আরমান কবীরঃ প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট সামাজিক অস্থিরতা ও জাতীয় সঙ্কট নিরসনে তওহীদ ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে টাঙ্গাইল জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের নিরালা মোড়ে অবস্থিত পিয়াসী হোটেল এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টের দ্বিতীয় তলায় হেযবুত তওহীদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
এই গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ ‘রাষ্ট্রীয় সংকট সমাধানে তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রস্তাবনা’উপস্থাপন করেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক রিয়াদুল হাসান।
টাঙ্গাইল জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি ডা. নাজম আল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক উম্মে তিজন মাখসুদা পন্নী, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সভাপতি এনামুল হক বাপ্পা, জেলার সাধারণ সম্পাদক মামুন পারভেজ, হেযবুত তাওহীদের টাঙ্গাইলের দপ্তর সম্পাদক রাসেদুল ইসলাম।
প্রধান আলোচক বলেন,, দেশের সামাজিক অবক্ষয়, মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও অশান্তির মূল কারণ বর্তমান ভ্রান্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা। এ সংকটের একমাত্র সমাধান হতে পারে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক তওহীদী রাষ্ট্রব্যবস্থা, যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে এবং শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তুলবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর বিভক্তি দূর না হলে জনগণের কল্যাণ সম্ভব নয়। তাই দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে তওহীদী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান টিটু।
এই বৈঠকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ জেলার কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে শরিফুল ইসলাম রাজা নামে (৩৫) এক তরুণ আইনজীবীর বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার(২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌর এলাকার বেড়াবুচনায় নিজ বাড়িতে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু বরণ করেন তিনি।
নিহত রাজা পৌরসভার বেড়াবুচনা সবুজবাগের প্রবাসী শান্তাহার মিয়ার বড় ছেলে। মৃত্যুকালে সে স্ত্রী ও দুটি কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।
সে বেসকারী সংস্থা সেতু এনজিও‘র আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে,মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে রাজা তার ঘরের আইপিএস চেক করতে গেলে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে পড়ে। এ সময় আশের-পাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
নিহতের বাবা শান্তার মিয়া কুয়েত থেকে দেশে আসার পর তাকে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাজার মৃত্যুতে সেতু‘র চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ ও সেতু‘র নির্বাহী পরিচালক মীর্জা সাহাদত হোসেন, পরিচালক (প্রশাসন) বিমল চক্রবর্তী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মো. নাসির উদ্দিন শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
আরমান কবীরঃ দুই দফা দাবি আদায়ে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার(২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রেজিস্ট্রারকে তার কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে তালা দেওয়া হয়। পরে উপাচার্যের কাছে দাবি উপস্থাপন করে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও রেজিস্ট্রারের বিচারের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন এবং বুধবার সকালের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ গঠনের রূপরেখা ঘোষণা করা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, গণ-আন্দোলনের সময় ‘স্বৈরাচারের সহযোগী’ হিসেবে ভূমিকা রাখা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিচারের দাবিতে তারা দুইবার রেজিস্ট্রারের দপ্তরে আবেদন জমা দিয়েছেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, উল্টো কিছু শিক্ষক অভিযুক্তদের আশ্রয় দিচ্ছেন। চার দিন আগে অভিযুক্তদের বিচার ও সাময়িক বরখাস্তের জন্য কমিটি গঠনে তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা পার হওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা এই কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
এবিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী তুষার আহমেদ বলেন, আমরা পরপর দুইবার রেজিস্ট্রার অফিসে স্বৈরাচারের দোসর শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিচারের জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলাম। তারপরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। এমনকি কিছু শিক্ষক তাদেরকে শেল্টারও দিচ্ছেন। আমরা চার দিন আগে রেজিস্ট্রারকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিচারের জন্য কমিটি গঠনের ৩দিন সময় বেঁধে দিয়ে আসার পরও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এইজন্য আমাদের এই কর্মসূচি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজিম আখন্দ সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করলেও অন্য একটি অংশ প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত করার পক্ষে নয়।
উপাচার্য আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল, ছাত্রশিবির সহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারের রুমের দরজার তালা খুলে দিয়েছে।
আরমান কবীরঃ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, যে কতিপয় রাজনৈতিক দল পিআরের কথা বলে আন্দোলনের মাঠে যাচ্ছে। তারা একদিকে মনোনয়ন দিয়ে প্রার্থীকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে, আবার তারা আন্দোলনের কথা বলছে। এটা কতটা স্ববিরোধী। ওইসব কতিপয় রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়।
তিনি বলেন, ‘কতিপয় রাজনৈতিক দল দেশের সমৃদ্ধিকে ব্যাহত করতে চায়। আমরা যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। যে ভাবে ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিবাদ। ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে যেভাবে তুলে আনতে চাই এবং একটি সমৃদ্ধি বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের সামনে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই। সেখানে ওই কতিপয় রাজনৈতিক দল বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছি।’
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাব ভবনের ৪র্থতলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আন্দোলন সংগ্রামের দেশ। ১৯৬৯ সাল থেকে শুরু করে, এই ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পর্যন্ত, যতবার বাংলাদেশকে টেনে পেছনে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যত অশুভ শক্তি, সকল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সারা জাতি একত্রিত হয়ে আন্দোলন করেছে এবং বিজয় অর্জন করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো জাতি পরাজিত হয়নি, না মুক্তিযুদ্ধে, না ভাষা আন্দোলন, না ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে, কিংবা স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলনে, আমরা সবসময় বিজয়ের জাতি। সমস্ত ষড়যন্ত্রকে পরাজিত করে আমরা আবারও বিজয় অর্জন করব, এবং আগামি নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ জয়ী হবো।’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, আফরোজা আব্বাস, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি, হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রক্সি প্রমূখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের দু’টি বিক্রয় কেন্দ্রে সরকার নির্ধারিত নিয়মে ও সঠিক পরিমাণে হত-দরিদ্রদের জন্য স্বল্প মূল্যে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
রবিবার(২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউনিয়নের নান্দুরিয়া চক বাজার ও বারো আটিয়া বিক্রয় কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
সরেজমিনে, রবিবার সকালে নান্দুরিয়া চক বাজার বিক্রয় কেন্দ্র গিয়ে দেখা যায়, চাল নিতে আসা মহিলাদের দীর্ঘ লাইন। আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একজন মহিলা গ্রাম পুলিশকে নিয়োজিত করা হয়েছে এই বিক্রয় কেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য।
এ ছাড়াও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাজ্জাত হোসেন আজাদ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে উপকারভোগীদের ক্রেতাদের তদারকি করছেন।
এই কেন্দ্রে মোট ৪৮২ জন নিবন্ধিত উপকারভোগী রয়েছে। তাঁদের জন প্রতি ১৫ টাকা কেজি হারে ৩০ কেজি চালের মূল্য রাখা হচ্ছে ৪৫০ টাকা। এখানে জন প্রতি ৩০ কেজি চালের বস্তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে চাল কম দেওয়ার কোনো রকম সুযোগ এখানে নেই।
কথা হয় চাল নিতে আসা মোছাঃ আসিয়া খাতুন, মোছাঃ ফাহিমা বেগম, রুবিনা আক্তারের সাথে। তাঁরা জানান, চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। ১৫ টাকা দরে তাঁরা ৩০ কেজির চালের বস্তা নিয়েছেন ৪৫০ টাকা দিয়ে।
তবে তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তার পর চাল নিতে হচ্ছে। এই বিতরণ প্রক্রিয়াটা আরও সহজ করার দাবি জানান।
বিক্রয় কেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা গ্রাম পুলিশ হাসনা বেগম জানান, বিক্রয় কেন্দ্রে কোন ধরনের অনিয়ম কিম্বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। সবাই লাইন ধরে দাঁড়িয়ে চাল নিচ্ছে।
সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির নান্দুরিয়া চক বাজারের ডিলার মেসার্স কথা টেডার্সের মালিক মোঃ লাল মিয়া জানান, গত মাসে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ১৫ তারিখে চাল বিতরণ করা হবে বলে মাইকিং করা হয়। অথচ আমি খাদ্য গুদাম থেকে চাল পেয়েছি ১৯ তারিখ। আর বিতরণ শুরু করেছি ২১ আগস্ট থেকে। আমার বিরুদ্ধে শহর বানু সহ আরো দুই জন চাল বিতরণে কম দেওয়ার অভিযোগ করেছে আগস্টের ২১ তারিখে অথচ আমার মাস্টার রোলের তথ্য অনুযায়ী তাঁরা চাল উত্তোলন করেছেন আগস্টের ২৩ তারিখে। তাহলে তাঁরা উত্তোলনের দুই দিন আগেই কিভাবে অভিযোগ করেন আমি তাদের পরিমাণে কম দিয়েছি?
তিনি আরও জানান, আমার এলাকার আরও কয়েকজন সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার শিপের জন্য আবেদন করেছিল। তাঁরা ডিলারশিপ পেতে ব্যর্থ হয়ে এই ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে।
এই বিক্রয় কেন্দ্রে পরিদর্শনে আসা আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাজ্জাত হোসেন আজাদ মাইকিং এর ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতার কথা স্বীকার করে জানান, আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এই কেন্দ্রে একজন মহিলা গ্রাম পুলিশকে নিয়োজিত করা হয়েছে। আটিয়া ইউনিয়নের দু’টি বিক্রয় কেন্দ্রে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। এ ছাড়াও সরকারের তরফ থেকেও একজন ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কার্যালয়ের আমিনুল ইসলাম চাল বিতরণ সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাইনুল হাসান জানান, সরকার নির্ধারিত দামে ও নিয়ম অনুযায়ী আটিয়া ইউনিয়নের নান্দুরিয়া চক বাজার ও বারো আটিয়া বিক্রয় কেন্দ্র থেকে চাল বিক্রয় করা হচ্ছে। আমি যতটুকু জানি, এই দু’টি বিক্রয় কেন্দ্রে কোন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কোন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
আরমান কবীরঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা মহিলা দলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ব্যানারে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন,জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আফরোজা আব্বাস।
টাঙ্গাইল জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও বেগবান করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয় আলোচনা সভা থেকে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রক্সি মেহেদি এবং যুগ্ম-সম্পাদক খালেদা আক্তার স্বপ্না।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য ও সাপ্তাহিক লোকধারা পত্রিকার সম্পাদক প্রয়াত এনামুল হক দীনার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের লাইব্রেরী কক্ষে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদের মহাসচিব ও মজলুমের কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক জাফর আহমেদ, বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ও সাপ্তাহিক প্রযুক্তি পত্রিকার সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, সহ-সভাপতি ও আজকের টেলিগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক শাহাবুদ্দিন মানিক, বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগধারা’র সম্পাদক সরকার হাবিব, কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক টাঙ্গাইল প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক মো. মোস্তাক হোসেন, সদস্য ও আজকের দেশবাসী পত্রিকার সম্পাদক অরন্য ইমতিয়াজ, সাপ্তাহিক ইন্তিজার এর সম্পাদক এবি এম আব্দুল হাই, সময় তরঙ্গ এর সম্পাদক কাজী হেমায়েত হোসেন হিমু,সদস্য ও সাপ্তাহিক সমাজচিত্রের সম্পাদক মো: মামুনুর রহমান মামুন, সদস্য ও প্রগতির আলো পত্রিকার সম্পাদক আনোয়ার সাদাৎ ইমরান, সদস্য ও সাপ্তাহিক কালেরস্বর এর সম্পাদক কবি শামছুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া মাহফিলে বক্তারা মরহুম এনামুল হক দীনার সাংবাদিকতা জীবনের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, তিনি ছিলেন একজন নীতি-নিষ্ঠ, নির্ভীক ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিক। তার মৃত্যুতে টাঙ্গাইলের সাংবাদিক সমাজ অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
দোয়া মাহফিল শেষে মাসিক মিটিং , নতুন সদস্য ভর্তি ও নৌকা ভ্রমন নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন শনিবার বিকেলে কক্সবাজারে অবস্থানকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এনামুল হক দীনা ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি… রাজিউন)। পরদিন রবিবার তার মরদেহ টাঙ্গাইলে আনা হলে জন্মস্থান কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চুরির অভিযোগে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার(১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের পা-ধুয়া চালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মো. জহিরুল ইসলাম (৩১)। তিনি জেলার গোপালপুর পৌরসভা রামদেব বাড়ি এলাকার আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে। নিহতের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
পুলিশ জহিরুলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সখীপুর উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত ছিল। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে শ্রীপুর রাজনীতির মোড় গ্রামের বাবুল মিয়ার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরি করে পালানোর চেষ্টা করেন জহিরুল। অটোরিকশা নিয়ে পা-ধুয়া চালা গ্রামে গেলে উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করে তাঁকে ধরে পিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সে মৃত্যুবরণ করে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা জানান ‘এলাকাবাসীর সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত যুবকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরমান কবীরঃ ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে ২ কিলোমিটার দূরে বর্তমান নতুন বাস টার্মিনালটি উদ্বোধন করেন। তখন এই টার্মিনাল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও জামালপুরে বাস চলাচল করতো। ফলে আশির দশকের জন্য টার্মিনালটি যথেষ্ট ছিল। বর্তমানে টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের ২৩টি জেলার যানবাহন চলাচল করে, যা এটিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। এ ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাতে টাঙ্গাইল থেকে সরাসরি বাস চলাচল করছে।
এক যুগ আগে পৌরসভার মেয়র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাস টার্মিনালের ভবন ও যাত্রী ছাউনি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। সেই পরিত্যক্ত ভবনে এখনও চলছে টার্মিনালের সমস্ত কার্যক্রম। ভবনটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
গত তিন বছর আগে আধুনিক বাস টার্মিনালের জন্য শহরের রাবনা বাইপাস এলাকায় প্রায় পাঁচ একর সরকারি জমি বরাদ্দ পায় টাঙ্গাইল পৌরসভা। বরাদ্দ পেলেও এখনো টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারেনি পৌর কতৃপক্ষ। বর্তমানে টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে যানবাহনের সংখ্যা অনেক, যায়গা সংকটের কারনে যানবাহনের চাপে রাস্তা বন্ধ হয়ে প্রতিনিয়ত যানযটের সৃষ্টি হয়। এই যানযটের কারনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় চলাচলকারী বড় সংখ্যক পথচারীদের। এছাড়া টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হওয়ায় হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী জেলা টাঙ্গাইল। আয়তনের দিক থেকে ঢাকা বিভাগের সর্ববৃহৎ জেলা এবং জনসংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিভাগের ২য় সর্ববৃহৎ জেলা টাঙ্গাইল। এর আয়তন প্রায় ৩,৪১৪.৩৫ বর্গ কিলোমিটার।
টাঙ্গাইলকে ‘উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার’ বলা হয়, বর্তমানে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার যানবাহন দেশের অন্যান্য অংশের সাথে যুক্ত হয়। টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের ২৩টি জেলার যানবাহন চলাচল করে, যা এটিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে।
কিন্তু টাঙ্গাইলে নেই কোনো আধুনিক বাস টার্মিনাল। নতুন বাস টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত টাঙ্গাইল পৌরসভার দেওলা ও কোদালিয়া এলাকায় বাস টার্মিনাল নির্মিত হয়েছে ৮০ দশকে। সময়ের ব্যবধানে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। হাজার হাজার মানুষ তাদের গন্তব্যে রওয়ানা দেয় এই বাস টার্মিনাল থেকে। বর্তমানে এই নতুন বাস টার্মিনালের অবস্থা খুবই নাজেহাল। প্রয়োজনের তুলনায় যায়গা সংকট থাকার কারনে সব সময় যানযট লেগেই থাকে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে লোকজন কর্মের উদ্দেশ্যে আসে এই জেলা শহরে।
টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালের পাশেই রয়েছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে বড় সংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে এখানে। নতুন বাস টার্মিনালে প্রতিনিয়ত যানযট লেগে থাকার কারনে রোগী ও তাদের স্বজনদের যাতায়াত করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া জরুরি বিভাগে ভর্তি হতে আসা মুমূর্ষ রোগিদের ঘন্টার পর ঘন্টা নতুন বাস স্ট্যান্ডের যানজটে অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে রাস্তায় মৃত্যুবরণ করেন।
গত ২০২২ সালের জুলাই মাসের ৪ তারিখে ১ লক্ষ ১ টাকা মুল্যের দলিল মুলে টাঙ্গাইল পৌরসভা ৩০ বছর মেয়াদী ৪.৯৪ একর সরকারি জমি লিজচুক্তি বন্দোবস্ত পায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করার জন্য। যায়গাটি রাবনা বাইপাসের পাশেই অবস্থিত। দীর্ঘ সময় পার হলেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি এই আধুনিক বাস টার্মিনালের।
টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ-মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেনের কাছ থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ-মিনিবাস মালিক সমিতির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৮০০টি গাড়ি। প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০টি গাড়ি চলে জেলা শহরের বাস টার্মিনাল থেকে, বাকি ৪০০ গাড়ি চলে বিভিন্ন উপজেলা বাস টার্মিনাল থেকে। এছাড়াও ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ব্যটারী চালিত ইজিবাইকের আলাদা স্ট্যান্ড না থাকায় বাস টার্মিনালেই এসব যানবাহনের স্ট্যান্ড হিসেবেও রুপ নিয়েছে। ফলে দিন দিন যায়গা সংকটটি প্রকট আকার ধারণ করছে।
টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম লাভলু জানান, গত ১০ বছর আগে পৌরসভা থেকে এই বাস টার্মিনাল পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়। এরপর বাস টার্মিনালের মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন এবং যাত্রী ছাউনি হিসেবে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত ভবনটি সংস্কার করা হয়নি। জেলার যানবাহনের সাথে সম্পৃক্ত মালিক, শ্রমিক সবারই কাম্য আধুনিক বাস টার্মিনাল।
মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ইউসুফ আলী মিয়া (তরুন ইউসুফ) জানান, তার বাসা টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালের পাশেই, প্রতিদিন কলেজে যাওয়া আসার সময় বাস টার্মিনালের রাস্তায় যানজটের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় তাকে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ৪০ মিনিট সময় বেশি লাগে কলেজে পৌঁছাতে। এছাড়াও বাস টার্মিনালের কাছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বাস টার্মিনালের এই যানজটের কারণে।
তিনি আরোও জানান, যানজটের কারণে ডেলিভারি রোগী বাস টার্মিনালেই বাচ্চা প্রসব করার ঘটনাও ঘটেছে। বাস টার্মিনালের আশেপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ নিতে যাওয়ার সময়ও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় এই যানযটের কারনে। আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করে পরিকল্পিতভাবে যানবাহন চলাচল করলে এই যানজটের নিরসন হবে এবং পথচারীদের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে মনে করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পথচারী জানান, বাস টার্মিনালে এমনিতেই জায়গা সংকট, এখানে বাস রাখার পাশাপাশি ট্রাক, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও ব্যাটারী চালিত ইজিবাইককের অলিখিত স্ট্যান্ডও রয়েছে। এছাড়াও বাস টার্মিনালের উত্তর পাশে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে কাঁচা বাজার। এই বাজারের দোকানগুলো প্রায় রাস্তার উপরেই বসেছে, যে কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি হতে পারে মানুষের। অতি দ্রুত অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই কাঁচা বাজার অপসারণ করা দরকার বলে দাবি করেন প্রশাসনের কাছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক মো: শিহাব রায়হান জানান, আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করার জন্য টাঙ্গাইল পৌরসভার অনুকূলে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া জমিতে মাটি ভরাট করার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুতই মাটি ভরাট করে বাস টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরমান কবীরঃ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল শহর শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাইজীদ বোস্তামীকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি ব্লকের ১৭/এ রোডের ৫/এ নাম্বার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ ।
গ্রেপ্তারকৃত বাইজীদ বোস্তামী জেলার মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের চিতেশ্বরী গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে। সে শহরের থানা পাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতো।
ওসি তানবীর আহম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল বুধবার দুপুরে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাইজীদ বোস্তামীকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত বাইজীদ বোস্তামীর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় ইতিমধ্যে ওয়ারেন্ট বের হয়েছে। তাকে ওই ওয়ারেন্ট বলে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাকে টাঙ্গাইল কোর্টে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার(১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার কুইজবাড়ী গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর নাম লিলি আক্তার (৪৫)। তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম আনিছুর রহমানের (উত্তম) স্ত্রী। এ দম্পতির এক ছেলে ও দুই মেয়ে আছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, লিলি আক্তারের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
আনিসুর রহমানের ভাতিজা মেহেদী হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সদর উপজেলার কুইজবাড়ী বাজারের কাছে লিলি আক্তার তাঁদের মালিকানাধীন লিওন বেকারিতে যান। তিনি বেকারির কারিগরদের সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী প্রবেশ করে। তারা লিলি আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চলে যায়। সন্ত্রাসীদের মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত লিলি আক্তারকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আনিসুর রহমানের বড় ভাইয়ের স্ত্রী হাসিনুর বেগম বলেন, লিলি আক্তার প্রতিদিন রাতে বেকারিতে কাজ তদারকির জন্য যেতেন। মঙ্গলবার বেকারিতে যাওয়ার পরেই তাঁর ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা করে।
নিহতের স্বামী আনিছুর রহমান জানান, তিনি হামলাকারীদের চিনতে পারেননি এবং তাদের পরিচয় সম্পর্কে কিছুই নিশ্চিত নন।
তিনি দাবি করেন, তারা মূলত তাকে খুঁজছিলেন। কিন্তু তাকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে হত্যা করেন।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহমেদ বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরার চেষ্টা চলছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিহতের স্বজনদের ভিড়
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল যৌনপল্লি থেকে শহর যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহ জনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে শহরে কান্দাপাড়ার যৌনপল্লি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শাহ জনি টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর পাড়ার মো. ইসরাফিলের ছেলে। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দিনগত রাতে শহরের যৌনপল্লি থেকে শাহ জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি আরো জানান, এর আগে গত বছরের ২ অক্টোবর রাতে টাঙ্গাইল শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শাহ জনিকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল শহরের বটতলা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় কালিহাতীর চিনামুরা গ্রামের লাল মিয়া গুলিবিদ্ধ হন। পরে লাল মিয়া বাদী হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শাহ জনি ওই মামলার ৪১ নম্বর আসামি।