একতার কণ্ঠঃ করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সার্বিক ঝুঁকি এখনও অনেক বেশি বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বর্তমানে পাওয়া তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মঙ্গলবার(২৫ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, গত এক সপ্তাহে দুই কোটি ১০ লাখেরও বেশি লোক করোনায় সংক্রমিত হয়েছে, যা মহামারি শুরুর পর সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে গত এক সপ্তাহে করোনায় বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫০ হাজার লোক মারা গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, করোনার অন্যান্য ধরনের চেয়ে বিশ্বে এখন ওমিক্রনই তার আধিপত্য বাড়িয়ে চলেছে। ডেল্টার সংক্রমণ কমে এসেছে। আলফা, বিটা ও গামার সংক্রমণ একেবারেই নিম্নপর্যায়ে নেমে এসেছে।
তবে যেসব দেশে ২০২১ সালের নভেম্বরে ও ডিসেম্বরে ওমিক্রনের সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল সেসব দেশে এখন কমে এসেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, গত ৩০ দিনে সংগৃহীত নমুনায় ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত ৮৯.১ শতাংশ, আর ডেল্টা ধরন ১০.৭ শতাংশ।
একতার কণ্ঠঃ ঝালকাঠিতে গভীর রাতে লঞ্চে আগুন লেগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪১ জন। এদিকে সুগন্ধা নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে পোড়া লাশের গন্ধ।
বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের সুগন্ধা নদীতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ধারণা করছে লঞ্চের ইঞ্জিন রুম থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে।শতাধিক যাত্রীকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ভিবিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, লঞ্চটিতে প্রায় ৫০০ এর অধিক যাত্রী ছিল। লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর দপদপিয়া এলাকায় পৌঁছালে বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগে। পরে লঞ্চটি সদর উপজেলার দিয়াকুল এলাকায় গিয়ে নদীর তীরে নোঙর করে। খবর পেয়ে ঝালকাঠির ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরই মধ্যে দগ্ধ যাত্রীদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করছেন।
লঞ্চের যাত্রীরা জানিয়েছেন, অনেকেই লঞ্চ থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন। যাত্রীদের ধারণা হতাহতের সংখ্যা অনেক। তবে কেউ এখনো নির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
লঞ্চের যাত্রী সাইদুর রহমান বলেন, তিনি ঢাকা থেকে বরগুনা ফিরছিলেন। ঝালকাঠি লঞ্চ টার্মিনালের ঠিক আগে গাবখান সেতুর কিছু আগে লঞ্চের ইঞ্চিনরুমে আগুন লেগে যায়। এরপর সেই আগুন পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। রাত তিনটা থেকে আগুন জ্বলতে থাকে। যাত্রীরা অনেকেই নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন। অনেকে হয়তো পারেননি। লঞ্চে শিশু, বুড়ো, নারীসহ কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক যাত্রী ছিল।
তিনি আরো বলেন, পোড়া গন্ধ পেয়ে আমি ভিআইপি কেবিন থেকে বেড়িয়ে এসে দেখি লঞ্চে আগুন লেগেছে। তখন আমার স্ত্রী, শ্যালক নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রচণ্ড ঠান্ডায় নদী সাঁতরে তীরে উঠেছি। লঞ্চ ভাসতে ভাসতে কোথাও গিয়ে থেমেছে। তবে এটুকু বলছি, লঞ্চের কোনো অংশ পোড়ার বাকি নেই।
সংবাদ সূত্র-আমাদেরসময়.কম
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে আগুন লেগে অন্তত ৩৭ জন মারা গেছে।কর্মকর্তারা আশংকা করছেন, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মইনুল হক বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন লঞ্চের ভেতরে এবং বাইরে ৩৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।তিনি আরো জানিয়েছেন, লঞ্চে আগুন লাগার পরে অনেক নদীতে লাফিয়ে পড়ে। ফলে নদী থেকে এখনো মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বিবিসি বাংলাকে জানান, ‘এমভি অভিযান’ নামে একটি লঞ্চ ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশ্যে গতরাতে ছেড়ে যায়। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ভোরে লঞ্চে আগুন ধরে যায়।আহতদের বরিশাল সদর হাসপাতাল এবং স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান বিভাগীয় কমিশনার।লঞ্চটিতে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে – সেটি এখনো বলতে পারছেন না কর্মকর্তারা।

ঝালকাঠি থেকে স্থানীয় সাংবাদিক আক্কাস শিকদার বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ভোর সাড়ে তিনটার দিকে লঞ্চে আগুনের সূত্রপাত হবার খবর পান তিনি।এসময় লঞ্চ থেকে অনেক যাত্রী জীবন বাঁচানোর জন্য নদীতে লাফ দেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

এই লঞ্চটির যাত্রী ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিল বলে জানা গেছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিন রুম থেকে আগুণের সূত্রপাত হয়েছে।

যাত্রীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক আক্কাস শিকদার জানিয়েছেন, লঞ্চটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবার সময় দোতলার ডেক বেশ গরম ছিল। এনিয়ে যাত্রীরা অভিযোগ করলে লঞ্চের স্টাফরা তখন কার্পেট বিছিয়ে দেন। কিন্তু এই গরম ক্রমাগত বাড়তেই থাকে।একপর্যায়ে ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায় বলে যাত্রীদের অভিযোগ।

আহতদের মধ্যে অন্তত ৮০ জনকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে আনা হয়েছিল এর মধ্যে ২০জনকে সেখানে রেখে বাকিদের বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান সাংবাদিক আক্কাস শিকদার।
সংবাদ সূত্র- বিবিসি বাংলা( আপলোড বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা)
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল যথাযথ মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা সদরে অবস্থিত “শহীদ বেদীতে” প্রথমে জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পরে জেলা সদর রোডে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃবাংলা খবরের কাগজে তার সঙ্গে যারা কাজ করতেন, তারা চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে শান্ত, ভদ্র, এবং বিচক্ষণ তরুণ হিসেবেই জানতেন। তার চেহারা ছিল অমায়িক, মুখ ভরা ছিল ছোট করে ছাটা পরিপাটি দাড়ি। অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম বলতে ছিল—মুসলিম ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের এক নেতার সঙ্গে তার প্রায়শ ফোনালাপ।
কিন্তু গত কিছুদিনের অনুসন্ধানে জানা গেল, সেই ফোনালাপ নিছক সাধারণ কিছু ছিল না। এর সূত্র ধরেই জানা গেল এই মঈনুদ্দীন হলেন কমান্ডোর মতো গুপ্ত ঘাতক একটি সংগঠনের প্রধান যারা ঢাকায় একটি ইটভাটায় শত শত বিশিষ্ট বাঙালি অধ্যাপক, ডাক্তার, আইনজীবী ও সাংবাদিককে হত্যা করেছে।
ডিসেম্বর ১৭ তারিখে শেষ হওয়া যুদ্ধের আগের তিন দিন ধরে খাকি প্যান্ট আর কালো সোয়েটারের উর্দি পরা এই আলবদর বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করেছিল। সেই সময় যারা আটক হয়েছিলেন তারা বলেছেন, এদের লক্ষ্য ছিল বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করা, যারা পাকিস্তান থেকে একটি স্বাধীন ধর্ম-নিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে কাজ করেছেন।
অনেক বাঙালি মনে করেন তখনই যদি যুদ্ধ শেষ না হতো তাহলে আলবদর তাদের পরিকল্পনায় সফল হতো। ওই ইটভাটায় যে ১৫০টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে তাদের অধিকাংশেরই ছিল নখ উপড়ানো এবং আঙুল কাটা। ইট ভাটার কাছের মাঠেই ২০টি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে যেখানে শত শত মানুষকে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদন
এটা এখন স্পষ্ট যে আলবদর হলো বাঙালিদের দ্বারা তৈরি বাহিনী, পশ্চিম পাকিস্তানী কিংবা ভারত থেকে আসা বিহারীদের, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির উপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তাদের দ্বারা নয়।
‘পৃথিবীর এমন কিছু নেই যা আমাদের সঙ্গে ঘটেনি,’ বলছিলেন সম্পাদক এহতেশাম চৌধুরী, যার পত্রিকায় কাজ করতেন মঈনুদ্দীন।
আলবদর বাহিনী এহতেশাম চৌধুরীর ছোট ভাইকে অপহরণের পর হত্যা করে। সেদিন গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান এহতেশাম। আলবদর সদস্যরা সেই রাতে রাত বাড়িতে হানা দিয়েছিল।
যা ঘটেছে আমি যখন এটা ভাবি, আমার পা অসাড় হয়ে যায়,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি ভালো হতো, যদি তারা আমাদের নিচে চাপা পড়ে থাকত।’
এই আলবদর বাহিনী যে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ গ্রুপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সজ্জিত ছিল এ ব্যাপারে অনেক তথ্য প্রমাণ উঠে আসছে এখন।
পূর্ব পাকিস্তান গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর ডেস্কের উপর পাওয়া কিছু গোপনীয় কাগজে এই আলবদর বাহিনীর কথার উল্লেখ পাওয়া যায়। ‘ক্যাপ্টেন তাহির, আলবদরের জন্য গাড়ি’, ‘আলবদরের ব্যবহার’—তাড়াহুড়ো করে লেখা একটি কাগজের নোটে পাওয়া গেছে।
ক্যাপ্টেন তাহিরকে বলা হয়ে থাকে, রাজাকার ও বিহারী মিলিশিয়ার একজন কিংবদন্তীতুল্য পাকিস্তানী কমান্ডার যাদের মাধ্যমে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাঙালিদের উপর ত্রাস সৃষ্টি করত।
অন্য আরেকটি পাতায় লেখা রয়েছে ‘নিজাম উদ্দিন, মোটিভেটেড নিউজ’। নিজাম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন বাঙালি সাংবাদিক যিনি পাকিস্তানবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির জন্যে সুবিদিত। যুদ্ধ শেষ হওয়ার দুই দিন আগে তাকে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। এছাড়া তার নামের পাশে পেন্সিল দিয়ে অজ্ঞাত বিশেষ এক ধরনের চিহ্ন আঁকা ছিল।
তবে হত্যাকারীরা কিছু ক্লু রেখে গেছে। রাতে কারফিউ চলাকালীন তারা তাদের টার্গেটকে তুলে নিয়ে যায়। তারা কখনোই নিজেদের পরিচয় দিত না। কড়া পাহারার মধ্যে দূরে নিয়ে গিয়ে তারা হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটায়।
যুদ্ধ শেষ হবার আগের দিন ঢাকা শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে সেই ইটভাটার পাশে যে কৃষকদের বসবাস, তারা কালো সোয়েটার, খাকি প্যান্ট পরা লোকদের দেখেছেন অসংখ্য মানুষকে চোখ বেঁধে সারিবদ্ধভাবে ধরে নিয়ে যেতে। কিন্তু চোখ বাঁধা লোকগুলো কারা ছিলেন তা দেখার জন্য খুব কাছে যেতে পারেননি তারা।
হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন লোক সেখান থেকে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন এই ঘটনার কথা বলার জন্য। পরিসংখ্যানের অধ্যাপক মোহাম্মদ রউফ ১৩ তারিখ ভোরবেলা দরজায় জোরে টোকার শব্দ শুনে জেগে উঠেছিলেন। উত্তর দিয়েছিলেন তার স্ত্রী। দরজায় দাঁড়ানো ১২ জন সশস্ত্র লোককে তিনি বলেছিলেন তার স্বামী বাসায় নেই, কিন্তু এরপরও তারা জোর করে ঘরে ঢুকে পড়ে।
‘তারা আমাকে কিছুই বলেনি। যতক্ষণ না তারা তাকে (স্বামীকে) পেয়েছে ততক্ষণ ঘর তল্লাশি করেছে’ বলেন মিসেস রউফ।
‘এরপর তারা তাকে হাত পিছমোড়া করে বেঁধে নিয়ে যায়।’
ভাগ্যক্রমে, রউফ যে পেস্ট্রিশপে কেনাকাটা করতেন সেই দোকানেরই এক কর্মচারীকে তার সঙ্গে একই ঘরে বন্দী রাখা হয়। শ্রী চন্দপাল নামের পেস্ট্রিশপের সেই কর্মচারী পরে আলবদরের দলে থাকা এক বন্ধুর মধ্যস্থতায় মুক্তি পায়।
‘ওখানে ৪২ জন ছিলাম আমরা সেই রুমে’ চন্দপাল বলেন, ‘আমাদের সবার হাত ছিল পিছমোড়া করে বাঁধা এবং চোখ কাপড়ে ঢাকা। একটা পর্যায়ে আমি চোখের বাঁধন আলগা করতে পারি। সেই রুমের অধিকাংশ লোক ছিলেন পেশায় অধ্যাপক এবং ডাক্তার। সেখানকার প্রহরীরা আমাদের কিছু খেতে দেয়নি। এমনকি আমরা যখন পানি চাইছিলাম তারা হেসে বলেছিল যাও ইন্দিরা গান্ধীকে বলো।’
চন্দপাল বলছিলেন, ওদের সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের আলোচনা শুনে আলবদরের বিষয়টি বুঝতে পারেন। ‘তারা বলছিল কেন বাঙালিদের হত্যা করা দরকার। আমরা অন্য ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনছিলাম।’
‘সেই রাতে প্রহরীরা প্রফেসর রউফসহ ১০ জনকে নিয়ে যায় যারা আর ফিরে আসেননি।’
ডিসেম্বর ১৫ তারিখ যখন চন্দপাল মুক্তি পান, তখন তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন ঢাকার শারীরিক শিক্ষা কলেজের একটি ডরমিটরিতে যা আমেরিকান সাহায্যে তৈরি করা আধুনিক ভবন ছিল।
কলেজের দারোয়ান মকবুল হোসাইনও সেই রাতগুলোর কথা মনে করেন। ‘সুন্দর কাপড় পরা এবং হাত বাঁধা অবস্থায় শত শত লোককে সেখানে নিয়ে আসা হতো। ওই ঘরগুলো থেকে আমরা সব সময় আর্তনাদ আর চিৎকার শুনতে পেতাম,’ বলেন তিনি।
আলবদর নামটি নেওয়া হয়েছে মদিনার কাছে যে জায়গায় ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে মহান যুদ্ধ করেছিলেন সেখান থেকে। তার (নবীর) অসংখ্য সাহসী সেনাকে এই নাম দেওয়া হয়েছিল।
ঢাকার জেলে আটক আছেন এরকম একজনের ভাষ্য অনুযায়ী, রিপোর্টার মঈনুদ্দীন ছিলেন এই আলবদরের মূল হোতা। মঈনুদ্দীনের সঙ্গে তার ঘরেই থাকত এরকম একজনের একটি ডায়রি পাওয়া গেছে যেখানে আলবদর বাহিনীর সদস্যদের নামের তালিকা এবং তারা কত টাকা চাঁদা দিয়েছিল তা উল্লেখ ছিল।
এই দুজন যে বাড়িটিতে থাকতেন তার সামনে ছিল ঢাকার জামায়াতে ইসলামীর সদর দপ্তর। মৌলবাদীদের এই দলটি গত বছর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে এক শতাংশের কম ভোট পেয়েছিল। আলবদর বাহিনী হলো জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় এক শাখা সংগঠন যাদেরকে গত মার্চে পাক বাহিনীর দমন-পীড়ন শুরুর পর খুব সতর্কতার সঙ্গে বাছাই করা হয়েছে।
পূর্বদেশ পত্রিকার এক সহকর্মীর সঙ্গে তর্কাতর্কি হবার পর মঈনুদ্দীনকে ১৩ ডিসেম্বর শেষবারের মতো ঢাকায় দেখা গিয়েছিল। তার সেই সহকর্মীকে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আলবদর সদস্যরা তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।
সেই অফিসের আরেক কর্মী আতিকুর রহমান এখন মঈনুদ্দীনকে খুঁজতে শুরু করেছেন। রহমান বলেন, ‘আমরা তাকে খুঁজে বের করব, এর আগ পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না।’
[চৌধুরী মঈনুদ্দীন বর্তমানে যুক্তরাজ্যের নাগরিক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি হামিদুল হক চৌধুরীর মালিকানাধীন পূর্বদেশ পত্রিকায় কাজ করতেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।]
নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল ২ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে, সাংবাদিক ফক্স বাটারফিল্ড প্রতিবেদনটি লিখেছিলেন, অনুবাদ করেছেন এফ এম মিজানুর রহমান।
তথ্য সূত্রঃ দি ডেইলি স্টার অন লাইন
একতার কণ্ঠঃ উপকূলে আসার আগেই দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’। সোমবার(৬ ডিসেম্বর) নিম্নচাপটি মধ্যরাতে ভারতের ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ওই নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার দেশের বেশির ভাগ এলাকাজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামীকাল মঙ্গলবার(৭ ডিসেম্বর) থেকে দেশের বেশির ভাগ এলাকার আকাশ পরিষ্কার হতে থাকবে। ফলে তাপমাত্রা কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার রয়েছে। দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া বেড়ে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেতের আওতায় রাখা হয়েছে। সমুদ্রে অবস্থানরত নৌযান ও মাছ ধরার নৌকাগুলোকে উপকূলে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় দেশের উপকূলে বিপদ একটু কমেছে। তবে এর প্রভাবে সোমবার দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে।
চলতি মাসের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই মাসে বঙ্গোপসাগরে আরেকটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। তবে এটি বাংলাদেশ উপকূলের দিকে আসার আশঙ্কা কম। মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি এবং শেষের দিকে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর দেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে ঠান্ডা বাতাস আসা শুরু করবে। আর নদীতীরবর্তী এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে।
একতার কণ্ঠঃ বড় বড় ঢেউ তীরে এসে আছড়ে পড়ছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বেড়ি বাঁধের বাহিরে অবস্থিত পরিবার গুলো মাঝে আতঙ্ক বেড়ে গেছে। এদিকে আহাওয়া অফিস পায়রা সমুদ্র বন্দরকে স্থানীয় তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। এছাড়া সকল মাছ ধরা ট্রলার সমূহকে নিরাপাদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্নিঝড় জাওয়াদ’র প্রভাবে আকাশ ঘন মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। ফলে গত দু’দিন ধরে সূর্যের আলো দেখা যায়নি। রবিবার(৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে উপকূলীয় এলাকায় থেমে থেমে গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। আর ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। রাস্তা ঘাটে তেমন মানুষের আনা গোনাও দেখা যায়নি।
তবে আবহাওয়া আফিস সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্নিঝড় ‘জাওয়াদ’ আরও উত্তর দিকে অগ্রসর এবং দুর্বল হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এছাড়া চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে স্থানীয় তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। সকল মাছ ধরা ট্রলার সমূহকে নিরাপাদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে।
কুয়াকাটা ও আলীপুর মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি মো.আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, বর্তমানে সাগর উত্তাল রয়েছে। জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ করে ট্রলার নিয়ে আড়ৎ ঘাটে শিববাড়িয়া নদীতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এখনও বেশ কিছু ট্রলার সাগরে অবস্থান করছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সংবাদ সূত্র- আমাদের সময়.কম
একতার কণ্ঠঃ আজ বুধবার(১৭ নভেম্বর) আফ্রো-এশিয়া-লাতিন আমেরিকার মেহনতি মানুষের মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী । ১৯৭৬ সালের এইদিনে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী অধিকারবঞ্চিত অবহেলিত মেহনতি মানুষের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় আজীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। জাতীয় সংকটের প্রতিটি ক্ষণে জনগণের পাশে থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
তার মৃত্যু দিবস উপলক্ষে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল এবং রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে আলোচনার সভার আয়োজন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।
এদিন রাজধানী ঢাকা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত, অনুরাগীরা মজলুম জননেতা ভাসানীর সন্তোষের মাজারে শ্রদ্ধা জানাবেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাগপা, ন্যাপ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পুস্পস্তবক অর্পণ করবে। করোনা ভাইরাসের প্রভাব শিথিল হলেও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কর্মসূচি পালন করা হবে।
মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
একতার কণ্ঠঃ ছেলেবেলার ভুল লোকে আমলে নেয় না। বরং আদরের ছলে পিঠ চাপড়ে বলে, ‘ছোট মানুষ, বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে।’ কিন্তু ঠিক কত বড় হলে ‘সেসব’ ঠিক হয়ে যায়, সে বিষয়ে কেউ নিদান দেয় না। ধরে নেওয়া হয়, পূর্ণবয়স্ক হলে ঠিক হয়ে যাবে।
লোকসমাজের এই প্রথা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গেও বেশ মানানসই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো করতে পারছে না? হতাশ হবেন না। বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে। ধৈর্য ধরুন।
সান্ত্বনাবাণী কিংবা সুনীলের ‘কেউ কথা রাখেনি’র নাদের আলীর মতো কবিতাসর্বস্ব প্রতিশ্রুতি নয়। মরাবাড়িতে আসা প্রতিবেশীদের বাস্তব পরামর্শের মতো নিতে পারেন কথাটা।
সেই প্রার্থনার ভাষা অনেকটাই জেমসের এই গানের কথার মতো—‘সবুজ ঘাসে/একা একা/শুধু পথচলা/সারারাত তারা দেখে/নির্ঘুম ডানা মেলা/বৃষ্টির আঁধারে/অবিরাম ভিজে চলা/সব ভুলে চিৎকারে/এসো হোক প্রার্থনা/বড় হও, দীর্ঘ হও, শুধু বেড়ে ওঠো, শুধু বেড়ে…।
একটা উদাহরণ দিই। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আজ ৯ ওভারের মধ্যে ৩৬ রান তুলতে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নিঃসন্দেহে ‘নস্টালজিক পারফরম্যান্স’। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সর্বশেষ কোনো ম্যাচে ৯ ওভারের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়েছিল প্রথম সংস্করণে—২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
সে ম্যাচে ৯ ওভারের মধ্যে ৪৮ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৮৩ রানে অলআউট। এই ১৪ বছর পেরিয়ে আজ বাড়ল ১ রান—মানে ৮৪ রানে অলআউট।
এবার একটি হিসেব কষা যাক। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বয়স ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। সংস্করণটির দৈর্ঘ্য বিচারে টগবগে ‘যুবক’ বলাই যায়। তো, এই যুবক শৈশবে থাকতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেট হারানোকে কেউ ব্যর্থতার চোখে দেখেনি। ছোট মানুষ, বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে—ভেবেছেন সবাই।
দুর্ভাগ্য, সব ভাবনা বাস্তবতার আলো দেখে না। উদাহরণ রয়েছে আমাদের আশপাশেই।
এই তো আমাদের লোকসমাজেই এমন অনেক মানুষ আছেন—যাদের বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলেও মাথাটা আর বাড়ে না। নাবালকই থেকে যায়। সমাজে তাঁরা যেমন মশকরার পাত্র তেমনি দীর্ঘশ্বাসও ফেলা হয়।
তেমনি বাংলাদেশ দলও এই সংস্করণে ১৫ বছর পার করেও শৈশব (প্রথম বিশ্বকাপের স্মৃতি) ধরে রাখায় মশকরা করবেন না দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন, তা একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে বাস্তবতাকে এড়িয়ে চলার সুযোগ তো নেই। এই ম্যাচের বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশ দলের বয়স কমছে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সে ম্যাচে ৮.১ ওভারে ৪০ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অনেক জল গড়িয়েছে পদ্মা-মেঘনা-যমুনায়, বাংলাদেশ দল বড় হয়ে ওঠার বেগ বাড়াতে খেলোয়াড় পাল্টিয়েছে এন্তার, কিন্তু চাইলেই তো সব হয় না। তাহলে পৃথিবীতে ‘বুড়ো খোকা’ শব্দটা থাকত না। (সমর্থকদের) প্রার্থনায় কাজ হতো।
কিছু বিষয় তো ভাগ্যের হাতে—ঠিক যেভাবে বাবা-মায়ের শত প্রার্থনার পরও গায়ে-গতরে বেড়ে ওঠা সন্তানের বুদ্ধি-সামর্থ্য হয় না। অভিজ্ঞতার যূপকাষ্ঠে পুড়ে অঙ্গার হওয়া মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর চেয়ে তা কে ভালো বুঝবে!
২০০৭ বিশ্বকাপের সে ম্যাচের দল থেকে শুধু তিনজন খেলোয়াড় এখনো টিকে আছেন টি-টোয়েন্টি দলে। এদের একজন চোটে পড়ে বিদায় নিয়েছেন এবারের বিশ্বকাপ থেকে। বাকি নাম দুটো না বললেও চলছে। শুধু তাঁদের বুদ্ধিমানের মতো কাজগুলো দেখুন।
প্রতি ম্যাচ হারের পর মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর সব রকম কথার অন্তর্নিহিত বার্তা একটাই—‘চেষ্টা তো করছি কিন্তু হচ্ছে না।’ অর্থাৎ, ভাগ্য—সেই বুড়ো খোকার ভাগ্য! শরীর ও বয়স বাড়লেও মনের তো বুদ্ধি কমছে। মুশফিক নিজে তা স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না বলেই হয়তো বুদ্ধি খাঁটিয়ে আয়নায় সবাইকে দেখে নিতে বলেছেন।
তেমন এক নস্টালজিক আয়নাতেই ধরা পড়ল সত্যটা—১৪ বছর আগের সে ম্যাচে ৮.১ ওভারে ৪০ রান তুলতে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১৪ বছর পর তেমনই এক ম্যাচে সেই ৮.১ ওভারেই বাংলাদেশের অর্জন ৫ উইকেটে ৩৪। সামর্থ্যের ‘বয়স’টা তাহলে বাড়ল না কমল?
মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর মতো সিনিয়র খেলোয়াড়েরা যেহেতু সরাসরি বলতে পারছেন না, আনুষ্ঠানিক কথার ভাঁজে ‘গোপন বার্তা’ রেখে বোঝাতে হচ্ছে—দায়িত্বটা তাই কাঁধে তুলে নিয়েছে কচি-কাঁচার দল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সে ম্যাচে ৮.১ ওভারে রান তোলার তাড়া সইতে না পেরে রানআউট হয়েছিলেন নাদিফ চৌধুরী। তখন তিনি দলের ‘নতুন কুঁড়ি’দের একজন, টি-টোয়েন্টিতে ভবিষ্যৎ হিসেবে ভাবা হয়েছে।
১৪ বছর পর আজকের ম্যাচে সেই একই পরিস্থিতিতে দলের মনের বয়সটা যে একই জায়গায় আছে, সেটাও বুঝিয়েছেন আরেক ‘নতুন কুঁড়ি’—আফিফ হোসেন।
ম্যাচ পরিস্থিতি কোনো বিষয় না, অনেকটাই বয়ঃসন্ধি কালের রোমাঞ্চের জ্বালা-পোড়া সইতে না পেরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টির ‘ভবিষ্যৎ’ প্রথম বলেই হাঁকিয়ে মারতে গিয়ে আউট।
কিন্তু এ কথাও সত্য, কেউ তো ইচ্ছে করে আউট হয় না। সমাজে যে লোকটা বুড়ো বয়সে কম বুদ্ধি-সামর্থ্যের বলি হয়ে প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সইছে, খোঁটা শুনছে —সে কী আর ইচ্ছে করে এসব করবে! মোটেও না। হয়ে যায়।
যেমন ধরুন, আজ আবুধাবির উইকেট—দক্ষিণ আফ্রিকা টস জেতার পর সবুজাভ উইকেট দেখে বোলিং নেন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। বোঝাই যাচ্ছিল, সবুজ উইকেটের পূর্ণ সদ্ব্যবহারে প্রস্তুত দুই পেসার কাগিসো রাবাদা ও আনরিখ নর্কিয়া।
প্রস্তুত ছিলেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহও। রাবাদা ও নর্কিয়ার লেংথ থেকে তোলা বলগুলো খেলতে দুজনের ঘাম ছুটলেও চেষ্টার কমতি ছিল না। কিন্তু ওই যে দুর্ভাগ্য, ব্যাটে খেলতে গিয়েও বলের ছল-চাতুরীর শিকার! ছুঁয়ে দিয়ে ‘আপন’ করেছে ফিল্ডারকে!
দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই খেলোয়াড় ১৫-১৬ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়েও যখন এমন বল সামলাতে পারেন না, তখন ছোটদের কথা না তোলাই ভালো।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, কেউ তো আর ইচ্ছে করে খারাপ খেলে না, ক্যাচ ছাড়ে না, আউট হয় না। সবই অনিচ্ছাকৃত ভুল। হয়ে যায়। ব্যাপারটা এমনই ‘প্রাকৃতিক’—আর কে না জানে প্রকৃতির খেয়াল-খুশির ওপর কারও হাত নেই। এই কথাটা খেলোয়াড়েরা বুঝলেও অবুঝের মতো আচরণ করছেন শুধু সমর্থকেরা।
সব ম্যাচেই শুধু চাই, চাই আর চাই। আরে ভাই, বিধিলিপি বলেও তো কিছু আছে! সেই ‘লিপি’র তোয়াক্কা না করে খেলোয়াড়দের এন্তার সমালোচনার হেতু কি? মাহমুদউল্লাহই বলেছেন,খেলোয়াড়েরাও তো মানুষ! আর মানুষ মাত্রই ভাগ্যের শৃঙ্খল-বন্দী।
বোকা সমর্থকেরা তা না বুঝেই প্রতি হারের পর মা-বাবা যেমন সন্তানদের শাসন করেন, খেলোয়াড়দের সেভাবে ‘শাসন’ করে আবার প্রার্থনায় বসেন পরের ম্যাচের জন্য।
সেই প্রার্থনার ভাষা অনেকটাই জেমসের এই গানের কথার মতো—‘সবুজ ঘাসে/একা একা/শুধু পথচলা/সারারাত তারা দেখে/নির্ঘুম ডানা মেলা/বৃষ্টির আঁধারে/অবিরাম ভিজে চলা/সব ভুলে চিৎকারে/এসো হোক প্রার্থনা/বড় হও, দীর্ঘ হও, শুধু বেড়ে ওঠো, শুধু বেড়ে…।
হ্যাঁ, শুধুই বেড়ে ওঠা। আর কিছু না!
সংবাদ সূত্রঃ প্রথম আলো অনলাইন
ছবিঃ রাইজিং বিডি
একতার কণ্ঠঃ অঘটন? তা বলাই যায়। শক্তি ও অভিজ্ঞতায় আয়ারল্যান্ডের ধারে–কাছেও নেই নামিবিয়া। অথচ আফ্রিকার এই দলটি–ই কি না আজ আয়ারল্যান্ডকে বিদায় করে জায়গা করে নিল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে!
প্রথম রাউন্ডে ‘এ’ গ্রুপ থেকে পরিষ্কার সমীকরণ ছিল আয়ারল্যান্ড ও নামিবিয়ার সামনে—যে দল জিতবে তারাই উঠবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে। এমন ম্যাচে অভিজ্ঞতা ও শক্তিতে সবাই এগিয়ে রেখেছিলেন আয়ারল্যান্ডকে। ওয়ানডে কিংবা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও গ্রুপপর্ব উতরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে দলটির।
মহাগুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ভালো করতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। ৮ উইকেটে ১২৫ রানের সাদামাটা স্কোর দাঁড় করায় অ্যান্ডি বলবার্নির দল। তাড়া করতে নেমে জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে ৩৩ রান দরকার ছিল নামিবিয়ার। গেরহার্ড এরাসমাস ও ডেভিড ভিসে মিলে দারুণ এক জুটি গড়ে ৯ বল হাতে রেখে ঐতিহাসিক এক জয় এনে দেন নামিবিয়াকে।
দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় আইরিশ খেলোয়াড়েরা নামিবিয়ার চেয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে। বটে! কথায় আছে ‘দ্য গেম ইজ অ্যা গ্রেট লেভেলার’—আয়ারল্যান্ডকে আজ ৮ উইকেটে হারিয়ে নামিবিয়া যেন ক্রিকেটের এ আপ্তবাক্য মনে করিয়ে দিল।
আইসিসির বিশ্বকাপে এর আগে শুধু ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপেই খেলেছে নামিবিয়া। ১৪টি দলের মধ্যে ১৪তম হয়ে বিদায় নিয়েছিল। তারপর এবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে আইসিসি আয়োজিত কোনো বিশ্বকাপে পা রেখেই গ্রুপপর্ব উতরে যাওয়ার ইতিহাস গড়ল নামিবিয়া। দেশটির রাজধানী উইন্ডহকে আজ তাই উৎসবের লগ্ন।

নামিবিয়া জিতে শুধু সুপার টুয়েলভই নিশ্চিত করেনি, জায়গা করে নিয়েছে আগামী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। এর আগে আইসিসি জানিয়েছিল, এবার সুপার টুয়েলভে ওঠা দলগুলো ২০২২ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলবে, আলাদা করে বাছাইপর্ব আর খেলতে হবে না। অর্থাৎ এক ‘ঢিলে’ দুই ‘পাখি’ মারল নামিবিয়া।
তৃতীয় উইকেটে ৩১ বলে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন ভিসে-এরাসমাস। উইকেটে দুজন যখন জুটি বাঁধেন ৪০ বলে ৫৩ রানের দূরত্বে ছিল নামিবিয়া।
কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইরিশ বোলার ক্রেগ ইয়াং, জশ লিটল কিংবা কার্টিস ক্যাম্ফারদের বিপক্ষে নামিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের এ লক্ষ্য ছোঁয়া বেশ কঠিনই ছিল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ভিসে এবং এরাসমাস ঠান্ডা মাথায় যেভাবে ব্যাট করেছেন তা অনেক দিন মনে রাখবে নামিবিয়া ক্রিকেট।
কোনা চাপ টের পেতে না দিয়ে ১৮.৩ ওভারে দলের জয় নিশ্চিত করেন দুজন। ৪৯ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত ছিলেন এরাসমাস। ১৪ বলে ২৮ রানে অন্য প্রান্ত ধরে রাখেন ভিসে।
তার আগে জেন গ্রিনের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৯ বলে ৪৮ রানের আরেকটি ভালো জুটি গড়েন এরাসমাস। সহযোগী দেশ নামিবিয়ার হিসেবি ক্রিকেটের তুলনায় টেস্ট খেলুড়ে আয়ারল্যান্ডই বরং বাজে খেলেছে।
পল স্টার্লিং ও কেভিন ও’ব্রায়েন ছাড়া আর কেউ সেভাবে রান পাননি। ওপেনিং জুটিতে স্টার্লিং-ও’ব্রায়েনের গড়া ৪৪ বলে ৬২ রানই আয়ারল্যান্ডের ইনিংসে সর্বোচ্চ। ২৪ বলে ৩৮ রান করেন স্টার্লিং। সমান বলে ২৫ রান ও’ব্রায়েনের। ২১ রানে ৩ উইকেটে নেন নামিবিয়ার ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক। ১৪ রানে ২ উইকেট নেন আয়ারল্যান্ডের পেসার ক্যাম্ফার।
নামিবিয়াসহ মোট দুটি সহযোগী দেশ জায়গা করে নিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে। ‘বি’ গ্রুপ থেকে স্কটল্যান্ড এর আগে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত করেছে। আজ নামিবিয়া সে টিকিট পাওয়ার পর আনন্দাশ্রু ঝরেছে খেলোয়াড়দের চোখে।
নামিবিয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এটা সেরা দিন। অন্য দিকে অবিশ্বাস্য হারে মাঠেই স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন আয়ারল্যান্ডের কিছু খেলোয়াড়। হার যেন তাদের বিশ্বাস হচ্ছিল না। এটাই তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মজা!
৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার টুয়েলভে উঠল নামিবিয়া। সেখানে নিজেদের গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আয়ারল্যান্ড: ২০ ওভারে ১২৫/৮ (পল স্টারলিং ৩৮, কেভিন ওব্রায়েন ২৫, অ্যান্ডি বালবিরনি ২১; জান ফ্রিলিংক ৩/২১)।
নামিবিয়া: ১৮.৩ ওভারে ১২৬/২ (গেরহার্ড ইরাসমাস ৫৩*, ডেভিড ওয়াইজ ২৮*, জেন গ্রিন ২৪, ক্রেগ উইলিয়ামস ১৫।
ফল: নামিবিয়া ৮ উইকেটে জয়ী।
একতার কণ্ঠঃ বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি ফেসবুক ব্যবহারকারীরা একটি নোটিফিকেশন পাচ্ছেন। যা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। অ্যাকাউন্ট নিরাপদে রাখতে ‘ফেসবুক প্রোটেক্ট’ করতে হবে এমন বার্তা পাচ্ছেন অনেকে। এ ফিচার চালু না করলে লক হবে অ্যাকাউন্ট, এমনটাই জানাচ্ছে ফেসবুক।
ফেসবুক জানিয়েছে, ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ফেসবুক প্রোটেক্ট নামে একটি ফিচার ‘টার্ন অন’ বা ‘চালু’ না করলে অ্যাকাউন্টটি লক হয়ে যাবে। মূলত অ্যাকাউন্টকে বাড়তি নিরাপত্তা দিতে ফেসবুক প্রোটেক্ট নামে নতুন একটি ফিচার আনছেন তারা। এটি একটি ভলান্টারি প্রোগ্রাম, যা নির্বাচনী প্রার্থী, তাদের প্রচারণা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অ্যাকাউন্টকে বাড়তি সুরক্ষা দেবে।
অনেকেরই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হচ্ছে। হ্যাকাররা মূলত যে অ্যাকাউন্টগুলোর অনেক বেশি ফলোয়ার থাকে, গুরুত্বপূর্ণ পেজ পরিচালনা করে কিংবা যার কমিউনিটি গুরুত্ব রয়েছে; সেগুলোর প্রতি আগ্রহী হয়। এ ধরনের টার্গেটেড অ্যাটাক বা উদ্দেশ্যপূর্ণ হামলা রোধ করতেই উন্নত নিরাপত্তার প্রোগ্রামটি চালু করার অনুরোধ করেছে ফেসবুক।
আইডি প্রোটেক্ট করবেন যেভাবে
যারা ফিচারটি চালু করতে পারবেন, তারা ফেসবুকের মাধ্যমেই তা জানতে পারবেন। যারা এর আওতায় পড়বেন, তারা ফেসবুকের সেটিংসে গিয়ে সিকিউরিটি অ্যান্ড লগ-ইন অপশনে গেলে ফেসবুক প্রোটেক্ট নামে অপশন পাবেন। সেখান থেকে ফেসবুক প্রোটেক্ট অপশন অন করা যাবে।
এছাড়াও ফিচার চালু করতে ফেসবুকে প্রবেশ করলে কোড যাবে ব্যবহারকারীর নাম্বারে। সেটি দেওয়ার পর আগের মতোই ফেসবুক চালাতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।
প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির নির্বাচনের সময় সেখানকার প্রার্থীদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় প্রোগ্রামটি তৈরি করা হয়েছিল। পরে এটি কানাডায় চালু করা হয়। ২০২১ সালে এটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য সরবরাহ করা হবে।
বাংলাদেশে কেউ কেউ এ ধরনের নোটিফিকেশন বা ই-মেইল পেয়েছেন বলে জানা গেছে। আবার অনেকেই এ ধরনের নোটিফিকেশন পাননি। তবে এ বিষয়ে আপডেটও ফেসবুকের মাধ্যমেই জানানো হবে বলে জানিয়েছে ফেসবুক।
সূত্র: বিবিসি
একতার কণ্ঠঃ জ্যান্ত বাঘের চেয়েও আহত বাঘ বেশ ভয়ঙ্কর। বাংলা সাহিত্যে এই প্রবাদের প্রচলন বেশ। মরুর বুকে পাহাড়ের শহর মাসকটে এই প্রবাদের সত্যতা প্রমাণের পালা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের সামনে। স্কটিশদের থাবায় অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ওমানের বিপক্ষে একটা জয় এনে দিতে পারে পাহাড়সম স্বস্তি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সুলতানাত ওমানের মুখোমুখি লাল সবুজের দল। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে এই মহারণ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজয়ে বেদনা ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ। শিষ্যরা যে ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবেন সেই বিশ্বাস, আস্থা আছে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর।
‘ছেলেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আছে। আমিও ওদের ওপর আস্থা রাখছি। অনেক টানটান উত্তেজনার ম্যাচ ওরা জিতেছে। ছেলেরা ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির বাধা পার করবে, পরের রাউন্ডে যাবে, এ ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী।’- এই ম্যাচকে সামনে রেখে ঠিক এভাবেই বলছিলেন রাসেল ডমিঙ্গো।
অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডকে উড়িয়ে দেওয়ার পর এখন মাহমুদউল্লাহদের ভাবতে হচ্ছে পুচকে ওমানের বিপক্ষে জয় পাওয়া নিয়ে। অনিশ্চিয়তার খেলা ক্রিকেটে বুঝি এমনই হয়। বিশেষ করে খেলাটা যখন ২৪০ বলের তখন ফেভারিট বলতে কোনো শব্দ হয়তো নেই। দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করায় এই আলোচনার জন্ম দিয়েছে বেশ জোরালোভাবেই।
ওমানকেও হালকা ভাবে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। বেশকিছু বিষয় কাজ করছে তাদের পক্ষে। একে তো স্বাগতিক দল আবার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে পাপুয়া নিউ গিনিকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে। তাদের সমীহ করছেন বাংলাদেশ কোচও। তবে এটাও জানিয়ে রেখেছেন ভালো খেললে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
‘আমাদের আগামীকাল (আজ) ভালো করতে হবে। ওমান ভালো করছে। ওরাও পরের রাউন্ডে যেতে চাইবে। আমাদের জন্য কাজটা কঠিনই হবে। কিন্তু ছেলেরা জানে যে ওরা যদি ভালো খেলাটা খেলতে পারে, তাহলে আমাদের জেতার সম্ভাবনাই বেশি। কোচ হিসেবে আমি কোনো দলকেই ছোট করে দেখি না। এটাই কোচদের বৈশিষ্ট্য।‘
মাসকটের আল আমিরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্কটিশদের বিপক্ষে প্রবাসীদের জোয়ারে গ্যালারিতে উঠেছিল লাল সবুজের ঢেউ। একই দৃশ্য দেখা যাবে আজও। এতে কোনো সন্দেহ নেই। ওমানিদের ক্রিকেট নিয়ে খুব একটা আগ্রহ না থাকলেও এই ম্যাচে স্থানীয় দর্শকদের মাঠে দেখা যাবে। গতকাল রাতে ওমান ক্রিকেট বোর্ড নিজেদের ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে দেয়, ‘সব টিকিট বিক্রি শেষ। গ্যালারি হাউজফুল।’
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ১৬ সদস্যের মধ্যে একজন ছাড়া বাকিদের জন্ম ভারত ও পাকিস্তানে। একমাত্র সুফিয়ান মেহমুদের জন্ম ওমানে, তিনি দেশটির বয়সভিত্তিক দলে খেলে উঠে এসেছেন জাতীয় দলে। তাই ওমান দলকে এক কথায় ‘ভাড়াটে’ দল বললেও ভুল হবে না। যদি তারা নাগরিকত্ব পেয়ে এখন ওমানের পতাকা উড়াচ্ছেন।
বাংলাদেশ একাদশে এক পরিবর্তন নিশ্চিত। ওপেনার সৌম্য সরকারের পরিবর্তে মোহাম্মদ নাঈমকে দেখা যাবে। পেস আক্রমণেও দেখা যেতে পারে ভিন্নতা। তাসকিন আহমেদের পরিবর্তে দেখা যেতে পারে শরিফুল ইসলামকে। আর বাংলাদেশ যদি এক পেসার কম খেলায় তাহলে একাদশে আসতে পারেন নাসুম আহমেদ।
এ ছাড়া ব্যাটিং অর্ডারে আসতে পারে পরিবর্তন। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নামানো হতে পারে ব্যাটসম্যানদের। এই ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ ডমিঙ্গো, ‘আমি ক্রিজে বাঁহাতি ও ডানহাতির সমন্বয় দেখতে পছন্দ করি। সবসময়ই যেন ভিন্ন ভিন্ন দুজন ব্যাটসম্যান ক্রিজে থাকে, সেই চেষ্টা করি। এ নিয়ে গভীরভাবে আলোচনাও করেছি। আমরা ছোট খাটো পরিবর্তনও আনতে পারি। এক-দুই জায়গা হয়তো এদিক ওদিক হবে। শেষ দুটি সিরিজেও দেখেছেন আমরা কিভাবে ব্যাটিং অর্ডার সাজিয়েছি। আমরা এক্ষেত্রে খুবই নমনীয় থাকতে চাই। ম্যাচের অবস্থা অনুযায়ী ব্যাটসম্যান পাঠাতে চাই।’
এর আগে ওমানের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে বাংলাদেশ তাদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছিল। তবে এবার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে দলটি। স্বাগতিক বলেই কন্ডিশন তাদের পক্ষে। আর পাঁচ বছর আগের সেই দল আর এই দলের পার্থক্যও অনেক। দিনে দিনে তারা পরিণত হয়েছেন। আল আমিরাতে ওমান ১১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে তার মধ্যে ৭টিতেই জয় পেয়েছে।
বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের এই ম্যাচে জয় চাই-ই। না হয় মাসকট থেকেই ধরতে হবে দেশের বিমান। মাহমুদউল্লাহদের সামনে অগ্নিপরীক্ষা, সেই পরীক্ষায় পাস করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ কি পারবে সুলতানাতের মাটিতে ‘ভাড়াটে’ সুলতানদের হারাতে? বাংলাদেশকে যে পারতেই হবে!