একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মায়ের সাথে অভিমান করে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (৩০ জুন) সকালে পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের প্যাড়াড়াইস পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত পরীক্ষার্থীর নাম শুভ ঘোষ(১৭)। সে দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের নয়ার চর গ্রামের লিটন ঘোষের ছেলে। লিটন ঘোষ প্যাড়াড়াইস পাড়া এলাকার প্রবাসী আব্দুল করিমের বাসায় ভাড়া থাকেন।
শুভ ঘোষ এ বছর সন্তোষ মওলানা ভাসানী আদর্শ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে শুভ তার মা আলো ঘোষের কাছে পরীক্ষার খরচ বাবদ ১৫ শত টাকা চায়। এই নিয়ে মা ও ছেলের মধ্যে মনোমালিন্যের তৈরি হয়। পরে আলো ঘোষ সকালের নাস্তা তৈরি করতে রান্না ঘরে চলে যায়। আর শুভ গোসল করতে বাথরুমে ঢুকে। প্রায় আধা ঘন্টা পর শুভ মা আলো ঘোষ রান্না ঘর থেকে এসে শুভর শোবার ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখে, বাইরে থেকে ডাক-চিৎকার শুরু করে। এ সময় শুভর কোন রকম সাড়া-শব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে শুভকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। স্থানীয়দের সহায়তায় গামছা কেটে নামিয়ে দ্রুত শুভকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
রবিবার সন্ধ্যায় কাগমারী রানী দীনমনি মহাশ্মশানে শুভর মরদেহ দাহ করা হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিবারের অনুরোধে ও কোন অভিযোগ না থাকায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী শুভ ঘোষের মরদেহ ময়না তদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুভ ঘোষ এর অকাল মৃত্যুতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ইসতিয়াক আহম্মেদ রাজীব ও ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুন জামান সজল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মো. খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেলের দুর্নীতির সংবাদ করতে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকরা সাব-রেজিস্ট্রার কতৃক তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিস কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে সাব-রেজিস্ট্রার মো. খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেলের পক্ষে কর্মচারী আরতি রানীর ১২ লাখ টাকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বপক্ষে বক্তব্য নিতে গেলে সাব রেজিস্ট্রার খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেল দরজা বন্ধ করে দিতে বলেন। এর প্রতিবাদে সাংবাদিকরা তার এজলাসের সামনে অবস্থান গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় কালিহাতীতে কর্মরত সকল সাংবাদিক কালিহাতী প্রেসক্লাব ও কালিহাতী রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যরা একাত্মতা ঘোষণা করে অবস্থান নেন।
সাংবাদিকরা জানান, সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারী আরতি রানীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তার স্বপক্ষে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গেলে সাব রেজিস্টার খাইরুল বাশার ভূইয়া পাভেল উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনারা এখানে প্রবেশ করেছেন কেন? মন্ত্রনালয়ের লিখিত অনুমতি নিয়ে আপনারা এখানে প্রবেশ করবেন। এক পর্যায়ে সাব-রেজিস্ট্রার জানান, আপনারা দলিল চুরি করতে এসেছেন। এছাড়াও রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধন হতে পারে বলে তিনি হুমকি দেন।
এক পর্যায়ে কর্মচারীদের গেইট বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরে তার নির্দেশ মোতাবেক কর্মচারীরা গেইট বন্ধ করে দেয়। ফলে উপস্থিত সাংবাদিকরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পরে গেইট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু উপস্থিত সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদে সাব-রেজিস্ট্রারের এজলাসের সামনে অবস্থান নিয়ে বসে পড়েন।
পরে বিকেলে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদের পরামর্শক্রমে কালিহাতী প্রেসক্লাবের সভাপতি রঞ্জন কৃষ্ণ পন্ডিত ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্য মামুনুর রহমান মিয়া মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এই কর্মসূচির সমাপ্ত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে কালিহাতী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মুশফিকুর মিল্টন বলেন, চরম দুর্নীতিবাজ সাব-রেজিস্টার খাইরুল বাশার ভূইয়া পাভেল এ ঘটনায় ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত এবং তার শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
কালিহাতী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এম এম হেলাল বাদশা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার দেশবরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা, সংগঠক, সাহিত্যিকদের সমৃদ্ধ কালিহাতী থেকে অভদ্র, অশোভন সাব-রেজিস্টারের প্রত্যাহার ও শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সকল স্বেচ্ছাসেবী এবং সুশীল সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে ঘোষণা দেন।
এর পূর্বে মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় নিজস্ব কার্যালয়ে সাব-রেজিস্ট্রার মো. খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেলের প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন কালিহাতী দলিল লেখক কল্যাণ সমিতি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে চারদিন অবস্থানের পর প্রেমিকা শান্তা আক্তার (২৩) নামে এক সন্তানের জননী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলা খালুয়াবাড়ী গ্রামে প্রেমিক সোহাগের ঘরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগীর প্রেমিক সোহাগ পলাতক রয়েছেন।
প্রেমিক সোহাগের মা ছোবুরা বেগম ও বাবা নুরুল ইসলামকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে কালিহাতী থানার এসআই মিন্টু চন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন।
মৃত শান্তা আক্তার কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অলুয়া গ্রামের মোখলেছুর রহমানের মেয়ে। তার একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে।
প্রেমিক সোহাগ (২৪) কালিহাতী উপজেলা খালুয়াবাড়ী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, প্রায় বছর খানিক আগে মোবাইলে ফোনে সোহাগের সঙ্গে পরিচয় হয়। এর পর থেকে তাদের দুজনের মোবাইল ফোনে কথা হয়। কথা বলার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যান তারা। এ সময় বিয়ের আশ্বাসে তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরে বিয়ের জন্য ওই নারী সোহাগকে চাপ দিতে থাকেন। তখন নানা তালবাহানা শুরু করেন সোহাগ। এছাড়াও তার কাছ থেকে সোহাগ দুই লাখ টাকাসহ তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি স্থানীয় মাতাব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি শান্তা আক্তার। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে শনিবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে প্রেমিক সোহাগের টিনসেড বাড়ির একটি ঘরে প্রবেশ করেন শান্তা। পরে ওই ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে।
কালিহাতী থানার এসআই মিন্টু চন্দ্র ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে । ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হবে। নিহতের স্বজনদের জানানো হয়েছে। স্বজনরা আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর পুকুর থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৭ জুন) রাতে উপজেলার কালিয়ানপাড়া তেঁতুলিয়াচালা এলাকায় বাড়ির পাশে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত গৃহবধূর নাম বিউটি আক্তার (৪০)। তিনি একই গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী।
নিহত গৃহবধূর ভাইয়ের দাবি, তাঁর বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলা হয়েছে।
নিহত গৃহবধূর বড় ভাই মাসুদ করিম দাবি করেন, ‘আমার বোনকে তার স্বামী বছরখানেক আগেও বেদম মারপিট করেছিল। ওই সময় বোনকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। আমার ধারণা, বোনকে তারা পরিকল্পিতভাবে মেরে লাশ গুম করার জন্য পুকুরে ফেলে।’
নিহতের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৬ জুন) সকালে গৃহবধূ বিউটি আক্তার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। ওই দিন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার সন্ধ্যার দিকে কালিয়ানপাড়া তেঁতুলিয়াচালা এলাকায় বাড়ির পাশে পুকুরে মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয় লোকজন। রাতে পুলিশ এসে গৃহবধূ বিউটির লাশ উদ্ধার করে। মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত গৃহবধূর স্বামী মিজানুর রহমানের দাবি, তাঁর স্ত্রী বিউটি আক্তার মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। নিখোঁজের পর সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় তাঁর স্ত্রীর মরদেহ পাওয়া গেছে। তাঁদের দুই মেয়ে আছে।
সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রভাষ কুমার বসু বলেন, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে এটা হত্যা না অপমৃত্যু, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
একতার কণ্ঠঃ টানা ২৯ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয় ভবনে কোচিং বাণিজ্য, উপবৃত্তির আবেদনের নামে টাকা নেওয়া, শিক্ষার্থী কমে যাওয়া, মাধ্যমিক পাশ করা পছন্দের ব্যক্তি টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেনকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনয়ন দেওয়াসহ গুরুত্বর অসংখ্য শিক্ষা নৈরাজ্যের অভিযোগ রয়েছে ভারপ্রাপ্ত ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এরপরও উচ্চ আদালতে পদ বহাল রাখার মামলা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল নামের ওই শিক্ষক।
পদটি বহাল রাখতে উচ্চ আদালতে নিজে বাদি হয়ে মামলা করে দায়িত্ব পালন করছেন রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। মামলাটি চলমান থাকায় অসংখ্য অভিযোগ সত্ত্বেও তাকে বদলী করতে পারছেন না বলেও জানান তারা।
যদিও ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়-২ শাখার জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে নূন্যতম স্নাতক ডিগ্রীধারী ব্যক্তি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমান সভাপতি টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচ.এস.সি পাশ বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার ওয়েবসাইটে পৌর পরিষদের মেয়র ও কাউন্সিলরগণের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখা থাকলেও টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেনের মোবাইল নম্বর ব্যতিত অন্য কোন তথ্য দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়ার বিধান থাকলেও এ বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই রয়েছে বঞ্চিত। অপরদিকে উপবৃত্তির আবেদনের নামে ৫০ থেকে ৩’শ টাকা ফি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, ১৯৯৪ সালে ৪২ শতাংশ জমির উপর টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নে স্থাপিত হয় অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৫ সালের ১১ মার্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল। তৎকালিন সময়ে এটি ছিল কমিউনিটি বিদ্যালয়। কিছুদিন পর এটি রেজিস্টার ও ২০১৩ সালে হয় জাতীয়করণ। বর্তমানে এর ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১১২জন। এর মধ্যে ৫ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে ২৬ জন। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ রয়েছেন চার জন সহকারি শিক্ষক।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ সালে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় দ্বিতল বিশিষ্ট অতিরিক্ত একটি শ্রেণী কক্ষ নির্মাণ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। আছে পাকা একটি সৌচাগারও। নেই পানিপানের কোন টিউবওয়েল। কোন এক সময় টিউবওয়েল থাকলেও স্মৃতি স্বরূপ এখন রয়েছে শুধু পাইপ।
ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, প্রায় তিন বছর যাবৎ আমাদের স্কুলের টিউবওয়েল নষ্ট হয়েছে। পানির অভাবে আমাদের ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। অন্যের বাড়িতে গিয়ে পানি খাই আমরা। এছাড়া আমাদের অনেকেই উপবৃত্তি পাচ্ছেনা। কাজল স্যারও প্রতিদিন স্কুলে আসেন না বলে জানায় তারা।
দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী নুসরাত, তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সামিরা, তানিসা আক্তার, জাকিয়া, চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী লামিয়া, জুঁই, ইব্রাহিম, শাহিন আলম,পঞ্চম শ্রেণীর সিহাব, সিয়ামসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে রয়েছে বঞ্চিত।
পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র রিফাতের মা বলেন, উপবৃত্তির জন্য ৫০ টাকা নিয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাজল মাস্টার। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত আমার ছেলে উপবৃত্তির টাকা পেলেও গত তিন বছর যাবৎ পাচ্ছেনা। কেন উপবৃত্তির টাকা আসছেনা জানতে গেলে স্যার শুধু বলেন আসবোনি।
৩য় শ্রেণীর ছাত্রী জাকিয়ার নানী ও অলোয়া গ্রামের শেরিনা বলেন, উপবৃত্তির জন্য আমার ও জাকিয়ার নানার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপিসহ জন্ম নিবন্ধনের জন্য কাজল স্যার আমার কাছ থেকে ২’শ টাকা নিয়েছেন। এরপরও আমার নাতনী উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছেনা।
চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র আহাদ এর বাবা সবুজ মিয়া বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে উপবৃত্তি পেলেও তৃতীয় আর চতুর্থ শ্রেণীতে উপবৃত্তি পায়নি। কেন পাচ্ছে জানতে চাওয়ায় কাজল স্যার আমার কাছে ইংরেজী ও বাংলা জন্মসনদ দাবি করেন। জন্মসনদ দেওয়ার পরও উপবৃত্তি পাচ্ছেনা আমার সন্তান। এখন স্যার বলেছেন এটি দেলদুয়ার প্রাথমিক অফিসের সমস্যা।
নাহিদ, জিহাদসহ একাধিক ৫ম শ্রেণীর ছাত্ররা জানায়, মাসে ৩’শ টাকা নিয়ে তাদের বিদ্যালয় ভবনে কোচিং করাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল। মোট ২৬জন ছাত্র-ছাত্রী পড়ছে এই কোচিং এ। সকাল ৬ টা থেকে ৮টা পর্যন্ত তাদের পড়ানো হচ্ছে। এছাড়া সাড়ে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত স্কুলে ক্লাস করে তারা।
অভিভাবক রিনা বলেন, টিউবওয়েল নেই, পায়খানায় তালা দিয়ে রাখাসহ বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করানোর পাশাপাশি ঠিক মত পড়াশোনা করানো হয়না। প্রতিবাদ ও বক্তব্য দেয়ার কারণে আমাদের সন্তানদের সমস্যা করবেন কাজল মাস্টার বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
জীবন সুত্রধর বলেন, ইউনিয়নের স্থায়ি লোক ছাড়া স্কুলে চাকুরি দেয়া হবেনা নিয়োগে এমন শর্ত ছিল সে সময়। কাজল মাস্টারের বাড়ি পৌরসভার অংশে পরায় চাকুরিটা হচ্ছিলানা তার। এ কারণে কাজল মাস্টার আমার বাবা প্রয়াত তারাপদ সুত্রধরের কাছে অনুরোধ করে ও টাকা ছাড়া পাথরাইল ইউনিয়নের অলোয়া তারিনীর তিন শতাংশ জমি লিখে নিয়ে স্থায়ি ঠিকানা দেখায়। চাকুরি পাওয়ার পর জমিটি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন কাজল মাস্টার। চাকুরি পেয়ে এখন জমিটি ফিরিয়ে দেয়ার কথাই বলছেননা। কাজল মাস্টার একজন প্রতারক। জমি লিখে নেয়ার বিষয়টি গ্রামের সকল মানুষই জানে বলে জানান তিনি। জমিটি ফিরে পেতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ শিক্ষা বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
স্থানীয় মাতাব্বর জুলহাস বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল ও সহকারি শিক্ষক কোরবান আলী এক হয়ে স্কুলে অনিয়ম ও দূর্নীতির স্বর্গ রাজ্য গড়ে তুলেছেন। উপবৃত্তির আবেদনের নামে টাকা নেয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের কারণে দিনদিন স্কুলের মান নিচের দিকে যাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা এখনও স্কুলের নামটিই ঠিক মত বলতে পারেনা, স্কুলের নাম বলে কাজল মাস্টারের স্কুল। ইতোপূর্বে আমরা তাদের অনিয়ম ও দূনীতির প্রতিবাদে লিখিত অভিযোগ করেছি, কিন্তু এরপরও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা হয়নি।
তিনি বলেন, এই স্কুলে চাকুরি নেয়ার জন্য পাথরাইল ইউনিয়নের স্থায়ি বাসিন্দা হওয়ার শর্ত ছিল। তবে কাজল মাস্টারের বাড়ি ছিল পৌরসভা এলাকায়। চাকুরি পেতে তিনি প্রয়াত তারাপদ সুত্রধরের কাছে অনুরোধ করে ও টাকা ছাড়া তিন শতাংশ জমি লিখে নিয়ে স্থায়ি ঠিকানা বানায়। চাকুরি পাওয়ার পর জমিটি ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল কাজল মাস্টার, কিন্তু চাকুরি পেয়ে এখন তার সন্তানদের জমিটি ফিরিয়ে দিচ্ছেননা তিনি।
তিনি আরও বলেন, কাজল মাস্টার নিজের পছন্দের লোকজন নিয়ে পরিচালনা কমিটি করে দূর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত তার অপসারণ ও সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
দিনদিন ছাত্র ছাত্রী কমে যাওয়ার কথা স্বাীকার করে ১৯৯৫ সাল থেকে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত কোরবান আলী বলেন, এর আগে আমাদের বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রী ছিল ১৮৫জন। এরপর কমে গত বছর হয় ১৩৫জন আর এখন আছে ১১২জন। পাশাপাশি অলোয়া তারিনী নূরাণী হাফিজিয়া মাদরাসা ও নতুন কূড়ি কিন্ডার গার্ডেন গড়ে উঠায় ছাত্র ছাত্রী কমছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের জামিদাতা ও পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি দশ বছর যাবৎ এ বিদ্যালয়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। আমি সভাপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জানতে পারি টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারুককে সভাপতি বানানো হয়েছে। কিভাবে আর কাদের নিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠণ করা হয়েছে, সেটি আমি বা স্থানীয় কেউই জানেন না।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল বলেন, মামলা চলমান থাকায় ২৯বছর যাবৎ আমি এ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সাক্ষাতে আপনার চাওয়া সকল তথ্য আমি দিব বলে আর যোগাযোগ করেননি।
একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলেও বিদ্যালয়ের সভাপতি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেন ফোন রিসিভ করেননি।
দেলদুয়ার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গৌড় চন্দ্র বলেন, আমরাও ওই শিক্ষকের অপকর্মের বেশ কিছু সংবাদ দেখেছি। তবে উচ্চ আদালতে উনার করা স্ব পদে বহাল রাখার একটি মামলা চলমান থাকায় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছিনা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিষয়টি আমি দেখবো এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে অবগত করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বনিক জানান, উচ্চ আদালতে স্ব পদে বহাল রাখার জন্য করা তার একটি মামলা চলমান থাকার সুযোগ নিয়ে রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এতদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওই মামলার কারণে উনাকে বদলীও করা যাচ্ছেনা।
তিনি বলেন, তবে উনার বিরুদ্ধে নানা ধরণের অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় শিক্ষকদের মানহানী হচ্ছে। শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করাসহ অনিয়মের বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে জমি সংক্রান্তে বিরোধের জের ধরে মসজিদে মাইকিং করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এঘটনায় মনোয়ারা বেগম (৫০) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এসময় দু’পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১২ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের স্থলবল্লা গ্রামের উত্তরপাড়া ও দক্ষিণপাড়ার লোকজনের সাথে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ অবস্থান করছে।
নিহত মনোয়ারা বেগম স্থলবল্লা উত্তরপাড়ার শওকত মিয়ার স্ত্রী। আহতদের মধ্যে উত্তরপাড়ার ১০জন ও দক্ষিণপাড়ার ৫জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উত্তরপাড়ার মিনহাজ উদ্দিন (৩৭) ও বিল্লাল (৫৫) নামের দুইজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের স্থলবল্লা উত্তরপাড়ার শুকুর, জালাল, কালাম ও বিল্লালের সঙ্গে একই গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আনু, সেলিম, শফি, এনামুল হক ও রাসেলদের জমি-জমা নিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে।
সেই বিরোধের জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার(১১ জুন) বিকেলে গরুর হাট থেকে ফেরার সময় উত্তরপাড়ার জহিরুল, আয়নাল, আলাল, মজিবর ও ঠান্ডুর পথরোধ করে দক্ষিণপাড়ার এনামুল হক, আনু, রাসেল, বাদল, সেলিম সানাউল্যা ও সানুসহ কয়েকজনে। এসময় এনামুল হকসহ তারা কয়েকজনে উত্তরপাড়ার জহিরুলকে মারধর করে। পরে বুধবার সকালে মসজিদে মাইকিং করে দা, ফালা, টেটাসহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে উত্তরপাড়ার আনোয়ারের বাড়িতে হামলা চালায় দক্ষিণপাড়ার লোকজন। এসময় উত্তরপাড়ার লোকজনে প্রতিহত করতে গেলে দুপক্ষের মাঝে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সংঘর্ষ ফেরাতে গিয়ে মাথায় দেশির অস্ত্রের আঘাতে মনোয়ারা বেগম নামের ওই নারীর মৃত্যু হয়। এসময় দুপক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। ঘটনার পরপরই পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহতের ছোট ভাই হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে উত্তরপাড়ার জহিরুল, আয়নাল, আলাল, মজিবর ও ঠান্ডু গরুর হাট থেকে ফেলার সময় দক্ষিণপাড়ার এনামুল হক, আনু, রাসেল, বাদল, সেলিম, সানাউল্যা ও সানুসহ কয়েকজনে মিলে তাদের পথরোধ করে। এসময় কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে বুধবার বিকেলে আবার দক্ষিণপাড়ার লোকজনেই মসজিদে মাইকিং করে উত্তরপাড়ায় হামলা চালায়। আমার বোন ঝগড়া ফেরাতে গিয়েছিল। এসময় মাথায় ফালার আঘাতে আমার বোন মনোয়ারা গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আমি নিজেও মাথায় আঘাত পেয়েছি। এসময় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আমার বোন হত্যার বিচার চাই।’
বাসাইল থানার এসআই মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিহতের লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে আছি। এ ঘটনায় দু’পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।’
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ আতিক বলেন, ‘হাসপাতালে একজনের মরদেহ রয়েছে। আহত অবস্থায় কয়েকজনে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মাদক বিরোধী অভিযানে মো. আফজাল শরীফ (৩৯) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার (৯ জুন) দুপুরে পৌর শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আফজাল শরীফ কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার পাছ চিনামুড়া গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এইচএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দুপুরে পৌর শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী মো. আফজাল শরীফকে ৫ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ ধৃত আফজাল শরীফকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা জরিমানা করেন।
তিনি আরও জানান,পরে দন্ডিত আফজালকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
অভিযানকালে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল হাবিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে নিবার্চন পরবর্তী সহিংসতায় একবৃদ্ধাসহ ৫ জন আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের নাকাছিম পূর্বপাড়া গ্রামে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
সহিংসতায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ চন্দ্র সরকার, ননী গোপাল সরকার , মিনতি রানী সরকার,বাসন্তী রানী সরকার এবং আশি বছরের বৃদ্ধা সুর্য্যমনী রানী সরকার গুরুত্বর আহত হন। এ ঘটনায় ওই রাতেই দিলীপ চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে বাসাইল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী কাজী শহীদুল ইসলামের সমর্থক কাশিল গ্রামের শমশের খানের ছেলে আলমগীর, মনির হোসেনের ছেলে ফরিদ হোসেন, শাহাদত মিয়ার ছেলে তুষার মিয়া, বিয়ালা গ্রামের জামাল ভূইয়ার ছেলে আরিফ ভূইয়া ও ফয়সাল ভূইয়াসহ ১০/১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দিলীপ সরকারের বাড়িতে হামলা করে।
এসময় তারা আনারস প্রতীকের প্রার্থী কাজী অলিদ ইসলামের নিবার্চন করা এবং ভোট দেয়ায় তাদেরকে গালিগালাজ এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আতংকের সৃষ্টি করে । এ সময় শোবার ঘরে থাকা শোকেজের ড্রয়ার ভেঙে দুই ভরী স্বর্ণের গহনাসহ পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় রাতেই দিলীপ চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে আলমগীর, ফরিদ, তুষার, আরিফ, ফয়সালের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০/১৫ জনকে আসামী করে বাসাইল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, আমার নিবার্চন করায় কাজী শহীদ মুন্সির ভাতিজা, ভাগিনাসহ কতিপয় লোক এই হামলা করেছে। প্রশাসনের সকলের সাথে বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলেছি। তারা এই ঘটনার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বস্থ করেছেন। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করা না হলে বাসাইলের হিন্দু- মুসলমান সকলকে নিয়ে মানববন্ধনসহ আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
এ বিষয়ে পরাজিত প্রার্থী কাজী শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। গ্রেফতারের অভিযান চলমান আছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার সময় ৩ যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (৫ জুন) বিকাল পৌঁনে ৪ টার দিকে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের হাবলা দক্ষিণ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, মো. আব্দুল্লাহ মিয়া (২২), মো. রিদওয়ান আলী (২১) ও সিয়াম মিয়া (২৩)।
পরে এ নিয়ে কেন্দ্রের সামনে পুলিশ ও প্রার্থীর সমর্থকদের হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। আটককৃতরা আনারস প্রতীকের সমর্থক বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো.শফিকুল ইসলাম জানান, আটককৃতরা এর আগে সকালে ভোট দিয়েছিলো। ওরা ফের বিকাল সাড়ে ৩টার পর ভোট দিতে আসলে যাচাই বাছাই করে চ্যালেঞ্জ করলে ওই তিন যুবক জাল ভোট দিতে এসেছে বলে স্বীকার করে। পরে পুলিশে খবর দিলে তাদের আটক করে।
তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
প্রসঙ্গত, বুধবার ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে বাসাইল উপজেলা পরিষদে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপজেলার ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৩০জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৭৬ হাজার ১৯৮ আর পুরুষ ভোটার ৭৫ হাজার ৬৩১ জন। ১টি পৌরসভা ও ৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বাসাইল উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র ৫৮ টি। এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৭জন আর মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজের ৯ দিন পর বাড়ির পাশের ধানখেত থেকে বস্তাবন্দি দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩ মে) সকালে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চিতুলিয়াপূর্বপাড়া এলাকার একটি ধানখেত থেকে বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে ওই গ্রামের সুমন মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও নুরানী কিন্ডারগার্টেনের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নওশিন ইসলাম শর্মিলা (১০) গত ২৬ মে দুপুরে নিখোঁজ হয়।
ওই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে থানায় সাধারণ ডায়রি করেন শর্মিলার বাবা সুমন মিয়া।
এদিকে ধানখেতে শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবরে আশপাশের শত শত মানুষ দেখতে ভীড় করে। এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারসহ জেলার ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা।
নিহত শর্মিলার চাচা কাইয়ুম মিয়া বলেন, এটি শর্মিলার লাশ কি না আমরা এখনও শনাক্ত করতে পারিনি। লাশের অধিকাংশ পচে গেছে। কুকুর টানাটানি করে সমস্ত দেহ লন্ডভন্ড করে ফেলেছে। তবে তার পরনের লাল পায়জামার অংশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে এটিই শর্মিলারই মরদেহ।
নিহতের বাবা সুমন মিয়া বলেন, কারোর সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই। কেউ টাকা পয়সাও পায় না। মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর কেউ মুক্তিপণ বা টাকা চায়নি। বাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাইনি। সকালে বাড়ির পাশে ধানখেতে বস্তাবন্দি মরদেহ দেখে লোকজন খবর দেয়। এর আগে ওই বস্তাটি কুকুর টানাটানি করছিল। যে বা যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে তার বা তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ বলেন, বস্তাবন্দি একটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সৃষ্টি একাডেমিক স্কুল ক্যাম্পাস-২ এর আবাসিক ভবনের ৮ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এদিকে বলাৎকারের ঘটনার পরই ওই ক্যাম্পাসের আবাসিক গণিত বিষয়ের শিক্ষক প্রনয় সরকার পালাতক রয়েছে।
অভিযুক্ত প্রনয় সরকার জেলার ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের আনন্দ মোহন সরকারের ছেলে।
সোমবার (৩ জুন) বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পরই ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবী করেন। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ওই শিক্ষার্থীকে তার অভিভাবকগণ সৃষ্টি একাডেমিক স্কুল থেকে টিসি নিয়ে চলে যান।
জানা গেছে, জেলার বাসাইল উপজেলার এক প্রবাসীর ছেলেকে ৮ম শ্রেণীতে সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের আবাসিকে ভর্তি করা হয়। সম্প্রতি ওই আবাসিকের শিক্ষক প্রনয় সরকার রাতে শিক্ষার্থীকে তার রুমে নিয়ে বলাৎকার করেন। পরে ভবনে থাকা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাটি যাতে প্রকাশ না পায় এবং প্রকাশ পেলে ওই শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া মর্মে ভয় দেখানো হয়। এই ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক প্রনয় সরকার তার মায়ের অসুস্থ্যতা দেখিয়ে স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে আর বিদ্যালয়ে আসেননি।
এদিকে এই ঘটনার পরই ওই শিক্ষার্থী ভয়ে জুবুথুবু হয়ে পড়ে এবং তার পরিবারের সাথে কম কথা বলে। পরে গত রবিবার (২ জুন) বিষয়টি পরিবারকে জানায় সে। পরে সোমবার (৩ জুন) সকালে শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণ বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনার বিচার দাবী করেন। কিন্তু বিদ্যালয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক না থাকায় সৃষ্টি স্কুলের আবাসিক ভবনের প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান হ্যাপি কোন সদুত্ত্বর দিতে পারেননি। পরে ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে টিসি নেয় অভিভাবকগণ। এসময় বিদ্যালয় থেকে মিমাংসার প্রস্তাব দেয়াসহ ২৫ হাজার টাকা দিতে চাইলে তা গ্রহণ করেনি ওই শিক্ষার্থীর পরিবার।
বলাৎকারের শিকার শিক্ষার্থীর চাচা বলেন, ভাল লেখাপড়ার জন্য সৃষ্টির আবাসিকে ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষকই যখন শিক্ষার্থীর সাথে খারাপ কাজ করে তাহলে নিরাপদ কোথায়। ঘটনাটি আমাদের জানানো হয়নি। বিচার চাইলে কর্তৃপক্ষ তাল-বাহানা করে। মিমাংসার প্রস্তাব দেয়াসহ টাকা দিতে চেয়েছে। ওই শিক্ষকও পালিয়েছে। ছেলেটার সাথে খুবই অন্যায় হয়েছে। ছেলেটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কারোর সাথে তেমন কথা বলছে না। তার মনে ভয় কাজ করছে। আমরা আইনের আশ্রয় নিবো।
এবিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রনয় সরকারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সৃষ্টি একাডেমিকের স্কুল ক্যাম্পাস-২ এর আবাসিকের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান হ্যাপি জানান, বিষয়টি জানতে পেরেছি। কিন্তু ওই শিক্ষক ক্যাম্পাসে নেই। তার মায়ের অসুখ দেখিয়ে ছুটি নিয়ে আর বিদ্যালয়ে আসেনি। ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত।
এবিষয়ে জানতে সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের চেয়ারম্যান ড. শরিফুল ইসলাম রিপনের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
একতার কণ্ঠঃ ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার সাথে জড়িত, গ্রেপ্তারকৃত শিলাস্তি রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন তার দাদা বীরমুক্তিযোদ্ধা সেলিম মিয়া।
শনিবার (২৫ মে) দুপুরে শিলাস্তি রহমানের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া ইউনিয়নের পাইসানা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় পুরো বাড়ি ফাঁকা।
শিলাস্তিদের টিনের ঘরে তালা ঝুলছে। টিনের ঘরের পাশেই নির্মান করা হয়েছে দোতলা একটি বাড়ি। তবে তাদের বাড়ির ভেতরে নেই কোন আসবাবপত্র।
এসময় পাশের ঘর থেকে বেড়িয়ে আসেন শিলাস্তির দাদা সেলিম মিয়া।
তিনি জানান, দুই বোনের মধ্যে শিলাস্তি বড়। তার বাবা আরিফুর রহমান জুট ব্যবসায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করে। । ছোট বেলা থেকেই তারা ঢাকার উত্তরায় বসবাস করে। মাঝে মধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসলেও দুই একদিন পর আবার চলে যেত। শিলাস্তির চলাফেরা উশৃংখল এবং বাড়ির বাইরে দিনের পর দিন সময় কাটানোর কারণে তাদের সাথে কথা বলা বাদ দিয়েছেন সেলিম মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন।
এসময় সেলিম মিয়া তার নাতির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
তিনি বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি শিলাস্তি আসামী। যদি তিনি আসলেও জড়িত থাকেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করছি।
স্থানীয় লোকজন জানায়, শিলাস্তি রহমান ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকায় বসবাস করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই শিলাস্তি রহমানের দাদার সম্পত্তি তার বাবা আরিফুর রহমান বিক্রি করে ঢাকায় চলে যায়। বাড়িটা থাকলেও তারা কেউ এখানে তেমন একটা আসে না।
এ বিষয়ে নাগরপুরের ধুবরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান খান বলেন, ‘ওরা অনেক আগে থেকেই ঢাকায় থাকে। কেউ সঠিকভাবে বলতেও পারে না যে শিলাস্তি কোথাকার। এখন আমরা জানতে পারলাম যে তার বাড়ি নাগরপুরে। গতকাল (শুক্রবার) পর্যন্তও বিষয়টি জানতাম না।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শিলাস্তি নামের মেয়েটি নাগরপুরের- এমন কোনো তথ্য এখনও পাইনি। তার বিষয়েও আর কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত আমার কাছে নেই। জানলে জানাতে পারব।’