আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গোবিন্দাসি ইউনিয়নের খানুর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধু খুশি খানুর বাড়ি এলাকার মো. ওসমান গনির ছেলে নাজমুল ইসলামের স্ত্রী। নিহতের বাবার বাড়ি খুলনায় বলে জানা গেছে।
নিহতের শশুর ওসমান গনি জানান, নিহত গৃহবধূর বাবার বাড়ি খুলনা। গত আড়াই বছর যাবৎ নাজমুলের সাথে তার বিয়ে হয়েছে। রবিবার সকালে ওসমান গনি জীবিকার তাগিদে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন বাড়িতে তার ছেলের সাথে পুত্রবধু খুশির ঝগড়া হয়েছে। বাড়িতে আসার পর ছেলেকে বাড়িতে না পেয়ে পুত্রবধুকে ডাকাডাকি করলে সে ঘরের ভেতর থেকে সাড়া না দেয়ায় দরজা ভেঙে ফেলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এ সময় তার দেহ দড়িতে ঝুলছিল। নিজ হাতে সেখান থেকে নামিয়ে প্রাণ বাঁচাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম রেজাউল করিম জানান, আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চুরির অভিযোগে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার(১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের পা-ধুয়া চালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মো. জহিরুল ইসলাম (৩১)। তিনি জেলার গোপালপুর পৌরসভা রামদেব বাড়ি এলাকার আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে। নিহতের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
পুলিশ জহিরুলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সখীপুর উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত ছিল। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে শ্রীপুর রাজনীতির মোড় গ্রামের বাবুল মিয়ার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরি করে পালানোর চেষ্টা করেন জহিরুল। অটোরিকশা নিয়ে পা-ধুয়া চালা গ্রামে গেলে উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করে তাঁকে ধরে পিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সে মৃত্যুবরণ করে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা জানান ‘এলাকাবাসীর সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত যুবকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরমান কবীরঃ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল শহর শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাইজীদ বোস্তামীকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি ব্লকের ১৭/এ রোডের ৫/এ নাম্বার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ ।
গ্রেপ্তারকৃত বাইজীদ বোস্তামী জেলার মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের চিতেশ্বরী গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে। সে শহরের থানা পাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতো।
ওসি তানবীর আহম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল বুধবার দুপুরে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাইজীদ বোস্তামীকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত বাইজীদ বোস্তামীর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় ইতিমধ্যে ওয়ারেন্ট বের হয়েছে। তাকে ওই ওয়ারেন্ট বলে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাকে টাঙ্গাইল কোর্টে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার(১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার কুইজবাড়ী গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর নাম লিলি আক্তার (৪৫)। তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম আনিছুর রহমানের (উত্তম) স্ত্রী। এ দম্পতির এক ছেলে ও দুই মেয়ে আছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, লিলি আক্তারের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
আনিসুর রহমানের ভাতিজা মেহেদী হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সদর উপজেলার কুইজবাড়ী বাজারের কাছে লিলি আক্তার তাঁদের মালিকানাধীন লিওন বেকারিতে যান। তিনি বেকারির কারিগরদের সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী প্রবেশ করে। তারা লিলি আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চলে যায়। সন্ত্রাসীদের মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত লিলি আক্তারকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আনিসুর রহমানের বড় ভাইয়ের স্ত্রী হাসিনুর বেগম বলেন, লিলি আক্তার প্রতিদিন রাতে বেকারিতে কাজ তদারকির জন্য যেতেন। মঙ্গলবার বেকারিতে যাওয়ার পরেই তাঁর ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা করে।
নিহতের স্বামী আনিছুর রহমান জানান, তিনি হামলাকারীদের চিনতে পারেননি এবং তাদের পরিচয় সম্পর্কে কিছুই নিশ্চিত নন।
তিনি দাবি করেন, তারা মূলত তাকে খুঁজছিলেন। কিন্তু তাকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে হত্যা করেন।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহমেদ বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরার চেষ্টা চলছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিহতের স্বজনদের ভিড়
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চোর সন্দেহে আব্দুল মুমিন (৩৫) নামের এক ব্যক্তি গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ।
নিহতের লাশ বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত মুমিন পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের হলুদিয়া গ্রামে কয়েকদিন ধরে চুরির ঘটনা ঘটছিল। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে মুমিন ও আরও দুই ব্যক্তি ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা তাদের নজরদারিতে রাখে। এক পর্যায়ে মুমিন হলুদিয়া গ্রামের জসীম উদ্দিনের ছেলে দুখু মিয়ার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। দুখু মিয়ার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মুমিনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
এ সময় মুমিনের সঙ্গে থাকা অপর দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। উত্তেজিত জনতা মুমিনকে গণপিটুনি দেয়। এক পর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় মুমিন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে সকালে স্থানীয়রা লাশ উদ্ধার করে।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমরানুল কবির জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহম্মেদ।
গ্রেপ্তারকৃত হযরত আলী, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের ধুলবাড়ী গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে।
ওসি জানান, সোমবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলীকে শহরের ৩নং ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম ব্রিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, হযরত আলী গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি।
তিনি জানান, এবছরের ১৫ মার্চ মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। যার মামলা নং-২৭। হযরত আলীর বিরুদ্ধে আরও কোন মামলা রয়েছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরমান কবীরঃ দেশের মধ্যাঞ্চলে টাঙ্গাইল জেলার অবস্থান হওয়ায় এবং সড়ক, নদীপথ ও রেলপথের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক থাকায় মাদক চোরা চালানের নিরাপদ রুট হিসেবে মাদক ব্যবসায়ীরা বেছে নিয়েছে এই জেলাকে। ফলে জেলায় প্রতিনিয়ত নদী, রেল ও সড়ক পথে আসছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। এই জেলায় জালের মতো ছড়িয়ে আছে নদী। এইসব নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে মাদকের হট-স্পট।
জেলার নাগরপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নদী সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং শহরের কান্দাপাড়া যৌনপল্লী, রাবনা বাইপাস ও আশেকুর বাইপাসকে বেছে নিয়েছে মাদক কারবারিরা। সুযোগ বুঝে মাদক পাচারের জন্য সড়ক পথকে ব্যবহার করছে এইসব মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদক পাচারের রুট হিসেবে এই জেলাকে ব্যবহারের কারণে জেলায় বেড়েছে ব্যাপক মাদকের সরবরাহ। বিশেষ করে উঠতি বয়সের কিশোর-যুবকদের টার্গেট করা হচ্ছে মাদক বিক্রির জন্য। শহরে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হিরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে মাদক ঢুকছে টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার খ্যাত এলেঙ্গা, টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস ও আশেকুর এলাকায়। এরপর এই স্থান গুলো থেকেই ঢাকা, গাজীপুরসহ টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিনব পদ্ধতিতে মাদক ছড়িয়ে পরছে । শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় রাতের আধারে অলিগলিতে বিক্রয় হচ্ছে সর্বনাশা এইসব মাদক। আবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে হাতেহাতে। এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রে বাড়িতেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদক।
বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া, বেড়াডোমা, কাগমারা, সাহাপাড়া, শান্তিকুঞ্জ মোড়, মাঝিপাড়া, হাজেরাঘাট, দক্ষিণ কলেজপাড়া (মহিষ খোলা), ধুলেরচর, বইল্লা এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের কেনা-বেচা চলে বলে জানা গেছে। এইসব এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি।
জানা গেছে, মাদকদ্রব্য পরিবহনে নিরাপদ রুট হিসাবে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলা হয়ে নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র, চর সলিমাবাদ, আটাপাড়া, শাহাজানি চরাঞ্চল, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলি, কাকুয়া, হুগড়া, ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল, গোবিন্দাসী, অর্জুনা, গাবসারা, কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি যমুনা নদীর চরাঞ্চল মাদক পাচারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক নির্মূলে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র্যাব পৃথকভাবে কাজ করছে। গত সাত মাসে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ ২’শত ৮ কেজি গাঁজা, ৫৭ হাজার ২’শত ৬৫ পিস ইয়াবা, ৭২৫.১০ গ্রাম হেরোইন, ১০৮৫.৩৬ লিটার দেশি-বিদেশি মদ ও ৫৯৫ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
এসব মাদকের বেশিরভাগ বড় বড় চালান উদ্ধার ও মাদক কারবারিদের আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার অভিযানে গত সাত মাসে ৪৭৩ জন মাদক কারবারির নামে ৩৩৮ টি মামলা রজ্জু করেছে জেলা পুলিশ ।
অপরদিকে, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত সাত মাসে ৩৮ কেজি গাঁজা, ৫ হাজার ৭’শত ৭৪ পিস ইয়াবা, ৮৫.৫ গ্রাম হেরোইন, ৪১.২৫ লিটার মদ, ১০ বোতল ফেনসিডিল, টাপেন্টাডল ৩ হাজার ৪ শত ৮৮ টি ট্যাবলেট, ১০ হাজার লিটার ওয়াশ জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে।অভিযানে মাদক কারবারিদের থেকে নগদ ১৪ লক্ষ ৩১ হাজার টাকাসহ উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজার মূল্য ৪৭ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। উদ্ধার অভিযানে গত সাত মাসে ১৯৭ জন মাদক কারবারির নামে ১৯৬ টি মামলা রজ্জু করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
এদিকে র্যাব ১৪, সিপিসি- ৩ সূত্রে জানা গেছে, গত সাত মাসে ৮২ কেজি গাঁজা, ৪৭৪৯ পিস ইয়াবা, ১৬৭ গ্রাম হেরোইন, ৯৮ লিটার দেশি মদ ও ৪৩১ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। উদ্ধার অভিযানে এই সাত মাসে ৭ জন মাদক কারবারির নামে ৩ টি মামলা রজ্জু করতে সহায়তা করেছে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ত্রিমুখী অভিযানে বড় বড় মাদকের চালান উদ্ধার ও মাদক কারবারিদের আটকের পরেও থামছেনা জেলায় মাদকের ভয়াল থাবা। আইনের ফাঁকফোকড়ে আবারো বেরিয়ে আসছে মাদক কারবারিরা। আবার নতুন উদ্যেমে ভিন্নতর কৌশলে শুরু করছে মাদক ব্যবসা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, টাঙ্গাইলবাসীর জন-জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে প্রতিনিয়ত কাজ করছে জেলা পুলিশ। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ধর্মীয় উপাসনালয় মসজিদ-মন্দিরে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে।
তিনি আরও জানান, মাদক ব্যবসায়িদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে হবে । আবার তাদেরকে সুযোগও দিতে হবে সুপথে ফেরার। মাদক ব্যবসায়ির তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। সন্তান কার সাথে মিশে তা খেয়াল রাখতে হবে অভিভাবকদের। পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে মাদক নির্মূলে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই মাদক নির্মূল হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় দুর্বৃত্তরা ঢিল ছুড়ে কাদের সিদ্দিকীর দুটি গাড়ি ও দোতালার চারটি জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের জেলা সদর রোডস্থ কাদের সিদ্দিকীর নিজ বাসভবন ‘সোনার বাংলায়’
এ ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাড়ির কেয়ার টেকার জানান, ১৫-২০ জনের একটি দল এসে বাহির থেকে প্রথমে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। তারপর দুই-তিনজন মই দিয়ে গেট টপকে ভেতরে ঢুকে গাড়িও ভাঙচুর করে। পরে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গেট টপকে পালিয়ে যায়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী এই ঘটনা ঘটিয়েছি। বাসভবনের সামনে একটি গাড়ির গ্লাসসহ বাসভনের কয়েকটি জানালার গ্লাস ভেঙেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান,সারারাত বাসভবনে পুলিশ পাহারা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মামুন মিয়া নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটকের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. আকলিমা বেগম এ দণ্ডাদেশ দেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত মামুন মিয়া (৩০) উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, মামুন দীর্ঘদিন ধরে বাসাইল, দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বাসাইল থানায় তিনটি ও দেলদুয়ার থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও দুইটি সাধারণ ডায়েরিও রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে প্রশাসন উৎপেতে ছিল। এক পর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. আকলিমা বেগম রাত আড়াইটার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে আটক করে। তার কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এসময় তাকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে শনিবার সকালে বাসাইল থানা পুলিশের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী মামুনকে ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। পরে সকালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির(কাদের) অফিস ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধ করে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের থানার পাশে ছয় আনি বাজার রোড অবস্থিত জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করা হয়।
জানা যায়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ শতাধিক নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য জাতীয় পার্টি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক হামলার প্রতিবাদে জেলা গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে সকাল ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নিরালা মোড় পার হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার পাশে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে যায়। এসময় নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর এলাকায় গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে নেতা-কর্মীরা। প্রায় ঘন্টা খানেক সেখানে খানেক অবস্থানের পর সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় নেতা-কর্মীরা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহম্মেদ বলেন, আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলাম। বর্তমানে ঐ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করাহয়েছে।
শনিবার সকালে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা ও ভাংচুর চালায় গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ছেলে জামিলের (২০) বিরুদ্ধে বাবা রাশিদুল হক খান সুমনকে (৪৭) অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে জামিল। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট রাতে উপজেলার চকপাড়া গ্রামে বাবা সুমন ও তার ছেলে জামিল একই ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। ওই সময় অসুস্থ বাবাকে ওষুধ দেওয়ার অজুহাতে অতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে দেন জামিল। এতে মৃত্যু নিশ্চিত হয় সুমনের।
পরদিন সকালে জামিল প্রতিবেশিদের জানায়, তার বাবার মৃত্যু হার্ট অ্যাটাকে হয়েছে। স্থানীয়রা মরদেহ দেখে সন্দেহ প্রকাশ করলেও সেদিনই সন্ধ্যায় দাফন সম্পন্ন হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। কারণ ঘটনার তিন দিন আগে জামিল বাড়ির পেছনে একটি গর্ত খুঁড়ে খড়কুটো দিয়ে ঢেকে রেখেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সুমনের মরদেহ গুম করার জন্যই এই পরিকল্পনা ছিল। তবে সাহস করে মরদেহ গোপন করতে না পেরে সে হার্ট অ্যাটাকের গল্প সাজায়। কিন্তু ৭ দিন পর গর্তের বিষয়টি প্রতিবেশিদের নজরে আসে। একই সঙ্গে সুমনের মরদেহের অবস্থাও সন্দেহ তৈরি করে। এতে স্থানীয়রা জামিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে স্বীকার করে, সে তার বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করেছে এবং গর্ত খুঁড়ে মরদেহ গোপনের চেষ্টাও করেছিল। হত্যাকারি জামিলের স্বীকারোক্তি শুনে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। ঘাটাইল থানা পুলিশ জামিলকে গ্রেপ্তার করে।
নিহতের বাবা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক খান জানান, ‘সুমন আমার ছেলে, আর জামিল আমার নাতি। কেন আমার নাতি নিজের বাবাকে হত্যা করল, তা বুঝতে পারছি না। সুমন গ্রামের পাশেই ধলাপাড়া বাজারে ওষুধের ফার্মেসি ব্যবসা করতো। সুমনের স্ত্রীর (জামিলের মা) সঙ্গে বছর চারেক আগে বিচ্ছেদ হয়েছিল। এরপর থেকেই সংসারে অশান্তি চলছিল। আমি এই নৃশংস হত্যার সঠিক বিচার চাই।’
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে সুমনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে গত বুধবার রাতে নিহতের বাবা থানায় মামলা করে। সেই মামলায় বুধবার পিতা হত্যার দায়ে জামিলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের বল্লা বড়বাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের রবিবার (২৪ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের বল্লা এলাকার মোহাম্মদ আলী মাস্টারের দুই ছেলে মফিজুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই ভাই মফিজুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় তাদের নিজ বাড়ি বল্লা বড়বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, রবিবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।