একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখার গ্রাহকের ম্যানেজার কর্তৃক সঞ্চয়পত্রের আত্মসাত করা টাকা ফেরত পাচ্ছেন গ্রাহকরা।
বুধবার (১৩ মার্চ) সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখা কার্যালয় থেকে এই টাকাগুলো ফেরত দেওয়া হয়। এতে ৮৪ জন গ্রাহকের মধ্যে ৫৭ জন গ্রাহককে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
গ্রাহক মর্জিনা বেগম বলেন, সোনালী ব্যাংকে ২১ লাখ টাকা রেখেছিলাম। টাকাগুলো কৌশলে সোনালী ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম আত্মসাত করেছিল। পরে অনেক আন্দোলনের পর টাকাগুলো ফেরত পেয়েছি।
আরেক গ্রাহক ববিতা রানী বলেন, ভাবছিলাম টাকা ফেরত পাব না। কিন্তু অবশেষে আমার জমাকৃত ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছি। আত্মসাতের টাকা ফেরত পেয়ে ভালো লাগছে।
গোবিন্দাসী ইউপি চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন চকদার বলেন, গ্রাহকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যাংকের উর্ধ্বধন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখার ম্যানেজার ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, গ্রাহকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আত্মসাতের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ৫৭ জন গ্রাহকের ২ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৮৪ জন গ্রাহককে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ফেরত প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংকের গোবিন্দাসী শাখা’র সাবেক ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। এনিয়ে গ্রাহকদের মাঝে অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দেয়। পরে গ্রাহকরা একাধিকবার ব্যাংক ঘেরাও, মানববন্ধন ও রাস্তা অবরোধ কর্মসূচিসহ ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে তদন্তপূর্বক প্রায় ৯ মাস পর গ্রাহকদের মাঝে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
শহিদুল ইসলাম ম্যানেজার হিসেবে সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখায় ২০২০ সালে যোগদান করে। এরপর দীর্ঘ ৩ বছর ২ মাস কাজ করেন সেখানে। এই দীর্ঘ সময়ে তথ্য প্রযুক্তিতে মেধা সম্পন্ন শহিদুল ইসলাম কৌশলে ব্যাংকের ১৩০ জনের সঞ্চয়পত্রের টাকা লুজ চেকের (জরুরি উত্তোলণের জন্য একক পাতা) মাধ্যমে অন্য একাউন্টে ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা সরিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়া উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের ভাতার ৬ লাখ ৮১ টাকাও গায়েব করা হয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম তার বড় ভাই ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া গ্রামের মহির উদ্দিনের তালুকদার এগ্রো ফার্ম ও কালিহাতী উপজেলার আদাবাড়ি গ্রামের খালেদা বেগম নামে পলাশ এগ্রো ফার্মের অ্যাকাউন্টসহ তার বন্ধু বান্ধবদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করেন।
এছাড়া খালেদা বেগমের মেয়ের জামাই পটুয়াখালী জেলায় দুদকের উপ-পরিচালক মামুন চৌধুরীর সাথে শহিদুল ইসলামের বন্ধুত্বের কারণে ওই হিসাব নম্বর ব্যবহার করে টাকা সরানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় সোনালী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে গোবিন্দাসী শাখা হতে ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন শহিদুল ইসলাম। এসব অভিযোগের পর কিছুদিন শহিদুল ইসলাম আত্মগোপনে থাকেন।
একতার কণ্ঠঃ একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলের জিম্মির খবর শুনে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন তার প্যারাইলাইজড বাবা হারুন অর রশিদ। পাশেই বিলাপ করে কাঁদছেন মা সালেহা বেগম। একমাত্র বোন মিতু আক্তার বুকে পাথর বেঁধে ভাইয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে বেড়াচ্ছেন।
তাদের আহাজারি দেখে প্রতিবেশী-আত্বীয়স্বজনরা ছুটে এসেছেন। যে যার মতো করে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারের একমাত্র ছেলের এমন দশায় সান্ত্বনা কি আর তাদের আশ্বস্ত করতে পারে? তাদের মুখে শুধু একটাই দাবি, সরকার যেন দ্রুত সাব্বিরসহ সব জিম্মিকে মুক্ত করে আনে।
জানা গেছে, ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ জন নাবিকের একজন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গা ধলাপাড়া গ্রামের সাব্বির হোসেন।
সাব্বির উপজেলার সহবতপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর টাঙ্গাইলের সরকারি এম এম আলী কলেজ (কাগমারি) থেকে ২০১৬ সালে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে ২০২২ সালের জুন মাসে এমভি আব্দুল্লাহ নামক পণ্যবাহী জাহাজে মার্চেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।
সাব্বিরের চাচাতো ভাই আহম্মেদ হোসেন রানা জানান, সাব্বিররা এক ভাই এক বোন। বোনের বিয়ে হয়েছে। সাব্বির অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে। তার বাবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে প্যারাইলাইজড হয়ে শয্যাশায়ী। সাব্বিরের চাকরি হওয়ার পর তার মা শয্যাশায়ী স্বামীকে নিয়ে সহবপুর তার বাবার বাড়িতে থাকেন। সংসার চলে সাব্বিরের উপার্জনে। সরকারের কাছে দাবি জানাই সাব্বিরসহ সবাইকে যেন জিম্মি দশা থেকে দ্রুত মুক্ত করা হয়।
সাব্বিরের বোন মিতু আক্তার বলেন, এক মাস আগে বাড়ি এসেছিল আমার ভাই। একদিন থেকেই চলে গেছে। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সকাল থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়ার খবর পেয়ে আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। বাবা মা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তারা শুধু কেঁদেই চলছে আর বলছে আমার ছেলেকে এনে দাও। আমার একমাত্র ভাইয়ের কিছু হলে বাবা মাকে বাঁচানো যাবে না। অতি দ্রুত আমার ভাইকে মুক্ত করে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বালুর নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় অজ্ঞাত যুবকের (২৫) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের মীরহামজানি এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন।
তিনি জানান, উপজেলার মীরহামজানি এলাকায় স্থানীয় লোকজন বালুর নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাত যুবকের মাথা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই মরদেহটি উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, পরে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৬-৭ দিন আগে ওই যুবককে হত্যা করে বালু চাপা দিয়ে রাখে দুর্বৃত্তরা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শিশু কেয়ার একাডেমিক স্কুলে বার্ষিক মিলাদ, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ মার্চ) সকালে নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের শিশু কেয়ার একাডেমিক স্কুল প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। পরবর্তীতে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিশু কেয়ার একাডেমিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সেলিম রেজা। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিশু কেয়ার একাডেমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিয়াসমিন সুলতানা।
অনুষ্ঠানে রাজবাড়ী থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক আবু তালেবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধলেশ্বরী হাসপাতালের পরিচালক ব্যারিস্টার হাসনাত জামিল।
এত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক মুস্তাফিজুর রহমান, নাগরপুর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, স্কয়ার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মিজানুর রহমান মিজান, স্থানীয় ইউপি সদস্য খন্দকার মিঠুল, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরামুল হোসেন, দৈনিক টাঙ্গাইল প্রতিদিন পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও শিশু বার্তা ম্যাগাজিনের কো-অর্ডিনেটর শেখ মাজহারুল ইসলাম সোহান।
অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিরা বিজয়ীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ করেন। এর পূর্বে বার্ষিক মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শিশু কেয়ার একাডেমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিবাবকবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা ঠিকাদার সমিতির বার্ষিক বনভোজন ও নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে গোলাম কিবরিয়া বড় মনিকে সভাপতি এবং এম আর খান টুটুলকে সাধারন সম্পাদক করে এ কমিটি গঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) গাজিপুরের শিল্পী কুঞ্জ রিসোর্টে সর্বসম্মতিক্রমে আগামী দুই বছরের জন্যে এ কমিটি গঠিত হয়। একই সাথে আগামী তিন মাসের মধ্যে পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বাবু সুভাষ চন্দ্র সাহা। উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ তারেক পুলু। এছাড়াও জেলার সকল সরকারী বিভাগের তালিকাভুক্ত ঠিকাদারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশে ব্যপক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। সারাদেশের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এই উন্নয়নে ঠিকাদারদের ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের ঠিকাদাররা অত্যন্ত সততার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করছে।
বনভোজনে অংশ নেন, টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, আমি ঠিকাদারদের শুধুমাত্র ঠিকাদার মনে করিনা। ঠিকাদার হলো দেশের উন্নয়নের গুরুত্বপুর্ন সহযোগী অংশ। দেশের উন্নয়নে ঠিকাদারদের ব্যপক ভূমিকা রয়েছে। প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা দরকার।
ঠিকাদার সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনি বলেন, আমি দায়িত্বে থাকাকালীন আমার সর্বোচ্চ দিয়ে ঠিকাদারদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আগামীতেও আমি এভাবেই সকলের সেবা করে যেতে চাই।
নবনির্বাচিত সাধারন সম্পাদক এম আর খান টুটুল বলেন, ঠিকাদারদের স্বার্থ সংরক্ষন করাই সমিতির উদ্দেশ্য। আমি যতদিন দায়িত্বে আছি সকল ঠিকাদারদের সাথে নিয়ে এ স্বার্থ সংরক্ষন করে যাবো।
এদিকে টাঙ্গাইল জেলা ঠিকাদার সমিতির বার্ষিক বনভোজনে গাজিপুরের শিল্পী কুঞ্জ রিসোর্ট যেন এক মিলন মেলায় পরিনত হয়েছিল। জেলার ঠিকাদার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্যে ছিল দিনব্যাপী নানা আয়োজন। মধ্যাহ্নভোজ ছাড়াও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যাফেল ড্র ছিল আয়োজনের সেরা আকর্ষন।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গুল্লা এলাকায় ট্রাক চাপায় এক পুলিশের এসআই নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৯ মার্চ) দুপুরে মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার গুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মো. ইউনুস আলী উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসাবে কেরানীগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মো. ইউনুস আলী কেরানীগঞ্জ থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত থাকার পূর্বে তিন বছর টাঙ্গাইল থানায় কর্মরত ছিলেন। সে সুবাধে তার পরিবারের সদস্যরা পূর্বের বাসা টাঙ্গাইল মডেল থানার পাশেই বসবাস করেন। গত কয়েক দিন পূর্বে তিনি ছুটিতে আসেন। শনিবার দুপুরে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য মোটসাইকেল যোগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তিনি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহসড়কের বাসাইল উপজেলার গুল্লা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌছালে পিছন থেকে দ্রুত গতির একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমীন জানান, ঘাতক ট্রাক ও চালককে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ ।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে গোড়াই হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মার্চ) রাতে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মাসুদ রানা (৩৫) পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে বুধবার মামলা হলে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মাসুদ পেশায় একজন ভ্যানগাড়ি চালক। প্রায় মাস দুয়েক আগে মাসুদ ভ্যানে করে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নির্জন বনে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে একাধিকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পেটের ব্যথায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বুধবার সকালে শিশুটি তার পরিবারকে সব ঘটনা খুলে বললে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মাসুদ রানার বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।
শিশুটির মা বলেন, যে আমার অবুঝ মেয়েটির ক্ষতি করেছে, তার উপযুক্ত বিচার হোক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা জানান, অভিযোগ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর শিশুটিকেও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) জেলা প্রশাসন, জেলা আওয়ামীলীগ, ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালনের মধ্যে দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
দিনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল- পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও শহিদ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতি ও মুর্যালে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, আবৃত্তি, রচনা, চিত্রাংকন, সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, ডকুমেন্টারি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত ইত্যাদি।
জেলা প্রশাসনের পক্ষে জনসেবা চত্বরে রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের পক্ষে চেয়ারম্যান একুশে পদকপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষে জেলা কার্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ক্যাম্পাসে উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেন বঙ্গবন্ধু ও শহিদ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়া জেলা পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক। বরেণ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান আনছারী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ওলিউজ্জামান, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।
শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আসন্ন রমজানে বাজার পরিস্তিতি ও খাদ্য বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ মার্চ) সকালে কনজুমারস এসোনিয়েশন টাঙ্গাইল জেলা শাখার আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সন্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো.ওলিউজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দীন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এড. জাফর আহমেদ ও জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মো.সিকদার শাহীনুর আলম।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন কনজুমারস এসোসিয়েশন টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মন্জু রানী প্রমানিক, সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল, কৃষি বিপননীর কর্মকতা ফারজানা আক্তার ও পার্ক বাজার সমিতির সভাপতিসহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তারা।
এসময় বক্তারা বলেন, আসন্ন রমজান উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বক্তারা আরও বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী ভালো নেই। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে আকাশ ছুঁয়েছে, তাতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। এপরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ভোক্তার জন্য বাজার করা আর্থিক ও মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আলোচনা করেন মতবিনিময় সভার বক্তারা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আওতায় ভেজালরোধে তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে মুড়ির মোড়কে মেয়াদ ও মূল্য উল্লেখ না করা, আয়োডিন বিহীন ইন্ডাসট্রিয়াল লবণ ও মাত্রাতিরিক্ত ফিটকিরি ব্যবহার করা এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি তৈরি করায় সুশীল শংকর মদক নামে এক মুড়ি ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার নারান্দিয়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন- জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহাকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম। অভিযানে সহায়তা করেন- টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি জেলা স্যানিটারী পরিদর্শক মো. আনোয়ারুর ইসলাম।
শিকদার শাহীনুর আলম বলেন, প্রস্তুতকৃত মুড়ির প্যাকেটের মোড়কে মেয়াদ ও মূল্য উল্লেখ না করা, আয়োডিন বিহীন ইন্ডাসট্রিয়াল লবণ ও মাত্রাতিরিক্ত ফিটকারী ব্যবহার করা, নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যত্রতত্রভাবে মুড়ি তৈরি করায় নারান্দিয়া এলাকায় ভেজালরোধে অভিযান চালিয়ে শিব শংকর মুড়ি মিলের এক মুড়ি ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের চকতৈল আলহাজ্ব কাজী আব্দুস ছালাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেনের অপসারণ ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সোমবার (৪ মার্চ) দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। মানববন্ধনে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম যোগদানের পর থেকে অনিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন। তিনি কোন শ্রেণীর ক্লাশ নেননা। এছাড়াও তিনি যোগদানের পর বিদ্যালয়ে কোন প্রকার ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেননি। এছাড়াও বিদ্যালয়ের বেতন ও অন্যান্য ফি নেওয়া হলেও তার নির্দেশে কোন রশিদ দেওয়া হয় না। বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত থাকেন না। তাই তার অপসারণের দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী শফিকুল হক জুয়েল বলেন, এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের পরিবার ও এলাকাবাসীর ভূমিকা আছে। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক অনিয়ম, অসৈৗজন্যমূলক আচরণসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তার কারনে বিদ্যালয়ে কোন ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিদ্যালয়ে তেমন উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, জেলা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাই প্রধান শিক্ষককে অপসারণসহ ম্যানেজিং কমিটির দাবি জানাচ্ছি।
প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম বলেন, একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকায় চার রেস্তোরাঁ মালিকদের দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান বিন মুহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট হাসান বিন মুহাম্মদ আলী জানান, অগ্নিকান্ড প্রতিরোধ ও নির্বাপকের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত পরিমান না থাকায় এবং ফায়ার লাইসেন্স না থাকায় পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের সুরুচি রেস্টুরেন্টকে এক লাখ টাকা, সুগন্ধা ও ঝাউবন রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার টাকা করে এবং সেফাত রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনেক রেস্তোরায় এলপিজি গ্যাস ঝুঁকিপূর্নভাবে ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তাদের সতর্ক করা হযেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি (কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট) ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১১জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা কেউ শঙ্কামুক্ত নন। আর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৭৫ জনকে। ফলে এধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে টাঙ্গাইল শহরবাসী।