একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি)আয়োজিত ইয়াং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৬ জোনাল ক্রিকেটের সেন্টাল জোনের কিশোরগঞ্জ ভেন্যুতে টাঙ্গাইল জেলা দল তাদের প্রথম ম্যাচেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা দল মানিকগঞ্জ জেলা দলকে ১৩৯ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে।
সোমবার (৭ ফেব্রয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে টাঙ্গাইল জেলা দলের অধিনায়ক দেবাশিষ সরকার সকালে টসে জয় লাভ করে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘন কুয়াশার কারনে নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা কমিয়ে ৪২ ওভারে নির্ধারন করা হয়। টাঙ্গাইল জেলা দল নির্ধারিত ৪২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৮ রান করেন।
টাঙ্গাইল জেলা দলের পক্ষে রিফাত ১০৬ বল খেলে ৮২ রান করে রান আউটের শিকার হয়। একই দলের অধিনায়ক দেবাশিস ৯৩ বলে ৮১ রান করে অপরাজিত থাকে।
জবাবে, ২০৮ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে টাঙ্গাইল জেলা দলের বোলিং তোপের মুখে পরে মানিকগঞ্জ জেলা অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেট দল ৩৪ ওভার ১ বল খেলে মাত্র ৬৯ রানে গুটিয়ে যায়।
টাঙ্গাইল জেলা দলের পক্ষে রাদিল ৮ ওভার বল করে ৪টি মেডেন সহ মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট দখল করে। অপরদিকে একই দলের অপর বোলার মুনতাসির ৮ ওভার বল করে ২ টি মেডেন সহ ১৩ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করে। ফলে টাঙ্গাইল জেলা দল তাদের প্রথম ম্যাচে অনায়াসে ১৩৯ রানের ব্যবধানে জয় লাভ করে।
খেলায় ম্যান অব দি ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা দলের ব্যাটসম্যান রিফাত বেগ।
টাঙ্গাইল জেলা অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেট দলের খেলোয়ারগণ হচ্ছেঃ- দেবাশিস(অধিনায়ক) সামিউল(উইকেট রক্ষক) আবিদ, বাঁধন, রিফাত, হামজা, সাবিবুর, ইমরুল, মাহাদি, মুনতাসির, ও রাদিল।
টাঙ্গাইল জেলা দলের কোচ হিসেবে আছেন কামরুল ইসলাম ও ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ভ্রমর চন্দ্র ঘোষ ঝোটন।সহকারি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মানুনুর রশিদ মামুন ।
টাঙ্গাইল জেলা অনূর্ধ্ব -১৬ ক্রিকেট দলের সার্বিক দায়িত্বে আছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড( বিসিবি) নিয়োজিত টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ মো. আরাফাত রহমান।
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল জেলা গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আগামী বুধবার(৯ ফেব্রয়ারি) রাজবাড়ী জেলা দল ও শনিবার(১২ ফেব্রয়ারি) শরিয়তপুর জেলা দলের বিপক্ষে কিশোরগঞ্জ ভেন্যুতে খেলবে।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি) আয়োজিত শেখ কামাল অনুর্ধ্ব-১৮ জোনাল ক্রিকেটের সেন্টাল জোনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টাঙ্গাইল জেলা দল।
বৃহস্পতিবার(৩ ফেব্রয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় ঢাকা জেলা দলকে ৫০ রানে হারিয়ে পর পর দুই বার চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে টাঙ্গাইল জেলা অনুর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট দল।
ইতিপূর্বে এ বছরের ৯ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা অনুর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেট দল ময়মনসিংহ জেলা দলকে ২৮ রানে হারিয়ে হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরর অর্জন করে।
বৃহস্পতিবার(৩ ফেব্রয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রথমে টসে জিতে টাঙ্গাইল জেলা দল ব্যাটিং করে ৪৯ ওভার ৪ বল খেলে সব কটি উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান করে। টাঙ্গাইল জেলা দলের পক্ষে অল-রাউন্ডার রিফাত-আল-জাবির সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন। এছাড়া অলরাউন্ডার ফেরদৌস হাসান লিমন ৩৫, মাইন হোসেন সরকার ২৭ ও রিজান হোসেন ২১ রান করে। ঢাকা জেলা ক্রিকেট দলের পক্ষে বোলার তুষার ও সোহাগ যথাক্রমে ৩৪ ও ৪১ রান দিয়ে ২টি করে উইকেট দখল করে।
জবাবে ২০৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা জেলা ৪১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১১৩ রান করার পর বৃষ্টি শুরু হলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বৃষ্টি আইনে টাঙ্গাইল জেলা দলকে ৫০ রানে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়। ঢাকা জেলা দলের পক্ষে ব্যাটসম্যান লৌকিক সর্বোচ্চ ৩৩ ও আদিল বক্স ২৭ রান করে। টাঙ্গাইল জেলা দলের পক্ষে অলরাউন্ডার রিজান হোসেন ২২ রানে ২টি উইকেট দখল করে।
টাঙ্গাইল জেলা দলের ফেরদৌস হাসান লিমন ম্যান অব দ্যা ফাইনাল নির্বাচিত হয়।
টাঙ্গাইল জেলা অনুর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট দলের খেলোয়ারগণ হলেনঃ- ইমতিয়াজ আহমেদ(অধিনায়ক) গাজী আল-দিন-হাসান মুগ্ধ(উইকেট রক্ষক) রিজান হোসেন(সহ-অধিনায়ক) ফেরদৌস হাসান লিমন, মাইন হোসেন সরকার, রিফাত আল জাবির, আলি ওমর আবির, রওনক হরিজন, জিহাদ আদনান সানি,কাউয়ূম খান, তারেক মিঞা এ ছাড়া দ্বাদশ খেলোয়ার হিসেবে ছিলেন রাসেল মিঞা।
চ্যাম্পিয়ন টাঙ্গাইল জেলা দলের কোচ হিসেবে ছিলেন রাসেল খান ও ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভ্রমর চন্দ ঘোষ ঝোটন। খেলায় আম্পায়ার ছিলেন রবিন সরকার ও আসিফুর রহমান এবং স্কোরার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অরিন্দম পাল লিটন।
খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ ছানোয়ার হোসেন,এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মোঃ আমিনুল ইসলাম, ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক জাকির আহমেদ, টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি এ হাসান ফিরোজ। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেন লিন্টুর সভাপতিত্বে পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ আরাফাত রহমান।
উল্লেখ্য, শেখ কামাল অনুর্ধ্ব-১৮ জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ঢাকা বিভাগের ১৭টি জেলা ৪টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহন করে। চারটি গ্রুপ থেকে টাঙ্গাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর জেলা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে অংশগ্রহন করে। সেমিফাইনালে টাঙ্গাইল জেলা ফরিদপুর জেলাকে ১০ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিলো।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজিত অনুর্দ্ধ-১৪ বিভাগীয় পর্যায়ে ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিভাগ উত্তরের দল গঠনের জন্য ৩৮ জন ক্ষুদে ক্রিকেটারকে প্রাথমিক বাছাই ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে।এই ক্যাম্পে ডাক পেয়েছে টাঙ্গাইলের ৭ জন ক্ষুদে ক্রিকেটার। একটি জেলা থেকে এটাই সবোর্চ্চ ক্রিকেটার ডাক পেল।
এই প্রাথমিক বাছাই ক্যাম্পে ডাক পাওয়া টাঙ্গাইলের ক্রিকেটারগণ হচ্ছেঃ টাঙ্গাইল জেলা অনুর্দ্ধ-১৪ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক এহসানুল হক মাহিম,উইকেট কিপার রাকিবুল হাসান রাকিব, মহারাজ বসাক, আল-রাফি,জুনায়েদুল ইসলাম জারিফ, রায়য়ান আপন ও তানযিরুল ইসলাম।
রবিবার(২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় ক্রিকেট কোচ জাকির হাসানের তত্বাবধানে ৪ দিনের এই প্রাথমিক সিলেকশন ক্যাম্প শুরু হবে। এই ক্যাম্প থেকে ২০ জন ক্ষুদে ক্রিকেটারকে বাছাই করা হবে। এই ক্রিকেটার বাছাই করবেন বিসিবি’র বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট কোচ আব্দুল করিম জুয়েল।
এর পর আরো ১০ দিনের স্কিল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। এদের মধ্যে থেকে ১৪ জন ক্রিকেটার নিয়ে ঢাকা বিভাগ উত্তরের চুড়ান্ত দল গঠন করা হবে।
ঢাকা বিভাগ উত্তরের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মাহমুদুল হক বাপ্পু ও সহকারী কোচ হিসেবে থাকবেন মোঃ সাজ্জাদ হোসেন।
টাঙ্গাইল জেলা থেকে সবোর্চ্চ সংখ্যক ৭ জন ক্ষুদে ক্রিকেটার বিভাগীয় দলে ডাক পাওয়ায়, টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ আরাফাত রহমান বলেন, এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে টাঙ্গাইল থেকে ৭ জন ক্রিকেটার প্রাথমিক দলে ডাক পেল। এদের মধ্যে এহসানুল হক মাহিম, রাকিবুল হাসান রাকিব, জুনায়েদুল ইসলাম জারিফ, ও আল-রাফি অত্যন্ত প্রতিভাবান ক্রিকেটার। আশা করি, এরা চুড়ান্ত দলেও ডাক পাবে।
প্রকাশ, ঢাকা বিভাগ উত্তরের এই বিভাগীয় ক্রিকেট দলটি ৯টি জেলার ক্ষুদে ক্রিকেটার নিয়ে গঠন করা হয়। জেলা গুলো হচ্ছে, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ,নরসিংন্দি, মানিকগঞ্জ ও গাজিপুর জেলা।
একতার কণ্ঠঃ শেখ কামাল অনুর্দ্ধ-১৮ জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে টাঙ্গাইল জেলা দলের অধিনায়ক ও বাহাতি অফ স্পিনার ইমতিয়াজ আহমেদের হ্যাট্রিক সহ ৬ ইউকেট পাওয়া অসাধারন বোলিং স্পেলে গোপালগঞ্জ জেলার দলের বিপক্ষে টাঙ্গাইল জেলা অনুর্দ্ধ-১৮ ক্রিকেট দল ৮ উইকেটে জয় লাভ করেছে। টুর্নামেন্টে এটা ছিল টাঙ্গাইল জেলা দলের দ্বিতীয় জয়।
সোমবার(১৭জানুয়ারি) সকালে ফরিদপুর জেলার শেখ জামাল ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত সেন্টাল জোনের বয়স ভিত্তিক ৫০ ওভারের এই খেলায় গোপালগঞ্জ জেলা দল টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু টাঙ্গাইল জেলা দলের অধিনায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ও আরেক স্পিনার মাইনউদ্দীনের স্পিন তোপে ৩৬ ওভারে মাত্র ৮৭ রানে অলআউট হয় গোপালগঞ্জ জেলা অনুর্দ্ধ-১৮ ক্রিকেট দল।
ইমতিয়াজ ৯ ওভার বল করে মাত্র ১৯ রান দিয়ে হ্যাট্রিক সহ ৬ টি উইকেটে দখল করে। ইমতিয়াজ এর ৯ ওভার বলের মধ্যে আবার ৪ ওভার মেডেন ছিল।
এ ছাড়া টাঙ্গাইল জেলা দলের অপর স্পিনার মাইনউদ্দীন ৭ ওভার বল করে ১টি মেডেন সহ ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট লাভ করে। টাঙ্গাইল জেলা দলের স্পিন বোলিং জাদুতে গোপালগঞ্জ জেলা দলের তাজিম শেখ ব্যাতিত কোন ব্যাটস্ ম্যান উল্লেখযোগ্য রান করতে পারেনি। তাজিম শেখ ৫৭ বল খেলে ২৩ রান করে রান আউটের শিকান হন।
৫০ ওভারে ৮৭ রানের মামুলি টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে টাঙ্গাইল জেলা দল মাত্র ১৯ ওভার ৩ বলে ২ উইকেটে হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। টাঙ্গাইলের ব্যাটস্ ম্যান ফেরদৌস লিমন ৪৯ বলে ৪৭ রান ও মুগ্ধ হাসান ৮ রানে অপাজিত থাকেন।
খেলায় ম্যান অব দি ম্যাচ নির্বাচিত হন টাঙ্গাইল জেলা দলের অধিনায়ক ও দলের জয়ে মূল ভুমিকা রাখা বাহাতি অফ স্পিনার ইমতিয়াজ আহমেদ।
টাঙ্গাইল জেলা দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহ্ আজিজ তালুকদার বাপ্পি ও কোচ হিসেবে ছিলেন রাসেল খান।দলটির সার্বিক দায়িত্বে আছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়োজিত টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ মোঃ আরাফাত রহমান
প্রকাশ, টাঙ্গাইল জেলা দল টুর্নামেন্টে তাদের প্রথম ম্যাচে রাজবাড়ী জেলা দলকে ৮০ রানে পরাজিত করে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামি বৃহস্পতিবার(২০ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা অনুর্দ্ধ-১৮ ক্রিকেট দল নরসিংন্দী জেলা দলের মুখোমুখি হবে।
একতার কণ্ঠঃ ইয়ং টাইগার্স অনুর্দ্ধ-১৪ জাতীয় ক্রিকেটে ঢাকা বিভাগ উত্তরের হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওযার গৌরব অর্জন করেছে টাঙ্গাইল জেলা দল। রবিরার(৯ জানুয়ারী) প্রতিযোগিতার ফাইনালে টাঙ্গাইল জেলা দল ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে শক্তিশালী ময়মনসিংহ জেলা দলকে ২৮ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
রবিবার সকালে টাঙ্গাইল জেলা দলের অধিনায়ক এহসানুল হক মাহিম টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। কুয়াশা ভেজা পিচের কারনে শুরুতেই টাঙ্গাইল ব্যাটিং বিপর্যয়ে পরে। দলীয় অধিনায়ক মাহিম এক প্রান্ত আগলে রেখে ৭৩ বলে ৪৯ রান করে রান আউটের শিকার হয়। তখন দলের হাল ধরেন উজ্জল মিঞা। টাঙ্গাইল জেলা দল নির্ধারিত ৫০ ওভার খেলতে পারেনি। ৪২ ওভার ৩ বল খেলে টাঙ্গাইল জেলা সব কয়টি ইউকেট হারিয়ে ১২৫ রান সংগ্রহ করে।
জবাবে ১২৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ময়মনসিংহ জেলা দল ৪৬ ওভার ১ বলে ৯৭ রানে অল-আউট হয়ে যায়। টাঙ্গাইল জেলা দলের পক্ষে বাহাতি স্পিনার অল-রাফি ৯ ওভার বল করে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৪টি ইউকেট লাভ করে। ফলে টাঙ্গাইল জেলা দল ফাইনালে ২৮ রানে জয় লাভ করে।
টাঙ্গাইল জেলা এই প্রতিযোগিতায় পর পর তিনবার জয়লাভ করে হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয় । ম্যান অফ দি টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হন টাঙ্গাইল জেলা দলের অধিনায়ক এসহানুল হক মাহিম।

টাঙ্গাইল জেলা অনুর্দ্ধ-১৪ ক্রিকেট দলের খেলোয়ারগণ হলেনঃ- এহসানুল হক মাহিম(অধিনায়ক), রাকিবুল ইসলাম রাকিব(ইউকেট কিপার) জুনায়েদুল ইসলাম জারিফ, রাইয়ান আপন, আল-রাফি, রামিম হাসান, শাওন দেওয়ান, ইমরান হোসেন, তওফিকুল ইসলাম মাফি, মহারাজ বসাক, আরিফুল ইসলাম,উজ্জল মিঞা।
টাঙ্গাইল জেলা দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জহিরুল ইসলাম খান সম্রাট ও কোচ হিসেবে ছিলেন বিসিবি নিয়োজিত টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট দলের কোচ মোঃ আরাফাত রহমান।
এই জয় প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা দলের বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কোচ আরাফাত রহমান বলেন, টাঙ্গাইল জেলাবাসীকে পর পর তিন বার ইয়ং টাইগার্স অনুর্দ্ধ-১৪ জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ট্রফি এনে দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আশা করি, অনুর্দ্ধ-১৮ ও অনুর্দ্ধ-১৬ জাতীয় ক্রিকেটেও টাঙ্গাইল জেলা দল ভালো ফলাফল করবে।

প্রকাশ, গ্রুপ পর্বের প্রথম খেলায় টাঙ্গাইল জেলা দল জামালপুর জেলা দলকে মাত্র ২৬ রানে অল-আউট করে, ১০ ইউকেটে জয় লাভ করে। পরের খেলায় নেত্রকোনা জেলা দলের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেলা দল ৫০ ওভারে ৩৭১ রান করে। টাঙ্গাইল জেলা দলের ব্যাটসম্যান রাকিবুল আরাফাত ১৩০ রান ও মহারাজ বসাক ১০০ রান করে। খেলায় টাঙ্গাইল জেলা দল রেকর্ড ৩৪০ রানে জয় লাভ করে।
গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় টাঙ্গাইল জেলা দল মানিকগঞ্জ জেলা দলকে ৬২ রানে পরাজিত করে।সেমি-ফাইনালে গাজিপুর জেলা দলকে টাঙ্গাইল ২৬ রানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে।
প্রতিযোগিতায় কোন জেলা দলই টাঙ্গাইল জেলা দলের বিরুদ্ধে শত রান করতে পারেনি।
একতার কণ্ঠঃ ফিফার পুরুষ র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ফুটবল দলের অবস্থান যখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তখন নারীদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরে বাংলাদেশ দলের শিরোপা জয়ে দেশবাসী স্বভাবতই আনন্দিত ও উল্লসিত।
বুধবার(২২ ডিসেম্বর) কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে এ শিরোপা জয় করেন বাংলাদেশের নারীরা। বিজয়ের মাসে, বিশেষত বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে এ জয়ের রয়েছে প্রতীকী তাৎপর্যও।
বস্তুত গোটা টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশের নারীরা দাপটের সঙ্গে খেলেছেন। তারা শুধু শিরোপাই জেতেননি, টুর্নামেন্টে তারা ছিলেন অপরাজিতও। এ কৃতিত্বের জন্য তাদের প্রতি রইল আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন দলটির কোচ, কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও জানাই অভিনন্দন। আমরা আশা করব, এই নারীদের হাত ধরেই একদিন দেশে ফুটবল ফিরে পাবে হারানো গৌরব। এ লক্ষ্য সামনে রেখে এই দলটির জন্য আর্থিক ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অন্য অনেক দেশের মতো একসময় বাংলাদেশেও ফুটবল ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ঢাকার ফুটবল লীগের বড় দলগুলোর খেলা নিয়ে আগ্রহ ও কৌতূহল ছিল সারা দেশের মানুষের। সে সময় স্টেডিয়াম পূর্ণ হয়ে যেত দর্শকদের ভিড়ে। বড় বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতো ঢাকায়। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপসহ দক্ষিণ এশিয়ায় বিভিন্ন টুর্নামেন্টের শিরোপাও জয় করেছে বাংলাদেশের ফুটবলাররা। ফুটবলের সেই রমরমা যুগ এখন আর নেই। খেলার মান পড়ে যাওয়া, সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের অভাব, ক্রিকেটের সাফল্য ইত্যাদি কারণে দেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সত্যিই হতাশাজনক। এ অবস্থায় অনূর্ধ্ব-১৯-এ নারীদের সাফল্য ফুটবল নিয়ে আমাদের নতুন করে আশান্বিত করে।
শুধু অনূর্ধ্ব-১৯-এ নয়, অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৮ ইত্যাদি বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টেও বাংলাদেশের মেয়ে ফুটবলাররা ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়ে আসছেন। বস্তুত আশার জায়গা এটাই।
এ সাফল্য ধরে রাখতে হলে উন্নত প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে মেয়ে ফুটবলারদের মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সারা দেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে কিশোর-কিশোরীদের বাছাই করে নিয়মিত ফুটবলের প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। ক্রিকেটে এ ধরনের উদ্যোগের সুফল পাচ্ছি আমরা। ফুটবলের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ খেলায় আমাদের ব্যর্থতা ঘুচবে অবশ্যই। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় খেলা ফুটবলকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
একতার কণ্ঠঃ ইনিংসের ১৪তম ওভারের বিরতি তখন। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বল মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে তুলে দেবেন, এমন অবস্থায় দর্শকের হইচই শোনা যাচ্ছিল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারি থেকে। সেখানে এক দর্শক গ্যালারির দোতলা থেকে লাফিয়ে নিচে নেমে এসেছিলেন। এরপর চোখের পলকে নিরাপত্তাবেষ্টনীর কাঁটাতার পাড়ি দিয়ে লাফিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।
বেশ কয়েকজন মাঠকর্মী এই সময় সেই দর্শককে ধরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মাঠের অন্য পাশ থেকে নিরাপত্তাকর্মীরা ছুটে আসার আগেই এক দৌড়ে তিনি মূল মাঠে প্রবেশ করেন। মোস্তাফিজের পায়ের কাছে এসে মাটিতে মাথা ছুঁইয়ে সেজদার ভঙ্গি করেন। একটু এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন আম্পায়ার তানভীর আহমেদ। এরপর তাঁকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার কক্ষের পাশের প্রবেশদ্বার দিয়ে বের করা হয়।
সে ওভারে প্রথম বল করেই মোস্তাফিজ মাঠ ছেড়ে বেড়িয়ে গেছেন।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সিরিজের খেলা চলছে জৈব সুরক্ষাবলয়ে। এই সিরিজ দিয়ে দর্শক মাঠে ফিরলেও করোনা নীতির অংশ হিসেবে গ্যালারির নিচতলা পুরোপুরি দর্শকশূন্য। নিচতলায় কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিল না সে কারণেই। সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে বলয় ভেঙে মাঠে প্রবেশ করেছেন সেই দর্শক।

মিরপুর স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন ছিল। এর আগেও গ্যালারি থেকে মাঠে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। কিন্তু করোনাকালে দর্শক ফেরার সিরিজে এমন ঘটনাটি মিরপুরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়াবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে বিসিবির নিরাপত্তা প্রধান মেজর হাসিবের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ ছেলেবেলার ভুল লোকে আমলে নেয় না। বরং আদরের ছলে পিঠ চাপড়ে বলে, ‘ছোট মানুষ, বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে।’ কিন্তু ঠিক কত বড় হলে ‘সেসব’ ঠিক হয়ে যায়, সে বিষয়ে কেউ নিদান দেয় না। ধরে নেওয়া হয়, পূর্ণবয়স্ক হলে ঠিক হয়ে যাবে।
লোকসমাজের এই প্রথা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গেও বেশ মানানসই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো করতে পারছে না? হতাশ হবেন না। বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে। ধৈর্য ধরুন।
সান্ত্বনাবাণী কিংবা সুনীলের ‘কেউ কথা রাখেনি’র নাদের আলীর মতো কবিতাসর্বস্ব প্রতিশ্রুতি নয়। মরাবাড়িতে আসা প্রতিবেশীদের বাস্তব পরামর্শের মতো নিতে পারেন কথাটা।
সেই প্রার্থনার ভাষা অনেকটাই জেমসের এই গানের কথার মতো—‘সবুজ ঘাসে/একা একা/শুধু পথচলা/সারারাত তারা দেখে/নির্ঘুম ডানা মেলা/বৃষ্টির আঁধারে/অবিরাম ভিজে চলা/সব ভুলে চিৎকারে/এসো হোক প্রার্থনা/বড় হও, দীর্ঘ হও, শুধু বেড়ে ওঠো, শুধু বেড়ে…।
একটা উদাহরণ দিই। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আজ ৯ ওভারের মধ্যে ৩৬ রান তুলতে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নিঃসন্দেহে ‘নস্টালজিক পারফরম্যান্স’। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সর্বশেষ কোনো ম্যাচে ৯ ওভারের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়েছিল প্রথম সংস্করণে—২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
সে ম্যাচে ৯ ওভারের মধ্যে ৪৮ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৮৩ রানে অলআউট। এই ১৪ বছর পেরিয়ে আজ বাড়ল ১ রান—মানে ৮৪ রানে অলআউট।
এবার একটি হিসেব কষা যাক। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বয়স ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। সংস্করণটির দৈর্ঘ্য বিচারে টগবগে ‘যুবক’ বলাই যায়। তো, এই যুবক শৈশবে থাকতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেট হারানোকে কেউ ব্যর্থতার চোখে দেখেনি। ছোট মানুষ, বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে—ভেবেছেন সবাই।
দুর্ভাগ্য, সব ভাবনা বাস্তবতার আলো দেখে না। উদাহরণ রয়েছে আমাদের আশপাশেই।
এই তো আমাদের লোকসমাজেই এমন অনেক মানুষ আছেন—যাদের বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলেও মাথাটা আর বাড়ে না। নাবালকই থেকে যায়। সমাজে তাঁরা যেমন মশকরার পাত্র তেমনি দীর্ঘশ্বাসও ফেলা হয়।
তেমনি বাংলাদেশ দলও এই সংস্করণে ১৫ বছর পার করেও শৈশব (প্রথম বিশ্বকাপের স্মৃতি) ধরে রাখায় মশকরা করবেন না দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন, তা একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে বাস্তবতাকে এড়িয়ে চলার সুযোগ তো নেই। এই ম্যাচের বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশ দলের বয়স কমছে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সে ম্যাচে ৮.১ ওভারে ৪০ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অনেক জল গড়িয়েছে পদ্মা-মেঘনা-যমুনায়, বাংলাদেশ দল বড় হয়ে ওঠার বেগ বাড়াতে খেলোয়াড় পাল্টিয়েছে এন্তার, কিন্তু চাইলেই তো সব হয় না। তাহলে পৃথিবীতে ‘বুড়ো খোকা’ শব্দটা থাকত না। (সমর্থকদের) প্রার্থনায় কাজ হতো।
কিছু বিষয় তো ভাগ্যের হাতে—ঠিক যেভাবে বাবা-মায়ের শত প্রার্থনার পরও গায়ে-গতরে বেড়ে ওঠা সন্তানের বুদ্ধি-সামর্থ্য হয় না। অভিজ্ঞতার যূপকাষ্ঠে পুড়ে অঙ্গার হওয়া মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর চেয়ে তা কে ভালো বুঝবে!
২০০৭ বিশ্বকাপের সে ম্যাচের দল থেকে শুধু তিনজন খেলোয়াড় এখনো টিকে আছেন টি-টোয়েন্টি দলে। এদের একজন চোটে পড়ে বিদায় নিয়েছেন এবারের বিশ্বকাপ থেকে। বাকি নাম দুটো না বললেও চলছে। শুধু তাঁদের বুদ্ধিমানের মতো কাজগুলো দেখুন।
প্রতি ম্যাচ হারের পর মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর সব রকম কথার অন্তর্নিহিত বার্তা একটাই—‘চেষ্টা তো করছি কিন্তু হচ্ছে না।’ অর্থাৎ, ভাগ্য—সেই বুড়ো খোকার ভাগ্য! শরীর ও বয়স বাড়লেও মনের তো বুদ্ধি কমছে। মুশফিক নিজে তা স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না বলেই হয়তো বুদ্ধি খাঁটিয়ে আয়নায় সবাইকে দেখে নিতে বলেছেন।
তেমন এক নস্টালজিক আয়নাতেই ধরা পড়ল সত্যটা—১৪ বছর আগের সে ম্যাচে ৮.১ ওভারে ৪০ রান তুলতে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১৪ বছর পর তেমনই এক ম্যাচে সেই ৮.১ ওভারেই বাংলাদেশের অর্জন ৫ উইকেটে ৩৪। সামর্থ্যের ‘বয়স’টা তাহলে বাড়ল না কমল?
মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর মতো সিনিয়র খেলোয়াড়েরা যেহেতু সরাসরি বলতে পারছেন না, আনুষ্ঠানিক কথার ভাঁজে ‘গোপন বার্তা’ রেখে বোঝাতে হচ্ছে—দায়িত্বটা তাই কাঁধে তুলে নিয়েছে কচি-কাঁচার দল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সে ম্যাচে ৮.১ ওভারে রান তোলার তাড়া সইতে না পেরে রানআউট হয়েছিলেন নাদিফ চৌধুরী। তখন তিনি দলের ‘নতুন কুঁড়ি’দের একজন, টি-টোয়েন্টিতে ভবিষ্যৎ হিসেবে ভাবা হয়েছে।
১৪ বছর পর আজকের ম্যাচে সেই একই পরিস্থিতিতে দলের মনের বয়সটা যে একই জায়গায় আছে, সেটাও বুঝিয়েছেন আরেক ‘নতুন কুঁড়ি’—আফিফ হোসেন।
ম্যাচ পরিস্থিতি কোনো বিষয় না, অনেকটাই বয়ঃসন্ধি কালের রোমাঞ্চের জ্বালা-পোড়া সইতে না পেরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টির ‘ভবিষ্যৎ’ প্রথম বলেই হাঁকিয়ে মারতে গিয়ে আউট।
কিন্তু এ কথাও সত্য, কেউ তো ইচ্ছে করে আউট হয় না। সমাজে যে লোকটা বুড়ো বয়সে কম বুদ্ধি-সামর্থ্যের বলি হয়ে প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সইছে, খোঁটা শুনছে —সে কী আর ইচ্ছে করে এসব করবে! মোটেও না। হয়ে যায়।
যেমন ধরুন, আজ আবুধাবির উইকেট—দক্ষিণ আফ্রিকা টস জেতার পর সবুজাভ উইকেট দেখে বোলিং নেন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। বোঝাই যাচ্ছিল, সবুজ উইকেটের পূর্ণ সদ্ব্যবহারে প্রস্তুত দুই পেসার কাগিসো রাবাদা ও আনরিখ নর্কিয়া।
প্রস্তুত ছিলেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহও। রাবাদা ও নর্কিয়ার লেংথ থেকে তোলা বলগুলো খেলতে দুজনের ঘাম ছুটলেও চেষ্টার কমতি ছিল না। কিন্তু ওই যে দুর্ভাগ্য, ব্যাটে খেলতে গিয়েও বলের ছল-চাতুরীর শিকার! ছুঁয়ে দিয়ে ‘আপন’ করেছে ফিল্ডারকে!
দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই খেলোয়াড় ১৫-১৬ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়েও যখন এমন বল সামলাতে পারেন না, তখন ছোটদের কথা না তোলাই ভালো।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, কেউ তো আর ইচ্ছে করে খারাপ খেলে না, ক্যাচ ছাড়ে না, আউট হয় না। সবই অনিচ্ছাকৃত ভুল। হয়ে যায়। ব্যাপারটা এমনই ‘প্রাকৃতিক’—আর কে না জানে প্রকৃতির খেয়াল-খুশির ওপর কারও হাত নেই। এই কথাটা খেলোয়াড়েরা বুঝলেও অবুঝের মতো আচরণ করছেন শুধু সমর্থকেরা।
সব ম্যাচেই শুধু চাই, চাই আর চাই। আরে ভাই, বিধিলিপি বলেও তো কিছু আছে! সেই ‘লিপি’র তোয়াক্কা না করে খেলোয়াড়দের এন্তার সমালোচনার হেতু কি? মাহমুদউল্লাহই বলেছেন,খেলোয়াড়েরাও তো মানুষ! আর মানুষ মাত্রই ভাগ্যের শৃঙ্খল-বন্দী।
বোকা সমর্থকেরা তা না বুঝেই প্রতি হারের পর মা-বাবা যেমন সন্তানদের শাসন করেন, খেলোয়াড়দের সেভাবে ‘শাসন’ করে আবার প্রার্থনায় বসেন পরের ম্যাচের জন্য।
সেই প্রার্থনার ভাষা অনেকটাই জেমসের এই গানের কথার মতো—‘সবুজ ঘাসে/একা একা/শুধু পথচলা/সারারাত তারা দেখে/নির্ঘুম ডানা মেলা/বৃষ্টির আঁধারে/অবিরাম ভিজে চলা/সব ভুলে চিৎকারে/এসো হোক প্রার্থনা/বড় হও, দীর্ঘ হও, শুধু বেড়ে ওঠো, শুধু বেড়ে…।
হ্যাঁ, শুধুই বেড়ে ওঠা। আর কিছু না!
সংবাদ সূত্রঃ প্রথম আলো অনলাইন
ছবিঃ রাইজিং বিডি
একতার কণ্ঠঃ অঘটন? তা বলাই যায়। শক্তি ও অভিজ্ঞতায় আয়ারল্যান্ডের ধারে–কাছেও নেই নামিবিয়া। অথচ আফ্রিকার এই দলটি–ই কি না আজ আয়ারল্যান্ডকে বিদায় করে জায়গা করে নিল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে!
প্রথম রাউন্ডে ‘এ’ গ্রুপ থেকে পরিষ্কার সমীকরণ ছিল আয়ারল্যান্ড ও নামিবিয়ার সামনে—যে দল জিতবে তারাই উঠবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে। এমন ম্যাচে অভিজ্ঞতা ও শক্তিতে সবাই এগিয়ে রেখেছিলেন আয়ারল্যান্ডকে। ওয়ানডে কিংবা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও গ্রুপপর্ব উতরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে দলটির।
মহাগুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ভালো করতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। ৮ উইকেটে ১২৫ রানের সাদামাটা স্কোর দাঁড় করায় অ্যান্ডি বলবার্নির দল। তাড়া করতে নেমে জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে ৩৩ রান দরকার ছিল নামিবিয়ার। গেরহার্ড এরাসমাস ও ডেভিড ভিসে মিলে দারুণ এক জুটি গড়ে ৯ বল হাতে রেখে ঐতিহাসিক এক জয় এনে দেন নামিবিয়াকে।
দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় আইরিশ খেলোয়াড়েরা নামিবিয়ার চেয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে। বটে! কথায় আছে ‘দ্য গেম ইজ অ্যা গ্রেট লেভেলার’—আয়ারল্যান্ডকে আজ ৮ উইকেটে হারিয়ে নামিবিয়া যেন ক্রিকেটের এ আপ্তবাক্য মনে করিয়ে দিল।
আইসিসির বিশ্বকাপে এর আগে শুধু ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপেই খেলেছে নামিবিয়া। ১৪টি দলের মধ্যে ১৪তম হয়ে বিদায় নিয়েছিল। তারপর এবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে আইসিসি আয়োজিত কোনো বিশ্বকাপে পা রেখেই গ্রুপপর্ব উতরে যাওয়ার ইতিহাস গড়ল নামিবিয়া। দেশটির রাজধানী উইন্ডহকে আজ তাই উৎসবের লগ্ন।

নামিবিয়া জিতে শুধু সুপার টুয়েলভই নিশ্চিত করেনি, জায়গা করে নিয়েছে আগামী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। এর আগে আইসিসি জানিয়েছিল, এবার সুপার টুয়েলভে ওঠা দলগুলো ২০২২ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলবে, আলাদা করে বাছাইপর্ব আর খেলতে হবে না। অর্থাৎ এক ‘ঢিলে’ দুই ‘পাখি’ মারল নামিবিয়া।
তৃতীয় উইকেটে ৩১ বলে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন ভিসে-এরাসমাস। উইকেটে দুজন যখন জুটি বাঁধেন ৪০ বলে ৫৩ রানের দূরত্বে ছিল নামিবিয়া।
কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইরিশ বোলার ক্রেগ ইয়াং, জশ লিটল কিংবা কার্টিস ক্যাম্ফারদের বিপক্ষে নামিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের এ লক্ষ্য ছোঁয়া বেশ কঠিনই ছিল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ভিসে এবং এরাসমাস ঠান্ডা মাথায় যেভাবে ব্যাট করেছেন তা অনেক দিন মনে রাখবে নামিবিয়া ক্রিকেট।
কোনা চাপ টের পেতে না দিয়ে ১৮.৩ ওভারে দলের জয় নিশ্চিত করেন দুজন। ৪৯ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত ছিলেন এরাসমাস। ১৪ বলে ২৮ রানে অন্য প্রান্ত ধরে রাখেন ভিসে।
তার আগে জেন গ্রিনের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৯ বলে ৪৮ রানের আরেকটি ভালো জুটি গড়েন এরাসমাস। সহযোগী দেশ নামিবিয়ার হিসেবি ক্রিকেটের তুলনায় টেস্ট খেলুড়ে আয়ারল্যান্ডই বরং বাজে খেলেছে।
পল স্টার্লিং ও কেভিন ও’ব্রায়েন ছাড়া আর কেউ সেভাবে রান পাননি। ওপেনিং জুটিতে স্টার্লিং-ও’ব্রায়েনের গড়া ৪৪ বলে ৬২ রানই আয়ারল্যান্ডের ইনিংসে সর্বোচ্চ। ২৪ বলে ৩৮ রান করেন স্টার্লিং। সমান বলে ২৫ রান ও’ব্রায়েনের। ২১ রানে ৩ উইকেটে নেন নামিবিয়ার ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক। ১৪ রানে ২ উইকেট নেন আয়ারল্যান্ডের পেসার ক্যাম্ফার।
নামিবিয়াসহ মোট দুটি সহযোগী দেশ জায়গা করে নিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে। ‘বি’ গ্রুপ থেকে স্কটল্যান্ড এর আগে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত করেছে। আজ নামিবিয়া সে টিকিট পাওয়ার পর আনন্দাশ্রু ঝরেছে খেলোয়াড়দের চোখে।
নামিবিয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এটা সেরা দিন। অন্য দিকে অবিশ্বাস্য হারে মাঠেই স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন আয়ারল্যান্ডের কিছু খেলোয়াড়। হার যেন তাদের বিশ্বাস হচ্ছিল না। এটাই তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মজা!
৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার টুয়েলভে উঠল নামিবিয়া। সেখানে নিজেদের গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আয়ারল্যান্ড: ২০ ওভারে ১২৫/৮ (পল স্টারলিং ৩৮, কেভিন ওব্রায়েন ২৫, অ্যান্ডি বালবিরনি ২১; জান ফ্রিলিংক ৩/২১)।
নামিবিয়া: ১৮.৩ ওভারে ১২৬/২ (গেরহার্ড ইরাসমাস ৫৩*, ডেভিড ওয়াইজ ২৮*, জেন গ্রিন ২৪, ক্রেগ উইলিয়ামস ১৫।
ফল: নামিবিয়া ৮ উইকেটে জয়ী।
একতার কণ্ঠঃ জ্যান্ত বাঘের চেয়েও আহত বাঘ বেশ ভয়ঙ্কর। বাংলা সাহিত্যে এই প্রবাদের প্রচলন বেশ। মরুর বুকে পাহাড়ের শহর মাসকটে এই প্রবাদের সত্যতা প্রমাণের পালা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের সামনে। স্কটিশদের থাবায় অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ওমানের বিপক্ষে একটা জয় এনে দিতে পারে পাহাড়সম স্বস্তি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সুলতানাত ওমানের মুখোমুখি লাল সবুজের দল। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে এই মহারণ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজয়ে বেদনা ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ। শিষ্যরা যে ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবেন সেই বিশ্বাস, আস্থা আছে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর।
‘ছেলেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আছে। আমিও ওদের ওপর আস্থা রাখছি। অনেক টানটান উত্তেজনার ম্যাচ ওরা জিতেছে। ছেলেরা ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির বাধা পার করবে, পরের রাউন্ডে যাবে, এ ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী।’- এই ম্যাচকে সামনে রেখে ঠিক এভাবেই বলছিলেন রাসেল ডমিঙ্গো।
অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডকে উড়িয়ে দেওয়ার পর এখন মাহমুদউল্লাহদের ভাবতে হচ্ছে পুচকে ওমানের বিপক্ষে জয় পাওয়া নিয়ে। অনিশ্চিয়তার খেলা ক্রিকেটে বুঝি এমনই হয়। বিশেষ করে খেলাটা যখন ২৪০ বলের তখন ফেভারিট বলতে কোনো শব্দ হয়তো নেই। দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করায় এই আলোচনার জন্ম দিয়েছে বেশ জোরালোভাবেই।
ওমানকেও হালকা ভাবে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। বেশকিছু বিষয় কাজ করছে তাদের পক্ষে। একে তো স্বাগতিক দল আবার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে পাপুয়া নিউ গিনিকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে। তাদের সমীহ করছেন বাংলাদেশ কোচও। তবে এটাও জানিয়ে রেখেছেন ভালো খেললে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
‘আমাদের আগামীকাল (আজ) ভালো করতে হবে। ওমান ভালো করছে। ওরাও পরের রাউন্ডে যেতে চাইবে। আমাদের জন্য কাজটা কঠিনই হবে। কিন্তু ছেলেরা জানে যে ওরা যদি ভালো খেলাটা খেলতে পারে, তাহলে আমাদের জেতার সম্ভাবনাই বেশি। কোচ হিসেবে আমি কোনো দলকেই ছোট করে দেখি না। এটাই কোচদের বৈশিষ্ট্য।‘
মাসকটের আল আমিরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্কটিশদের বিপক্ষে প্রবাসীদের জোয়ারে গ্যালারিতে উঠেছিল লাল সবুজের ঢেউ। একই দৃশ্য দেখা যাবে আজও। এতে কোনো সন্দেহ নেই। ওমানিদের ক্রিকেট নিয়ে খুব একটা আগ্রহ না থাকলেও এই ম্যাচে স্থানীয় দর্শকদের মাঠে দেখা যাবে। গতকাল রাতে ওমান ক্রিকেট বোর্ড নিজেদের ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে দেয়, ‘সব টিকিট বিক্রি শেষ। গ্যালারি হাউজফুল।’
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ১৬ সদস্যের মধ্যে একজন ছাড়া বাকিদের জন্ম ভারত ও পাকিস্তানে। একমাত্র সুফিয়ান মেহমুদের জন্ম ওমানে, তিনি দেশটির বয়সভিত্তিক দলে খেলে উঠে এসেছেন জাতীয় দলে। তাই ওমান দলকে এক কথায় ‘ভাড়াটে’ দল বললেও ভুল হবে না। যদি তারা নাগরিকত্ব পেয়ে এখন ওমানের পতাকা উড়াচ্ছেন।
বাংলাদেশ একাদশে এক পরিবর্তন নিশ্চিত। ওপেনার সৌম্য সরকারের পরিবর্তে মোহাম্মদ নাঈমকে দেখা যাবে। পেস আক্রমণেও দেখা যেতে পারে ভিন্নতা। তাসকিন আহমেদের পরিবর্তে দেখা যেতে পারে শরিফুল ইসলামকে। আর বাংলাদেশ যদি এক পেসার কম খেলায় তাহলে একাদশে আসতে পারেন নাসুম আহমেদ।
এ ছাড়া ব্যাটিং অর্ডারে আসতে পারে পরিবর্তন। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নামানো হতে পারে ব্যাটসম্যানদের। এই ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ ডমিঙ্গো, ‘আমি ক্রিজে বাঁহাতি ও ডানহাতির সমন্বয় দেখতে পছন্দ করি। সবসময়ই যেন ভিন্ন ভিন্ন দুজন ব্যাটসম্যান ক্রিজে থাকে, সেই চেষ্টা করি। এ নিয়ে গভীরভাবে আলোচনাও করেছি। আমরা ছোট খাটো পরিবর্তনও আনতে পারি। এক-দুই জায়গা হয়তো এদিক ওদিক হবে। শেষ দুটি সিরিজেও দেখেছেন আমরা কিভাবে ব্যাটিং অর্ডার সাজিয়েছি। আমরা এক্ষেত্রে খুবই নমনীয় থাকতে চাই। ম্যাচের অবস্থা অনুযায়ী ব্যাটসম্যান পাঠাতে চাই।’
এর আগে ওমানের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে বাংলাদেশ তাদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছিল। তবে এবার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে দলটি। স্বাগতিক বলেই কন্ডিশন তাদের পক্ষে। আর পাঁচ বছর আগের সেই দল আর এই দলের পার্থক্যও অনেক। দিনে দিনে তারা পরিণত হয়েছেন। আল আমিরাতে ওমান ১১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে তার মধ্যে ৭টিতেই জয় পেয়েছে।
বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের এই ম্যাচে জয় চাই-ই। না হয় মাসকট থেকেই ধরতে হবে দেশের বিমান। মাহমুদউল্লাহদের সামনে অগ্নিপরীক্ষা, সেই পরীক্ষায় পাস করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ কি পারবে সুলতানাতের মাটিতে ‘ভাড়াটে’ সুলতানদের হারাতে? বাংলাদেশকে যে পারতেই হবে!
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ‘পরিচালনা পর্ষদ’ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে হ্যাটট্রিক জয় পেয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন।
বুধবার (৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্যাটাগরি-২ অর্থাৎ ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক হিসেবে এবারও নির্বাচিত হয়েছেন গত দুই মেয়াদের সভাপতি পাপন।
৫৭ ভোটের মধ্যে বর্তমান বিসিবি প্রধান পেয়েছেন ৫৩ ভোট। পাপনের সমান সংখ্যক ভোট পেয়েছেন আরও দুইজন- গাজী গোলাম মুর্তজা ও এনায়েত হোসেন সিরাজ।
নির্বাচনে কাট্যাগরি-১ এ জিতেছেন নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও তানভীর টিটু। তবে রাজশাহী বিভাগে হেরে গেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট। রাজশাহী বিভাগে মাসুদকে ৭-২ ভোটে হারান সাইফুল আলম স্বপন। পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হিসেবে তিনি তৃতীয়বারের মতো বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।
ক্যাটাগরি-২ থেকে জয় পেয়েছেন ১২ ক্লাব পরিচালক- নাজমুল হাসান পাপন, ওবেদ নিজাম, গাজী গোলাম মর্তুজা, নজিব আহমেদ, মাহবুব আনাম, সালাউদ্দিন চৌধুরী, ইফতেখার রহমান, ইসমাইল হায়দার মল্লিক, মঞ্জুর কাদের, মঞ্জুর আলম, এনায়েত হোসেন, মঞ্জুর আলম ও ফাহিম সিনহা।
ক্যাটাগরি -৩ এ খালেদ মাহমুদ সুজন ৩৭-৩ ভোটে হারিয়েছেন নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে।
কাউন্সিলররা ভোটের মাধ্যমে মোট ২৩ জন পরিচালক নির্বাচন করেছেন, আর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বোর্ড পরিচালক হয়েছেন আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি ও জালাল ইউনুস।
বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিতদের তালিকা:
ক্যাটাগরি-১
আকরাম খান (চট্টগ্রাম)
আ জ ম নাসির (চট্টগ্রাম)
নাঈমুর রহমান দুর্জয় (মানিকগঞ্জ)
তানভীর আহমেদ টিটু (নারায়ণগঞ্জ)
শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল (সিলেট)
শেখ সোহেল (খুলনা)
কাজী ইনাম আহমেদ (খুলনা)
আলমগির খান (বরিশাল)
আনোয়ারুল ইসলাম (রংপুর)
সাইফুল আলম স্বপন (রাজশাহী)
ক্যাটাগরি-২
নাজমুল হাসান পাপন (আবাহনী)
নজিব আহমেদ (শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব)
ইসমাইল হায়দার চৌধুরী মল্লিক (শেখ জামাল)
গাজী গোলাম মুর্তজা (গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স)
মাহবুব উল আনাম (মোহামেডান)
ওবেদ রশীদ নিজাম (শাইনপুকুর)
সালাহউদ্দিন চৌধুরী (কাকরাইল বয়েজ ক্লাব)
এনায়েত হোসেন (আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব)
ফাহিম সিনহা (সূর্য তরুণ ক্লাব)
ইফতেখার রহমান মিঠু (ফেয়ার ফাইটার্স স্পোর্টিং ক্লাব)
মনজুর কাদের (ঢাকা এসেটস)
মনজুর আলম মনজু (আসিফ শিফা ক্রিকেট একাডেমী)
ক্যাটাগরি-৩
খালেদ মাহমুদ সুজন (সাবেক অধিনায়ক)
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ক্যাটাগরি
আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি
জালাল ইউনুস
একতার কণ্ঠঃ মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। রোহিত শর্মার দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে উঠে এসেছে ইয়ন মর্গানের দল।
অবশ্য এ জয়ের আনন্দকে কিছুটা হলেও মাটি করে দিয়েছে এক দুঃসংবাদ। ২৪ লাখ রুপি জরিমানা গুনতে হচ্ছে কেকেআর অধিনায়ক এইউন মরগ্যানকে। স্লো ওভার রেটের ফাঁদে ধরা পড়েছে কলকাতা। এতেই শেষ নয়, কলকাতা একাদশের অন্যদেরও ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা হিসেবে দিতে হবে।
আইপিএলের নীতিমালা অনুযায়ী, স্লো ওভার রেটের জন্য এক ম্যাচে অধিনায়কের জরিমানা করা হয় ১২ লাখ রুপি। তবে মর্গানকে গুনতে হবে ২৪ লাখ। কারণ একই মৌসুমে দ্বিতীয়বার এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন ইংলিশ তারকা। তাই প্রথমবারের জরিমানার দ্বিগুণ অর্থাৎ ২৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে মর্গানকে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নির্ধারিত ২০ ওভার সমাপ্তির জন্য ইনিংসের মাঝে দুই বিরতিসহ মোট ৯০ মিনিট সময় বেঁধে দেন ম্যাচ রেফারি। এর বাইরে আরও ৫ থেকে ৭ মিনিট পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে নিলে আপত্তি করেন না রেফারি।
কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ২০ ওভার শেষ করতে কলকাতার সময় লেগেছে প্রায় ১১৫ মিনিট। এ কারণেই মূলত শাস্তির মুখোমুখি হতে হলো অধিনায়ক মর্গান ও তার দলকে।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৫৬ রান জমা করে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। জবাবে ভেংকটেশ আইয়ার ও রাহুল ত্রিপাঠির ঝড়ে মাত্র ১৫.১ ওভারে ১৫৯ রান করে ফেলে শাহরুখ খানের দল।
সংবাদ সূত্র-যুগান্তর অনলাইন