একতার কণ্ঠঃ ১৯৭৪ সালের ১০মে বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামকে নিয়ে আসা হয় টাঙ্গাইলে। উদ্যোক্তা ছিলেন বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। কাদেররিয়া বাহিনীর প্রধান কাদের সিদ্দিকীর গাড়ির বহরের সাথে এম্বুলেন্সে এ কবি আসেন টাঙ্গাইল শহরে। পুরো প্রোটোকলের দায়িত্ব পালন করেন বঙ্গবীর।

এটাই সম্ভবত ঢাকার বাহিরে কোন জেলা শহরে কবির প্রথম আগমন। কবির সাথী হয়ে এসেছিলেন নাতনি ছোট বয়সী খিলখিল কাজী। প্রথমে কবিকে নিয়ে আসা হয় তৎকালীন পুলিশ প্যারেড ময়দানে। এখন যেটিকে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান বলা হয়।
টাঙ্গাইলের অন্যতম বৃহৎ শিশু-কিশোর সংগঠন নজরুল সেনার পক্ষ থেকে কবিকে গার্ড অব অনার দেয়া হয় সেখানে। কবিকে এম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে বসিয়ে নিয়ে আসা হয় ময়দানে। বৃষ্টির মধ্যে কয়েকশত নজরুল সেনা সদস্য সাদা পোশাক পরে গার্ড অব অনার দেন কবিকে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী কবির মাথায় পরম মমতা আর শ্রদ্ধায় ছাতা ধরে থাকেন।
এই অনন্য ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন নজরুল সেনার প্রতিষ্ঠাতা এডভোকেট ফজলুল হক খান সাথী। যিনি হাইকোর্টের একজন স্বনামধন্য আইনজীবী। প্যারেড পর্ব পরিচালনা করেন প্যারেড টিমের প্রধান মরহুম সাংবাদিক কামরুল হাসান চৌধুরী। প্যারেড পরিচালনায় তাকে সহযোগিতায় ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন মরহুম হাফিজুর রহমান, গ্রুপ ক্যাপ্টেন এডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ, নারীদের মধ্যে ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন লিপি খন্দকার রানু, গ্রুপ ক্যাপ্টেন ওয়াহিদা রহমান নতুন।
নজরুল সেনার ব্যান্ড দলে ছিলেন এম,এ মতিন, শাহীন তালুকদার ও বতর্মানে আমেরিকা প্রবাসী শিবলী সাদিক।
জাতীয় কবির টাঙ্গাইলে আগমনের এই আলোকিত স্মরণীয় করে রাখতে নজরুল প্রেমী ফজলুল হক সাথী ভাই টাঙ্গাইল পুলিশ প্যারেড ময়দানের পাশেই ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নজরুল সেনা স্কুল।

তাকে সেসময় অর্থদানসহ নানাভাবে সহযোগিতা করেন মরহুম সামসুর রহমান খান শাহজাহান, মরহুম শওকত আলী তালুকদার, খন্দকার জাহিদ মাহমুদ, মরহুম সাংবাদিক কামরুল হাসান চৌধুরী, নুরুল আমীন, প্রয়াত কামাক্ষা নাথ সেন প্রমুখ।
জাতীয় কবির টাঙ্গাইলে আগমনের এই আলোকিত দিনকে স্মরণীয় রাখতে কবি নজরুলের স্মৃতিধন্য তৎকালীন পুলিশ প্যারেড ময়দানের সামনের রাস্তাটিকে অর্থাৎ নিরালা মোড় থেকে জেলা সদর রাস্তাকে কবির প্রতি সন্মান জানিয়ে কবি নজরুল স্মরণী বলা হয়ে থাকে। (ঈষৎ সংশোধিত)
লেখক: প্রফেসর ড.জি.এম.শফিউর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
সূত্র: আল রুহী, আতাউর রহমান আজাদ, এবিএম সালাউদ্দিন আহমেদ।
একতার কণ্ঠঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান ওরফে মুক্তির জামিন আবেদন খারিজের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এ হত্যা মামলা ৬ মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন সর্ব্বোচ আদালত।
রবিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে মুক্তির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম।
এর আগে গত ১৯ জুলাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান ওরফে মুক্তির জামিন আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তথ্য গোপন করে জামিন আবেদন করায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত।
বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে জামিন আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম মাসুদ রুমি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তে এই হত্যায় তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান ও তার ভাইদের নাম বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলায় আমানুর ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান ওরফে মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান ওরফে কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান ওরফে বাপ্পাসহ ১৪ জন আসামি রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর এলাকার কলেজ পাড়া নিবাসী বিশিষ্ট চিকিৎসক,সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী এম এ হালিম ইন্তেকাল করেছেন।
তিনি শুক্রবার ( ২৫ আগস্ট) রাত ১০টায় ছোট মেয়ের ঢাকাস্থ বসুন্ধরার বাসভবনে বার্ধক্য জনিত কারনে মৃত্যু বরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। তিনি স্ত্রী ,দুই পুত্র, পাঁচ কণ্যা, নাতি-নাতনি সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তার বড় ছেলে মোঃ সাইফুর রহমান খোকন দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার ক্রীড়া বিভাগের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ডা: হালিমের প্রথম নামাজে জানাযা শনিবার(২৬ আগষ্ট ) সকাল ১০টায় পৌর শহরের কলেজ পাড়া পানির ট্যাংক মসজিদে ও বাদ যোহর করটিয়া ইউনিয়নের খুদিরামপুর জামে মসজিদ মাঠে দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।পরে তাকে খুদিরামপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তার মৃত্যুতে টাংগাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আতোয়ার রহমান, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট মামুনুর রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হামিদুল হক মোহন, করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আলোচিত ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামকে জেলা পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে। জনস্বার্থে তাকে ভূঞাপুর থানা হতে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার আদেশ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ আগষ্ট) পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার স্বাক্ষরিত স্মারক নং ৫১৭০/১ (৪৯) (আরওআই) আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন (লাইনওআর) এ সংযুক্ত করা হল। একই আদেশে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত থাকা মো. আহসান উল্লাহকে ভূঞাপুর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে বদলি করা হয়।
এরআগে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে গণমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আশেকপুরে ৫নং জোবায়দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম বেগমের বিরুদ্ধে পরীক্ষার ফি’র নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
তিনি বিদ্যালয়ের প্রায় ২ শত কোমলমতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শ্রেনী ভেদে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করেছেন এমন তথ্য দিয়েছেন বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদের জানান,প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা পরিচালনা ব্যায় নির্বাহের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি বিদ্যালয় আলাদা অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে কোনক্রমেই পরীক্ষার ফি’র টাকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা যাবে না। অথচ সরকারী প্রজ্ঞাপণের তোয়াক্কা না করে জোবায়দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুইশত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষা ফি বাবদ প্রায় ২০ হাজার টাকা আদায় করেছে। সরেজমিনে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

জানা গেছে,টাঙ্গাইল পৌরসভার আশেকপুর এলাকায় ৫০ শতাংশ জায়গার উপর ১৯৬৪ সালে স্থাপিত এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২শত। শিক্ষকের সংখ্যা ৮ জন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন শ্রেনীর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পরীক্ষা শেষে বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীদের কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৭৫ টাকা হারে পরীক্ষা ফি আদায় করা হয়েছে। এছাড়া তৃতীয় শ্রেনী থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ১ শত টাকা হারে পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়েছে।
তারা আরো জানায়, শুরুতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর জন্য ১শত টাকা ও তৃতীয় শ্রেনী থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত ২শত টাকা পরীক্ষা ফ্রি নির্ধারন করা হয়।পরে অভিভাবকদের প্রতিবাদের মুখে পরীক্ষার ফি কমানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েক জন অভিভাবক জানায়,সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে বেতন-পরীক্ষা ফি সরকার বহন করে। এমনকি শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতেই বিনামুল্যে পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হয়। এছাড়া মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা উৎসাহ প্রদানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়।
অথচ জোবায়দা খানম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম বেগমের একক সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের সন্তানের কল্যাণ চিন্তা করে নিয়মবর্হিভুত ভাবে দাবি করা টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক মরিয়ম বেগম বলেন, তিনি কোন পরীক্ষা ফি বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায় করেননি। তার বিদ্যালয়ের কিছু ঈর্ষান্বিত সহকর্মী তাকে বিপদে ফেলার জন্য এসব অভিযোগ করেছে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি ব্যবসা সুত্রে ঢাকায় থাকেন। যদি পরীক্ষা বাবদ অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগের সত্যতা মেলে তাহলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, কোন অবস্থাতেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি আদায় করা যাবে না। যদি কোন প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার ফি নিয়ে থাকেন তবে তিনি আইনগতভাবে অপরাধ করেছেন।
তিনি আরো জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে। যদি তদন্তে দোষী প্রমানিত হয় তবে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ)।
বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) রাতে জেলার কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার উত্তর রাজবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নাম মোঃ আব্দুল মান্নান। সে এলেঙ্গা পৌরসভার উত্তর রাজবাড়ী এলাকার মৃত হামিদ সিকদারের ছেলে।
এ প্রসঙ্গে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ দক্ষিণের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার রাত্রে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি দক্ষিণ)পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) মোঃ নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার উত্তর রাজবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান কালে এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ আবুল মান্নানকে নিষিদ্ধ মাদক ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ১০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরো জানান, আটককৃত নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। গ্রেফতারকৃত মান্নানের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতেই কালিহাতী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ জাতীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার(১৭ আগস্ট )দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের সোনার বাংলা কমিউনিটি সেন্টারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই)।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাও: রেজাউল করিম রাজুর সভাপতিত্বে তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাও: লোকমান হোসেন জাফরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি আকরাম আলী, সাধারণ সম্পাদক আখিনুর মিয়া, সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের, জাতীয় শিক্ষক ফোরামের ময়মনসিংহ বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক রেজাউল করিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার জয়েন্ট সেক্রেটারী আনিসুর রহমান সিল্টু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাদাত আবির প্রমুখ।
এসময় জেলা, উপজেলা, শহর, ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রতিনিধি
মোবাইল -০১৮১৭৫০১৬০০
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মালবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(১৭ আগস্ট )সকালে মহাসড়কের সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের করটিয়া চরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কৃষকের নাম মো. লতিফ মিয়া(৪০)। সে করটিয়া চরপাড়া গ্রামের মো. সহিদুল ইসলামের ছেলে।
নিহতের ভাই আব্দুল জলিল মিঞা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে লতিফ মহাসড়কের চরপাড়া এলাকায় বাড়ির সামনে সড়ক বিভাজনের মধ্যে তার চাষকৃত ডাটা শাঁক তুলতে যায়। এসময় উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী একটি মালবাহী ট্রাক বেপোরোয়া গতিতে এসে সড়ক বিভাজনে ধাক্কা দেয়। এতে সড়ক বিভাজনে দাড়িয়ে থাকা লতিফ মহাসড়কে পড়ে গেলে ট্রাকের চাকায় পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ প্রসঙ্গে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক(এস আই)মো. আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরো জানান,ঘাতক ট্রাকটি আটক করা গেলেও চালক পলাতক রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৫০ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৪ জন।
এ ছাড়া মোট সুস্থ হয়েছেন ৯৬৬ জন। বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীণ রয়েছেন ১৪৮ জন রোগী। মোট এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ২১ জন, নাগরপুর উপজেলায় ৮ জন, মির্জাপুর উপজেলায় ৯ জন, মধুপুর উপজেলায় ৫ জন, গোপালপুর উপজেলায় ৩ জন এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ৪ জন রয়েছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদেকুর রহমান জানান, বর্তমানে ডেঙ্গুর রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মানুষের ঘরবাড়ি ও বসত বাড়ির আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন রাখতে হবে। যাতে করে ডেঙ্গু রোগ বিস্তার করতে না পারে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় লিটন মিয়া (২০) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার(৯ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মাহবুবুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি লিটন মিয়া জেলার মধুপুর উপজেলার পরীগাছা গরম বাজার গ্রামের ছোয়াদ আলীর ছেলে।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আলী আহমদ জানান, দণ্ডিত আসামী লিটন মিয়ার সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক হয়। এই সুবাদে তার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর বিকেলে ভিকটিমের মা বাড়ির বাইরে থাকায় দণ্ডিত আসামী ভিকটিমের বাড়িতে এসে তার ঘরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে ভিকটিম ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরে। পরে বিয়ের কথা বললে, ভিকটিমকে বিয়ে না করে হুমকি প্রদর্শণ করে। পরে ভিকটিমের মা বাদি হয়ে মধুপুর থানায় ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে মধুপুর থানার এস আই ছানোয়ার হোসেন ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান,ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুটির ভরণ পোষণের দায়িত্ব রাষ্ট্র বহন করবে।
উল্লেখ্য,বাদি পক্ষের মামলা দায়ের থেকে মামলার রায় ঘোষণা পর্যন্ত এই মামলায় আইনগত সহায়তা প্রদান করেন মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ ও বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে এডভোকেট জিনিয়া বখ্শ।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হ্যাস বলেছেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার প্রতিষ্ঠিত কুমুদিনী কমপ্লেক্সে অবস্থিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলি খুব ভাল কাজ করছে। এখানকার প্রতিষ্ঠানগুলো দেখে আমি খুবই মুগ্ধ।
শনিবার(৫ আগষ্ট )সকালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।
এসময় সাংবাদিকরা দেশের সাম্প্রদিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি মন্তব্য না করেই স্থান ত্যাগ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্ত্রী এমিকে সঙ্গে নিয়ে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল সকাল ৯টা ৫০মিনিটে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে এসে পৌছালে কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান।
এসময় কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক শ্রীমতি সাহা, সম্পা সাহা, মহবীর পতি, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আব্দুল হালিম, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, কুমুদিনী হাসপাতালের ডেপুটি ম্যানেজার (অপারেশন) অনিমেষ ভৌমিক লিটন।
এর আগে কুমুদিনী লাইব্রেরীতে চা চক্র শেষে রাষ্ট্রদূত কুমুদিনী মিলনায়তনে যান। সেখানে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর একটি প্রামান্য চিত্র দেখেন।
এরপর মার্কিন রাষ্ট্রদূত কুমুদিনী হাসপাতাল, কুমুদিনী নাসিং স্কুল এন্ড কলেজ, ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলে সখীপুরের বাসিন্দা মোস্তফা স্থানীয় একটি সমিতি থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেন। ঋণের টাকা পরিশোধে মনোহারি ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ী শাহজালালের কাছ থেকে অর্থ লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি।
সে অনুযায়ী দোকান থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে শাহজালালের পথরোধ করে হামলা চালান মোস্তফা ও তার সহযোগী আলামিন। শাহজালালকে রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করা হয়।
এ সময় শাহজালালের চাচা মজনু মিয়া সঙ্গে থাকায় তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।
১৯ জুলাই ক্লুলেস ও বহুল আলোচিত টাঙ্গাইলের সখীপুরে নৃশংসভাবে ব্যবসায়ী শাহজালাল ও তার চাচা মজনু খুনের ঘটনায় মোস্তফা মিয়া (২০) ও আলামিনকে (২৭) গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব জানায়, জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত শাহজালালের বাবা বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব জড়িতদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১৪ এর অভিযানে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও টাঙ্গাইলের সখীপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মোস্তফা মিয়াসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি জানান, ভিকটিম শাহজালাল টাঙ্গাইলের সখীপুরের হামিদপুর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মনোহারি ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করে আসছিলেন। তিনি হামিদপুর বাজারের একজন জনপ্রিয় ও অতিপরিচিত ব্যবসায়ী। শাহজালালের চাচা ভিকটিম মজনু মিয়া এলাকায় কৃষি কাজ করতেন। মজনু মিয়া কৃষি কাজের পাশাপাশি মাঝে মধ্যে শাহজালালকে ব্যবসায়িক কাজে দোকানে সহযোগিতা করতেন।
শাহজালাল ব্যবসায়িক কার্যক্রম শেষে প্রায় রাতের খাবার খেতে বাড়িতে যেতেন। তিনি মাঝে মধ্যে রাতে বাড়িতে থাকতেন আবার দোকানেও থাকতেন। যেদিন তিনি বাড়িতে থাকতেন সেদিন ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা বাড়িতেই রাখতেন।
ঘটনার দিন শাহজালাল দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। চাচা মজনু মিয়াকে রাস্তায় দেখতে পেয়ে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নেন। পথিমধ্যে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হন তারা।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, মোস্তফার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মোস্তফা ও আলামিন দুজনেই স্থানীয় একটি সমিতির সদস্য ছিলেন। মোস্তফা সমিতি থেকে উচ্চ সুদে বেশ কিছু টাকা ঋণ নেন। ঋণের টাকা পরিশোধ ও পারিবারিক খরচ বহনের জন্য তার বেশ কিছু অর্থের প্রয়োজন ছিল। ভিকটিম শাহজালাল যেদিন বাড়িতে রাত্রি যাপন করতেন সেদিন ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা বাড়িতেই রাখতেন। এ বিষয়টি মোস্তফা ও আলামিন জানতেন।
শাহজালালের বাড়ি ফেরার পথে আক্রমণ করে টাকা ছিনিয়ে নিতে পরিকল্পনা করেন মোস্তফা। বিষয়টি আলামিনকে জানালে তিনি সম্মতি দেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই রাত ১০ টার দিকে মোস্তফা ও আলামিন সখীপুরের বাঘের বাড়ি এলাকায় জামালের চালায় নির্জন জঙ্গলে ওৎ পেতে থাকেন। শাহজালাল মোটরসাইকেলে করে তার চাচা মজনু মিয়াকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মোস্তফা মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। মোস্তফা ভিকটিম শাহজালালকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন।
ভিকটিম শাহজালাল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। মজনু মিয়া চিৎকার করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আলামিন লোহার রড দিয়ে তার মাথা ও শরীরে আঘাত করেন।
পরে মোস্তফা ও আলামিন তাদের এলোপাতাড়ি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। আলামিন ভিকটিমদের সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটি পাশের একটি জমিতে ফেলে দেন এবং শাহজালালের দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেন।
পরে তারা টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকায় আত্মগোপন করেন। মোস্তফা টাঙ্গাইল ও আলামিন ঢাকার মোহাম্মদপুরে আত্মগোপনে থাকাকালীন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।