না করেন। সালাম খান বিষয়টি না শোনায় তিনি ফসলি জমির উপর বাঁশ দিয়ে বেড়া দেন। গত ৯ মে সেই বাঁশের বেড়া উঠিয়ে সালাম খান ট্রাক নেয়ার চেষ্টা করে। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী এগিয়ে গিয়ে বাঁধা দিলে তার উপরে হামলা করে। তার আত্মচিৎকারে তার ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল মিয়া ও একাব্বর আলী এগিয়ে গেলে তাদের উপরও হামলা করে সালাম খান গংরা। তাদের লাঠির আঘাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী ও একাব্বর আলীর ডান পা ভেঙে যায়। তারা বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ১৪ মে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল মিয়া বাদি হয়ে সালাম খানকে প্রধান আসামী করে চার জনের নাম উল্লেখ করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী বলেন, ঘারিন্দার রাশেদ খানের কথায় আমার ফসলি জমির উপর দিয়ে প্রথমে ট্রাক নেয়ার অনুমতি দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে আরেক জমি দিয়ে ট্রাক নিতে গেলে সেখানে বাঁধা দেই। তারপর মাটি খেঁকো সন্ত্রাসীরা আমার উপর হামলা করে। এতে আমরা তিন ভাই গুরুতর আহত হই। অবৈধ মাটির ট্রাক যেতে বাঁধা দেয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলা করা হবে, সেটা কল্পনাও করি নাই। আমি মাটি খেঁকো সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, আহতরা সবাই আমার আত্মীয়। এ বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল সদর থানার এসআই মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার পর মৃদুল নামের এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (১৫ মে) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ায় বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কের মাদারজানী এলাকায় বহুকাঙ্খিত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ মে) সকালে ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত এই ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপ-প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন,টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান, বাসাইল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মির্জা রাজীক সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী বলেন, মাদারজানী গ্রামের মধ্যেদিয়ে মহাসড়ক নির্মিত হওয়ায় গ্রামটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় মহাসড়ক পারাপার হতে এখানে অনেক মানুষ অকালে প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি আরোও বলেন, এছাড়াও এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ফসল এ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ। আশা করছি দুই-তিন মাসের মধ্যেই এ ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। এলাকাবাসীসহ পথচারীরা এর সুফল পাবে।
উল্লেখ্য, সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় এম রহমান নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যায়ে ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ কিশোরী ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড়মনিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৫ মে)দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রূপম কুমার দাস তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনি কিশোরী ধর্ষণ মামলায় জামিন নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আদালতে হাজির হন। বড়মনি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই।
টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানবীর আহমেদ জানান, আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া বড়মনি কিশোরী ধর্ষণ মামলায় হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। কিন্তু গত ৩০ এপ্রিল চেম্বার জজ আদালত চার সপ্তাহের জামিন স্থগিত করে ২ সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। গত রোববার ছিল ২ সপ্তাহের শেষ দিন। টাঙ্গাইল আদালতের একজন আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে গত রোববার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সোমবার দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল আদালতের সরকারি কৌঁশুলী (পিপি) এস আকবর খান জানান, সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে বড়মনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থণা করেন। এসময় অর্ধ শতাধিক আইনজীবী তার জামিন শুনানিতে অংশ নেন। বাদী পক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধীতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
উল্লেখ্য,গত ৫ এপ্রিল রাতে এক কিশোরী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গোলাম কিবরিয়া বড়মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও মারধর ও ধর্ষণে সহযোগিতা করার জন্য আসামি করা হয়। মামলায় ওই কিশোরী (১৭) অভিযোগ করেন, গোলাম কিবরিয়া তার পূর্বপরিচিত। গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে শহরের আদালত পাড়ায় নিজের বাড়ির পাশের একটি ভবনে ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন ও আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন। পরে আপত্তিকর ওই ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে ওই কিশোরী মামলায় উল্লেখ করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, একপর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি গোলাম কিবরিয়া জানার পর সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে কিশোরী রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ তাকে শহরের আদালত পাড়ায় গোলাম কিবরিয়ার শ্বশুরবাড়িতে নেয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে ওই কিশোরীকে আবার ধর্ষণ করেন তিনি। এরপর ওই কিশোরী গত ৬ এপ্রিল বেলা তিনটার দিকে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেসকে জান্নাত রিপা ওই কিশোরীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে কিশোরীকে তার এক আত্মীয় শামীমা আক্তারের কাছে জিম্মায় দেন আদালত। ওই সময় ডাক্তারী পরীক্ষায় ওই কিশোরী ২৫ সপ্তাহের অন্তঃস্বত্তা বলে জানান টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ সাদেকুর রহমান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় ইসমাইল হোসেন (৬২) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ধলা মিয়া (৪০) নামের আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছে।
রোববার (১৪ মে) সকালে উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা সিন্দুরিয়াপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত ইসমাইল হোসেন ওই এলাকার খোরশেদ আলম ওরফে খুরছু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মামুন মিয়া বাদী হয়ে সখিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল হোসেন ওই এলাকার নছুমুদ্দিনের কাছ থেকে ১ একর জমি ক্রয় করে। এরপর থেকে জমিটি ওই এলাকার নতু মোল্লার ছেলে আজিজ মোল্লা, তোফাজ্জল মোল্লা, নব্বে মোল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম গোনাই এবং আবুল হোসেনের ছেলে কামরুল হাসান ও সাইফুল ইসলাম তাদের বলে দাবি করে কয়েকবার দখলের চেষ্টা করে। এ নিয়ে বিরোধ চলছিল।
রবিবার সকালে আজিজ মোল্লা ও রফিকুল ইসলাম গোনাইয়ের নেতৃত্বে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে ধান কাটতে গেলে ইসমাইল হোসেন বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা ইসমাইল হোসেনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী মামুন মিয়া জানান, টাকা দিয়ে জমি কিনে বিনিময়ে বাবার লাশ পেয়েছি। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরকার নুরে আলম মুক্তা জানান, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। সালিশে জমিটি ইসমাইল হোসেনের বলে প্রমাণিত হয়েছে। মূলত জমিটি প্রতিপক্ষ দখলের চেষ্টা করে। এতে বাধা দিতে গেলে ইসমাইল হোসেনের ওপর হামলা চালায়।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ আরিফ-সুমাইয়া দম্পতির কোল আলোকিত করে জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে যমজ পুত্র সন্তান হাসেন-হোসেন। তবে শিশু দুটি স্বাভাবিক নয়, বুকে জোড়া লাগানো।
গত শনিবার (৬ মে) রাত ২:৩০ টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের রাজধানী নার্সিং হোম-এ সিজারের মাধ্যমে জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম দেন সুমাইয়া আক্তার।
নবজাতক যমজ শিশুর পিতা টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাড়রা ইউনিয়নের আগ দিঘুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পিতা আরিফ হোসেন বলেন, ৬ তারিখ টাঙ্গাইলের রাজধানী নার্সিং হোম-এ আমার স্ত্রীর যমজ শিশুর জন্ম দেয়। কিন্তু তাদের বুক একে অপরের সাথে জোড়া লাগানো। ক্লিনিকে নিবির পর্যবেক্ষণ না থাকায় টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ৯ তারিখ বাসায় নিয়ে আসি। বাচ্চা দুটি এখন সুস্থ্য। বিকল্প পদ্ধতিতে তাদের খাওয়ানো হচ্ছে। স্ত্রী সুমাইয়াও সুস্থ্য আছেন।
আরিফ হোসেন আরো বলেন, আমার বাবা ঘোড়ার গাড়ি চালক। আমি পেশায় দিনমুজর। আমাদের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল না। ক্লিনিক থেকে বলেছে অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে শিশু দুটিকে আলাদা করা সম্ভব। কিন্তু এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করা আমার পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। শিশু দুটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বিত্তবানসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।
মা সুমাইয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সন্তান দুজনকে আলাদা শরীরে দেখতে চাই। চিকিৎসা সহায়তার মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চাই। আমার সামর্থ নেই চিকিৎসা করানোর। তাই সরকারের কাছে সকল প্রকার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এদিকে জোড়া লাগানো যজম শিশু দুটি দেখতে বাড়িতে ভিড় করছে প্রতিবেশিসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ।
সুবর্ণতলী গ্রামের বৃদ্ধা নুরজাহান বেগম বলেন, আমি জীবনেও জোড়া লাগানো বাচ্চা দেখিনি। তাই দেখতে আসছি।
প্রতিবেশি আরাফাত বলেন, সামনে থেকে প্রথম বার আমি জোড়া লাগানো বাচ্চা দেখলাম। এর আগে ইউটিউবে দেখেছি। এমন ঘটনা আমাদের গ্রামে এই প্রথম। তাই অনেকে উৎসুক হয়ে শিশু দুটিকে দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছে।
আরিফ হোসেনের বোন জামাই মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ডেলিভারির আগেও আল্ট্রাসনোতে বাচ্চা যমজ জানতে পারলেও জোড়া লাগানোর বিষয়টি জানা যায়নি। জন্মের পর দেখা যায় তাদের শরীর জোড়া লাগানো। চিকিৎসকরা জানান ক্লিনিকে জোড়া লাগানো যমজ শিশু দুটিকে আলাদা করা সম্ভব নয়। তারা ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু অর্থ না থাকায় বাধ্য হয়ে শিশুদে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান। বর্তমানে শিশু দুটি নিয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাড়রা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে আগ দিঘুলিয়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছেন।
তিনি আরো জানান, শরীর জোড়া লাগানো থাকলেও খাবার ও পস্রাব-পায়খানার রাস্তা তাদের আলাদা। যত্নের সাথে তাদের লালন-পালন করছেন মা সুমাইয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। জোড়া লাগানো সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। এখন কোন সমস্য না হলেও বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের সমস্যটা বড় হতে থাকবে। এই জটিল চিকিৎসার ব্যয়ভার আর অস্ত্রোপচারের জটিলতা নিয়ে পরিবারে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। দ্রুত সু-চিকিৎসার মাধ্যমে শিশু দুটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান সরকারসহ বিত্তবানদের প্রতি।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট (গাইনী) ডা. লিংকু রাণী কর জানান, চিকিৎসা শাস্ত্রে এটিকে কনজয়েনড টুইন বেবি বা সংযুক্ত যমজ শিশু বলা হয়। এটি অবশ্যই জটিল একটি চিকিৎসা। অস্ত্রোপচার করা গেলে সফলতা সম্ভব। দেশে জোড়া লাগানো বেশ কয়েকটি শিশুর অস্ত্রোপচার হয়েছে।
নবজাতক শিশু দুটির সু-চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাড়রা ইউনিয়নের আগ দিঘুলিয়া গ্রাম।
নবজাতক শিশু দুটির মাতা সুমাইয়া আক্তার। বিকাশ নম্বর: ০১৩১৪-৬৯৮৯০৩
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে শ্যালো মেশিনের বিদ্যুৎ পৃষ্ট হয়ে জাহিদুল ইসলাম (৩৫) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ মে) দুপুরে বাসাইল উপজেলার কাউলজানি ইউনিয়নের সুন্যা বাইশখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহিদুল ওই গ্রামের মহেজ উদ্দিনের ছেলে।
জানা যায়, অন্যান্য দিনের মত জাহিদুল স্থানীয় চকে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে ইরি ক্ষেতে পানি দিতে যায়। শ্যালো মেশিনটি চালু করতে গিয়ে হঠাৎ করে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে তিনি মাটিতে লুটে পড়েন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে একটি বাড়িতে নেন। পরে তার পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা মহেজ উদ্দিন বলেন, জাহিদুল দুপুরে মাটি কেটে বাড়িতে এসে ক্ষেতে পানি দিতে গিয়েছিল। শ্যালো মেশিনটি চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে জাহিদুলের মৃত্যু হয়। দিনমজুরি ও শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে তার সংসার চালাতো। এখন তার সংসার চালানোর মতো কেউ রইল না।
এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক রমেশ পত্তনদার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তার পরিবার মরদেহটি নিয়ে গেছেন।
একতার কণ্ঠঃ মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতি বিজরিত সন্তোষের সরকারি জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ রোধকল্পে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
শনিবার (১৩ মে)দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের সন্তোষ বাজারে মাওলানা ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত পীর শাহজামান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি ও বৃহত্তর সন্তোষের সচেতন নাগরিকবৃন্দের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
পীর শাহজামান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক হাসরত খান ভাসানী সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ,টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ, সমিতির যুগ্ম আহবায়ক মাসুম আহমেদ ও মশিউর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত এই মার্কেট। মাওলানা ভাসানী বলে গেছেন এখানে খেটে খাওয়া মেহনতী মানুষরা দোকান করে খাবে। এই মার্কেট কখনও ভেঙ্গে দেয়া হবে না। কিন্তু ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র তাদের মধ্যে ৩৫% ও ৬৫% অবৈধ চুক্তিপত্র করে জলাশয় ভরাট করে এখানে বহুতল মার্কেট নির্মানের পায়তারা করছেন।
তারা আরো বলেন,এখনও সময় আছে এই অবৈধ কাজ বন্ধ করুন। তা না হলে আমরা এর কঠিন জবাব দিতে প্রস্তুত আছি। মানববন্ধন শেষে যে স্থানে মাটি ভরাট কার্যক্রম চলছিলো সেখানে গাছের চারা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বেকুর ড্রাইভারকে বেকু সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাফা (১৪) নামের সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।শুক্রবার (১২ মে) সন্ধ্যায় পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
সে উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী জাকির হোসেনের মেয়ে ও সখীপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাফা ও তার ছোট ভাই তাদের মাকে নিয়ে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাসায় ভাড়া থাকত। শুক্রবার দুপুরে তার মা গ্রামের বাড়িতে যান। বিকেল ৫টায় ছোটভাই বাসায় ফিরে স্কুলছাত্রী সাফাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ দৃশ্য দেখে সাফার ছোট ভাই চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, মরদেহের পা মাটির সঙ্গে ঠেকানো ছিল। এতে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা এ নিয়ে বেশ সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করছি।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান , এখনই মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না। আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।