একতার কণ্ঠঃ বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে টাঙ্গাইলে সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি এবং তাদের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন।
রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের ভাসানী হল প্রাঙ্গণ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশের শুরুতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা,শহর ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়।
জেলা বিএনপির সভাপতি মো. হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।
বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউল হক শাহিন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান লিটন,সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রৌফ, জেলা যুবদল আহবায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তারিকুল ইসলাম ঝলক, জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক মনির, জেলা মহিলাদলের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রক্সি মেহেদী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দূর্জয় হোড় শুভ, সদস্য সচিব আব্দুল বাতেন প্রমুখ।
সমাবেশ বক্তারা বলেন, আমাদের দেশের চিকিৎসা পদ্ধতি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাকে দ্রুত বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় তাকে বিদেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। অতি দ্রুত খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো ও তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানান।
এ দিকে সমাবেশে উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)।
শনিবার(২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার কীর্তনখোলা গজারিয়া কালিয়ানপাড়া (কেজিকে) উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ মিয়ার কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
দীর্ঘদিন পর সংসদীয় আসন টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) থেকেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন—এ কথা স্পষ্ট করলেন। এর আগে ঋণখেলাপির কারণে বঙ্গবীরের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এ আসন থেকে তাঁর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী বিএনপি জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি ২ কোটি টাকা নিয়েছিলাম, ১৩ কোটি দিয়েছি। তবুও নাকি শোধ হয় নাই! এখনো নাকি আরও ২২ কোটি পায়। এবার নিয়ত করেছি, কবে মরে যাব ঠিক নাই, এবার ওইগুলো পরিশোধ করে দাঁড়িয়ে পড়ি। দেখা যাক কী হয়! মানুষেরও একটা ইচ্ছা আছে, মানুষের কাছে মাফ-মুক্তি চাইতে পারব। সে জন্য আল্লাহ যদি বিপদ না করেন তবে, আমি ভোটে আপনাদের এখানে (টাঙ্গাইল-৮) দাঁড়াব। আপনারা দোয়া করবেন।’
তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও তিনি কোন রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন তা স্পষ্ট করেননি।
উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আহ্বায়ক আব্দুস ছবুরের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা (বীর প্রতীক), কাদের সিদ্দিকীর সহোদর শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সালেক হিটলু, সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব, যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুন্নবী সোহেল, আলমগীর সিদ্দিকী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
একতার কণ্ঠঃ সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। গুমোট গরম। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করে টাঙ্গাইল শহরের শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সেখানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালে নামে বৃষ্টি। থেমে যায় কিছুক্ষণ পরেই। এরপর কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি। প্রকৃতির এমন আচরণের মধ্যেও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে টাঙ্গাইলের এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা।
প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় সারা দেশের ৬৪টি জেলায় পর্যায়ক্রমে জিপিএ-৫ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের উৎসবটি পাওয়ার্ড বাই ‘বিকাশ’। সহযোগিতা করছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।
টাঙ্গাইলে সম্বর্ধনা নিতে অনলাইনে নিবন্ধন করা কৃতী শিক্ষার্থীরা শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর)সকালে এসেই নির্দিষ্ট বুথ থেকে ক্রেস্ট, স্ন্যাকস ও উপহারসামগ্রী সংগ্রহ করে। এ সময় তারা বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলা ও আড্ডায় মেতে ওঠে। সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এতে বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর। তিনি বক্তব্যের শুরুতে তিনজন শিক্ষার্থী এবং একজন অভিভাবকের অনুভূতি শোনেন। এরপর আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সামনের দিনগুলোয় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরস্পরকে সহযোগিতা করে এগিয়ে যেতে হবে। প্রত্যেকে যদি নিজের প্রতি দায়িত্বশীল হয়, তাহলেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল করিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভালো ফলাফল করার জন্য তোমাদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এটা শুরু। এইচএসসিতেও ভালো ফলাফল করতে হবে। তারপর মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে তোমরা কর্মক্ষেত্রে যাবে। সব ক্ষেত্রেই ভালো করার জন্য পরিশ্রম করতে হবে। তোমরা সব সময় দুর্নীতি, অনিয়ম ও খারাপ কাজকে ঘৃনা করবে, ভালো কাজের সঙ্গে থাকবে।’
শিবনাথ উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বলেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই ভালো করেছ। তাই তোমাদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি তোমাদের প্রত্যেককে ভালো মানুষ হতে হবে। তোমরা আগামী দিনের দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। তোমরা ভালো হলে দেশ ভালো নেতৃত্ব পাবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের নির্বাহী সালমুন ইকরাম। স্বাগত বক্তব্য ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান প্রথম আলোর টাঙ্গাইলের নিজস্ব প্রতিবেদক কামনাশীষ শেখর।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল বন্ধুসভার উপদেষ্টা জিনিয়া বখ্শ।
অনুষ্ঠানের মাঝে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। তবে পরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা মেতে উঠে আনন্দ–উল্লাসে। স্থানীয় ব্যান্ড সংগীত দল টাচে্র শিল্পী লিজু বাউলা ও সুফি শামীমের গানের সঙ্গে নেচে গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি জানাতে এসে কৃতী শিক্ষার্থী নিশাত সিদ্দিকী বলে, ‘সব সময় মনে থাকবে জিপিএ-৫ পেয়েছিলাম বলে প্রথম আলো আমাদের সংবর্ধনা দিয়েছিল।’
শিক্ষার্থী তাসনিয়া শারমিন বলে, ‘ভালো ফলাফলের জন্য সংবর্ধনা দেওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করার জন্য আমাদের প্রেরণা জোগাবে।’ অপর শিক্ষার্থী আজম খান বলে, ‘এই সংবর্ধনা পেয়ে আমরা অনুপ্রাণিত।’
দিনব্যাপী সংবর্ধনায় শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, প্রথম আলো ই-পেপার (১ মাস) ও চরকির (১৫ দিন) ফ্রি সাবস্ক্রিপশন, শিখোর সৌজন্যে বিনা মূল্যে কোর্স ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের স্ন্যাকস বক্স।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরের বোয়ালীতে ঘরের আড়ের সাথে ফাঁস দিয়ে আবু সাইদ (১৭) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। সে মধুপুরের শহরের কসমেটিকস ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের ছেলে ও স্থানীয় কুড়ালিয়া মাদ্রাসা থেকে হেফজ পাশ করেছে।
বুধবার(২০ সেপ্টেম্বর) সকালে পরিত্যক্ত রুমের তালা খোলা দেখে প্রতিবেশী ভিতরে ঢুকে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে লাশটি উদ্ধার করে।
জানা যায় পারিবারিক অমিলের কারনে মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবু সাইদ বাসা থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নি। রাতে তার বাবা মধুপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি(জিডি) করেন। ।
শহিদুল ইসলাম জানান, লেখাপড়া না করার কারনে সাইদকে আমার সাথে দোকানে বসিয়ে দেই। কিন্তু সে দোকানে মনোনিবেশ না করে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। বেশ কিছুদিন যাবত সে কারো সাথে কথা বলতো না। চুপচাপ বসে দিন-রাত মোবাইলে গেমস খেলতো।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি )মোল্লা আজিজুর রহমান জানান ,আইনী প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কণিষ্ঠ পুত্র আবুবকর খান ভাসানীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে আবুবকর খান ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এ সময় ন্যাপ-ভাসানী ও খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি হাসরত খান ভাসানী, ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানীসহ ভক্ত-মুরিদানরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সোমবার বিকালে ঐতিহাসিক দরবার হলে ওরশ মোবারক ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, আবুবকর খান ভাসানী ১৯৪৭ সালের ২৪ এপ্রিল (মেট্রিকুলেশন সনদ অনুযায়ী) আসামের ধুবরী জেলার দক্ষিণ শালমারা থানার আমতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও হামিদা খানম ভাসানীর জ্যেষ্ঠ পুত্র।
তিনি ১৯৬৫ সালের ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভুরুঙ্গামারীর ঐতিহাসিক কৃষক সম্মেলনের সক্রিয় কর্মী ও সংগঠক ছিলেন। এই সময়ে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে গড়ে তোলেন মাতা হামিদা খানম ভাসানীর নামে জুনিয়র স্কুল। এখানেই তিনি শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
এরপর ’৬৮-র আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ’৬৯-র গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন।
২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর সন্তোষে পিতার কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ও জেলার সকল সংসদ সদস্য (এমপি) এবং জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের নাগরপুরে রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে নাগরপুর কলেজ মাঠে জনসমাবেশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু। উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে সমাবেশ করেছেন তিনি। কিন্তু সেখানে যাননি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দ। সংসদীয় আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও ছিলেন অনুপস্থিত। উপজেলা আওয়ামী লীগ ও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জনসভায় অনুপস্থিতি তৃণমুল নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে। জনসভার পাশাপাশি এটাও ছিলো সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে ছিলো আলোচনার বিষয়বস্তু। এরমধ্য দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্ব›দ্ব এতদিন অপ্রকাশ্যে থাকলেও রবিবারের জনসভার মধ্যে দিয়ে তা প্রকাশ্যে এলো। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ৯নং সহ-সভাপতি মো. আনিছুর রহমান ও অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ৩ নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আলীম দুলাল। যা ছিলো অত্যান্ত দৃষ্টিকটু।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের। সেইসঙ্গে এই আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস খান হিমু ও ইনসাফ আলী ওসমানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়ামের সঙ্গেও দ্বন্দ্ব রয়েছে। তারা সবাই একাট্টা হয়েছেন সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত কয়েক বছর ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। সংসদ সদস্য তার নিজের অনুসারীদের নিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করেন। অপরদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে কর্মসূচি পরিচালনা করেন।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাগরপুরে সমাবেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আগামী অক্টোবরে প্রথম সপ্তাহে সমাবেশ করার জন্য প্রস্তাব দেন। তারা এই প্রস্তাবের কথা কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের জানান। উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খালিদ হোসেন জানান, এই প্রস্তাব অগ্রায্য করে সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে ১৭ সেপ্টেম্বর সমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করেন। ব্যানারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদককে সঞ্চলনার দায়িত্ব দিয়ে নাম লেখা হলেও তিনি কারও সঙ্গে সমন্বয় না করে একাই সমাবেশের প্রচারণা শুরু করেন। তখন অন্য সবাই এ সমাবেশ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন।
স্থানীয়রা জানান, এই সমাবেশ কেন্দ্র করে নাগরপুরের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জণ উঠেছিল উপজেলা আওয়ামী লীগ, সকল মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা ও সংসদ সদস্যের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে তার অবসান ঘটবে। কিন্তু সমাবেশের মধ্য দিয়ে দ্বন্দ্ব আরও চরমে পৌঁছালো। তারা এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বর কারণে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলী বলেন, সংসদ সদস্য রোববার যে সমাবেশ করলেন তার সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন প্রকার সম্পর্ক নেই। সমাবেশের বিষয়ে তিনি কারও সঙ্গে সমন্বয় করেননি। এমপি হওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের এড়িয়ে চলেন। তিনি বিএনপি ও জামায়াতের লোকদের নিয়ে রাজনীতি করেন। কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতাদের ম্যানেজ করে তিনি এই সমাবেশ করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ পরবর্তীতে সমাবেশ করবেন বলেও তিনি জানান।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস্ হিমু বলেন, দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে দল পরিচালা করবেন উপজেলা আওয়ামীলীগ। উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড পরিচালানা করবেন স্থানীয় এমপি। কিন্তু স্থানীয় এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে এককভাবে নিজের মত করে বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করছে। রোববারের জনসভাটি এমপির একক সিদ্ধান্তে আয়োজন করায় উপজেলা আওয়ামী লীগসহ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জনসভায় উপস্থিত হয়নি। এতে সাধারণ ভোটারসহ তৃণমুল কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু জনসভায় বলেন, নাগরপুরের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ, নাগরপুর আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ আজ ঐক্যবদ্ধ ও অভিন্ন আছে। গুটি কয়েকজন মানুষ এখানে উপস্থিত নাই। আমি আশাকরি এখানে উপস্থিত টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দায়িত্বপুর্ন সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগ যেন ঐক্যবদ্ধভাবে আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিবেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল আলীমের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী, সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ, সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু, সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামিলুর রহমান মিরন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার ফজলুল হক প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চার দশমিক দুই মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আবহাওয়া সহকারী মো. রবিউল হক বলেন, ‘উৎপত্তিস্থল টাঙ্গাইল শহরে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে চার দশমিক দুই।’
তিনি বলেন, ‘দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডে টাঙ্গাইল শহর ও আশে পাশের জেলায় মূলত ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে আলু, পেঁয়াজ ও ডিম বিক্রি এবং মূল্য তালিকা না থাকায় টাঙ্গাইলে ৭টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত দোকানগুলো হচ্ছে- মেসার্স আলম ট্রেডার্স, আলী আজম ট্রেডার্স, মেসার্স বেল্লাল হোটেল ও একটি নাম বিহীন ডিমের দোকান।
শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপি টাঙ্গাইল পৌর শহরের পার্ক বাজারের পাইকারী দোকানে অভিযান চালিয়ে ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং একই বাজারে দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে ৩ টি দোকানে জরিমানা করেন।
টাঙ্গাইলের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম জানান, সরকার ডিম, আলু ও পেঁয়াজের দাম নির্ধারিত করে দেওয়ার ঘোষণা এখনও মাঠ পর্যায়ে কার্যকর হয়নি। তবে, ডিমের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বাজার তদারকির ফলে বেশিরভাগ দোকানে পণ্যের মূল্য তালিকা ঝুলানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শনিবার শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার পার্ক বাজারের পাইকারী দোকানে তদারকিমূলক অভিযানে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। এ সময়ে সিনিয়র কৃষি বিপনন কমকর্তার কার্যালয়ের প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে জেলা পুলিশ সহযোগিতা করে।
অপরদিকে, শহরের পার্ক বাজারে বেশি দামে আলু, পেঁয়াজ ও ডিম বিক্রি করায় শনিবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৩ জন ব্যবসায়ীকে ৩ হাজার ৫শত টাকা জরিমানা করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় কবির হোসেন নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার(১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের চৈথট্ট বটতলী বাজারে একটি ভ্যান চার্জ দেওয়ার গ্যারেজ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কবির উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ধুপা খাগরাটা গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। সে পেশায় একজন ভ্যানচালক।
এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলের পৃথক পৃথক স্থান থেকে চারটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান জানান, একটি ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা।
এদিকে শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জেলার ভুঞাপুরে প্রবাসীর স্ত্রী’র মরদেহ ঘরের বক্স খাটের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্বামী মোস্তাক পালিয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রবাসীর স্ত্রী মুনিয়া ইসলাম (৩২) গোপালপুর উপজেলার নলীন এলাকার নুরুল ইসলাম খানের মেয়ে এবং একই উপজেলার বাগুয়াটা গ্রামের আজমত আলীর ছেলে ব্রুনাই প্রবাসী মোস্তাকের স্ত্রী।
একই দিন ভূঞাপুরে ঘর থেকে সুলতানা সুরাইয়া(৬৫) নামের এক বৃদ্ধার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সুলতানা সুরাইয়া ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার নিউজ এডিটর আবু সায়েম আকন্দের মা এবং পশ্চিম ভূঞাপুর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আকন্দের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে পৌরসভার পশ্চিশ ভূঞাপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান উল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- একদিন আগে তাকে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে দৃষ্কৃতিকারীরা। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পৌরসভায় জমি বুঝে পাওয়ার জন্য একটি আবেদন করে খাইরুল। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে তিনিসহ পৌরসভার সার্ভেয়ারসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা জমি পরিমাপ করতে যান। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোতালেব নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে পৌরসভার লোকজনদের উপর হামলা করে এবং মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেয়। এ সময় হামলাকারিরা খায়রুলকে ছুরিকাঘাত করলে তার পেট পুরোটা কেটে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় কবির হোসেন (২৭) নামে এক অটোভ্যান চালকের রহস্য জনক মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর)ভোর ৭ টায় উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের চৈথট্ট বটতলী বাজারে একটি ভ্যান চার্জ দেওয়ার গ্যারেজ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি )মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত কবির উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ধুপা খাগরাটা গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। সে পেশায় একজন অটোভ্যান চালক। তার দুটি পিকআপ গাড়িও আছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, কবির সহ আরোও তিন অটোভ্যান চালক মিলে স্থানীয় চৈথট্ট বটতলী বাজারে একটি গ্যারেজে প্রতিরাতে ভ্যান চার্জ দেন। ঐ চারজন চালকের মধ্যে একজন করে ভ্যানচালক ঐ গ্যারেজে প্রতিরাতে পাহারায় থাকতেন। শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর)রাতে পাহারার পালা ছিল কবিরের। রাতে ভ্যান চার্জ দিয়ে গ্যারেজে ছিলেন কবির ।
ঐ গ্যারেজের একজন ভ্যান চালক জাবির হোসেন মুরগির ট্রিপ দেওয়ার জন্য রাতে বাহিরে ছিলেন। পরে শনিবার দিবাগত রাত ৪ টায় ভ্যান চার্জ দেওয়ার জন্য ঐ গ্যারেজে গেলে কবিরের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তিনি। পরে কবিরের পরিবার কে খবর দিলে তারা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশ থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘাটাইল ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান , একটি ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান,ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। তবে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে শালিশি বৈঠকে খায়রুল ইসলাম (৪২) নামের এক যুবকের ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর,সকালে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার কোদালিয়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খায়রুল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের নগর জালফৈ এলাকার মো.জিন্নত আলীর ছেলে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর মোছাম্মৎ বিউটি বেগম জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পৌরসভায় জমি বুঝে পাওয়ার জন্য একটি আবেদন করেন খায়রুল ইসলাম । ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে পৌরসভার লোকজন জমি মাপতে গিয়ে দুইপক্ষ নিয়ে শালিসি বৈঠক বসে।
তিনি আরও জানান, শালিসি বৈঠকে হঠাৎ কিছু বুঝে উঠার আগেই মোতালেব নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে পৌরসভার লোকজনদের উপর হামলা করে এবং মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেয়। একপর্যায়ে হামলাকারিরা অভিযোগকারী খায়রুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে। পরে আহত অবস্থায় খায়রুলকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মুহাম্মদ আবু ছালাম (পিপিএম) জানান, এ ঘটনায় ডলি খানম নামের এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার হাত কেটে যাওয়ায় তাকে পুলিশ পাহারায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
একতার কণ্ঠঃ খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের লাশ তার শ্বশুরবাড়ি টাঙ্গাইল শহরের পলাশতলী এলাকায় পৌছেছে। বৃহস্পতিবার(১৪ সেপ্টেম্বর )সকাল থেকেই এই গুনি পরিচালকের মুখটা একবার দেখতে ভীড় করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
স্বজনরা জানিয়েছেন স্ত্রী ও তার (সোহানুর রহমান) ইচ্ছে ছিল মৃত্যুর পর তাদের দুইজনকে যেন পাশাপাশি দাফন করা হয়। সকাল ৯টায় টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদে জানাযা শেষে সেই ইচ্ছে পূরণেই টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে স্ত্রীর কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়েছে।
তার জানাযার নামাজে জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত পরিচালক রিয়াজুল রিজু, চলচ্চিত্র লেখক আবু সাঈদ চৌধুরী, শ্যালক শাহী, আত্মীয় স্বজনসহ স্থানীয় গন্যামান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর)বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ব্রেইন স্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করেন তার স্ত্রী প্রিয়া রহমান। পরদিন বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খ্যাতিমান পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান।
মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে দুইজনের মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে আছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
বহু ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রের নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘বিশ্বাস অবিশ্বাস’। এ নির্মাতার হাত ধরেই চলচ্চিত্রে আসেন সালমান শাহ, মৌসুমী, পপি ও ইরিন জামান। শাকিব খানের মুক্তি পাওয়া প্রথম সিনেমার পরিচালকও ছিলেন তিনি।
সোহানুর রহমান সোহানের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- ‘বিশ্বাস অবিশ্বাস’, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’, ‘আমার দেশ আমার প্রেম’, ‘অনন্ত ভালোবাসা’।
সোহানুর রহমান সোহান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে টানা দুইবার মহাসচিব এবং দু‘বার সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। শিবলি সাদিকের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রের কর্মজীবন শুরু করেন সোহানুর রহমান সোহান।