আরমান কবীরঃ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ওএসডি হওয়া শিক্ষক নাদিরা ইয়াসমিনকে টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত কলেজে বদলির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
সোমবার (২ জুন) সকালে কলেজের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীরা ওই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। এসময় শিক্ষার্থীরা নাদিরা ইয়াসমিনকে যোগদান করতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তাকে চাকরিচ্যূত করার দাবি জানান।
কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন, কলেজের শিক্ষার্থী ফাহাদ, জিয়াদ মিয়া, শাহরিয়ার, তরিকুল ইসলাম টুটুল প্রমুখ।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, নাদিরা ইয়াসমিন ইসলাম ধর্ম, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া কুরআনের উত্তরাধিকার আইন নিয়েও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন। ফলে তার উপস্থিতি কলেজের ধর্মীয় পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা কোনোভাবেই এমন বিতর্কিত শিক্ষককে কলেজে স্থান দেবো না।
পরে কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মিয়ার কাছে দুই দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করে শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, রবিবার (১ জুন) ধর্ম অবমাননার অভিযোগের পর ওএসডি হওয়া ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে সংযুক্ত থাকা সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিনকে টাঙ্গাইলের সা’দত সরকারি কলেজে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি জানাজানি হলে সন্ধ্যার পর থেকে সরকারি সা’দত সরকারি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে রবিবার রাত ৯টার দিকে কলেজের ওয়াজেদ আলী খান পন্নী হলের সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচি থেকে নাদিরা ইয়াসমিনের সরকারি সা’দত কলেজে যোগদানের প্রজ্ঞাপন ৪ জুনের আগেই বাতিলের দাবি জানান তারা।
সরকারি সা’দত কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ তালুকদার বলেন, বিষয়টি আসলে বিব্রতকর। যদি নাদিরা ইয়াসমিনকে যোগদানকে কেন্দ্র করে কোনো বাঁধা আসে, তাহলে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রয়োজনে যোগদান না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবো হবে।
এরআগে, ২৫ মে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের পর শিক্ষক নাদিরা ইয়াসমিনকে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই আবার নতুন আদেশে তাকে বদলি করা হয়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ‘হিস্যা’ নামে একটি ম্যাগাজিনে ‘বিতর্কিত লেখা’ ছাপানোর অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানায় হেফাজতে ইসলাম। হেফাজতে ইসলামের ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের’ আলটিমেটাম দেওয়ার পর নরসিংদী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিনকে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে রানা আহাম্মেদ নামের এক ঠিকাদারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও ফাঁকা গুলির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৬ মে) দুপুরে শহরের বেলটিয়াবাড়ী এলাকার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের বেলটিয়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত রানা আহাম্মেদ (৫৫) শহরের পলাশতলী এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারী পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী হাসান সাদিক বলেন, ‘রানাসহ আমরা পাঁচজন ঠিকাদার বেলটিয়া মোড়ের একটি চায়ের দোকানে একত্রে বসে ছিলাম। এসময় সন্ত্রাসীরা রানাকে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে রড দিয়ে পেটাতে শুরু করে। ভয়ে তার কাছে যেতে পারিনি। পরে আমাদের ডাক-চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে ৬ থেকে ৭ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দুইটি রিভলবার দিয়ে চার থেকে পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে দ্রুত একটি অটোরিকশায় করে রাবনা বাইপাসের দিকে চলে যায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রানা আহাম্মেদের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি পক্ষের সাথে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, জমি সংক্রান্ত বা ঠিকাদারী কোনো দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
হামলায় আহত রানা আহাম্মেদ বলেন, পেশাগত কাজে আমি বেলটিয়াবাড়ী মোড় বিদ্যুৎ অফিস থেকে বের হলে কয়েকজন সন্ত্রাসী আমাকে ঘিরে ধরে। তাদের মধ্যে দুইজন দুই দিক থেকে দুটি পিস্তল আমার মাথায় ঠেকায়, তারপর ২ থেকে ৩ জন আমাকে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। পরে আমি মাটিতে লুটিয়ে পরি।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক হাশিম রেজা বলেন, তার শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
এই বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহম্মেদ জানান, ঘটনা শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়ে।ছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে টাঙ্গাইল থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশ।
রবিবার (২৫ মে) রাতে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম হায়দার রহমান জয় (২১)। সে টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সারুটিয়া এলাকার মো. নাহিদা মিয়ার ছেলে। জয় করটিয়া সাদা’ত কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র। বর্তমানে তার পরিবার টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার ছাতা মসজিদ সংলগ্ন মো. শিকদার মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানায় লিখিত অভিযোগটি করেন বিএনপি’র মহাসচিবের পক্ষে তার চাচাতো ভাই নূর-এ-শাহাদাৎ স্বজন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তানভীর আহাম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রবিবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের একটি দল হায়দার রহমান জয়কে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত জয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া জব্দকৃত মোবাইল ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় ল্যাবে পাঠানো হবে।
লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চাচাতো ভাই নূর-এ-শাহাদাৎ স্বজন উল্লেখ করেছেন, গত ১৭ মে ২০২৫ রাত আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি জানতে পারেন যে, ‘জয় খান’ (হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর : ০১৭০৪-৫৫৩০৫৫) নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এবং শাকিল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি (পরিচয় ও ঠিকানা অজ্ঞাত) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি তৈরি করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ভুয়া আইডি ব্যবহার করে প্রতারকচক্র নিজেদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং সংসদ সদস্যের মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চাঁদা দাবি করছিল। অভিযুক্তরা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে সাইবার স্পেসে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রূপ ধারণ করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তদবিরের কথা বলে অর্থ দাবি করছিলেন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। ভবিষ্যতে তার নাম ভাঙিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।
নূর-এ-শাহাদাৎ স্বজন জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই তাকে এ প্রতারণার বিষয়টি জানান। সে ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি৷
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরোয়ারে আলম খান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে হায়দার রহমান জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ গ্রাহকদের পরিমাণে জ্বালানি তেল (পেট্রোল, অকটেন) কম দেওয়ার অপরাধে টাঙ্গাইল ফিলিং স্টেশনে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর।
শনিবার (২৪ মে) দুপুরে অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।
আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, পেট্রোল পাম্পগুলোতে পরিমাণে কম তেল দিয়ে ভোক্তাদের ঠকানো হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের দুটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে টাঙ্গাইল ফিলিং স্টেশনে প্রতি পাঁচ লিটার পেট্রোলে ৩০০ মিলি কম দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ পাওয়া যায়। ভোক্তাদের ঠকানোর দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৫ ও ৪৬ ধারায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা এবং পেট্রোল পাম্পের পরিমাপ যন্ত্রটি ঠিক করা হয়েছে। সেই সাথে ওই প্রতিষ্ঠানকে সর্তক করা হয়েছে।
এসময় জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক নাজিমুদ্দিনসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল শহর শাখার সভাপতি মীর ওয়াছেদুল হক তানজিলকে (২৬) মারুফ হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকালে টাঙ্গাইল সদর থানা আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খান এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল আদালতের পুলিশ পরিদর্শক লুৎফর রহমান। তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত মারুফ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মীর ওয়াছেদুল হক তানজিলের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ। বিজ্ঞ আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর পূর্বে বুধবার (২১ মে) রাতে রাজধানী ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত তানজিল টাঙ্গাইল পৌরসভার থানাপাড়া এলাকার মৃত মীর নুরুল হক কামালের ছেলে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহাম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রাজধানী ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার রাত ৯ টার দিকে টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মীর ওয়াছেদুল হক তানজিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত তানজিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দায়ের করা ৬টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এর মধ্যে দুটি হত্যা মামলাও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল সদর থানায় দায়েরকৃত মারুফ হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে টাঙ্গাইল সদর থানা আমলি আদালতে তাকে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে তানজিলকে টাঙ্গাইল কোর্টে হাজির করার পূর্বেই কোর্ট চত্বর এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এরপরেও তানজিলকে কোর্টে হাজির করার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার হামলার শিকার হন তিনি। এছাড়া তাকে দেখতে আসা তার মামাতো ভাই শাহেদ আল শাফি ব্যাপক মারধরের শিকার হন। একপর্যায়ে শাফি নিজের জীবন বাঁচাতে কোর্ট চত্বরের গারদ খানায় আশ্রয় নেয়। এসময় কোর্ট চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনার তৈরি হয়।
এছাড়া বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা তানজিলের ফাঁসির দাবিতে সকাল থেকে বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে কোর্ট চত্বর মুখরিত করে রাখে।
আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তিন মাসের মাথায় আবারও যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানীরও ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) রাত সাড়ে ১১টা থেকে বুধবার (২১ মে) ভোর ৫টা পর্যন্ত রংপুরগামী বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাকাতদল লুটপাট চালায় বলে জানান টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক যাত্রী টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে আল ইমরান পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে মহাসড়কের বিভিন্নস্থান থেকে যাত্রী সেজে ডাকাতরা বাসে ওঠেন। সুযোগ বুঝে তারা বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয়।
বাসের সুপারভাইজার ও যাত্রীরা জানান, রাত ৮টার দিকে আব্দুল্লাহপুর থেকে বাসটি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে সাভারের নরসিংহপুর, বাইপাইল, আশুলিয়া থেকে কিছু যাত্রী উঠে। প্রায় ৯ থেকে ১০ জন নারীসহ ৩৮ যাত্রী নিয়ে বাসটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা অতিক্রম করে।
যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সংযোগ সড়কের কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর যাত্রীবেশী আট থেকে ১০ জন ডাকাত ছুরি, চাপাতিসহ দেশিও অস্ত্রের মুখে চালকের কাছ থেকে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এ সময় ডাকাতরা বাসটি নিয়ে বেশ কয়েকবার টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-আশুলিয়ায় যাওয়া-আসা করে।
পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের শিবপুর এলাকায় বাসটি রেখে ডাকাতদল চলে যায় বলে জানান যাত্রীরা।
বাস চালকের সহকারী ২১ বছর বয়সি আতিকুর রহমান রাঙ্গা বলেন, ডাকাতরা যাত্রীদের ও বাসের চালকসহ সকলের চোখ, মুখ বেঁধে ফেলে। যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের গোলচত্বর এলাকায় গিয়ে বাসটি ঘুরিয়ে আবার ঢাকার দিকে চলতে থাকে।
এ সময় প্রত্যেক যাত্রীকে তল্লাশি করে মোবাইল ফোন, টাকা, সোনারগহনা এবং অন্যান্য মালামাল লুট করে নেয়। রাতভর কয়েকবার বাসটি নিয়ে ওই এলাকা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত চক্কর দেয়। বাসটি নিয়ে ডাকাতরা চার থেকে পাঁচ বার টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-আশুলিয়া সড়কে যাওয়া-আসা করে।
ভোরে ডাকাতদল বাসটি ছেড়ে দিলে যাত্রীদের নিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ করা হয় বলে জানান এই বাস চালকের সহকারী।
বাসের যাত্রী বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ৫২ বছর বয়সি আফাজ উদ্দিন বলেন, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য নারী যাত্রীদের তল্লাশীর সময় তাদের শ্লীলতাহানী করা হয়। আমার চোখমুখ বাঁধা ছিল। তবে ঘটনার সময় নারী যাত্রীদের কান্নাকাটি ও কাকুতি-মিনতি শুনতে পাই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ডাকাতদের ধরতে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ইউনিক রয়েলসের একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটে।
আরমান কবীরঃ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচনের আয়োজন এবং ভোট চুরির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে এমপি নির্বাচিত করার অভিযোগে টাঙ্গাইলে সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ মে) টাঙ্গাইলের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভূঞাপুর থানা আমলী আদালতে কামরুল হাসান নামে এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজাম মামলাটি আমলে নিয়ে ভূঞাপুর থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার বাদি কামরুল হাসান (৫৫) টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ভারই গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে।
মামলায় আসামির তালিকায় শেখ হাসিনাসহ ১৯৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।
শেখ হাসিনা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক এমপি তানভীর হাসান ছোট মনির, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী আব্দুল আওয়াল, তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও টাঙ্গাইলের সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়া পুলিশ ও প্রিজাইডিং অফিসারসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
বাদি মামলায় উল্লেখ করেন, ‘আমাদের শত্রু রাষ্ট্র ভারতের নির্দেশক্রমে শেখ হাসিনা অন্য আসামিদের সাথে যোগসাজশ করে বিগত ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি একটি ডামি নির্বাচনের আয়োজন করেন। বাদি কামরুল হাসান ভূঞাপুরের অলোয়া ইউনিয়নের ভারই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার ছিলেন। তিনি অন্য ভোটারদের সাথে ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। আসামিরা তাকে মারপিট করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। নির্বাচনে পুলিশ ও প্রিসাইডিং অফিসারের সহায়তায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক নৌকা মার্কায় সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে। এভাবে অন্যের ভোট চুরি করে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তানভীর হাসান ছোট মনিরকে এমপি পদে নির্বাচিত করা হয়। এতে দেশ ও জনগণের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।’
বাদিপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইল বার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু রায়হান খান বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মোট ১৯৩ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা রুজু করা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে ভূঞাপুর থানার ওসিকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সেইসাথে আগামী ১৩ আগস্ট মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন আদালত। আশা করি আদালতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মশাল মিছিলের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ মে) রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের শ্যালক আহসানুজ্জামান খান ইমরানকে রবিবার (১৮ মে) দুপুরে ৫ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ নিয়ে এই ঘটনায় মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ।
রবিবার বিকেলে জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাগর আলী, দেলদুয়ার থানা যুব লীগের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, টাঙ্গাইল সদর থানা যুবলীগের সদস্য আহসানুজ্জামান খান ইমরান, টাঙ্গাইল নির্মাণ শ্রমিক প্রকৌশলের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, ভূঞাপুরের অলোয়া ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম খন্দকার বাবু, মেহেদী হাসান মহসিন, সজিব সরকার, নবী নূর মিয়া, সোহেল রানা টিটু ও মজিবর রহমান।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহম্মেদ বলেন, জেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ২০ জনকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রবিবার দুপুরে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের শ্যালক আহসানুজ্জামান খান ইমরানকে ৫ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে কৃষক শামছুল হক হত্যা মামলার আসামি মা ও মেয়েকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১৮ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের স্পেশাল জজ দিলারা আলো চন্দনা এ আদেশ দেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী গ্রামের মৃত রাজ্জাক ওরফে রুজুর স্ত্রী রাহিমা ওরফে রহিমা (৫৫) ও তাদের মেয়ে রোজিনা আক্তার (৩২)।
স্পেশাল জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান কবির জানান, বিগত ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে কাতুলী গ্রামের কৃষক শামছুল হক (৫৫) বাড়ির পাশে নিজের জমিতে আগাছা পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় পূর্ব বিরোধের জের ধরে একই গ্রামের রাজ্জাক ওরফে রুজু তার স্ত্রী-সন্তানদের সাথে নিয়ে শামছুল হককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে চলে যায়। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শামছুল হককে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুততম সময়ে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন দিন পর শামছুল হক মৃত্যুবরণ করেন।
পরে শামছুল হকের স্ত্রী জামিরন বেগম বাদি হয়ে রাজ্জাক এবং তার স্ত্রী রাহিমা, মেয়ে রোজিনা ও ছেলে রফিকুলকে আসামি করে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা করেন। মামলা চলাকালীন অবস্থায় আসামি রাজ্জাক মারা যান। এছাড়া ঘটনার সময় রফিকুলের বয়স কম থাকায় শিশু আদালতে এখনো তার মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, রবিবার দণ্ডিত আসামিদের উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে তাদের টাঙ্গাইল কারাগারে নেওয়া হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সহযোগী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
শনিবার (১৭ মে) বিকালে গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনের মধ্যে তিনজনকে টাঙ্গাইল সদর থানায় সোপর্দ করে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। অপরজনকে মির্জাপুর থানায় সোপর্দ করা হয়।
শুক্রবার (১৬ মে) রাতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পাথাইলকান্দি এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ দুইজন আসামিকে তাদের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি ও আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাগর আলী (২৭), ছাত্রলীগের সক্রিয়কর্মী ও আব্দুস ছাত্তার ফকিরের ছেলে সুমন ফকির (৩২) এবং অপরজন চর পাথাইলকান্দি গ্রামের শাহ আলম প্রামাণিকের ছেলে মামুন প্রামাণিক (৩০)।
অন্যদিকে, মির্জাপুরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যা মামলায় এজাহার ভুক্ত আসামি নিষিদ্ধ সংগঠনের যুবলীগ নেতা পাকের আলীকে একইদিন রাতে নিজ এলাকা থেকে আটক করে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। পরে তাকে রাতেই সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হয়। তিনি উপজেলা পৌর শহরের বীরহাটি গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম জানান, গত ১৪ এপ্রিল বুধবার রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে মশাল মিছিলে অংশ নেয়ার জন্য গ্রেপ্তারকৃতদের নির্দেশ দেয় টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক এমপি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি তানভীর হাসান ছোট মনির। জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়টি স্বীকার করে গ্রেপ্তারকৃত পাকের আলী, সাগর আলী ও সুমন। মামুন তাদের সহযোগী ছিল। পরে তাদের শনিবার বিকালে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মিছিলে আরও যারা অংশ নেন তাদেরকেও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত রোজার ঈদে ছোট মনির টাঙ্গাইলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও মিছিল-মিটিংয়ের জন্য গ্রেপ্তারকৃত সাগরকে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা পাঠায়। সেই টাকা তিনি তার সহকর্মীদের সাথে নিয়ে কৌশলে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সময়ে প্রদান করতেন বলেও জানায় সাগর আলী।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহাম্মেদ জানান, আমরা গ্রেপ্তারকৃত দুইজন আসামিকে বুঝে পেয়েছি। ৩ জনের মধ্যে একজন আসমিকে ভূঞাপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়ে টাঙ্গাইল কোর্টে চালান করে দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের গত ১৪ এপ্রিল (বুধবার) টাঙ্গাইলে মশাল মিছিল করার অভিযোগে এপর্যন্ত ১২ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে গরীবের ডাক্তার খ্যাত এড্রিক বেকারের হাসপাতালে র্যাবের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ মে) দুপুরে র্যাব-১৪ এর উদ্যোগে এ চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ সময় র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান আমেরিকান ডাক্তার দম্পতি জেসিন এবং মেরিন্ডিসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছে চিকিৎসা সামগ্রী তুলে দেন। চিকিৎসা সামগ্রী পেয়ে খুশি হাসপাতালের কর্মকর্তারা।
এ সময় র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর কাউসার বাঁধনসহ র্যাবের অন্যন্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি র্যাব সেবায় যেনো অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে হাসপাতালের চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ ধারা অব্যহত থাকবে।
উল্লেখ্য, টানা ৩২ বছর টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরগড়ে অবস্থিত কালিয়াকৈরে গ্রামের দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পর ২০১৫ সালে মারা যান নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী ৭৪ বছর বয়স্ক ডাক্তার এড্রিক বেকার।
গ্রামের সবার কাছেই যিনি ডাক্তার ভাই হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর আমেরিকা থেকে ছুটে এসে বর্তমানে ডাক্তার দম্পতি জেসিন এবং মেরিন্ডি হাসপাতালটি দেখাশোনা করছেন।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে পেটে বাচ্চাসহ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ মে) সকালে শহরের বটতলা সিটি বাজারে ওই মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল।
জানা গেছে,টাঙ্গাইল শহরের বটতলা সিটি বাজারে ‘সোহেল মাংসের দোকান’-এ দীর্ঘদিন ধরে গরুর মাংস বিক্রি করছেন সদর উপজেলার চিলাবাড়ির পাইকপাড়া গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. সোহেল মিয়া। শুক্রবার বটতলা সিটি বাজারে পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক সিল মারতে গিয়ে গর্ভবতী গাভি শনাক্ত করেন। এর পর সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসককে খবর দিলে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান, জবাই করা গাভিটির পেটে বাচ্চা ছিল।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডাক্তার মো. শাহিন আলম জানান, বটতলা সিটি বাজারে সোহেল মাংসের দোকানে একটি গর্ভবতী গাভি জবাই করা হয়েছে, এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে যাই। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, গাভিটির পেটে প্রায় দুই মাসের ভ্রুণ ছিল।
জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, শুক্রবার সকালে সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বটতলা সিটি বাজারে যাই। মাংস ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো তিনি অকপটে সব দোষ স্বীকার করেন। তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা গাভির ৭০ কেজি মাংস সবার সামনে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সেনিটারি ইন্সপেক্টর সাহিদা আক্তার, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও এএসআই মিলনসহ পুলিশের একটি দল।