আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রুবেলকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত, রুবেল পৌর শহরের ১৩নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ থানাপাড়া এলাকার মৃত মনিরুজ্জামান খানের ছেলে বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয় নিশ্চিত করেছেন ।জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে টাঙ্গাইল সদর থানায় আনা হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, আসাদুজ্জামান রুবেল টাঙ্গাইল সদর থানায় ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর দায়ের করা মামলার (মামলার নং-৮) এজাহার নামীয় আসামি।
তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সং/১৯) এর ৪/৫ ও দন্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩০৭/৩২৬/১০৯/১৪৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতকে মঙ্গলবার দুপুরে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ টাঙ্গাইল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রকাশ, আসাদুজ্জামান খান রুবেল টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। সে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুনের পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে পোষ্ট দিয়ে সক্রিয় ছিল।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেছেন, দেশের মানুষ গত প্রায় দেড় যুগ ধরে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করছে। এ জন্য বিএনপি’র হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল-জুলমসহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বিএনপি’র ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের সাথে ছাত্রদের আন্দোলন যুক্ত হয়ে স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হলে ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের পতন হয়। গত ৫ আগষ্ট দ্বিতীয় স্বাধীনতার পর আবার কেন গণতন্ত্রমনা মানুষের সমাবেশ করতে হচ্ছে। ভোট নিয়ে কোন ধরনের তালবাহানা জনগন মেনে নেবেনা।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পতনের পর এখনো কেন প্রশাসনসহ সকল স্তরে ফ্যাসিষ্টদের দোসররা বহাল তবিয়তে রয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছেনা। বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেয়ার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে। কিন্তু ভোট নিয়ে নানা বাহনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ না খেয়ে থাকতে রাজি আছে কিন্তু ভোট না দিয়ে থাকতে পারেনা।
তিনি বলেন, দ্রব্যমুল্যের দাম এখনো সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে। আসন্ন রমজানে যেন কোনভাবেই দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি না পায় তার জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দেন ড. মঈন খান।
নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের মুল্যবৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি ও দ্রুত গনতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্য নির্বাচনী রোডম্যাপ দাবিসহ বিভিন্ন জনদাবিতে টাঙ্গাইলে এই সমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশটি এক পর্যায়ে জনসভায় রুপ নেয়।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপি’র শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটু, বিএনপি’র সহ সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম ওবায়দুল হক নাসির।
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
সমাবেশে বিএনপিসহ এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহন করে। নির্ধারিত সময়ের পুর্বেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
আরমান কবীরঃ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় এক ব্যক্তিকে হামলার ঘটনায় রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেনকে (৫৪) তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিএম ফারহান ইশতিয়াকের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন।
একইসঙ্গে আরও দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রিমান্ডপ্রাপ্ত অন্য দু’জন হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আবু মুসা আনসারী (৫৬) ও ভাটারা থানার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন সালেক ওরফে সালেক ঢালী (৫৮)।
সোমবার সকালে গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত শনিবার রাতে ভাটারায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের পর রবিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। একই দিন আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রাজধানীর ভাটারা থানার এসআই মো. ফরহাদ কালাম সুজন।
রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। পরে তাদের কারাগারে পাঠান এবং রিমান্ড শুনানির জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর ভাটারা থানার বারিধারা এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন মিঠুন ফকির। পরে আসামিদের ছোড়া ছিটা গুলিতে আহত হয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১১ আগস্ট বাসায় ফেরেন তিনি। এ ঘটনায় গত ১৯ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী মিঠুন ফকির ৮৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেন।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ছানোয়ার। তিনি ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন তিনি। পরে ২০২৪ সালে ঈগল প্রতীকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে টাঙ্গাইলে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়, নিউ মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। পরে একটি আনন্দ মিছিল শহরের নিরালা মোড় থেকে বের হয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
এই আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের নেতৃত্বদেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দ্যাইনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাবু। এসময় দ্যাইনা ইউনিয়নের বিএনপি’র বেশ কিছু নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে।
এ প্রসঙ্গে লাভলু মিয়া লাবু বলেন, টাঙ্গাইল সদর আসনের সাবেক এমপি ছানোয়ার হোসেন আমার বড় ভাই দ্যাইনা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফারুক চেয়ারম্যানের হত্যাকান্ডের অর্থদাতা। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফারুক চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডের সমস্ত তথ্য বের হয়ে আসবে বলে মনে করি।
তিনি আরও বলেন, ছানোয়ারের বাহামভূক্ত দ্যাইনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আফজাল হোসেনের অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে অনেক নিরীহ গ্রামবাসী এলাকা ছাড়া হয়েছিল। অবিলম্বে আফজাল চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারেরও জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ছানোয়ার হোসেনের গ্রেপ্তারের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই আমারা শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছি। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দ্যাইনা ইউনিয়ন থেকে একটি বিশাল আনন্দ মিছিল বের করা হবে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, ছানোয়ার হোসেনের গ্রেপ্তারের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই টাঙ্গাইল শহরসহ সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতা আনন্দ উল্লাস করেছে।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। লোকটি নিজেকে সাদা মনের মানুষ বলে দাবি করলেও এমন কোন অন্যায় কাজ নেই যেটা সে করেনি। আমি দ্রুত তাকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার ভাটারায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন (৫৪) সহ তিন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির ভাটারা থানা পুলিশ।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক- এল এর ১০নং রোডের ২৫০১ নং বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছানোয়ার পেশায় তামাক ব্যবসায়ী, যিনি গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর ও মির্জাপুর থানায় শিক্ষার্থী মারুফ ও ইমন হত্যাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
সরকার পতনের দুদিন আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের কৌশল ঠিক করতে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে স্থানীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে গোপন বৈঠক করেছিলেন তিনি।
আরমান কবীরঃ রাজধানী ঢাকার ভাটারায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন (৫৪) সহ তিন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির ভাটারা থানা পুলিশ।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক- এল এর ১০নং রোডের ২৫০১ নং বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভাটারা থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০টায় ভাটারা থানার জে ব্লকের ৯ নম্বর রোডের সড়কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মিঠুন ফকির (২৮) হামলায় আহত হন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ১৯ ডিসেম্বর ভাটারা থানায় একটি মামলা করেন। তদন্তাধীন এ মামলায় গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সালাউদ্দিন সালেক ওরফে সালেক ঢালী এ মামলায় এজাহারনামীয় ও এমপি ছানোয়ার হোসেন ও আবু মুসা আনসারী মামলার সন্দেহভাজন আসামি। গ্রেপ্তারকৃতদের রবিবার দুপুরে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, বিনা ভোটে নির্বাচিত টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি ছানোয়ার হোসেন গ্রেপ্তারের খবরে শহরে আনন্দ উৎসব হচ্ছে। আশা করি, অতি দ্রুত বিচার করে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
এদিকে, ছানোয়ার হোসেনের গ্রেপ্তারের খবরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ লাবলু মিয়া লাবুর নেতৃত্বে শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় ডেভিল হান্ট অপারেশনে বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের ২১জন নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যান, পৌরসভার কাউন্সিলররা রয়েছেন।
রাতভর অভিযানে আটক হওয়া নেতাকর্মীদের জেলার বিভিন্ন জায়গার নাশকতার মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলার স্ব স্ব থানা পুলিশ আটককৃতদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠিয়েছে।
জানা গেছে, সারাদেশে ডেভিল হান্ট অপারেশনের লক্ষে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। গ্রাম পর্যায়ে এসব অভিযানে আওয়ামী লীগের নেতাকমীদের আটক করা হয়। পরে আটক করা এসব নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জেলার কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ তালুকদার, দুর্গাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও কোকডহরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন।
ভূঞাপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তালুকদার এবং পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনকে আটক করা হয়। এছাড়া মধুপুরে ১জন, গোপালপুরে ৪জন, ঘাটাইলে ২জন, টাঙ্গাইল সদরে ৪জন, মির্জাপুরে ৩জন, সখীপুরে ১জন ও নাগরপুরে ১জন রয়েছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া জানান, আটক আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, আটককৃতরা টাঙ্গাইল সদর থানার নাশকতা মামলার আসামি। পরে তাদের টাঙ্গাইল সদর থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার করাতিপাড়া বাইপাসের পাশ থেকে অভিজিত কুমার (২৬) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে বাসাইল থানা পুলিশ।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের গুল্যা এলাকা থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত অভিজিত কুমার সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার পাঁচগাছি গ্রামের রিপন চন্দ্র সরকারের ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে যুবকের মরদেহ দেখতে পাই। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রথমে যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পরে তার প্যান্টের প্যাকেটে থাকা জন্ম সনদ, সার্টিফিকেট দেখে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমে যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা যাইনি। পরে তার প্যান্টের প্যাকেট থেকে কাগজ দেখে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শহর শাখার সহ-সভাপতি ইকবাল হায়াতকে(৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে পৌর শহরের বটতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত হায়াত, পৌর এলাকার ১৬ নং ওয়ার্ডের আকুর-টাকুর পাড়া এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে শহরের বটতলা এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল শহর শাখার সহ-সভাপতি ইকবাল হায়াতকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইকবালকে গত বছরের ১৩ নভেম্বর দায়ের করা (মামলা নং ১৮) দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি)দুপুরে ইকবাল হায়াতকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িতে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা জড়িত নয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে।
শনিবার(৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তেন জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমন্বয়করা সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি করেন তারা।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অন্যতম সমন্বয়ক আল আমিন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িতে ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনায় আমরা জড়িত নই। কিছু নামধারী সমন্বয়ক এ কাজ করতে পারে। যারা এ সব কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রশাসনের সাথে কথা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে শনিবার থেকে অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরু হবে। আমরা এ অভিযানের সফলতা কামনা করছি।
এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমন্বয়ক মনিরুল ইসলাম, নবাব আলী, আল আমিন সিয়ামসহ অন্যান্য সমস্বয়করা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভেকু দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খানের বাড়িতে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এবং পৌরসভার সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরনের বাড়িতেও লুটপাট চালানো হয়।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র অবকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বিএনপি’র মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ভাইঘাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ধনবাড়ী উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র উদ্যােগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়৷
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান। ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান সুরুজ, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।
এসময় বক্তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করেন। ড.ইউনুসকে বলেন, দেশ সংস্করণ করতে হলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজন। তাই অতিদ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এসময় ধনবাড়ী ও মধুপুর উপজেলার বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন
আরমান কবীরঃ: বিএনপির নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, বিএনপি দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে। বিএনপি কোনো চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয়না। জনগনের অধিকার আদায়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনকে যারা বিতর্কিত করতে চায় তাদের সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকবে হবে। বিএনপি জনগনের দল। জনগণের জানমালের ক্ষতি হয়- এমন কোন কাজে যারা নিয়োজিত থাকবেন তারা সাবধানে পথ চলবেন। জনগনের জানমালের ক্ষতি হবে এমন কোন কর্মকান্ড বিএনপি সহ্য করবেনা।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের শহীদ জগলু রোড়ে মির্জা আবু রায়হান জগলুর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এরআগে তিনি জেলা বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে একটি র্যালি নিয়ে শহরের জগলু রোডে ছাত্রদল নেতা শহীদ মির্জা আবু রায়হান জগলুর স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুব দলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিগত স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদী সরকার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের পায়ের নিচে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পিষ্ট করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ দেশনায়ক তারেক রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রেতাত্মারা এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যাতে তারা এই দেশে কোনভাবেই আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। যারা নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে তাদের বিচার এই দেশের মাটিতে অবশ্যই হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশের পথ সুগম হয়েছে। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে, শহিদ হয়েছে। গণমানুষের সেই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এখনও চলছে।
তিনি আরো বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। যে বাংলাদেশে সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে। সকলে ভাই-ভাই হিসেবে আগামি দিনে দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে সকল বৈষম্যমুক্ত গণতান্ত্রিক একটি দেশ গড়ে তুলবো ইনশাল্লাহ।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট
ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক শানু, কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী যুবদলের নির্বাহী সদস্য সৈয়দ শহিদুল আলম টিটু প্রমুখ।
প্রকাশ, ১৯৮৭ সালের এই দিনে তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদের আমলে বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশের নির্বিচারে গুলিবর্ষণে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা মির্জা আবু রায়হান জগলু নিহত হন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত “জিতবে এবার নৌকা’ ” গান বাজিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে টাঙ্গাইল পৌর শহরের মেইন রোডে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এই ভাঙচুর চলাকালীন পুরো সময় বিভিন্ন ধরনের গান বাজিয়ে ও নেচে গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন উপস্থিত ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধরা মাটিকাটার যন্ত্র (ভেকু) দিয়ে শুরু করেন কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ। এর কিছু সময় পর শহরের থানা পাড়ায় অবস্থিত জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত ফজলুর রহমান খান ফারুকের বাসাও ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার বাড়ি জ্বলছিল। এ সময়ও ছাত্র-জনতা গান বাজিয়ে আনন্দ উল্লাস করে।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একই এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং টাঙ্গাইলের সাবেক পৌর মেয়র জামিলুর রহমান মিরনের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বাড়ি ভাঙচুরের পর সেখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের ভাসানী হলের সামনে স্থাপিত শেখ কামালের মুরাল ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র-জনতার অভিযোগ, ‘টাঙ্গাইলে যারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ছিল, তাদের আস্তানা আমরা বাংলার মাটিতে রাখবো না। জেলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অফিসও আমরা ভেঙে ফেলবো।’
জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি জানান, ‘আমরা টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের কোনো অফিস রাখব না। এখন আওয়ামী লীগ অফিস ভেঙেছি। আওয়ামী লীগের যত নেতা আছে, তাদের বাসাও ভেঙে ফেলা হবে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, ‘ভাঙচুরের বিষয়ে শুনেছি, তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে যেতে পারিনি।