আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আহবানে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের ৫০তম দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ মে) সকাল ১১ টায় টাঙ্গাইল নিরালা মোড়ে অবস্থিত সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণে নদীর ধারাকে বাধাগ্রস্থ করে একতরফা ভাবে নিজেদের অনুকূলে পানি প্রত্যাহার করেছে ভারত। যা বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠেছে। আলোচনা সভায় অবিলম্বে বাংলাদেশে ভারত কর্তৃক অবৈধ বাঁধ প্রত্যাহার এবং ফারাক্কা সমস্যা সমাধানের দাবি করা হয়।
আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বুলবুল খান মাহবুবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক শানুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার নাজিমউদ্দিন, আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির সদস্য এডভোকেট আল রুহী, মাওলানা ভাসানী ছাত্র ফাউন্ডেশনের নেতা নুরুল ইসলাম, সদর থানা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ন-সম্পাদক এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব ও হারুন অর রশিদ প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ ‘কবিতা, তুমি স্বপ্নচারিণী হয়ে খবর নিও না’, ‘দিওয়ানা দিওয়ানা তোমার প্রেমের দিওয়ানা’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া’ ‘দশ মাস দশ দিন ধরে গর্ভে ধারণ’ ‘আসবার কালে আসলাম একা’, ‘দুষ্ট ছেলের দল’, ‘বিজলী চলে যেওনা’, ‘মীরা বাঈ’, ‘পাগলা হাওয়ার তোড়ে’, ‘না জানি কোহি’সহ জনপ্রিয় অনেক গান গেয়ে টাঙ্গাইল মাতালেন নগর বাউল জেমস।
মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫ (বিবিএফসি) উপলক্ষে আয়োজিত ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক দর্শককে মাতালেন এই রকস্টার।
দর্শক-শ্রোতাদের উল্লাসে নিজেও মেতে উঠেন তিনি। গানে গানে ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান রঙিন করে তুলেন জেমস। এছাড়াও পারফর্ম করেন টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্যান্ড শিল্পীরা। বিকাল থেকেই শুরু হওয়া কনসার্ট চলে রাত পর্যন্ত।
এর আগে দুপুর থেকে টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলাসহ আশপাশের জেলা থেকে জেমসের ভক্তরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হওয়া শুরু করেন।
আয়োজক কমিটি জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন চ্যাম্পিয়নশিপের চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুসহ বিএনপি ও আয়োজক কমিটির নেতারা।
টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়ার মারুফ হাসান বলেন, মঞ্চে জেমস মানেই যেন অন্যরকম উন্মাদনা। দর্শকদের পাগলামো আর হৈ-হুল্লোড়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রকস্টারও মেতে উঠেন।
শহরের আকুর-টাকুর পাড়ার বাসিন্দা ষাটোর্ধ আজগর আলী বলেন, ইতোপূর্বে টাঙ্গাইলে এত দর্শক নিয়ে কেউ প্রোগ্রাম করতে পারেনি। মঙ্গলবার শহিদ মারুফ স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। সব মিলিয়ে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল।
কলেজছাত্র সুমাইয়া রহমান বলেন, অনুষ্ঠানে আসতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। গুরু জেমসের গান শুনে তা পূরণ হয়েছে। জেমস টাঙ্গাইলে এসে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন।
চ্যাম্পিয়নশিপের চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের শিল্পীদের ব্যান্ডিং করার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রাম আমরা হাতে নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিন্দুবাসিনী চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। আমাদের প্রথমেই লক্ষ্য রাখতে হবে- সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, ১৭ বছর পরে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। তারেক রহমানের নির্দেশে ফ্যাসিবাদ বিদায়ের জন্য সকলে মিলে ভূমিকা পালন করেছে। সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আদর্শিক টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। সবার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফল হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়েছে।
আরমান কবীরঃ শতাব্দি প্রাচীন ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্বেও টাঙ্গাইল পৌরসভার অধিকাংশ সড়কের বর্তমানে বেহাল দশা। শহরের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পৌর কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া সড়ক গুলোর সাথে সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই প্রতিবছর শহরে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এই ভাঙ্গাচোরা রাস্তাঘাট ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে শহরবাসীর দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা পৌরবাসীর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বটতলা-বেবিস্ট্যান্ড সড়কটির বেহাল দশা। শহরের যানজট নিরসনে এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার পরেও দীর্ঘদিনধরে কোন ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে ট্রাক-বাসসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে এই সড়কে।
শহরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্লাব রোড। এই সড়কটি মূলত একটি লিংক রোড। যা শহরের ব্যস্ততম জেলা সদর রোড ও ভিক্টোরিয়া রোডকে যুক্ত করেছে। পৌর ভবন থেকে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা। এছাড়া এই সড়কটিতে নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সারাবছর এই সড়কের একটি অংশ পচা ড্রেনের পানিতে ডুবে থাকে।
শহরের মালঞ্চ সিনেমা হল-সাহাপাড়া-বাজিতপুর সড়কটি বৃষ্টি হলেই পানির নিচে ডুবে যায়। যে কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের পোহাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। এছাড়া জমে থাকা ড্রেনের পানি গিয়ে ঢুকে পড়ে বসত বাড়িতে। ফলে ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দিসহ বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগের প্রকোপ এইসব এলাকায় বেশি দেখা যায়।
এছাড়া শহরের জেলা সদর হয়ে ধুলেরচর মাদ্রাসা মোড় পর্যন্ত সড়কটির খুবই বেহাল দশা। নতুন বাসস্ট্যান্ডের যানজট এড়াতে অনেকেই এই সড়কটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন। বর্তমানে এই সড়কে কোন সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল চলাচল করতে চায়না। ফলে শহরের ১ ও ২ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দাসহ জেলার উত্তর অংশের মানুষদের শহরে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে । এই সড়কটি জেলা গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন।
এছাড়া ৩নং ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম ব্রিজ থেকে মেসের মার্কেট পর্যন্ত সড়কটি ভেঙেচুরে বর্তমানে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিকল্প সড়ক হিসেবে হাউজিং এস্টেটের সড়ক ব্যবহার করে অনেকটা ঘুরে শহরে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।
পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের দিঘুলিয়া নিজাম উদ্দিন সড়কের শাহ্ আলমের বাড়ি থেকে কাজীবাড়ি পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা। সড়কটিতে নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাটু পরিমাণ পানি জমে যায়। এরফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী জহির সুমন বলেন, এই সড়ক ব্যাবহার করে দুটি প্রাইমারি স্কুল ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াত করে। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি ডুবে যাওয়ার ফলে, তাদের বিদ্যালয় যেতে চরম সমস্যা তৈরি হয়। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা এই সড়কটি ব্যবহার করে, শহরে যাতায়াত করে। স্থানীয়দের শহরে আসার একমাত্র সড়ক এটি। এই সড়কটির দ্রুত উন্নয়নের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
টাঙ্গাইল কোর্টের আইনজীবি জসীমউদ্দীন বলেন, আদালত প্রাঙ্গনের রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমানে রাস্তাটির সলিং উঠে গিয়ে রড বেড় হয়ে গেছে। বের হয়ে থাকা এইসব রডের সাথে বেজে প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। জেলা সদরের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত মেরামতের জোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া এই সড়কে নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি পানিতে ডুবে থাকে। রাস্তা মেরামতের সাথে সাথে রাস্তার ড্রেন নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কলেজ পাড়া এলাকার নিক্সন খান বলেন, বটতলা-বেবিস্ট্যান্ড সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইল শহরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।
টাঙ্গাইল জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু বলেন, পৌর শহরের অধিকাংশ সড়ক বর্তমানে ব্যাবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া শহরে নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতার তৈরি হয়। টাঙ্গাইল শহরের রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা সবাই সরকারি আমলা। তাদের জনসম্পৃক্ততা নেই বললেই চলে। ফলে তাদের কাছে অভিযোগ করেও কোন লাভ হচ্ছে না। জনগণের সাথে সম্পৃক্ত এমন প্রশাসক নিয়োগ দিলে শহরের রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি আশাকরি।
টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল বলেন, জেলা সদর থেকে ধুলেরচর মাদ্রাসা মোড় পর্যন্ত সড়কটি গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন। বর্তমানে গণপূর্ত বিভাগের বাজেট না থাকায় টাঙ্গাইল পৌরসভাকে রাস্তাটি মেরামতের অনুরোধ করা হয়েছে। শহরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি মেরামতের বাজেট টাঙ্গাইল পৌরসভা মন্থনালয়ে প্রেরণ করেছে। আশাকরি অতিদ্রুতই রাস্তাটির মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় টাঙ্গাইল ও পৌরসভার প্রশাসক শিহাব রায়হান বলেন, রাস্তাগুলোর বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। পর্যায়ক্রমে দ্রুত রাস্তাগুলো মেরামত করা হবে। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থারও উন্নতকরন করা হবে।
আরমান কবীরঃ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র জনতা।
শনিবার (১০ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে তারা। পরে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক আল আমিন, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম, মুখ্য সংগঠক ইমতিয়াজ জাবেদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব ফারদিন ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় আন্দোলনকারীরা বলেন, আওয়ামী লীগকে অতিদ্রুতই নিষিদ্ধ করতে হবে। এখন পর্যন্ত কি কারণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলো না তা আমরা জানতে চাই। আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। অনেকেই এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন বক্তারা।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে গলায় ফাঁস দিয়ে ইশীকা আরাত (২০) নামের এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৯ মে) দুপুরে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পুরাতন বটতলা মুরগির বাজার এলাকার এক বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
নিহত ঈশীকা আরাত পৌরসভার বাগানবাড়ি এলাকার আমিনুল ইসলামের মেয়ে। সে বটতলা এলাকার মালেক ভূঁইয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন।
বাগান বাড়ি এলাকার স্থানীয়রা জানান, ঈশীকার ৩ বছর আগে হাজরাঘাট এলাকার রিয়াদ খানের সাথে বিয়ে হয়েছিল। তাদের ২ বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। তাদের সংসারে বনি-বনা না হওয়ায় এক বছর আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে বাগান বাড়ি এলাকার একটি ছেলের সাথে তার আবারও বিয়ে হয়। সে সংসারও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিছুদিন পূর্বে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরিবারের সাথে তার সম্পর্ক ভাল ছিল না বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। যে কারণে সে বটতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেমরাজুল ইসলাম রুবেল একতার কণ্ঠ-কে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আরমান কবীর: গাজীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর হামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সোমবার(৫ মে) সন্ধ্যায় এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা এই মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়। পরে মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এসে পথসভায় মিলিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) টাঙ্গাইল শাখার সদস্য সচিব আবু আহমেদ শের শাহ, সহ মুখপাত্র মাহামির খান, যুগ্ম আহবায়ক মনসুর হেলাল, এনসিপির সংগঠক মাসুদুর রহমান রাশেল, কামরুজ্জামান শাওন, খন্দকার মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।
এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)’র অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ রোহিঙ্গা ইস্যুতে করিডোর নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমির মালিক এই দেশের জনগণ। সেটি আপনি যদি কাউকে ব্যবহার করতে দেন তাহলে জনগণের অনুমতি লাগবে। এই জমিটি আপনি অন্যকে ব্যবহার করতে দিবেন কিনা যারা মালিক অবশ্যই তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত। কাজটি দ্রুত এই দেশের জনগণের যে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
শনিবার (৩ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের করিডোর কেউ ব্যবহার করবে সেটি জনগণ জানবে না সেটি হতে পারে না। দেশটি সকলের। সকলের আগে বাংলাদেশ। আমাদের দেশের স্বার্থ আমরা সকলে মিলে রক্ষা করবো।
তিনি বলেন, এই দেশের মালিক এই দেশের জনগণ। দেশের মালিকানা, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার মানুষ ফেরত চায়। বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তিন কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার তারা ভোট দিতে পারেনি। এই দেশের মালিক কেউ এককভাবে নয়। ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, বিদায় হওয়ার পর একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হবে এটাই মানুষের প্রত্যাশা। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন সেটিই বিএনপি চাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। তাকে বরণ করার জন্য আনন্দিত সকলেই।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ লাইন্স আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান প্রমুখ।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ মে ) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ফুটবলার শামীম আল মামুন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৪ এপ্রিল খোকন আহমেদ নামের এক ব্যক্তি বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় আমাকে ২০নং আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠক মো: উজ্জল মিয়া, ইসলাম খান ও এনামুল হক রৌফকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখিত আমরা ৪ জন টাঙ্গাইল জেলা দলের হয়ে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলেছি। আমরা কেউ রাজনীতির সাথে জড়িত নই। আমি ও আমার স্ত্রীসহ গত বছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বহির্গমন করি এবং একই মাসের ২৭ তারিখে চিকিৎসা শেষে পুনরায় দেশে ফিরে আছি। যার প্রমাণ আমার পাসপোর্টের ভিসা, ইমিগ্রেশনে বহির্গমন, অন্তগমন সিল।
আর মামলার নথিতে ঘটনার বিবরণীতে বলা হয়েছে, অপরাধ সংগঠিত হয়েছে গত বছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখ সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে। যেখানে আমি দেশেই উপস্থিত ছিলাম না, আমি কিভাবে এই অপরাধ সংগঠিত করি। একই অবস্থা মামলার ১১০নং আসমি মো: উজ্জল মিয়ার। তিনিও উন্নত চিকিৎসার জন্য উল্লেখিত সময় চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। যার প্রমাণ আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মামলার ১৮নং আসামি সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিক্রেট কোচ ইসলাম খান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ও তার ক্রিকেট একাডেমির ছাত্ররা আন্দোলনের প্রতিটি মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছে। যার প্রমাণ স্বরূপ আন্দোলনে অংশগ্রহণের ছবি আপনাদেরকে দেখানো হয়েছে। মামলার ৮৮নং আসামি টাঙ্গাইলের সাবেক কৃতি ফুটবলার এনামুল হক রৌফ তার দু’বছর আগে ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে। তিনি ঘটনার দিন অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামীম আল মামুন জানান, টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলী ইমাম তপন ও বিসিবি নিয়োজিত টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ মো. আরাফাত রহমান এই মিথ্যা মামলার মূল কারিগর। তারা জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে বর্তমানে কুক্ষিগত করে রেখেছে। তাদের হাত থেকে জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা করায় আমাদের এই ৪ জন সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠককে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা এই মিথ্যা, হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেলার বর্তমান ও সাবেক খেলোয়ারদের নিয়ে একটি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইসলাম খান, মো. হামিদুর রহমান, মেহেদী ভূঁইয়া, নজরুল ইসলাম, এনামুল হক, রাশেদুল আলম মনি, মো. উজ্জ্বল মিয়া প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলাম।
এর পূর্বে সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে একই দাবিতে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রায় ২ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২ মে) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বমোট ৭২ হাজার ৬২ পরীক্ষার্থী আবেদন করে। মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ১ হাজার ৮১৯ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করে।
জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় এবং ফলাফল প্রকাশিত হয় ২৮ এপ্রিল। আগামী ৯ মে ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
‘এ’ (বিজ্ঞান) ইউনিটে আবেদন করে এক লাখ ৪২ হাজার ৭১৪ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এ’ ইউনিটে আবেদন করে সাত হাজার ৩০৭ জন পরীক্ষার্থী।
উল্লেখ্য, জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ।
কমিটির আহ্বায়ক ও মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, দেশের জিএসটি গুচ্ছভুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভাইস-চ্যান্সেলরদের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে ‘সি’ ও ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আগামী শুক্রবার ৯ মে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষাও সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে হবে বলে আশা করছি। পরীক্ষা চলাকালীন পর্যন্ত দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি ভর্তি পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
আরমান কবীরঃ জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে শত বছরের ঐতিহ্য টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা ইউনিয়নের জামুর্কীর সন্দেশ।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ব মেধা সম্পদ দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর আয়োজিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের কাছ থেকে স্বীকৃতি সনদ গ্রহণ করেন। এ ছাড়া মধুপুরের আনারসের জিআই নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জামুর্কীর সন্দেশ স্থানীয়ভাবে কালিদাসের সন্দেশ হিসেবে পরিচিত। প্রায় শত বছর ধরে এই এলাকাসহ দেশব্যাপী এই সন্দেশ রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারের আমলা, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ব্যক্তিসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। সুস্বাদু এই পণ্য কালিদাসের সন্দেশ হিসেবে একনামে সবার কাছে পরিচিত। এর গুণগত মান নিয়ে কখনো প্রশ্ন ওঠেনি।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী বাজারে সাদামাটাভাবে স্থাপিত এই সন্দেশের দোকান। দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসে এই সন্দেশ কিনতে। বর্তমানে দোকানটি পরিচালনা করেন সমর সাহা। তার বাবাও এই দোকান পরিচালনা করতেন। জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় দোকানি এবং স্থানীয়দের মধ্যে খুশির জোয়ার বইছে। প্রতিদিন গুড় ও চিনির স্বাদে দুই ধরনের কয়েক মন সন্দেশ বিক্রি হলেও এর সঠিক হিসাব দেননি ব্যবসায়ী সমর সাহা।
সঠিক হিসেব না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন বলেন, সরকার ভ্যাট ট্যাক্স বসাবে। আমাকে বেশি দামে বিক্রি করতে হবে। এতে ব্যবসায় মন্দাভাব চলে আসবে। বর্তমানে প্রতি কেজি সন্দেশ ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় পাকুল্যা গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার পণ্য জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। এই স্বীকৃতিতে বর্তমান সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম আরিফুল ইসলাম বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের চেষ্টায় মির্জাপুরবাসীর চাওয়াকে সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা এই এলাকা ও জেলার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।
সাহান হাসানঃ ছয় দফা দাবিতে টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচী পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।
কারিগরি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা।
সারাদেশ ব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসাবে মঙ্গলবার টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়াম রুমে একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে একটি মিছিল বের করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পুরো ক্যাম্পাস ও প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে অচল করে দেয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত তারা এই শাটডাউন অব্যাহত রাখবেন। এদিকে, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের( এলজিইডি) জেলা কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের উপস্থিতিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রসঙ্গে দুদক জানায়, জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতি, একাধিক প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না করেই বিধিবহির্ভূতভাবে অগ্রিম বিল উত্তোলন, এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে গ্রাম-গঞ্জের রাস্তা এবং ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজের গুণগতমান বজায় না রাখা এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে এলজিইডি’র বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ কর্তৃক নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
দুদক টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মো. নুর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক। অভিযোগ গুলো মাঠ পর্যায়ে গিয়ে যাচাই বাছাই করা হবে। পরবর্তীতে জেলার কালিহাতী, মধুপুর, ভূঞাপুর ও সখীপুর উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।