আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলকে ময়মনসিংহ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবনার প্রতিবাদে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
এতে মহাসড়কের উভয় পাশে অন্তত ছয় কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা মহাসড়কের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর অংশে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ শুরু করে।
তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টাঙ্গাইলকে ময়মনসিংহ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন না।
আন্দোলনকারীরা বলেন, টাঙ্গাইল নিয়ে টানাহেঁচড়া চলবে না। টাঙ্গাইল যদি ঢাকা বিভাগে না থাকে, তাহলে একে স্বাধীন বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।
অবরোধের কারণে ঢাকাগামী ও উত্তরবঙ্গগামী শত শত যানবাহন ঘণ্টাব্যাপী আটকে পড়ে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আলোচনা শেষে দেড় ঘণ্টা পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইল জেলাকে ময়মনসিংহ বিভাগে প্রস্তাবনার বিষয়টি আমরা লিখিত কোনো চিঠি বা এধরনের কোন তথ্য আমরা সরকারিভাবে পাইনি। আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবি গুলো লিখিতভাবে জমার আহ্বান করা হয়েছে। তাদের লিখিত দাবি গুলোর বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহকে দেশের অষ্টম বিভাগ হিসেবে ঘোষণার সময়ই টাঙ্গাইলকে ওই বিভাগে যুক্ত করার প্রস্তাব ছিল। সে সময়ও টাঙ্গাইলের মানুষ গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করেন।
বর্তমানে প্রস্তাবের বিষয়টি আবার আলোচনায় আসায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং টাঙ্গাইলের প্রশাসনিক অবস্থান অপরিবর্তিত রাখার দাবি জানাচ্ছেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে জেলা সদর বাস্তুহারা কল্যাণ সমিতির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে শহরের আকুর টাকুর পাড়ায় জেলা সদর বাস্তুহারা কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় জেলা সদর বাস্তুহারা কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা মমিনুল হক খান নিকছনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী, জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবালের সমর্থনে এক ব্যতিক্রমী বাইসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল পৌর শহরের কাগমারী সরকারি এম এম আলী কলেজের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
এতে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, শহর বিএনপি’র সভাপতি মেহেদী হাসান আলীমসহ জেলা ও শহর বিএনপি’র বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এ সময় ফরহাদ ইকবাল বলেন, টাঙ্গাইলের চরবাসীর পক্ষ থেকে এই বাইসাইকেল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। বিগত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে আমি সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছি। চরাঞ্চলের মানুষের ভালোবাসাই আমার প্রেরণা।
আশা করছি, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আর সে নির্বাচনে বিএনপি জনগণের বিশ্বাস অর্জন করবে।
এই বাইসাইকেল শোভা যাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের অভিজাত শপিং মল ‘সাত্তার শপিংমলে’ ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে জেলা সদর রোডের টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত সাত্তার শপিংমলে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ ছাড়া বুধবার রাতে শহরের রাবনা বাইপাস এলাকায় অবস্থিত তাহের পেট্রোল পাম্পে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাম্পের এলপিজি গ্যাস বাসা বাড়ির সিলিন্ডারে দেওয়ার অভিযোগে তাদের এই জরিমানা করা হয়।
অভিযান দুটি পরিচালনা করেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল ।
অভিযানে সাত্তার শপিংমলে ভেজাল কসমেটিকস, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য ও মূল্যতালিকা না রাখায় ১ লাখ টাকা ও তাহের পেট্রোল পাম্পকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, সাত্তার শপিংমলকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ভেজাল পণ্য জব্দ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পুনরায় এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে তাহের ফিলিং স্টেশনকে এ ধরনের নিয়ম বহির্ভূত কাজ না করতে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয়।
সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষ যেন প্রতারিত না হয়, তাই শপিংমলের মালিকদের সচেতন থাকতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান,জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পরবর্তী সময়ে উপজেলার বাজারগুলোতেও একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অভিযানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের সদর উপজেলায় চারাবাড়ি এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে গিয়ে পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ব্রিজের পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার চরাঞ্চলের কাতুলী, হুগড়া, কাকুয়া, মাহমুদ নগর ও নাগরপুরের ভাড়রা ইউনিয়নে যাতায়াতের জন্য টাঙ্গাইল-তোরাপগঞ্জ সড়কে ধলেশ্বরী নদীর ওপর চারাবাড়িঘাটে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিগত ২০০৬ সালে ১৭০.৬৪২ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে। নির্মাণের পর থেকেই কয়েকবার পূর্ব ও পশ্চিম তীরের অ্যাপ্রোচ সড়ক ধসে যায়। সর্বশেষ গত বছরের ১০ জুলাইও ব্রিজের পশ্চিম পাশে অ্যাপ্রোচ ভেঙে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজ দিয়ে চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। এছাড়া মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন অফিস আদালতে যাতায়াতেও ব্যাঘাত ঘটছে।
এদিকে চরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, তাঁত শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য আনা-নেওয়া করতে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক, অটোভ্যান, অটোরিকশা, সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করে থাকে এই ব্রিজের উপর দিয়ে।
সিএনজি চালিত অটো রিকশার চালক আব্দুল হাই ও খোরশেদ আলম বলেন, মঙ্গলবার ভোরে যাত্রী নিয়ে এসে দেখলাম ভেঙে গেছে। পরে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ভাঙনের দৃশ্য দেখতেছি। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে আমরা গাড়ি চালাতে পারব না।
কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুমন দেওয়ান বলেন, নদীর পানির চাপ বেড়ে পশ্চিম পাশের অ্যাপ্রোচসহ সংযোগ সড়ক ও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ব্রিজ ভেঙে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে।
সদর উপজেলার এলজিইডি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, সদর উপজেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আজকের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার ভোরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় বৃহত্তর চরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ সাময়িক ভোগান্তির শিকার হলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান করে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সবাইকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। যে কোন ভাবেই হোক অ্যাপ্রোচের মাটি দ্রুত ভরাট করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চরাঞ্চল বাসীর দুর্ভোগ সমাধান করে দেয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কুড়া বোঝাই ট্রাক ও ঢালাইয়ের মিক্সার মেশিন বহনকারী পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই নির্মাণশ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার বাংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, কালিহাতী উপজেলার কোনাবাড়ী এলাকার জহের আলী (৪৫) ও বানিয়াফৈর এলাকার মুক্তার আলী (৪২)।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক কালাম মিয়া জানান, আমরা ঘুনি সালেংকা এলাকায় ঢালাইয়ের কাজ শেষ করে পিকআপ ভ্যানে করে এলেঙ্গার দিকে ফিরছিলাম। হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কুড়া বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপের ডানপাশে থাকা শ্রমিকরা ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হয়।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন মৃত্যুবরণ করেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এএসআই আলমগীর হোসেন বলেন, নিহত দুই শ্রমিকের মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের এলংজানি নদী থেকে রবি দাস(৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের খারজানা গ্রামের নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সন্তোষ কাগমারী ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, প্রাথমিক সুরতহালে রবিদাসের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিহত যুবকের নাম জীবন রবি দাস। সে জেলার ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের মৃত রংলাল রবি দাসের ছেলে। সে পেশায় মুচি ছিল বলে জানা গেছে।
পোড়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান, সোমবার রাতে পোড়াবাড়ী খেয়া ঘাটের সামনে দিয়ে মরদেহটি ভেসে যেতে দেখে স্থানীয়রা তাকে খবর দেয়। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে মরদেহটি ভেসে পাশের সিলিমপুর ইউনিয়নের বরুহা ব্রিজের কাছে চলে যায়। পরে মরদেহটি ইউনিয়নের খারজানা গ্রামের কাছে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, পরে সন্তোষ কাগমারী ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দিলে তাঁরা এসে মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ জানান, স্থানীয় ভাবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে তার নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হচ্ছে, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
তিনি আরও জানান, থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় চারাবাড়ীতে শনিবার ধলেশ্বরী নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ তিন বোনের পরিবারের সদস্যদের খোঁজ ও সান্ত্বনা দিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫(সদর ) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
রবিবার (৫ অক্টোবর) সকালে তিনি চারাবাড়ির ধলেশ্বরী নদীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং তিনজনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সান্তনা দেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাবুসহ উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের দ্বিতীয় দিনের মত ধলেশ্বরী নদীতে উদ্ধার অভিযান পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার অপর খালাতো বোনের বিয়ের দাওয়াত খেতে আসে নিখোঁজ ওই তিন কিশোরী। পরে শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে তারা পরিবারকে দোকানে যাওয়ার কথা বলে ধলেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নামে। গোসলের এক পর্যায়ে তারা নদীর স্রোতে ডুবে যায়।
তারা হলেন,মনিরা (১১) উপজেলার মাহমুদ নগরের মনিরুল ইসলামের মেয়ে। নিখোঁজ অপর দুই শিশু হলো- একই এলাকার বোরহানের মেয়ে আছিয়া (১২) ও মাফিয়া (০৯)। তারা সম্পর্কে খালাতো বোন।
পরে শনিবার (৪ অক্টোবর) সন্ধায় টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল মনিরার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন।
নিখোঁজ আপন দুই বোন আছিয়া আক্তার (১২) ও মাফিয়া আক্তার (১০) কে উদ্ধারের জন্য ডুবুরি দল দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে তিন শিশু নিখোঁজ হয়েছে। যাদের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার চারাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ।
নিহত মনিরা (১১) উপজেলার মাহমুদ নগরের মনিরুল ইসলামের মেয়ে। নিখোঁজ দুই শিশু হলো- একই এলাকার বোরহানের মেয়ে আছিয়া (১২) ও মাফিয়া (০৯)। তারা সম্পর্কে খালাতো বোন।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা হুমায়ুন কার্ণায়েন বলেন, শনিবার দুপুরের দিকে মনিরা তার দুই খালাতো বোন আছিয়া ও মাফিয়াকে নিয়ে ধলেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নামে। এক পর্যায়ে তারা স্রোতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে উদ্ধারকাজ শুরু করে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় মনিরার লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে আছিয়া ও মাফিয়ার সন্ধান মেলেনি। রাত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রবিবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে আবার উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়েছে বলেও জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহাম্মেদ জানান, শুক্রবার তারা খালার বাড়ি আসেন বিয়ের দাওয়াত খেতে। শনিবার সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে অদুরে ধলেশ্বরী নদীতে যায় গোসল করতে। কিন্তু নদীতে স্রোত থাকায় এবং তারা সাতার না জানায় পানিতে তলিয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং বাকি দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত করা হবে না।
আরমান কবীরঃ পুলিশ হেফাজতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজানের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মিজানুর রহমান মিজান কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া বাসাইল উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তিনি উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের নাকাছিম গ্রামের বাসিন্দা। যুবলীগ নেতা হলেও তার বিরুদ্ধে ট্রেন্ডারবাজি, জমি দখল বা কোথাও চাঁদা তোলার অভিযোগ শোনা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় চার মাস আগে বাসাইল থানা পুলিশ উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজানকে নাকাছিম এলাকা থেকে আটক করে। পরে তাকে টাঙ্গাইল সদর থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। আদালতে পাঠানোর পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর মিজান অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেসময় তাকে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। মিজান দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভূগছিলেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল জজ আদালতে তার জামিন শুনানি ছিল। সেসময় গুরুতর অসুস্থজনিত বিভিন্ন কাগজপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের বিচারক জামিন নামঞ্জুর করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবি মিজানের অসুস্থজনিত বিষয়টি সামনে এনে জামিনের জন্য জোর দাবি জানালেও কাজ হয়নি। আগামী ৭ অক্টোবর তার পরবর্তী জামিন শুনানির তারিখ ধার্য ছিল।
টাঙ্গাইল কারাগারের জেল সুপার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কিছুদিন আগে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার মৃত্যুর বিষয়টি এখনও জানতে পারিনি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর থেকে তিনি কেরানীগঞ্জের অধিনে রয়েছে।’
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় শাহীন নামে এক কিশোরের রহস্য জনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শাহীন (১৭) উপজেলার বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের জোয়াইর গ্রামের প্রবাসী আব্দুল্লাহর ছেলে। সে মায়ের সঙ্গে নানা বাড়ি জোয়াইর গ্রামে বসবাস করতেন। নিহতের পরিবারের দাবি তাকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত অটো রাইস মিল এলাকায় ক্রিকেট খেলার কথা বলে শাহীনকে ডেকে নেয় আজিজ নামের এক তরুণ। সেখানে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় একই গ্রামের আয়নালের ছেলে দেলুয়ারের সঙ্গে। একপর্যায়ে বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নিলে গুরুতর আহত হয় শাহীন। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমা আক্তার জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহীন নামের এক রোগী আসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় ইঁদুরের বিষসহ একটি গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও একটি অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছে সে। তারা ট্রমা ওয়াশের মাধ্যমে বিষ বের করার চেষ্টা করেন, কিন্তু সে পাইপ কেটে ফেলে। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে তার গলায় খামছানোর দাগও লক্ষ্য করেছি।
নিহতের মামী অভিযোগ করে বলেন, শাহীনকে ডেকে নিয়ে মারধর করে মেরে ফেলা হয়েছে। এরপর তাকে জোর করে বিষও খাওয়ানো হয়েছে। তারা খুব প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে দেলুয়ারের দাদা করিম বিষয়টি ভিন্নভাবে তুলে ধরে বলেন, খেলা নিয়ে মারামারির ঘটনা জানার পরই আমি নাতিকে বকাঝকা করেছি। পরে শাহীনের বাড়িতে গিয়ে তাকে বুঝিয়ে এসেছি। রাতে শুনি সে নাকি বিষ খেয়েছে, এর বেশি কিছু জানি না।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, নিহতের পরিবারের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কিন্তু অপরপক্ষ বলছে কিশোর শাহীনের মৃত্যু হয়েছে বিষপানের ফলে। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, নিহত শাহীনের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ফলে এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের দেখা দিয়েছে।
আরমান কবীরঃ ১৯৭৪ সালে টাঙ্গাইল শহরের কোদালিয়া এলাকায় ৫০ শয্যার সুবিধা নিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে যার শয্যা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫০ ।
এ ছাড়া বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময় হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় তড়িঘড়ি করে ১০ শয্যার আইসিইউ বেড চালু করা হয়, যা ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে দক্ষ জনবলের অভাবে বন্ধ রয়েছে জেলার জন্য অতি জরুরি এই সেবাটি।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই হাসপাতালের নেই দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য ট্রমা সেন্টার। ফলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। আইসিইউ সেবা ও ট্রমা সেন্টার না থাকাতে রাজধানী ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হচ্ছে অধিকাংশ গুরুতর আহত রোগীর।
বর্তমানে চিকিৎসকসহ জনবলের অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এখানে সেবা নিতে আসা হাজার হাজার সাধারণ রোগীগণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪৫০ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এই হাসপাতালে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসেন।
এ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় গড়ে ১ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় আশানুরূপ সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। ৪০ লক্ষ জনসংখ্যা অধ্যুষিত টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দাদের জন্য জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত ৪৪জন চিকিৎসক নিতান্তই অপ্রতুল বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাপাতালে অনুমোদিত জনবলের প্রশাসনিক ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মচারীর পদ রয়েছে ৪০১টি। এর মধ্যে চিকিৎসকসহ ৭২টি পদ শূন্য। হাসপাতালে ৫৮ জন চিকিৎসক পদের মধ্যে ১৮টি পদ শূন্য। সিনিয়র কলসালটেন্ট (মেডিসিন) ও সিনিয়র কলসালটেন্ট (সার্জারি) দুইটি পদই শূন্য, সিনিয়ন কলসালটেন্ট (স্কিন ভিডি) পদও শূন্য, সিনিয়র নার্সের ৬টি পদই শূন্য, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর ৭২টি পদের বিপরিতে শুন্য রয়েছে ৩৫টি পদ। এ প্রতিষ্ঠানে ৭৭জন আউটসোর্সিং জনবলের মধ্যে লোক নিয়োগ করেছে মাত্র ৪৮ জন, ১৬ জন সুইপার পদের বিপরিতে ৯টি পদ শূন্য। এত স্বল্প সংখ্যক আয়া, সুইপার ও পরিচ্ছন্নকর্মীর কারনে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্য দিকে ডায়াবেটিক রোগীর তিন মাসে সার্বিক অবস্থা জানার একমাত্র এইচবিএওয়ানসি মেশিনটিও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এই হাসপাতালে সাধারণ মানের কিছু বেসিক টেস্ট করা হয়, কিন্তু সিটি স্ক্যান, এমআরআই, হরমোন টেস্ট, কালচার, হিস্টোপ্যাথলজি—এরকম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা সম্ভব নয়, কারণ সরঞ্জাম নেই। এ ছাড়াও মেডিসিন ও সার্জারি পোস্টে কোনো কনসালট্যান্ট নেই। স্ট্যান্ডার্ড সেটাপে ১৭৮ জন চিকিৎসক প্রয়োজন, কিন্তু এখানে সর্বমোট চিকিৎসক রয়েছেন ৪৪ জন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পাশে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মিত হলেও পুরোপুরি চালু হয়নি, যার কারণে জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ সবসময় বেশি থাকে। এ ছাড়াও দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগী ও স্বজনরা হয়রানির শিকার হন। ৪৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১৫ জন প্রতিদিন বহির্বিভাগে, ৪ জন ইমারজেন্সিতে এবং বাকি ২৫ জন ইনডোরে ডিউটি করেন।
হাসপাতালে ১৪টি ওয়ার্ড রয়েছে: ১নং প্রসূতি, ২নং শিশু, ৩নং গাইনি, ৪নং মেডিসিন (মহিলা), ৫নং মেডিসিন (পুরুষ), ৬নং সার্জারি (পুরুষ), ৭নং সার্জারি (মহিলা), ৮নং অর্থোপেডিক (পুরুষ), ৮এ অর্থো (মহিলা), ৯নং ডায়রিয়া, ১০নং ইএনটি, ১১নং সিসিইউ, ১২নং আইসিইউ, ১৩নং করোনা সাসপেকটেড, ১৪নং করোনা পজিটিভ। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ৪টি (গাইনী, সার্জারি, অর্থোপিডিক)। পরিচ্ছন্নতা কর্মী ১৩ জন, আউটসোর্সিং ভিত্তিতে।
এ দিকে এ হাসপাতালে ১০ বেডের আইসিইউ থাকলেও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় ডাক্তার এবং দক্ষ জনবল না থাকার কারনে রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আইসিইউ সেবা বন্ধ রয়েছে। তারপরও আরও একটি ১০ বেডের আইসিইউ প্রস্তুুত করা হয়েছে। সময় মতো সেটি চালু না করা গেলে মূল্যবান মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রয়োজন ৭৫ জন। হাসপাতালের খাবারের মান ভালো, তবে ২৫০ জন রোগীর বাইরে খাবার পরিবেশন সম্ভব নয়। ঔষধের বরাদ্দ রয়েছে, তবে অনেক রোগী ঔষধ না পাওয়ার অভিযোগও করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, কিছু সিনিয়র চিকিৎসকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে এখানে অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারে জনবল নেই। এ কারনে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষাও ঠিকমত হচ্ছেনা। জনবলের অভাব হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সচল যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভাবে পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে অধিকাংশ রোগী বাইরের বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা করছেন। আর এ ক্ষেত্রেও ওই সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের ১জন রেডিওলজিস্ট দিয়ে কোনভাবে এত পরিমান রোগীর সেবা প্রদান করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসা নিতে আসা জেলার গোপালপুরের রফিজ উদ্দিন বলেন, ডাক্তার আমাকে ব্রেনের এমআরআই পরীক্ষা করতে বলেছিলেন। সদর হাসপাতালে এমআরআই নেই, তাই প্রাইভেট হাসপাতালে ৭,৫০০ টাকা খরচ করে পরীক্ষা করেছি। সরকারি হাসপাতালে এই ব্যবস্থা থাকলে রোগীদের ভোগান্তি কম হতো।
আব্দুর রাজ্জাক নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালের আশেপাশের ঔষধের দোকানদাররা রোগীর স্বজনদের হাত থেকে ঔষধের স্লিপ নিয়ে বেশি দাম চায়। প্রতিবাদ করলে দাপট দেখানো হয়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার ও সহকারী স্টাফ না থাকায় রোগীরা পুরোপুরি সেবা পাচ্ছে না। তবে যারা আসেন তাদের উপযুক্ত সেবা দেওয়া হয়। ঔষধ ও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে রোগীর চাপ বেশি হলে বেগ পোহাতে হয়। আইসিইউ, ডাক্তার, পরিচ্ছন্নতা কর্মী বৃদ্ধি করলে আশানুরূপ সেবা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।