একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গত বছর ১৩৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২২৯ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১৮৬ জন। এরমধ্যে ৪৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৭৮ জন। ৫৪ জন অটোরিকশা যাত্রী এবং ৪৮ জন পথচারী এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কটি যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে মহাসড়কের এলাকাভিত্তিক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, টাঙ্গাইল জেলায়- বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্বরে ১টি দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত, ১৭ জন আহত, ভূঞাপুরে ৫টি দুর্ঘটনায় ৯জন নিহত, ৮ জন আহত, কালিহাতীতে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৪২ জন নিহত, ৭৯ জন আহত, রাবনা বাইপাসে ৪টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত, ৬ জন আহত, মির্জাপুরে ১৫টি দুর্ঘটনায় ৩০ জন নিহত ও ৩৮ জন আহত হয়েছে।

গাজীপুর জেলায়- জয়দেবপুরে ৮টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত, ৮ জন আহত, গাজীপুর সদরে ১২টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত, ৩ জন আহত, শ্রীপুরে ৯টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত, চন্দ্রায় ১টি দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত, কালিয়াকৈরে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত, ১৮ জন আহত, কোনাবাড়িতে ১টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত, গাছায় ৫টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত, ২ জন আহত, রাজেন্দ্রপুরে ২টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত, টঙ্গীতে ১৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত, ৩ জন আহত, চন্দনায় ১টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত, কড্ডায় ২টি দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত, ৩ জন আহত ও ফ্লাইওভারের ওপরে ২টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা পর্যালোচনা ও মন্তব্য করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরেও দুর্ঘটনা ও হতাহত কমছে না। এর কারণ মহাসড়কে দ্রুতগতির ভারী যানবাহনের পাশাপাশি হালকা ও স্বল্পগতির অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, প্যাডেল রিকশা ইত্যাদি চলাচল করছে। এছাড়া মহাসড়কের যেকোনো স্থানে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছে। যানবাহনের বেপরোয়া গতিও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কাজ করছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, এই পরিস্থিতিতে মহাসড়কটিতে দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচলে সার্ভিস রোড নিশ্চিত করতে হবে, মহাসড়কে স্পিড ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি বাড়াতে হবে।

মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য আলাদা লেইন আছে। তারপরেও অনেক সময় থ্রি-হুইলার ও মোটরসাইকেল মূল সড়কে উঠে পড়ে, ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।
তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনা রোধে জেলা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত জনসচেতনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আশা করি খুব দ্রুতই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দুর্ঘটনার হার কমে আসবে।
উল্লেখ্য, মহাসড়কের কালিহাতী, মির্জাপুর, শ্রীপুর, টঙ্গী এবং গাজীপুর সদর- এই স্পটগুলো অতি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এসব স্পটে দুর্ঘটনারোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরিভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া রেল পুলিশের তথ্যমতে, টাঙ্গাইল জেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থেকে মির্জাপুরের অংশ পর্যন্ত ৫৩ কিলোমিটার টাঙ্গাইল অংশে চলতি বছর ২২টি অরক্ষিত রেল ক্রসিংয়ে কাটা পড়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব টোলপ্লাজার ওজন স্কেলের ২০০ গজ দূরে ঢাকাগামী লেনে অজ্ঞাত এক যুবক গাড়ি চাপায় নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা পুলিশ।
বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১ টা ১০ মিনিটের দিকে ওজন স্কেলের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার রাতে সেতু পূর্ব টোলপ্লাজার ওজন স্কেলের ২০০ গজ দূরে অজ্ঞাত এক যুবক রাস্তা পার হচ্ছিলেন। পরে সে ঢাকাগামী লেনে পৌঁছলে অজ্ঞাত গাড়ি চাপায় থেতলে ঘটনাস্থলে মারা যায়।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত যুবকটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। যুবকটির পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ কাজ করছে। নাম-পরিচয় শনাক্তের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে যুবকটির মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে রেজিষ্ট্রেশনবিহীন (অবৈধ) বালুবাহী ট্রাকের চাকায় পৃষ্ট হয়ে রুবায়েত (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের ল্যাংড়া বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ওই শিশু উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের কড়িয়াটা গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভাতা বিষয়ক কাজ শেষে প্রতিবন্ধী রিপন মিয়া তার ছেলে রুবায়েতকে নিয়ে বাড়ী ফিরছিলেন। এসময় ল্যাংড়া বাজার এলাকায় প্রধান সড়ক পার হওয়ার সময় ভেঙ্গুলা বাজার থেকে ছেড়ে আসা বালুবাহী একটি ট্রাক শিশুটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ট্রাকের চালককে আটক করে হয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সড়ক দূর্ঘটনায় হালিম মিয়া ( ৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। এই ঘটানায় আহত হয়েছে আরো একজন । বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত হালিম মিয়া কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের জোকারচর এলাকার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,মঙ্গলবার ( ৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব মহাসড়কের উপজেলার জোকারচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় । এতে ঘটনাস্থলেই হালিম মিয়া নিহত হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা যোগে বঙ্গবন্ধু সেতু গোলচত্ত্বরের দিকে যাচ্ছিলেন হালিম। এসময় অটোরিক্সাটি জোকারচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে ওই বৃদ্ধ নিহত হয়।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় আহত একজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি বাজারে আগুন লেগে সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এসময় চারটি দোকান ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার আইসড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম আইসড়া গ্রামের মৃত সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
তিনি বাজারে টেইলার্সের দোকান করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ২টার দিকে আইসড়া বাজারে হঠাৎ করে একটি দোকানে আগুন জ্বলে ওঠে।
এসময় বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। এরমধ্যেই চারটি দোকানে আগুনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় টেইলার্সের দোকানের ভেতরে থাকা মঞ্জুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আগুনে চারটি দোকানে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল সরকার বলেন, হঠাৎ করে টেইলার্সের দোকান থেকে আগুন জ্বলে ওঠে। এসময় ওই দোকানের ভেতরে মঞ্জুরুল ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে বের হতে না পারায় আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়। আগুনে চারটি দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বাসাইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম বলেন, টেইলার্সের দোকানে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করছি টেইলার্সের দোকানে থাকা ব্যক্তিটি আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে সেখানেই মারা যান। এ ঘটনায় চারটি দোকান ঘর পুড়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে ফেরদৌস (২০) নামের এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের দামিয়া গ্রামে নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফেরদৌস গাইবান্ধা জেলার সাধুল্লাপুর উপজেলার আলিনগর গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে। তিনি সখীপুরে ফুপার সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক সুকান্ত জানান, ফেরদৌস উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের দামিয়া গ্রামের হেকমত আলীর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে রডের কাজ করছিলেন। এ সময় ভবনের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় সখীপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ট্যাফে ট্রাক্টরের চাপায় আব্দুল হালিম (৮০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের চকদই চাকলাদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হালিম মিয়া হুগড়া ইউনিয়নের কৃষ্টনগর গ্রামের মৃত মানিক উল্লাহর ছেলে।
জানা যায়, আব্দুল হালিম সকালে তোরাপগঞ্জ বাজারে শীতকালীন সবজি কপি বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি চকদই চাকলাদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছলে একটি ট্যাফে ট্রাক্টর পেছন থেকে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা অবৈধ বালু উত্তোলন ও ট্যাফে ট্রাক্টর বন্ধ এবং চালক ও হেলপারের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।
কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন জানান, ‘আমার ইউনিয়নে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব বালু অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি অবৈধ ট্যাফে ট্রাক্টরের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। এসব ট্রাক্টরের চালকদেরও লাইসেন্স নেই। গত বছরও অবৈধ ট্যাফে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে একজন মারা গেছেন। এসব বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
কাগমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ শাহিনুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ অন্যান্য দিনের মতো রোববার (২২ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের লাউহাটি বাজারে নিজের স্টেশনারি দোকানে কাজ করছিলেন হাসমত আলী খান। তখন খবর পান, একটি মহিষ এসেছে তাঁদের এলাকায়। যাঁকে সামনে পাচ্ছে, তাঁকেই আক্রমণ করছে। দোকান ফেলে তিনি মানুষকে রক্ষা করতে ছুটে যান। সেখানে মহিষের আক্রমণের শিকার হন। পরে সোমবার (২৩ জানুয়ারি) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
হাসমত আলী খান উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি তারুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক জানান, হাসমত তাঁকে ফোন করে মহিষের আক্রমণের কথা জানান। এ ব্যাপারে পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। এর মধ্যে মানুষের যাতে ক্ষতি না হয়, সে জন্য তিনি মহিষটির আশপাশেই অবস্থান করছিলেন। মানুষকে সতর্ক করছিলেন। এর মধ্যে হঠাৎ তাঁকেই আক্রমণ করে বসে মহিষটি।
হাসমত আলীর মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁর স্বজন ও এলাকার মানুষ। এই মহিষের আক্রমণে হাসমত আলী ছাড়াও হাজেরা বেগম ও কিতাব আলী নামের দুজন মারা গেছেন। তাঁদের মৃত্যুতে এলাকার সবাই শোকাহত।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, রোববার পার্শ্ববর্তী বারোপাখিয়া গ্রামের শরীফ মিয়ার মহিষ হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। যাঁকে সামনে পায়, তাকেই গুঁতা দিতে থাকে। মহিষের আক্রমণে শরীফ মিয়া আহত হন। একপর্যায়ে মহিষটিকে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করেন। পরে মহিষটি লাউহাটি এলাকায় চলে আসে। সেখানেও মানুষের ওপর আক্রমণ শুরু করে।
লাউহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন মোহাম্মদ খান জানান, মহিষের আক্রমণে ১০–১২ জন আহত হন। এর মধ্যে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারুটিয়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম (৪২) রোববার বিকেলে মারা যান। সোমবার রাতে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাসমত আলী (৫৭)। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বারোপাখিয়া গ্রামের কিতাব আলীর অবস্থার অবনতি হয় সোমবার রাতে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটিতে পাগলা মহিষের আক্রমণে নারীসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজন হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতরা হলেন, লাউহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসমত আলী খান, লাউহাটি ইউনিয়নের তারুটিয়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম, এলাসিন ইউনিয়নের বারপাখিয়া গ্রামের কিতাব আলী।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, রবিবার সকালে একটি পাগলা মহিষ লাউহাটি ইউনিয়নের তারুটিয়া গ্রামে জনসাধারণের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় মহিষটির আক্রমণের শিকার হয়ে অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর কমুদিনী ও টাঙ্গাইল জেনালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেলে ৩টার দিকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাজেরা বেগম। খবর পেয়ে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা সেখানে যান। তার আগেই স্থানীয়রা মহিষটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
এদিকে হাসমত আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিবার রাতেই সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার কারণে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সোমবার রাত ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। অপর আহত কিতাব আলী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সোমবার বিকেলে মৃত্যুবরণ করেন।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রানা মিয়া জানান, অতি উৎসাহী লোকজন পিছু নেওয়ায় মহিষটি আরও উত্তেজিত হয়ে উঠে। লোকজন মহিষটিকে ধাওয়া না করলে হয়তো হতাহতের সংখ্যা আরো কম হত । খবর পেয়ে ঢাকা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে জানিয়েছিলাম।
তিনি আরো জানান,রবিবার বিকেলে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে প্রাণি ফ্রাংকুলাইজেশ (অচেতন) দল ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয় লোকজন মহিষটিকে মেরে ফেলে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় পাগলা মহিষের তান্ডবে হাজেরা বেগম(৫০) নামের এক নারী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ২৪ জন।
রবিবার (২২ জানুয়ারী) সকালে ঘন্টাব্যাপী তান্ডব চালায় এ পাগলা মহিষটি।
নিহত ওই নারী উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পুলিশ প্রসাশন ও স্থানীদের সহযোগীতায় মহিষটিকে মেরে ফেলা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা।
তিনি জানান, রবিবার সকাল থেকেই উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নে তারটিয়া গ্রামে ঘন্টাব্যাপী তান্ডব চালায় পাগলা মহিষটি। এতে স্থানীয় ২৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুরতর আহত হাজেরা বেগম নামের এক নারী মির্জাপুর কুমুদিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারধীন অবস্থায় বিকাল ৩ টায় মৃত্যু বরণ করেন। বাকি ২৪ জনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, স্থানীয়দের সহযোগীতায় জেলা প্রণি সম্পদ অধিদপ্তর ও পুলিশ ঘন্টাব্যাপী প্রচেষ্টার ফলে মহিষটিকে মারতে সক্ষম হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বালুর ঘাটে কাজ করার সময় বালুর স্তুপের নিচে চাপা পড়ে রাশেদুল ইসলাম (২৫) নামে এক ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) মালিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও তিনজন।
শনিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নিকরাইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া এলাকার ভাবীর ঘাট নামে পরিচিত বালুর ঘাটে ঘটনাটি ঘটে। এই ঘাটের ইজারাদার হাশেম প্রামানিক।
নিহত রাশেদুল উপজেলার পলশিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। গুরুতর আহত জুয়েল (২৪) সিরাজকান্দি গ্রামের অহসান প্রামানিকের ছেলে।
এ ঘটনায় আহত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও গুরুতর আহত একজনকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বালু চাপায় রাশেদুল ইসলাম (২৫) নামের ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) এর মালিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিকরাইল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড সারপলশিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য নুহু।
নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ জানান, বালুর স্তুপ ছিল অনেক উঁচু। এতে তিন চারজন সেই বালুর স্তুপে উঠে সেখানে থাকা পাইপ খুলতে গিয়েছিল। এ সময় বালুর স্তুপ ভেঙে তাদের উপর পড়ে ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুইজন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম (পিপিএম) জানান, বালুর স্তুপের নিচে চাপা পড়ে ভেকুর মালিক রাশেদুলের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত জুয়েল নামের একজনকে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলেও পরে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী তিশা আক্তার (১১) নামে এক স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার বাবা মো. রেজাউল করিম আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৪৮ নম্বর পিলারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তিশা পাবনা জেলার আতাইকুলা উপজেলার মধুপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, বাবা-মেয়ে মোটরসাইকেল যোগে টাঙ্গাইলের দিক থেকে পাবনায় নিজেদের বাড়ি যাচ্ছিলেন। বঙ্গবন্ধু সেতুর ৪৮ নম্বর পিলারের কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটিকে একটি বাস পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিশা নিহত হন। আহত অবস্থায় তার বাবা রেজাউলকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, নিহত তিশার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক বাসটি আটকের চেষ্টা চলছে।