আরমান কবীরঃ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্তলালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা: বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন,শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে শিক্ষার পরিবেশটা আনন্দদায়ক হতে হবে। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুর মধ্যে সুপ্ত সম্ভবনাগুলোকে বিকাশ করা। এছাড়াও শিশুকে সুনাগরিক এবং সমাজে দক্ষ নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা।
এই কাজটি আমরা করব পাঠ্যক্রম ও সহ পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে অথবা উচ্চ পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে।
রবিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল শিল্পকলা একাডেমি ভবনে শিক্ষার গুনগতমান উন্নয়নে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ভুমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলে।
তিনি বলেন, শিক্ষার পরিবেশটা যেন আনন্দদায়ক হয়। সেটা শিশু পড়ে যেন আনন্দ পায়। একটা শিশুকে স্বপ্ন দেখাতে হবে স্বপ্ন শিখাতে হবে। সে যেন স্বপ্ন দেখতে পারে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে কেন পড়বে তার একটা স্বপ্ন থাকা দরকার। ফলে শিশুকে স্বপ্ন দেখানো টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে সব সময়ই আমিও পারি এই সাহসটা জাগ্রত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের প্রশ্ন পড়বে যেটা জানতে পারলাম এতে করে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীসহ সব কিছুরই সমস্যা চিহ্নিত করছি।আগামীতে প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র পাল্টে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি ।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্তলালয়ের সচিব আবু তাহের মো:মাসুদ রানা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো: আজমুল হক এবং প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্তলালয়ের মহাপরিচালক আবু নৃর মো,শামসুজ্জামান প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা বৃন্দ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন ভাবে তৈরি হচ্ছে শত শত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। ফলে পৌর এলাকার প্রায় প্রতিটি সড়কে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রিকশা ও অটোরিকশা চলাচলের কারণে শহরে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে অফিস টাইমে স্থবির হয়ে পড়ছে শহরের রাস্তাঘাট। ঘন্টার পর ঘণ্টা যান জটের কবলে আটকা পড়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে অফিস যাত্রী ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা
টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স শাখা সূত্রে জানা যায়, বিগত মেয়র সিরাজুল হক আলমগীরের সময়ে টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে ৬ হাজার প্যাডেল রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হয়। প্রতিটি লাইসেন্স বাবদ ফি নেওয়া হয় ১ হাজার টাকা। এই লাইসেন্স প্যাডেল চালিত রিকশার জন্য দেওয়া হলেও পৌরসভার এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বর্তমানে লাইসেন্স গুলো ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশায়। এটা পৌরসভার আইন অনুযায়ী নিয়ম বহির্ভূত। বিগত সময়ের মেয়র দায়িত্ব থাকাকালীন সময় থেকেই এভাবে চলছে বলে জানা যায়। কিছু কিছু রিকশার মালিকরা একই নামে দশের অধিক লাইসেন্স নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ক্রয় করে চালকদের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন।
পৌরসভার তালিকাভূক্ত ৬ হাজার রিকশা থাকলেও বাস্তবে শহরে এর ৩ থেকে ৪ গুন ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এই রিকশাগুলো টাঙ্গাইলের অননুমোদিত মা-মটরস, বিসমিল্লাহ মটরস, একতা মটরসসহ আরো নামে-বেনামে ৩০টির অধিক অবৈধ কারখানা থেকে তৈরি হচ্ছে।
এইসব কারখানার অধিকাংশ মিস্ত্রিদের কোন ধরনের কারিগরি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। শুধুমাত্র অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি এইসব ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে। ফলে শহরে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া এইসব রিকশা গুলোর ব্যাটারি চার্জ করতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুতের দরকার হচ্ছে। এর ফলে দিনদিন শহরে লোডশেডিং বাড়ছে।
সরজমিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের টাঙ্গাইল-বাঘিল আঞ্চলিক সড়কের চিলাবাড়ি এলাকায় মা-মটরস কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, তিনজন কারিগর ব্যাটারিচালিত রিকশার নতুন অনেক গুলো বডি তৈরি করছে। এদের দুইজনকে মালিক রংপুর ও ময়মনসিংহ থেকে ভাড়া করে এনেছে। এছাড়া একজন ১২ বছরের কিশোর কোনরকম নিরাপত্তা পোশাক না পড়েই ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছে। তারা জানায়, প্রতিটি বডি তৈরি করলে ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে ১ হাজার ২শত টাকা ও অটোরিকশা তৈরির ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকা করে মুজুরি পান। এছাড়া থাকা-খাওয়া মালিকের মধ্যে। চিলাবাড়িতেই রয়েছে মা-মটরসের বিক্রয়ের শোরুম। শো রুমের সমানেই সড়কের অপর পাশে ঢাকা থেকে কারিগর এনেছেন রিকশার সিট ও সৌন্দর্য বর্ধনের হুড তৈরির জন্য। এছাড়া রিকশার সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের নকশার কাজ করছেন স্থানীয় একজন কারিগর।
মা-মটরসের মালিক দুলাল মিয়া এক সময় রিকশার মেকার হিসেবে টাঙ্গাইল শহরে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানা দিয়েছেন। তিনি জানান, এই ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কোন ধরনের বৈধ অনুমোদন পত্র তার নেই এবং কোন ধরনের কারিগরি জ্ঞানও নেই। তিনি দীর্ঘদিন রিকশা মেরামত অথাৎ মেকারের কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই রিকশা তৈরির কারখানা করেছেন।
এমনকি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) টাঙ্গাইলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করার কোন অনুমোদন আছে কিনা তার কাছে জানতে চাইলে তিনি সে ব্যাপারেও না করেন। কোন ধরনের অনুমোদনের তোয়াক্কা করেন না বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সোরহাব হোসেন জানান, মা-মটরস নামের একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানা আমার ৬নং ওয়ার্ডে রয়েছে। তবে সরকারি ভাবে তাদের এই রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কোন কাগজপত্র আছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। প্রয়োজনে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।
এডভোকেট জসিম উদ্দিন, এডভোকেট মিজানুর রহমান, জুয়েল রানা, সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া, শিক্ষিকা সেলিনা হোসেন জানান, শহরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করছে। এর সাথে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম্বার বিহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। ফলে ব্যস্ততম সময়ে শহর এক প্রকার অচল হয়ে পড়ে। এছাড়া এই ধরনের রিকশা চলাকদের কোন ধরনের প্রশিক্ষণ না থাকায় যত্রতত্র রিকশা পার্কিং ও যাত্রী তোলার ফলে এই যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করে। এইসব অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। তাহলে শহরে কিছুটা হলেও যানজট কমবে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) শাহীন মিয়া জানান, আমি টাঙ্গাইলে নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরি আইনগতভাবে বৈধ নয়। তাই এই ধরনের কোন রিকশা তৈরির কারখানার সন্ধান পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) মো. শিহাব রায়হান জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে কোন ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি। আর টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা মুক্ত শহর করতে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও এই অবৈধ রিকশা গুলো আটক করে ডাম্পিং করা যায় কিনা সেই বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে। খুব দ্রুতই এইসব অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল কোর্ট মসজিদে জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
দোয়া মাহফিলে অংশ নেয়, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, সদর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রৌফ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক তারিকুল ইসলাম ঝলক, সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ সাফি ইথেন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এম এ বাতেন, সদর উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আমিনুর রহমান সুমন প্রমুখ।
এসময় বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশ, তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের গান্ধিনা মৌজায় লায়ন ফেরদৌস আলম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও শিল্পপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ২২ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রাজু আহম্মেদ ভুইয়া কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজু আহম্মেদ ভুইয়া (পিতা: মৃত হাসান আলী ভুইয়া) ওয়ারিশ সূত্রে গান্ধিনা মৌজার এসএ খতিয়ান নং ৬৫০-এর দাগ নং ১২৪৭, ১২৪৮ ও ১২৪৯—এই তিনটি দাগে মোট ৬৬ শতক জমির মধ্যে ২২ শতাংশ জমির মালিক হন। অভিযোগকারী জানান, উক্ত জমির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খাজনাও তিনি পরিশোধ করেছেন।

রাজুর অভিযোগ, শিল্পপতি লায়ন ফেরদৌস আলম ফিরোজ প্রভাব খাটিয়ে তার মালিকানাধীন ২২ শতাংশ জমিতে জোরপূর্বক টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দোকান হিসেবে ভাড়া দিয়েছেন। বিষয়টিকে তিনি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অযৌক্তিক দাবি করেছেন। প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে প্রতিকার না পেয়ে তিনি এসিল্যান্ডের কাছে অভিযোগ করতে বাধ্য হন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, ফেরদৌস আলম ফিরোজ এলাকার একজন শিল্পপতি ও বিত্তশালী ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ২২ শতাংশ জমি দখলের ঘটনাটি তাদের অবাক করেছে। তাদের মতে, দখলকৃত জমির প্রকৃত মূল্য পরিশোধ করে সমঝোতায় আসাই তার জন্য মঙ্গলজনক হবে।
অভিযোগকারী রাজু আহম্মেদ ভুইয়া বলেন, আমার ২২ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তি তিনি জোর করে দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। প্রতিকার চেয়ে এসিল্যান্ড মহোদয়ের কাছে অভিযোগ করেছি।
অভিযোগের বিষয়ে লায়ন ফেরদৌস আলম ফিরোজের সঙ্গে সরেজমিন ও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নাগবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মো. কামরুজ্জামান জানান, এসিল্যান্ড অফিস থেকে অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে সরেজমিন তদন্ত করেছি। খুব দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েদা খানম লিজা জানান, তিনি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো অবগত নয়। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ২৬ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মা ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মুচারিয়া পাথার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের কৃষক শামছুল আলমের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৫৮) দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় মানসিক অশান্তিতে ভুগছিলেন। অন্যদিকে ২৬ বছর বয়সী মেয়ে সাজেদা ছিল অসুস্থ।
এরই জেরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে প্রথমে মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পরে নিজে রান্না ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
স্থানীয়রা জানান, শামসুল আলমের স্ত্রী শাহনাজ বেগম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। অন্যদিকে তাদের ২৬ বছরের একটি প্রতিবন্ধী মেয়েও অনেক অসুস্থ ছিল। মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপে তিনি এমন কাজ করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য লোকমান হোসেন বলেন, শাহনাজ বেগম প্রায় ২০ বছর ধরে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথাসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। অন্যদিকে প্রতিবন্ধী মেয়ে সাজেদার বয়স ২৬ থেকে ২৭ বছর হলেও উচ্চতা ছিল দুই বা সোয়া দুই ফুট। ছয় মাস ধরে মেয়েটা মুখে তেমন কিছু খেতে পারত না এবং ছয় মাস ধরে পায়খানা বন্ধ ছিল। তার পেট ফুলে গিয়েছিল। চলাফেরা করতে পারত না। একদিকে নিজে জটিল রোগে ভুগছিলেন অন্যদিকে প্রতিবন্ধী মেয়ে ছিল অসুস্থ। যে কারণে অতিষ্ঠ হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিতা শামসুল হক ঘটনার রাতে (গরু রাখার ঘর) গোহাইল ঘরের ভেতরে একটি রুমে ঘুমিয়ে ছিলেন।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, নিহত মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মা ও প্রতিবন্ধী মেয়ে দুজনের গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে অসহায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।
মাহমুদুল হক সানু বলেন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার প্রতিটি গ্রামের প্রতিবন্ধীদের খুঁজে বের করে তাদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে এই হুইলচেয়ার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে নানা প্রকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রম চলমান থাকবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ শাফী ইথেন, শহর যুবদলের আহ্বায়ক রাশেদ খান সোহাগ, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আতিকুর রহমান সোহান প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত অবস্থায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ এক তরুণী ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। তাঁর নাম মীম (২২)।
মঙ্গলবার(১৮ নভেম্বর )সকাল ১০টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
গত ১২ নভেম্বর দিবাগত রাত একটার দিকে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাঐখোলা এলাকায় চলন্ত অবস্থায় যাত্রীবাহী ওই বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
নিহত মীমের স্বামী মোহাম্মদ আলী জানান, তাঁরা ঢাকার তুরাগ এলাকায় থাকেন। মীমের দাদার মৃত্যুর খবর পেয়ে ১২ নভেম্বর রাতে তাঁরা পাবনার বেড়া উপজেলায় যাচ্ছিলেন। তাঁদের বাস টাঙ্গাইলের বাসাইল এলাকায় আসার পর বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে তিনি সামান্য দগ্ধ হলেও মীমের শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথমে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মীমকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
মঙ্গলবার(১৮ নভেম্বর) রাতে টাঙ্গাইলের বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি) জালালউদ্দিন জানান, ঘটনার পর তাঁরা জানতেন না কেউ আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপর সব যাত্রী চলে যান। দুই দিন পর জানতে পারেন মীম নামের একজন আহত হয়েছেন। তিনি পাবনার বেড়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমে চিকিৎসা নেন। পরে ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নেন।
আগুনের ঘটনায় ১৩ নভেম্বর গোড়াই হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মারুফা লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠান। বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনেরা মৃতদেহ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যান। মীমের বাড়ি পাবনার বেড়া উপজেলার চর প্যাচাকোলা গ্রামে।
মীমের চাচা সাইদুল ইসলাম বলেন, গত তিন মাস আগে মীমের বিয়ে হয়। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ডিপ্লোমা কোর্স করছিলেন।
আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাসচাপায় জিহাদ (২২) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা একই পরিবহণের আরেকটি বাসে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে উপজেলার গোলাবাড়ীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জিহাদ উপজেলার গোলাবাড়ি ইউনিয়নের লোকদের গ্রামের জাকের আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জিহাদ তার অসুস্থ মামাকে দেখতে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে মধুপুর হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে গোলাবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে ঢাকা থেকে আসা ধনবাড়ীগামী বিনিময় পরিবহণের একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়।
পরে খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে নেমে পড়েন। পরবর্তীতে একই পরিবহণের বিনিময় বাসে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ব্যাপারে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমরানুল কবির বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।’
সাহান হাসানঃ কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সাথে থাকুন, জনগণকে সঙ্গে রাখুন। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, কিন্তু কোন লাভ হবে না। আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর রহমতে যদি আমি নির্বাচিত হতে পারি, তবে বৃহত্তর এই চরাঞ্চলের ভাগ্যোন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবো, ইনশাল্লাহ।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর গোলচত্বর এলাকায় ১২নং মাহমুদনগর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের ভোটে আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি, সর্বপ্রথম আপনাদের বহুল কাঙ্ক্ষিত ধলেশ্বরী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে চরাঞ্চলবাসীকে আর ভোগান্তির শিকার হতে না হয়। পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী একটি বেরিবাঁধ নির্মাণ করা হবে, যাতে মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারে। টাঙ্গাইল সদরকে একটি আধুনিক মডেল টাউনে রূপান্তর করা হবে—যেখানে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে কাজ করবো।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন তীব্র আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, কারাবরণ করেছেন; তবুও কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তাই তাকে আপসহীন নেত্রী বলা হয়।
আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের কথাও গর্ব করে বলি, কারণ তিনি কখনোই জনগণের বিপক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপও তিনি নেননি।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১২নং মাহমুদনগর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী, সিনিয়র যুগ্ন-সম্পাদক এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব, জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মমতাজ করিম, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভ প্রমুখ।
মতবিনিময় সভা শেষে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়।
আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাঐখোলা এলাকায় চলন্ত একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (১২ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘বাংলা স্টার’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকা থেকে পাবনার উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা চলন্ত অবস্থায় বাসটিতে আগুন দেয়। এ সময় যাত্রীরা দ্রুত বাস থেকে নেমে প্রাণে রক্ষা পান। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার এস এম হুমায়ূন কার্ণায়েন বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
গোড়াই হাইওয়ে থানার (ওসি) মো: সোহেল সারোয়ার বলেন, বাঐখোলা এলাকায় দুর্ঘটনার কারণে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছিল। এ সময় স্টার গাড়ির ভিতর পেছনের অংশে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা নির্বাচন কমিশনার কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের মারধরের ঘটনায় বিএনপির ১২০ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকালে গোপালপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
মামলায় গোপালপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত আলী, পৌর বিএনপি’র সভাপতি খালিদ হাসান উত্থান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. লিটন, যুগ্ম সম্পাদক মহির উদ্দিন, যুবদল নেতা কামরুল ইসলাম এবং পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মো. তুহিনের নাম উল্লেখ মামলা করা হয়েছে। বাকিরা অজ্ঞাত পরিচয়।
মামলায় বলা হয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খালিদ হাসান ও কাজী লিয়াকতের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। তাদের কি সেবা দিতে হবে জানতে চাইলে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, ‘তোরা আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেছিস’। পরে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
প্রতিবাদ করলে নির্বাচন কর্মকর্তার ওপর হামলা ও কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় কয়েকজন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ফোন ছিনিয়ে নিয়ে গালিগালাজ করা হয়। হামলায় অন্তত ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু রায়হান, ডাটা এট্রি অপারেটর আমজাদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন বলে মামলায় বলা হয়েছে।
ভাঙচুরের খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা তাজুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আমজাদ হোসেন বলেন, “আমরা শুধু ফেরাতে গিয়েছিলাম। কাউকে কোনো কিছু বলিনি। আওয়ামী লীগের ট্যাগ দিয়ে আমাদের বেদম মারধর করা হয়েছে। “এখনো জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি, তার আগেই নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, “তারা (বিএনপি নেতারা) বিভিন্ন সময় কাজে আসেন। সোমবার এসেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ আওয়ামী লীগ ট্যাগ দেওয়া শুরু করেন। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের অফিসে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি করছি।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। তাদের কাছে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে নিরাপত্তার জোরদারের দাবি করেছি। “এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের শাস্তি দাবি করছি। জাতীয় নির্বাচনের আগে এমন হামলা হবে, তা আমরা কখনও কল্পনাও করিনি।”
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “তাদের কোনো ভুল থাকলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে অবগত করতে পারত। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় সিএনজির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এক যাত্রী দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের তারাবাড়ী এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, এলেঙ্গা-ভূঞাপুর আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে একই দিক থেকে একটি মাইক্রোবাস ও সিএনজি চলছিল। পথিমধ্যে তারাবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে মাইক্রোবাসটি পেছন দিক থেকে সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পরপরই সিএনজির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে সিএনজিতে আগুন ধরে যায়। এতে সিএনজিতে থাকা এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই পুড়ে মারা যান এবং চালক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহত চালককে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আমজাদ হোসেন জানান, আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি এবং পুড়ে যাওয়া অজ্ঞাত মরদেহটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।
এ প্রসঙ্গে কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, “দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে মাইক্রোবাস ও এর চালককে আটক করা হয়েছে, গাড়িটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।