/ হোম / টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে কাফনে মোড়ানো নবজাতকের লাশ উদ্ধার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে কাফনে মোড়ানো নবজাতকের লাশ উদ্ধার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কাফনের কাপড় মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ।

শুক্রবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার আউলটিয়া বেতবন থেকে নবজাতকের লাশটি উদ্ধার করা হয়। কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা বাংড়া ইউনিয়নের আউলটিয়া এলাকায় বেতবাগানে আনুমানিক এক দিন বয়সী একটি নবজাতকের লাশ সবার অগোচরে কে বা কারা ফেলে রেখে যায়। পথচারীরা কাফনের কাপড় মোড়ানো নবজাতকের লাশটি দেখতে পেয়ে কালিহাতী থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।

কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, নবজাতকের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে কে বা কারা মৃত নবজাতকের লাশ ফেলে রেখে গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. মার্চ ২০২৩ ০২:০৪:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে গণহত্যা দিবস পালিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে গণহত্যা দিবস পালিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। ২৫ মার্চ শনিবার সকালে জেলা সদরে অবস্থিত বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সকালের প্রথম প্রহরে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এরপর টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পরিষদ, সিভিল সার্জন,পৌরসভা, প্রথম আলো বন্ধুসভাসহ অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

পরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের মিলনায়তনে গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার।স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শামীম আরা রিনি’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, অরিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওলিউজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুউদ্দীন, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ফজলুল হক বীর প্রতীক ও খন্দকার জহুরুল হক ডিপটিসহ অন্যান্য গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভিন্ন-ভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. মার্চ ২০২৩ ০৮:৪৩:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে জীবিত হলেন ২৭ মৃত ব্যক্তি, ২০৩ জনের প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা! - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে জীবিত হলেন ২৭ মৃত ব্যক্তি, ২০৩ জনের প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা!

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের কামারকুমুল্লী গ্রামের জয়গন বেগমের অবস্থা হয়েছে রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পের কাদম্বিনীর মতো । ৬৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা বিধবা ভাতা উঠাতে গেলে উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে তাকে জানানো হয়, ভাতা দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ তার জাতীয় পরিচয়পত্রে তিনি মৃত। পরে নির্বাচন অফিসে খোঁজখবর নিলে জানতে পারেন হালনাগাদ ভোটার তালিকায় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। সেই থেকে এই বিধবা নারীর বিধবা ভাতা বন্ধ রয়েছে।

শুধু জয়গনই নন, উপজেলায় নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে হালনাগাদ করা ভোটার তালিকায় বিপুলসংখ্যক জীবিত মানুষকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নানা কাজে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের ভুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত যারা, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এই সব ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে উপজেলার ২৭ জন মৃত ব্যক্তি জীবিত হয়েছেন। আরও ২০৩ জনের প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে!

জয়গনের নাতি রুমা (২৫) আক্তার জানান, নির্বাচন অফিস থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে আলমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কাছ প্রত্যয়নপত্র নিয়ে দাদিকে সশরীরে নির্বাচন অফিসে গিয়ে প্রমাণ করতে হয় তিনি জীবিত আছেন।

আলমনগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমীন জানান,  নির্বাচন অফিস থেকে যাদের ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তারা দায়িত্ব অবহেলা করেছেন। ফলে এই ইউনিয়নের অনেক জীবিতকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।

আলমনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্যে ভুলের বিষয়টি আমি জানি। নির্বাচন অফিস থেকে ডেটাবেজে ভুল করেছে। ভুক্তভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্রে এমন ভুলগুলো সংশোধনে সহযোগিতা করছি।

গোপালপুর পৌরসভার মেয়র মো. রকিবুল হক সানা জানান, যাদের ভোটার তালিকায় মৃত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তারা পৌরসভায় যোগাযোগ করলে আমরা ঠিক করে দিচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা সবাই ছিলেন স্কুলশিক্ষক-শিক্ষিকা। বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেন তারা। তাদের কাজের নিয়মাবলি শিখিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। জীবিতদের মৃত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

তিনি আরও জানান, ২০০৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত উপজেলায় ২৭ জন ব্যক্তিকে মৃত দেখানো হয়েছে। যাদের জীবিত অবস্থায় তথ্য হালনাগাদে মৃত দেখানো হয়েছে, তারা জীবিত ফরমে আবেদন করলে সেগুলো সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান,এ ছাড়া ২০২২ সালের তথ্য হালনাগাদে আরও ২০৩ জনের তথ্যে মৃত উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে সংশোধনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। অনুমতি পেলে এদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) আসফিয়া সিরাত জানান, বিষয়টি জেনেছি এবং নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে মোট ভোটার ২ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৪ হাজার ২২ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ১৩ হাজার ৭১২ জন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. মার্চ ২০২৩ ০১:৪৩:এএম ৩ বছর আগে
এতিমদের সাথে ইফতার করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার - Ekotar Kantho

এতিমদের সাথে ইফতার করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার

একতার কণ্ঠঃ রমজানের প্রথম দিনে এতিম শিশুদের সাথে ইফতার করেছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার ও পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।

শুক্রবার (২৪ মার্চ)সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকায় সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।ইফতার মাহফিলে সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা)৯১ জন বাসিন্দা অংশ নেন।

এ ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আইরিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) নাফিসা আক্তার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শাহআলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সরকারি শিশু পরিবার বালিকার উপ-তত্ত্বাবধায়ক তানিয়া আক্তার প্রমুখ।

একই সময়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৌর এলাকার বাগান বাড়িতে সরকারি শিশু পরিবারে (বালক) ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এ ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ওলিউজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাশেম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সুজন প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. মার্চ ২০২৩ ০৪:০২:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নিখোঁজ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নিখোঁজ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ায় নিখোঁজের ৪ দিন পর রিনা বেগম (২০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ মার্চ) সকালে করটিয়া জমিদার বাড়ীর পুর্ব তরফের পুকুর থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর থেকে তার স্বামী মনির হোসেন পলাতক রয়েছে।

নিহত রিনা বেগম করটিয়া ঢুলিপাড়া গ্রামের মো. ফারুক হোসেনের মেয়ে।

জানা যায়, ৪ বছর পুর্বে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া পুর্বপাড়ার মো. রাজনের ছেলে মনির হোসেনের(২৫) সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রিনা বেগমের। তাদের ঘরে ১১ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সোমবার (২০ মার্চ) গভীররাতে তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা বলে স্বামী মনির এলাকায় প্রচার চালায়। শুক্রবার সকালে জমিদারবাড়ীর পুর্ব তরফের পুকুর পাড়ে হাটাহাটির সময় পুকুরে পাঁ ভেসে থাকতে দেখে চিৎকার করে উঠে স্থানীয় এক কিশোর। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করলে রিনার লাশ বলে সকলে শনাক্ত করে তার স্বজনরা। লাশ উদ্ধারের পর থেকে নিহত গৃহবধূর স্বামী পলাতক রয়েছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নিহত রিনা বেগমের স্বামী মনির অপপ্রচার চালায় তার স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। তিনি আরো অপপ্রচার চালায় তার স্ত্রী অন্যকোন ছেলের সাথে পালিয়ে গেছে। কথাটি আমরা কেই বিশ্বাস করিনি।

তারা আরো জানান, তখন থেকেই আমাদের সন্দেহ ছিলো। কারন আমরা রিনা বেগম সর্ম্পকে জানতাম। সে অত্যান্ত নম্র-ভদ্র ও সংসারী মেয়ে ছিলো। তাছাড়া ১১ মাসের শিশু বাচ্চা রেখে রিনা পরপুরুষের সাথে পালিয়ে যাওয়ার মত মেয়ে না। লাশ উদ্ধারের পরপরই স্বামীসহ পরিবারের সকলেই পলাতক রয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুস ছালাম মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

তিনি আরো জানান, নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. মার্চ ২০২৩ ০২:২৬:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে কোটি টাকার নকল ব্যান্ডরোল সহ গ্রেপ্তার ১ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে কোটি টাকার নকল ব্যান্ডরোল সহ গ্রেপ্তার ১

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া ব্রিজের পাশে বুধবার (২২ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৮৭ লাখ টাকা মূল্যের নকল ব্যান্ডরোল সহ মো. রাসেল মাহমুদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি দক্ষিণ)।

গ্রেপ্তারকৃত মো. রাসেল মাহমুদ ওরফে নুর আমিন বগুড়া সদর উপজেলার তেলিহারা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের জিন্নাহ প্রামানিকের ছেলে।

টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি-দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, গোপনে খবর পেয়ে ডিবির একটি চৌকষ দল বুধবার (২২ মার্চ) রাতে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের বাগুটিয়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে অভিযান চালায়। অভিযানে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৪৮০টি নকল ব্যান্ডরোল সহ মো. রাসেল মাহমুদ ওরফে নুর আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত নকল ব্যান্ডরোলের মূল্য ৮৭ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৮ টাকা। তার বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫অ/২৫অ(ন) ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কৌশলে নকল ব্যান্ডরোল প্রস্তুত ও বিকিকিনির মূল হোতাদের সনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের লক্ষে ১০(দশ) দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে গ্রেপ্তারকৃত মো. রাসেল মাহমুদ ওরফে নুর আমিনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. মার্চ ২০২৩ ০২:৪৭:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পানে একে একে ৪ জনের মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পানে একে একে ৪ জনের মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিষাক্ত নেশা জাতীয় ‘স্পিরিট’ পান করে ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো দুইজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পালিমা বাজারের জনসেবা হোমিও ফার্মেসী থেকে গত শনিবার( ১৮ মার্চ) রাতে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পান করায় বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মৃত্যুবরণ করেন।

এদিকে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পান করে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় আতংক ও শোক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা বলেন, শুধু নারান্দিয়া নয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা মাদকে ছেয়ে গেছে। এতে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। এ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

জানা যায়, শনিবার (১৮ মার্চ) রাতে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পান করে অসুস্থ হওয়ায় পাঁচ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার রাত ও রবিবার (১৯ মার্চ) সকালের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রবিবার রাত ২টার দিকে পালিমা গ্রামের মৃত ছামান আলীর ছেলে ফারুক মিয়া (৩৫) ও সোমবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুচুটি গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে জুলহাস মিয়া (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুচুটি গ্রামের মৃত বক্কর আলীর ছেলে আমছের আলী (৫০) নিজ বাড়িতে মারা যান। অন্যদিকে তারাপদ কর্মকার নামের আরেক ব্যক্তি একই দোকানের ‘স্পিরিট’ পান করে সম্প্রতি মারা গেছেন।

এ ঘটনায় অসুস্থরা হচ্ছেন- বিলপালিমা গ্রামের মুক্তার আলীর ছেলে মেহেদী ও কুচুটি গ্রামের জুয়েল। এরমধ্যে মেহেদীকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে। এ ঘটনার পর থেকে পালিমা বাজারের জনসেবা হোমিও ফার্মেসি বন্ধ করে দোকানের মালিক-কর্মচারীরা পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান জানান, নিহত জুলহাস, আমছের আলী, ফারুকসহ পাঁচজন শনিবার (১৮ মার্চ) রাতে পালিমা বাসস্ট্যান্ডের জনসেবা হোমিও ফার্মেসী থেকে অ্যালকোহল জাতীয় ‘স্পিরিট’ কিনে পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদেরকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন ও বাড়িতে এসে একজন মারা গেছেন। মেহেদী নামে একজনকে ঢাকা একটি হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়েছে। অন্যদিকে তারাপদ কর্মকার নামের আরেক ব্যক্তি ‘স্পিরিট’ পান করে সম্প্রতি মারা গেছেন।

নারান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ তালুকদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে পালিমা বাসস্ট্যান্ডের জনসেবা হোমিও ফার্মেসী থেকে অ্যালকোহল জাতীয় ‘স্পিরিট’ বেচাকেনা হচ্ছে। ফার্মেসীতে অবৈধ ‘স্পিরিট’ বিক্রি বন্ধের জন্য জনসেবা ফার্মেসির মালিক সামাদকে আগেও নিষেধ করা হয়েছিল।

তিনি আরো জানান, এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় নারান্দিয়া বাজারের ব্যবসায়ী বিবেক মোদক দীর্ঘদিন যাবত মদ ও ‘স্পিরিট’ বিক্রি করে আসছে। মাদক বিক্রির দায়ে এরআগেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

কালিহাতী থানার নারান্দিয়া বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মিন্টু চন্দ্র ঘোষ জানান, শুক্রবার (২৪ মার্চ) দুপুরে নারান্দিয়া বাজারের কালিমন্দিরের পাশের একটি মুদি দোকান থেকে অবৈধ মদ বিক্রির সময় বিবেক মোদক নামে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, ‘স্পিরিট’ পান করে নিহত হওয়ার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। থানায় কেউ অভিযোগও করেন নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. মার্চ ২০২৩ ০১:৪৮:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বাসচাপায় স্বামী নিহত, স্ত্রী আহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বাসচাপায় স্বামী নিহত, স্ত্রী আহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রাস্তা পারাপারের সময় বাস চাপায় স্বামী নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে তার স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের সল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ময়সের (৫০) সল্লা ইউনিয়নের মীহামজানি গ্রামের বাসিন্দা। গুরুতর আহত তার স্ত্রীর নাম লিপি বেগম।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা বঙ্গবন্ধু সেতুগামী লোকাল বাসে করে সল্লা বাসস্ট্যান্ডে নামেন হতাহতরা। রাস্তা পার হওয়ার সময় উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের দ্রুতগতির একটি বাস তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই ময়সের নিহত হয়। স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায়। আর আহত লিপি বেগমকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. মার্চ ২০২৩ ০৪:৫৩:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্সে ‘বৈধতা’ পাচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিক্সা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্সে ‘বৈধতা’ পাচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিক্সা

একতার কণ্ঠঃ সারা দেশে যখন সবাই ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাসহ এই ধরনের যান বন্ধে সোচ্চার তখন এ ধরণের অবৈধ যানকে লাইসেন্স দিচ্ছে টাঙ্গাইল পৌরসভা। এতে শহরে যেমন বেড়েছে যানজট তেমনি দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ সংকট।ফলে দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠেছে শহরবাসীর জীবন।

টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি মোঃ মাঈদুল ইসলাম শিশির বলেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অটোরিক্সা ও ব্যাটারি চালিত রিক্সার লাইসেন্স প্রদান করা, হাইকোর্টের নির্দেশ অবমাননার সামিল। টাঙ্গাইলে যে কোন সচেতন নাগরিক সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে , মহামান্য হাইকোর্ট এই বিষয়ে সুয়োমোটো রুল জারি করবেন।

২৯.৪৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের প্রথম শ্রেণীর টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের মোট সড়ক রয়েছে ৫৯০টি। ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল পৌরসভা এই ৫৯০টি সড়কে চলাচলের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে কয়েক সহস্রাধিক ব্যাটারিচালিত রিক্সাকে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স বিভাগের তথ্য মতে, টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্সপ্রাপ্ত অটোরিক্সার সংখ্যা ৪৫০০ আর রিক্সা রয়েছে ৫০০০। অটোরিক্সা লাইসেন্স ফি-১০,৫০০ আর পায়ে চালিত রিক্সার লাইসেন্স ফি-১০০০ টাকা।

মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং অফিসার ও নগর পরিকল্পনাবিদ জহিরুল ইসলামের মতে যেকোন নগরীকে সচল রাখতে তার ধারন‌ ক্ষমতা অনুযায়ী যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া উচিৎ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যাটারী চালিত ওই মেট্রোরিক্সা গুলোর পিছনে বা চালকের বসার সিটের নিচে সাটানো হয়েছে টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স। টাঙ্গাইল পৌরসভার বর্তমান মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর স্বাক্ষরিত এক বছর মেয়াদী ওই লাইসেন্স গুলো ২০২১ সালে প্রথম দফায় অনুমোদন হয়েছে। যার ফলে কিছু রিক্সার লাইসেন্সের মেয়াদ দেখা গেছে ২০২১ থেকে ৩০ জুন ২০২২। ওই রিক্সা গুলোর লাইসেন্সের মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় স্বাক্ষরিত রিক্সার লাইসেন্সের মেয়াদ হয়েছে ২০২২ সাল থেকে ৩০ জুন ২০২৩ পর্যন্ত।

এছাড়াও নিয়ম বর্হিভুতভাবে এর আগেও তৎকালীন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র দেন ৪০০০ হাজার ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার (ইজি বাইক) লাইসেন্স। শহর জুড়ে এ সময় লাগামহীন যানজট লেগে থাকায় ওই ৪০০০ অটোরিক্সা চলাচলে দুই সিফট পদ্ধতি চালু করা হয়।

এরপর থেকে প্রতি সিফটে ২০০০ করে অটোরিক্সা চলাচল শুরু করে। এর ফাঁকে সড়কে নামতে শুরু করে ব্যাটারী চালিত মেট্রোরিক্সা। বর্তমানে শহর জুড়ে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার (ইজি বাইক) পাশাপাশি চলাচল করছে প্রায় ৭০০০ ব্যাটারী চালিত মেট্রোরিক্সা।

এছাড়াও রয়েছে লাইসেন্স প্রাপ্ত ৫০০০ পায়ে চালিত রিক্সা। বর্তমানে অটোরিক্সা (ইজি বাইক) দুই সিফট পদ্ধতিতে চলাচল করলেও সাত সহস্রাধিকের উপর মেট্রোরিক্সা চলছে দিনব্যাপি।

এছাড়াও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট বড় ১২৮টি পরিবহনসহ সরকারি বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বীমা, আদালতের যানবাহন, চিকিৎসক ও ব্যক্তি মালিকাধীন গাড়ীসহ গড়ে প্রতিদিন তিন সহস্রাধিক মোটর সাইকেল চলাচল করছে এই শহরে। যার ফলে শহরের প্রধান প্রধান সড়কের বেবীস্ট্যান্ড, শান্তিমুঞ্জ মোড়, মেইন রোড, নিরালা মোড়, পার্কবাজার মোড়, ক্যাপ্সুল মার্কেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, সুপারী বাগান মোড়, কলেজ গেইট আর নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় রীতিমত বেধে থাকছে যানজট।

যানজট নিরসনে মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এতে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী, শিশু, বৃদ্ধ, মহিলাসহ নানা বয়সী যাত্রী আর সাধারণ মানুষ।

চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, ইতোপূর্বে পৌরসভা নির্ধারিত ১০,৫০০ টাকা ফি এর ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার (ইজি বাইক) লাইসেন্স এক থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমান পৌর প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর এক বছর মেয়াদী পায়ে চালিত রিক্সার ১০০০ হাজার টাকার লাইসেন্স বিক্রি করেছেন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। মেট্রোরিক্সার লাইসেন্সের কথা বলে অতিরিক্ত ওই টাকা গুলো নেয়া হয়েছে।

শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার মেট্রোরিক্সা চালক মো. জসীম জানান, তিন বছর যাবৎ রিক্সা চালাচ্ছেন তিনি। রিক্সা ও গদি আটকে রেখে তাদের লাইসেন্স নিতে বাধ্য করা হয়েছে । লাইসেন্স ছাড়া চালানো যাচ্ছিল না বলেই তিনি লাইসেন্সটি নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ২০/২৫ হাজার টাকায় পৌরসভা থেকে লাইসেন্স বিক্রি করা হলেও দেড় মাস আগে মুসলিমপাড়ার একজন গ্যারেজ মিস্ত্রির মাধ্যমে ১২ হাজার টাকায় লাইসেন্সটি নিয়েছেন তিনি। সুদের টাকায় রিক্সা আর লাইসেন্সটি কিনেছেন বলেও জানান তিনি।

বাসা খানপুর এলাকার আরেক মেট্রোরিক্সা চালক মো. হযরত বলেন, ২০ হাজার টাকায় তিনি লাইসেন্সটি পেয়েছেন। তার লাইসেন্স নম্বর ৮২৫। টাকা গুলো নিয়েছেন পৌরসভার লোকজন।

পায়ে চালিত রিক্সা লাইসেন্স কেন এত টাকা দিয়ে নিলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, লাইসেন্স বইয়ের মধ্যে ইজি বাইক লেখা আছে বলেই তিনি লাইসেন্সটি নিয়েছেন।

মেট্রোরিক্সা চালক রবিউল ইসলাম বলেন, পৌরসভা থেকে মেট্রোরিক্সার লাইসেন্স আর নম্বর প্লেট বিক্রি করার সুযোগে তারা এই ব্যাটারী চালিত রিক্সা চালাচ্ছেন। পৌরসভার লোকজন লাইসেন্স ও প্লেট বিক্রি করেছেন। এ কারণে এই রিক্সা বন্ধ হচ্ছেনা। এরপরও যদি সরকারিভাবে এই রিক্সা চলাচল বন্ধ করে, তাহলে অন্য কাজ করে খাবেন বলে জানান তিনি।

পৌরসভার কাজিপুর এলাকার ৪৯৯৫ নং লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাটারি রিক্সা চালক রফিক বলেন, ৪৩ হাজার টাকায় পুরাতন এই রিক্সাটি কিনেছি। মাসে ১২০০টাকা ভাড়ায় লাইসেন্সটি নিয়েছি। লাইসেন্সটি পৌরসভা থেকে কিনেছেন আদিটাঙ্গাইল এলাকার রিক্সার গ্যারেজ ব্যবসায়ি
আকবর।

রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সবুর বলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে চলাচলের জন্য ব্যাটারী চালিত মেট্রোরিক্সা (ইজি বাইক) গুলোকে পায়ে চালিত রিক্সার লাইসেন্স দিয়েছে। লাইসেন্স দেয়ার দায়িত্ব তাদের না। পৌরসভার মেয়র সাহেব পায়ে চালিত রিক্সার লাইসেন্স দিয়েছেন মেট্রোরিক্সায়। ব্যাটারী চালিত রিক্সা (ইজি বাইক) আমাদের সংগঠণের অন্তভুক্ত। এছাড়াও এই লাইসেন্স দেয়া নিয়ে আমাদের সাথে কোন মিটিং করেননি পৌর কর্তৃপক্ষ। ইজিবাইক বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্যের বিষয়টি মেয়র সাহেবের বলে জানান তিনি।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন ও যুবদের জন্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুঈদ হাসান তড়িৎ বলেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পায়ে চালিত রিক্সা লাইসেন্স দিয়ে অবৈধ মেট্রোরিক্সার বৈধতা দেয়ার ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। দ্রুত অবৈধ ব্যাটারী চালিত রিক্সা গুলো বন্ধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং অফিসার ও নগর পরিকল্পনাবিদ জহিরুল ইসলাম জানান, আমার জানা মতে টাংগাইল পৌর এলাকায় কি পরিমান যানবাহন চলাচল করতে পারবে সেই বিষয়ে কোনো ধরনের ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়নি। তাই এটা সঠিক ভাবে বলা যাবে না টাঙ্গাইল পৌরসভায় ঠিক কি পরিমান সিএনজি,অটোরিক্সা, ও ব্যাটারীতে চালিত রিক্সা চলাচল করার অনুমতি দেওয়া যাবে। যেকোন নগরীকে সচল রাখতে তার ধারন‌ ক্ষমতা অনুযায়ী যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।

টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি মোঃ মাঈদুল ইসলাম শিশির বলেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অটোরিক্সা ও ব্যাটারি চালিত রিক্সার লাইসেন্স প্রদান করা, হাইকোর্টের নির্দেশ অবমাননার সামিল। টাঙ্গাইলে যে কোন সচেতন নাগরিক সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে , মহামান্য হাইকোর্ট এই বিষয়ে সুয়োমোটো রুল জারি করবেন।

বক্তব্য নিতে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস.এম.সিরাজুল হক আলমগীর এর মুঠোফোনে ফোন দিলে সেটি রিসিভ করে পিএস সাজ্জাদ বলেন, এ ব্যাপারে সাক্ষাতে কথা বলা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের (২০ জুন) সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সভায় সড়ক দুর্ঘটনারোধে সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর সারা দেশে চলা অবৈধ ব্যাটারিচালিত ৪০ লাখ ইজিবাইক বন্ধের নির্দেশসহ আমদানি ও ক্রয়-বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা আর অবৈধ ইজিবাইক আমদানি থেকে বিরত থাকতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুল জারি করেন বিচারপতি মামনুন রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. মার্চ ২০২৩ ০৪:১৫:এএম ৩ বছর আগে
রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে টাঙ্গাইলে প্রশাসনের লিফলেট বিতরণ - Ekotar Kantho

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে টাঙ্গাইলে প্রশাসনের লিফলেট বিতরণ

একতার কণ্ঠঃ আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৌর এলাকার বাজারগুলোতে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দারের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের টিম শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার পার্ক বাজার পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণসহ প্রতিটি দোকানে পণ্যের মুল্য তালিকা টাঙানো ও অতিরিক্ত দামে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে বিক্রি না করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এছাড়া একই সাথে প্রশাসনের ৬টি টিম শহরের বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন ও লিফলেট বিতরণ করে।

এ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে ক্রেতা পর্যায়ে সহনীয় রাখতে বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সচেতন করার লক্ষে সকলের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সকলেরই দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে মজুদ করে অতিরিক্ত দামে পণ্যে বিক্রি না করে সেই জন্য তাদের অবহিত করা হয়েছে। কেউ বিধিনিষেধ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।বাজার স্থিতিশীল রাখতে সকলকেই প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি

এ সময় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাবির্ক) ওলিউজ্জামান, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ, জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু , কুনজুমার অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) এর টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জলসহ পার্ক বাজার সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. মার্চ ২০২৩ ০২:৫৫:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে জাহিরুল (৩০) নামের এক ট্রাক চালক নিহত হয়েছেন। এ সময় অপর ট্রাক চালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলা চরভাবলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ট্রাক চালক জাহিরুল রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার হেলালপুর এলাকার আব্দুল কুদ্দুস আলী মুরুর ছেলে। আহত ট্রাক চালকের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের ৪ নাম্বার ব্রিজ সংলগ্ন কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার চরভাবলা এলাকায় দু‍‍`ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাক চালক জহিরুল নিহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ট্রাক থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। অপর ট্রাকের চালককে আহতবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু পূর্বপার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ট্রাক চালক জহিরুলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. মার্চ ২০২৩ ০৭:০০:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলের ৮ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের ৮ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে একসময় নানাজনের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করেন রুবেল সিকদার। বিভিন্নজন থেকে সংগ্রহ করা কোটি টাকার সেই বিশাল অংকের মূলধন দিয়ে রুবেল খুলে বসেন হরেক রকমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

জমি বেচা-কেনা, বিভিন্ন পন্যের শো-রুম, গাড়ি কিনে শুরু করেন রেন্ট এ কারের ব্যবসা। পরিবর্তন আসে চলা ফেরায়। রুবেলের এমন ‘হঠাৎ’ কোটিপতি বনে যাওয়া নিয়ে এলাকায় চলতো নানা কানাঘোষা। এরপর ‘হঠাৎ’ কোটিপতি রুবেল উধাও হয়ে যান হঠাৎ করেই। ভুক্তভোগীরা মামলা করেন কোর্টে। ভুক্তভোগীদের করা ৮টি মামলায় ৬৬ মাসের সাজা হয় তার। ওয়ারেন্ট বের হয় অন্য আরো দুটি মামলার। কিন্তু রুবেল থেকে যায় অধরা।

অবশেষে বুধবার (২২ মার্চ) বাহ্মনবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন অভিযান পরিচালনাকারী মির্জাপুর থানার পরিদর্শক মো. গিয়াসউদ্দিন পিপিএম। তিনি বলেন, অনেক চেষ্টার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রুবেলকে আশুগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রুবেল সেখানে তার এক আত্মীয়কে সাথে নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন বলে তিনি জানান।

কোর্টে মামলা করা কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, ভাল মুনাফার কথা বলে রুবেল তাদের কাছ থেকে টাকা নেন। কয়েক মাস ঠিকঠাক মতো ব্যবসায়ের হিসাব ও লভাংশ দিলেও হঠাৎ আত্মগোপনে চলে যায় রুবেল। এরপর টাঙ্গাইল আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা করেন তারা।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, গ্রেপ্তারকৃত রুবেল দীর্ঘদিন যাবৎ জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের প্রতারণা করছিলো। তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলার ওয়ারেন্ট ছিলো যেগুলোর ৮টিতে তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. মার্চ ২০২৩ ০৩:৩৭:এএম ৩ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।