একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ভাতিজার দায়ের কোপে চাচা নিহতের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার(৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান দক্ষিণপাড়া বাবুল বাজারের এক চায়ের দোকানের পাশে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
নিহত চাচা মো. শরিফ উদ্দিন (৩৫) ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
এই ঘটনায় ভাতিজা মো. ইদ্রিস আলীকে (৫০) উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান দক্ষিণপাড়া নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ভাতিজা ইদ্রিস আলী একই গ্রামের মৃত করিম উদ্দিনের ছেলে । সে বানিয়াজান ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির বর্তমান সভাপতি।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চায়ের দোকানদার হায়দার আলীসহ স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দোকানের পাশে প্রস্রাব করতে বসে শরিফ। হঠাৎ করে ইদ্রিস ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়ারা তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা হাজেরা বেগম জানান, ‘রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপালের নেয়ার পথে মধুপুরে মারা যায় শরিফ। পূর্ব শত্রুতার জেরে ইদ্রিস শরিফকে খুন করেছে। আমরা এর বিচার চাই। শরীফ ও ইদ্রিস সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।
শরিফ উদ্দিনের স্ত্রী আফরোজা বেগম জানান ‘আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে আমার অবুঝ মেয়াটার এখন কি হবে। সে আর বাবা বলে ডাকতে পারবে না বলে কাঁদতে কাঁদতে মুর্ছা যান তিনি।
এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবি করে স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন জবান , ‘এই ঘাতকের কঠোর বিচার হওয়া দরকার।’
এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইদ্রিস আলীর স্ত্রী খালেদা বেগম জানান ‘রাতে পুলিশ এসে তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম জসিম জানান, ‘ঘটনার সংবাদ পেয়ে রাতেই ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৪ জানুয়ারি সকালে)আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান,নিহতের বড় ভাই বাবুল হোসেন বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে প্রতিবেশি পাঁচ বছরের এক শিশুকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক সন্তানের জনক মো. সুজন মিয়াকে (৩২) গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) আদালতে পাঠিয়েছে ধনবাড়ী থানা পুলিশ।
এর আগে সোমবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের এক গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. সুজন মিয়া পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার দিকপাইত সদরের মাতারপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। সে ধনবাড়ীতে বিয়ে করে ঘর জামাই হিসাবে থেকে আসছিল।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা জানান, সোমবার দুপুরে শিশুটি তাঁর কয়েকজন সঙ্গীর সাথে বাড়ির পাশে খেলা করছিল। সঙ্গীরা চলে গেলে প্রতিবেশি সুজন মিয়া শিশুটিকে ডেকে নিয়ে নিজ ঘরে নির্যাতন চালায়। শিশুটির ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে সুজন মিয়াকে আটক করে। পরে এলাকাবাসী তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। রাতেই সুজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ধনবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিস আলী জানান, শিশুটির বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সুজন মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে করাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সচিবকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় এক ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।লাঞ্চনার সময় আহত হয়েছে আরও দুই মহিলা গ্রাম পুলিশ সদস্য।
বৃহস্পতিবার(২২ ডিসেম্বর) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে তাঁর উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটে।
থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন তুলাকে আটক করেছে ধনবাড়ী পুলিশ। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলাজুড়ে চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।
শারীরিকভাবে লাঞ্চনার সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান, একাধিক ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।
ওই ইউপি সচিব জানান, চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর কক্ষে আলোচনা চলছিল। এ সময় একাধিক ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কথা বলার একপর্যায়ে তুলা মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে অতর্কিতভাবে আমার উপর হামলা করে কিল-ঘুষি মারতে-মারতে বাইরে আনে। তাঁকে বাঁধা দিলে রহিমা খাতুন ও পারুল আক্তার নামের দুই গ্রাম পুলিশ সদস্যদেরও আহত করে সে।
তিনি আরও বলেন, ‘অন্য ইউপি সদস্যরা আমাকে এ সময় উদ্ধার করে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়। তুলা মেম্বার বিভিন্ন সময় আমাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। রাজি না হওয়ায় আমার উপর ক্ষিপ্ত সে। সঠিক বিচার চাই।
বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বলেন, ‘সচিব আগে আমাকে থাপ্পর মেরেছে। আমি তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চনা করেনি।
শারীরিকভাবে লাঞ্চনা করার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুশুদ্দি ইউপি চেয়ারম্যান আবু কাউসার।
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসলাম হোসাইন বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই ইউপি সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত স্বাপেক্ষ আইনি ব্যবস্থা নেয়ো হবে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বিনিময় পরিবহন বাসের ধাক্কায় আজিজ (৬০) নামে এক বৃদ্ধ অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত হয়েছেন আশরাফ উদ্দিন (৪০) নামে এক অটোরিকশা যাত্রী।
সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাঘিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আজিজ মধুপুর উপজেলার আড়ালিয়া গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে এবং আহত আশরাফ উদ্দিনের বাড়ি একই উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের চাকন্ড বীর গ্রামে। তিনি অটোরিকশা যাত্রী ছিলেন। বর্তমানে সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল হাইসহ স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার দিকে একটি অটোরিকশা একজন যাত্রী নিয়ে ভাইঘাট থেকে বাঘিল চাকন্ড যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ঢাকাগামী বিনিময় পরিবহন নামে একটি বাস পেছন থেকে এসে অটোরিকশাটি ধাক্কায় দূরে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় চালক, আহত হয় যাত্রী আশরাফ উদ্দিন।
এ ঘটনায় ধনবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহাগ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আজিজ নামে এক বৃদ্ধ অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত অবস্থায় আশরাফ উদ্দিন নামে যাত্রীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিনিময় পরিবহন বাসটি জব্দ করা গেলেও ঘাতক বাস চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে অটোরিকশা চালকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় ট্রাকচাপায় আব্দুল আজিজ (৮০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে ধনবাড়ী থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল পৌর শহরের খাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ধনবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক মো. ইদ্রিস আলী জানান, ভোরে খাসপাড়া মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন আব্দুল আজিজ।
এ সময় জামালপুরগামী আলুভর্তি একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলইে বৃদ্ধ নিহত হন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদের উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই চালক ও হেলপার পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
জেলা প্রতিনিধি
মোবাইল -০১৮১৭৫০১৬০০
একতার কণ্ঠঃ ‘সব দোষ আমার। আমার জন্যই সে বিদেশে গিয়েছিল। বিদেশে না গেলে আজ হয়তো এভাবে তার মৃত্যু হতো না। আমি অসুস্থ মানুষ, আমাকে ফেলে রেখে চলে গেছে। আমার স্ত্রীর লাশটা দেখতে চাই। তার লাশটা নিজ হাতে কবর দিতে চাই। টাকা চাই না, আমার স্ত্রীর লাশটা চাই।’
কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে একটি বাড়িতে আগুন লেগে মারা যাওয়া আছিয়া বেগমের (৫০) স্বামী ইসমাইল হোসেন। তিনি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌরসভার কুমারগাতা এলাকার বাসিন্দা জরিপ আলীর মেয়ে আছিয়া বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর ইসমাইল হোসেনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর ইসমাইল অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বামী অসুস্থ ও চার ছেলেমেয়ে ছোট থাকায় পরিবারের হাল ধরতে দিনমজুরের কাজ শুরু করেন আছিয়া বেগম।
২০১০ সালে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তিনি মালদ্বীপে পাড়ি জমান। তার স্বপ্ন ছিল পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানো। কিন্তু এর আগেই মালদ্বীপে আগুনে তিনি পুড়ে মারা যান। গত ১০ নভেম্বর সকাল ১০টায় হঠাৎ বড় মেয়ে নুর নাহারের মোবাইল ফোনে কল আসে মালদ্বীপ থেকে। সে সময় তার মায়ের মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়। এই খবরে মুহূর্তেই ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
আছিয়া বেগমের মেয়ে নুর নাহার বলেন, ‘আমার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন আমরা চার ভাই-বোনও ছোট ছিলাম। পরিবারে অভাব-অনটন থাকায় সংসারের হাল ধরতে মা মালদ্বীপে পাড়ি জমান। মা চেয়েছিল সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে। কিন্তু তার ইচ্ছাটা আর পূরণ হলো না। এখন আমার মায়ের লাশটা ফেরত চাই। আমার মায়ের লাশটা দ্রুত দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
বড় ছেলে আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন মা বিদেশে যায়। আমি রিকশা চালাই, ছোট ভাই ইটভাটা শ্রমিক। আমাদের রোজগারের টাকা মাকে খাওয়াতে পারলাম না। শেষবারের মতো মায়ের লাশটা দেখতে চাই। মায়ের লাশটা ফেরত দেন।’
আছিয়া বেগমের ছোট ভাই তাজমল হোসেন বলেন, ‘স্বামী অসুস্থ থাকায় সংসারের হাল ধরতে আমার বোন বিদেশে পাড়ি জমায়। তার ইচ্ছা ছিল স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারে অভাব-অনটন দূর করার। বাড়িতে ভালো ঘর করার। কিন্তু তার ইচ্ছাটা আর পূরণ হলো না।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মালদ্বীপে মারা যাওয়া আছিয়ার লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তার পরিবার খুবই দরিদ্র। তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তার জন্য চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলা হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ১০ নভেম্বর মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে একটি বাড়িতে আগুন লেগে বাংলাদেশিসহ ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। মালের মাফান্নু এলাকার ওই বাড়িতে থাকতেন তারা। যেখানে আগুন লেগেছিল, এটি ঘনবসতি এলাকা হিসেবে পরিচিত।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসুস্থ বোনকে দেখেতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী (১৯)।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল হাইকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে ধনবাড়ী থানার পুলিশ। ধর্ষণে অপর সহযোগী আল-আমিন পলাতক রয়েছেন। তাঁরা উভয়েই ওই হাসপাতালের নৈশপ্রহরী পদে কর্মরত।
রোববার (১৬ অক্টোবর) ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে ধনবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেছে। তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত আব্দুল হাই উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের নরিল্যা গ্রামের আবু হানিফের ছেলে, অপর অভিযুক্ত আল-আমিন একই গ্রামের বাসিন্দা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) ধনবাড়ী হাসপাতালে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, গত বুধবার (১২ অক্টোবর) বড় বোন অসুস্থ হলে তাঁকে ধনবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাতপাতালে বোনকে দেখতে এসে আ. হাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হলে তিনি কৌশলে মোবাইল নম্বর নেন। তারপর তিনি নানাভাবে সহযোগিতার কথা বলেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালের একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন আব্দুল হাই। তাঁকে সহযোগিতা করেন আল-আমিন। পরদিন আবারও ধর্ষণ করেন আব্দুল হাই।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহানাজ সুলতানা জানান, ‘এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আইনের প্রতি আমরা সবাই শ্রদ্ধাশীল।’
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম জসিম উদ্দিন জানান, ‘মেয়েটি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্ত আ. হাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সহযোগী আল-আমিনকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে প্রাইভেটকার (ঢাকামেট্টো-ভ-০২-০৯৩৭) চাপায় একজন পথচারী নারী নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ধনবাড়ী উপজেলার জাগিরাচালা-মধুপুর সড়কে এই দূর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাগিরাচালা এলাকার আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী কল্পনা বেগম বিকেলে পাশের গ্রামে মেয়ের জামাই বাড়ী বেড়াতে যাচ্ছিলো। হঠাৎ করেই পিছন থেকে একটি প্রাইভেটকার তাকে চাপ দেয়। এতে ঘটনা স্থলেই কল্পনা বেগমের মৃত্যু হয়।
এ সময় প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কাঁঠাল গাছের সাথে ধাক্কা লেগে ধুমড়ে মুচড়ে যায়। প্রইভেটকারে থাকা ৪ জনই গুরুত্বর আহত হন। প্রাইভেটকার আরোহী ৪ জনই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলেও তারা জানান।
ধনবাড়ী থানার ওসি তদন্ত (দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা) ইদ্রিস আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনা স্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও গাড়ী জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। আহত ৪ জন কে উদ্ধার করে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এসএসসি পরীক্ষায় প্রশিক্ষণ ও আলোচনা শেষে স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে হাফ ট্রাকের ধাক্কায় ছানোয়ারা খাতুন (৩৫) নামে এক স্কুল শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন তার স্বামী স্বপন তালুকদার।
সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নের কামাড়পাড়া বাজার সংলগ্ন মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ছানোয়ারা খাতুন গোপালপুর উপজেলার মাহমুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন ।
তিনি ও তার স্বামী স্বপন তালুকদার উপজেলার কেন্দুয়া গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
এ ব্যাপারে উপজেলার মাহমুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান জানান, ছানোয়ারা খাতুন হেমনগর শশীমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পান। এ জন্য সোমবার বিকালে গোপালপুর সরকারি কলেজে কক্ষ পরিদর্শক প্রশিক্ষণ ও আলোচনা শেষে তার স্বামীর মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি রওনা হন। পথিমধ্যে ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নের কামাড়পাড়া বাজার সংলগ্ন মোড়ে পৌঁছলে হাফ ট্রাকের ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়ে যায় ছানোয়ারা খাতুন। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয় এবং তার স্বামী আহত হয়।
স্বামী স্বপন তালুকদার জানান, দুর্ঘটনায় সময় ছানোয়ারা খাতুন মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গিয়ে তার মাথা ট্রাকের সাথে প্রচন্ড জোরে ধাক্কা খায়। ফলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. চাঁন মিয়া সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ ২৬৬ ঘনফুট চোরাই মেহগনির কাঠ উদ্ধার ও একজনকে আটক করেছে টাঙ্গাইল বন বিভাগ।
রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ত্রিপলে ঢাকা অবস্থায় একটি ট্রাক থেকে কাঠগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় ট্রাক চালককে আটক করা হয়েছে।
আটককৃত ট্রাক চালক টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নলহড়া গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে মোস্তাক আহমেদ লাকী।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা পাচারের উদ্দেশে কাঠগুলো ট্রাকের ওপর ত্রিপল দিয়ে লুকিয়ে রেখেছিল। এ সময় স্থানীয় বিট কর্মকর্তা পিছু নিয়ে ট্রাকটিকে আটক করে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর করটিয়া পরীক্ষণ ফাঁড়ির স্টেশন কর্মকর্তা সোলাইমান মিয়া জানান,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৬৬ ঘনফুট চোরাই মেহগনি কাঠ ভর্তি ট্রাকটি আটক করা হয়। ট্রাকটি জামালপুর থেকে ঢাকার উত্তরার আজমপুর যাচ্ছিল। চক্রটি সংরক্ষিত মেহগনি কাঠ কেটে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছিল। এ সময় ট্রাক ড্রাইভারকেও আটক করা হয়।
টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান জানান, বৈধ কাগজপত্র না থাকায়, ট্রাকটি আটক করে চোরাই মেহগনি কাঠ জব্দ করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে বন আইনে মামলা করা হয়েছে। এ সময় ট্রাক চালকেও আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান,এ ধরনেরই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ ভাতিজা ঢাকায় চাকরি করেন। স্ত্রীকে রেখেছিলেন গ্রামের বাড়িতে। চাচা মিজানুর রহমান (৩৫) সেই সুযোগ নিয়ে ভাতিজা-বউয়ের সঙ্গে গড়ে তোলেন প্রেমের সম্পর্ক। এরপর পালিয়ে যান তারা। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর উপজেলার বানিয়াজান গ্রামে।
জানা যায়, চাচা মিজানুর রহমান এক সন্তানের জনক। ওই গৃহবধূরও রয়েছে ৬ বছরের এক ছেলে সন্তান। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচার ঝড় বইছে।
পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, বিয়ের পর থেকেই ওই গৃহবধূকে রেখে তার স্বামী ঢাকায় চাকরি করে। বিয়ে করেছেন প্রায় ৭-৮ বছর আগে। মিজান এর আগেও আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। পরকীয়ার ঘটনা প্রথম স্ত্রী জেনে গেলে তিনি চলে যান। আবার দ্বিতীয় বিয়ে করলে সে বউও চলে যায় এই পরকীয়ার কারণেই।
এদিকে ওই গৃহবধূর মা-বাবা কেও বিষয়গুলো জানানো হয় স্বামীর পরিবার থেকে। সোমবার ( আগস্ট) রাতে দুইজনকেই আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে পরিবার। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিজান গৃহবধূকে বিয়ে করতে ঘটনাস্থলে কাজী ডাকেন। কাজী বিয়ে পড়াতে অসম্মতি জানিয়ে চলে যান। ঘটনাটি জানাজানি হলে খামার ফেলে বুধবার (৩ আগস্ট) সকালে মিজান ওই গৃহবধূকে নিয়ে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে ওই গৃহবধূর স্বামী কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় কাজী মুকুল হোসেন জানান, ‘ওই রাতের ঘটনাতে আমাকে ডাকা হয়েছিল। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দেখে চলে এসেছি।’
এ বিষয়ে চাচা মিজানুর রহমানের মোবাইল নম্বরে একধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার ফটিক জানান, তিনি ঘটনাটি জেনেছেন। এলাকাতে খুবই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটা খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সাজেদা বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধা রোজারত (রোজদার) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
সােমবার (১ আগস্ট) দুপুরে পৌর শহরের বর্ণি চন্দবাড়ী উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাজেদা বেগম ওই এলাকার আলেব আলীর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী।
নিহতের মেয়ে আছমা বেগম জানান, সােমবার সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিল। মা নফল রােজা রেখে সকাল থেকেই বাড়ির পাশের জমিতে কাজ করছিল। দুপুরে গাছ থেকে লেবু উঠিয়ে ঘরে প্রবেশ করার সময় টিনের বেড়াতে তার স্পর্শ লাগে। বেড়াতে স্পর্শ লাগতেই বিদ্যুতস্পৃষ্ট হন তিনি।
তিনি আরো জানান, ঘরের মেইন সুইচ দ্রুত বন্ধ করে তাঁকে হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যান। তিনি আরও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মা বলেছিল লেবুর শরবত দিয়ে ইফতার করবে। তাঁর ভাগ্য আর লেবুর শরবত দিয়ে ইফতার করা হলাে না।
পৌর মেয়র মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান বকল জানান, ‘বৃদ্ধাটির পরিবার খুবই হতদরিদ্র ও শান্ত প্রকৃতির। তাঁর মৃত্যুর খবরে এলাকায় শতশত লােকজন ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। রাত ১০ টায় তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।’
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাে. চান মিয়া জানান, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়না তদন্তে পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।বিদ্যুত লাইনের ক্রটিগুলাে চেক করে সংযােগ দেয়া হয়েছে।
প্রকাশ, মৃত্যুর খরব পেয়ে সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান, সহকারী পুলিশ সুপার মধুপুর সার্কেলের (এএসপি) মােছা: শাহিনা আক্তার, পৌর মেয়র মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান বকল, ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাে. চান মিয়া, ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ইদ্রিস হােসাইন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।