একতার কন্ঠঃ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের নতুন কমিটির অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের জেলা প্রতিনিধি মাছুদুর রহমান মিলনকে সভাপতি ও স্থানীয় দৈনিক কালের বার্তার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক তাইজুল ইসলাম টুটুলকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যের পূনাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির
সভাপতি মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন।
এ সময় কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আবুল বাশার মজুমদার ও মহাসচিব মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
জেলা কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সহ-সভাপতি আবুল কালাম সিদ্দিকী নিপু (দৈনিক জনতার কথা),শহিদুল ইসলাম খান রুমি, মির্জা মাসুদ রুবেল (মাইটিভি), আলামিন শোভন (আনন্দ টিভি)।
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আরমান কবীর সৈকত (দৈনিক আমাদের নতুন সময়), রাইসুল ইসলাম লিটন (দৈনিক আমার সংবাদ), মাজহারুল ইসলাম শিপলু (দৈনিক আমাদের অর্থনীতি) সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হোসেন (দৈনিক একুশের বানী)।
যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শামসুদ্দিন সায়েম (দৈনিক ভোরের সময় ), জাহাঙ্গীর আলম (দৈনিক আমার বার্তা) সবুজ সরকার (দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন), অর্থ সম্পাদক মোত্তালেব হোসেন (দৈনিক অপরাধ কন্ঠ), সহ অর্থ সম্পাদক রুহুল আমিন (দৈনিক বর্তমান কথা)।
দপ্তর সম্পাদক মাহমুদুল খান আরিফ (সাপ্তাহিক লোকধারা), সহ-দপ্তর সম্পাদক সাগর আহম্মেদ (সাপ্তাহিক মৌবাজার), প্রচার সম্পাদক বিভাষ কৃষ্ণ চৌধুরী (দৈনিক নওরোজ), সহ প্রচার সম্পাদক মুক্তার হোসেন (দৈনিক যুগধারা), ক্রীড়া সম্পাদক শামীম আল মামুন (সাপ্তাহিক মৌবাজার) সহ-ক্রীড়া সম্পাদক সাহান হাসান (একতার কণ্ঠ)।
সাহিত্য ও জনকল্যাণ সম্পাদক বোরহান তালুকদার (দৈনিক আজকের টেলিগ্রাম) শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল আমিন খান (সাপ্তাহিক গণ-বিপ্লব), তথ্য ও প্রয়ুক্তি সম্পাদক মোস্তফা কামাল (দৈনিক জনতার কথা), সহ তথ্য ও প্রয়ুক্তি সম্পাদক জাহিদ (ডেইলি অবজারভার), আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শামসুল আলম, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রমজান আলী, মানবাধিকার সম্পাদক মোঃ উজ্জল মিয়া, (দৈনিক স্বাধীন সংবাদ । ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম (মৌবাজার) সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শুভ সাহা।
কার্যনির্বাহী সদস্যরা হলেন, মোশাররফ হোসেন ঝিন্টু সিদ্দিকী (সাপ্তাহিক গণবিপ্লব),সেলিম তরফদার (সাপ্তাহিক পাপিয়া) রশিদ আহাম্মদ আব্বাসী (এশিয়ান টিভি ও বাংলাদেশ সময়) এনামুল হক দীনা (সাপ্তাহিক লোকধারা), সাজ্জাত হোসেন লিংকন (ডেইলি অবজারভার), আব্দুস সাত্তার (দৈনিক ভোরের পাতা), খন্দকার খায়রুল ইসলাম (দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ) রেজাউল করিম (দৈনিক বাংলাভূমি), মাসুম ( দৈনিক দেশ বার্তা), বাবুল রানা (বাংলাদেশ সমাচার) আনোয়ার হোসেন ( দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন), আতোয়ার রহমান খান (দৈনিক কালের বার্তা) কামরুজ্জামান (দৈনিক বর্তমান কথা), হাবিবুল্লাহ বাহার (দৈনিক কালের বার্তা), মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ (একতার কণ্ঠ), মজনু মিয়া (দৈনিক যুগধারা), এম এ করিম (দৈনিক কালের বার্তা), নোমান (দৈনিক মজলুমের কন্ঠ) মাহদী মাসুদ (দৈনিক কালের বার্তা), নজরুল ইসলাম (মৌবাজার), মজিবর রহমান (দৈনিক কালের বার্তা), , মোঃ সজিব (দৈনিক কালের স্রোত)।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নেশার টাকা না দেওয়ায় শফিকুল ইসলাম (৬০) নামে এক অটোরিকশা চালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে হেলাল মিয়ার (২৬) বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সকালে অভিযুক্ত ছেলে মো. হেলাল মিয়াকে উপজেলার বেতুয়া পলিশা উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ডিসেম্বর রাত ১১ টার দিকে হেলাল মিয়া তার বাবার কাছে নেশার জন্য টাকা চান। টাকা না দেওয়ায় বাড়ির উঠানে মায়ের সামনে কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয় তিনি। পরে বাবার চিৎকারে হেলালের বড় ভাই দুলাল মিয়া ঘর থেকে বের হয়ে এগিয়ে আসলে সে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় প্রথমে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেে ভর্তি করা হয়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখানকার চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে বাড়িতে নিয়ে আসতে বলে। এরপর শফিকুল ইসলাম বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (১ জানুয়ারি) রাতে মৃত্যুবরণ করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে হেলাল মিয়ার মা শেফালী বেগম ভূঞাপুর থানায় তার ছেলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক ছেলে হেলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
ঘাতক ছেলে হেলাল মিয়ার মা শেফালী বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে বখাটে ও নেশাগ্রস্থ ছিল। কোনো কাজ-কর্ম করতো না। নেশার টাকা জোগাতে না পেয়ে তার বাবার সাথে ঝগড়ার এক পর্যায়ে মাথায় আঘাত করে এবং গুরুতর আহত হয়। পরে সোমবার রাতে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়া যায়। এ নিয়ে থানায় হেলালের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করি।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ বলেন, হেলাল মিয়ার মা শেফালী বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরণ করা হয় এবং তার বাবা শফিকুল ইসলামের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল মিয়া তার বাবাকে আঘাত করার দায় স্বীকার করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের আটিয়া ইউনিয়ন আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার পালের বিদায় অনুষ্ঠান ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান মারুফ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. তারিকুল ইসলাম, আটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম মল্লিক, ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন, দেউলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহমিনা হক, ছিলিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মজিবর রহমান, বাবু সুনীল কুমার দে, ব্যারিস্টার গোলাম নবী, আটিয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াছমিন আক্তার, সরকারি বিন্দুবাসিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কানিজ সালমা, সাবেক অধ্যক্ষ নারায়ন চন্দ্র দে, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল বারেক প্রমুখ।
আটিয়া ইউনিয়ন আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক মল্লিকের সভাপতিত্বে বক্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, একজন জ্ঞানের আলো দানকারীর বিদায় জানাতে হচ্ছে। তিনি এ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর শিক্ষকতা করেছেন, ওনি এ বিদ্যালয়ে আসার পর পাশের হার শতভাগে উন্নিত হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ ফিরে এসেছে। আজকে এ মহান শিক্ষকের বিদায় জানাতে গিয়ে চোখে অশ্রু ঝরে যাচ্ছে। আমরা এ মহান শিক্ষকের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।
পরে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার পালকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেন আটিয়া ইউনিয়ন আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, টাঙ্গাইল জেলা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার গেরিলা (বিএলএফ) বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক মল্লিক।
এছাড়াও প্রধান শিক্ষক ও তার সহধর্মিনীকে বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. রফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ফুলেল শুভেচ্ছাসহ বিভিন্ন উপহার প্রদান করেন।
এসময় স্থানীয় এলাকাবাসী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, এই নির্বাচন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন নিয়ে প্রতিযোগিতা রয়েছে। কোনো ষড়যন্ত্রই এই নির্বাচনে আঘাত করতে পারবে না। জনগণই মোকাবেলা করবে এবং জনগণই প্রতিরোধ করবে। অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সফলভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ৩ জানুয়ারি ভাচ্যুয়ালি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টাঙ্গাইলের পৌর উদ্যানে জনসভায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি কার্যক্রম শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে পরিদর্শনকালে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এবার বাংলাদেশের মানুষ হরতাল অবরোধ ভুলে গেছে। ২০১৪ ও ২৩ সালের মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য রয়েছে। এবার তারা নির্বাচনের দিন কোন সন্ত্রাস করতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশনের অনেক নির্দেশনা রয়েছে। সকল মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন সুষ্ঠু এবং সুন্দর হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাঙ্গাইলে ৮টি আসনই নৌকা জয়যুক্ত হবে। টাঙ্গাইলকে সাংস্কৃতিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী মামুন অর রশিদ, টাঙ্গাইল-৩ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী ডা. কামরুল হাসান খান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়ে, এডওয়ার্ড এম কেনেডি (EMK) সেন্টার নির্বাচনী দায়িত্বপালনকালে নিরাপত্তা বিষয়ক একটি কর্মশালার আয়োজনে বাংলাদেশী জার্নালিস্টস ইন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ার (BJIM) সাথে অংশীদারিত্ব করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) EMK সেন্টারের কেনেডি হলে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় ৫০ জনের বেশি স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সাংবাদিককে সম্ভাব্য সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি পার করার প্রয়োজনীয় তথ্য এবং কৌশল সরবরাহ করা হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি কাউন্সেলর স্টিফেন এফ. ইবেলি বলেন, আপনারা এক মহান পেশায় নিয়োজিত আছেন, এবং সারা বিশ্বে ক্রমবর্ধমানভাবে এটি কঠিনতর এবং আরও বিপজ্জনক পেশা হয়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা সর্বত্র তথ্য, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিবেদনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভূমিকা এখন আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মশালাটি সাংবাদিকদের প্রতিকূল পরিবেশ এবং আসন্ন নির্বাচনে দায়িত্বপালনকালে উদ্ভূত সংকট পার করার জন্য বাস্তব জ্ঞান এবং কৌশল সরবরাহ করে। অংশগ্রহণকারীরা ঝুঁকি মূল্যায়ন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, এবং যোগাযোগ কৌশলের মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
BJIM বিশেষজ্ঞদের পরিচালিত অংশগ্রহণমূলক সেশনগুলো প্রাঞ্জল হয়ে ওঠে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার গতিশীল এবং তথ্যপূর্ণ বিনিময়ে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আমেরিকান স্পেস হিসাবে, EMK সেন্টার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং এর স্থানীয় অংশীদারদের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতার প্রমাণ হয়ে উঠেছে, যা একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপকে উন্নীত করার জন্য এক অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় সদস্য নিহত বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফারুক আহমদের স্ত্রী নাহার আহমদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শুক্রবার(২৯ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে শহরের কলেজপাড়ার নিজ বাসায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন তিনি।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে সহ আত্মীয়-স্বজন ও বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তার অকাল মৃত্যুতে টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) বাদ যোহর টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থান জামে মসজিদে মরহুমার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন, বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যসহ আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং মরহুমার আত্মীয়-স্বজনরা অংশগ্রহণ করেন। পরে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মেধাবী ও ক্লাসে শতভাগ উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার খাস কাকুয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মৌলভী আব্দুস সবুর মাস্টার শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহ আলম কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা সোলায়মান, মহাসচিব শাহনাজ বেগম লাইজু, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডাক্তার শাহাদৎ হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে খাস কাকুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ হতে নবম শ্রেণির মেধাবী ও ক্লাসে শতভাগ উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান ও উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেনের প্রচারণায় আনুষ্ঠানিকভাবে নামলেন জেলা, পৌর ও যুব মহিলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল শহরের পার-দিঘুলিয়ায় অবস্থিত ছানোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক কার্যালয় ‘তৃণমূল ভবনে’ সভার আয়োজন করে জেলা ও পৌর মহিলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন।
টাঙ্গাইল জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী আক্তার রুনুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা যুব মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুজ সালেহীন, শহর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাভলী তালুকদার, সাংগঠণিক সম্পাদক ডা. তাসলিমা খায়ের প্রমুখ।
জেলা মহিলালীগের সহ-সভাপতি মাহমুদা শেলীর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলালীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক আসমা হোসাইন মলি, নাসরিনসহ শহর মহিলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুই শতাধিক মহিলা নেতাকর্মীরা।
সভায় বক্তারা বলেন, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি। তিনি আমাদের রাজনৈতিক নেতা ও অভিভাবক। টানা দুইবার তিনি এ আসনের আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এ কারণে আমরা উনার নির্বাচনী প্রচারণায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছি। আমাদের বিশ্বাস এবারও তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার মুখ উজ্জল করবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রেললাইনে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকা রুপ চাঁন (৫২) নামে এক আনসার সদস্য ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের ধলাটেংগর এলাকার ৭নং ব্রীজ নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর তার মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
সে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেল স্টেশনের ধলাটেংগর এলাকায় রেললাইনে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
নিহত রুপচাঁন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের ব্রামণপাড়া গ্রামের মৃত হারান আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ধলাটেংগর এলাকায় নিরাপত্তা দেওয়ার ডিউটিতে ছিলেন তিনি। ডিউটিরত অবস্থায়
অজ্ঞাত একটি ট্রেনের ধাক্কায় রেললাইনের পাশে জঙ্গলে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।পরে স্থানীয়রা রেলওয়ে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ স্টেশনের উপপরিদর্শক (এসআই) আলী আকবর ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেল স্টেশনের ইনচার্জ রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ স্টেশনের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলী আকবর জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বেড়ানোর কথা বলে পরকীয়া প্রেমিকের সহায়তায় স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার জন্য বালু চাপা দিয়েছে স্ত্রী। পরে স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বামীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রেমিক মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহতের নাম নাঈম হোসেন (২০)। সে উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে প্রেরণ করা হয়। পরে বিকেলে আদালতে তোলা হলে স্ত্রী রেশমি খাতুন ও প্রেমিক মাসুদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
এরআগে মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার চর ডাকাইতাবান্দা এলাকা থেকে স্বামীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই নিহত নাঈমের বাবা রেশমি খাতুন, তার প্রেমিক মাসুদসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যার ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিক মাসুদ ও স্ত্রী রেশমি খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত মাসুদ উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের চরভরুয়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে এবং নিহতের স্ত্রী রেশমি খাতুন একই ইউনিয়নের রামাইল গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে।
জানা গেছে, নাঈম ও রেশমি গেল প্রায় তিনমাস আগে প্রেম করে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। এরপ্রেক্ষিতে গত ১৯ ডিসেম্বর স্ত্রী রেশমি ফোন করে নাঈমকে শশুরবাড়িতে যেতে বলে এবং নাঈমকে বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়ে দেয়। পরে নাঈম তার মার কাছ থেকে আরও কিছু টাকা নিয়ে রামাইলে শশুর বাড়িতে যায়। পরে রেশমি নাঈমকে নিয়ে বিকালে ঘুরতে বের হয়। এরপর রাতে রেশমি বাবার বাড়ি গিয়ে জানায় তার স্বামী নাঈম চলে গেছে। এরপর থেকে নাঈমের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
গ্রেপ্তারকৃত রেশমির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রেশমি পরকীয়ায় আশক্ত ছিল। নাঈমকে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেছিল রেশমি। পরে পুরোনো প্রেমিকের কথায় স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে রেশমি। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বামী নাঈমকে নিয়ে চরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। এরপর সরিষাবাড়ি সিমান্ত এলাকায় একটি চরে গিয়ে প্রেমিক ও কয়েকজনের সহায়তায় নাঈমকে প্রথমে গলায় গামছা পেছিয়ে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গুম করার জন্য বালু চাপা দেওয়া হয়। কাজ শেষ করে রেশমি বাবার বাড়িতে চলে যায়।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ জানান, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। স্বামীকে বেড়ানোর কথা বলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরকীয়া প্রেমিক ও তার বন্ধুদের সহায়তায়। পরে তার মরদেহ গুম করার জন্য বালু চাপা দিয়ে দেয়। পরে রেশমিকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, বিকালে নিহতের স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিককে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। তার বাড়ি জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামে। টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ড। রাস্তায় প্রতিদিন এভাবেই ভাড়ায় চালিত অটোরিক্সায় যাত্রী নিয়ে অটো চালাতে দেখা যায় রোজিনাকে।
শহরে যানজটের পাশাপাশি নানা ধরনের ঝামেলা সামলে পুরুষ চালকদের যখন অটোরিক্সা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, এমতো অস্থায় গত ৫ বছর ধরে একমাত্র নারী অটোরিক্সা চালক রোজিনা এই অটোরিক্সা চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করছে।
টাঙ্গাইল পৌরসভা সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিক্সা অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিক্সার স্টিয়ারিংয়ে বসে যাত্রী ডাকছেন- কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল মার্কেট, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৩ জন যাত্রী নামবে। ট্রাফিক পুলিশ অন্য অটো চালকদের অটো দাঁড় করাতে না দিলেও রোজিনা অটো দাঁড়া করে তিনজন যাত্রীকে নামাতে দিচ্ছেন। ট্রাফিক পুলিশসহ অটোচালকরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করেন।
অটোরিক্সার চালক রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম উঠে। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দূর্ঘটনা ঘটবে। কিন্তু আমার অটোতে ছেলে যাত্রীরাই বেশি উঠে। আমি খুব হিসেব করে অটো চালাই। খুব দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দূর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিক্সা চালকরা আমাকে অনেক সম্মান করে। আমি যখন রাস্তার ওপর অটো ঘুরাই তারা নিজেদের অটো দাঁড়া করে রেখে আমাকে অটো ঘুরাতে সুযোগ করে দেন। বড় গাড়ির চালকরাও যখন আমাকে দেখেন আমি নারী চালক তখন তারাও আমার প্রতি সম্মান দেখান।
অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যদি দেখি সে রাস্তায় অটো ঘুরাচ্ছে তখন আমাদের অটো দাঁড়া করিয়ে তাকে অটো ঘুরানোর জন্য সুযোগ করে দেই। আমরা চাই তাকে সরকারি ভাবে সহযোগিতা করা হোক।
অটোরিক্সার যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে উঠেছি। অটোর চালক নারী দেখেও আমি তার অটোতে উঠি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়ে তার অটো চালানো অনেক ভালো। তাকে যদি সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হয়। সে একটু ভালো ভাবে চলতে পারবে।
আরেক যাত্রী বক্কর মিয়া বলেন, নারী অটো চালকের পাশের সিটে বসতে কিছুটা সংকোচবোধ হলেও তিনি কোন সংকোচবোধ মনে করেন না। তিনি খুব সাবধানে অটো চালায়।
রোজিনার সাহসিকতা দেখে নারী সংগঠক সিরাজুমমনি বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিক্সা চালায় আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো দিক থেকে কম নন, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। জনপ্রতিনিধি ও সরকারিভাবে তাকে কোন একটা ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে দিলে তার আর রাস্তায় অটো চালাতে হবে না বলে আমি মনে করি।
অটোরিক্সায় বসে রোজিনার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, রোজিনার বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় মেয়ে রোজিনা। অভাব-অনটনের সংসারে বাবা-মা তাকে এক এতিম যুবকের সাথে বিয়ে দেন। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিক্সা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত চোখের দৃষ্টি শক্তি আরও কমতে থাকে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিক্সা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় স্বামীর চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া, খাওয়ার পাশাপাশি মেয়েদের পড়ালেখার খরচ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, দিশেহারা হয়ে পরেন তিনি। পরে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার তাও চলছিল না। এরপর এনজিও থেকে ধার করে কোন রকম সংসার চালাতে পারলেও মেয়েদের লেখাপড়া ও অন্যান্য খরচ জোগাড় করতে পারছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে রোজিনা নিজে অটোরিক্সা চালাতে আগ্রহ হয়। স্বামী রফিকুলের কাছে তা শিখতে চান। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছে অটোরিক্সা চালানো শিখেন রোজিনা। পরে গ্রামের পথে ৫-৬ দিন শিখে বাড়ি থেকে অটোরিক্সা নিয়ে একদিন সরাসরি টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এভাবে ধীরে ধীরে অটোরিক্সা চালানো শুরু হয় তার।
তিনি বলেন, অটো চালানোর চিন্তাটা আমার জন্য খুব সহজ ছিল না। ৫ বছর ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিক্সা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কি করবো অভাবের সংসার। ভাড়া বাড়িতে থাকার খরচ কমাতে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনি। পরে সেখানে সরকার আমাকে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর তুলে দেয়।
রোজিনা বলেন, যখন খুব অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছিলাম তখন মানুষ আমাদের ঠাট্টা করেছে। যখন জীবনের তাগিদে অটোরিক্সা চালাতে শুরু করি তখনও নানা কথা বলেছে। তবে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও কিছু করতে পারে।
রোজিনা আরও বলেন, আমার দুই মেয়ে, বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে ছোট মেয়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। আমার তো থেমে গেলো চলবে না। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধারদেনা শোধ করতে হবে। আমি অটোরিক্সা চালিয়েই দুই সন্তান মানুষ করতে চাই। আমার পাশে যদি সরকার দাঁড়ায় তাহলে আমি অটোরিক্সা চালানো বাদ দিয়ে অন্য কোন কাজ করবো।
টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী অটোরিক্সা চালক রোজিনা। কেউ যেন তাকে বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে ট্রাফিক পুলিশ সব সময় নজর রাখে। আমাদের ট্রাফিক পুলিশ তাকে সব সময় সহযোগিতা করে।
টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহ আলম বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। ওই নারী এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসে নাই। সে যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করে অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের দ্বি বার্ষিক নির্বাচনে জাফর-নাসির পরিষদ পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়েছে। সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ।
সহকারি নির্বাচন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন এড্ভোকেট এস. আকবর খান ও আনন্দ মোহন দে।
এর আগে দুপুর ২টা থেকে বিকেলে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হয়। নির্বাচনে সর্বমোট ৭৪ ভোটারের মধ্যে ৭৩ জন ভোটার ভোট প্রয়োগ করেন।
নির্বাচনে সভাপতি পদে দুই জন, সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন, যুগ্ম সম্পাদক পদে তিন জন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে দুই জন ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ ৫৬ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি বিমান বিহারী দাস পেয়েছেন ১৬ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে মো. নাসির উদ্দিন ৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মহব্বত হোসেন পেয়েছেন ৩২ ভোট। অপর প্রতিদ্বন্দ্বি একরামুল হক খান তুহিন পেয়েছেন ২ ভোট। ৫১ ভোট পেয়ে কাজী তাজউদ্দিন রিপন প্রথম ও ৪৩ ভোট পেয়ে ইফতেখারুল অনুপম যুগ্ম সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বি মহিউদ্দিন সুমন পেয়েছেন ৩২ ভোট। সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন কাজী হেমায়েত হোসেন হিমু। তার প্রতিদ্বন্দ্বি শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা পেয়েছেন ২৮ ভোট। ৪৭ ভোট পেয়ে ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার মাসুদুল আলম। তার প্রতিদ্বন্দ্বি মোস্তাক আহমেদ পেয়েছেন ২৪ ভোট।
অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় জাফর-নাসির পরিষদের সহ-সভাপতি পদে কাজী জাকেরুল মওলা, শাহাবুদ্দিন মানিক, কোষাধ্যক্ষ পদে আব্দুর রহিম, লাইব্রেরী ও দফতর সম্পাদক পদে অরণ্য ইমতিয়াজসহ কার্যকরী সদস্য পদে হাবিবুল্লাহ্ কামাল, মামুনুর রহমান মিয়া, মো. শামীম আল মামুন, জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ও কাদির তালুকদার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।