আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাসচাপায় জিহাদ (২২) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা একই পরিবহণের আরেকটি বাসে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে উপজেলার গোলাবাড়ীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জিহাদ উপজেলার গোলাবাড়ি ইউনিয়নের লোকদের গ্রামের জাকের আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জিহাদ তার অসুস্থ মামাকে দেখতে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে মধুপুর হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে গোলাবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে ঢাকা থেকে আসা ধনবাড়ীগামী বিনিময় পরিবহণের একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়।
পরে খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে নেমে পড়েন। পরবর্তীতে একই পরিবহণের বিনিময় বাসে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ব্যাপারে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমরানুল কবির বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।’
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা নির্বাচন কমিশনার কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের মারধরের ঘটনায় বিএনপির ১২০ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকালে গোপালপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
মামলায় গোপালপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত আলী, পৌর বিএনপি’র সভাপতি খালিদ হাসান উত্থান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. লিটন, যুগ্ম সম্পাদক মহির উদ্দিন, যুবদল নেতা কামরুল ইসলাম এবং পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মো. তুহিনের নাম উল্লেখ মামলা করা হয়েছে। বাকিরা অজ্ঞাত পরিচয়।
মামলায় বলা হয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খালিদ হাসান ও কাজী লিয়াকতের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। তাদের কি সেবা দিতে হবে জানতে চাইলে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, ‘তোরা আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেছিস’। পরে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
প্রতিবাদ করলে নির্বাচন কর্মকর্তার ওপর হামলা ও কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় কয়েকজন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ফোন ছিনিয়ে নিয়ে গালিগালাজ করা হয়। হামলায় অন্তত ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু রায়হান, ডাটা এট্রি অপারেটর আমজাদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন বলে মামলায় বলা হয়েছে।
ভাঙচুরের খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা তাজুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আমজাদ হোসেন বলেন, “আমরা শুধু ফেরাতে গিয়েছিলাম। কাউকে কোনো কিছু বলিনি। আওয়ামী লীগের ট্যাগ দিয়ে আমাদের বেদম মারধর করা হয়েছে। “এখনো জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি, তার আগেই নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, “তারা (বিএনপি নেতারা) বিভিন্ন সময় কাজে আসেন। সোমবার এসেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ আওয়ামী লীগ ট্যাগ দেওয়া শুরু করেন। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের অফিসে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি করছি।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। তাদের কাছে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে নিরাপত্তার জোরদারের দাবি করেছি। “এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের শাস্তি দাবি করছি। জাতীয় নির্বাচনের আগে এমন হামলা হবে, তা আমরা কখনও কল্পনাও করিনি।”
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “তাদের কোনো ভুল থাকলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে অবগত করতে পারত। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় সিএনজির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এক যাত্রী দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের তারাবাড়ী এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, এলেঙ্গা-ভূঞাপুর আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে একই দিক থেকে একটি মাইক্রোবাস ও সিএনজি চলছিল। পথিমধ্যে তারাবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে মাইক্রোবাসটি পেছন দিক থেকে সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পরপরই সিএনজির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে সিএনজিতে আগুন ধরে যায়। এতে সিএনজিতে থাকা এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই পুড়ে মারা যান এবং চালক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহত চালককে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আমজাদ হোসেন জানান, আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি এবং পুড়ে যাওয়া অজ্ঞাত মরদেহটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।
এ প্রসঙ্গে কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, “দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে মাইক্রোবাস ও এর চালককে আটক করা হয়েছে, গাড়িটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর নির্বাচন অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাসহ তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ডেটা এন্টি অপারেটর আমজাদ হোসেন ও স্ক্যানিং অপারেটর সুমন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানা যায়, সোমবার সকালে হঠাৎ করে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৩০ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী উপজেলা নির্বাচন অফিসে এসে নির্বাচন কর্মকর্তার ওপর হামলা করেন। পরে অফিসের আরো দুজন স্টাফকেও মারধর করা হয়। এ সময় নির্বাচন অফিস ভাঙচুর এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
গোপালপুর উপজেলা সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন অফিসারসহ তিনজন আহত হয়েছেন। অফিসের কিছু দালাল চক্র সুবিধা করতে পারছিল না। এজন্য হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি জানান।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি অফিস ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তার শরীরে আঘাত করার কারণে একটি মামলা দায়ের করা হবে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কাজি লিয়াকত বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তা নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ভুক্তভোগীদের নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার অফিসে গেলে তিনি চরম দুর্ব্যহার করেন। তবে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগটি মিথ্যা।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।সরকারি অফিস ভাঙচুর এবং কর্মকর্তাদের শরীরে আঘাত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে মথ বীজকে রং করে মুগ ডাল বলে বিক্রির অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে শহরের ছয়আনী বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়ার যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, টাঙ্গাইলের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন জেলা থেকে রং মেশানো মথ বীজ এনে মুগ ডাল বলে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে আসছেন। এ অভিযোগ পেয়ে শহরের ছয়আনী বাজারে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের প্রমাণও পেয়েছি। পরে যৌথভাবে দুই ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও যে ডাল বিক্রি করা হয়েছে, তা ফেরত এনে যেখান থেকে কেনা হয়েছে, সেখানে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দিয়ে মেমো দেখাতে বলা হয়েছে ব্যবসায়ীদের। অন্যথায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো, নকল ও ভেজাল খাদ্য বিক্রি না করতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে এসময়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের বেবিস্ট্যান্ড কান্দাপাড়া এলাকায় যৌথবাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের ২৪ ঘন্টা না পেরোতেই আবারও আগের মতই শুরু হয়েছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। এদিকে মাদকবিরোধী অভিযানের পর থেকেই পুনরায় মাদক ব্যবসা শুরু হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের যোগসাজশেই চলছে এই অবাধ মাদকের ব্যবসা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কান্দাপাড়া এলাকার “সোসাইটি ফর সোশ্যাল সার্ভিস পৌর আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের” প্রধান ফটকের কাছে প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। এখানে মোছা. সীমা, অনিতা রবিদাস ও লতা রবিদাসসহ আরও অনেকেই নিষিদ্ধ মাদক হিরোইন ও ইয়াবা বিক্রি করছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবকেরা মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহনে এসে এখান থেকে প্রকাশ্যেই মাদক ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিভিন্ন স্পটে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এইসব নিষিদ্ধ মাদক।
পাশের লিটন রবিদাস, রুনিয়া রবিদাস, চুতিয়া রবিদাস, দিপালি রবিদাসের বাসায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে চোলাই মদ, বাংলা মদ, কেরু এন্ড কোম্পানির বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ। এখানে দেখা মিলছে সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষদের। বিশেষ করে রিকশাচালক, অটোরিকশা চালক, সিএনজি চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এছাড়া শহরের উঠতি বয়সী বেশ কয়েকজন যুবকের মদ খেয়ে মাতলামি করতে দেখা গেল প্রকাশ্যেই।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও দিঘুলিয়া সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাজী ওমর ফারুক, স্থানীয় বাসিন্দা হাজী বাদশা মিয়া, মো. কবির হোসেন, মজিবুর রহমান, ব্যবসায়ী ববিতা আক্তার জানান, এই এলাকায় ভোর ৪টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যে বিক্রি করা হয়। এছাড়া এসব মাদকসেবীরা এলাকার বিভিন্ন দোকানে দিন-রাত আড্ডা দেয়। ফলে আমাদের ছেলে সন্তান দিন দিন বিপথে চলে যাচ্ছে। এলাকার মহিলা, শিশু-কিশোরসহ এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে। এইসম মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে প্রশাসনের যোগসাজশ রয়েছে। ফলে এলাকাবাসী বারবার বাধা দেওয়া সত্ত্বেও কোন ভাবেই এই মাদক বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

তারা আরও জানান, বিশেষ করে, একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি অত্যন্ত গহিত কাজ। আমরা এলাকাবাসী অবিলম্বে এই মাদকবিক্রি ও মাদক ব্যবসায়ীদের এলাকা থেকে উচ্ছেদের জোর দাবি জানাচ্ছি। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত উচ্ছেদ না করা হলে স্থানীয় যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছাবে।
টাঙ্গাইল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মো. ছাইফুর রহমান জানান, যেখানে মাদক থাকবে সেখানেই অভিযান চলবে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে শহরের কান্দাপাড়া এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়। এতে বেশ কয়েকজন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া ৩ হাজার লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণ ও ১০ লিটার চোলাই মদ ধ্বংস করা হয়। এসময় পাঁচ পুরিয়া হেরোইনও জব্দ করা হয়। মাদক রাখার দায়ে লাছিয়া রবিদাসকে গ্রেপ্তার ও টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশসহ যৌথবাহিনীর একটি দল মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এতে বিপুল পরিমাণ দেশিও চোলাই মদসহ ৬ জন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সিএনজির সংঘর্ষে চালকসহ দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের ঘারিন্দা আন্ডারপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার আকুয়া এলাকার কাছিম উদ্দিনের ছেলে সিএনজি চালক সাহেব আলী (৪৫) এবং একই উপজেলার ভুক্তা এলাকার নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে সিএনজি যাত্রী আব্দুল আলীম (৬০)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোররাতে ঢাকাগামী সার্ভিস লেনে চলন্ত একটি অজ্ঞাত ট্রাক সিএনজিটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই সিএনজি যাত্রী আব্দুল আলীম মারা যান। গুরুতর আহত চালক সাহেব আলীকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথে তিনিও মারা যান।
এলেঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান বলেন, নিহতদের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে একই সময়ে তিন সংগঠনের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ ধারা বলবৎ ছিলো। ফলে তিন সংগঠনের কেউই নির্ধারিত সমাবেশ করতে পারেনি।
এরমধ্যে উল্লেখিত স্থানে কোনো ধরেনের গণসংযোগ মিছিল, সভা-সমাবেশ, শ্লোগান, শোভাযাত্রা, পিকেটিং, অস্ত্র-শস্ত্র বিস্ফোরক দ্রব্য পরিবহনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায় , শনিবার দেলদুয়ার মিনি স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ আয়োজনের জন্য কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর যুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার ও টাঙ্গাইল জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একে ফজলুল হক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অনুমতির আবেদন করেন।
অন্যদিকে, একই স্থান ও তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল দেলদুয়ার উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ এবং দেলদুয়ার সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক ওয়াহেদুল্লাহ মিয়া সমাবেশ করার অনুমতি চান। একই স্থানে একই সময়ে পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ঘোষণায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা এবং গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কবার্তার প্রেক্ষিতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যুথী বলেন, একই স্থানে একাধিক সংগঠন সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে বিশৃঙ্খলা এড়াতে জনগণের জানমাল রক্ষার্থে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেলদুয়ার উপজেলার স্টেডিয়াম চত্বরের ৫০০ গজ পরিসীমার মধ্যে সব ধরনের সমাবেশ, শ্লোগান, মিছিল, শোভাযাত্রা, পিকেটিং, মাইক্রোফোন ব্যবহার, ঢাকঢোল পিটানো, গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারবে না।
আরমান কবীরঃ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শহীদ আব্দুর রউফের ২১তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল,স্মরণসভা ও গণভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ( ২৮ অক্টোবর) রাতে শহীদ আব্দুর রউফ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে পার দিঘুলিয়ায় শহীদ রৌফের বাসভবনের সামনে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সাবেক ছাত্রদল নেতা আকিবুর রহমান ইকবালের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিক, শহর বিএনপির সদস্য নুরুল ইসলাম ভিপি প্রমুখ।
এর পূর্বে দুপুরে শহীদ রউফের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পার দিঘুলিয়া শহীদ রউফের বাসায় সামনে দোয়া মাহফিল ও গণভোজের আয়োজন করা হয়।
এই দোয়া মাহফিল ও গণভোজে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট আলী ইমাম তপন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সদর উপজেলার বিএনপি’র সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান সোহেল , শহর বিএনপির সহ-সভাপতি শাহিন আকন্দ, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ভিপি মনির প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
সাহান হাসানঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ ও শোডাউন করেছে মহিলাদল নেত্রীরা।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা মহিলাদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিমের নেতৃত্বে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খন্ড খন্ড মিছিল এসে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে সমবেত হয়। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহিলা দলনেত্রী রহিমা বেগম, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহানাজ পারভীন, নাসরিন আজাদ, সোনিয়া হামজা, কবিতা বেগম, আবিদা অপু, এলি আক্তার, হাওয়া বেগম, খাদিজা আক্তার ইমু, আশা আক্তার, কোহিনুর বেগম প্রমুখ।
জেলা মহিলাদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিম বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কোন রাজনৈতিক সংস্কারের নীলনকশা নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেরও সুস্পষ্ট রূপরেখা। দুর্নীতি দমন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সকল প্রস্তাব এই ৩১ দফায় বিদ্ধমান। তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সেই সাথে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে অনূর্ধ্ব-১৬ বালক কাবাডির প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ন ফাইনালে হুগড়ার হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয় ৩৬-৩০ পয়েন্টে বিন্দুবাসিনী সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে অনুর্দ্ধ-১৬ বালকদের কাবাডি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলার ৪টি বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতার বাকী দুটি দল হলো বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজ ও শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয়।
প্রতিযোগিতার ১ম সেমিফাইনালে বিন্দুবাসিনী সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় ৪৪- ৭ পয়েন্টে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে হুগড়া হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয় ৪২- ১১ পয়েন্টে শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয়কে হারিয়ে ফাইনালে উঠে।
খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা মোঃ আকতারুজ্জামান।
জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম কাবাডি প্রতিযোগিতার সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়াও কামরুল ইসলাম রনি, কাবাডি আম্পায়ার ও কোচ গোলাম মোস্তফা, বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজর গোলাম মোস্তফা খোকন প্রতিযোগিতা আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি এবং নভেম্বরের মধ্যেই গণভোটের আয়োজনসহ ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখা।
সোমবার(২৭ অক্টোবর) বিকেলে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সমাবেশে জেলা আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্য রাখেন, নায়েবে আমীর অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির, সহকারী সেক্রেটারি হোসনে মোবারক বাবুল, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, খেলাফত মজলিসের জেলা সহ-সভাপতি মুফতি আব্দুর রহমান মাদানি, জেলা সেক্রেটারি মো. শহীদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মো. শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান, অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান কোরায়েশী, শহর আমীর অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনায় ছিলেন সদর উপজেলা আমীর অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন বাদল।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়।
জামায়াতের ৫ দফা দাবিগুলো হল- জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চালু, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন ও দুর্নীতির বিচার এবং জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।