/ হোম / একতার কণ্ঠ
টাঙ্গাইলে যথাযথ মর্যদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী  দিবস পালিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে যথাযথ মর্যদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল যথাযথ মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা সদরে অবস্থিত “শহীদ বেদীতে” প্রথমে জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পরে জেলা সদর রোডে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০২:এএম ৪ বছর আগে
​বাঙালি বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত ছিল যে সাংবাদিক - Ekotar Kantho

​বাঙালি বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত ছিল যে সাংবাদিক

একতার কণ্ঠঃবাংলা খবরের কাগজে তার সঙ্গে যারা কাজ করতেন, তারা চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে শান্ত, ভদ্র, এবং বিচক্ষণ তরুণ হিসেবেই জানতেন। তার চেহারা ছিল অমায়িক, মুখ ভরা ছিল ছোট করে ছাটা পরিপাটি দাড়ি। অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম বলতে ছিল—মুসলিম ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের এক নেতার সঙ্গে তার প্রায়শ ফোনালাপ।

কিন্তু গত কিছুদিনের অনুসন্ধানে জানা গেল, সেই ফোনালাপ নিছক সাধারণ কিছু ছিল না। এর সূত্র ধরেই জানা গেল এই মঈনুদ্দীন হলেন কমান্ডোর মতো গুপ্ত ঘাতক একটি সংগঠনের প্রধান যারা ঢাকায় একটি ইটভাটায় শত শত বিশিষ্ট বাঙালি অধ্যাপক, ডাক্তার, আইনজীবী ও সাংবাদিককে হত্যা করেছে।

ডিসেম্বর ১৭ তারিখে শেষ হওয়া যুদ্ধের আগের তিন দিন ধরে খাকি প্যান্ট আর কালো সোয়েটারের উর্দি পরা এই আলবদর বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করেছিল। সেই সময় যারা আটক হয়েছিলেন তারা বলেছেন, এদের লক্ষ্য ছিল বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করা, যারা পাকিস্তান থেকে একটি স্বাধীন ধর্ম-নিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে কাজ করেছেন।
অনেক বাঙালি মনে করেন তখনই যদি যুদ্ধ শেষ না হতো তাহলে আলবদর তাদের পরিকল্পনায় সফল হতো। ওই ইটভাটায় যে ১৫০টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে তাদের অধিকাংশেরই ছিল নখ উপড়ানো এবং আঙুল কাটা। ইট ভাটার কাছের মাঠেই ২০টি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে যেখানে শত শত মানুষকে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একতার কণ্ঠ

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদন

এটা এখন স্পষ্ট যে আলবদর হলো বাঙালিদের দ্বারা তৈরি বাহিনী, পশ্চিম পাকিস্তানী কিংবা ভারত থেকে আসা বিহারীদের, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির উপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তাদের দ্বারা নয়।

‘পৃথিবীর এমন কিছু নেই যা আমাদের সঙ্গে ঘটেনি,’ বলছিলেন সম্পাদক এহতেশাম চৌধুরী, যার পত্রিকায় কাজ করতেন মঈনুদ্দীন।

আলবদর বাহিনী এহতেশাম চৌধুরীর ছোট ভাইকে অপহরণের পর হত্যা করে। সেদিন গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান এহতেশাম। আলবদর সদস্যরা সেই রাতে রাত বাড়িতে হানা দিয়েছিল।
যা ঘটেছে আমি যখন এটা ভাবি, আমার পা অসাড় হয়ে যায়,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি ভালো হতো, যদি তারা আমাদের নিচে চাপা পড়ে থাকত।’
এই আলবদর বাহিনী যে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ গ্রুপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সজ্জিত ছিল এ ব্যাপারে অনেক তথ্য প্রমাণ উঠে আসছে এখন।

পূর্ব পাকিস্তান গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর ডেস্কের উপর পাওয়া কিছু গোপনীয় কাগজে এই আলবদর বাহিনীর কথার উল্লেখ পাওয়া যায়। ‘ক্যাপ্টেন তাহির, আলবদরের জন্য গাড়ি’, ‘আলবদরের ব্যবহার’—তাড়াহুড়ো করে লেখা একটি কাগজের নোটে পাওয়া গেছে।

ক্যাপ্টেন তাহিরকে বলা হয়ে থাকে, রাজাকার ও বিহারী মিলিশিয়ার একজন কিংবদন্তীতুল্য পাকিস্তানী কমান্ডার যাদের মাধ্যমে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাঙালিদের উপর ত্রাস সৃষ্টি করত।

অন্য আরেকটি পাতায় লেখা রয়েছে ‘নিজাম উদ্দিন, মোটিভেটেড নিউজ’। নিজাম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন বাঙালি সাংবাদিক যিনি পাকিস্তানবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির জন্যে সুবিদিত। যুদ্ধ শেষ হওয়ার দুই দিন আগে তাকে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। এছাড়া তার নামের পাশে পেন্সিল দিয়ে অজ্ঞাত বিশেষ এক ধরনের চিহ্ন আঁকা ছিল।

তবে হত্যাকারীরা কিছু ক্লু রেখে গেছে। রাতে কারফিউ চলাকালীন তারা তাদের টার্গেটকে তুলে নিয়ে যায়। তারা কখনোই নিজেদের পরিচয় দিত না। কড়া পাহারার মধ্যে দূরে নিয়ে গিয়ে তারা হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটায়।

যুদ্ধ শেষ হবার আগের দিন ঢাকা শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে সেই ইটভাটার পাশে যে কৃষকদের বসবাস, তারা কালো সোয়েটার, খাকি প্যান্ট পরা লোকদের দেখেছেন অসংখ্য মানুষকে চোখ বেঁধে সারিবদ্ধভাবে ধরে নিয়ে যেতে। কিন্তু চোখ বাঁধা লোকগুলো কারা ছিলেন তা দেখার জন্য খুব কাছে যেতে পারেননি তারা।

হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন লোক সেখান থেকে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন এই ঘটনার কথা বলার জন্য। পরিসংখ্যানের অধ্যাপক মোহাম্মদ রউফ ১৩ তারিখ ভোরবেলা দরজায় জোরে টোকার শব্দ শুনে জেগে উঠেছিলেন। উত্তর দিয়েছিলেন তার স্ত্রী। দরজায় দাঁড়ানো ১২ জন সশস্ত্র লোককে তিনি বলেছিলেন তার স্বামী বাসায় নেই, কিন্তু এরপরও তারা জোর করে ঘরে ঢুকে পড়ে।

‘তারা আমাকে কিছুই বলেনি। যতক্ষণ না তারা তাকে (স্বামীকে) পেয়েছে ততক্ষণ ঘর তল্লাশি করেছে’ বলেন মিসেস রউফ।

‘এরপর তারা তাকে হাত পিছমোড়া করে বেঁধে নিয়ে যায়।’

ভাগ্যক্রমে, রউফ যে পেস্ট্রিশপে কেনাকাটা করতেন সেই দোকানেরই এক কর্মচারীকে তার সঙ্গে একই ঘরে বন্দী রাখা হয়। শ্রী চন্দপাল নামের পেস্ট্রিশপের সেই কর্মচারী পরে আলবদরের দলে থাকা এক বন্ধুর মধ্যস্থতায় মুক্তি পায়।

‘ওখানে ৪২ জন ছিলাম আমরা সেই রুমে’ চন্দপাল বলেন, ‘আমাদের সবার হাত ছিল পিছমোড়া করে বাঁধা এবং চোখ কাপড়ে ঢাকা। একটা পর্যায়ে আমি চোখের বাঁধন আলগা করতে পারি। সেই রুমের অধিকাংশ লোক ছিলেন পেশায় অধ্যাপক এবং ডাক্তার। সেখানকার প্রহরীরা আমাদের কিছু খেতে দেয়নি। এমনকি আমরা যখন পানি চাইছিলাম তারা হেসে বলেছিল যাও ইন্দিরা গান্ধীকে বলো।’

চন্দপাল বলছিলেন, ওদের সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের আলোচনা শুনে আলবদরের বিষয়টি বুঝতে পারেন। ‘তারা বলছিল কেন বাঙালিদের হত্যা করা দরকার। আমরা অন্য ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনছিলাম।’

‘সেই রাতে প্রহরীরা প্রফেসর রউফসহ ১০ জনকে নিয়ে যায় যারা আর ফিরে আসেননি।’

ডিসেম্বর ১৫ তারিখ যখন চন্দপাল মুক্তি পান, তখন তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন ঢাকার শারীরিক শিক্ষা কলেজের একটি ডরমিটরিতে যা আমেরিকান সাহায্যে তৈরি করা আধুনিক ভবন ছিল।

কলেজের দারোয়ান মকবুল হোসাইনও সেই রাতগুলোর কথা মনে করেন। ‘সুন্দর কাপড় পরা এবং হাত বাঁধা অবস্থায় শত শত লোককে সেখানে নিয়ে আসা হতো। ওই ঘরগুলো থেকে আমরা সব সময় আর্তনাদ আর চিৎকার শুনতে পেতাম,’ বলেন তিনি।

আলবদর নামটি নেওয়া হয়েছে মদিনার কাছে যে জায়গায় ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে মহান যুদ্ধ করেছিলেন সেখান থেকে। তার (নবীর) অসংখ্য সাহসী সেনাকে এই নাম দেওয়া হয়েছিল।

ঢাকার জেলে আটক আছেন এরকম একজনের ভাষ্য অনুযায়ী, রিপোর্টার মঈনুদ্দীন ছিলেন এই আলবদরের মূল হোতা। মঈনুদ্দীনের সঙ্গে তার ঘরেই থাকত এরকম একজনের একটি ডায়রি পাওয়া গেছে যেখানে আলবদর বাহিনীর সদস্যদের নামের তালিকা এবং তারা কত টাকা চাঁদা দিয়েছিল তা উল্লেখ ছিল।

এই দুজন যে বাড়িটিতে থাকতেন তার সামনে ছিল ঢাকার জামায়াতে ইসলামীর সদর দপ্তর। মৌলবাদীদের এই দলটি গত বছর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে এক শতাংশের কম ভোট পেয়েছিল। আলবদর বাহিনী হলো জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় এক শাখা সংগঠন যাদেরকে গত মার্চে পাক বাহিনীর দমন-পীড়ন শুরুর পর খুব সতর্কতার সঙ্গে বাছাই করা হয়েছে।

পূর্বদেশ পত্রিকার এক সহকর্মীর সঙ্গে তর্কাতর্কি হবার পর মঈনুদ্দীনকে ১৩ ডিসেম্বর শেষবারের মতো ঢাকায় দেখা গিয়েছিল। তার সেই সহকর্মীকে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আলবদর সদস্যরা তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।

সেই অফিসের আরেক কর্মী আতিকুর রহমান এখন মঈনুদ্দীনকে খুঁজতে শুরু করেছেন। রহমান বলেন, ‘আমরা তাকে খুঁজে বের করব, এর আগ পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না।’

[চৌধুরী মঈনুদ্দীন বর্তমানে যুক্তরাজ্যের নাগরিক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি হামিদুল হক চৌধুরীর মালিকানাধীন পূর্বদেশ পত্রিকায় কাজ করতেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।]

নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল ২ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে, সাংবাদিক ফক্স বাটারফিল্ড প্রতিবেদনটি লিখেছিলেন, অনুবাদ করেছেন এফ এম মিজানুর রহমান।

তথ্য সূত্রঃ দি ডেইলি স্টার অন লাইন

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. ডিসেম্বর ২০২১ ০৩:০৫:এএম ৪ বছর আগে
বাসাইলে ৮ চেয়ারম্যান ও ১৯ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল - Ekotar Kantho

বাসাইলে ৮ চেয়ারম্যান ও ১৯ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে এক ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যানসহ আট চেয়ারম্যান ও ১৯ ইউপি সদস্য প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার। রোববার (১২ ডিসেম্বর) যাচাই বাছাইয়ের নির্ধারিত দিনে তাদের মনোনয়ন পত্র বাতিল হলেও সোমবার(১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে জানানো হয়।

মনোনয়ন বাতিল হওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন ফুলকী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল,মনিরুজ্জামান মিয়া,আতিকুর রহমান,ইসহাক আলী,দেওয়ান জহিরুল ইসলাম,কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের এবিএম মাসুদুল আলম বিপ্লব, হাবলা ইউনিয়নের তরিকুল ইসলাম রতন, কাউলজানি ইউনিয়নের আবু হানিফ মিয়া।

এছাড়াও চারটি ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ৭ জন এবং সদস্য ১২ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

বাসাইল উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, মনোনয়ন বাতিল হওয়া চেয়ারম্যানদের স্থানীয় সরকার ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আইন ২০১০ এর বিধি ৪৮ এর উপধারা ১(ড) অনুযায়ী চারজন এবং সম্পদ বিবরনের রশিদ না থাকায় দুই জন ও দলীয় প্যাডে মনোনয়ন প্রাপ্তির স্বীকৃতিপত্র না থাকায় একজন, ঋণ খেলাপীর অভিযোগে এক জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার মনি শংকর রায় বলেন, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, ১৮ ডিসেম্বর আপিল নিষ্পত্তি এবং ১৯ ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহার ও ২০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।

আগামী ৫ জানুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. ডিসেম্বর ২০২১ ০১:২৮:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ব্যবস্থা, জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেলেন কলেজছাত্রী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ব্যবস্থা, জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেলেন কলেজছাত্রী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাই‌লে বাসা ভাড়া প‌রি‌শো‌ধ করার পরও এক ক‌লেজছাত্রী‌কে জি‌ম্মি ক‌রে রে‌খে‌ছিলেন বাসার মা‌লিক কামরুল হাসান। প‌রে ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রী জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন ক‌র‌লে পু‌লিশ গি‌য়ে তা‌কে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার ক‌রে।

সোমবার (১৩ ডি‌সেম্বর) বি‌কে‌লে পৌরসভার বেতকার মু‌ন্সিপাড়ার কামরুল হাসান ঠান্ডু বাড়তি ১০ মা‌সের ভাড়া দাবি ক‌রে ওই ছাত্রী‌কে বাসায় জি‌ম্মি ক‌রে রা‌খেন

ভুক্তভোগী ওই ক‌লেজ ছাত্রী সরকা‌রি কুমু‌দিনী ক‌লে‌জের অনা‌র্স দ্বিতীয় ব‌র্ষের শিক্ষার্থী।

জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার বেতকা মু‌ন্সিপাড়ার কাউ‌ন্সিলর মো‌র্শেদের বাসা সংলগ্ন এলাকার কামরুল হাসান ঠান্ডুর বাসায় গত চার মাস আ‌গে মেস ভাড়া নেন কুমু‌দিনী ক‌লে‌জের ওই শিক্ষার্থী। চল‌তি মা‌সের ভাড়া প‌রি‌শোধ ক‌রে বাসা ছে‌ড়ে দেওয়ার কথা জানান মা‌লিক‌কে। কিন্তু একমা‌সের ভাড়া অ‌তি‌রিক্ত দি‌লেও বাসার মালিক অগ্রিম আ‌রও দশ মা‌সের ভাড়া অ‌তি‌রিক্ত দাবি ক‌রে ওই ছাত্রী‌কে জি‌ম্মি ক‌রে রা‌খে। বাসা ছে‌ড়ে দি‌তে চাই‌লে তা‌কে হুম‌কি দেওয়াসহ অশ্লীল ভাষায় বকাব‌কি ক‌রে। পরে তাকে বাসায় জিম্মি করে রাখ।

বিপদ বুঝতে পেরে ওই শিক্ষার্থী জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন ক‌রে। প‌রে টাঙ্গাইল সদর থানার এএসআই আয়নুল ইসলা‌মের নেতৃ‌ত্বে পু‌লিশের এক‌টি টিম ঘটনাস্থ‌লে গি‌য়ে ওই ছাত্রী‌কে উদ্ধার ক‌রে। এর আ‌গে বাসার মা‌লি‌কের ক্যাডার বা‌হিনী জাহাঙ্গী‌রের নেতৃ‌ত্বে পুুলি‌শের উপ‌স্থি‌তি‌তে সাংবা‌দিক‌দের ওপর হামলার চেষ্টা ক‌রে।

ওই ক‌লেজছাত্রী জানান, চল‌তি মা‌সের ভাড়া প‌রি‌শোধ করে বাসা ছাড়‌তে চাই‌লে বাসার মা‌লিক অ‌তি‌রিক্ত আ‌রও দশমা‌সের ভাড়া দাবি ক‌রে জি‌ম্মি ক‌রে রা‌খেন আমাকে। এ ছাড়া অশ্লীল ভাষাসহ বি‌ভিন্ন হুম‌কি দি‌তে থা‌কে। প‌রে বিপ‌দের কথা চিন্তা ক‌রে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন কর‌লে পু‌লিশ এ‌সে উদ্ধার ক‌রে।

Ekotar Kantho

বাসার মা‌লিক কামরুল হাসান ঠান্ডু ব‌লেন, বাসা ছে‌ড়ে দি‌লেও দশমাসের ভাড়া বাড়‌তি ভাড়া দি‌তে হ‌বে। না হ‌লে নতুন ভাড়া‌টিয়া খুঁজ‌তে দে‌রি হবে। আইন-টাইন বু‌ঝি না, আমা‌কের বাড়‌তি টাকা দি‌য়ে ওই ছাত্রীকে বাসা ছাড়‌তে হ‌বে। জি‌ম্মি ঘটনার কথা বল‌তেই সাংবা‌দিক‌দের দে‌খে নেওয়ার হুম‌কি দেন তি‌নি।

টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের এএসআই আয়নুল ইসলা‌ম ব‌লেন, জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পে‌য়ে ঘটনাস্থ‌লে গি‌য়ে ওই ছাত্রী‌কে উদ্ধার ক‌রা হয়। ত‌বে বাসার মা‌লিক কামরুল হাসান উগ্র প্রকৃ‌তির মানুষ। ওই ছাত্রী‌কে জি‌ম্মি ক‌রে বাড়‌তি টাকা আদা‌য়ের চেষ্টা ক‌রেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. ডিসেম্বর ২০২১ ০১:১৭:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ছোট ভাইয়ের বউকে হত্যার দায়ে ভাসুরের যাবজ্জীবন কারাদন্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ছোট ভাইয়ের বউকে হত্যার দায়ে ভাসুরের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ছোট ভাইয়ের বউকে হত্যার দায়ে ভাসুরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। সেই সাথে দশ হাজার টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে দুই মাসের সশ্রম কারাদন্ডও দেয়া হয়।

সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় দেন।দন্ডিত ব্যক্তি কালিহাতী উপজেলার উত্তর পৌলী গ্রামের মৃত আজমত আলীর ছেলে ফরমান আলী। সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনকারী অতিরিক্ত পিপি সিরাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, উত্তর পৌলী এলাকায় ডিস লাইনের তার চুরির ঘটনায় এলাকায় শালিস বৈঠকে ফরমান আলীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই টাকা সংগ্রহের জন্য তার ছোট ভাই নুর ইসলামের বউ আছিয়া বেগমের কাছে যান এবং বিভিন্ন সময় টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। টাকা না দেওয়ায় ২০০৬ সালের ১ আগস্ট সকালে দন্ডিত আসামী ফরমান আলী তার ছোট ভাইয়ের বউকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে উত্তর পৌলী গ্রামে নিজ বাড়িতে হত্যা করে। পরে নিহতের শ্বশুরবাড়ীর লোকজন পালিয়ে যায়। নিহত আছিয়া বেগমের মামা মো. রজব আলী ঘটনার দিনই কালিহাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট মো শামীম চৌধুরী দয়াল।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. ডিসেম্বর ২০২১ ০১:৫১:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানীর ১৪১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানীর ১৪১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ১৪১তম জন্মবার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে। রবিবার(১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটে সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এ আর এম সোলাইমান-এর নেতৃত্বে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করেন।

এরপর মওলানা ভাসানীর পরিবার বর্গ, ভাসানী পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ, বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ ভাসানী), বাংলা ভাষা বিশ্ব শিশু সংগঠন, মাওলানা ভাসানী স্মৃতিসৌধ ব্যবস্থাপনা কমিটি, বিশ্ববিদ্যালয় ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসস্থ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও পৃথক পৃথকভাবে পুস্পস্তবক অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করা হয়।

এছাড়া সকাল ১১ টায় ক্যাম্পাসস্থ দরবার হলে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয় ও মাওলানা ভাসানী স্মৃতিসৌধ ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভা ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দুপুরে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শহরের সাধারণ গ্রন্থাগারে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হারুন অর রশিদ, মহাসচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল সকাল পরিষদের সভাপতি নূরুল ইসলাম বাদল, নজরুল সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল রুহি প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের নেতা নুরুল ইসলাম। এসময় যুব ফাউন্ডেশন ও ছাত্র ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. ডিসেম্বর ২০২১ ০২:৪৩:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর নিহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রাকচাপায় সজিব বিশ্বাস (১৭) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।ওই  ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুইজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের উপজেলার ধেরুয়া এলাকায় মাছরাঙ্গা ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি রোববার (১২ ডিসেম্বর) সকালে গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সজিব বিশ্বাস উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গন্ধব্যপাড়া গ্রামের সুধির বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ‘তিন কিশোর মিলে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হন। পরে তারা ধেরুয়া এলাকায় পৌঁছালে সড়কের মাছরাঙ্গা ফিলিং স্টেশনের সামনে তাদের মোটরসাইকেলটি ট্রাকের সঙ্গে চাপা লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের নিতজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সজিব বিশ্বাসকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক বলেন, ‘দুর্ঘটনায় সজিব নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আর অনিক নামের একজন আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার পরিবারের কাছে হন্তান্তর করা হয়।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. ডিসেম্বর ২০২১ ০১:০৫:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে “আটিয়া” যেন এক পাঙ্গাসের গ্রাম - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে “আটিয়া” যেন এক পাঙ্গাসের গ্রাম

একতার কণ্ঠঃ বাড়ি-বাড়ি পুকুর। পুকুর ভরা পাঙ্গাস মাছ। ঘরে-ঘরে পাঙ্গাস চাষী। পাঙ্গাস চাষ করে গ্রামের প্রায় সবাই এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। পুকুরের মাটি ও পানির গুনগত মান এবং পুষ্টিকর খাবারে উৎপাদিত পাঙ্গাস প্রচলিত জাতের হলেও স্বাদে অতুলনীয়। ফলে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ সাফল্য জমিদারী আমলের আটিয়া পরগনার ‘আটিয়া’- বর্তমানে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া গ্রামের।

আটিয়া গ্রামেই অবস্থিত সুফী সাধক শাহান শাহ আদম কাশ্মিরীর মাজার শরীফ। মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রায় ৪’শ বছরের পুরনো মসজিদটি এখন প্রত্নতান্তিক সম্পদ। ১৯৭৮ ও ১৯৮২ সালে দেশীয় মুদ্রা সংস্করণে দশ টাকার নোটের প্রচ্ছদে স্থান পাওয়ায় আটিয়ার পরিচিতি দেশব্যাপী। বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকদের আনাগোনাও রয়েছে।

আটিয়া গ্রামের লোকসংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। এ গ্রামের প্রায় সবাই এখন পাঙ্গাস চাষে স্বপ্ন পুরণে ব্যস্ত। স্থানীয় নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আমিষের চাহিদা পুরণ করছে আটিয়ার পাঙ্গাস। মসজিদটির কারণে বিখ্যাত হওয়া আটিয়া গ্রামের জীবন-যাত্রায় এবার যোগ হয়েছে পাঙ্গাস চাষ। পাঙ্গাসের গ্রাম নামে নতুন পরিচয় পাচ্ছে ‘আটিয়া’। সুস্বাদু পাঙ্গাসের কারণে আটিয়া গ্রামের সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে।

সরেজমিনে জানাগেছে, ১৯৯৪ সালে ওই গ্রামের আসাদুজ্জামান আসাদ নামে এক ব্যক্তি প্রথম আটিয়াতে পাঙ্গাস মাছ চাষ শুরু করেন। আসাদুজ্জামান আসাদের কঠোর পরিশ্রম ও পুকুরের পানির গুণে পাঙ্গাসের ভালো ফলনে তিনি লাভবান হন। আসাদের সফলতায় উৎসাহিত হয়ে আটিয়ার যুবকরা পাঙ্গাস চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এখন আটিয়ার ঘরে-ঘরে পাঙ্গাস চাষী। এই গ্রামে দেড় শতাধিক পুকুরে এখন পাঙ্গাস চাষ হচ্ছে। পোনা মজুদ, পাঙ্গাস চাষ, মাছ ধরা, এমনকি বাজারে বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে গ্রামের প্রায় সবাই এখন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাঙ্গাস চাষের সাথে যুক্ত। প্রায় দুই যুগের পাঙ্গাস চাষের ইতিহাসে গ্রামের অধিকাংশ পরিবার এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। তবে গত কয়েক বছরে ধাপে-ধাপে খাবারের দাম বেড়ে দ্বিগুন হওয়ায় পাঙ্গাস চাষের আগামি দিনগুলো নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ন্বপ্নের পাঙ্গাস চাষকে সহজতর করতে খাবারের দাম কমানো, মাছ সরবরহের ব্যবস্থাসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছে পাঙ্গাসের গ্রাম আটিয়ার চাষীরা।

প্রতিষ্ঠিত পাঙ্গাস চাষী আসাদুজ্জামান আসাদের এখন চারটি পুকুর। দুটিতে ৩০ হাজার পাঙ্গাস চাষ করেন। বাকি দুইটি পুকুরে পাঙ্গাসের পোনা মজুদ রাখেন। তিনি জানান, নব্বইয়ের দশকে আটিয়ায় তিনিই প্রথম পাঙ্গাস চাষ শুরু করেন। গ্রামে এখন দেড় শতাধিক পুকুরে পাঙ্গাস চাষ হচ্ছে। তিনি অভিযোগের সুরে জানান, বর্তমানে পাঙ্গাসের খাবারের দাম দ্বিগুন। ৭-৮ শ’ টাকা মূল্যের খাবারের বস্তা হয়েছে ১৭-১৮শ’ টাকায় কিনতে হচ্ছে। সে তুলনায় মাছের দাম বাড়েনি, আগের দামেই পাঙ্গাস বিক্রি করতে হচ্ছে। পাঙ্গাস চাষে জেলা-উপজেলায় দুইবার সেরা চাষীর পুরস্কার পেলেও বর্তমানে পাঙ্গাস চাষ নিয়ে হতাশায় রয়েছেন তিনি। আসাদের পর ১৯৯৯ সালে পাঙ্গাস চাষ শুরু করেন বায়েজিদ হোসেন জুয়েল। তার চারটি পুকুরে ১৫ থেকে ২০ হাজার পাঙ্গাস চাষ করেছেন তিনি। জুয়েলও পাঙ্গাস চাষে খাবারের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ৩২-৩৪ টাকা কেজির খাবার দাম বেড়ে ৫২-৫৩ টাকা কেজি। প্রতি কেজিতে ২০-২২টাকা মূল্য বেড়েছে।

আটিয়ার ডা. লুৎফর রহমান ও জায়েদুর রহমানরা সাত ভাই মিলে ৬টি পুকুরে পাঙ্গাস চাষ করেছেন। খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ডা. লুৎফর রহমান বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। খাবারের সব ধরনের কাঁচামাল কিনে কারখানা থেকে ভাঙিয়ে এনে পুকুরে দেন। ফলে মাছের খাবারের উর্ধ্বগতিতেও লাভের হিসাব আগের মতোই গুনছেন তিনি। স্থানীয় কেউ কেউ ডা. লুৎফর রহমানকে অনুসরণ করছেন আবার কেউ কেউ বাড়িতে খাবার তৈরি করতে ছোট আকারের মেশিন কিনে বাড়িতে বসিয়ে খাবার তৈরি করছেন। এতে তাদের পাঙ্গাসের খাবারের খরচ আরও কমে এসেছে।

স্থানীয় খায়রুল হোসেন বাচ্চুও চারটি পুকুরে পাঙ্গাস চাষ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে পাঙ্গাস চাষ করে অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনলেও বর্তমানে খাবারে দাম বেড়ে যাওয়ায় হোঁচট খাচ্ছেন তিনিও। স্বামী মারা যাওয়ার পর বিধবা নারী ঝরনাও শুরু করেন পাঙ্গাস চাষ। বেঁচে থাকা অবস্থায় স্বামীর কাছ খেকে শিখেছিলেন কিভাবে পাঙ্গাস চাষ করতে হয়। মাছ চাষ করেই দুই মেয়ের বিয়ের খরচ যুগিয়েছেন তিনি। বাকি দুজনের ভরণ-পোষণের জন্য মাছ চাষ ছাড়েননি তিনি। ঝরনার মতো গ্রামের অনেকেই পাঙ্গাস চাষে ঝুঁকছেন। ফলে আটিয়া গ্রামে বেকারত্ব নেই বলেই চলে। সবাই এখন স্বাবলম্বী।

আটিয়া গ্রামের চাষীরা প্রতি হাজার পাঙ্গাস চাষ করে বছরে ২৫-৩০ হাজার টাকা উপার্জন করছে। একজন চাষী ২৫ থেকে ৩৫ হাজার পাঙ্গাস চাষ করে গ্রামের অর্থনীতির চাকা বদলে দিয়েছে। একদিকে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন, অন্যদিকে গ্রামের অর্থনীতিকে মজবুত করেছেন। মাছের বর্তমান পাইকারী বিক্রি মূল্য মন প্রতি চার থেকে চার হাজার ২০০টাকা। পাঙ্গাস চাষে খাবারের দাম দফায়-দফায় বেড়ে দ্বিগুন হলেও মাছের পাইকারী দাম কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যেই রয়েছে। সম্প্রতি পাঙ্গাস চাষীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। খাবারের দাম না কমলে পাঙ্গাস চাষ থেকে অনেক চাষী ছিটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, আটিয়া একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। এ গ্রামের মানুষ মূলত কৃষি কাজের উপরই নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে পাঙ্গাস চাষে সাফল্য পাওয়ায় বেশিরভাগ মানুষই পাঙ্গাস চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। তিনি আরও জানান, জেলার অন্যান্য এলাকায় চাষ করা পাঙ্গাসের তুলনায় আটিয়ার পাঙ্গাস স্বাদের ভিন্নতায় অতুলনীয়। তাই এ এলাকার পাঙ্গাসের চাহিদাও বেশি।

টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, দেলদুয়ারের আটিয়ার পাঙ্গাস প্রসিদ্ধ। পাঙ্গাস চাষ করে গ্রামের অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তারা সাধ্যমতো পাঙ্গাস চাষীদের সহযোগিতা করছেন। জেলা-উপজেলা মৎস্য অফিসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণসহ নানা পরামর্শ দিয়ে মাছ চাষীদের পাশে রয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. ডিসেম্বর ২০২১ ০১:১২:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ১০ জয়িতাকে সম্মাননা প্রদান - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ১০ জয়িতাকে সম্মাননা প্রদান

একতার কণ্ঠঃ ‘নারী নির্যাতন বন্ধ করি, কমলা রঙের বিশ্ব গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে বেগম রোকেয়া দিবস ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় ১০ জয়িতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মেহেরুন্নেছা মনি প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুণ হোসাইন। পরে বিভিন্ন ক্যাটারিতে জেলা থেকে পাঁচজন ও উপজেলা জেলা থেকে পাঁচজনকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০৯:এএম ৪ বছর আগে
 ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নবগঠিত কমিটির সভাপতি শুভ ও সম্পাদক নুহাশ - Ekotar Kantho

 ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নবগঠিত কমিটির সভাপতি শুভ ও সম্পাদক নুহাশ

একতার কণ্ঠঃ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (মাভাবিপ্রবিসাস) আগামী এক বছরের জন্য ২০২১-২২ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ডেইলি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শুভ দে এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক অধিকার ও দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মোঃ নূর এ আলম নুহাশ।

মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে নির্বাচিত ১৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি নিউজ টাঙ্গাইলের ফারজানা মাসুম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডেইলি বাংলাদেশ বার্তার আবুল হাশেম খান, দপ্তর সম্পাদক সাপ্তাহিক সময়ের তরঙ্গের তানভীর আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর-ই-জান্নাত, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ খাইরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মাহযাবীন লুৎফা রিতু, কার্যকরী সদস্য রওশন জামিল, মাহবুব জুবায়ের, তাসনিম আলম, রাসেল চৌধুরী, শেখ সায়মন পারভেজ, রুকসানা খাতুন এবং অনিক ইসলাম অপু।
আগামী এক বছর এই কমিটির দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, মাভাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এ আর এম সোলাইমান এবং উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মীর মোঃ মোজাম্মেল হক।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. ডিসেম্বর ২০২১ ১২:৫৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের নির্বাচনঃসভাপতি পদে একক প্রার্থী জাফর আহমেদসহ ২২ জনের মনোনয়নপত্র দাখিল - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের নির্বাচনঃসভাপতি পদে একক প্রার্থী জাফর আহমেদসহ ২২ জনের মনোনয়নপত্র দাখিল

 একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে সভাপতি পদে একক প্রার্থী বর্তমান সভাপতি জাফর আহমেদসহ ২২ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। বুধবার( ৮ ডিসেম্বর) সন্ধায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হারুন অর রশিদের কাছে প্রার্থীরা ওই সব মনোনয়ন পত্র জমা দেন। এসময় নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট এসআকবর খান ও অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনে অংশ নিতে সহ-সভাপতি পদে এম এ ছাত্তার উকিল ও একরামুল হক খান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক পদে কাজী জাকেরুল মওলা ও মহব্বত হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে নাসির উদ্দিন, ইফতেখারুল অনুপম, ও মহিউদ্দিন সুমন, কোষাধ্যক্ষ পদে আব্দুর রহিম ও মহিউদ্দিন সুমন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে খন্দকার মাসুদুল আলম ও মোস্তাক হোসেন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে কাজী তাজউদ্দিন রিপন ও শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, দপ্তর ও পাঠাগার সম্পাদক পদে অরণ্য ইমতিয়াজ, কার্যকরী সদস্য পদে ড. মো. কামরুজ্জামান, সাহাবউদ্দিন মানিক, হেমায়েত হোসেন হিমু, মো. মামুনুর রহমান মিয়া, শামীম আল মামুন, শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা ও মোস্তাক হোসেন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

৩০ নভেম্বর টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৫ টা হতে ৬ টা পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র বিক্রয় করা হয়। বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা হতে রাত ৮ টা পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টায় মনোনয়ন পত্র বাছাই, আপত্তি গ্রহণ, নিষ্পত্তি ও খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। শুক্রবার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার ও চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

আগামী  ১৭ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেল ৩ টা হতে সন্ধ্যা ৫ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. ডিসেম্বর ২০২১ ০৪:১২:পিএম ৪ বছর আগে
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির নব-গঠিত কমিটি বাতিল চেয়ে আবেদন - Ekotar Kantho

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির নব-গঠিত কমিটি বাতিল চেয়ে আবেদন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির নব-গঠিত কমিটি বাতিল চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। বুধবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছে পূর্ববর্তী কমিটির সাধারন সম্পাদক তনিমা ইসলাম। এ ছাড়া অন্য দুই সাংবাদিক পৃথকভাবে লিখিত আবেদন জমা দেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) শুভ দে’কে সভাপতি ও মো. নুর এ আলম নুহাশকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটির অনুমোদন দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক।

পূর্ববর্তী কমিটির সাধারন সম্পাদক তনিমা ইসলাম তার লিখিত আবেদনে জানান, কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও তাকে অবহিত না করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা যে কোন সংগঠনের কমিটি গঠনের নিয়মের পরিপন্থী। এছাড়া কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীতে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত/জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, সাংবাদিক সমিতির সাবেক একজন সদস্যের অন্তর্ভুক্তির বিধান থাকলেও তা করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এছাড়াও কমিটিতে সেচ্ছাচারিতামূলকভাবে নতুন সদস্য সংযোজন ও পুরাতন সদস্য বিয়োজন করা হয়েছে।

দেশের কথা ও ক্যাম্পাস লাইভ ২৪.কম এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মো. এনামুল হক লিখিত আবেদনে জানান, ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে সভাপতি সাইফুল মজুমদার স্বাক্ষরিত ‘সাংবাদিকতায় কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে মাভাবিপ্রবিসাস’ এক বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক সমিতিতে ৫০ টাকা দিয়ে সদস্য পদের ফরম জমা দেন। দুই বছর পেড়িয়ে গেলেও তাকে সদস্য পদে অন্তর্ভুক্ত না করে অনেকেই যারা কখনই সাংবাদিকতা করেনি তাদেরকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। এমনকি নব-গঠিত কমিটিতে সরকার ঘোষিত নিবন্ধন বাতিলকৃত অনলাইন পত্রিকা ‘আই নিউজ বিডি’ এর সাংবাদিকও রয়েছে। যা সাংবাদিক সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে।

নবযুগান্তর ও টাঙ্গাইল প্রতিদিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সোলাইমান মিঞা লিখিত আবেদনে মো. এনামুল হকের মত একই ধরনের অভিযোগ এনে আরও জানান নব-গঠিত কমিটির সভাপতি ‘শুভ দে’ নিজেও আমার কাছে কমিটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপার। এ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি নয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. ডিসেম্বর ২০২১ ১২:৫১:এএম ৪ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।