একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. তারা মিয়া (২৮) নামের এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
বুধবার (২১ জুন) বিকালে নাগরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরকাঠুরী এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত তারা মিয়া উপজেলার কাঁচপাই গ্রামের আফছার শেখের ছেলে।
জানা যায়, বুধবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে পল্লী বিদ্যুতের লাইন চালু থাকা অবস্থায় কাঠ ব্যবসায়ী রফিক চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক দিয়ে গাছ কাটতে ছিলেন। হঠাৎ করেই বিদ্যুৎদের তারের ওপর গাছের ঢাল পড়ে সাথে সাথেই শরীর বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনা স্থলেই মারা যায় তারা মিয়া। গাছের সাথে ঝুলে থাকে তার লাশ। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোক এসে নিহতের লাশ নিচে নামিয়ে আনেন। আহত অপর দুইজনকে নাগরপুর হাসপাতালে চিৎকিসার জন্য পাঠানো হয়। আহত ব্যক্তিদের নাম ঠিকানা জানা যায়নি।
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নাগরপুর জোনাল অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেশবাহুল হক জানান, গাছ কাটার বিষয়ে আমাদের অবহিত করা হয়নি।
নাগরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিকেল ৫টার দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নিহতের লাশ গাছ থেকে নিচে নামিয়ে আনা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌর নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মনোনীত গামছা প্রতীকের প্রার্থী রাহাত হাসান টিপু ৪ হাজার ৭শ’ ৪২ ভোট পেয়ে তিনি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রহিম আহমেদ পেয়েছেন ৪ হাজার ৬শ’ ২১ ভোট।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল করিম অটল নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৩শ’ ৫৪ ভোট পেয়েছেন ।
বুধবার(২১ জুন) সন্ধ্যায় সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বাসাইল উপজেলা হলরুম থেকে বেসরকারিভাবে পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
বাসাইল পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে তিন জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৭ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ফসলের মাঠ (চক) থেকে গরু আনতে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে ফজলুল হক (৫০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এতে ফজলুল হকের শরীরের বিভিন্ন অংশ ভষ্মিভুত হয়ে যায়।
বুধবার (২১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের বাইশকাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফজলুল হক ওই গ্রামের জহুর আলীর ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন।
তিনি জানান, ফজলুল হক দুপুরে মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ বজ্রপাতের কবলে পড়েন তিনি। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে তার মরদেহ স্বজনরা বাড়ি নিয়ে গেছে।
একতার কণ্ঠঃ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভা নির্বাচনে সুষ্ঠু ও উৎসমুখর পরিবেশে চলছে ভোটগ্রহণ। বুধবার(২১ জুন) সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয় একটানা বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। তবে, এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন।

মেয়র পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র আব্দুর রহিম আহমেদ, বাসাইল উপজেলা বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত সভাপতি এনামুল করিম অটল এবং উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি রাহাত হাসান টিপু।

উপজেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ১৮ হাজার ৪৩৭ জন ভোটারের এ পৌরসভায় তিন জন মেয়র প্রার্থী, নয়টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৭ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন ভোটারা।
এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মতিয়ুর রহমান বলেন, সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে সেলক্ষ্যে পৌরসভায় পর্যাপ্ত সংখ্যক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা সমবায় ব্যাংকের সভাপতি কুদরত ই এলাহি খানের বিরুদ্ধে ব্যাংকটির ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনকে বিষয়টি অনুসন্ধান করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জুন) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার অনীক আর হক, অ্যাডভোকেট রাফসান আলভী, ব্যারিস্টার শেখ মো. সামিউল ইসলাম জুয়েল। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন।
শুনানিতে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, কুদরত ই এলাহী খান একজন টাউট, রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে অন্যের সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখলদার। তাছাড়া তিনি আইনজীবী না হয়েও মামলার দালাল হিসেবে পরিচিত। চুক্তির মাধ্যমে আদালতের আদেশ পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে থাকেন। পিটিশনার ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলামকে এর আগে তিনি হুমকিও দিয়েছেন। তিনি গর্ব করে বলে থাকেন, অনেক ব্যারিস্টার, আইনজীবী এমনকি বিচারকদের পকেটে রাখেন। এর আগে তার এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, রাহেলা জাকির টাঙ্গাইল জেলা সমবায় ব্যাংকের সভাপতি কুদরত ই এলাহি খানের বিরুদ্ধে ব্যাংকটির ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এ রিট দায়ের করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, টাঙ্গাইল জেলা সমবায় ব্যাংকের সভাপতি কুদরত ই এলাহি খানের বিরুদ্ধে ব্যাংকটির ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সমবায় অধিদপ্তর। স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দুর্নীতির বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তাগিদ দিয়েছে। অডিট রিপোর্টে ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তারপরও লুটপাটকৃত অর্থ আদায়ের কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বহুতল ব্যাংক মার্কেট নির্মাণ এবং বিক্রি বন্ধের আদেশ তুলে দিয়ে নতুন করে দুর্নীতির আরও সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল সমবায় ব্যাংকের সভাপতি পদে ২০১৫ সালে মেয়াদ শেষ হয়েছে কুদরতের। কমিটির মেয়াদ শেষে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে নির্বাচনও দেওয়া হয়। মনোনয়ন বিক্রি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে গোলযোগ সৃষ্টি হলে নির্বাচন স্থগিত এবং অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করেন কুদরত। সেই মামলায় নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন উচ্চ আদালত। মামলার রায়ের সুযোগ নিয়ে ১০ বছর ধরে সভাপতি পদে বহাল তবিয়তে আছেন কুদরত।
টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের নিজস্ব শূন্য দশমিক ৮১ একর জায়গার ওপর একটি দ্বিতল মার্কেট ভবনে ১৫৫ জন ব্যবসায়ীকে দোকান বরাদ্দ দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ওই ১৫৫ জন ব্যবসায়ী বরাদ্দকৃত দোকানে ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। অভিযোগ আছে, টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি কুদরতের সঙ্গে সখ্য করে পারস্পরিক যোগসাজশে সমবায় ব্যাংকের তহবিল তছরুপ করাসহ মার্কেট ভবন নির্মাণের নামে ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের সুযোগ করে দেন সমবায় অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা।
অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, কুদরতকে ব্যবহার করে অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা নানা সুবিধা নিয়েছেন, নতুন করে আরও সুবিধা নিতে মার্কেটের ৪, ৫ ও ৬ তলার দোকান বিক্রির আদেশ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুদরত ই এলাহি তার পরিষদকে পাশ কাটিয়ে চাচাতো বোনজামাই দিদারুল ইসলামকে দিয়ে সমবায় ব্যাংকের একটি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করছেন।
সূত্র আরও জানায়, গত ৫ মাসে এ হিসাব থেকে কুদরত প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। আইন লঙ্ঘন করে দিদারকে সই করার ক্ষমতা দেওয়ায় লেনদেন করতে জবাবদিহি করতে হয় না সভাপতিকে। বিষয়টি স্বীকারও করেন হিসাবরক্ষক দিদার। তিনি বলেন, আমাকে সই করার ক্ষমতা দিয়েছেন চেয়ারম্যান, এ বিষয়ে আপনি তার কাছ থেকে জেনে নিলে ভালো হয়।
এছাড়া সর্বশেষ অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কুদরত সভাপতি হিসেবে সমবায় ব্যাংকের তহবিল থেকে ঠিকাদারকে ধার দিয়েছেন ৬ কোটি ৮৫ হাজার ৬৩৪ টাকা। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সমবায় ব্যাংকের কাছে ৫ বছর আগের পাওনা এখনো বুঝে পায়নি।
এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বলেন, কুদরত সাহেব আমার ৫ বছর আগের পাওনাই দিচ্ছেন না, হাওলাত দেবেন কেন? আমার কাজের টাকা আদায়ের জন্য আমি বারবার তাগাদা দিলেও নানা টালবাহানা করছেন চেয়ারম্যান।
অডিট রিপোর্ট সূত্রে আরও জানা যায়, বিভিন্নভাবে মামলা পরিচালনার জন্য কুদরত ই এলাহি আইনজীবীর খরচ হিসাবে ৩ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এ অবিশ্বাস্য লেনদেন নিয়ে সমবায় কর্মকর্তারাও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না স্থানীয় অফিসের কর্মকর্তারা।
আরমান কবীরঃ জামালপুরে বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জুন) সকাল বেলা পৌনে ১২ টায় টাঙ্গাইল জেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলানিউজের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি সুমন কুমার রায়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এড.জাফর আহমেদ, একুশে টেলিভিশনের প্রতিনিধি কাজী তাজউদ্দিন রিপন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি মামুনুর রহমান মিয়া, নয়াদিগন্তের প্রতিনিধি মালেক আদনান প্রমূখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা এমন নির্মম ঘটনা ঘটাতে সাহস পেয়েছে। বক্তারা নাদিম হত্যার সুষ্ঠ বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
মানববন্ধনে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিল।
আরমান কবীরঃ সরকারের সাম্প্রতিক নির্বাচন ব্যবস্থা অনেকটা ভালো উল্লেখ করে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে বিদ্যমান আইনে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ত্যাগ করার কোন সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইচ্ছে করলে সব মন্ত্রী বাদ দিয়ে আরও ১০০ জনকে মন্ত্রী বানাতে পারেন। একজন পাগলকেও মন্ত্রী বানাতে পারেন। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগ করার কোন সুযোগ নেই। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র রুটিন ওয়ার্ক করবেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবেন। সরকারের সকল কর্মকর্তারা ইসির অধীনে থাকবে।
আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামি জাতীয় সংবদ নির্বাচনে কোনো জোটে যাবো কি না জানি না। তবে বিএনপির সাথে কোনো নির্বাচনী জোটে যাবেন না।
তিনি বলেন, আমি সব সময় গণমানুষের পক্ষে বা ন্যায় সংগত কারণের পক্ষে কথা বলে থাকি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলে পৃথিবীর কোথাও কোনো সরকার নেই। কিন্তু বাংলাদেশে হয়েছিল। এখন সংবিধানে নাই। এরশাদকে বাধ্য করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার করা হয়েছিল। রাজনীতিতে আন্দোলনের মাধ্যমে বাধ্য করতে পারলে সেখানে সবই আইন আর না পারলে সবটাই বেআইনি বলেও মন্তব্য করেন। এখন দেখতে হবে বিএনপি যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনতে পারে তাহলে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবার হতে পারে। আর না হলে আমার বোনের (প্রধানমন্ত্রী) অধীনেই নির্বাচন হবে- এর কোন বিকল্প আপাতত নেই।
মহান মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তী বঙ্গবীর বলেন, একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে তাচ্ছিল্য করে কথা সমিচীন নয়- এটা কোনো সভ্যতা নয়। আবার একজন বয়স্ক নেতাকে তাচ্ছিল্য করে কথা বলাও ভালো না। আমাদের স্বাভাবিক হওয়া উচিত। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে আমরা অস্বাভাবিক হচ্ছি এবং আমাদের মান মর্যাদা নিজেরাই ক্ষুন্ন করছি। সোমবার (১২ জুন) দুপুরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম তার টাঙ্গাইলের বাসভবন ‘সোনার বাংলা’য় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বঙ্গবীর বলেন, আমেরিকার কোন মতেই এই ভিসা নীতি এই মুহূর্তে করার কোনো মানে হয় নাই। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দরকার পড়লে যাবো না সাত সাগরের ওপার। অনেকে এ কথার সমালোচনা করেছেন। যে কোন সরকার তার ইচ্ছেমত ভিসা দেয়। আমাদের প্রতিবেশি ভারত দুইজনে দরখাস্ত করলে রোগীকে ভিসা দেয় আর তার সঙ্গে যে থাকেন তাকে দেয় না। এটা তাদের ইচ্ছেমত এবং পৃথিবীর সব দেশই নিজেদের ইচ্ছেমতই ভিসা দেয়। বাইরের লোকেরা যে আমাদের দেশে আসে, আমাদের অ্যাম্বেসীগুলোও ওই একই কাজই করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এই ভিসানীতি নিয়ে কোন কথা থাকতো না। ভিসা নিয়ে কথা আসছে রাজনীতির কারণে। আমি মনে করি এই ভিসার যে কড়াকড়ি বা জাতীয় নির্বাচনে কেউ বাধা দিলে ভিসা দেওয়া হবে না, তার উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। এটা আমাদের অপমান করা ছাড়া আর কিছুই না।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা বীর প্রতীক, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ এবং জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক।
আরমান কবীরঃ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, শ্রীলঙ্কাকে ফলো করেন, দেখবেন তাদের রিজার্ভ সংকট ছিলো। তারা তেল আনতে পারেনি, কয়লা আনতে পারেনি। যার কারনে তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। এক সঙ্গে তারা বিভিন্ন পন্য ইমপোর্ট করতে পারেননি। সাধারনভাবে মানুষের মধ্যে বিরাট মূল্যস্ফীতি হয়েছিলো। সাধারণ মানুষ চাকরি হারাচ্ছিলো। সাধারণ মানুষ আয় ইনকাম হারাচ্ছিলো, সঙ্গে সঙ্গে দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতি হচ্ছিলো।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন সেই পরিস্থিতি চলছে। শ্রীলঙ্কা অনেক পন্য বাংলাদেশের চেয়ে কম দামে পাচ্ছে। আমাদের মূল্যস্ফীতি হয়েছে, আমাদের মানুষের আয় ইনকাম কমেছে, বেকারত্ব বেড়েছে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রিজার্ভ কমেছে, আমাদের ইমপোর্ট কমেছে। সব কিছু মিলে আমরা শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি চলে গেছি।
সোমবার (১২ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলে জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রধান অতিথি বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি।
জিএম কাদের বলেন, শ্রীলঙ্কার সাথে আমাদের একটি পার্থক্য আছে। শ্রীলঙ্কার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলো, সে দেশের সরকার যেভাবে ট্যাকেল দিয়েছে, তাতে প্রমাণ হয়েছে, পুলিশ যে তাদের বন্ধু, সেটাই তারা দেখিয়েছে। সেখানে বড় কোন বিরোধী দল ছিলো না। মানুষই স্বতঃস্ফুর্তভাবে নেমেছে। আমাদের দেশের মানুষ এখনও নামেনি, এটাই পার্থক্য।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান শাসন প্রদ্ধতিতে শতকরা ১০০ ভাগ শক্তি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। সেখানে নির্বাচনকালীন মন্ত্রী বা সংসদে কে কতটা আসন পেলো সেটি ম্যাটার নয়। প্রধানমন্ত্রী যদি থাকেন তাহলে নির্বাচনকালীন সরকার, সব সরকার একই ধরনের হবে।
শহরের রাইফেল ক্লাবে আয়োজিত সম্মেলনে ভিসানীতির বিষয়ে গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, আমরা ভিসানীতিকে সমর্থন করি। ভিসানীতিতে যা বলা হয়েছে তা জনগনের পক্ষে বলা হয়েছে, বিপক্ষে নয়। অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন যারা বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের সে দেশে ঢুকতে দেয়া হবে না। সেখানে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থাকবে। এখানে অখুশি হওয়ার মতো কিছু দেখি না, সরকারও এখানে অখুশি হননি। অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন কেউ চায় না এ কথা প্রকাশ্যে কেউ বলছেন না। মনে মনে কেউ বলতে পারেন।
জিএম কাদের আরও বলেন, মুক্তিযদ্ধের সময় আমরা একটা পোস্টার দিতাম, সোনার বাংলা শ্মশান কেন ? এখন মনে হয় সোনার বাংলা মরুভূমি কেন ? পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই খাবার নেই। মরুভূমি না এটি।
তিনি বলেন, আমরা অনেক কিছুইতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এবার হয়েছি মাদক দ্রব্য সংক্রান্ত অর্থ সরবরাহ কাজে এশিয়ায় প্রথম আর বিশ্বে পঞ্চম হয়েছি। বিদেশী একটি সংস্থার জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্যে জানানো হয়েছে এ সংক্রান্ত কাজে পাঁচ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ হয়েছে।
জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আব্দুস ছালাম চাকলাদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল কাশেম, রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, ঢাকা বিভাগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা প্রমুখ।
এসময় জাতীয় পার্টির জেলা ও উপজেলা নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারি চালিত অটোভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভ্যান চালক নিহত হয়েছে।
শনিবার (১০ জুন) রাতে উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের রক্তিপাড়া তারা ফিলিং স্টেশনের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ভ্যান চালকের নাম আ. সোবহান (৭০)। তিনি উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের রক্তিপাড়া গ্রামের মৃত কাইঞ্চা শেখের ছেলে।
এই ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ও অপর মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছে।
গুরুতর আহতরা হলেন, মোটরসাইকেল চালক উপজেলার কাকরাইদ গ্রামের মোঃ আশরাফুল ইসলামের ছেলে মোঃ বিপ্লব(২২) ও মোটরসাইকেল আরোহী ঘাটাইল উপজেলার টিলা বাজার গ্রামের মোছাঃ আনজুম (২০)
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার রাত ৯ টার দিকে ভ্যানচালক সোবাহান ভ্যান নিয়ে রক্তিপাড়া নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। এসময় অপরদিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ভ্যানটির মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক সোবাহান নিহত হয়।
এসময় স্থানীয়রা মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে কত্যর্বরত চিকিৎসক আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মুরাদ হোসেন জানান, রাত ৯টার দিকে রক্তিপাড়া এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যান চালক মারা যায়। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনা হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষনিকভাবে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পথসভা করেছে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাদুসুল হক মাসুদ।
শনিবার (১০ জুন) বিকেলে উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার উপলক্ষে এই পথসভার আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ (ভূঁঞাপুর-গোপালপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, গোপালপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক লুৎফুর রহমান, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সরন দত্ত, যুগ্ম সম্পাদক সাহিনুল ইসলাম তরফদার বাদল, ভূঞাপুর পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল বাছেদ মিঞা, অজুর্না ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মোল্ল্যা, গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকরাম উদ্দিন তারা মৃধা, সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিন, গোপালপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান আজাদ প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে উপজেলার আলমনগর, মির্জাপুর ইউনিয়ন ও গোপালপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাধারণ মানুষজনের মাঝে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড নিয়ে তৈরি করা লিফলেট বিতরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ দেশব্যাপী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুতখাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদে অবস্থান ধর্মঘট করেছে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি।
বৃহস্পতিবার(৮ জুন) দুপুরে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের রেজিস্ট্রিপাড়ায় সিলমি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।
এই অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দেশটা চোরে ভরে গেছে আমরা শহরে দুই চার ঘন্টা বিদ্যুত পেলেও গ্রামে তাউ পাচ্ছে না। আগামী তিন দিনের মধ্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত ব্যবস্থা না করা হলে জেলার সকল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বক্তারা আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এদেশে কোন নির্বাচন হবে না। আর জোর করে নির্বাচন দেয়ার চেষ্টা করলে আমরা যে কোন কিছুর বিনিময়ে তা প্রতিহত করবো।
এই কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু, জেলা বিএনপি নেতা জিয়াউল হক শাহীন, আবুল কাশেম, আতাউর রহমান জিন্নাহ, শ্রমিকদল নেতা একেএম মনিুরুল হক, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম ঝলক, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সাধারন সম্পাদক আব্দুর রৌফ, শহর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান আলিম, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি শাহ আলম, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভ প্রমুখ।
এছাড়া বিএনপির সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ মা–বাবা মোটরসাইকেল কিনে দিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু কিশোর সাব্বির আলম (১৭) নাছোড়বান্দা। ছেলের জেদে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল কিনে দেন বাবা। এরপর ছয় মাসও যায়নি। শখের সেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই প্রাণ গেল সাব্বির আলম ও তাঁর বন্ধু হামিদের (১৭)। ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় সাব্বিরের মা–বাবা। হামিদের বাড়িতেও চলছে মাতম।
সাব্বিরদের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার টেপিকুশারিয়া গ্রামে। সে ঘাটাইল জিবিজি সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. সুরুজ্জামান পেশায় রংমিস্ত্রি। মা গৃহিণী। সাব্বিরের বন্ধু হামিদ পার্শ্ববর্তী মানিকপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। সে ছনখোলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
সাব্বিরের বাবা মো. সুরুজ্জামান কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ছেলেরে শখ পূরণ করতে মোটরসাইকেল কিইনা দিলাম, সেই মোটরসাইকেলেই তাঁর জীবন গেল।’
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত রোববার(৪ জুন) সকালে সাব্বির তাঁর বন্ধু হামিদ ও সাদিককে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হয়। তারা মধুপুরের রাবারবাগান এলাকায় ঘুরে বাড়ির দিকে ফিরছিল। পথে মধুপুরের মহিষমারা ইউনিয়নের হাজিবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলে সাব্বির ও হামিদ নিহত হয়। অপর বন্ধু সাদিক আহত হয়। তবে সে শঙ্কামুক্ত।
মধুপুর থানায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার সন্ধ্যায় সাব্বিরের লাশ টেপিকুশারিয়ায় তাদের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। হামিদের লাশ নেওয়া হয় মানিকপুরের গ্রামের বাড়িতে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রোকিবুল ইসলাম জানান, এ সময় উভয়ের বাড়িতে স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে। উভয়ের বাড়িতে করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়। গ্রামের মানুষ তাদের লাশ দেখতে ভিড় করে। সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে নিজ নিজ গ্রামে তাদের দাফন করা হয়।
নিহত সাব্বিরের চাচা নুরুল ইসলাম বলেন, সাব্বির ছিল মা–বাবার বড় সন্তান। তার সাত বছর বয়সী আরেক ভাই রয়েছে। নিহত হামিদের ছোট এক বোন ও এক ভাই রয়েছে। ছোট ভাইটি মানসিক প্রতিবন্ধী।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, ঘাটাইল ও মধুপুর এলাকায় কিশোর মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ঘাটাইল থানা সূত্র জানায়, সাব্বির, হামিদ ছাড়াও গত ১৯ মাসে ঘাটাইলে অন্তত ১০ জন কিশোর-যুবক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। তারা সবাই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঘাটাইল উপজেলার গুণগ্রামে দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কা লাগে। এতে ওই মোটরসাইকেল আরোহী সোনা মিয়া (২০), শামীম (২২) ও আলমগীর (৩০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তাঁরা ঘাটাইলে একটি ওয়ার্কশপের শ্রমিক ছিলেন।
২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর একই সড়কের ঘাটাইলের বানিয়াপাড়া এলাকায় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী সাকিম হাসান (১৭) ও সুমন (১৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তাঁরা দুজনেই ঘাটাইল গণ উচ্চবিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর ঘাটাইলের ধলাপাড়া চেয়ারম্যানবাড়ির মোড়ে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তিনজন স্কুলছাত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তারা হচ্ছে শরীফ (১৬) আবু বক্কর (১৭) ও সাইম (১৬)।
এ ছাড়া প্রতিনিয়ত ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যেসব দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে না, তার রেকর্ড থানা পর্যন্ত আসে না বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ঘাটাইলে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বেশি মোটরসাইকেল চললেও এখানে ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্টের পদে কোনো কর্মকর্তা নেই। ট্রাফিক বিভাগ একজন শহর উপপরিদর্শক (টিএসআই) ও তিনজন ট্রাফিক কনস্টেবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের কার্যক্রম উপজেলা সদরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
এ ছাড়া প্রতিনিয়ত ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যেসব দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে না, তার রেকর্ড থানা পর্যন্ত আসে না বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন, অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। স্কুল–কলেজপড়ুয়া সন্তানদের মোটরসাইকেল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।