আরমান কবীরঃ ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেই কোনো যানজট। কোথাও কোনো ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়লেও স্বাভাবিক গতিতেই চলছে যানবাহন।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বিকেলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেকটা কম থাকলেও সময়ের সাথে সাথে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। মহাসড়কে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। মহাসড়কে কোন যানজট নেই। যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দে যার যার কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌছাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদযাত্রায় মহাসড়কে দ্বিগুণ হয়েছে যানবাহনের সংখ্যা, যাত্রীবাহী বাস ছাড়াও ট্রাক, পিকআপ, বিভিন্ন সড়কের লোকাল বাস, লেগুনায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। যানবাহনে করে গন্তব্যে যাচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও পুরুষরা। পাশাপাশি যাত্রী পরিবহন করছে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার। মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ এবং ট্রাফিক পুলিশ নিরলস কাজ করছে।
এছাড়াও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর টহলও পরিলক্ষিত হয়।
জানা যায়, মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সুবিধা থাকলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চারলেন প্রকল্পের দুই লেনের কাজ চলমান রয়েছে। যার ফলে চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে আসতে পারলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রাস্তায় ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েই গেছে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ জানান, মহাসড়কে স্বাভাবিক ভাবেই যানবাহন চলাচল করছে। রাস্তায় যানবাহনের চাপ থাকলেও কোন যানজট নেই। যানজট যাতে না হয় সেজন্য হাইওয়ে পুলিশ ২৪ ঘন্টা নিরলস ভাবে কাজ করেছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পর্যাপ্ত পরিমাণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
আরমান কবীরঃ যথাযথ মর্যাদায় টাঙ্গাইলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। ২৬ মার্চ (বুধবার) সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের শুরু হয়।
এরপর ভোরে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসন শরিফা হক, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক মনোজ্ঞ কুচকাওয়াচ ও শরীর চর্চা প্রর্দশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক শরিফা হক। পরে কুচকাওয়াচে জেলা পুলিশ, আনসার-ভিডিপিসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।
এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি টাঙ্গাইল জেলা শাখা, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিসি) ইফতার মাহফিলে ও কেন্দ্রীয নেতাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২২ মার্চ) বিকালে টাঙ্গাইলে শিশু একাডেমী অডিটোরিয়ামে এ সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মূখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, যুগ্ম মূখ্য সংগঠক আলী নাসের, মুখ্য যুগ্ম সংগঠক অলিক, সংগঠক আজাদ খান ভাসানী, কেন্দ্রীয় সদস্য মেজর সালাউদ্দিন, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আগামী দিনে অবশ্যই নাগরিক পার্টির বিকল্প নেই। তাই আগামী দিনে সবাই পার্টির পাশে থাকবেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির টাঙ্গাইল জেলার সংগঠক মাসুদুর রহমান রাসেল।স
সাহান হাসানঃ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে সেতু ‘যমুনা রেলসেতু’। এটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যমুনার বুকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলবে ট্রেন।
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হলো এটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। একই সঙ্গে দু’অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দুপুর সোয়া ১২টায় সেতুতে ওঠে ট্রেন। সাড়ে তিন মিনিটে সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জ অংশে পৌঁছায় ট্রেনটি।
এর আগে পৌনে ১২টার দিকে সেতুর পূর্ব পাশে ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন এলাকায় ফলক উন্মোচন, ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব এম ফাহিমুল ইসলাম সেতুটির উদ্বোধন করেন।
এর ফলে যোগাযোগ, বাণিজ্য ও অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। বিশেষ করে উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ আরও সহজ হলো। এতে বাংলাদেশর সম্ভাবনাময় অগ্রযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো।
তবে ডাবল লেনের হলেও বর্তমানে সিঙ্গেল লেন চালু হওয়ায় সেতুটির পুরোপুরি সুফল সহসাই মিলছে না যাত্রীদের।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক এম আফজাল হোসেনের সভাপতিত্ব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং জাপানের বৈদেশিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকার দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মহা-পরিচালক ইতো তেরুয়ুকি।
এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মাসুদুর রহমান।
সেতুটি ৫০টি পিলার এবং ৪৯টি স্প্যানের ওপর নির্মিত। নতুন রেলওয়ে সেতুটি যমুনা বহুমুখী সেতুর ৩০০ মিটার উজানে অবস্থিত। দেশের দীর্ঘতম ও আধুনিক এই সেতুর ওপর দিয়ে দিনে ৮৮টি ট্রেন দ্রততগতিতে চলাচল করতে পারবে। ১৯৯৮ সালে যমুনা বহুমুখী সেতু উদ্বোধনের পর থেকে প্রায় ৩৮টি ট্রেন প্রতিদিন তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে যাতায়াত করে।
উদ্বোধন শেষে ট্রেনের অতিথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পূর্ব ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন থেকে সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের পশ্চিম প্রান্তে সায়দাবাদ রেলওয়ে স্টেশনে যান। সেখানে সংবাদ সম্মেলন শেষে পুনরায় সেতুর পূর্ব প্রান্তে ফিরে আসবেন৷ এর আগে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী থেকে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রথমবারের মতো যাত্রী নিয়ে যমুনা রেল সেতু পার হয়ে ঢাকায় পৌঁছায়। পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানোর সময় একটি ট্রেন ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে সেতুটি অতিক্রম করেছিল। এতে সেতুটি পাড়ি দিতে সময় লেগেছিল প্রায় সাড়ে ৩ মিনিট৷
সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮০ দশমিক ৯৬ কোটি টাকা। যার ৭২ দশমিক ৪ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং বাকি অর্থ সরকার দিয়েছে। জাপানের ওটিজি এবং আইএইচআই যৌথভাবে সেতুটি নির্মাণ করেছে।
২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি এই সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে। ২০২১ সালের মার্চে পিলার নির্মাণের জন্য পাইলিং কাজ শুরু হয়। ৪.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রেলসেতু দেশের দীর্ঘতম প্রথম ডাবল ট্রাকের ডুয়েল গেজের সেতু।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেনকে সোমবার (১৭ মার্চ) দুপুরে চার মামলায় মোট ১৯ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
টাঙ্গাইল সদর আমলী আদালত একটি হত্যাসহ তিনটি মামলায় ১৪ দিন এবং মির্জাপুর আমলী আদালত একটি হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেনকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মহানগরীর ভাটারা থানার পুলিশ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ভাটারা থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। রিমান্ড শেষে কেরানিগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন তিনি।
সোমবার দুপুরে তাকে প্রথমে টাঙ্গাইল সদর আমলী আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় টাঙ্গাইল সদর থানায় স্কুল ছাত্র মারুফ হত্যা মামলা এবং আরও দুইটি ভাঙচুর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের উপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ সময় মামলাগুলোতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক গোলাম মাহবুব খাঁন মারুফ হত্যা মামলায় ও দ্রুতবিচার আইনে দায়েরকৃত মামলায় ৫ দিন করে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের উপর হামলা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পরে তাকে মির্জাপুর আমলী আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে নিহত কলেজ ছাত্র মারুফ হত্যা মামলায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোছা: রুমি খাতুন ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো: লুৎফর রহমান ১৯ দিন রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মদ জানান, সোমবার থেকেই ছানোয়ার হোসেনকে তারা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবেন।
উল্লেখ্য, ছানোয়ার হোসেন ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু বলেছেন, শেখ হাসিনার সময় এ দেশে কথা বলার অধিকার ছিল না, নামাজ পড়ারও অধিকার অনেকের ছিল না। মানুষের বিপদের কথাটাও মানুষের কাছে বলতে দিতো না। একটা ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্যে দেশ চলছিল।
সোমবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়ন বিএনপি’র উদ্যোগে মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক উপমন্ত্রী বলেন, এই দেশকে হাসিনার হাত মুক্ত করেছে পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা। তবুও ষড়যন্ত্র থেমে থাকে না। দ্বিতীয় স্বাধীন হওয়ার পরদিন থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র চলছে।
তিনি বলেন, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। আমি একটা মৃত মানুষ, জীবিত অবস্থায় ফিরে এসেছি। আমার জীবন তো শেষ হয়ে যেতো। এখন শেখ হাসিনা থাকলে আমি আর কথা বলতে পারতাম না। কারাগারে রিমান্ডের নামে অত্যাচার, জুলম, নির্যাতন যেভাবে আমি ভোগ করেছি সেইভাবে আপনারাও বাইরে থেকে অনেকে ভোগ করেছেন।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, দীর্ঘ ১৭ টি বছর এ দেশের মানুষ আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে যার কারণে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের সমস্ত সম্পদ লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের সম্পদ দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশকে সাহায্য সহযোগিতা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা ভারতের কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের জালে লিপ্ত হয়নি। বর্তমানে চক্রান্ত হচ্ছে, ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এ দেশে শুধু ছাত্ররা জীবন দেয়নি, রিকশাওয়ালা, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ প্রাণ দিয়েছে। যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
নিকরাইল ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলু, পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান গিয়াসসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে ধর্ষনের সর্বোচ্চ বিচার ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রবিবার (৯ মার্চ) বিকেলে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে নারী ও শিশু যৌন নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
এতে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ফাতেমা রহমান বীথি, সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক আজাদ খান ভাসানী, শিক্ষক ও ক্রীড়া সংগঠক মোনালিসা মুন্নি, সমাজকর্মী নাহার চাকলাদার, সাংবাদিক রতন সিদ্দিকী ও আলমগীর হোসেন, জেলা ছাত্র ফেডারেশনের প্রচার সম্পাদক তাওহীদা সপ্নীল, দপ্তর সম্পাদক প্রেমা সরকার, পৌর কমিটির আহবায়ক আদিবা হুমায়রা, সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মুনঈম, সদস্য শিশির প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্খা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ ঠিক তার উলটো পথে হাঁটছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কেবল খান দান আর ঘুমান আর মধ্য রাতে তামাশার প্রেস বিজ্ঞপ্তি করেন। আমরা এই ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চাই এবং আছিয়াসহ সকল ধর্ষণের বিচার চাই।
তারা আরও বলেন, ২৪-এর ছাত্র শ্রমিক জনতার অভ্যুত্থানের পরেও বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। আমরা মাগুরায় ৮ বছরের শিশু আসিয়াকে ধর্ষিতা হতে দেখলাম। আমরা মির্জাপুরের ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষিতা হতে দেখলাম।
সাহান হাসানঃ ‘অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন-নারী ও কন্যার উন্নয়ন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (৮ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জাতীয় মহিলা সংস্থার যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল্যাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা আক্তার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে অপহরণের পর বিকাশের মাধ্যমে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ মার্চ) দুপুরে তাদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাতে শহরের থানাপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসময় মোমিনুল ইসলাম (৩৩) নামে অপহৃত একজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ব্রাহ্মণ কুলিয়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে আল আমিন তালুকদার (৩২) ও দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের মিজান মিয়ার ছেলে কুতুব উদ্দিন রনি (২৮)।
পুলিশ জানায়, অপহৃত মোমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবত একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় কর্মকর্তা হিসেবে টাঙ্গাইল শহরের রেজিস্ট্রি পাড়ায় কর্মরত ছিলেন। এ সুবাদে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রিয়া মনি নামে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় তার। বুধবার (৫ মার্চ) রাতে রিয়া মনি মোমিনুলকে শহরের শান্তিকুঞ্জ মোড়ে ডেকে আনেন। পরে তার সঙ্গে থাকা দুইজন মোমিনুলকে জোরপূর্বক শহরের থানাপাড়ার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করে। একপর্যায়ে অপহরণকারীরা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
পরবর্তীতে তারা বাড়ি থেকে নগদ টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দেয় পরিবারকে। অপহরণকারীরা মোমিনুল ইসলামের সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে বলে বাড়িতে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা দিতে বলে। পরে মোমিনুলের বাবা মোহাম্মদ আলী প্রথমে বিকাশে পাঁচ হাজার টাকা দেন। পরে তার স্ত্রী বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বিকাশের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকার জন্য তারা মোমিনুল ইসলামকে মারধর ও নির্যাতন করে। এভাবে বিকাশের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা দিতে হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। বিষয়টি পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোমিনুল ইসলামকে উদ্ধার করে। এসময় দুইজনকে আটক করা হয়। অন্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহমেদ জানান, এ ঘটনায় মোমিনুল ইসলাম রাতে বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দেবরের দায়ের কোপে ভাবি খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা-বাবা ও চাচাসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ইচাইল গ্রামের ভাদিলাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার ইচাইল গ্রামের ভাদিলাপাড়ার নিমাই সরকারের ছেলে মোটরসাইকেল মেকানিক আনন্দ সরকার বুধবার বিকেলে বাড়ি গিয়ে চাচাতো ভাই রঞ্জিত সরকারের স্ত্রী রাজেশ্বরী সরকারের (৩৬) কাছে দা চান। দা পাওয়ার পর হঠাৎ আনন্দ সরকার বৌদি রাজেশ্বরীকে মাথায় কোপাতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাবা নিমাই সরকার, মা মিষ্টি সরকার, চাচা দুলাল সরকার, আরেক বৌদি দিপা সরকার, সুমা সরকার এবং প্রতিবেশী দিগেন সরকারকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এদের মধ্যে নিমাই সরকার ও সুমা সরকার বাদে ৪ জনকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আনন্দ সরকারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। রাজেশ্বরী সরকারের ১৭ বছরের একটি কন্যা ও ৭ মাসের একটি ছেলে রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনন্দ সরকার বলেন, আমার মোটরসাইকেলের কিকার ঠিক করতে বৌদির কাছে দা চেয়েছিলাম। দা হাতে নেওয়ার পর মাথায় চক্কর মারে। এরপর কী হইছে আমি জানি না।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, ঘটনার পর আনন্দ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নবনির্বাচিত সদস্য আব্দুল বাকী মিয়ার (৭৩) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৫ মার্চ) বিকালে দ্বিতীয় জানাজা শেষে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের যশিহাটী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে বুধবার দুপুরে তার মরদেহ টাঙ্গাইল কোর্ট চত্বরে আনা হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশগ্রহণ করে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. নাজিম-উদ্দৌলা, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা শাহরিয়ার খান প্রমূখ।
জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন, নারী ও শিশু দমন নির্যাতন ট্রাইবুনালের বিচারক (জেলা জজ) কাউসার আহমেদ, টাঙ্গাইল বারের সভাপতি মুহম্মদ জহুর আজহার খান, সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম রফিকুল ইসলাম রতন, পিপি শফিকুল ইসলাম রিপন , নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি ওমরাও খান দিপুসহ বারের সিনিয়ার ও জুনিয়র আইনজীবীগণ।
এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিন শাহীন, জেলা বিএনপি’র সাধারণল সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ জানাযার নামাজে অংশগ্রহণ করে।
এর আগে বুধবার সকালে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া এলাকার নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রবীণ আইনজীবী আব্দুল বাকী মিয়া। গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে সকাল ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
উল্লেখ্য, আব্দুল বাকী মিয়া ১৯৭৮ সালে আইনজীবী হিসেবে টাঙ্গাইল বারে যোগদান করেন। তিনি প্রধান সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ছাড়া ২০০১ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ছিলেন। টাঙ্গাইল জেলা এ্যাডভোকেট বার সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ‘ব্লাস্ট’ টাঙ্গাইল ইউনিটের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
আরমান কবীরঃ ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভায় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক মো. শিহাব রায়হান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুক্তিযোদ্ধাগণ ও জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
সভায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৫ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করার লক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।