/ হোম / জাতীয়
টাঙ্গাইলে খালাতো ভাই সেজে ওয়ার্কসপ কর্মচারীকে হত্যা, মা-ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৫ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে খালাতো ভাই সেজে ওয়ার্কসপ কর্মচারীকে হত্যা, মা-ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৫

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ওয়ার্কসপ কর্মচারীকে হত্যা মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে আসামিদের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার ঘাটাইল উপজেলার কামারচালা গ্রামের সোহাগ (১৫), উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের নাজমুল (২০), উপজেলার কামারচালা গ্রামের প্রধান আসামী সোহাগের মা খাদিজা (৩৩), উপজেলার নলমা গ্রামের সালমান জাহান জান্নাত (২১) ও জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তরুনীআটা গ্রামের সাব্বির তালুকদার জীবন (১৭)। এ সময় লুন্ঠিত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দীন প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান।

অতিরিক্তি পুলিশ সুপার শরফুদ্দীন বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঘাটাইল উপজেলায় মনির ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের ভিতর থেকে নাহিদ হাসান (১৬) নামের এক ওয়ার্কসপ কর্মচারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় হত্যাকারীরা একটি মোটরসাইকেল লুন্ঠন করে নিয়ে যান। পরে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার প্রধান আসামি হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত সোহাগকে ঢাকার কদমতলী এলাকা থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, তার তথ্য মতে অপর আসামী নাজমুলকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পোড়াবাড়ীর বাস স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাজমুলের দেওয়া তথ্য মতে খাদিজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। খাদিজার দেওয়া তথ্য মতে অন্য দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহাগ লুন্ঠিত মোটরসাইকেলের জন্য নাহিদকে হত্যা করে। এই হত্যা মামলার আসামী সোহাগ ছিল নাহিদের দু-সর্ম্পকের খালাতো ভাই। ঘটনার দিন তাদের ওয়ার্কসপের সামনে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায় তাকে। আশেপাশের যারা শ্রমিক ছিল তারা জিজ্ঞেস করলে সোহাগ বলে আমি নাহিদের খালাতো ভাই হই। সোহাগ রাতে নাহিদের সাথে ছিল।

সোহাগকে জিজ্ঞেসাবাদ করা হলে সে জানায়, মোটরসাইকেলের জন্য তারা ওয়ার্কসপ কর্মচারীকে হত্যা করে। তার মূল পরিকল্পনা ছিল এই মোটরসাইকেল সে নিবে। পূর্ব পরিকল্পনাভাবে নাহিদকে হত্যা করে মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। এই মোটরসাইকেল সরানোর জন্য সহযোগিতা করেছে সোহাগের মা খাদিজা। খাদিজা অপর দুজন সালমান ও সাব্বিরকে ২০ হাজার টাকা দেয়। তারা দুজন মোটরসাইলে নিয়ে জামালপুর রেখে আসে। হত্যার আগে আসামিরা নাহিদকে নেশা খাইয়েছে। নাহিদ নেশা খেয়ে যখন ঢোলে পরে। তারপর নাহিদকে কম্বল চাপা দিয়ে হত্যা করে। এ কথা আসামীরা স্বীকার করেছে। আসামীরা চারজন শ্রমিক তারা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে।

তিনি জানান, আসামীদের জিজ্ঞোসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে। এ ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:১৩:এএম ২ বছর আগে
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৯ নেতা সাময়িক বহিষ্কার - Ekotar Kantho

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৯ নেতা সাময়িক বহিষ্কার

একতার কণ্ঠঃ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ৯ নেতাকে বহিস্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়ানোর অভিযোগে কেন্দ্র থেকে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কেন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, সেটি লিখিত জানাতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা পরিপন্থী কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে মাভাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের এসব নেতাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কেন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, আগামী ৭ দিনের মধ্যে তার লিখিত জবাব বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দপ্তর সেলে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কৃত সভাপতি সমর্থিতরা হলেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এমরান হোসেন মামুন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এ. এইচ. এম. অপু হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান রকি, সাংগঠনিক সম্পাদক রাফিউল হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিক ইকবাল।

বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সমর্থিতরা হলেন- শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জোবায়ের দৌলা রিওন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাওন ঘোষ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ রাব্বু।

উল্লেখ্য, এর আগে গত (১৩ ফেব্রুয়ারি) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মানিক শীল ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর গ্রুপের মধ্যে রাতভর পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১০ জনেরও বেশি নেতাকর্মী আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হন বেশকয়েকজন।

এরপর ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট প্রেরণের জন্য ১৪ দিনের সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়।এছাড়া হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় মাভাবিপ্রবি ছাত্রলীগের দুপক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করেন।

গত (১৬ ফেব্রুয়ারি) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মানিক শীলসহ ১২ জনকে আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন সম্পাদকের অনুসারী জয় কুমার ধর।

অন্যদিকে, গত (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবিরসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করেন সভাপতির অনুসারী রুবেল হাসান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:৪৬:এএম ২ বছর আগে
কৃষিবিদ টাঙ্গাইলের দিনব্যাপী মিলনমেলা অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

কৃষিবিদ টাঙ্গাইলের দিনব্যাপী মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অবস্থানরত কৃষিবিদদের নিয়ে ‘কৃষিবিদ টাঙ্গাইল’ এর আয়োজনে মিলনমেলা ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ মিলনমেলা ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাধারণ সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও সাপোর্ট সার্ভিসেস) মো. জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফরিদুল হাসান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (অব:) ডা. মোঃ আফাজ উদ্দিন মিঞা, কে-কোচার এর চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ডা. খন্দকার হেলাল উদ্দিনসহ অন্যান্য কৃষিবিদগণ বক্তব্য রাখেন।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রেস প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আজিজুল হক।

মিলনমেলা ও সাধারণ সভায় টাঙ্গাইলে অবস্থানরত কৃষিবিদরা সপরিবারে অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০১:২৮:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পিকআপ-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে  নারীসহ ৪ জন নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পিকআপ-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ ৪ জন নিহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পিকআপ-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ ৪ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ২ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪ টার দিকে উপজেলার গোড়াই-সখিপুর আঞ্চলিক সড়কের বাঁশতৈল ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার ভাতগ্রাম গ্রামের বিদ্যুৎ মিয়ার ছেলে আকাশ (৩০), নয়াপাড়া গ্রামের সমেজ উদ্দিনের ছেলে নাজমুল (২৫), গাইড়া বেতিল গ্রামের মঈনউদ্দিনের ছেলে লুৎফর রহমার (৪০) এবং তেলিপাড়া গ্রামের তারা মিয়ার স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫)। তারা সিএনজির যাত্রী ছিল।

মির্জাপুর বাঁশতৈল ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) হুমায়ুন কবীর এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হুমায়ূন কবীর জানান, পিকআপের সঙ্গে সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সিএনজির তিন যাত্রী নিহত হয়। তাদের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও একজন নারী। এতে আরও ৩ জন আহত হয়।

তিনি আরও জানান, পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আহতদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দুর্ঘটনায় মোট ৪ জন নিহত হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:৫৫:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইল শাড়ির উৎস ও বিবর্তন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল শাড়ির উৎস ও বিবর্তন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শাড়ির প্রাথমিক খ্যাতি এর সূক্ষ্ম বুনট ও মিহি বস্ত্রের কারণে । এজন্য সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দাবি করতে পারে বসাক তাঁতিরা। টাঙ্গাইলের বসাক তাঁতিরা আসলে ঢাকা থেকে দেশান্তরী হওয়া তাঁতি। তাদের মধ্যে প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে তারা ঢাকা—মূলত ধামরাই ও চৌহাট নামক স্থান থেকে টাঙ্গাইলে এসে নিবাস গড়ে তুলেছিল। এ কথার সমর্থন মেলে বিশ শতকের প্রথমার্ধে ঢাকার বিশিষ্ট নাগরিক হাকিম হাবিবুর রহমানের প্রদত্ত বিবরণ থেকেও। তিনি সূক্ষ্ম কাপড় উৎপাদনের সঙ্গে এর পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন,

…কাগমারি পরগণা, যা পশ্চিম ময়মনসিংহের টাংগাইল মহাকুমার প্রসিদ্ধ জায়গা, সূক্ষ্ম কাপড় তৈরির ব্যাপারে প্রসিদ্ধি লাভ করে। এখানে এটা বলা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে ঢাকা শহর থেকে ছয় মাইল পশ্চিমে তুরাগ নামে এক নদী প্রবাহিত রয়েছে, যা ময়মনসিংহ জেলার আলপসিং পরগণার যমুনা নদী থেকে উৎপন্ন হয়েছে এবং ঢাকার আটীর সামনে বুড়িগঙ্গায় এসে মিলিত হয়েছে। এই নদীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য এই যে এর তীর বরাবর বাংলার বড় বড় জমিদার, মুসলিম নেতাদের এবং কিছু হিন্দু ধনী পরিবারের অধিবাস রয়েছে। কাশিমপুরের রায়সাহেবরা, তালেবাবাদের সিদ্দিকী সাহেবগণ, সফরতলীর খান সাহেবরা (সম্ভবত শ্রীফলতলী), পাক আল্লাহ (পাকুল্লা) এবং দেলদুয়ারের সৈয়দ ও গযনবী বংশীয়রা, করটীয়ার পন্নীরা, যারা ইউসুফযায়ী পাঠানদের একটা শাখা, সন্তোষের রাজা সাহেবরা, সকলেরই এই নদীর তীরে বসবাস। এঁরা ছাড়াও কিছু সম্ভ্রান্তজন ছিলেন যাঁরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছেন। এঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই শিল্প ঢাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ওখানে পৌঁছেছে। ১

বিশিষ্ট গবেষক জোলেখা হক লিখেছেন, “As mentioned before the homespun muslin thread was the domain of Hindu weavers of tantis, who, after the fall in the trade of fine muslin, gradually migrated from Dhaka to present-day Tangail and neighbouring Bajitpur, which also became famous as a center of fine cotton saris.” ২

এ দুই বিবরণের ভিত্তিতে বলা যায়, টাঙ্গাইলের তাঁতিদের উৎস হলো ঢাকার তাঁতি সম্প্রদায়। সে হিসেবে বলা যেতে পারে টাঙ্গাইলের তাঁতিরা মসলিন বয়নের কৌশল অনুসরণ করেই বস্ত্র বয়ন করত। তবে কালের প্রবাহে নানা পরিবর্তনও এসেছে তাতে। যেমন অতীতে সনাতনী গর্ত তাঁত ব্যবহার করে বস্ত্র বয়ন করা হতো, যেখানে মাকু ছোড়া হতো হাতে। কালক্রমে সনাতনী গর্ত তাঁতের সংখ্যা কমে গেছে (এখন নেই বললেই চলে) এবং এর বিকল্প হিসেবে বর্তমানে খটখটি বা ঠকঠকি তাঁত, ফ্রেম তাঁত এমনকি চিত্তরঞ্জন তাঁত পর্যন্ত ব্যবহার হচ্ছে। আগে শুধু ঝাঁপের সাহায্যে হাতে নকশা বুটি তোলা হতো। এখন জ্যাকার্ড ও ডবি ব্যবহার করে নানা ধরনের ডিজাইন করা হচ্ছে। বোধগম্য কারণে টাঙ্গাইলের বসাক তাঁতিদের বয়ন পদ্ধতি ও কৃৎকৌশলে নানা পরিবর্তন এসেছে।

টাঙ্গাইলের শাড়ির খ্যাতি নকশার কারণেই বিস্তার লাভ করেছিল। এবং এ খ্যাতি লাভের পেছনে মূলত দুটি কারণ সক্রিয় ছিল। প্রথমত, মসলিনের তাঁতি হওয়ায় তারা সূক্ষ্ম ও মিহি সুতা ব্যবহার করে উন্নতমানের বস্ত্র তৈরির কৌশল জানত। ফলে জোলা বা যোগীদের চেয়ে তাদের বস্ত্রের মান ভালো হতো। বঙ্গীয় শিল্প বিভাগের প্রতিবেদনে (১৯২৯) স্পষ্টই বলা হচ্ছে, The popularity of these cloths is due to the fact that they are fine and look well. The Bajitpur weavers use 120 to 250 counts of yarn for fine cloths. ৩

দ্বিতীয়ত, বিশ শতকের প্রথম দশকের মধ্যে নানা কারণে মসলিন বয়ন বন্ধ হয়ে গেলে টাঙ্গাইলের এ বসাক তাঁতিরা অতি দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিল। এর একটা হলো তৎকালীন আধুনিক প্রযুক্তি অর্থাৎ ঠকঠকি তাঁত ব্যবহার এবং ডবি ও জ্যাকার্ড মেশিনের ব্যবহার। বিভিন্ন সূত্র থেকে যা জানা যায়, তাতে মনে হয় যে ১৯২০-১৯৩০ কালপর্বেই টাঙ্গাইলে ডবি ও জ্যাকার্ড মেশিনসহ ফ্লাইসেটেল বা ঠকঠকি তাঁতের প্রচলন হয়েছিল। সাবুদ হিসেবে বলা যায়, টাঙ্গাইলে সরকারি বয়ন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে। ফলে ১৯২০-৩০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সেখানে ডবি ও জ্যাকার্ড চালু হয়ে যাওয়া খুবই সম্ভব। বঙ্গীয় শিল্প বিভাগের কুটির শিল্পবিষয়ক জরিপ প্রতিবেদন (১৯২৯) এবং রঘুনাথ বসাক (১৯১৩-২০০৯) এর সাক্ষ্য এ বক্তব্য সমর্থন করে। ৪

তার মানে অবশ্য এই নয় যে জ্যাকার্ড বা ডবি আসার আগে কাপড়ে কোনো নকশা ছিল না। তখনো নকশা হতো টাঙ্গাইলের শাড়িতে। তবে এখন যেসব রকমারি নকশা দেখা যায় টাঙ্গাইল শাড়িতে, সে রকম নয়। ডবি বা জ্যাকার্ড মেশিন আসার আগে টাঙ্গাইলে কী ধরনের নকশা হতো, কীভাবে বোনা হতো সেসব নকশা, তার চমকপ্রদ বর্ণনা দিয়েছেন রঘুনাথ বসাক (১৯১৩-২০০৯) তার অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিতে।

তার ভাষায় : “এরপর ১৩২৫ সনের পর হইতে ১৩৩৫ সন পৰ্য্যন্ত টাঙ্গাইল তাঁত বস্ত্র শিল্পের ক্রমে বৎসর পর বৎসর আরও উন্নতি লাভ করিতে লাগিল। এই সময়সীমার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য এই যে সাদা জমিনে তিন পাইড় অর্থাৎ পাছা পাইড় বলা হইত এগুলি প্রচুর তৈরি হইয়া বাজারে আদরের সহিত বিক্ৰী হইত। এই সময়ের কিছু কাল পূৰ্ব্ব হইতে কিছু কিছু নক্সীর কাজ আরম্ভ হইল যথা:- বেকী পাইড়, চোকবেকী, চাটাই পাইড়। তৎপর বৎসর গুলিতে জরির, আর্ট সিল্ক রঙ্গীন সুতা ইত্যাদি ক্রমে আমদানী হইতে লাগিল উহা দ্বারা ১৩৩০ হইতে ক্রমে চেন পাইড়, বিস্কুট পাইড়, জরির বা শিল্কের চোচা পাইড় পটাপটি পটাপটি (সিতি সিন্দুর) পাইড়, তাজ পাইড়, আনারকলি পাইড়, চুরি পাইড়, স্কার্ট (?) পাইড়, ফিতাচুরি ফিতা বালেট পাইড়; এতদ্‌ব্যতীত আরো বিভিন্ন পাইরের নমুনার বস্ত্র তৈরি হইত। কিন্তু এসব কাপড়ই সাদা জমিনে ছিল। ওপরোক্ত সাদা জমিনে লাল সাদা জমিনে পাছা পাইড় শাড়ী গুলি ১৩৩৫ সন হইতে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। তৎপর ১৩৩০ সনের পর হইতে ১৩৩৫ সন পর্যন্ত বয়ন শিল্পের আরও উন্নতি হয়। এ সময়ের মধ্যেও কোনো মেশিনের সাহায্য ছিল না। সবই হাত পা বাঁশ লোহার মাকুর সাহায্যে বস্ত্র তৈরী করিত।” ৫

অবশ্য উল্লেখ করা যেতে পারে, বিশ শতকের বিশ কিংবা ত্রিশের দশকে ঠকঠকি তাঁত এবং ডবি ও জ্যাকার্ড মেশিন টাঙ্গাইল ছাড়াও আরো অনেক স্থানেই প্রচলিত হয়েছিল, তার পরও টাঙ্গাইলের শাড়ি বিশেষ খ্যাতি লাভের কারণ কী? কারণ বসাক তাঁতিরা শুধু এটা ব্যবহার করেই থেমে থাকেনি। শাড়ির নকশায় নানা রকমের নতুনত্ব, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন ইত্যাদির ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছিল। ফলে টাঙ্গাইলের শাড়ির নকশায় নানা রকম উন্নতি ঘটেছে। তবে এ উন্নতি একদিনে ঘটেনি। রঘুনাথ বসাকের বিবরণ থেকে জানা যায়—

“তৎপর ১৩৩৫ সন হইতে জ্যাকার্ড মেশিন ও ফ্লাইসেটেলের সাহায্যে বসাক তাঁত শিল্পীদের উৎকৃষ্ট নমুনার বয়ন শিল্পের এক নবযুগ আরম্ভ হইল। টাঙ্গাইল নিবাসী মহাভারত বসাকের পুত্র রমেশ বসাক সৰ্ব্ব প্রথমে টাঙ্গাইলে ব্রিটিশ আমলের গভর্নমেন্ট উইভিং স্কুল হইতে জ্যাকার্ড মেশিনের ও ফ্লাইসেটেলের সাহায্যে বস্ত্র বয়ন করা শিক্ষা লাভ করে তথা হইতে উইভিং পাশ করে আসিয়া সে নিজ বাড়ীতে সৰ্ব্ব প্রথমে জ্যাকার্ড মেশিনে ও ফ্লাইসেটেলের একটি তাঁত বসাইয়া বিভিন্ন রকমের লতাপাতা নক্সী শাড়ী তৈরী আরম্ভ করে। ইহা দেখিয়া বিভিন্ন বসাকদের গ্রামের বসাকগণ ২/১টা করে জ্যাকার্ড মেশিনের তাঁত বসাইয়া লতাপাতার নক্সী শাড়ী তৈরী আরম্ভ করিতে লাগিল এবং এইরূপে ক্রমে ক্রমে প্রতি বসাকদের গ্রামে গ্রামে অল্প কয়েক বৎসরের মধ্যে প্রায় বসাকদের ঘরে ঘরে জ্যাকার্ড ও ফ্লাইসেটেলের সাহায্যে উৎকৃষ্ট বয়ন শিল্পের কাজ চালু হইয়া গিয়াছিল। এই প্রকারের ২/১ বৎসরের মধ্যে ১০০/১৫০ ডাঙ্গি জ্যাকার্ড মেশিনে বিভিন্ন নমুনার নক্সী লতাপাতা, জরি বা আর্ট শিল্পের শঙ্খ পাইড়, পাহাড় পাইড় বিশেষ উল্লেখযোগ্য।” ৬

পরবর্তীকালে এ নকশার নানা পরিবর্তন ঘটেছিল। এর বিবরণও রঘুনাথ দিয়েছেন—

“তৎপর ১৩৪০ সন হইতে ৫০/১০০/১৫০/২০০/২৫০/৩০০ ডাঙ্গি জ্যাকার্ড মেশিনের সাহায্যে সাদা ও রঙ্গিন জমিনের মধ্যে শুধু মিহি সুতায়, হাফ সিল্ক, (হাওয়া শাড়ী) ফুল সিদ্ধ শাড়ীগুলির মধ্যে লাল জরি কম, সাদা জরির ও লাল জরি সংমিশ্রণে ১০০/১৫০/২০০/২৫০ ও ৩০০ ডাঙ্গি ইত্যাদি নানা প্রকার লতাপাতা ডিজাইনের মিনা পাইড় শাড়ী তৈরী হইতে লাগিল।…এর ২/৩ বৎসর হইতে ঢাকা, কলিকাতা, বোম্বে ইত্যাদি বড় বড় সহর হইতে নূতন নমুনার ডিজাইন আনিয়া সুদক্ষ সুপার ফাইন্ বসাক তাঁত শিল্পীদের দ্বারা আরও অধিক উন্নত ধরনের শাড়ী তৈরী হইতে লাগিল। এই নমুনার শাড়ীগুলির আবার পৃথক পৃথক নাম রাখা হইয়াছিল যথা:- জরি ও সিল্কযুক্ত ‘মানে না মানা’, ‘মেট্রো’, ‘জয়হিন্দ’, ‘জর্জেট’, ইত্যাদি।…” ৭

ফলে দেখা যাচ্ছে, বিশ শতকের প্রথমার্ধেই টাঙ্গাইল শাড়ির নকশায় বাইরের প্রভাব পড়েছিল। এ ধারাবাহিকতা ১৯৪৭-এর দেশভাগের পরেও প্রবাহিত ছিল। তবে টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার আরেকটা পর্ব আছে, সেটার সূত্রপাত বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, বিশ শতকের আশির দশকে। এর সঙ্গে টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরের কর্ণধার মুনিরা ইমদাদের বিশেষ ভূমিকা আছে। এছাড়া পরবর্তীকালের ঢাকার বুটিক হাউজগুলোর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

ওপরের এ বিবরণ যদি আমরা গ্রহণ করি, তাহলে এখানে আমাদের যা বলার আছে তা হলো জামদানির মতো টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ির নকশা প্রাচীন কোনো ঐতিহ্য বহন করে, এমনটা বলা ঠিক হবে না। বরং ডবি ও জ্যাকার্ড মেশিন আসার পর টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার গল্পটা মূলত আত্তীকরণের ও আত্মস্থকরণের গল্প। এবং এটা জামদানির মতো অতটা প্রাচীনও নয়। কিন্তু অপেক্ষাকৃত অর্বাচীন হলেও টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার বৈচিত্র্য কিন্তু কম আকর্ষণীয় নয়।

মজার তথ্য হলো, এ দুই ধারার শাড়ির নকশা কিন্তু একটা আরেকটাকে কখনো কখনো প্রভাবিত করেছে। জামদানি শাড়ির একটা নকশার নাম টাঙ্গাইল্যা পাইড়। আবার জামদানির ডিজাইন অনুসরণ করে জ্যাকার্ড মেশিনের সাহায্যে শাড়ি তৈরি হতে দেখা যায় টাঙ্গাইলে। টাঙ্গাইলের সে নকশার নাম জামদানি পাইড়।

ঠকঠকি তাঁত ও ডবি বা জ্যাকার্ড মেশিন আসার আগে টাঙ্গাইলের শাড়িতে যে ধরনের নকশা হতো, তা ছিল সাধারণ মানের। সে সময়ের তাঁতের কাজের বিবরণ দিয়েছেন রঘুনাথ বসাক এ ভাষায়—

“তৎকালে বস্ত্র তৈরীর জন্য কোনো মেশিন ছিল না। শুধু হাত ও পা দ্বারা বাঁশ কাঠের সাহায্যে যন্ত্র তৈরী করিতে হইত। ফ্লাইসেটেল ছিল না। এক জোড়া ভালকাঠের দপ্তী দ্বারা, সুরু লোহার মাকুর দ্বারা, সুতার বওয়ের দ্বারা, ৮০০/৯০০/১,০০০/১১০০/১২০০/১৩০০ শানা দ্বারা, মাটী গর্ত করিয়া (পরীগাথ) তথায় বাঁশের রড় দ্বারা, পারাপারি দ্বারা সাদাসিদা ভাবে সব সাদা কাপড় তৈরী করিত। তখন এক ফর্দ রঙ্গিন শাড়ী ছিল না। পরীগাথার গর্ভের মধ্যে পা দিয়া ঝাপ ধরিত আর দুই হাত দ্বারা লোহার চিকন মাকু ডাইন হাতের আঙ্গুল দ্বারা ধাক্কা দিয়া বাম হাতে লইত এবং আবার বাম হাতের আঙ্গুল দ্বারা ধাক্কা দিয়া ডাইন হাতে লইত। এইভাবে সমস্ত রকমের বস্ত্র তৈরী করিত।” ৮

এ পদ্ধতিতে যেসব নকশা হতো, তা ছিল মূলত সরল ধরনের বিভিন্ন জ্যামিতিক নকশা। জটিল ও বাস্তবানুগ নকশা করার সুযোগ তাতে ছিল না। কিন্তু ত্রিশের দশক নাগাদ (কিংবা তার কিছু আগেই) জ্যাকার্ড ও ডবি মেশিন এবং ফ্লাইসেটেল লুম চালু হওয়ার পরে বিভিন্ন ধরনের জটিল ও কঠিন ডিজাইন শাড়িতে ফুটিয়ে তোলায় আর অসুবিধা রইল না। ফলে যেসব বিষয়বস্তু বা মোটিফ নকশায় চলে এল, তা মূলত বিভিন্ন প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ। বিভিন্ন ধরনের ফুল, লতাপাতাসহ নানা ধরনের পাখি, প্রজাপতি, ময়ূর ইত্যাদি।

এখানে একটা কথা বলা প্রয়োজন, টাঙ্গাইল শাড়িতে ডিজাইন হয় এখনো দুভাবে। আদি পদ্ধতি অনুযায়ী এখনো কিছু শাড়িতে হাতে বুটি তোলা হয় জমিনে। এগুলোয় পাইড়ে জ্যামিতিক ধরনের সাধারণ নকশা থাকে কিংবা কোনো নকশাই থাকে না। আর কোনো কোনোটায় শাড়ির পাইড়, আঁচল ও জমিনে জ্যাকার্ড মেশিনের সাহায্যে বুটি তোলা হয়। হাতে নিয়ে কাছ থেকে খেয়াল করলে বোঝা সম্ভব, বুটি হাতে তোলা নাকি জ্যাকার্ডে তোলা। হাতে তোলা বুটিগুলোর দুই পাশ অসম হয় কিন্তু জ্যাকার্ডের বুটিগুলো দুই পাশ সমান।

আবার কখনো কখনো রাজনৈতিক মোটিফ যেমন ‘নৌকা’ ব্যবহার করে শাড়ির পাইড় নকশা করার কথাও শোনা যায়। সত্তরের দশকে ও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এ শাড়ির পাইড়ে নৌকার নকশা খুব জনপ্রিয় ছিল।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশী তাঁতের প্রতি বাঙালি জাতির যে আগ্রহ ও মমত্ববোধ তৈরি হয়, তাতে টাঙ্গাইলের তাঁতিরা উপকৃত হয় এং শাড়ির নকশায়ও এর প্রভাব পড়ে। এ সময় থেকে টাঙ্গাইলের শাড়ির নকশা আরো জটিল ও সমৃদ্ধ হতে থাকে।

তবে সাম্প্রতিককালের টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার কৃৎকৌশলগত নতুন সংযোজন হিসেবে বলতে হয় কম্পিউটার ব্যবহারের কথা। আগে জ্যাকার্ড মেশিনের জন্য গ্রাফ কাগজে নকশা আঁকা হতো, এখন এর বিকল্প হিসেবে নকশা করতে কম্পিউটারের সাহায্য নেয়া হয়। জ্যাকার্ড মেশিনে নকশা করার একটা সুবিধা এই যে যেকোনো ধরনের নকশা শাড়িতে ফুটিয়ে তোলা যায়। এর মূল বিষয়টি নির্ভর করে জ্যাকার্ড মেশিন বয়নের জন্য প্রস্তুত করার ওপর। বয়নকারী তাঁতি বা কারিগরের ওপর নকশা নির্ভর করে না, যেমনটা করে জামদানির ক্ষেত্রে। এ বিপুল স্বাধীনতা নানা রকম চিত্তাকর্ষক নতুনত্বের পাশাপাশি বিচিত্র (!) অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে নকশার ক্ষেত্রে।

যেমন সরেজমিন অনুসন্ধান করার সময় আমরা মোবাইল ফোনের টাওয়ার, সেলফোন, এমনকি হেলিকপ্টার পর্যন্ত টাঙ্গাইল শাড়ির নকশায় মোটিফ হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হতে দেখেছি। এ ধরনের নতুনত্ব বা নবতর সংযোজন ভালো না খারাপ, সে বিতর্কে না জড়িয়েও আমরা বলতে পারি এটাই টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার বৈশিষ্ট্য। এ বৈশিষ্ট্য যতটা না ঐতিহ্যমুখী, তার চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবমুখী ও সাম্প্রতিক ধারাপ্রবণ। এর ফল হয়েছে এই যে টাঙ্গাইল শাড়ির নকশা সবসময়ই পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে গেছে ও যাচ্ছে। কোনো একটা বিশেষ ঘরানার দ্বারা টাঙ্গাইল শাড়ির নকশা প্রভাবিত হয়নি। বরং বিভিন্ন ধরনের নকশার ধারা এসে টাঙ্গাইল শাড়ির নকশায় মিশে গেছে। আর বসাক তাঁতিদের হাতেও কোনো নতুন নকশা তৈরি হয়নি, তাইবা আমরা জোর গলায় কীভাবে বলি? কিন্তু নকশার নিদর্শন ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের অভাবে এ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা দুরূহ।

উল্লেখ্য, পুরনো দিনের টাঙ্গাইল শাড়ির হদিস পাওয়া এখন খুবই মুশকিল। বাংলাদেশের কোনো জাদুঘরে পুরনো টাঙ্গাইলের শাড়ি সংগৃহীত আছে বলে আমার জানা নেই। আর ব্যক্তিগত সংগ্রহের শাড়িগুলোও নানা কারণে নষ্ট হয়ে বা হারিয়ে গেছে কিংবা সেগুলো খুঁজে বের করা কঠিন। ফলে পুরনো দিনের টাঙ্গাইল শাড়ির নকশা সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্র (মৌখিক ও লিখিত) থেকে যতটুকু জানা গেছে, নিদর্শনের অভাবে তার সত্য-মিথ্যা যাচাই করা মুশকিল। আর তাছাড়া আজও টাঙ্গাইলের তাঁত ও তাঁতি নিয়ে নানা রকমের নৃতাত্ত্বিক বা উন্নয়নমূলক গবেষণা হলেও টাঙ্গাইল শাড়ির নকশা নিয়ে বিশেষ কোনো গবেষণা হয়েছে বলে শোনা যায় না। কিংবা এর কোনো যথাযথ ডকুমেন্টেশন করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

টীকা

১. হাকিম হাবিবুর রহমান, ঢাকা: পঞ্চাশ বছর আগে, অনুবাদ: ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম, প্যাপিরাস, ঢাকা, ২০০৫ (প্র. প্র. ১৯৪৯), পৃ. ২৮

২. Zulekha Haque, ‘Sari: Cotton and Silk’, Textile Traditions of Bangladesh, National Crafts Council of Bangladesh, Dhaka, 2006, p. 68

৩. Government of Bengal, Department of Industries, Report on the survey of Cottage Industries in Bengal, Bengal Secretariat Book Depot, Calcutta, Second Edition: 1929, p. 79

৪. ঐ, পৃ. ৭৯-৮০। রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি।

৫. রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি।

৬. রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি। ১৯২৮ সাল থেকে টাঙ্গাইলে ফ্লাইসেটেল লুমের প্রচলনের এ বিবরণের সমর্থনে কুটিরশিল্প বিভাগের জরিপের তথ্য উল্লেখ করা যায়। সেখানে বলা হচ্ছে, ‘In many places in the interior of Tangail subdivision fly-shuttle looms have been introduced by the peripatetic weaving instructor. (Report on the survey of Cottage Industries in Bengal, p. 80)

৭. রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

৮. রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

[রচনাটি দেশাল প্রকাশিত লেখকের ’বাংলাদেশের তাঁতশিল্প’ গ্রন্থ (২০১৮) থেকে ঈষৎ সম্পাদিত রূপে এখানে সংকলিত]

লেখক: শাওন আকন্দ (চিত্রশিল্পী ও গবেষক)

সম্পাদনায়: মো. আরমান কবীর ও সাহান হাসান

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:০৮:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইল জেলা সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার সভাপতি বাদশা, সম্পাদক মাহমুদ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেলা সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার সভাপতি বাদশা, সম্পাদক মাহমুদ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র ২২ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন বাদশা এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আছাব মাহমুদ।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে খান মোহাম্মদ সালেকের সভাপতিত্বে টাঙ্গাইল জেলা সাংবাদিক ফোরামের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা শেষে এই কমিটি গঠন করা হয়। সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৪-২৬ মেয়াদের জন্য সাখাওয়াত হোসেন বাদশাকে সভাপতি এবং খন্দকার আছাব মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রতন।

কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, সহ-সভাপতি শেখ এনামুল হক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান খান ও শাহনাজ পারভীন এলিস, কোষাধ্যক্ষ ডি এম অমর, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিক অপু, প্রচার সম্পাদক ওয়ালিদ খান, দপ্তর সম্পাদক- হাফিজুর রহমান, নারী বিষয়ক সম্পাদক নাজনীন আকতার লাকী।

কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন ১১ জন। তারা হলেন- আশরাফ সরকার, ফেরদৌস সালাম, ড. হারুনুর রশিদ, একাব্বর আলী, আনিসুর রহমান, রেজাউল করিম, তারেক সালমান, আতিকুর রহমান, নুরুল হুদা, মুশফিক খান ও আবু মো. মাচানী।

এছাড়াও পদাধিকার বলে সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন।

সাধারণ সভায় ফোরামের সাবেক সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন- রফিকুল ইসলাম রতন, গাফফার মাহমুদ, মো. আশরাফ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা তালুকদার হারুন, জীবন ইসলাম, জামাল উদ্দিন জামাল ও ফিরোজ মান্না।

এই উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা টাঙ্গাইল জেলা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র নির্বাহী কমিটির সঙ্গে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:৩৬:এএম ২ বছর আগে
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় নবম টাঙ্গাইলের ইরাম - Ekotar Kantho

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় নবম টাঙ্গাইলের ইরাম

একতার কণ্ঠঃ এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের জাতীয় মেধাক্রমে সারা দেশে নবম হয়েছেন টাঙ্গাইলের ছেলে ইরাম আহনাফ খোশনবীশ (১৮) । ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ৮৯ দশমিক ৭৫ নম্বর পেয়ে নবম স্থান অর্জন করতে সক্ষম হন।

ইরাম আহনাফ খোশনবীশ টাঙ্গাইল পৌরসভার দক্ষিণ থানাপাড়ার ব্যাংকার আতিকুর রহমান খোশনবীশ ও ব্যাংকার ফরিদা ইয়াসমিন দম্পতির একমাত্র সন্তান। তিনি প্রয়াত ব্যাংকার যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমান খোশনবীশের নাতি।

ইরাম আহনাফ খোশনবীশ ২০২১ সালে টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে থেকে এসএসসি পাস করেন। ২০২৩ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন। তার এমন সাফল্যে পরিবার, এলাকাবাসী ও স্বজনদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় নবম স্থান অধিকারী ইরাম বলেন, এ এক স্বপ্নের মতো অনুভূতি যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

একমাত্র সন্তান ইরাম এর জন্য দোয়া চেয়েছেন পিতা আতিকুর রহমান খোশনবীশ। তিনি বলেন, আমার ছেলে ছোট বেলা থেকেই মেধাবী। তার এই ফলাফলে আমিসহ আমার পরিবার আনন্দিত।

উল্লেখ্য, এর আগে রবিবার (১১ফেব্রুয়ারি) সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। এ বছর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেলের প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৩৬৯ জন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:৫৭:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নিখোঁজের ১৭ দিন পর প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নিখোঁজের ১৭ দিন পর প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে নিখোঁজের ১৭ দিন পর মকবুল হোসেন নামে এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কালিহাতী উপজেলার পারখী এলাকার একটি বিলে পুঁতে রাখা অবস্থায় প্রবাসীর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত মকবুল হোসেন কালিহাতী উপজেলার পারখী এলাকার কিসলু মিয়ার ছেলে।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান শেখ জানান, প্রবাসী মকবুল গত আড়াই মাস আগে দেশে আসেন। দেশে আসার পর মকবুলকে তার নিজ বাড়িতে থাকতে না দেওয়ায় শ্বশুরবাড়ি সখীপুরে বসবাস শুরু করেন। গত ২৬ জানুয়ারি মকবুল বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাকে খুঁঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

তিনি আরও জানান, খুঁজে না পেয়ে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে সখীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সোমবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন পারখী এলাকার একটি বিলে পুঁতে রাখা অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করার পর স্বজনরা মকবুল হোসেনকে সনাক্ত করে।

তিনি জানান, পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:৫২:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

একতার কণ্ঠঃ বর্ণাঢ্য আয়োজনে টাঙ্গাইলে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার (জেএসএস) ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও কেক কাটার মধ্যে দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের হাউজিং এস্টেট থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় হাউজিং এস্টেটে অবস্থিত জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে দিনটি উপলক্ষে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের সিনিয়র তথ্য অফিসার তাসলিমা জান্নাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক লোকধারা পত্রিকার সম্পাদক এনামুল হক দীনা।

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক মো. আরমান কবীর সৈকতের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সহ-সভাপতি আবুল কালাম সিদ্দিকী নিপু, সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম টুটুল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হাসান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ সরকার, অর্থ-সম্পাদক আব্দুল মোতালেব, মানবাধিকার সম্পাদক উজ্জ্বল মিয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক সাগর আহম্মেদ, যুগ্ম আইন বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রমজান আলী, সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শুভ সাহা, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক সাহান হাসান, কার্যকরী সদস্য খায়রুল ইসলাম, মাসুম, রেজাউল সহ জেলা ও উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

পরে কেক কাটার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার আয়োজনে হাউজিং এস্টেটে অবস্থিত টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের কার্যালয়ে এক পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:০০:এএম ২ বছর আগে
প্রধানমন্ত্রীর কাছে টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই সনদ হস্তান্তর - Ekotar Kantho

প্রধানমন্ত্রীর কাছে টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই সনদ হস্তান্তর

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শাড়িসহ সদ্য নিবন্ধিত তিনটি পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে পণ্য তিনটির সনদ হস্তান্তর করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। সকাল ১০টায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠকের শুরুতেই শিল্প মন্ত্রণালয়ের নকশা ও ট্রেডমার্ক বিভাগের টাঙ্গাইল শাড়ি, নরসিংদীর অমৃত সাগর কলা এবং গোপালগঞ্জের রসগোল্লার জিআই সার্টিফিকেট এবং টাঙ্গাইলের শাড়ি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন শিল্পমন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা সনদের সঙ্গে একটি টাঙ্গাইল শাড়িও প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

নতুন তিনটি পণ্যসহ বাংলাদেশের মোট ২২টি পণ্য জিআই সনদ পেল।

আগে নিবন্ধিত পণ্যগুলো হলো- জামদানি শাড়ি, বাংলাদেশের ইলিশ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাতি আম, বিজয়পুরের সাদা মাটি, দিনাজপুরের কাটারিভোগ, বাংলাদেশের কালোজিরা, রংপুরের শতরঞ্জি, রাজশাহীর সিল্ক, ঢাকার মসলিন, বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম, বাংলাদেশের শীতলপাটি, বগুড়ার দই, শেরপুরের তুলসীমালা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া আম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আশ্বিনা আম, বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, নাটোরের কাঁচাগোল্লা, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম, কুষ্টিয়ার তিলের খাজা ও কুমিল্লার রসমালাই।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:৫৯:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে কাগমারী সম্মেলনের ৬৭ বছর উদযাপন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে কাগমারী সম্মেলনের ৬৭ বছর উদযাপন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের ৬৭ বছর উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি বুলবুল খান মাহবুব।

মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মাহমুদুল হক সানুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাপের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. আবু আসলাম মিন্টু, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট নেতা আবুল কাশেম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ভাসানী ফাউন্ডেশনের ছাত্র, যুব ও সাংস্কৃতিক নেতা-কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, কাগমারী সম্মেলন ১৯৫৭ সালে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ তাৎপর্য জাতীয় সম্মেলন। যা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বিশেষ ইঙ্গিতবহ ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৫৭ সালের ৬ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার কাগমারীতে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:৩৪:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই স্বীকৃতি মিলল - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই স্বীকৃতি মিলল

একতার কণ্ঠঃ সম্প্রতি টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই (জিওগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশন) বা ভৌগলিক নির্দেশক পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের হস্ত শিল্প দফতর। এরপরেই তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে।

এরইমধ্যে বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে টাঙ্গাইল শাড়িকে স্বীকৃতি দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর (ডিপিডিটি)।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোমধ্যে ভারত টাঙ্গাইল শাড়িকে তাদের জিআই পণ্য ঘোষণা করায় আইনগত বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থা বা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে (ডাব্লিউআইপিও) সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।

এরআগে, মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেতে মন্ত্রণালয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম।

গেল ২ জানুয়ারি ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির ভৌগলিক নির্দেশকের সত্ত্ব পেয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার ফুলিয়া। আর এটাও সত্য যে, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি পৃথিবী বিখ্যাত এবং সবারই জানা এর ভৌগলিক অবস্থান বাংলাদেশেই।

এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ফুলিয়ার তাঁত শিল্পীরাও বিব্রত। যেমন- ২০২১ সালে তাঁত শিল্পের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বীকৃতি পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত তাঁত শিল্পী বীরেন কুমার বসাক, যার পূর্বপুরুষের বাড়ি বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে, তিনিও কিছুটা অবাক হয়েছেন।

তার ভাষায়, ‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দুই সরকারের দেখা উচিত।’ তবে তিনি যোগ করেন, ‘যেহেতু ফুলিয়া-টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়িতে জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই তারা এটা নিয়ে খুশি।’

বীরেন কুমার বসাক নিজেই স্বীকার করে বললেন, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির উৎস বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের জেলাতেই। আর ফুলিয়ার প্রায় সব তাঁতিই এসেছেন পূর্ববঙ্গ থেকে।

ফুলিয়া প্রগতিশীল তন্তুবায় সমিতির কর্মকর্তা অশ্বীনি কুমার বসাক জানালেন, মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন ফুলিয়াতে। এসে যুক্ত হয়েছেন তাঁত শিল্প উন্নয়নের কাজে। এই সমবায়ে প্রায় ৪০৫ জন তাঁত শিল্পী রয়েছেন। যদিও করোনার পর অনেকেই এখন এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির জিআই পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে খোদ টাঙ্গাইলে তার বন্ধু-স্বজনরাও ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:৩৭:এএম ২ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।