একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার সংলগ্ন এলেংজানী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু কেটে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী মহল। এই অবৈধভাবে বালু কাটার ফলে কোটি টাকায় নির্মিত ও জনগুরুত্বপুর্ন এলেঙ্গা ব্রিজটি হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রশাসনের কাছে জানিয়েও কোন সুরাহা হচ্ছেনা। প্রশাসনের সাথে আতাঁত করেই নদী থেকে বালু কেটে বিক্রি করছে ওই মহলটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার চুইনাবাড়ি ও বাঁশি গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত এলেংজানী নদীর পাড়ে দুইটি ভেকু বসিয়ে দিনরাত বালু কাটা হচ্ছে। কর্তনকৃত এই বালু ছোট ড্রাম ট্রাক দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। ড্রামট্রাক ভর্তি বালু পরিবহন করার সময় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এলেঙ্গা বাজারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ওই সেতু। এছাড়াও বালু পরিবহনের জন্য ফসলি জমি কেটে রাস্তা তৈরি করার ফলে অনেক কৃষক তাদের জমিতে ফসল ফলাতে পারছে না। বালু কাটা চক্রটি অত্যান্ত প্রভাবশালী হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকরা কোন প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা। এ ছাড়া বালুবাহী ট্রাকের বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে স্থানীয়রা। অত্যান্ত ব্যস্ত এলেঙ্গা বাজারের রাস্তাটি ব্যবহার করে বালু পরিবহনের ফলে প্রায়ই লেগে থাকছে যানজট। যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছে এলেঙ্গা হাটবাজার ও পৌরসভায় আসা সাধারণ জনগন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, পৌরসভার বাঁশি গ্রামের মাজেদুর ও শরিফ মিলে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু কেটে বিক্রি করে আসছে। এলাকার কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। আর কেই প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোর ভয় দেখায় তাদের।
এছাড়া দিনরাত বালুভর্তি ট্রাক যাতায়াতের কারণে এলাকার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ট্রাক চলাচলের শব্দে রাতে বাসা বাড়িতে ঘুমানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চলাচল করা ট্রাকে ওড়ানো বালি বাসায় উড়ে গিয়ে আসবাপত্রসহ খাদ্য সামগ্রী নষ্ট করছে।
বালু ব্যবসায়ী মো. মাজেদুর রহমান জানান, তিনি নদী থেকে নয় তার ক্রয়কৃত জমি থেকেই বালু কেটে বিক্রি করছে। অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসন ম্যানেজ করেই তিনি এ ব্যবসা করছেন।
কালিহাতী উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভুমি) মো. নাহিদ হোসেন জানান, বর্তমানে টাঙ্গাইলের বাহিরে একটি প্রোগ্রামে আছি। কালিহাতী এসে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মো. নাজমুল হুসেইন জানান, খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই-সখীপুর আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন থামিয়ে চাঁদা উত্তোলনের সময় ট্রাক্টরের চাকায় পৃষ্ট হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় (৭০) এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গোড়াই-সখীপুর আঞ্চলিক সড়কের সৈয়দপুর-তেঁতুলতলা নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসি জানায়, গোড়াই, হাটুভাঙ্গা ও সৈয়দপুর এলাকার শ্রমিক নামধারী একটি প্রভাবশালী মহল সরকারী দল ও পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে আঞ্চলিক সড়কের সৈয়দপুর-তেঁতুলতলা নামক স্থানে রাস্তায় বেড়িকেড দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে যানবাহন থামিয়ে অবৈধ ভাবে চাঁদা উত্তোলন করে আসছিল।
তারা আরো জানান,শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে চাঁদাবাজ লাঠিয়াল বাহিনী চাঁদা আদায়ের জন্য ঐ ট্রাক্টরের গতিরোধ করে। চাঁদা দেওয়া থেকে বাঁচতে ট্রাক্টরটির চালক দ্রুত গতিতে রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এক বৃদ্ধ চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন । চালক ঘটনার পর ট্রাক্টর ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত বৃদ্ধের কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই অবৈধ চাঁদা উত্তোলনকারী সেই লাঠিয়াল বাহিনী পলাতক রয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে ট্রাক্টরটি জব্দ এবং বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হাসান মিয়া ওরফে হাসু মিয়া (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) সকালে উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের সরিষাদাইড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হাসু মিয়া মির্জাপুর পৌর এলাকার পুষ্টকামুরী গ্রামের মৃত মোকছেদ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, দশ বছর আগে হাসু মিয়ার মেয়ে রুবিনা আক্তারের সঙ্গে সরিষাদাইড় গ্রামের মফেজ উদ্দিনের ছেলে সৌদি প্রবাসী জুয়েলের বিয়ে হয়। কয়েকদিন আগে বাড়ির সীমানা নিয়ে রুবিনার সঙ্গে দেবর সজল, ননদ নিলুফা বেগম, শাশুড়ি লাইলি বেগম ও দেবরের বউ ঝুমার ঝগড়া হয়।
শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়ে রুবিনা সোমবার বাবার বাড়ি চলে আসেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য শুক্রবার সকালে হাসু মিয়া, মেয়ে রুবিনাকে নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ি যান। সেখানে সীমানা বিরোধ নিয়ে ওই বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে রুবিনার দেবর সজল, ননদ নিলুফা, শাশুড়ি লাইলি ও সজলের স্ত্রী ঝুমা তাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে শুরু করেন। এতে হাসান মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসান মিয়ার ছেলে রাকিব জানান, আমরা বোনের বাড়িতে গিয়ে কথা বলছিলাম। কিছু বুঝার আগে বোনের দেবর সজলসহ বাড়ির লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ রমজান মাস আসলে সমাজের অনেক অবহেলিত, অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল মানুষগুলোর ইচ্ছে থাকলেও সামর্থ্য না থাকায় উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে ইফতার করতে পারেন না। তাই তাদের ইচ্ছে পূরণে রমজানের পুরো মাসজুড়ে এসব মানুষদের মাঝে বিনামূল্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন টাঙ্গাইলের ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। শুধু তাই নয়, টাঙ্গাইল ছাড়াও দেশের ১১টি জেলায় ইফতার সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন এ সংগঠনটি।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার (৩১ মার্চ) বিকাল থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত টাঙ্গাইল পৌর শহরের নিরালা মোড় (কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর), নতুন ও পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, পার্ক বাজার, বেবিস্ট্যান্ড মোড় ও রেজিস্ট্রি পাড়াসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা। বিনামূল্যে এই ইফতার সামগ্রী বিতরণের বিষয়টি সাধুবাদ জানিয়েছেন সুধিজনরা।

ইফতার সামগ্রী পাওয়া পৌর শহরের বস্তি এলাকার আছিয়া বেগম বলেন, ইফতারের সময় হলেই একদল ছেলে-মেয়ে ইফতারের প্যাকেট নিয়ে ছুটে আসে। তারা প্রথত রোজা থেকেই ইফতার সামগ্রী দিচ্ছে। এমন উন্নতমানের ইফতার সামগ্রী আমাদের পক্ষে কেনা সম্ভব হয় না। তাদের দেয়া ইফতার পেয়ে প্রতিদিন ইফতার করে আসছি।
পৌর শহরের নিরালা মোড় থেকে ইফতার নেয়া কদবানু বেগম বলেন, আমি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে টাকা তুলে যা হয় তা দিয়ে কোন রকম দিনাতিপাত চলে। কিন্তু ইফতার কেনার সামর্থ হয় না। প্রতিদিন সন্ধ্যার আগে ওদের দেয়া ইফতার পেয়ে নিশ্চিন্তে সন্তানদের সাথে নিয়ে ইফতার করতে পারি। এরআগেও তারা বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন।
স্বেচ্ছাসেবক আহসান খান মিলন ও রিমি আক্তার রিমি জানান, গত ৩ বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে খুব ভালো লাগছে। মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করাও মানবতা। ছিন্নমূল মানুষকে ইফতার করিয়ে নিজেদের ইফতার করার মধ্যে এক আত্মতৃপ্তি থাকে। যে আত্মতৃপ্তি পেয়ে নিজেরা খুবই গর্বিত। আমাদের জন্য দোয়া করেন।
এ বিষয়ে ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’ ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ মির্জা তৌহিদুল ইসলাম সুলভ জানান, প্রতি বছর রমজানের ন্যায় এবারও আমরা বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায়ও ইফতারের আয়োজন করছি। এমন কাজে সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে এ মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানাই।
শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মুঈদ হাসান তড়িৎ জানান, গত ৯ বছর ধরে টাঙ্গাইল ছাড়াও দেশের আরও ১০ জেলায় প্রায় ৫ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে বিভিন্ন মানবিক কাজে অংশ নিয়ে আসছে এ সংগঠনটি। তারই ধারাবাহিকতায় নিজেরা রান্না করে সমাজের অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত ছিন্নমূল, অসহায় ও দরিদ্রদের খুঁজে খুঁজে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, টাঙ্গাইল ছাড়াও দেশের ১১টি জেলায় প্রায় ৯ হাজার মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও ঈদ উপলক্ষে ছিন্নমূল মানুষ ও শিশুদের মাঝে নতুন জামা ও ঈদের বাজার দেওয়া হবে। এতে থাকবে- পোলাও চাল, মুরগি, দুধ, চিনি ও সেমাই। পাশাপাশি ঈদের দিন রাস্তায় থাকা ভাসমান মানুষ ও মানুষিক রোগীদের দেওয়া হবে পোলাও, রোস্ট, ডিমের কোরমা ও ফিরনি বিতরণ করার হবে।
একতার কণ্ঠঃ স্বপ্ন বাস্তবায়নে অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ)।
তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন সহধর্মীনি ডা. জাহিদা বেগম সুইটি। তিনি একই হাসপাতালের প্রভাষক (এনাটমি বিভাগ)। তাদের স্বপ্ন পূরণ হিসেবে টাঙ্গাইলে যাত্রা শুরু করে ‘প্রত্যাশা স্পেশাল স্কুল এন্ড থেরাপি সেন্টার’। সেখানে অটিস্টিক শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হয়।
ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা নিতে অনেকেই ছুটে যান ঢাকা। অনেকেই আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে চিকিৎসা করাতে পারেন না। এসব চিন্তা ও সন্তানের শারিরিক সমস্যা দেখে স্বপ্ন জাগে টাঙ্গাইলে একটি প্রতিষ্ঠান করার। সেই লক্ষে ২০১৭ সালে টাঙ্গাইল পৌর শহরের সাবালিয়াতে নিজের বাসায় শুরু করেন। নাম দেন ‘প্রত্যাশা স্পেশাল স্কুল এন্ড থেরাপি সেন্টার’। ২০১৮ সালে এটি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন পায়।
ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘প্রত্যাশা স্পেশাল স্কুল এন্ড থেরাপি সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার গল্প।
তিনি জানান, ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা। তার স্ত্রী প্রথম সন্তান প্রসব করেন। সন্তানের নাম রাখেন জাইদি। সন্তানকে নিয়ে হাসি-খেলার মধ্যদিয়ে তাদের সময় কাটতে থাকে। দেখতে দেখতে দেড় বছর কেটে যায়। তিনি লক্ষ্য করেন, জাইদি অতিরিক্ত ভয় পায়। সব কাজে অতিরিক্ত সচেতন, ওর খেলনার সামগ্রী জুতা, পাতিল, চামিচ। সময় চলে যায় কিন্তু সে কথা বলে না। সবাই বলেন অনেকে দেরিতে কথা বলে। কিন্তু অপেক্ষার প্রহর আর শেষ হয় না। শুরু হয় জাইদিকে নিয়ে যুদ্ধ। এই ডাক্তার, সেই ডাক্তার দেখানো, চিকিৎসার জন্য অনেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সবাই বললেন ঠিক হয়ে যাবে। কিছু কমন কথা এবং প্রচুর ওষুধ। কিছুতেই কিছু হলো না। জাতীয় মানসিক সাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগি অধ্যাপক ডাক্তার হেলাল আহমেদ প্রথম বললেন, আপনার ছেলে সবার থেকে একটু আলাদা, ওকে ঢাকা নিয়ে যান। টাঙ্গাইলে এর চিকিৎসা হবে না। তারপর তিনি বললেন, আপনার ছেলে অটিস্টিক। এ কথা শুনে আঘাত পেলেও তারা স্বামী-স্ত্রী কেউ ভেঙে পড়েননি।
সেদিনই ঢাকা চলে গেলেন। বিভিন্ন সেন্টারে যোগাযোগ করলেন। অবশেষে জাইদির চিকিৎসা শুরু হলো। মিরপুর crp তে জাইদিকে occupational এবং speech therapy দেওয়া শুরু হলো। ভর্তি করা হলো ঢাকা প্রয়াশ স্কুলে। অনেক কঠিন যুদ্ধ। ঢাকা আসা-যাওয়া, থাকা, প্রচুর অর্থ খরচ। ঢাকাতে তিনটা বছর কাটে।
এদিকে নিজেদের চাকরি, সংসার, ছোট বাচ্চা, সব মিলিয়ে হাঁপিয়ে উঠেন তারা। ফিরে আসেন টাঙ্গাইল। কিন্তু এখানে কোন special school speech therapy এবং occupational therapy নেই।
তিনি শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হওয়ায় প্রায় লক্ষ্য করতেন, তার ছেলের মতো টাঙ্গাইলে আরো অনেক শিশু রয়েছে। তাদের অভিভাবক সন্তানের চিকিৎসা ঠিকভাবে করাতে পারছে না। ঢাকায় নিয়মিত চিকিৎসা করানো অনেকের জন্য কঠিন। তাছাড়া এ চিকিৎসা ব্যয়বহুলও। এ অবস্থায় তার মাথায় একটি স্বপ্ন বাসা বাধে- টাঙ্গাইলে এরকম একটা theraty center হবে। যার মাধ্যমে তার সন্তানের সাথে সাথে অন্যদের সন্তান চিকিৎসা পাবে। শুরু করে দেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ।
ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের দেশে occupational এবং speech therapist এর সংখ্যা খুবই কম। অনেক কষ্টে therapist পেয়ে গেলাম। তারপর আল্লাহর অশেষ রহমতে একজন স্পেশাল এডুকেশন শিক্ষক পেলাম। আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতে থাকে প্রত্যাশা। বর্তমানে ঢাকা থেকে ছয়জন প্রশিক্ষিত থেরাপিস্ট আসছেন। তাদের পাশাপাশি লোকাল চারজন কাজ করছেন।
বর্তমানে সাবালিয়াতেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেন্টারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তার নিজস্ব জায়গায় প্রত্যাশা স্পেশাল স্কুল এন্ড থেরাপি সেন্টারের পরিকল্পিত ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন।
বিশেষ শিশু যারা ঠিকমত কথা বলতে পারেনা, অস্বাভাবিক আচারণ করে, ঠিকমত হাটা-চলা করতে পারেনা, অনুভূতির সমস্যা, অতিরিক্ত ভয় পাওয়া, অতিরিক্ত অস্থির প্রকৃতির- তাদেরকে অতি যত্ন সহকারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিশেষজ্ঞ থেরাপিস্ট দ্বারা থেরাপি দেওয়া হয় প্রত্যাশা স্পেশাল স্কুল এন্ড থেরাপি সেন্টারে। গড়ে ৮০ জন শিশু এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানান সেন্টার কর্তৃপক্ষ।
ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, বিশেষ শিশুটিকে আড়ালে না রেখে প্রকাশ করুন, বিকশিত হবেই।’ এটাই আমাদের শ্লোগান এবং এই মূল মন্ত্রটিকে ধারণ করেই আমাদের অগ্রযাত্রা। শারীরিক প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সাহায্য করা।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বন্ধুদের সহায়তায় একাধিকবার এক স্কুলছাত্রী (১৫) কিশোরীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ ছাত্রের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে সখিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা।
এক পর্যায়ে ওই কিশোরী তার প্রেমিক ছানোয়ার হোসেনকে (১৮) বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে তাদের শারিরীক সম্পর্কের ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকিসহ নানা টালবাহানা শুরু করে।
অভিযোগ ওঠেছে, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় মেয়ের পরিবারকে নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন স্থানীয় কিছু মাতাব্বর।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নবগঠিত বড়চওনা ইউনিয়নের শিরিরচালা পূর্বপাড়া গ্রামে।
ওই কিশোরী স্থানীয় একটি মাধ্যমিক স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী । অভিযুক্ত কলেজ ছাত্র ছানোয়ার একই এলাকার তোফাইনার ছেলে ও ময়মনসিংহের নটরডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

গত সোমবার (২৭ মার্চ) এ ঘটনায় সখীপুর থানায় ছানোয়ারকে একমাত্র আসামি করে লিখিত অভিযোগ করেন ওই কিশোরীর বাবা । অভিযোগের চারদিন পেরিয়ে গেলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পুলিশ, এমনটি জানিয়েছে ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর পরিবার।
মেয়েটির সাথে কথা বলে জানা যায়, ছয় মাস আগে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে প্রতিবেশী ছানোয়ার হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে । বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১ম বার শারিরীক সম্পর্ক করে এবং ভিডিও ধারন করে। পরে গত ৬ মাসে ওই তরুণীকে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ছানোয়ার ও তার দুই বন্ধু একই এলাকার আজমত আলীর ছেলে মাছুম (২২) এবং আবু হানিফ মিয়ার ছেলে শাওন আহমেদ (১৮) এর সহযোগিতায় তাকে একাধিকবার মেলামেশা করাতে বাধ্য করা হয়। এক পর্যায়ে ছানোয়ারকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং সম্পর্কের ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকিসহ নানা টালবাহানা শুরু করে।
অভিযোগকারী কিশোরীর বাবা, দ্রুত বখাটে ছানোয়ার ও তার দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
অভিযুক্ত কলেজ ছাত্র ছানোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে ওই তরুণীর সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা স্বীকার করে।
এ ব্যাপারে নবগঠিত বড়চওনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক সখীপুর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ আনোয়ার হোসেন ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নিয়ে গত কয়েকদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে(ফেসবুকে) অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাসুদ তালুকদার।
বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার সামাজিক ও দাপ্তরিক কাজে সমাজের সর্বস্তরের যখন ভুয়সী প্রশংসা জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে, ঠিক সেই মুহুর্তে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরা আমার সুনামকে ক্ষুন্ন ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অজ্ঞাত নামা একটি ফেক আইডি দিয়ে আমার ছবি সুপার এডিটিং করে বিভিন্ন আপত্তিকর কথা লিখে ফেসবুকে পোষ্ট করছে। এতে করে আমার রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে মানসম্মান ব্যাপক ক্ষুন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কালিহাতী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি(যাহার নাম্বার ৯৭৯ তাং ২১.০৩.২০২৩) দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি এই অপপ্রচার রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা মাত্র। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে উক্ত সুপার এডিটিং করা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
তিনি উপরোক্ত বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার,র্যাব কমান্ডার ,কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলায় কর্মররত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার গনমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকাতে আর চোর ধরে দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর পিডিবির (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর তালুকদার।
গত ১০ দিনে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ১৭টি ফিডারের আওতাধীন ৬টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এতে ভোগান্তি পোহায় বিদ্যুতের গ্রাহকরা। ধারাবাহিক এ চুরির ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। চুরির ঘটনায় সখীপুর ও মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করাসহ চুরি ঠেকাতে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ওই পুরস্কার ঘোষণার আহবান করেন ওই কর্মকর্তা।
বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, সখীপুর উপজেলা থেকে এ উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী ৮টি উপজেলার আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ১৭টি ফিডারের আওতায় এ কার্যক্রম চলে। মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের গাইড়াবেতীল রবি টাওয়ার এলাকা থেকে ১৮ মার্চ ২টি, দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের লাঙ্গুলিয়া শিকদার বাড়ী এলাকা থেকে ১৯ মার্চ ১টি, ২২ মার্চ গজারিয়া ইউনিয়নের পাথরপুর বাঘবেড় এলাকা থেকে ১টি ও একই ইউনিয়নের পাথরপুর চৌরাস্ত থেকে ১টি এবং মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের মোথারচালা এলাকা থেকে ২৫ মার্চ রাতে ১টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। আরও ৪টি ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও নিতে পারেনি, সেগুলো বিদ্যুৎ অফিসে আনা হয়েছে। ট্রান্সফরমার চুরি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় বিদ্যুৎ অফিসের প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ওইসব ঘটনায় মির্জাপুর থানায় ২টি এবং সখীপুর থানায় ১টি মামলা করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মধ্যে রাতে বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার স্বাভাবিক ঘটনা মনে করেন তারা। কিন্তু পরে সকালে শুনতে পান ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এ কারণে চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারের আওতাধীন প্রায় ৯’শ পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ৫টি ট্রান্সফরমার সংযোগ দেওয়া হলেও উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের পাথারপুর চৌরাস্তার ট্রান্সফরমারটি এখনও সংযোগ দেওয়া হয়নি।
লাঙ্গুলিয়া গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক হোসেন জানান, রাতে ট্রান্সফরমার চুরি হয়। পরের দিন সকালে বিদ্যুৎ অফিসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এর দুই দিন পর বিদ্যুৎ অফিস আমাদের ট্রান্সফরমার সংযোগ দিয়েছে। ট্রান্সফরমারের জন্য কোন টাকা লাগেনি, শুধু সংযোগ দেওয়ার সময় কর্মচারীদের খরচ দেয়া হয়েছে।
বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এড. মো. আনোয়ার হোসেন জানান, যারা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরফমার চুরি করেছে তারা সমাজ, দেশ ও জাতির শত্রু। এদের প্রতিহত করতে যার যার অবস্থান থেকে সর্তক থাকতে হবে। চুরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সখীপুর পিডিবির (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর তালুকদার জানান, আমি গত ২০ মার্চ কর্মস্থলে যোগদান করেছি। আমি ও আমার সহকারী প্রকৌশলী চুরির ঘটনাস্থল গুলোতে গিয়েছি। স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাইনি। এ কারণে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে পারিনি। গ্রাহকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় এজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক মালামাল চুরির ঘটনায় বিদ্যুতায়ন আইনে থানায় অজ্ঞাত নামে মামলা করেছি।
তিনি আরও জানান, চোর ধরিয়ে দিতে পারলে আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাকে ১০হাজার টাকা পুরষ্কার দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে টেংরা মাদলা খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির বহিস্কৃত কোষাধ্যক্ষ ও আওয়ামীলীগ নেতা মান্নান শিকদারের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন করেছে ওই সমিতির সদস্যরা।
বুধবার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের টেংরা মাদলা খাল সমিতির কার্যালয়ে সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানব বন্ধনে মান্নান শিকদারের বিরুদ্ধে সমিতি ও সদস্যদের ৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
মান্নান শিকদার কাকড়াজান ইউনিয়ন আ.লীগের সহ-সভাপতি এবং ওই সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ।
ওই সমিতির সদস্য রেবেকা বলেন, মান্নান শিকদার সমিতির অর্থ সম্পাদক থাকা কালে গাভী দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। টাকা চাইতে গেলে মামলার ভয় দেখায়। তাই ইউএনও’র কাছে অভিযোগ করেছি। আমার মত আরো ৫ জন সদস্যের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। আমরা এই প্রতারকের বিচার চাই।
ওসমান গণি বলেন, এ সমিতিতে বৃক্ষরোপনের একটি প্রকল্প আসে। মান্নান শিকদার তার লোকবল নিয়ে রাতের আঁধারে সেই গাছগুলো তুলে ফেলেছে। ওই প্রতারকের আমরা বিচার চাই।
টেংরা মাদলা খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির
সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমীন জানান, ৬ জন সদস্য ও সমিতির নিজস্ব তহবিল হতে ৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মান্নান শিকদারকে সর্ব সম্মতিক্রমে কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। টাকা আত্মসাৎ ঘটনায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে আমাদের বিরুদ্ধে নানাভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে আওয়ামীলীগ নেতা মান্নান শিকদার জানান, আমি সমিতির কোন টাকা আত্মসাৎ করিনি। অভিযোগগুলো মিথ্যা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পাথরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ সরকার রাস্তা সংস্কারের নামে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্কুলের পুকুর থেকে মাটি কাটা শুরু করেন। এখন তার লোকজন রাতে মাটি কেটে বিক্রি করছেন।
পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা পুকুরের মাটি কেটে বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ২৬ মার্চ দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন দিক ঘিরে রয়েছে বড় একটি পুকুর। বৃষ্টি ও বন্যার কারণে পুকুরে পাড় ভেঙে পড়েছে। স্কুলের পূর্বপাশের একটি রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য গত মাসে সরেজমিন স্কুল পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি রাস্তা সংস্কারের জন্য বলে আসেন। ১০/১২ দিন আগে ইউপি চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ সরকার স্কুলের পুকুরের মাটি কেটে পুকুরের পাড় বাঁধানো এবং রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু করেন। কিন্তু এখন সেই পুকুরের মাটি কেটে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) দুপুরে সরেজমিন পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরটিতে এখন পানি নেই। পুকুর পাড়ের বিভিন্ন অংশ থেকে মাটি কাটার চিহ্ন রয়েছে। দুই জায়গা দিয়ে পুকুরে ট্রাক্টর ও ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) নামানোর জন্য রাস্তা করা হয়েছে। উত্তর পূর্ব পাশে নামানো রয়েছে একটি ট্রাক্টর চালিত ট্রলি। পশ্চিম দিকে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যানের অনুসারী ১০/১২ জন যুবক মাটি কাটার কাজ তদারকি করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১০/১২ দিন আগে মাটি কাটা শুরু হয়। দিনে মাটি কেটে পুকুরের পাড় বাঁধাই ও রাস্তা সংস্কার করা হয়। কিন্তু রাতভর মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করা হয়। রাত ১টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত ট্রাক্টর চালিত ট্রলি দিয়ে মাটি পাচার করা হয়। এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে কয়েক দিন মাটি কাটা বন্ধ ছিলো। গত ২৪ মার্চ থেকে আবার মাটি কাটা শুরু হয়েছে। যেহেতু, চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মাটি বিক্রি হচ্ছে তাই স্থানীয় লোকজন মানুষ কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দ্বীনবন্ধু প্রামানিক জানান, রাস্তা সংস্কার ও পুকুরের পাড় বাঁধানোর জন্য মাটি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সেখান থেকে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে কিনা তা আমার জানা নেই।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র নীল কমল বসাক জানান, রাতভর মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। পুকুর গভীর হচ্ছে। বর্ষায় স্কুলের স্থাপনা ও যে রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে তা হুমকির মধ্যে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে। এলাকাবাসী বাঁধা উপেক্ষা করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।
পাথরাইল ইউপি চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ সরকার জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই পুকুরের মাটি কেটে রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। মাটি বিক্রির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়।
দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা আলী জানান, পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর থেকে রাতে মাটি কাটার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে সেখানে যেন রাতে পুলিশের টহল টিম থাকে।
একতার কণ্ঠঃ “হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ করো” এই মন্ত্র উচ্চারণে পাপ-শাপ মোচনে মহাষ্টমীতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে
গঙ্গাঁস্নান করতে পূর্ণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে।
গঙ্গাঁস্নানকালে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দেশবাসীর জন্য শান্তি কামনায় প্রার্থনা করে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ভক্ত ও পূণ্যার্থীরা। গঙ্গাঁস্নানের মাধ্যমে জাগতিক সংকীর্ণতা ও পঙ্কিলতার আবরণে ঘেরা জীবন থেকে পাপ মুক্ত হবেন এমনটাই বিশ্বাস পূর্ণ্যার্থীদের।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ মার্চ) দিনব্যাপি উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ীতে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো শ্রী-শ্রী কালী মন্দিরের পাশে যমুনা নদীতে গঙ্গাঁস্নান উৎসব এবং মেলার আয়োজন করেছেন উপজেলার খানুরবাড়ী, কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া ও গোবিন্দাসী গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা। সকাল থেকে যমুনা নদীতে স্নানোৎসবে পূর্ণ্যার্থীর ঢল নামে।
এদিকে, গঙ্গাঁস্নানকে কেন্দ্র করে মেলারও আয়োজন করা হয়। এ মেলায় বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার, বাশঁ-বেতের আসবাবপত্র, মাটি ও প্লাস্টিকের তৈরি খেলনা, পুতুল, ঘোড়া, ট্রাক গাড়ি, হাড়ি-পাতিল, মাছের দোকান, চিড়া-মুড়ি, দইসহ দোকানিরা তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পুণ্যার্থী ও ভক্তরা এ উৎসবের ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই পূণ্যা স্নানে উপজেলা ছাড়াও জেলা সদর, গোপালপুর, ঘাটাইল, কালিহাতী, মধুপুর, ধনবাড়ী, সখীপুর, বাসাইলসহ সিরাজগঞ্জ, জামালপুর ও সরিষাবাড়ী জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নানা শ্রেণি পেশা ও বয়সী হাজারো ভক্ত ও পূণ্যার্থীরা আসে।
গঙ্গাঁস্নান করতে আসা পূণ্যার্থী ও ভক্তরা জানান- ভোর থেকে খানুবাড়ী সরা গাছের পাশে নদীর তীরে ভক্তদের আগমনে লোকারণ্যে পরিণত হয়। পুণ্যার্থীরা মনকে শুদ্ধি, পাপ মোচন, পবিত্রতা এবং মঙ্গল কামনা ও মনবাসনা পূরণ করি। এছাড়া মহাষ্টমীতে এখানে স্থানীয় লোকজনসহ দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ মেলা দেখতে আসেন।
আয়োজক কমিটির সভাপতি বাবলু হালদার জানান, ভোর থেকে যমুনা নদীতে গঙ্গাঁস্নান উপলক্ষে আমরা স্নানোৎসব কমিটি পূর্ণ্যাথীদের সেবা দিতে বিভিন্ন ক্যাম্প স্থাপন করছি। ক্যাম্প থেকে পূণ্যার্থীদের রান্না করা খাবার, স্নান ঘাটে কাপড় পাল্টানোর ব্যবস্থা ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করেছি। পুণ্যার্থীরা উৎসবের ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২৫ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সকালে সার্কিট হাউজের নতুন ভবনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ওলিউজ্জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সুজন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) নাফিসা আক্তার, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমূখ।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পৌর মেয়র, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ৮৫ জন অংশ গ্রহণ করে।
পরে আটটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।