একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে আর্জেন্টিনার পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠে তানভীর হাসান তন্ময় (১৩) নামের এক স্কুলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার(১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পৌর এলাকার সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের ভাই ভাই সিনেমা হলের সামনে ( ৩ নম্বর ওয়ার্ড) এই দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তন্ময় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জার্মান প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে।
সে স্থানীয় সখীপুর পিএম পাইলট মডেল গভঃ স্কুল এন্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা সমর্থক তানভীর হাসান তন্ময় কাঁচা বাঁশে পতাকা টানাতে গিয়ে বাসার ৫ তলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়। পরে তাক আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আয়েশা জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ছেলেটির মৃত্যু হয়েছে। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম তন্ময়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ট্রাকের চাপায় রহিম বাদশা (২৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৪ নভেম্বর)সকালে উপজেলার সাগরদীঘি-গারোবাজার আঞ্চলিক সড়কের মুরাইদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সাগরদীঘি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আতোয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত রহিম বাদশা মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের টিক্কার বাজার এলাকার ময়েজ আলীর ছেলে। তিনি ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের সানবান্ধা এলাকার ইকো ফ্রেন্ডস গ্রিন ব্রিকস কম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার সকালে তিনি বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে সাগরদীঘি-গারোবাজার সড়কের মুরাইদ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহি ট্রাক তার মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মাথা থেঁতলে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সাগরদীঘি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আতোয়ার রহমান জানান, ট্রাকটিকে আটক করা যায়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর আব্দুস ছোবাহান (৪২) নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা রেলস্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের সদর উপজেলায় রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের সুপারিন্টেনডেন্ট (চলতি দায়িত্ব) অমল চন্দ্র সরকার।
ঘারিন্দা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার নাজমুল হুদা বকুল জানান, মঙ্গলবার দুপুরে আব্দুস ছোবাহান সদর উপজেলার ঘারিন্দা রেলস্টেশনের বসে ছিলেন।সেখান থেকে উঠে চলে যাওয়ার সময় ঢাকাগামী সিল্ক সিটি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।
গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতি উপজেলার আনালিয়াবাড়ি এলাকায় বাসচাপায় নারীসহ দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।
রোববার (৬ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে নিহতরা স্বামী-স্ত্রী।
বঙ্গবন্ধু সেতু পুর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, রাতে মোটরসাইকেলযোগে এক নারী ও পুরুষ উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় পিছন থেকে একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের দুই জনের মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নিহতরা স্বামী-স্ত্রী। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। সকালে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা এলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় সেজাউল ইসলাম (৩০) নামে এক ট্রাক চালকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৪ নভেম্বর) রাত ১ টার দিকে মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার ক্যাডেট কলেজ নামক স্থানে তার মৃত্যু হয়। সেজাউল বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামের এরফান আলীর ছেলে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা টুটুল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাত ১ টার দিকে সেজাউল ইসলাম মিনি ট্রাক নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন। মহাসড়কের ক্যাডেট কলেজ নামক স্থানে পৌঁছালে সামনে থাকা লোবেট গাড়ির পেছনে ধাক্কা মারে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নির্মাণাধীন ভবনের লিফট স্থাপনের জন্য খুঁড়ে রাখা গর্তের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৪ নভেম্বর) রাতে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
দুই শিশু হলো গোড়াই সোহাগপুর এলাকার লাল চাদের ছেলে আব্দুল্লাহ (৩) এবং একই এলাকার ফজলুল করিমের মেয়ে খাদিজা (৩)।
পুলিশ জানায়, বেলা সাড়ে চারটার দিকে পাশাপাশি বাড়ির ওই দুই শিশু বাড়ি থেকে বের হয়। বাড়ির লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই এলাকার খোরশেদ আলমের নির্মাণাধীন ভবনের লিফট স্থাপনের জন্য খুঁড়ে রাখা গর্তের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাদের দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ দুটির সুরতহাল করা হয়েছে। গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
টাঙ্গাইলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) এস এম মনসুর মুসা, মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে খাওয়ার ওষুধ মনে করে বিষ পানে শতবছর বয়সী চান মাহমুদ নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
তার বাড়ি উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের গিলারচালা গ্রামে। এ ঘটনায় সখীপুর থানায় অপমৃত্যুর একটি মামলা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৯ অক্টোবর) বৃদ্ধ চান মাহমুদ দুপুরের খাবারের পর নিজের খাওয়ার ওষুধ মনে করে ভুলক্রমে ঘরে রাখা ঘাস মারার বিষ পান করে ফেলেন। পরে তিনি অসুস্থবোধ করলে মেয়েকে ডেকে বলে ‘ দেখত মা ইডা আমি কি খাইলাম ।’ প্রথমে তাকে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তার মৃত্য হয়।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, এঘটনায় সখীপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ওই বৃদ্ধের লাশ ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌলি ঘোষপাড়ায় নানা বাড়ি বেড়াতে এসে নদীতে গোসল করতে নেমে দ্বীপ ঘোষ(১৪) নামে এক ভারতীয় কিশোরের পানিতে ডুবে করুন মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পৌলি নদীতে পৌলি ঘোষপাড়া শ্মশান ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কিশোর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের জলপাইগুড়ি জেলার ফাটাকাটা গ্রামের প্রকাশ ঘোষের একমাত্র ছেলে ও কালিহাতী উপজেলার পৌলি ঘোষপাড়া এলাকার যতীন ঘোষের নাতি।
স্থানীয় সুবল ঘোষ জানান, দীর্ঘদিন পর মায়ের সাথে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে সমবয়সী ছেলেদের সাথে পৌলি নদীতে গোসলে নামে দ্বীপ। একপর্যায়ে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার খাদে তলিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। খবর পেয়ে দায়িত্বরত ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবরী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪০ মিনিট উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে দিপকে উদ্ধার করে। স্থানীয়রা টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ডিফেন্সের ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখোঁজ দ্বীপকে উদ্ধার করা হয়। পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রাইভেট পড়তে এসে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরাঘুরি করতে গিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মো. লিটন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের ফলদা ঘোনাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকসহ তার দুই বন্ধু ও এক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছে।
নিহত লিটন গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের জোতআতাউল্ল্যা গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে ও ফলদা রামসুন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
আহত দুই বন্ধু একই গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে মারুফ (১৫), খলিলুর রহমানের ছেলে শাওন (১৫) ও পথচারী ফলদা ঘোনাপাড়া হাজী আবুল হোসেনের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৪৫)।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, সকালে বাড়ি থেকে তিনবন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে ওই এলাকায় একই স্কুল শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে আসে। তারা কোচিংয়ে বই রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়। পথিমধ্যে রাস্তায় এক পথচারীর সাথে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে চারজনই গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আহত চার জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মোটরসাইকেল আরোহী স্কুল ছাত্র লিটনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
তিনি আরো জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় তার বন্ধু মারুফ ও পথচারীকে জয়নাল আবেদীনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপর সহপাঠী শাওন স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। নিহত লিটনের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে টানা বর্ষণে ঘরে পানি ঢুকে আইপিএস তলিয়ে যেতে থাকায় তা উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শরীফ ফকির নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২৪ অক্টোবর) গভীর রাতে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া পাঞ্জাপাড়া এলাকায় মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শরীফ ফকির ওই এলাকার আইনজীবী আইয়ুব আলী ফকিরের ছেলে। তিনি গত পৌরসভা নির্বাচনে ১৮ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ১২টার দিকে শহরের সাবালিয়া পাঞ্জাপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছিল। টানা বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে আইপিএস তলিয়ে যাচ্ছিল। শরীফ তলিয়ে যাওয়া থেকে আইপিএস উদ্ধার করতে গেলে বিদ্যুতায়িত হন। বাবা মা ও আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে জানাজা নামাজ শেষে তাকে ভূঞাপুর উপজেলার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয় বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে ট্রাকের পেছনে চলন্ত মাইক্রোবাসের ধাক্কায় দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুইজন। সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মধুপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকালে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন, জামালপুর সদরের নারায়নপুর পুলিশ ফাড়ির সদস্য নুরুল ইসলাম ও সোহেল রানা। অপর নিহত হলেন ধর্ষণ মামলার আসামি লালন (২৪)। লালন জামালপুর সদরের গজারহাটা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মাজহারুল আমিন জানান, ধর্ষণ মামলার আসামিকে মেডিকেল পরীক্ষা শেষে মাইক্রোবাসে ঢাকা থেকে জামালপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ফেরার পথে গোলাবাড়ি এলাকায় একটি ট্রাকের পিছনে মাইক্রোবাসটি ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই পুলিশ সদস্য এবং ধর্ষণ মামলার আসামির মৃত্যু হয়।
তিনি আরো জানান, মঙ্গলবার সকালে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ সদস্যদের মরদেহ তাদের ইউনিটে পাঠানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া শরীয়তপুরগামী স্বর্ণদ্বীপ প্লাস লঞ্চে নিহত তিন যাত্রীর একজন টাঙ্গাইলের শাকিল আহমেদ শান্ত (২০)। তিনি সদর উপজেলা দাইন্যা ইউনিয়নের ঘোষপাড়ার মুদি দোকানী নাজিম উদ্দিনের ছেলে।
রোববার (২২ অক্টোবর) সকালে মৃত্যুর খবরটি শাকিলের বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে হৃদয় বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়।
পরে নিহত শাকিলের বড়ভাই সরোয়ার হোসেন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন মিয়াসহ কয়েকজন নিকট আত্মীয় টাঙ্গাইল থেকে শরিয়তপুর যান লাশ আনার জন্য।
সরোয়ার হোসেন রোববার সন্ধ্যায় জানান, আমরা তিন ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট শাকিল আহমেদ শান্ত। সে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টস কারাখানায় চাকরি করতো। যতটুকু জানতে পেরেছি শাকিলের বন্ধু গোসাইরহাটের তানজিলের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবার জন্য শনিবার ( ২২ অক্টোবর) রাতে রওনা হয়। তানজিল কয়েকবার আমাদের বাড়িতেও এসেছিল। ওরা একসাথে চাকরি করতো। রবিবার সকালে আমরা দুর্ঘটনার খবর পাই।
কাপড় ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন আরো জানান, আমার বোনটি প্রতিবন্ধী। সবার আদরের ছোট ভাই শাকিলের এই মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। এমন দুর্ভাগ্য যেনো আর কোন পরিবারে না আসে। আমরা আইনী প্রক্রিয়া শেষ করে লাশ বাড়িতে নিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করবো।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রবিবার সকালে আমার কাছে খবর আসে। পরে ইউপি সদস্য লিটন মিয়াকে শাকিলের লাশ আনতে আত্মীয় স্বজনদের সাথে পাঠিয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।