একতার কণ্ঠঃ সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি নাবিক টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙা গ্রামের সাব্বিরের বাড়িতে নেই ঈদের প্রস্তুতি। অপহৃত হওয়ার পর থেকেই ছেলের মুক্তির সংবাদের অপেক্ষায় সময় পার করছেন সাব্বিরের বৃদ্ধ মা-বাবা।
বাড়িতে বসে নামাজ আদায় করে তাদের সন্তানকে ফিরে পেতে আল্লাহর নিকট দোয়া করে সময় পার করছেন তারা। আর মাঝে মধ্যেই ছেলের ছবি এবং মোবাইলে কোনো সংবাদ এলো কিনা তা দেখছেন। অপেক্ষার প্রহর যেন তাদের শেষ হচ্ছেই না। তারা চান ঈদের আগেই যেন তাদের সন্তানের মুক্তি মেলে।
গতবছরও পরিবারের সাথে ঈদ পালন করেছেন সাব্বির। কিন্তু এ বছর জাহাজ ছিনতাই হওয়ার পর সাব্বিরের ভাগ্যে কী ঘটছে সেই শঙ্কায় ঈদের আনন্দ নেই তার পরিবারের মাঝে। সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে ভারত মহাসাগর থেকে জিম্মি হন বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ জন নাবিক। এদের মধ্যে অন্যতম টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙা ধলাপাড়া গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে সাব্বির। জাহাজটি অপহরণের পর থেকে বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা ছেলের অপেক্ষায় পথের দিকে তাকিয়ে আছেন। ঈদের আগেই সরকার বা জাহাজ মালিকদের পক্ষ থেকে সু-সংবাদের অপেক্ষায় বন্দি নাবিক সাব্বিরের বাবা-মা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাব্বির জেলার নাগরপুরের সহবতপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করে। পরে টাঙ্গাইল শহরের কাগমারির সরকারি এম এম আলী কলেজ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসএসসি পাস করে ভর্তি হন চট্রগ্রাম মেরিন একাডেমিতে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে পাস করে সর্বশেষ গত বছরের ২০২২ সালের জুন মাসে এমভি আব্দুল্লাহ নামক পণ্য বহনকারী একটি জাহাজে মার্চেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তিনি।
সাব্বিরের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর ছেলেই ঈদের কেনাকাটা করলেও এবার কিছুই হয়নি তাদের। ছেলের সুস্থতা আর নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষা করছে তার বাবা-মা। জলদস্যুরা কথায় কথায় মাথায় বন্দুক ধরে, জাহাজে খাবার সংকট, পানি সংকটসহ এমন নানা দুশ্চিন্তায় আরও ভেঙে পড়েছেন তারা। সন্তানের ভালো সংবাদের অপেক্ষা আর শেষ হচ্ছে না তাদের।
সাব্বিরের বাবা হারুন অর রশিদ বলেন, জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার পর একদিন ছেলের সাথে কথা বলেছিল। তারপর আর কথা হয়নি। আমি ও আমার স্ত্রী ফোন হাতে নিয়ে বসে থাকি কখন সাব্বির কল দিয়ে বলবে ভালো আছি চিন্তা করো না তোমরা। আমার ছেলের সাথে গতবছর এক সাথে ঈদ করেছি। এবারও আশায় আছি, জানি না করতে পারবো কি না। সরকারের কাছে দাবি অতি দ্রুত আমার ছেলেসহ সবাই বাবা-মায়ের কোলে ফিরে আসুক।
সাব্বিরের মা সালেহা বেগম বলেন, গতবার আমার ছেলে আমাদের সাথে ঈদ করেছিল। এবার আমার ছেলে ঈদ করতে পারবে কি না আমাদের সাথে জানি না। এ বলেই কান্না করতে করতে বলেন, আমরা কোন কিছু চাই না আমার ছেলেকে চাই। আমরা ছেলের সাথে ঈদ করতে চাই। ছেলে বাড়ি না আসলে আমাদের আর ঈদ করা হবে না। সরকারের কাছে আবেদন ঈদের আগেই যেন আমার ছেলেসহ সবাইকে ছাড়িয়ে আনে।
সাব্বিরের বোন মিতু আক্তার বলেন, যখন তারা দস্যুদের কবলে আটক হয় তখন বলেছিল ২০ থেকে ২২ দিনের খাবার আছে। তারপর আর কথা হয়নি আমার ভাইয়ের সাথে। কেমন আছে তাও বলতে পারবো না। সারাক্ষণ চিন্তায় থাকি আমরা। সরকারের কাছে দাবি আমার ভাইকে ঈদের আগে ফিরিয়ে আনার হোক।
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, সাব্বিরের পরিবারের সাথে খোঁজ খবর রাখছি। ঈদ উপলক্ষে তাদের বাড়িতে ঈদ উপহার পাঠানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলের জিম্মির খবর শুনে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন তার প্যারাইলাইজড বাবা হারুন অর রশিদ। পাশেই বিলাপ করে কাঁদছেন মা সালেহা বেগম। একমাত্র বোন মিতু আক্তার বুকে পাথর বেঁধে ভাইয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে বেড়াচ্ছেন।
তাদের আহাজারি দেখে প্রতিবেশী-আত্বীয়স্বজনরা ছুটে এসেছেন। যে যার মতো করে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারের একমাত্র ছেলের এমন দশায় সান্ত্বনা কি আর তাদের আশ্বস্ত করতে পারে? তাদের মুখে শুধু একটাই দাবি, সরকার যেন দ্রুত সাব্বিরসহ সব জিম্মিকে মুক্ত করে আনে।
জানা গেছে, ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ জন নাবিকের একজন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গা ধলাপাড়া গ্রামের সাব্বির হোসেন।
সাব্বির উপজেলার সহবতপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর টাঙ্গাইলের সরকারি এম এম আলী কলেজ (কাগমারি) থেকে ২০১৬ সালে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে ২০২২ সালের জুন মাসে এমভি আব্দুল্লাহ নামক পণ্যবাহী জাহাজে মার্চেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।
সাব্বিরের চাচাতো ভাই আহম্মেদ হোসেন রানা জানান, সাব্বিররা এক ভাই এক বোন। বোনের বিয়ে হয়েছে। সাব্বির অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে। তার বাবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে প্যারাইলাইজড হয়ে শয্যাশায়ী। সাব্বিরের চাকরি হওয়ার পর তার মা শয্যাশায়ী স্বামীকে নিয়ে সহবপুর তার বাবার বাড়িতে থাকেন। সংসার চলে সাব্বিরের উপার্জনে। সরকারের কাছে দাবি জানাই সাব্বিরসহ সবাইকে যেন জিম্মি দশা থেকে দ্রুত মুক্ত করা হয়।
সাব্বিরের বোন মিতু আক্তার বলেন, এক মাস আগে বাড়ি এসেছিল আমার ভাই। একদিন থেকেই চলে গেছে। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সকাল থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়ার খবর পেয়ে আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। বাবা মা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তারা শুধু কেঁদেই চলছে আর বলছে আমার ছেলেকে এনে দাও। আমার একমাত্র ভাইয়ের কিছু হলে বাবা মাকে বাঁচানো যাবে না। অতি দ্রুত আমার ভাইকে মুক্ত করে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
একতার কণ্ঠঃ সম্প্রতি টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই (জিওগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশন) বা ভৌগলিক নির্দেশক পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের হস্ত শিল্প দফতর। এরপরেই তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে।
এরইমধ্যে বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে টাঙ্গাইল শাড়িকে স্বীকৃতি দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর (ডিপিডিটি)।
বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোমধ্যে ভারত টাঙ্গাইল শাড়িকে তাদের জিআই পণ্য ঘোষণা করায় আইনগত বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থা বা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে (ডাব্লিউআইপিও) সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।
এরআগে, মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেতে মন্ত্রণালয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম।
গেল ২ জানুয়ারি ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির ভৌগলিক নির্দেশকের সত্ত্ব পেয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার ফুলিয়া। আর এটাও সত্য যে, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি পৃথিবী বিখ্যাত এবং সবারই জানা এর ভৌগলিক অবস্থান বাংলাদেশেই।
এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ফুলিয়ার তাঁত শিল্পীরাও বিব্রত। যেমন- ২০২১ সালে তাঁত শিল্পের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বীকৃতি পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত তাঁত শিল্পী বীরেন কুমার বসাক, যার পূর্বপুরুষের বাড়ি বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে, তিনিও কিছুটা অবাক হয়েছেন।
তার ভাষায়, ‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দুই সরকারের দেখা উচিত।’ তবে তিনি যোগ করেন, ‘যেহেতু ফুলিয়া-টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়িতে জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই তারা এটা নিয়ে খুশি।’
বীরেন কুমার বসাক নিজেই স্বীকার করে বললেন, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির উৎস বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের জেলাতেই। আর ফুলিয়ার প্রায় সব তাঁতিই এসেছেন পূর্ববঙ্গ থেকে।
ফুলিয়া প্রগতিশীল তন্তুবায় সমিতির কর্মকর্তা অশ্বীনি কুমার বসাক জানালেন, মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন ফুলিয়াতে। এসে যুক্ত হয়েছেন তাঁত শিল্প উন্নয়নের কাজে। এই সমবায়ে প্রায় ৪০৫ জন তাঁত শিল্পী রয়েছেন। যদিও করোনার পর অনেকেই এখন এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির জিআই পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে খোদ টাঙ্গাইলে তার বন্ধু-স্বজনরাও ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়িকে ভারতের দাবি করে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি নেওয়ার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুসে ওঠছে জেলাবাসী। দ্রুত ভারতের জিআই বাতিল করে বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে ‘টাঙ্গাইল শাড়ি’কে জিআই স্বীকৃতির দাবি করেছে জেলার ব্যবসায়ী ও সুধীজনরা।
ভারতের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) করা একটি পোস্টে বলা হয়- ‘টাঙ্গাইল শাড়ি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ভূত, একটি ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা মাস্টারপিস। এর মিহি গঠন, বৈচিত্র্যময় রং এবং সূক্ষ্ম জামদানি মোটিফের জন্য বিখ্যাত এটি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। টাঙ্গাইলের প্রতিটি শাড়ি ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে দক্ষ কারুকার্যের নিদর্শন।’
এরপর থেকে টাঙ্গাইলসহ সারাদেশে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। জেলা সদর সহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের সচেতন মহল ইতোমধ্যে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এ বিষয়ে জরুরি সভা করে মন্ত্রণালয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক।
টাঙ্গাইল শাড়ি বাংলাদেশি পণ্য হিসেবে জিআই স্বীকৃতির দাবিতে শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’- এর ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনকারীরা ‘টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ি, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য’, ‘নদী-চর খাল-বিল গজারির বন, টাঙ্গাইলের শাড়ি তার গরবের ধন’, ‘আমার ঐতিহ্য, আমার অহঙ্কার’, ‘টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ির জিআই স্বীকৃতি চাই’- ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়ান।

ওই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুঈদ হাসান তড়িৎ, আরিফুজ্জামান সোহেল, সমাজকর্মী নাজিউর রহমান আকাশ, মির্জা রিয়ান, আহসান খান মিলন, স্মরণ ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, টাঙ্গাইল শাড়ি বাংলাদেশের বিখ্যাত শাড়ি। ভারতীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল পেজে এই টাঙ্গাইল শাড়ি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ভূত একটি ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা মাস্টারপিস বলা হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করি।
সরেজমিনে টাঙ্গাইল শাড়ির সঙ্গে জড়িতরা জানায়, প্রায় ২০০ বছর ধরে ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক-বাহক টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ি। যা নিজস্ব ঐতিহ্য বহন করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুনাম কুড়িয়েছে। এছাড়া ‘নদী-চর খাল-বিল গজারির বন, টাঙ্গাইল শাড়ি তার গরবের ধন’ এ স্লোগানের আলোকেই টাঙ্গাইলের মানুষের জীবনাচরণ চলমান। টাঙ্গাইল শাড়ি সদর উপজেলার বাজিতপুর, কৃষ্ণপুর, দেলদুয়ারের পাথরাইল, চন্ডী, কালিহাতীর বল্লা, রামপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়। তবে দেলদুয়ারের পাথরাইল টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী হিসেবে খ্যাত।

বল্লা এলাকার সুতা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোস্তফা আশরাফী ও সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হাসান ভারতের কড়া সমালোচনা করে জানান, প্রায় আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্য টাঙ্গাইল শাড়ি। এ শাড়ি টাঙ্গাইলেই অসাধারণ কারুকার্য ও সুক্ষ্ম নিপুনতায় অত্যন্ত দরদ দিয়ে তৈরি করা হয়। টাঙ্গাইল শাড়ির স্বত্ব শুধুমাত্র টাঙ্গাইলের তাঁতিদের। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার টাঙ্গাইল শাড়ির ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি দিয়ে ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ির স্বত্ব ছিনতাই করার দুঃসাহস দেখিয়েছে।
টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী খ্যাত পাথরাইলের শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, টাঙ্গাইল শাড়ি বলতে টাঙ্গাইলকেই বোঝায়। টাঙ্গাইলের নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া টাঙ্গাইল শাড়ির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ভিন্ন মান ও ভিন্ন দক্ষতায় টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরি হয়। এই দক্ষতায় অন্য জায়গায় শাড়ি তৈরি হলেও সেটা টাঙ্গাইল শাড়ি না। অন্যরা টাঙ্গাইল শাড়িকে নিজের দাবি করে জিআই ট্যাগ নেওয়া- এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়ে এর বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক কবি মাহমুদ কামাল জানান, স্বাধীন বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা টাঙ্গাইল। কয়েকশ’ বছর আগে থেকে টাঙ্গাইল শাড়ি পৃথিবী বিখ্যাত। এ শাড়ির অন্য দেশের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। ওই দেশের জিআই স্বীকৃতি বাতিল করে বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান তিনি।
টাঙ্গাইল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ আর্টিজেন্স ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন লিমিটেড এবং বল্লা এলাকা তন্তুবায় সমবায় সমিতির সভাপতি মোফাখখারুল ইসলাম জানান, প্রাচীণকাল থেকে টাঙ্গাইল শাড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাঁতিদের সুক্ষ্ম দক্ষতায় সুনিপুনভাবে তৈরি হচ্ছে। ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে দেশভাগের পর টাঙ্গাইলের তাঁতিদের কেউ কেউ ভারতে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছে। সেখানেই তারা আদি পেশা ‘তাঁত শিল্পের’ কাজ করছে। তাই বলে টাঙ্গাইল শাড়ি কখনোই সেদেশের হতে পারেনা। দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের জোরে টাঙ্গাইল শাড়ি দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। যারা ওই দেশে রয়েছে- তারাও শাড়ি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে- এটা যেমন সত্য, তেমনি টাঙ্গাইল শাড়ি টাঙ্গাইলেরই সম্পত্তি- এটাও ধ্রুব সত্য। তিনি ওই দেশের জিআই স্বীকৃতি বাতিল করে বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইল শাড়ি, মধুপুরের আনারস ও জামুর্কির সন্দেশ জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেতে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এটা যে এখানকার অর্জন, সেটার ৫০ বছরের সুদীর্ঘ ধারাবাহিকতা দিতে হয়। অথচ টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ি আড়াইশ’ বছরের পুরাতন। টাঙ্গাইল শাড়ি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার রাখে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া ২০১৭ সালে টাঙ্গাইল শাড়ি সরকার কর্তৃক ব্র্যান্ডিং হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভারত যে ঘটনাটা ঘটিয়েছে, তারা ডকুমেন্টেশনে উল্লেখ করেছে- পাথরাইলের বসাক পরিবারের আদি পুরুষরা সেখানে গিয়ে তাঁত শাড়ির পাড়ের ডিজাইন চেঞ্জ করে একটা ভিন্ন প্রকার উদ্ভাবন করেছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে স্টাডি করা শুরু হয়েছে। তিনি জেলা প্রষশাসকের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভা করেছেন। মন্ত্রণালয় টু মন্ত্রণালয় কথা বলে এ বিষয়ে কীভাবে আবেদন করা যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও আপিল করার সুযোগ থাকলে সে বিষয়েও কথা বলা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক।
এ সময় তিনি বলেছেন, কুমুদিনী কমপ্লেক্সে অবস্থিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলি খুব ভাল কাজ করছে। এখানকার প্রতিষ্ঠানগুলো দেখে আমি খুবই মুগ্ধ।
শনিবার(১২ আগষ্ট )সকালে কুমুদিনী কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন ব্রিটিশ হাই কমিশনার।
সাংবাদিকরা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে এড়িয়ে যান ব্রিটিশ হাই কমিশনার।
এ সময় কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান।
কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক শ্রীমতি সাহা, সম্পা সাহা, মহবীর পতি, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আব্দুল হালিম, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, কুমুদিনী হাসপাতালের ডেপুটি ম্যানেজার (অপারেশন) অনিমেষ ভৌমিক লিটন উপস্থিত ছিলেন।
কুমুদিনী কমপ্লেক্স বাংলাদেশের জনকল্যাণমূলক সংগঠন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সদরদপ্তর।
উল্লেখ্য,শিল্পপতি সমাজসেবক শহীদ রণদা প্রসাদ সাহা ১৯৪৭ সালে মা কুমুদিনীর স্মরণে এ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় থেকে এ সংস্থা বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রধান জনকল্যাণকর কার্যক্রমগুলো হল-কুমুদিনী হাসপাতাল (মির্জাপুর), নার্সিং স্কুল, মহিলা মেডিকেল কলেজ, ভিলেজ আউটরিচ প্রোগ্রাম, ভারতেশ্বরী হোমস, ট্রেড ট্রেনিং স্কুল, কুমুদিনী হ্যান্ডিক্রাফ্টস প্রভৃতি।
মানব সেবায় অবদানের জন্য ১৯৮৪ সালে এটিকে ‘সমাজসেবায়’ স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ ২৫তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরি ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস টিমে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামানগুমে যাচ্ছেন টাঙ্গাইলের মো. সোলায়মান হোসেন।
বাংলাদেশের কন্টিনজেন্টের সদস্য হিসেবে শুক্রবার (২৮ জুলাই) রাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন সোলায়মান হোসেন।
আগামী ১ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরির এই আসরে বিশ্বের ১৫৮টি দেশের ৪৩ হাজার ২৮১ জন স্কাউট এতে অংশ গ্রহণ করবেন। বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট থেকে মোট ৭১০ জন স্কাউট, রোভার স্কাউট, ইয়াং অ্যাডাল্ট ও অ্যাডাল্ট লিডার অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছেন যার মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস টিমের সদস্য রয়েছেন ২২০ জন।
জাম্বুরির ক্যাম্পের দৈর্ঘ্য ৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ২ কিলোমিটার।
সোলায়মান বেতার শ্রোতা সংগঠন সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশ জেলা শাখার সভাপতি ও মধুপুর রাণী ভবানী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন স্কাউট ও টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রোভার স্কাউট গ্রুপের সাবেক সিনিয়র রোভার মেট।
মো. সোলায়মান হোসেনের সাফল্যে তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ বেতারের সাবেক পরিচালক ড. মির শাহ আলম, ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও রেডিও এক্টিভিস্ট দিদারুল ইকবাল, ভাইস চেয়ারম্যান তাছলিমা আক্তার লিমা, উপদেষ্টা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া এবং মহাসচিব নুর মোহাম্মদ, ক্লাবের শিশু সদস্য লাবীব ইকবাল।
ক্লাবের চেয়ারম্যান দিদারুল ইকবাল বলেন, স্কাউটের বিশ্ব আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা অত্যন্ত সৌভাগ্যের ও গর্বের। সোলায়মানের এই সাফল্য ভবিষ্যতে ক্লাবের মুক্ত স্কাউট দলের সদস্যদের অনুপ্রাণিত করবে। ক্লাবের
প্রধান উপদেষ্টা ড. মির শাহ আলম বলেন, যারা স্কাউটিং এর সাথে জড়িত শুধু তারা নয় স্কাউটে যুক্ত নয় তারাও এতে উদ্ধুদ্ধ হয়ে স্কাইটিংয়ে সম্পৃক্ত হবে।
মো. সোলায়মান হোসেন বলেন, এ ধরনের বিশ্ব আসরে বাংলাদেশের হয়ে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে চাই।
প্রসঙ্গত, মো. সোলায়মান হোসেন এই নিয়ে তৃতীয়বার বিদেশে আন্তর্জাতিক ক্যাম্পে অংশ গ্রহনের সুযোগ পেলো। আগামী ১৪ আগস্ট তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ থেকে চলতি বছর এখন পর্যন্ত (১১ জুন রাত ১টা ৫৯ মিনিট) ৭০ হাজার ২৫৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯ হাজার ৩৫০ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী ৬০ হাজার ৯০৬ জন। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮ হাজার ৩৫৭টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।
হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরব সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে হেল্পডেস্ক।
এদিকে হজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১০ জন হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আট জন পুরুষ ও দুই জন নারী। তারা সবাই মক্কায় মারা গেছেন। সবশেষ ৬ জুন মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মো. শহীদুল আলম (৬৭) ।
সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ জুন হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী হজ এজেন্সির সংখ্যা ৬০৩টি। হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে ২১ মে। শেষ হজ ফ্লাইট ২২ জুন। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ২ জুলাই আর শেষ ফিরতি ফ্লাইট ২ আগস্ট।
একতার কণ্ঠঃ: আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় আবারো বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশের হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম।
এবার ২৬ তম দুবাই আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রথম হলেন তাকরিম।
প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছেন ইথিওপিয়ার আব্বাস হাদি ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন সৌদি আরবের খালিদ সুলাইমান।
মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল)বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় প্রথম স্থান অধিকারী হিসেবে তাকরিমের নাম ঘোষণা করা হয়।
হাফেজ তাকরিমের হাতে পুরস্কার তুলে দেন দুবাইয়ের শেখ পরিবারের সদস্য শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ মুহাম্মদ আল মাকতুম। উপস্থিত ছিলেন কুরআন প্রতিযোগিতার ভাইস প্রেসিডেন্ট সায়েদ হারেব-যাযাদি
তাকরিমের প্রথম স্থান অর্জন করার বিষয়টি ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন মারকাযু ফয়জিল কুরআনের শিক্ষক হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
হাফেজ তাকরিম মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী ঢাকা-এর কিতাব বিভাগের ছাত্র ও টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নের ভাদ্রা গ্রামের হাফেজ আব্দুর রহমানের ছেলে।
এ বছরের ১২ জানুয়ারি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক নির্বাচনী পরীক্ষায় একদল বিজ্ঞ বিচারক মণ্ডলির রায়ে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত হয় তাকরিম।
এবারের প্রতিযোগিতায় শুধু তাকরিম-ই দেশের নাম উজ্জ্বল করেনি। দুবাইয়ের এই প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ছিলেন শায়খ শোয়াইব মোহাম্মদ আলআজহারি নামে এক বাংলাদেশী আলেম।
প্রতিযোগিতার মূল পর্বে নিয়ম অনুযায়ী, তিলাওয়াতের সময় একাধারে পাঁচটি প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর দেন হাফেজ তাকরিম। কোনো প্রশ্নের উত্তরের ক্ষেত্রে ভুল হয়নি তার। মিষ্টি মধুর কন্ঠে তার তিলাওয়াত শুনে বিচারকেরা মুগ্ধ হয়ে পড়েন।
এর আগে বাংলাদেশের হাফেজ সালেহ আহমেদ তাকরিম সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
এছাড়াও গত মার্চে ইরান আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজ সালেহ আহমেদ তাকরিম প্রথম, মে মাসে লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় সপ্তম স্থান অর্জন করেন। ২০২০ সালে পবিত্র রমজান মাসে বাংলাভিশন টেলিভিশন আয়োজিত হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হোন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ তুরস্কের হাতায় প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ২৮ দিন পর তিনটি বাচ্চাসহ শিলা নামের একটি কুকুরকে বুধবার (৯ মার্চ) ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গেছে, দুই অথবা তার থেকে কম বয়সী তুরস্কের দক্ষিণ হাতায় প্রদেশের একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনটি নবজাতক কুকুরছানা ও একটি কুকুর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ২৮ দিন পর এটি উদ্ধার করা হয়।
কুকুরটির মালিক কাদির কিইফলি বলেন, কুকুরটিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনার জন্য স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউ প্রবেশ করতে পারেনি।তবে মেয়াকোর আঞ্চলিক প্রাণী উদ্ধারকারী দল সোমবার সাহায্য করেছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করার পর তারা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সেখানে দেখা গেছে, শুধু কুকুরটি আটকা পড়ে জীবিত ছিল এমনটি নয়, তিনটি কুকুরছানাও জন্ম দিয়েছে।
কুকুরের মালিক আরও বলেন, আমার কুকুরগুলো এক মাস থেকে বাইরে আছে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। শিলা ও তার ছানাকে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী শহর আদানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে গত মাসের ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ৫২ হাজারের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে।
খবর: ডেইলি সাবাহর
একতার কণ্ঠঃ সৌদি আরব আসছে রমজান মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১০ লাখ কপি পবিত্র কুরআন বিতরণ করবে। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ রোববার(৫ মার্চ) এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছেন।
আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, পবিত্র কুরআনের কপিগুলো বিশ্বের ২২টি দেশের ইসলামিক কেন্দ্রে দেওয়া হবে। প্রকল্পের অধীনে ৭৬টির বেশি ভাষায় অনুবাদ করা কুরআনের কপি থাকবে। সেই সঙ্গে কুরআনের কপির সাইজেও থাকবে ভিন্নতা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র কুরআনের কপিগুলো মুদ্রণ করেছে মদিনার বাদশাহ ফাহাদ গ্লোরিয়াস কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স।
এ বিষয়ে দেশটির ইসলাম, দাওয়াত ও দিকনির্দেশনা বিভাগের মন্ত্রী শেখ আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আল শেখ জানিয়েছেন, আসছে রমজানেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোয় কুরআনের কপিগুলো পৌঁছে দিতে চান তারা। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে পবিত্র মক্কায় ৪২তম বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন টাঙ্গাইলের হাফেজ সালেহ আহমাদ তাকরীম (১৩)।
হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম ঢাকার মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী মাদরাসার শিক্ষার্থী। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ভাদ্রা গ্রামে। তার বাবা হাফেজ আব্দুর রহমান মাদরাসার শিক্ষক এবং মা গৃহিণী।
স্থানীয় সময় বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে মক্কার পবিত্র হারাম শরিফে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এসময় তৃতীয় স্থান অর্জন করা তাকরীমকে এক লাখ রিয়াল (প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা) পুরস্কার দেয়া হয়। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হয় বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা। চূড়ান্ত পর্ব শেষ হয় বুধবার।
এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১১১টি দেশ থেকে ১৫৩ জন অংশ নেন। চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ ১৫ প্রতিযোগীকে ২৭ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়া হয়।
বাঁধ নির্মাণের কারণে তলিয়ে গিয়েছিল পানির নিচে। তবে নিমজ্জিত হওয়ার তিন দশক পর এসে এবার খরার প্রভাবে পানির নিচ থেকে জেগে উঠেছে একটি মসজিদ।
এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বিহার রাজ্যের নওয়াদা জেলার ফুলওয়ারিয়া বাঁধের কারণে তিন দশক আগে তলিয়ে যাওয়া একটি মসজিদ এবার খরার প্রভাবে জেগে উঠেছে। বাঁধের জলাধারের দক্ষিণ প্রান্তে পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর রাজৌলি ব্লকের চিরাইলা গ্রামে ওই মসজিদটির দেখা মিলেছে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৫ নালে ফুলওয়ারিয়া বাঁধ নির্মাণের পর ধীরে ধীরে পানির নিচে তলিয়ে যায় ‘নূরী মসজিদ’ নামে পরিচিত ওই মসজিদটি। মাটি থেকে ওপরের গম্বুজ পর্যন্ত মসজিদটির উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট।
কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের বরাতে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, পানির নিচ থেকে মসজিদটি জেগে ওঠার পর এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে এবং মসজিদটি দেখতে ভিড় করছেন অনেকে।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় অনেকেই মসজিদটির ভেতরে প্রবেশ করেছেন এবং তিন দশক পানির নিচে থাকার পরও মসজিদ ভবনটি সম্পূর্ণ অক্ষত দেখে অবাক হয়েছেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, কয়েক দশক ধরে ডুবে থাকার পরও এই মসজিদের কাঠামোর সামান্যতম ক্ষতিও হয়নি।
এর আগে খরার প্রভাবে পানির স্তর কমতে শুরু করলে নূরা মসজিদের গম্বুজের একটি অংশ দেখা যাচ্ছিল। তখন এটি ওই মসজিদই কি-না, তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু সম্পূর্ণ পানি শুকিয়ে গিয়ে মসজিদটি পুরোপুরি দৃশ্যমান হওয়ার পর তাদের সব কৌতুহলের অবসান হয়েছে।
জানা যায়, মসজিদটি ২০ শতকের প্রথম দিকে নির্মিত হয়েছিল এবং এটি প্রায় ১২০ বছর পুরোনো হতে পারে।