একতার কণ্ঠঃ বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি বলেছেন, উৎপাদক থেকে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য অ্যাপস দেওয়া হচ্ছে। কোন মধ্যস্বত্ব ভোগী রাখা হবেনা। যাতে করে সাধারণ ক্রেতারা হয়রানি না হয়। কে মাল হোলসেল করলো আর কে কিনলো, শিগগিরই এ জন্য অ্যাপস দেওয়া হবে ।
মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) দুপুরে মন্ত্রী টাঙ্গাইল শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার ‘পার্ক বাজারে’ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মনিটরিং শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সারাদেশে যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছি, সে অনুযায়ী বাজারের ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছে। কয়েকটা জায়গায় কম মূল্যও বিক্রি করা হচ্ছে। চিনি ১৪০ টাকার জায়গায় ১৩৮ টাকাও বিক্রি করছে। তৈলও আমরা ১৬৩ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছি। কিন্তু খুচরা তারা ১৫৮ টাকা বিক্রি করছে। রমজান মাস উপলক্ষে সব কিছুর ঘাটতি থাকার কথা থাকলেও এখন কিন্তু বাজারে কোন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি নাই। রমজানে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমানে পণ্যের সরবরাহ রয়েছে। লেবুসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সব কিছুই বাজারে পর্যাপ্ত পরিমানে রয়েছে ৷ টাঙ্গাইলে লোকাল প্রশাসন যথাযথভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে ৷
তিনি বলেন, আমাদের কাজ হলো সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ নিশ্চিত করা ৷
এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃদন্দ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরে ইদানিং বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। একই সাথে তারা যুক্ত হচ্ছে মাদক সেবনের সাথেও। ফলে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে এইসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।
বিশেষ করে শহরের ক্যাপসুল মার্কেট, সবুর খান টাওয়ারের সামনের রাস্তা, ছয়আনি পুকুর পার, মাঝি পাড়া, আদালত পাড়া পুকুর পার, টাঙ্গাইল সরকারি বিন্দুবাসিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের বড় পুকুর পার, শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যান, শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের পেছনের নজরুল সেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাসহ পুরো গলি, টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানের বাঁশ বাজার, পরিত্যক্ত ভাসানী হল চত্বর সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে এরা দলবেঁধে মিলিত হয়। পরে শহর জুড়ে বিকট শব্দে হর্ন বাজিয়ে চালায় মোটরসাইকেল মহড়া।
এইসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন নামে গ্রুপ খুলে নিজেদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখে । কোন ঘটনা ঘটলেই এইসব গ্রুপের মধ্যেমে মুহূর্তেই সদস্যদের কাছে পৌঁছে যায় সেই খবর। এইসব ফেসবুক গ্রুপের মধ্যেমে কোথায় মিলিত হতে হবে, অপারেশন করতে হবে- এমন নির্দেশনাও পেয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট গ্রুপের সদস্যরা।
সম্প্রতি পৌর শহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের এক গ্রুপের সাথে অন্য গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা। ফলে প্রায় প্রতিদিনই কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। যে কোন সময় বেঁধে যেতে পারে বড় ধরনের সংঘর্ষ। ঘটতে পারে প্রাণহানির মতো ঘটনাও।
এছাড়া এইসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক সেবনের সাথেও যুক্ত রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জেলা সদরের সৌখিন মৎস্য শিকারি সমিতির আশপাশ এলাকা, পৌর এলাকার শামসুল হক মার্কেটের ২য় তলার খালি অংশ, টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানের বাঁশ বাজার, মালঞ্চ সিনেমা হলের আশপাশের এলাকা, শহরের শামসুল হক তোরণ, সরকারি গ্রন্থাগার, কোদালিয়া, নতুন বাস টার্মিনালের পিছনের লেকপার, বেড়াডোমা, মাঝি পাড়া, কাগমারা এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন চিহ্নিত স্পট থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে প্রকাশ্যেই সেবন করছে কিশোর গ্যাংয়ের এইসব বেপরোয়া সদস্যরা।
এছাড়া শহরে মাদকের সংকট হলেই তারা মাদক সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেল যোগে চলে যাচ্ছে, শহরতলীর গালা ইউনিয়নের মনতলা, মগড়া ইউনিয়নের ছোট বাসালিয়া, দাইন্যা ইউনিয়নের ছোট বিন্যাফৈর, বড় বিন্যাফৈর , চর ফতেপুর, শ্যামার ঘাট এলাকা, ঘারিন্দা রেল স্টেশন, সন্তোষ, অলোয়া জমিদার বাড়ির আশপাশের এলাকাসহ রাবনা বাইপাস ও নগরজলফৈ বাইপাস এলাকায়।
শুক্রবার (১৫ মার্চ) পৌর শহরের কলেজ গেট এলাকার হাতেম আলীর ছেলে মামুনকে বিশ্বাস বেতকা এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য পিয়াসের নেতৃত্বে গ্যাংয়ের সদস্যরা তুলে নিয়ে গিয়ে বেদম প্রহার করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠায়। পরে সেখান থেকে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। এবিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় আহতের মা মালেকা বেগম বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার (১২ মার্চ) রাতে টাঙ্গাইল আউটার স্টেডিয়ামে অবস্থিত টাঙ্গাইল ফুটবল একাডেমির ছাত্র তরুণ ফুটবলার মো. সজিব হোসেন (১৮) পৌর শহরের সাবালিয়া এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নুরু ও তার গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে বেদম প্রহারের শিকার হন। তার বাম হাত, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় বর্তমানে সে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইল ফুটবল একাডেমির কোষাধাক্ষ ও ইনচার্জ, রণজিৎ রায় জানান, ইতিমধ্যে বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
সম্প্রতি ডিসি লেকে বেড়াতে আসা বাসাইলের এক কলেজ ছাত্র কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দ্বারা শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কলেজ ছাত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সকালে সে ও তার এক বান্ধবী ডিসি লেকে বেড়াতে আসে। ডিসি লেকের শিশু পার্ক চত্বর থেকে একদল কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য তাদের আটক করে পাশের একটি ফাস্টফুডের দোকানে নিয়ে যায়। সে ও তার বান্ধবীকে তারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরে তাদের সাথে থাকা টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
সে আরও বলেন, ডিসি লেকের পাশে অবস্থিত বেশ কয়েকটি ফাস্টফুডের দোকানদারদের সাথে এইসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের যোগসাজশ রয়েছে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই ডিসি লেকে বেড়াতে আসা নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীরা এই ধরনের ঘটনার শিকার হচ্ছে।
টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ এর কয়েকজন দোকানদার জানান, প্রায় প্রতিদিনই ঈদগাহ্য়ের পশ্চিম পাশের বকুল গাছের নিচে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্কুল-কলেজের ছাত্রদের ধরে এনে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অত্যাচার চালায়। এসময় রেখে দেওয়া হয় তাদের টাকা-পয়সাসহ মোবাইল ফোন। প্রায় ক্ষেত্রেই এইসব ঘটনার পেছনে প্রেম সংক্রান্ত বিষয় জড়িত থাকে বলেও তারা জানায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিশোর গ্যাঙের দুই সদস্য জানান, টাঙ্গাইলের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক বড় ভাইয়ের আশীর্বাদে তাদের গ্যাংয়ে প্রায় ২৫ জন সদস্য রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁরা সেই ভাইয়ের পক্ষ হয়ে নিয়মিত মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে। তার পরিবর্তে তাদের সেই বড় ভাই বিভিন্ন ঘটনায় তাদের শেল্টার দিয়ে থাকে।
সরকারি সৈয়দ মহব্বত আলী ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, কিশোর গ্যাং তৈরি হয় সাধারণত সামাজিক অবক্ষয় ও রাজনৈতিক বড় ভাইদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে। বর্তমানে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় সামাজিক অবক্ষয় বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাও এই অক্ষয়ের অন্যতম কারণ। ফলে পরিবারে বাবা-মায়ের সাথে সন্তানদের এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে বাবা-মায়ের আদর-স্নেহ ও শাসন থেকে বঞ্চিত হয়ে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে তাদের সন্তানেরা। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি হচ্ছে কিশোর গ্যাং।
টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাবেক সভাপতি মইদুল ইসলাম শিশির বলেন, টাঙ্গাইল শহরে ইদানিং কিশোর গ্যাংয়ের বিচরণ লক্ষ করা যাচ্ছে। সাধারণত নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান ও উচ্চবৃত্ত পরিবারের সন্তানরা কিশোর গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত হচ্ছে। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা রুজি-রোজগারের আশায় কিশোর গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত হয়। আর উচ্চবৃত্ত পরিবারের বখে যাওয়া সন্তানেরা থ্রিলারের আশায় কিশোর গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, এই কিশোর গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত সদস্যদের পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে বুঝিয়ে শুনিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে। আর যারা ইতিমধ্যেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হয়ে গেছে তাদের দ্রুত শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে হবে। যেন ভবিষ্যতে কেও আর কিশোর গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত হতে সাহস না পায়।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার-ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব সারা বাংলাদেশেই আছে, একই অবস্থা টাঙ্গাইল শহরেও। বিষয়টি আমাদের জানা আছে। যখনই তারা কোন অপরাধমূলক ঘটনা ঘটাচ্ছে সাথে সাথেই সেই ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদকের সাথে যুক্ত হচ্ছে এটাও সত্য। এ কারণে তাদের দ্বারা অপরাধও বেশি সংঘটিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি কিশোর গ্যাং সৃষ্টির পিছনে রাজনৈতিক বড় ভাইদের হাত থাকে। এই কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কমাতে শুধুমাত্র প্রশাসনই নয়, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে এগিয়ে এলে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কমিয়ে আনা যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
প্রতিবেদক: মো. আরমান কবীর
সার্বিক সহযোগিতায়: সাহান হাসান
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
রবিবার (১৭ মার্চ) এ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, দোয়া ও মোনাজাত ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করা হয়।
রবিবার সকালে জেলা সদরের জনসেবা চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, সার্কিট হাউজ সংলগ্ন শেখ রাসেলের ম্যুরাল এবং শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় জেলা পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রবিবার সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে মিলিত হয়। পরে এখানে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসান বিন মুহাম্মদ আলী।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মো. ফজলুল হক বীর প্রতীক, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।
আলোচনা শেষে এ উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, র্যালি, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের সামনে কেক কাটার আয়োজন করা হয়।
এসব কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) প্রফেসর ডক্টর এআরএম সোলাইমান, ট্রেজারার প্রফেসর ডক্টর মো. সিরাজুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা ঠিকাদার সমিতির বার্ষিক বনভোজন ও নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে গোলাম কিবরিয়া বড় মনিকে সভাপতি এবং এম আর খান টুটুলকে সাধারন সম্পাদক করে এ কমিটি গঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) গাজিপুরের শিল্পী কুঞ্জ রিসোর্টে সর্বসম্মতিক্রমে আগামী দুই বছরের জন্যে এ কমিটি গঠিত হয়। একই সাথে আগামী তিন মাসের মধ্যে পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বাবু সুভাষ চন্দ্র সাহা। উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ তারেক পুলু। এছাড়াও জেলার সকল সরকারী বিভাগের তালিকাভুক্ত ঠিকাদারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশে ব্যপক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। সারাদেশের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এই উন্নয়নে ঠিকাদারদের ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের ঠিকাদাররা অত্যন্ত সততার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করছে।
বনভোজনে অংশ নেন, টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, আমি ঠিকাদারদের শুধুমাত্র ঠিকাদার মনে করিনা। ঠিকাদার হলো দেশের উন্নয়নের গুরুত্বপুর্ন সহযোগী অংশ। দেশের উন্নয়নে ঠিকাদারদের ব্যপক ভূমিকা রয়েছে। প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা দরকার।
ঠিকাদার সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনি বলেন, আমি দায়িত্বে থাকাকালীন আমার সর্বোচ্চ দিয়ে ঠিকাদারদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আগামীতেও আমি এভাবেই সকলের সেবা করে যেতে চাই।
নবনির্বাচিত সাধারন সম্পাদক এম আর খান টুটুল বলেন, ঠিকাদারদের স্বার্থ সংরক্ষন করাই সমিতির উদ্দেশ্য। আমি যতদিন দায়িত্বে আছি সকল ঠিকাদারদের সাথে নিয়ে এ স্বার্থ সংরক্ষন করে যাবো।
এদিকে টাঙ্গাইল জেলা ঠিকাদার সমিতির বার্ষিক বনভোজনে গাজিপুরের শিল্পী কুঞ্জ রিসোর্ট যেন এক মিলন মেলায় পরিনত হয়েছিল। জেলার ঠিকাদার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্যে ছিল দিনব্যাপী নানা আয়োজন। মধ্যাহ্নভোজ ছাড়াও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যাফেল ড্র ছিল আয়োজনের সেরা আকর্ষন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) জেলা প্রশাসন, জেলা আওয়ামীলীগ, ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালনের মধ্যে দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
দিনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল- পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও শহিদ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতি ও মুর্যালে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, আবৃত্তি, রচনা, চিত্রাংকন, সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, ডকুমেন্টারি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত ইত্যাদি।
জেলা প্রশাসনের পক্ষে জনসেবা চত্বরে রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের পক্ষে চেয়ারম্যান একুশে পদকপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষে জেলা কার্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ক্যাম্পাসে উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেন বঙ্গবন্ধু ও শহিদ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়া জেলা পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক। বরেণ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান আনছারী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ওলিউজ্জামান, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।
শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আসন্ন রমজানে বাজার পরিস্তিতি ও খাদ্য বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ মার্চ) সকালে কনজুমারস এসোনিয়েশন টাঙ্গাইল জেলা শাখার আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সন্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো.ওলিউজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দীন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এড. জাফর আহমেদ ও জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মো.সিকদার শাহীনুর আলম।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন কনজুমারস এসোসিয়েশন টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মন্জু রানী প্রমানিক, সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল, কৃষি বিপননীর কর্মকতা ফারজানা আক্তার ও পার্ক বাজার সমিতির সভাপতিসহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তারা।
এসময় বক্তারা বলেন, আসন্ন রমজান উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বক্তারা আরও বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী ভালো নেই। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে আকাশ ছুঁয়েছে, তাতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। এপরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ভোক্তার জন্য বাজার করা আর্থিক ও মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আলোচনা করেন মতবিনিময় সভার বক্তারা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকায় চার রেস্তোরাঁ মালিকদের দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান বিন মুহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট হাসান বিন মুহাম্মদ আলী জানান, অগ্নিকান্ড প্রতিরোধ ও নির্বাপকের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত পরিমান না থাকায় এবং ফায়ার লাইসেন্স না থাকায় পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের সুরুচি রেস্টুরেন্টকে এক লাখ টাকা, সুগন্ধা ও ঝাউবন রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার টাকা করে এবং সেফাত রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনেক রেস্তোরায় এলপিজি গ্যাস ঝুঁকিপূর্নভাবে ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তাদের সতর্ক করা হযেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি (কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট) ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১১জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা কেউ শঙ্কামুক্ত নন। আর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৭৫ জনকে। ফলে এধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে টাঙ্গাইল শহরবাসী।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অটোরিক্সার ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে দিনব্যাপী জেলা অটোরিক্সা , টেক্সি ও অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে শ্রমিকরা অটোরিক্সা বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা।
সরেজমিনে রবিবার সকালে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড, নিরালা মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ডিস্ট্রিক আদালত চত্বর, বটতলা মোড় ও শান্তিকুঞ্জ মোড়ে কোন অটোরিক্সা চলতে দেখা যায়নি। এতে বিকল্প হিসেবে সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় যাত্রীরা চলাচল করেন। এ সুযোগে যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়েছে। অনেকে আবার হেঁটেই গন্তব্যে গিয়েছেন।
সাব্বির মিয়া নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, অটো শ্রমিকদের এ আন্দোলন ও দাবি অযৌক্তিক। তারা অটো বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। আমরা অটো না পায়ে, হেঁটে পরীক্ষার কেন্দ্রে যাচ্ছি।
আল মুতাকাব্বির সামি বলেন, বর্তমানে যে ভাড়া আছে সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু এর চেয়ে বেশি ভাড়া হলে সেটা সাধারণ মানুষের উপর বোঝা হয়ে যাবে। তাদের এ দাবি এক প্রাকার জিম্মি করার মতো। আমরা এ দাবি মানবো না।
জেলা অটোরিক্সা, টেক্সি ও অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন উল্লাস বলেন, শ্রমিকরা সারাদিনে যে ভাড়া পায়, তা দিয়ে তাদের সংসার চলে না। সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আমরা আন্দোলন করছি। জেলায় চার হাজারের বেশি অটোরিক্সার শ্রমিক রয়েছেন।
সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমেছে। ইতোপূর্বে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসক ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়রকে জানিয়েছি। এর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, শ্রমিকরা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি নিয়ে পৌরসভায় এসেছিলেন। আমি সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা শুনে দ্রুত আন্দোলন প্রত্যাহার করে অটোরিকশা চালু করতে বলেছি। ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি প্রশাসন সাংবাদিকসহ সকল পেশার মানুষের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদীর ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম। জেলা প্রশাসকের ডাকে সাড়া দিয়ে সারাদেশ থেকে টাঙ্গাইলে এসেছে ‘বিডি ক্লিন বাংলাদেশে’র প্রায় দুই হাজার সেচ্ছাসেবক।
তারাই এ নদীর ময়লা, আবর্জনা আর বর্জ্যের ভাগাড় নিমিষে পরিষ্কার করেন।
শুক্রবার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯ টায় পৌর শহরের হাউজিং মাঠ এলাকায় লৌহজং নদীর ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওলিউজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দিন, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়ক জহিরুল ইসলাম রবি, টাঙ্গাইল জেলার সমন্বয়ক এমরান রহমান অনিম প্রমুখ।
শুক্রবার সকালে বিডি ক্লিনের দুই হাজার সদস্যরা প্রথমে টাঙ্গাইল পৌর শহরের হাউজিং মাঠে জড়ো হন। এরপরে শপথ বাক্য পাঠ করে নেমে পড়ে নদীর ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে।
জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌর এলাকার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী লৌহজং নদী। এই নদীকে ঘিরে এক সময় মানুষের জীবন জীবিকা নির্বাহ হতো। তবে বর্তমানে নদীটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন ময়লা আর আবর্জনা এসে আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছিল এই নদীটি।
২০১৬ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক নদীটি পুনঃখনন ও দূষণমুক্ত করতে কাজ শুরু করে। আংশিক অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করলেও পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অতিদ্রুত নদীটি পুনঃখনন এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ না করা হলে মানচিত্র থেকে এই নদী হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন স্থানীয় জনসাধারণ। বর্তমান জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম তিন কিলোমিটার নদী উদ্ধারের উদ্যোগ নেন। এখন নদীটি প্রাণ ফিরে পাবে।
স্থানীয়রা জানান, লৌহজং নদীটি সদর উপজেলার যুগনী থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত ৭৬ কিলোমিটার। এক সময় শহরের নিরালাড়া মোড় এলাকায় নৌবন্দর ছিল। দেশ-বিদেশ থেকে লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ ও বড় বড় নৌকা আসতো এ নৌবন্দরে। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল এখানে। বর্তমানে সব কিছুই যেন রূপকথার গল্প।
স্থানীয় তারেক মিয়া বলেন, ময়লার ভাগাড়ে ও অবৈধ দখলদারদের কারণে নদীটি মরা খালে পরিনত হয়েছিল। জেলা প্রশাসক নদী উদ্ধারের যে কাজ হাতে নিয়েছে এখন নদীটি প্রাণ ফিরে পাবে।
বিডি ক্লিনের সদস্য সেলিম মিয়া বলেন, জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলামের আহ্বানে আমরা দুই হাজার সদস্য কয়েকটি বাসে করে ঢাকা থেকে শুক্রবার টাঙ্গাইলে এসে পৌঁছাই। স্বেচ্ছাশ্রমে এ কাজ করে আমাদের অনেক ভালো লাগে। এ সামাজিক কর্মকাণ্ডে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।
জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম বলেন, লৌহজং নদী দীর্ঘ মেয়াদি পূর্ন উদ্ধারের অংশ হিসেবে শুক্রবার আমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিয়ান শুরু করেছি। বিডি ক্লিনসহ সবার সহযোগিতায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছি। নদীর দু’পাড় দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম এগুলো ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নিয়মিত ভাবে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করে লৌহজং নদী দীর্ঘদিনের পুরোনো যে নদীর পানি প্রবাহ ছিল সেটি ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সকল কার্যক্রম গ্রহণ করবো।
উল্লেখ্য, পৌর শহরের হাউজিং ব্রিজ পাড় এলাকা থেকে শুরু করে বেড়াডোমা ব্রিজ পাড় পর্যন্ত তিন কিলোমিটার নদীর বর্জ্য পরিষ্কার করল বিডি ক্লিনের ঢাকাসহ টাঙ্গাইলের দুই হাজার সদস্যরা। আর এই কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেছে জেলা প্রশাসন ও টাঙ্গাইল পৌরসভা।
একতার কণ্ঠঃ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ন থাকা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) সেবা পদক পেলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।
মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম পদক তাকে পরিয়ে দেন। সরকার মোহাম্মদ কায়সার অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত।
এ সময় ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজি), চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বিপিএম (বার), পিপিএম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি জনাব সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বিপিএম (বার) পিপিএম , পুলিশ সদর দপ্তরের সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সরকার মোহাম্মদ কায়সার ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর টাঙ্গাইলে যোগদান করেন। তার পর থেকে তিনি টাঙ্গাইলে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র-ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত ক্যাপসুল মার্কেটের পশ্চিম পাশের পার্কিংয়ের জায়গায় অবৈধ ভাবে বসানো ছোট-বড় ১০টি ফুচকা-চটপটি ও ফাস্টফুডের দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।
একই সাথে টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা, ভিক্টোরিয়া রোডে বসানো ৫টি ভ্রাম্যমান ফাস্টফুডের ফুড-কার্ট দোকানও উচ্ছেদ করা হয়।
বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঘন্টাব্যাপী এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
টাঙ্গাইল পৌরসভার সহযোগিতায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোহাইমিনুল ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, প্যানেল মেয়র মো. হাফিজুর রহমান স্বপন, কাউন্সিলর মো. জহুরুল ইসলাম আজাদ, মো. সাইফুল ইসলাম, মুন্না চৌধুরীসহ টাঙ্গাইল জেলা প্রসাশন ও পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোহাইমিনুল ইসলাম জানান, রাস্তায় যানবাহন ও ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে টাঙ্গাইল পৌরসভার অধীন ক্যাপসুল মার্কেট ও তৎসংলগ্ন এলাকা, শহীদ জগলু রোড, খালপার রোডসহ সুপার মার্কেটের সামনে ছোট-বড় অবৈধভাবে বসানো দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযান প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, রাস্তার পাশে ও ফুটপাতের উপর দোকান বসানোর কারনে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে অসুবিধার জন্য এইসব দোকান মালিকদের পূর্বেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিলো। একই সাথে মাইকিংও করা হয়েছিলো। কিন্তু তারা সেটি তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো। তাই সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র-ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত পৌরসভার ক্যাপসুল মার্কেটের পশ্চিম পাশের পার্কিংয়ের জায়গায় পৌরসভার একশ্রেণীর কর্মচারীদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ফুচকা-চটপটি ও ফাস্টফুডের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ দোকান পরিচালনা করে আসছিল একটি চক্র। ফলে প্রচন্ড রকমের ব্যস্ত ভিক্টোরিয়া রোডের এই অংশে সব সময় যানজট লেগেই থাকতো।
এছাড়া ক্যাপসুল মার্কেটের সামনে অবস্থিত টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে প্রচন্ড অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে আসছিল। ফলে বেশ কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রচারিত হওয়ার ফলে জনমত তৈরি হয়। বুধবার জেলা প্রসাশন, পৌর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে পৌরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. নুর আলমকে (৪৯) প্রায় ২৮ বছর পর গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন বন্দর থানার গোরস্থান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত নুর আলম টাঙ্গাইল পৌরসভার ভাল্লুককান্দি এলাকার ফজলুল হকের ছেলে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার এসআই মো. সোহেল জানান, ১৯৯৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর পৌরসভার বেবিস্ট্যান্ড এলাকার মো. রফিককে তুলে নিয়ে যমুনা নদীর চরে গলাটিপে হত্যা করা হয়। পরে নিহত রফিকের বাবা আরশাব আলী বাদি হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সদর থানার পৌরসভার ভাল্লুককান্দি এলাকার ফজলুল হকের ছেলে মো. নুর আলম ও একই এলাকার মাহতাবের ছেলে লতিফকে অভিযুক্ত করা হয়।
তিনি আরও জানান, শুনানী শেষে ১৯৯৫ সালে টাঙ্গাইলের সেশন জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল কুদ্দছ রায়ে দু’জন আসামিকেই যাবজ্জীবন স্বশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন। রায়ের পর থেকে আসামি মো. নুর আলম ও লতিফ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্ন স্থানে নানা নাম-পরিচয় ব্যবহার করে বসবাস করছিলেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর পর হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. নুর আলমকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই মামলায় পলাতক আসামি লতিফকেও দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।