আরমান কবীরঃ প্রায় ৮ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামের মোশাররফ হোসেন (৪০)।
তিনি আল খারিজ শহরের পাশে একটি কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ করতেন । কর্মরত অবস্থায় ইরানের মিসাইল হামলায় থেমে গেল তার জীবন সংগ্রাম।
রোববার (৮ মার্চ) সৌদি আরবের আল-খারিজ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে দেশটির সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে।
নিহত মোশাররফ হোসেন জেলার সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামের সূর্যত আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, নিহতের পরিবারে রয়েছে দুই ছোট ছেলে। বড় ছেলে মাহিম স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ছোট ছেলে মিহান প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। তিন বছর আগে মাত্র তিন মাসের জন্য ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। এরপর আবার ফিরে গিয়েছিলেন সংসারের হাল ধরতে। গতকালও মুঠোফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার।
স্ত্রী কবরী আক্তার বলেন, রাতে আমার সাথে কথা হয়েছিল। বলেছিলেন ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন, ছেলেদের জন্য কিছু কেনার জন্য। কিন্তু কে জানতো সেই কথাই হবে শেষ কথা। রাত প্রায় ৩টার দিকে খবর আসে— আমার স্বামী আর নেই।
মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। মা জহুরা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। ছোট ছেলে মিহান নানার কোলে বসে অবাক দৃষ্টিতে চারপাশের মানুষের কান্না দেখছে, হয়তো এখনো বুঝে উঠতে পারেনি,তার বাবা আর কোনো দিন ফিরবেন না।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও )আব্দুল্লাহ আল রনী। এ সময় তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন একটি ‘মিনি পেট্রোল পাম্প’-এর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার(৮ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে পাম্পটি বন্ধের পাশাপাশি মালিককে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল শহর সংলগ্ন বাসাখানপুর বাজারে আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি গত কয়েক মাস ধরে ‘এআর ট্রেডার্স’ নামক এই মিনি পেট্রোল পাম্পটি পরিচালনা করছিলেন। পাম্পটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। এছাড়া চলমান সংকটকালীন সময়ে এই পাম্পে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছিল এবং প্রতিটি মোটরসাইকেলে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছিল না।
সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, বাজার তদারকির অংশ হিসেবে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। সদর উপজেলার বাসাখানপুর বাজারে অনুমোদনহীনভাবে পাম্প গড়ে তুলে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির অপরাধে এআর ট্রেডার্সের মালিক আব্দুর রাজ্জাককে নগদ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসাথে পাম্পটির পেট্রোল বিক্রি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালে টাঙ্গাইলের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শাহিদা আক্তার এবং কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জলসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রোববার বিকেলে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়
আরমান কবীরঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উপদেষ্টা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সংবর্ধনা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কারণ একজন মানুষের শিক্ষাজীবনের মূল ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন গড়ে ওঠে প্রাথমিক স্তর থেকেই, আর সেই ভিত্তি নির্মাণের কাজটি করেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে যেভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গড়ে তুলতে পারেন, পরবর্তী স্তরে সেইভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয় না। তাই শিক্ষার্থীদের মৌলিক ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনাদের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি আমাদের ৩১ দফা কর্মসূচিতে উল্লেখ রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন স্কেলসহ অন্যান্য দাবি-দাওয়ার বিষয়েও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
‘আমার বিশ্বাস, আপনারা বর্তমানে যা পাচ্ছেন, ভবিষ্যতে তার চেয়েও বেশি সুবিধা পাবেন ইনশাআল্লাহ,’ যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃত কারিগর হচ্ছেন শিক্ষকরা। আপনারাই সমাজকে বদলে দিতে পারেন এবং সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা আপনাদেরই রয়েছে। শিক্ষকরা যখনই তাকে ডাকবেন, তিনি তাদের পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মাযহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম মাজহার।
এসময় বক্তব্য দেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু মোহাম্মদ শরীফ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নীতি নির্ধারণী পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল্যাহ সরকার, সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনির, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হক সানু এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও নেতৃবৃন্দ। ইফতার ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের ৩ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম আকুর টাকুর এলাকার লৌহজং নদীর পাড় থেকে সামনা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সে শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়া এলাকার আবুল কাশেমের স্ত্রী।
শনিবার (৭ মার্চ) সকালে শহরের লৌহজং নদীর পাড়ে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় সামনা বেগমের ভাগিনা শাওন তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে নদীর পারে তার মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নিহত সামনা বেগমের সঙ্গে তার ভাগিনা শাওনের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ ছিল।
এ বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের দেহের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের (ভিপি জোয়াহের) জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বেরবাড়ি গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।এর আগে সোমবার ভোরে ভারত থেকে সাবেক এই এমপির মরদেহ টাঙ্গাইলে এসে পৌঁছায়।
গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রবিবার রাতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়।
সোমবার দুপুর ১২টায় টাঙ্গাইল জেলা সদর হেলিপ্যাডে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ৩টায় সখীপুরের বেরবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক গোরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। জানাজায় বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও মাল্টি অর্গান ফেইলিওরসহ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর তিন দিন আগে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার পর তার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।
অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম টাঙ্গাইল আদালতের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ছিলেন। তিনি করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের দু’বারের নির্বাচিত ভিপি এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি ভারতে চলে যান। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক মামলা রয়েছে
আরমান কবীরঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বর্তমান যুগে আইসিটি সব চেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। আইটি সেক্টর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা অনেক জব ক্রিয়েট করতে চাই এবং ইন্টারনেট সকলের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিদের্শনা দিয়েছেন বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন এমনকি হাইস্পিড গাড়িগুলোকে ফ্রি ওয়াফাই ব্যবস্থা করার জন্য।
শুক্রবার(২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিদের্শনা দিয়েছেন তিনটি বড় বড় টেকপার্কে কিভাবে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি বিদেশ থেকে বিনিয়োগ করার জন্য। আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাবো। জনবান্ধব সরকার হতে চাই।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইলেও আমরা কিছু চাই। জেলার প্রতিটি উপজেলায় আইসিটি পার্ক করার কথা চিন্তা করতে পারি আমরা।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্তসহ সরকারি দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ জেলা পর্যায়ে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মুরগির মাংসসহ বিভিন্ন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যসামগ্রী বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।এরই অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে এই বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
শনিবার ( ২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন,কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন,সারাদেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, রমজানকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে প্রোটিনজাতীয় খাদ্য পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় বরদাস্ত করা হবে না।
এছাড়াও তিনি জানান, পোলট্রি শিল্প যেন টিকে থাকতে পারে সেজন্য খামারিদের সাথে বসে তাদের সমস্যাগুলো শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক সহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কোনো ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে জানিয়েছেন কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা যেভাবে দেখছি, আল্লাহর রহমতে সবকিছু ঠিকভাবেই আছে, কোনো ঘাটতি নেই। ইনশাআল্লাহ, আমরা তদারকির মাধ্যমে এগুলো সুন্দরভাবে ম্যানেজ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধকল্পে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাজার মনিটরিং সেল করা হয়েছে। যারা বাজারের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছেন, তারা কাজ করে যাচ্ছেন। আজকের মিটিংয়ে তারা বিস্তারিত উপস্থাপন করেছে। আশা করি, মনিটরিং এবং তদারকির মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে।’
সভায় জেলা প্রশাসক শরিফা হক সভাপতিত্বে ছিলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক সঞ্জয় কুমার মহন্ত এবং জেলা পর্যায়ের সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা।
আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিশাল ‘আখেরি মিছিল’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এর আগে বেলা সাড়ে ৩টা থেকেই পৌর উদ্যানে নেতাকর্মীদের জমায়েত শুরু হয়। পরে টুকুর নেতৃত্বে মিছিলটি নিরালা মোড়, মেইন রোড, থানার সামনে, বড় কালিবাড়ি, পুরান বাসস্ট্যান্ড ও রেজিস্ট্রিপাড়া ঘুরে পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়।
মিছিলে জেলা বিএনপি, মহিলা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও তাঁতী দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো। পুরো আয়োজনকে ঘিরে পুরো শহর উৎসবের নগরে পরিণত হয়।
মিছিলের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সারা টাঙ্গাইলের মানুষ আমাকে যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, তাতে আমি সবার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আজ থেকে আমি আমার এই জীবন টাঙ্গাইল সদরবাসীর জন্য উৎসর্গ করে দিলাম।
তিনি বলেন, আজকের উপস্থিতি প্রমাণ করে টাঙ্গাইলে ধানের শীষের বিকল্প কেউ নেই। টাঙ্গাইলের উন্নয়নের জন্য তিনি যে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছেন, জনগণের ভোটে বিএনপি নির্বাচিত হলে সেগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
টুকু বলেন, ১৪, ১৮ ও ২৪ সালে আমরা ভোট দিতে পারিনি। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াসহ অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমি নিজেও পাঁচ বছরের বেশি সময় কারাগারে থেকেছি, রিমান্ডে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এত শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।
দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, তিনি কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না এবং নিজেও কোনো অন্যায় করবেন না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, ধানের শীষ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতীকই নয়, এটি দেশের মানুষের প্রতীক। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের বিজয় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের শেষ নির্বাচনী প্রচারণা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যান টাঙ্গাইল সদরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনী প্রচারণা মিছিল এসে পৌর উদ্যানে সমাবেত হয়।
পরে একটি বিশাল ও বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৌরউদ্যানে এসে শেষ হয়।
মিছিল পূর্ব সমাবেশে অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন,টাঙ্গাইলবাসীর ভালোবাসা ও সমর্থনে আমি অভিভূত। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ও পৌর সভার ১৮টি ওয়ার্ড থেকে থেকে আপনারা আখেরী মিছিলে অংশ নিতে এসেছেন—এ জন্য আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি আরও বলেন,আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে টাঙ্গাইলকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ শহর হিসেবে গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।
এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী পক্ষ বহিরাগতদের টাঙ্গাইলে প্রবেশ করিয়ে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ফরহাদ ইকবাল বলেন,আমার নেতাকর্মীদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করা হচ্ছে। তবে কেউ ভয় পাবেন না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমেই জনগণ এসব অপশক্তির জবাব দেবে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান আলীম, সদর থানা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান সোহেল সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে টাঙ্গাইলে এমনভাবে পর্যটনশিল্প গড়ে তোলা হবে, যাতে আর চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার যেতে না হয়; বরং পর্যটকরাই টাঙ্গাইলে আসবেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের খোলাবাড়ি মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামী দিনে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ‘ভোট দেব ধানের শীষে, দেশ গড়ব মিলেমিশে’ স্লোগান বাস্তবায়নে তিনি কাজ করবেন। তিনি জানান, সম্প্রতি টাঙ্গাইলে নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমানের কাছে টাঙ্গাইলের উন্নয়নে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। তারেক রহমানও সব দাবি পুরণের আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইল সদরের একজন মানুষও যাতে বেকার না থাকে, সেভাবেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। টাঙ্গাইলে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা গেলে দেড় থেকে দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এর অন্তত অর্ধেক চাকরি সদর উপজেলার মানুষের হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এতে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
চরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে টুকু বলেন, যমুনা তীরবর্তী এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর সেখানে একটি সুন্দর পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এতে অতিরিক্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তখন চরের মানুষকে আর চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার যেতে হবে না; বরং বাইরের মানুষই টাঙ্গাইলে ভ্রমণে আসবে।
বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে টুকু বলেন, গতকাল একটি দলের প্রধান টাঙ্গাইলে এসেছিলেন, যাদের নাম জামায়াতে ইসলাম। কিন্তু টাঙ্গাইলের উন্নয়ন নিয়ে একটি কথাও বলেননি। জনগণের জন্য কী করতে চান, সেটাও স্পষ্ট করেননি তারা।
তিনি বলেন, মা-বোনদের কোরআন হাতে দিয়ে তারা ভোট চাইছে। ইমানদার লোক কখনো এমন করতে পারে না। এরা স্বাধীনতাবিরোধী, তাদের কর্মকাণ্ডও ইসলামবিরোধী। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেছেন, নীল নদের পানি যেমন নীল নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়।
টুকু আরও বলেন, টাঙ্গাইলকে সন্ত্রাস, কিশোরগ্যাং ও মাদকমুক্ত একটি নিরাপদ নগরে পরিণত করতে তিনি কাজ করবেন। যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তোলা হবে বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আরমান কবীরঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল–৫ (সদর) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে। উঠান বৈঠক মতবিনিময় সভা সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গণসংযোগে অংশ নিয়ে ভোটারদের নানা সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনছেন তারা।এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সাংগঠনিক সক্ষমতা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তার প্রচারণাকে ঘিরে পুরো আসনজুড়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা।এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নের পাশাপাশি টাঙ্গাইলের সার্বিক উন্নয়ন ও রূপান্তরের লক্ষ্যে নিজের ২৩ দফা উন্নয়ন অঙ্গীকার জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সম্প্রতি এসব অঙ্গীকার প্রকাশের পর ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নকে নিরাপদ মাদকমুক্ত,চাঁদাবাজমুক্ত ও আধুনিক একটি ‘মডেল টাঙ্গাইল’হিসেবে গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার করেন তিনি।তার ঘোষিত ২৩ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যমুনা নদীর স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ মাহমুদনগরে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ টাঙ্গাইলকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলা এবং টাঙ্গাইলকে শিক্ষার নগরীতে রূপান্তর।এর আগে এক নির্বাচনী জনসভায় টাঙ্গাইল সদরের উন্নয়নে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন টুকু। ওই জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান এসব দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাত দফা দাবির সঙ্গে ২৩ দফা উন্নয়ন অঙ্গীকার যুক্ত হওয়ায় টাঙ্গাইলের উন্নয়ন ইস্যু নতুন মাত্রা পেয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টুকু বলেন, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়ন আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং শহর ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।যুব সমাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি আইটি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং ব্যবসা সহজীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি।বিএনপির ৩১ দফার আলোকে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা প্রদান সবার জন্য ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবা সহজ করতে ওয়ান কল সার্ভিস চালুর অঙ্গীকারও করেন এই বিএনপি নেতা।চাঁদাবাজমুক্ত টাঙ্গাইল গড়ে তোলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে টাঙ্গাইলকে একটি আধুনিক নিরাপদ ও উন্নত জনপদে রূপান্তর করা হবে।