/ হোম / টাঙ্গাইল সদর
উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশা চুরির বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মাজেদুর - Ekotar Kantho

উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশা চুরির বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মাজেদুর

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বিগত তিন বছর যাবৎ জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশা চুরির বিচার ও প্রতিকার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মো. মাজেদুর রহমান নামে এক অসহায় অটোচালক।

অটোরিকশা চোর চক্রটি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকায় তিনি টাঙ্গাইল সদর থানায় অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি। বরং প্রতি পদে পদে তাকে সহ্য করতে হয়েছে অবজ্ঞা ও দুর্ব্যবহার। এখন মাজেদুর একটি মুদির দোকানে কাজ করেন। মুদির দোকানের অল্প আয়ে সে কোনরকমে দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অটোরিকশা চালিয়ে তিনি তার বড় মেয়েকে বিয়ে দিতে পারলেও বর্তমানে তিনি মুদির দোকানের সল্প আয়ে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে পড়ালেখা করাতে হিমশিম খাচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসের ২৪ তারিখ সকালে তিনি তার অটোরিকশা নিয়ে প্রতিদিনের মতো জীবিকা নির্বাহের জন্য বের হন। সেদিন রাত ১০ টার সময় শহরের বড় কালিবাড়ী এলাকা থেকে একটি সাদা রংয়ের পাজেরো জিপ তাকে ফলো করে টাঙ্গাইল আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন সাব পোস্ট অফিসের সামনে তার অটোরিকশার গতি রোধ করে এবং অটোর চাবি ছিনিয়ে নেয়। তিনি তাতে বাধা দিলে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তাকে আহত করে অটোরিকশা থেকে ফেলে দেয়। এসময় তার বুক পকেটে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে অটোটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তার অটোরিকশাটি পৌরসভার লাইসেন্স ভুক্ত যার নাম্বার – ১৫৩৬। পরে মাজেদুর রহমান বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্তরা হলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার থানাপাড়া এলাকার মৃত মাখন মিয়ার ছেলে মো. মেহেদী (৪৫), মৃত কমল মিয়ার ছেলে তানজিল (৩০), লাল মিয়ার ছেলে সাজ্জাদ (৩০), আশিক (২৫) (পিতা অজ্ঞাত), মমিন মিয়া (৪০) (পিতা অজ্ঞাত)।

অভিযুক্তরা সবাই তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় তৎকালীন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশাররফ হোসেন ও তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুরাদ হোসেন অভিযোগের ভিত্তিতে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই উল্টো মাজেদুরকে বিভিন্ন ধরনের ঘুমকি-ধামকি দিতে থাকে। তাকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্যও চাপ প্রয়োগ করে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে মাজেদুর পুনরায় টাঙ্গাইল সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ তাকে কোন ধরনের অভিযোগ দায়েরের সুযোগ না দিয়ে বলেন, এটি অনেক পুরোনো ঘটনা ও আসামিরা সবাই পলাতক। ফলে পুনরায় আইনের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন অসহায় মাজেদুর।

মাজেদুর উপার্জনের একমাত্র সম্বল অটোরিকশাটি হারিয়ে বর্তমানে একটি মুদির দোকানে কাজ করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে কোন রকমে দিন পার করছেন।

মাজেদুর জানান, তিনি দিনমজুর ও অসহায় হওয়ায় শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে প্রকাশ্যে তার অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে গেলেও থানায় অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি। গত তিন বছর যাবত তিনি থানাসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রতিকার পাওয়ার আশায় কিন্তু সবাই তাকে অবহেলা ও অবজ্ঞা করেছে।

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি আশা করেছিলেন হয়তোবা এবার সুবিচার পাবেন কিন্তু তিনি এবারো নিরাশ হয়েছেন। তিনি জানান, গরিবের জন্য শুধু আল্লাহ তায়ালাই রয়েছেন। আমি তার বিচারের আশায় রয়েছি।

সদ্য বদলিকৃত টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি তিন বছর আগের, এছাড়া অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ও তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ বদলি হওয়াতে এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি মানবিক হলেও আইনগত প্রক্রিয়ার কারণে এগোনো সম্ভব হচ্ছে না।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. নভেম্বর ২০২৫ ০২:৫৬:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে বাসি-পচা মাংস দিয়ে বিরিয়ানি, দুই লাখ টাকা জরিমানা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বাসি-পচা মাংস দিয়ে বিরিয়ানি, দুই লাখ টাকা জরিমানা

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বাসি-পচা মাংস দিয়ে খাবার প্রস্তুত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্নার অভিযোগে জহিরুল ইসলাম নামে এক রান্নাঘর মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে পৌরসভার কান্দাপাড়া রোডে জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই রান্নাঘরে প্রস্তুত খাবার স্থানীয় কাচ্চি খাদক, হাজী বিরিয়ানি ও হানিফ বিরিয়ানিতে সরবরাহ করা হতো।

অভিযান‌ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান রোমেল বলেন, রান্নাঘরজুড়ে নোংরা পরিবেশ ও দুর্গন্ধ বিরাজ করছিল, প্রতিদিনই আগের দিনের বাসি খাবার এখানে গরম করে পুনরায় কাচ্চি খাদক, হাজী বিরিয়ানি ও হানিফ বিরিয়ানিতে সরবরাহ করা হতো।
যা ভোক্তার জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাৎক্ষণিক জরিমানা আদায় করা হয় ও রান্নাঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ সদস্য ও পৌর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. নভেম্বর ২০২৫ ০১:৩৩:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে বিএনপি’র ৩১ দফা বাস্তবায়নে ফরহাদ ইকবালের লিফলেট বিতরণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিএনপি’র ৩১ দফা বাস্তবায়নে ফরহাদ ইকবালের লিফলেট বিতরণ

আরমান কবীরঃ বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লিফলেট বিতরণ করছেন।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি বিশাল মিছিল সহকারে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করা হয়। এরআগে এই কর্মসূচির সমর্থনে টাঙ্গাইল সদরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ড থেকে খন্ড-খন্ড মিছিল এসে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সমবেত হয়।

লিফলেট বিতরণের পূর্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, আমি শতভাগ আশাবাদী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশ নায়ক তারেক রহমান আমাকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন দেবেন। টাঙ্গাইলের ৮টি আসনের মধ্যে ৭টি আসনে ইতিমধ্যেই ধানের শীষের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অবিলম্বে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে টাঙ্গাইল সদরের ছেলেকেই মনোনয়ন দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই শেষ পর্যন্ত কাজ করে যাব।

লিফলেট বিতরণ কর্মসূচী ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, শহর বিএনপি’র সভাপতি মেহেদী হাসান আলিম, সাধারণ সম্পাদক এজাজুল হক সবুজ, সদর থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ, সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান সোহেল, সহ-সভাপতি মামুন সরকার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম ঝলক, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামিমুর রহমান খান, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমএ বাতেন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন প্রমুখ।

এই লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. নভেম্বর ২০২৫ ১১:৩৯:পিএম ৭ মাস আগে
শিশুদের প্রতিভা বিকাশে শিক্ষার পরিবেশ আনন্দদায়ক হতে হবে: প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা উপদেষ্টা  - Ekotar Kantho

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে শিক্ষার পরিবেশ আনন্দদায়ক হতে হবে: প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা উপদেষ্টা 

আরমান কবীরঃ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্তলালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা: বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন,শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে শিক্ষার পরিবেশটা আনন্দদায়ক হতে হবে। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুর মধ্যে সুপ্ত সম্ভবনাগুলোকে বিকাশ করা। এছাড়াও শিশুকে সুনাগরিক এবং সমাজে দক্ষ নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা।

এই কাজটি আমরা করব পাঠ্যক্রম ও সহ পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে অথবা উচ্চ পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে।

রবিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল শিল্পকলা একাডেমি ভবনে শিক্ষার গুনগতমান উন্নয়নে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ভুমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলে।

তিনি বলেন, শিক্ষার পরিবেশটা যেন আনন্দদায়ক হয়। সেটা শিশু পড়ে যেন আনন্দ পায়। একটা শিশুকে স্বপ্ন দেখাতে হবে স্বপ্ন শিখাতে হবে। সে যেন স্বপ্ন দেখতে পারে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে কেন পড়বে তার একটা স্বপ্ন থাকা দরকার। ফলে শিশুকে স্বপ্ন দেখানো টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে সব সময়ই আমিও পারি এই সাহসটা জাগ্রত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের প্রশ্ন পড়বে যেটা জানতে পারলাম এতে করে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীসহ সব কিছুরই সমস্যা চিহ্নিত করছি।আগামীতে প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র পাল্টে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি ।

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্তলালয়ের সচিব আবু তাহের মো:মাসুদ রানা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো: আজমুল হক এবং প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্তলালয়ের মহাপরিচালক আবু নৃর মো,শামসুজ্জামান প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা বৃন্দ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৫৫:পিএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইল পৌর সড়কে অবৈধভাবে তৈরি ব্যাটারিচালিত রিক্সায় সয়লাব, জনভোগান্তি চরমে  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল পৌর সড়কে অবৈধভাবে তৈরি ব্যাটারিচালিত রিক্সায় সয়লাব, জনভোগান্তি চরমে 

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন ভাবে তৈরি হচ্ছে শত শত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। ফলে পৌর এলাকার প্রায় প্রতিটি সড়কে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রিকশা ও অটোরিকশা চলাচলের কারণে শহরে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে অফিস টাইমে স্থবির হয়ে পড়ছে শহরের রাস্তাঘাট। ঘন্টার পর ঘণ্টা যান জটের কবলে আটকা পড়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে অফিস যাত্রী ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা

টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স শাখা সূত্রে জানা যায়, বিগত মেয়র সিরাজুল হক আলমগীরের সময়ে টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে ৬ হাজার প্যাডেল রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হয়। প্রতিটি লাইসেন্স বাবদ ফি নেওয়া হয় ১ হাজার টাকা। এই লাইসেন্স প্যাডেল চালিত রিকশার জন্য দেওয়া হলেও পৌরসভার এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বর্তমানে লাইসেন্স গুলো ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশায়। এটা পৌরসভার আইন অনুযায়ী নিয়ম বহির্ভূত। বিগত সময়ের মেয়র দায়িত্ব থাকাকালীন সময় থেকেই এভাবে চলছে বলে জানা যায়। কিছু কিছু রিকশার মালিকরা একই নামে দশের অধিক লাইসেন্স নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ক্রয় করে চালকদের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন।

পৌরসভার তালিকাভূক্ত ৬ হাজার রিকশা থাকলেও বাস্তবে শহরে এর ৩ থেকে ৪ গুন ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এই রিকশাগুলো টাঙ্গাইলের অননুমোদিত মা-মটরস, বিসমিল্লাহ মটরস, একতা মটরসসহ আরো নামে-বেনামে ৩০টির অধিক অবৈধ কারখানা থেকে তৈরি হচ্ছে।

এইসব কারখানার অধিকাংশ মিস্ত্রিদের কোন ধরনের কারিগরি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। শুধুমাত্র অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি এইসব ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে। ফলে শহরে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া এইসব রিকশা গুলোর ব্যাটারি চার্জ করতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুতের দরকার হচ্ছে।‌ এর ফলে দিনদিন শহরে লোডশেডিং বাড়ছে।

সরজমিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের টাঙ্গাইল-বাঘিল আঞ্চলিক সড়কের চিলাবাড়ি এলাকায় মা-মটরস কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, তিনজন কারিগর ব্যাটারিচালিত রিকশার নতুন অনেক গুলো বডি তৈরি করছে। এদের দুইজনকে মালিক রংপুর ও ময়মনসিংহ থেকে ভাড়া করে এনেছে। এছাড়া একজন ১২ বছরের কিশোর কোনরকম নিরাপত্তা পোশাক না পড়েই ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছে। তারা জানায়, প্রতিটি বডি তৈরি করলে ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে ১ হাজার ২শত টাকা ও অটোরিকশা তৈরির ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকা করে মুজুরি পান। এছাড়া থাকা-খাওয়া মালিকের মধ্যে। চিলাবাড়িতেই রয়েছে মা-মটরসের বিক্রয়ের শোরুম। শো রুমের সমানেই সড়কের অপর পাশে ঢাকা থেকে কারিগর এনেছেন রিকশার সিট ও সৌন্দর্য বর্ধনের হুড তৈরির জন্য। এছাড়া রিকশার সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের নকশার কাজ করছেন স্থানীয় একজন কারিগর।

মা-মটরসের মালিক দুলাল মিয়া এক সময় রিকশার মেকার হিসেবে টাঙ্গাইল শহরে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানা দিয়েছেন। তিনি জানান, এই ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কোন ধরনের বৈধ অনুমোদন পত্র তার নেই এবং কোন ধরনের কারিগরি জ্ঞানও নেই। তিনি দীর্ঘদিন রিকশা মেরামত অথাৎ মেকারের কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই রিকশা তৈরির কারখানা করেছেন।

এমনকি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) টাঙ্গাইলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করার কোন অনুমোদন আছে কিনা তার কাছে জানতে চাইলে তিনি সে ব্যাপারেও না করেন। কোন ধরনের অনুমোদনের তোয়াক্কা করেন না বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সোরহাব হোসেন জানান, মা-মটরস নামের একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানা আমার ৬নং ওয়ার্ডে রয়েছে। তবে সরকারি ভাবে তাদের এই রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কোন কাগজপত্র আছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। প্রয়োজনে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।

এডভোকেট জসিম উদ্দিন, এডভোকেট মিজানুর রহমান, জুয়েল রানা, সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া, শিক্ষিকা সেলিনা হোসেন জানান, শহরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করছে। এর সাথে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম্বার বিহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। ফলে ব্যস্ততম সময়ে শহর এক প্রকার অচল হয়ে পড়ে। এছাড়া এই ধরনের রিকশা চলাকদের কোন ধরনের প্রশিক্ষণ না থাকায় যত্রতত্র রিকশা পার্কিং ও যাত্রী তোলার ফলে এই যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করে। এইসব অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। তাহলে শহরে কিছুটা হলেও যানজট কমবে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) শাহীন মিয়া জানান, আমি টাঙ্গাইলে নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরি আইনগতভাবে বৈধ নয়। তাই এই ধরনের কোন রিকশা তৈরির কারখানার সন্ধান পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) মো. শিহাব রায়হান জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে কোন ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি। আর টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা মুক্ত শহর করতে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও এই অবৈধ রিকশা গুলো আটক করে ডাম্পিং করা যায় কিনা সেই বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে। খুব দ্রুতই এইসব অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. নভেম্বর ২০২৫ ০১:১৭:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল

আরমান কবীরঃ বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল কোর্ট মসজিদে জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দোয়া মাহফিলে অংশ নেয়, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, সদর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রৌফ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক তারিকুল ইসলাম ঝলক, সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ সাফি ইথেন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এম এ বাতেন, সদর উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আমিনুর রহমান সুমন প্রমুখ।

এসময় বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশ, তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৪০:পিএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে অসহায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।

মাহমুদুল হক সানু বলেন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার প্রতিটি গ্রামের প্রতিবন্ধীদের খুঁজে বের করে তাদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে এই হুইলচেয়ার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে নানা প্রকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রম চলমান থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ শাফী ইথেন, শহর যুবদলের আহ্বায়ক রাশেদ খান সোহাগ, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আতিকুর রহমান সোহান প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. নভেম্বর ২০২৫ ১১:৩২:পিএম ৭ মাস আগে
আমি নির্বাচিত হলে চরাঞ্চলের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করবো – সুলতান সালাউদ্দিন টুকু - Ekotar Kantho

আমি নির্বাচিত হলে চরাঞ্চলের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করবো – সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

সাহান হাসানঃ কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সাথে থাকুন, জনগণকে সঙ্গে রাখুন। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, কিন্তু কোন লাভ হবে না। আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর রহমতে যদি আমি নির্বাচিত হতে পারি, তবে বৃহত্তর এই চরাঞ্চলের ভাগ্যোন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবো, ইনশাল্লাহ।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর গোলচত্বর এলাকায় ১২নং মাহমুদনগর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের ভোটে আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি, সর্বপ্রথম আপনাদের বহুল কাঙ্ক্ষিত ধলেশ্বরী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে চরাঞ্চলবাসীকে আর ভোগান্তির শিকার হতে না হয়। পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী একটি বেরিবাঁধ নির্মাণ করা হবে, যাতে মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারে। টাঙ্গাইল সদরকে একটি আধুনিক মডেল টাউনে রূপান্তর করা হবে—যেখানে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে কাজ করবো।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন তীব্র আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, কারাবরণ করেছেন; তবুও কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তাই তাকে আপসহীন নেত্রী বলা হয়।
আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের কথাও গর্ব করে বলি, কারণ তিনি কখনোই জনগণের বিপক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপও তিনি নেননি।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১২নং মাহমুদনগর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী, সিনিয়র যুগ্ন-সম্পাদক এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব, জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মমতাজ করিম, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভ প্রমুখ।

মতবিনিময় সভা শেষে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. নভেম্বর ২০২৫ ০২:৪৩:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিবেশক মালিক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি উজ্জ্বল, সম্পাদক আরিফ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিবেশক মালিক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি উজ্জ্বল, সম্পাদক আরিফ

সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিবেশক মালিক সমিতির দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আবুল বাশার উজ্জ্বল সভাপতি ও সৈয়দ রাশিদুজ্জামান আরিফ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে শহরের মেইন রোডে অবস্থিত জেলা পরিবেশক মালিক সমিতির প্রধান কার্যালয়ে এ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সাধারণ সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিবেশক মালিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা বীর‌ মুক্তিযোদ্ধা আরফান আলী খান।

সদর উপজেলা পরিবেশক মালিক সমিতির সভাপতি মীর শামীনুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশক মালিক সমিতির সভাপতি মো. শামীমুর রহমান শামীম, সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, মো. নরুল আলম, মো. আহ্সান খান আছু, আলহাজ্ব মীর মহব্বত হোসেন, মাহফুজুর রহমান (মামুন), সায়মন তালুকদার (রাজীব), বাবু দুলাল চন্দ্র সাহা, মো. শাহ্ আলম, আব্দুল আলিম সিদ্দিকী প্রমুখ।

সভার দ্বিতীয় পর্বে সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আগামী দুই বছরের জন্য আবুল বাশার উজ্জ্বল সভাপতি ও সৈয়দ রাশিদুজ্জামান আরিফ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। এর আগে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. নভেম্বর ২০২৫ ০৬:৪৮:পিএম ৮ মাস আগে
টাঙ্গাইল কালচারাল রিফর্মেশনের সভাপতি লাবুর উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল কালচারাল রিফর্মেশনের সভাপতি লাবুর উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

আরমান কবীরঃ কালচারাল রিফর্মেশন ফোরাম টাঙ্গাইলের সভাপতি ও জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবুর উপর সন্ত্রাসী হামলা ও তাকে কুপিয়ে আহত করার প্রতিবাদে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে সংস্কৃতিক কর্মীরা।

বুধবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপি এই মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আবুল কালাম মোস্তফা লাবুর উপর বর্বরোচিত হামলা একটি পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনা। ৫ আগষ্ট ফ্যাসিষ্ট হাসিনার পতন হলে লাবু কালচারাল রিফর্মেশন ফোরাম ও হাসিনার ১৭ বছরের দুঃশাসন নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরির কাজ শুরু করেন। যা ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান। টাঙ্গাইলে এখনো বিভিন্ন পদে আওয়ামী দোসররা ঘাপটি মেরে আছে। সঙ্গতঃ কারনে লাবুর উপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা ও তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে দোষিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মানববন্ধন কর্মসুচিতে বক্তব্য রাখেন, কালচারাল রিফর্মেশন ফোরামের সাধারন সম্পাদক অনিক রহমান বুলবুল, সহ-সভাপতি ফরহাদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত রিয়াজুল রিজু, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সস্পাদক মহব্বত হোসেন, সংস্কৃতিক কর্মী সুলতানা বিলকিস লতা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন টাঙ্গাইল শাখার সভাপতি ফাতেমা রহমান বিথি প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. নভেম্বর ২০২৫ ০২:২১:এএম ৮ মাস আগে
টাঙ্গাইলে মথ বীজকে রং করে মুগ ডাল বলে বিক্রি, লাখ টাকা জরিমানা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মথ বীজকে রং করে মুগ ডাল বলে বিক্রি, লাখ টাকা জরিমানা

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে মথ বীজকে রং করে মুগ ডাল বলে বিক্রির অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে শহরের ছয়আনী বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়ার যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, টাঙ্গাইলের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন জেলা থেকে রং মেশানো মথ বীজ এনে মুগ ডাল বলে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে আসছেন। এ অভিযোগ পেয়ে শহরের ছয়আনী বাজারে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের প্রমাণও পেয়েছি। পরে যৌথভাবে দুই ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও যে ডাল বিক্রি করা হয়েছে, তা ফেরত এনে যেখান থেকে কেনা হয়েছে, সেখানে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দিয়ে মেমো দেখাতে বলা হয়েছে ব্যবসায়ীদের। অন্যথায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো, নকল ও ভেজাল খাদ্য বিক্রি না করতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে এসময়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. নভেম্বর ২০২৫ ০২:১৯:এএম ৮ মাস আগে
টাঙ্গাইলে যৌথবাহিনীর অভিযান,পরদিনই কান্দাপাড়ায় মাদকের রমরমা ব্যবসা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে যৌথবাহিনীর অভিযান,পরদিনই কান্দাপাড়ায় মাদকের রমরমা ব্যবসা

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের বেবিস্ট্যান্ড কান্দাপাড়া এলাকায় যৌথবাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের ২৪ ঘন্টা না পেরোতেই আবারও আগের মতই শুরু হয়েছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। এদিকে মাদকবিরোধী অভিযানের পর থেকেই পুনরায় মাদক ব্যবসা শুরু হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের যোগসাজশেই চলছে এই অবাধ মাদকের ব্যবসা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কান্দাপাড়া এলাকার “সোসাইটি ফর সোশ্যাল সার্ভিস পৌর আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের” প্রধান ফটকের কাছে প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। এখানে মোছা. সীমা, অনিতা রবিদাস ও লতা রবিদাসসহ আরও অনেকেই নিষিদ্ধ মাদক হিরোইন ও ইয়াবা বিক্রি করছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবকেরা মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহনে এসে এখান থেকে প্রকাশ্যেই মাদক ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিভিন্ন স্পটে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এইসব নিষিদ্ধ মাদক।

পাশের লিটন রবিদাস, রুনিয়া রবিদাস, চুতিয়া রবিদাস, দিপালি রবিদাসের বাসায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে চোলাই মদ, বাংলা মদ, কেরু এন্ড কোম্পানির বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ। এখানে দেখা মিলছে সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষদের। বিশেষ করে রিকশাচালক, অটোরিকশা চালক, সিএনজি চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এছাড়া শহরের উঠতি বয়সী বেশ কয়েকজন যুবকের মদ খেয়ে মাতলামি করতে দেখা গেল প্রকাশ্যেই।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও দিঘুলিয়া সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাজী ওমর ফারুক, স্থানীয় বাসিন্দা হাজী বাদশা মিয়া, মো. কবির হোসেন, মজিবুর রহমান, ব্যবসায়ী ববিতা আক্তার জানান, এই এলাকায় ভোর ৪টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যে বিক্রি করা হয়। এছাড়া এসব মাদকসেবীরা এলাকার বিভিন্ন দোকানে দিন-রাত আড্ডা দেয়। ফলে আমাদের ছেলে সন্তান দিন দিন বিপথে চলে যাচ্ছে। এলাকার মহিলা, শিশু-কিশোরসহ এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে। এইসম মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে প্রশাসনের যোগসাজশ রয়েছে। ফলে এলাকাবাসী বারবার বাধা দেওয়া সত্ত্বেও কোন ভাবেই এই মাদক বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

তারা আরও জানান, বিশেষ করে, একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি অত্যন্ত গহিত কাজ। আমরা এলাকাবাসী অবিলম্বে এই মাদকবিক্রি ও মাদক ব্যবসায়ীদের এলাকা থেকে উচ্ছেদের জোর দাবি জানাচ্ছি। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত উচ্ছেদ না করা হলে স্থানীয় যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছাবে।

টাঙ্গাইল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মো. ছাইফুর রহমান জানান, যেখানে মাদক থাকবে সেখানেই অভিযান চলবে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে শহরের কান্দাপাড়া এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়। এতে বেশ কয়েকজন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া ৩ হাজার লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণ ও ১০ লিটার চোলাই মদ ধ্বংস করা হয়। এসময় পাঁচ পুরিয়া হেরোইনও জব্দ করা হয়। মাদক রাখার দায়ে লাছিয়া রবিদাসকে গ্রেপ্তার ও টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‍‍্যাব, পুলিশসহ যৌথবাহিনীর একটি দল মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এতে বিপুল পরিমাণ দেশিও চোলাই মদসহ ৬ জন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. নভেম্বর ২০২৫ ০৪:৪৫:পিএম ৮ মাস আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।