একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে রাইসকুকার কার্টুনের ভেতর থেকে এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ মে) সকালে এলেঙ্গা-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার সিংগুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার পশ্চিম পাড়া কবরস্থান জামে মসজিদের পাশ থেকে অজ্ঞাত নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া নবজাতকের সাথে কার্টুনে লেখাযুক্ত একটি কাগজের টুকরো পাওয়া যায়। এতে লেখা ছিল- ‘দয়া করে আপনারা কেউ দাফন করুন, কিছু টাকা রেখে গেলাম। বাচ্চাটা ১২ ঘণ্টা বেঁচে ছিল।’ নবজাতকের সাথে কার্টুনে এক হাজার টাকাও ছিল।
এই নবজাতকটি দেখতে স্থানীয় ও আশ-পাশের এলাকার বিভিন্ন লোকজন ভিড় করে।
এ ঘটনায় মসজিদের ইমাম গোলাম মোস্তফা জানান, ফজরের নামাজ ও সকালে মক্তব শেষে বাড়িতে ধানের কাজ করছিলাম। সে সময় খবর আসে মসজিদের দরজার পাশে একটি রাইসকুকার রাখা। রাইসকুকারের কার্টুনটি দেখে কেউ কেউ ধারণা করছিল অন্যকিছু থাকতে পারে। তাই ভয়ে কেউ কার্টুনটি খুলতে সাহস পাচ্ছিল না।
তিনি আরো জানান, এরপর ঘটনাস্থল মসজিদে এসে দেখি সামনের দরজার পাশে কার্টুন। পরে মসজিদ কমিটির লোকজনদের সাথে নিয়ে কার্টুনটি খুলে দেখি ফুটফুটে এক মৃত নবজতাক ও সাথে লেখা যুক্ত এক টুকরো কাগজ রয়েছে। এ বিষয়টি জানাজানি হলে নবজাতকটি দেখতে ভিড় করে উচ্ছুক জনতা। তারপর পুলিশকে খবর দিলে নবজাতকটি উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে কার্টুনসহ নবজাতকটির মরদেহ উদ্ধার ও সুরতাহাল শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে নবজাতকটির লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ স্বামী শাহেদ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস একে একে বিক্রি করেন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে তাঁর টিনের ঘরটিও বিক্রি করে দেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হচ্ছিল। এর জেরে স্ত্রী মনিরা বেগম ও দুই সন্তানকে শাহেদ হত্যা করে পালিয়েছে, এমন ধারণা করছেন মনিরার পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা। পুলিশও বিষয়টি সামনে রেখে তদন্তে নেমেছে।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের চকতৈল পূর্বপাড়া গ্রামে গতকাল শনিবার(৬ মে) সন্ধ্যায় মো. শাহেদের স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাশেই বিছানায় পড়ে ছিল শাহেদের দুই ছেলে মুসফিক (৮) ও মাশরাফির (২) লাশ। ঘটনার পর থেকে শাহেদ পলাতক।
রোববার(৭ মে) দুপুরে মনিরার মা আবেদা বেগম বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, মামলায় মনিরার স্বামীসহ তিনজনের নাম রয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও তিন–চারজনকে আসামি করা হয়েছে। সুরতহালে দেখা গেছে, দুই ছেলেকে ঘাড় মটকে হত্যা করা হয়েছে। মনিরার মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বোঝা যাবে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের পর রবিবার দুপুরে তিনজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখার সময় নিজ গ্রামে তাঁদের দাফনের প্রস্তুতি চলছিল।
সকালে দেলদুয়ার উপজেলার চকতৈল পূর্বপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামজুড়ে শোক বইছে। মনিরার বাবার বাড়ি ও স্বামীর বাড়ি রাস্তার এপার-ওপার। মনিরার ঘর খোলা পড়ে আছে। সেখানে ঢুকে দেখা যায়, ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে তাঁদের জামাকাপড়। ঘরের পেছন দিকে সিঁধ কাটা। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, এ সিঁধ কেটেই ঘর থেকে মনিরার স্বামী পালিয়ে গেছেন।
ওই গ্রামের শিক্ষার্থী মো. জাকারিয়া জানান, মনিরার স্বামী শাহেদের বাবা ফজলু মিয়া পুলিশে চাকরি করতেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনিও মাদকাসক্ত ছিলেন। কয়েক মাস আগে একটি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর গ্রাম ছেড়েছেন।
শাহেদ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তিনি স্ত্রীর গয়না, ঘরের থালাবাটি বিক্রি করে নেশা করতেন। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে তাঁর বসতঘর ২০ হাজার টাকায় চাচাতো ভাইয়ের কাছে বিক্রি করেন। ঘর ভেঙে নেওয়ার পর শাহেদ স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে তাঁর বাবার ঘরে ওঠেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কয়েক দিন ধরে ঝগড়া চলছিল। ঝগড়ার জেরে স্ত্রী–সন্তানদের হত্যা করেছেন বলে মনে করছেন মনিরার মা আবেদা বেগম।
মনিরার ফুফাতো ভাই জামাল মিয়া জানান, শাহেদ নেশা করতেন। হত্যা করার আগে স্ত্রী–সন্তানকে কোনো ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে হত্যা করতে পারেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে যখন ঘর থেকে মনিরা ও তাঁর দুই ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়, তখনো শাহেদ বাড়িতে ছিলেন। পরে একপর্যায়ে চলে যান। একে একে তাঁদের অন্য চাচাতো ভাইয়েরা বাড়ি ত্যাগ করেন।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, শাহেদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। দ্রুত এ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
একতার কণ্ঠঃ রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় ২০১১ সালে ৫ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল দেশজুড়ে। কেমন আছে সেই ছোট্ট শিশুটি? খোঁজ করতে গিয়ে জানা গেল, ওই ঘটনার পর কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে সে। বাক প্রতিবন্ধী মেয়েটির এখন নির্মম জীবনযুদ্ধ। আর, সেই ধর্ষক নাজমুস সাকিব আয়েশী জীবন কাটাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনের আশ্রয় নিলেও বিচার পায়নি ছোট্ট শিশুটি। অর্থের বিনিময়ে শিশুটির বাবার মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিল ধর্ষকের পরিবার। কিন্তু ভুক্তভোগীর পরিবার বিচার ছাড়া আর কিছুই চায়নি। মামলাও করেছিলেন তারা। তবে ধর্ষক নাজমুস সাকিব ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাবশালী জলিলুল আজমের ছেলে হওয়ায় পার পেয়ে গেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বাসাবোর সবুজবাগ এলাকার ২৮ নম্বর মায়াকাননের পেছনে ৩টি বাড়ির পর একটি টিনশেডের ঘরে পরিবারের সঙ্গে থাকতো শিশুটি। পিতা সিএনজি অটোরিক্সা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন। ঘটনার দিন ফুটফুটে ছোট্ট শিশুটিকে চকলেটেরে লোভ দেখিয়ে ২৮ মায়াকাননে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান মাদকাসক্ত নাজমুস সাকিব। এরপর ছাদে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে শিশুটিকে নিচতলার গ্যারেজে রেখে পালিয়ে যান নাজমুস সাকিব। এরপর শিশুটির কান্নাকাটির শব্দ শুনে এগিয়ে আসেন বাড়ির কেয়ারটেকার বাচ্চু মিয়া। শিশুটির করুণ অবস্থা দেখে তার চিৎকারে জড়ো হন এলাকাবাসী। পরে শিশুটি পুরো ঘটনা জানান।
এ ঘটনার পর নাজমুস সাকিবের বাবা জলিলুল আজমমহ শিশুটির বাবা মিলে তাকে প্রথমে মুগদা হাসপাতালে নেন। শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে মুগদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করে। সেখানে প্রায় ২৮ দিন চিকিৎসার পর প্রাণে বেঁচে গেলেও শিশুটি হয়ে পড়ে বাক প্রতিবন্ধী। ধর্ষণের শিকার, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে শিশুটি।
সে সময় বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য নাজমুস সাকিবের মামা ও বাবা মেয়েটির পরিবারকে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিল। কিন্তু শিশুটির বাবা টাকা না নিয়ে বিচার চান।
নাজমুস সাকিবের প্রভাবশালী বাবা ও মামার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সবুজবাগ থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।
মামলার পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকেন নাজমুস সাকিব। তিনি এখন দেশ ছেড়ে থিতু হয়েছেন আমেরিকায়। সেখানে বসে কথিত এক টিভিতে বিভিন্ন মিথ্যা ও গুজব ছড়ানোর কাজ করছেন। নিজেকে পরিচয় দেন বার্তা-সম্পাদক।
সবুজবাগ এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিশুটির পরিবার যে বাড়িতে থাকতো এখন আর সে বাড়িতে নেই। ধর্ষণের ঘটনার বছর তিনেক পরে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যায় পরিবারটি। কারণ ধর্ষণের অপবাদ সইতে পারছিল না নিরপরাধ পরিবারটি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোবাশ্বের হোসেন জানান, শিশুটির পরিবার লোকলজ্জার কারণে শেষ পর্যন্ত এলাকাই ছেড়ে দিল। কারণ নাজমুস সাকিবের এ ধর্ষণের ঘটনা সবাই জানে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামপুরা টিভি ভবনের পেছনের গলির আমির উদ্দিনের একটি টিনশেডের বাড়িতে থাকে পরিবারটি। দুই রুমের ঘরটিতে দুই মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে পরিবারটি কোনমতে টিকে রয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে প্রথমে কথা বলতে না চাইলেও পরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন ধর্ষণের শিকার শিশুটির পিতা।
পাশের রুমে বসে থাকা মেয়েটির দিকে ইশারা দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের সুখ কেড়ে নিয়েছে ধর্ষক নাজমুস সাকিব। আমার সুস্থ মেয়েটি সেই ঘটনার ধকল সইতে না পেরে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। ওই ঘটনার পর কোন কথা বলতে পারে না। মাসখানেক চিকিৎসার পর এখন কোন মতো বেঁচে আছে। কিন্তু শুধু ঘরের এক কোনায় বসে কান্না করে। মেয়ের এমন কষ্ট দেখে বুকটা ফাইট্টা যায়।’ তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, নাজমুস সাকিব আমার মেয়ের জীবনটা শেষ করে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত নাজমুস সাকিব নিজের খালাতো বোনকেও ধর্ষণ করেন। এরপর গর্ভবতী হয়ে পড়লে পরিবারের চাপে তাকে বিয়ে করেন নাজমুস সাকিব। এ ছাড়া নিজ দাদীসহ এলাকায় একাধিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আছে নাজমুস সাকিবের বিরুদ্ধে। খিলগাঁও, সবুজবাগ এবং মতিঝিল থানায় রয়েছে একাধিক মামলা এবং সাধারণ ডায়েরি। নাজমুস সাকিবের বাসাবোর বাড়ির ভাড়াটিয়া কুমিল্লার দাউদকান্দির এক গৃহবধূকে দলবেধে ধর্ষণ করেছিল নাজমুস সাকিব ও তার দল। ২০১০ সালের সেই ঘটনার পর এলাকা ছাড়েন ওই স্বামী-স্ত্রী। লোকলজ্জার ভয়ে সেইদিন মামলা করেনি, নীরবে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তারা।
ভুক্তভোগী বলেন, নাজমুস সাকিব এখন নাকি আমেরিকায় গিয়ে ইউটিউবে কিশের শো করে। সে দিনের কথা এখন আর মনে করতে চাই না। তার যৌন নির্যাতনের কথা এখনো মনে হলে আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করার চেষ্টা চালায়। আমরা সেই কষ্ট বুকে নিয়ে কোনমতে বেঁচে আছি।
একতার কণ্ঠঃ বয়স গোপন রেখে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করায় টাঙ্গাইলের নাগরপুরে এক ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ মে) বাংলা ২য় পত্র চলাকালে কেন্দ্রের সভাপতি উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান তাকে বহিষ্কার করেন।
ওই পরীক্ষার্থী নাগরপুর সদর ইউনিয়নের দুয়াজানী গ্রামের মো. রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজের ছেলে এসএম শামীম আল মামুন।তিনি নয়ান খান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।
জানা যায়, এসএম শামীম আল মামুন ২০০০ সালে মো.শাহীনুর ইসলাম , পিতা. মো.রিয়াজ উদ্দিন নাম দিয়ে চৌহালী জনতা হাইস্কুল থেকে রাজশাহী বোর্ডে অধিনে ৬১৩ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক পাস করে।
পূর্নরায় ২০২০ সালে নাগরপুর উপজেলার বনগ্রাম শহীদ মেমোরিয়াল হাইস্কুল থেকে নাম পরিবর্তন করে এসএম শামীম আল মামুন পৃথিবী ও পিতা. মো.রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ নাম দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করে ২০২৩ সালে ঢাকা বোর্ড থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। রোববার( ৩০ এপ্রিল)বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা চলাকালে বিষয়টি কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার নজরে আসে। ওই কর্মকর্তা তার উর্ধ্বতন অফিসারকে বিষয়টি জানান। এসময় ওই ছাত্রের কাছে জানতে চাইলে অকপটে সব স্বীকার করে। পরীক্ষা শেষে এডমিট কার্ড ও রেজিঃ কার্ড জব্দ করে হল কর্তৃপক্ষ।
এসএম শামীম আল মামুন পৃথিবী বলেন, আমি ২০০০ সালে রাজশাহী বোর্ড থেকে এসএসসি পাস করেছি। সার্টিফিকেটে বয়স কমানোর জন্য নতুন করে ২০০৭ সালে জন্ম তারিখ দেখিয়ে জন্ম সনদ বের করে এবং ২০২০ সালে নাগরপুর উপজেলার বনগ্রাম শহীদ মেমোরিয়াল হাইস্কুল থেকে রেজিষ্ট্রেশন করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করি।
কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক সহকারি কর্মকর্তা জিএম ফুয়াদ বলেন, আমি দায়িত্ব পালনকালে ওই ছাত্রকে দেখে সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি সে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাই।
কেন্দ্র সচিব ও নয়ান খান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসেন আলী মনসুর বলেন, ওই ছাত্রর এনআইডি কার্ডে তার বয়স ১৯৮৪ আর জন্ম সনদে তার বয়স ২০০৭।
নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.শাহীনুর ইসলাম জানান, ইতিপূর্বে সে এসএসসি পাস করেছে। সে ২০/২২ বছর পর আবার এসএসসি পরীক্ষা দিতে আসছে। মূল বয়স গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করাটা অপরাধ। এ কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ শ্রমিক সংকট নিরসন ও খুব কম সময়ে কৃষকের পাকা বোরো ধান ঘরে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক যন্ত্র হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটলেন টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য ছোট মনির।
সোমবার (১ মে) বিকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের বাস্তবায়িত বোরো ধান প্রদর্শনীর নমুনা শস্য কর্তন ও কৃষক মাঠ দিবসে কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের মাদারিয়া এলাকায় সন্ধ্যার দিকে কৃষক মজিবর রহমানের ক্ষেতের ধান কেটে ধান কাটার উদ্বোধন করেন তিনি।
এসময় তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্থানীয় কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আধুনিক যন্ত্র হারভেস্টার মেশিন দিয়ে পাকা ধান কাটা (কর্তনের) উদ্বোধন করলাম। এ বছর কৃষকের বোরো ধানের চাষ ও ফলন ভালো হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোছা. নার্গিস আক্তার, ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলিফ নূর মিনি, কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ড. হুমায়ূন কবীর, ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম, ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ্ আলম প্রামাণিক, সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, ফলদা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু প্রমুখ।
সম্পাদনা-আরমান কবীর
আরমান কবীরঃ: এবার এপ্রিল জুড়ে ছিল ঈদের আমেজ। এ মাসের শুরু থেকেই ঈদ ঘিরে অনেকে পরিবার-পরিজন আগেভাগে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পুরোদমে শুরু হয় ঈদযাত্রা। গত ২২ এপ্রিল দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। এরপর আবার কর্মস্থলে যোগ দিতে গ্রাম ছেড়ে শহরে ফেরেন কর্মজীবী মানুষ।
এ ঈদযাত্রায় ছোট-বড় মিলিয়ে সড়কে ২ হাজার ৫০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছে ৪৫১ জন। আহত হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৫২৭ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে বাস দুর্ঘটনা। বাস দুর্ঘটনায় নিহতও সবচেয়ে বেশি ২৮২ জন। তবে মার্চের তুলনায় এপ্রিলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ৫৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি কমেছে। নিহত-আহতের সংখ্যাও আগের মাসের তুলনায় অর্ধেকে নেমেছে। সেভ দ্য রোডের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থার মহাসচিব শান্তা ফারজানার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দেশের ২২টি জাতীয় দৈনিক, ২০টি টেলিভিশন চ্যানেল, ৮৮টি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংস্থার স্বেচ্ছাসেবীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন করেছে সেভ দ্য রোড। এজন্য তিনি সেভ দ্য রোডের প্রতিবেদন সচেতনতামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের সক্রিয়তায় চালক পথচারী ও যাত্রী সাধারণের মধ্যে সচেতনতা-সাবধানতা অবলম্বন করার বিষয়টিকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমকে কৃতজ্ঞতা জানান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৩১টি। এতে নিহত হয়েছে ৩৪ জন এবং আহত হয়েছে ৪৩৫ জন। ৬৪৫টি ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪৩ জন এবং আহত ৩৬৮ জন। সবচেয়ে বেশি ৮০৮টি বাস দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৮২ জন এবং আহত হয়েছে ৯৪৩ জন। এছাড়া নসিমন-করিমনসহ অন্য তিন চাকার বিভিন্ন যানবাহনের ৬২২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে ৭৮১ জন এবং নিহত হয়েছে ৮৯ জন। এতে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা না মানা, বিশ্রাম না নিয়ে টানা ১২-২০ ঘণ্টা গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন অনিয়মকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সেভ দ্য রোড। এছাড়া প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলা, পুলিশ ও প্রশাসনের দুর্নীতিকেও দায়ী করেছে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংস্থাটি।
সেভ দ্য রোডের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, এবার বিভিন্ন স্থানে পরিবহন ভাড়া দুই থেকে তিনগুণ বেশি আদায় করার কারণে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির কবলে পড়লেও বিআরটিএ বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কোনো মনিটরিং টিম ছিল না। বগুড়া, বরিশাল, নওগাঁ, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ দেশের অধিকাংশ সড়ক পরিবহন মালিক কর্তৃপক্ষই ভাড়া নৈরাজ্য করে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সেভ দ্য রোডের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়, জিয়াউর রহমান জিয়া, আইয়ুব রানা ও লায়ন ইমাম হোসেনের তত্ত্বাবধানে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
সেভ দ্য রোডের অঙ্গীকার ‘পথ দুর্ঘটনা থাকবে না আর’ স্লোগান সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে ২০০৭ সালে পথচলা শুরু করে এ সংস্থাটি। এরপর থেকে সড়ক, রেল, নৌ, আকাশপথ দুর্ঘটনামুক্ত করতে সচেতনতা, গবেষণা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে তারা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পছন্দের ছেলের সাথে বিয়ে না দিয়ে পরিবার অন্যত্র বিয়ে ঠিক করায় বিষপানে আয়েশা আক্তার আশা (১৮) নামের এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।
গত মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) ওই ছাত্রীর পরিবার তার মতের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সে অভিমানে বিষ পান করে।সোমবার (১মে) ভোর রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আয়েশা আক্তার উপজেলার কচুয়া গ্রামের আজহার আলীর মেয়ে।সে স্থানীয় সরকারি মুজিব কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সখীপুর সরকারি মুজিব কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী আয়শা আক্তার আশার সঙ্গে এক প্রতিবেশী সহপাঠীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) তাকে পারিবারিক ভাবে তার মতের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয় তার পরিবার। তার মতের বিরুদ্ধে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার কথা শুনেই সে বিষপান করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার(১ মে) ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম জানান, বিষপানে আত্মহত্যা করা মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনির ও তার স্ত্রী নিগার আফতাবকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে তাদের আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে টাঙ্গাইলের আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
তাদের জামিন স্থগিতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার (৩০ এপ্রিল) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনির ও তার স্ত্রী নিগার আফতাবকে হাইকোর্টের চার সপ্তাহের জামিন দেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
পরে এই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে (১৭) ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়েছে। মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা বলে প্রমাণ পেয়েছে মেডিকেল বোর্ড। মামলা হওয়ার পরদিন ওই কিশোরী আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় রাত দিনের কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ৩ জনের ফাঁসী দেওয়া লাশ উদ্ধার করেছে মির্জাপুর থানা পুলিশ।
এদের মধ্যে একজন বৃদ্ধ ও দুইজন শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাত থেকে বুধবার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার কুড়াতলি, কুইচতারা ও পোস্টকামুরী গ্রামে এই ঘটনা গুলো ঘটে।
মির্জাপুর থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের কুড়াতলী গ্রামের আব্দুল কাদের পলান (৬০) বাড়ির পাশে একটি গাব গাছের ডালে দড়ি পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। গভীর রাতে তাঁর স্ত্রীর ঘুম ভেঙে গেলে পলানকে দেখতে না পেয়ে খুঁজতে থাকেন।
পরে বাড়ির পাশে গাব গাছে তাঁর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান পরিবারের লোকজন। আত্মহত্যার কোনো কারণ জানা যায়নি।
এ দিকে মঙ্গলবার রাত ১ টার দিকে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের কুইচতারা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী আব্দুস ছালাম মিয়ার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে সায়মা আক্তার শিমু (১৫) ঘরের সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। রাতে শিমুর মা ঘুম ভেঙে মেয়েকে দেখেত না পেয়ে পাশের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় শিমুর মরদেহ দেখতে পান।
এ ব্যাপারে পরিবারের লোকজন মৃত্যুর কারণ পুলিশকে জানাতে পারেনি।
অন্যদিকে, ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের (আর ওয়ান ফাইভ) মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ার কারনে বুধবার সকাল সারে দশটার দিকে পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের বসবাসরত পোস্টকামুরী গ্রামের আমিনুল হোসেন লিটনের কলেজ পড়ুয়া ছেলে ফয়সাল আহমেদ জয় (১৭) তাঁর কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। জয়ের মা হোসনেয়ারা সকালের নাশতা খেয়ে তাকে বাসায় রেখে পাশেই তার বাবার বাড়িতে যান। কিছুক্ষণ পর তারই ছোট বোন বাসায় ফিরে এসে জয়কে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পরে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হসপিটালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, লাশ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ সব ঘটনায় থানায় তিনটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৯০ বছরের এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে পলাশ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ এপ্রিল) ভোরের দিকে উপজেলার এলেঙ্গা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত পলাশ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কদিমহামজানী গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাতে পলাশকে আসামি করে ভুক্তভোগীর ছেলে বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় মামলা করেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন বৃদ্ধা। তার তিন ছেলে আলাদা আলাদা ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন। বৃদ্ধার গোঙানির শব্দ পেয়ে পাশের ঘর থেকে ছেলের বউ এসে দেখেন দরজা বাইরে থেকে আটকানো। তখন ছেলের বউ চোর এসেছে বলে চিৎকার করেন। এরপর পরিবারের লোকজন ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে খাটের নিচে পড়ে থাকতে দেখেন। ধর্ষণে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কিল ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধের একটি দাঁত ভেঙে ফেলে অভিযুক্ত। পরে ভুক্তভোগী বৃদ্ধাকে গুরুতর আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত পলাশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সালমা জাহান জানান, ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামে ৯০ বছরের এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে মাদকাসক্ত এক যুবকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তার শারীরিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সালমা জাহান।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের এক বৃদ্ধা স্বামীর মৃত্যুর পর বাড়ির একটি টিনসেড ঘরে একাই ঘুমাতেন। তার তিন ছেলে পৃথক ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন।
সোমবার(২৪ এপ্রিল) গভীর রাতে চুরির উদ্দেশ্যে ওই বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে। পরে জোরপূর্বক ওই বৃদ্ধাকে ধর্ষণ করে। বৃদ্ধার চিৎকারে পাশের ঘরে থাকা বৃদ্ধার পুত্রবধু এগিয়ে আসলে ওই যুবক পালিয়ে যায়।
অভিযুক্ত পলাশ (২৫) উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কদিম হামজানী গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, ওই যুবক মাদকাসক্ত। সে মাদকের টাকা জোগাড় করতে প্রায়ই চুরি- ছিনতাই করে থাকে। তাদের ধারণা মাদকের টাকার জন্য ওই যুবক বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে। পরে বৃদ্ধাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। এসময় বৃদ্ধার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
ধর্ষণের শিকার ওই বৃদ্ধার পুত্রবধূ জানান, শ্বাশুড়ির ডাক চিৎকার শুনতে পেয়ে ঘরে গিয়ে শ্বাশুড়িকে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে লক্ষ্য করি তার গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে । প্রতিবেশীদের সহায়তায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি।
তিনি আরো জানান, পলাশ নামের ওই যুবককে পালিয়ে যেতে দেখি।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সালমা জাহান জানান, ওই নারীকে ডাক্তারী পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তার গোপনাঙ্গে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। বর্তমানে ওই নারী হাসপাতালের ৩নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ মালেক ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি অত্যান্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তিনি ওই যুবকের শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বেলাল হোসেন নামের এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার(২৪ এপ্রিল) পৌনে সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত তারা টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ধনবাড়ী উপজেলার ছাতারকান্দি এলাকায় গাছের গুড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ কার্যকর করে। এ সময় আন্দোলনকারিরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বানিয়াজানের ব্যবসায়ি রনি হাসানের সাথে বানিয়াজান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে হামলা মামলার ঘটনাও ঘটেছে। গত রোববার (২৩ এপ্রিল) রনি হোসেনের সাথে বেলাল হোসেনে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এই ঘটনার জের ধরে রনি হোসেন ধনবাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে ধনবাড়ী থানা পুলিশ। বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে তার কর্মী সমর্থকরা বিকেলেই ধনবাড়ী থানা চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভ করে। সন্ধ্যা পর্যন্তও তাকে ছেড়ে না দেওয়ায় তারা টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ধনবাড়ী উপজেলার ছাতারকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাঠের গুড়ি ফেলে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। সন্ধ্যা পৌনে সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলাকালে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে।
স্থানীয় যুবলীগের কর্মী তমাল হোসেন জানান, গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় ব্যবসায়ি রনি হাসান তার সহযোগিদের নিয়ে বেলাল হোসেনের ওপর আক্রমন করে। এতে বেলাল হোসেন গুরুত্বর আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই ঘটনায় বেলাল হোসেনের দায়ের করা মামলায় রনি হোসেন সম্প্রতি জামিন নিয়ে আসেন। সোমবার রনি হোসেন দায়ের করা মামলায় বেলাল হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।
এ ব্যাপারে ধনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, নেতাদের ভুল বুঝাবুঝি থেকে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। বেলাল হোসেনকে থানায় আনার পর তার কর্মী সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করেছিল। বিষয়টি বসে মীমাংসার আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারিরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।