আরমান কবীরঃ দেশের মধ্যাঞ্চলে টাঙ্গাইল জেলার অবস্থান হওয়ায় এবং সড়ক, নদীপথ ও রেলপথের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক থাকায় মাদক চোরা চালানের নিরাপদ রুট হিসেবে মাদক ব্যবসায়ীরা বেছে নিয়েছে এই জেলাকে। ফলে জেলায় প্রতিনিয়ত নদী, রেল ও সড়ক পথে আসছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। এই জেলায় জালের মতো ছড়িয়ে আছে নদী। এইসব নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে মাদকের হট-স্পট।
জেলার নাগরপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নদী সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং শহরের কান্দাপাড়া যৌনপল্লী, রাবনা বাইপাস ও আশেকুর বাইপাসকে বেছে নিয়েছে মাদক কারবারিরা। সুযোগ বুঝে মাদক পাচারের জন্য সড়ক পথকে ব্যবহার করছে এইসব মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদক পাচারের রুট হিসেবে এই জেলাকে ব্যবহারের কারণে জেলায় বেড়েছে ব্যাপক মাদকের সরবরাহ। বিশেষ করে উঠতি বয়সের কিশোর-যুবকদের টার্গেট করা হচ্ছে মাদক বিক্রির জন্য। শহরে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হিরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে মাদক ঢুকছে টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার খ্যাত এলেঙ্গা, টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস ও আশেকুর এলাকায়। এরপর এই স্থান গুলো থেকেই ঢাকা, গাজীপুরসহ টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিনব পদ্ধতিতে মাদক ছড়িয়ে পরছে । শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় রাতের আধারে অলিগলিতে বিক্রয় হচ্ছে সর্বনাশা এইসব মাদক। আবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে হাতেহাতে। এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রে বাড়িতেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদক।
বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া, বেড়াডোমা, কাগমারা, সাহাপাড়া, শান্তিকুঞ্জ মোড়, মাঝিপাড়া, হাজেরাঘাট, দক্ষিণ কলেজপাড়া (মহিষ খোলা), ধুলেরচর, বইল্লা এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের কেনা-বেচা চলে বলে জানা গেছে। এইসব এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি।
জানা গেছে, মাদকদ্রব্য পরিবহনে নিরাপদ রুট হিসাবে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলা হয়ে নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র, চর সলিমাবাদ, আটাপাড়া, শাহাজানি চরাঞ্চল, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলি, কাকুয়া, হুগড়া, ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল, গোবিন্দাসী, অর্জুনা, গাবসারা, কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি যমুনা নদীর চরাঞ্চল মাদক পাচারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক নির্মূলে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র্যাব পৃথকভাবে কাজ করছে। গত সাত মাসে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ ২’শত ৮ কেজি গাঁজা, ৫৭ হাজার ২’শত ৬৫ পিস ইয়াবা, ৭২৫.১০ গ্রাম হেরোইন, ১০৮৫.৩৬ লিটার দেশি-বিদেশি মদ ও ৫৯৫ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
এসব মাদকের বেশিরভাগ বড় বড় চালান উদ্ধার ও মাদক কারবারিদের আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার অভিযানে গত সাত মাসে ৪৭৩ জন মাদক কারবারির নামে ৩৩৮ টি মামলা রজ্জু করেছে জেলা পুলিশ ।
অপরদিকে, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত সাত মাসে ৩৮ কেজি গাঁজা, ৫ হাজার ৭’শত ৭৪ পিস ইয়াবা, ৮৫.৫ গ্রাম হেরোইন, ৪১.২৫ লিটার মদ, ১০ বোতল ফেনসিডিল, টাপেন্টাডল ৩ হাজার ৪ শত ৮৮ টি ট্যাবলেট, ১০ হাজার লিটার ওয়াশ জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে।অভিযানে মাদক কারবারিদের থেকে নগদ ১৪ লক্ষ ৩১ হাজার টাকাসহ উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজার মূল্য ৪৭ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। উদ্ধার অভিযানে গত সাত মাসে ১৯৭ জন মাদক কারবারির নামে ১৯৬ টি মামলা রজ্জু করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
এদিকে র্যাব ১৪, সিপিসি- ৩ সূত্রে জানা গেছে, গত সাত মাসে ৮২ কেজি গাঁজা, ৪৭৪৯ পিস ইয়াবা, ১৬৭ গ্রাম হেরোইন, ৯৮ লিটার দেশি মদ ও ৪৩১ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। উদ্ধার অভিযানে এই সাত মাসে ৭ জন মাদক কারবারির নামে ৩ টি মামলা রজ্জু করতে সহায়তা করেছে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ত্রিমুখী অভিযানে বড় বড় মাদকের চালান উদ্ধার ও মাদক কারবারিদের আটকের পরেও থামছেনা জেলায় মাদকের ভয়াল থাবা। আইনের ফাঁকফোকড়ে আবারো বেরিয়ে আসছে মাদক কারবারিরা। আবার নতুন উদ্যেমে ভিন্নতর কৌশলে শুরু করছে মাদক ব্যবসা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, টাঙ্গাইলবাসীর জন-জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে প্রতিনিয়ত কাজ করছে জেলা পুলিশ। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ধর্মীয় উপাসনালয় মসজিদ-মন্দিরে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে।
তিনি আরও জানান, মাদক ব্যবসায়িদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে হবে । আবার তাদেরকে সুযোগও দিতে হবে সুপথে ফেরার। মাদক ব্যবসায়ির তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। সন্তান কার সাথে মিশে তা খেয়াল রাখতে হবে অভিভাবকদের। পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে মাদক নির্মূলে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই মাদক নির্মূল হবে।
একতার কণ্ঠঃ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পালিত হচ্ছে বিএনপি’র ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।গত বছর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি চমৎকার মাল্টি কালার পোস্টার করা হয়, সেখানে দলের প্রতিষ্ঠাতা, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি ছবি দেওয়া হয়, মূল বিষয়টি হলো সেই পোস্টার লেখা হয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সততাই আমাদের প্রেরণা। এতোবছর পরেও কিন্তু শহীদ জিয়ার সততাকেই সামনে নিয়ে আশা হয়েছে। সত্যি কথা জিয়াউর রহমানের সততা বিশ্বব্যাপী সর্বজন স্বীকৃত। আজ বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময়কালে দুটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা করবো।
১৯৭৮ সালের পহেলা জানুয়ার জাতীয়তাবাদী অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন হবে ৩২ নম্বর পুরানা পল্টনে। শরীক দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ অফিসে এসে আগেই উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিনিয়র নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়া, বিচারপতি আব্দুস সাত্তার,গোলাম হাফিজ, বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মতিন চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আকবর হোসেন,ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, ডাক্তার আব্দুল মতিন ও ফিরোজ নুন। কেন্দ্রীয় অফিসে জিয়া আসলেন বুশশার্ট প্যান্ট ও চোখে সানগ্লাস পরা অবস্থায়, অবশ্য মাথায় সাদা ক্যাপ ছিল। কার্পেট বিছানো ফ্লোরে পূর্বেই আগত সবার সাথে বসে পড়লেন এবং মোনাজাতে অংশগ্রহণ করলেন।মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ভাসানী ন্যাপ, বিচারপতি আব্দুল সাত্তার সাহেব, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আকবর হোসেনের ইউপিপি, লেবার পার্টির মাওলানা আব্দুল মতিন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহ আজিজ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির এস এম সোলাইমান নেতৃত্বে গঠিত হলো জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল)। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে জাগদল এর চেয়ারম্যান হিসাবে মনোনীত করা হলো এবং ১৯৭৮ সাল ২৩ জুনের নির্বাচনের তাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনীত করা হলো।অন্যদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ওসমানী সাহেব কে। মোনাজাত পর্ব শেষ হলে প্রেসিডেন্ট জিয়া আগত সকল নেতৃবৃন্দর সাথে করমর্দন করেন, কুশল বিনিময় করেন,আলোচনা করেন। ২৩ জনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কর্মপন্থা নিয়ে বিশদ আলোচনা চলছিল, তখন পাশে বায়তুল মোকাররম থেকে জোহরের নামাজের আযানের শব্দ শোনা গেল, জিয়া বাইতুল মোকাররমের নামাজ পড়তে যাবেন তাই সবার সাথে হাত মিলিয়ে বিদায় নিলেন । জেনারেল জিয়া চললেন মোকাররম মসজিদের দিকে। পল্টনের প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি বাসাবাড়ির জানালা, বারান্দা অফিসগুলোর ছাদ থেকে তাকে দেখার জন্য, অভিবাদন জানানোর জন্য দাঁড়িয়েছিল সকল শ্রেণীর মানুষ । এদেশ সকল মানুষের তিনি কাছে কতটুকু প্রিয় ছিলেন এটা তাই প্রমাণ করে। মানুষের ভালবাসা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াকে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
আরেকটি আলোচিত ঘটনা উল্লেখ করছি।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর। রাজধানী ঢাকার রমনা রেস্তোরার পাশে প্যান্ডেল টাঙ্গিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আসলেন এই অনুষ্ঠানে, অনুষ্ঠান মঞ্চে অন্যান ব্যক্তিত্ব আগে থেকে এসে উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চের সামনে আছেন রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। শহীদ জিয়া বক্তৃতা করলেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলটির প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করলেন। দলটির চেয়ারম্যান হলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১১ জন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যের নাম ঐদিন ঘোষণা করলেন।
১)প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান- চেয়ারম্যান, ২)
বিচারপতি আব্দুল সাত্তার ভাইস- চেয়ারম্যান, ৩)ডাক্তার বদরুদ্দোজা চৌধুরী- মহাসচিব, ৪) শাহ আজিজুর রহমান – সদস্য ৫)ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার- সদস্য, ৬) ডাক্তার ইউসুফ আলী- সদস্য( চট্টগ্রাম), ৭)শেখ রাজ্জাক আলী-সদস্য ( খুলনা) ৮)প্রফেসর একরামুল হক -সদস্য( রাজশাহী, সাবেক ডাকসু ভিপি)৯) সৈয়দ মহিবুল হাসান – সদস্য(সিলেট) ,১০) আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী -সদস্য( বরিশাল বর্তমানে পটুয়াখালী),১১)ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা-সদস্য। কর্নেল আলাউদ্দিনকে স্ট্যান্ডিং কমিটি সচিব হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সাংবাদিকরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে আলোচনা করলেন, প্রশ্ন উত্থাপন করলেন। এর মধ্যে একটি প্রশ্ন ছিল আপনি সৎ ব্যক্তি, পার্টি চালানোর টাকা কোথায় পাবেন? প্রেসিডেন্ট জিয়া উত্তরে বললেন money is no problem if you work in the interest of the people the country. এভাবেই জন্ম হলো বিএনপি’র।
ইতিপূর্বে ১৯৭৮ সালের ২৮ আগস্ট মাসে জাগদল বিলুপ্ত করা হয়। চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী নতুন দলটির নাম প্রস্তাব করেছিলেন জাস্টিস পার্টি হিসেবে। কিন্তু দলটির তেমন দুধসুই হয়নি বিদায় এবং জাতীয়তাবাদী শব্দটি যুক্ত না থাকায় গ্রহণ করা হয়নি। অবশেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজেই নবগঠিত দলটির নামকরণ করেন “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

লেখক – প্রফেসর ড.জি.এম. শফিউর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও সহ-সভাপতি, ইউট্যাব, কেন্দ্রীয় কমিটি
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, ‘আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান খুব তাড়াতাড়িই দেশে ফিরবেন। তার আসার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বাংলাদেশের আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যেদিন দেশনায়ক তারেক রহমান বাংলাদেশে আসবেন। সেদিন সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ যে যেখানে আছে, সেখান থেকেই টেলিভিশনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং রেডিওসহ সব মিডিয়ার মাধ্যমে সবাই তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি।
দেশের আইন-শৃঙ্খালা পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যারা চায় না, যারা নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে চায়। এর পেছনে তাদের হাত রয়েছে।
আমি মনে করি, আমরা সব রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনমুখী হই, তাহলে সবার সহযোগিতায় নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।’
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইলে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এই দিনে শহিদ জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন গণতন্ত্রের জন্য। তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের সমৃদ্ধির জন্য, দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। তাই আজকের এই দিনে বলতে চাই নির্বাচন গণতন্ত্রের সব চেয়ে বড় স্তম্ভ। মানবাধিকারের সব চেয়ে বড় স্তম্ভ। মানুষের সব চেয়ে বড় স্তম্ভ। তাই নির্বাচনের বিকল্প শুধুই নির্বাচন।’
পরে তিনি উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরনবী, আবু হায়াত খান নবু, পৌর বিএনপির সভাপতি আকতারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রাশেদা সুলতানা রুবি প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইলের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং শ্যামা বাবুর খাল উদ্ধার ও দখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে টাঙ্গাইল নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির ব্যানারে ঘন্টা ব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে টাঙ্গাইল শহরের মাঝখান দিয়ে এককালে প্রবাহিত শ্যামা বাবুর খাল উদ্ধার, ভাসানী হল ও ব্রাহ্ম সমাজের মন্দিরসহ হারিয়ে যাওয়া ও দখল হওয়া সকল ঐতিহ্য রক্ষার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়াও মানববন্ধন থেকে—সকল প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি, অবৈধ দখলদার ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—টাঙ্গাইল নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন, কবি ও সাংবাদিক অ্যাডভোকেট খান মোহাম্মদ খালেদ, টাঙ্গাইল কালচারাল রিফর্মেশন ফোরামের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, নাগরিক অধিকার সুরক্ষার সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ রাজ্য, সদস্য ফরহাদ হোসেন, এবং পরিবেশবিদ ফজলে সানি প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির(কাদের) অফিস ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধ করে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের থানার পাশে ছয় আনি বাজার রোড অবস্থিত জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করা হয়।
জানা যায়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ শতাধিক নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য জাতীয় পার্টি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক হামলার প্রতিবাদে জেলা গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে সকাল ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নিরালা মোড় পার হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার পাশে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে যায়। এসময় নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর এলাকায় গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে নেতা-কর্মীরা। প্রায় ঘন্টা খানেক সেখানে খানেক অবস্থানের পর সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় নেতা-কর্মীরা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহম্মেদ বলেন, আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলাম। বর্তমানে ঐ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করাহয়েছে।
শনিবার সকালে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা ও ভাংচুর চালায় গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা
আরমান কবীরঃ বর্তমানে চব্বিশের আন্দোলনকারীদের ব্যবহারে দেশবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইলে জেলা সদর রোডে অবস্থিত নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি দেশবাসী ও আন্তর্জাতিকভাবে বলতে চাই, ২৪শের আন্দোলন আমি দেশ স্বাধীন হওয়ার কাছাকাছি মনে করি। তাদের সমর্থন করি আমি, কিন্তু বর্তমানে চব্বিশের আন্দোলনকারীদের ব্যবহারে দেশবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আমি তো ভেবেছিলাম তাদের এই বিজয় হাজার বছর চিরস্থায়ী হবে কিন্তু এক বছরে তাদের এই বিজয় ধ্বংসের দিকে চলে যাবে এইটা আমরা আশা করি নাই, আর যদি বলা যায় আওয়ামী দোসর থেকে বর্তমান সরকারের দোসররা তো বড় স্বৈরাচার।
এ সময় বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেমন নাহলে দেশ স্বাধীন হতো না, তেমনিভাবে লতিফ সিদ্দিকীর জন্ম না হলে টাঙ্গাইল হতো না, আমরা রাজনীতি করতে পারতাম না। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের অবস্থা তৈরি করা দরকার, নিরাপত্তা অবস্থা জোরদার করা দরকার।’
লতিফ সিদ্দিকীর ইস্যুতে কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, ‘সকালে ৭১ মঞ্চের আয়োজনে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে যাওয়া হলে মব সৃষ্টি করে লতিফ সিদ্দিকীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই সম্মানের সঙ্গে তাকে ছেড়ে দেওয়া হোক। যদি তার নামে কোনো মামলা থাকে তাহলে আমরা আইনিভাবে লড়বো।’
সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সাহান হাসানঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ও শহর শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এডভোকেট শামীম আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে উদ্দেশ্যে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার প্রতিটি উদ্দেশ্যই স্বেচ্ছাসেবক দল সফলভাবে পূরণ করেছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিগত বৈশ্বিক মহামারী করোনা কালে দুঃস্থ-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে স্বেচ্ছাসেবক দলের ২৬ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। আশাকরি অতীতের মতোই ভবিষ্যতেও স্বেচ্ছাসেবক দল তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তরিকুল ইসলাম খান ঝলক, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. আমানুল্লাহ আমান প্রমুখ।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে সদ্য নিয়োগ পাওয়া আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা (জিপি) বজলুর রহমান মিয়াকে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে তার কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন আইনজীবীরা।
বজলুর রহমান জিপি পদে নিয়োগ পাওয়ায় সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সেই ক্ষোভ থেকে মূলত তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে পিপির দুটো কক্ষে তারা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে আইন সচিবের মাধ্যমে আইন উপদেষ্টা বরাবর আইনজীবী বজলুর রহমানের নিয়োগ বাতিল করে অন্য কাউকে নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়।
অতিরিক্ত আইন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত জিপি) মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, ‘‘মঙ্গলবার সকালে কক্ষে তালা দেয়ার বিষয়টি জানতে পারি। পরে প্রশাসনকে অবগত করেছি। তালাবদ্ধ থাকায় আমি আমার কক্ষে প্রবেশ করতে পারিনি।’’
গত ৫ মার্চ আদালতের আইন কর্মকর্তা আব্দুল বাকী মিয়ার মৃত্যুর পর অতিরিক্ত আইন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১০ আগস্ট অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান মিয়াকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবাদ স্বরূপ জিপির কক্ষে তালা দেয় বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা।
বিক্ষুব্ধ কয়েকজন আইনজীবী বলেন, ‘‘বজলুর রহমান বিগত আওয়ামী লীগের দোসর। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক পোস্ট দিয়েছেন।
আইনজীবীরা আরও অভিযোগ করেন, বজলুর রহমান ইতোপূর্বে দেওয়ানি মামলা পরিচালনা করেননি।’’ আদালতের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্য যে কোনো যোগ্য আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়ার দাবি করেন তারা।
জেলা বার সমিতির সভাপতি জহুর আজহার খান বলেন, ‘‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বজলুর রহমানকে দুই দিন অফিস না করার জন্য মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল। তিনি না মেনে উল্টো বার সমিতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। বজলুর রহমান বলেছেন, লোকজন নিয়ে জিপির কক্ষে প্রবেশ করবেন।’’
সদ্য নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তা (জিপি) বজলুর রহমান মিয়া বলেন, ‘‘আমি কোনো দলের দোসর ছিলাম না। সদ্য জিপি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আমি ফ্যাসিস্টদের দোসর হয়েছি।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আমার নামে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি জিপি নিয়োগ পাওয়ায় একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’’
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাসহ খালাসপ্রাপ্ত ১০ আসামিকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
খালাসপ্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে আমানুরের তিন ভাই, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাঁকন) ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা) রয়েছেন।
হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গত ২৩ জুলাই এ আদেশ দেন। আদালত ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার নথিও তলবের আদেশ দিয়েছেন।
হাইকোর্টের এ আদেশ রবিবার (১০ আগস্ট) ডাকযোগে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এবং চিফ জুডিশিয়াল আদালতে পৌঁছায়। তবে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিষয়টি জানা যায়। উভয় আদালতের সংশ্লিষ্ট বিভাগ হাইকোর্টের আদেশের কপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাহমুদুল হাসান গত ২ ফেব্রুয়ারি বহুল আলোচিত ফারুক হত্যা মামলার রায় দেন। আদালত মোহাম্মদ আলী ও কবির হোসেন নামের দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মোহাম্মদ আলী ২০১৪ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফারুক হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তাঁর জবানবন্দিতে এই হত্যার সঙ্গে আমানুর রহমান ও তাঁর ভাইদের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তিনি পলাতক। অপর দণ্ডিত কবির হোসেন ২০১৪ সাল থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে আমানুররা চার ভাই ছাড়া অন্যরা হলেন সানোয়ার হোসেন, নাসির উদ্দিন, বাবু, ফরিদ হোসেন, মাসুদুর রহমান, আলমগীর হোসেন। মামলা চলাকালে দুই আসামি আনিসুল ইসলাম রাজা ও মো. সমীর কারাগারে মারা যান।
নিহত ফারুক আহমেদের ছেলে আহমেদ সুমন মজিদ মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে জানান, এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিলের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই আমি নিজে উচ্চ আদালতে আপিলের উদ্যোগ নিই। আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটরি অনুবিভাগ আমাকে গত ২৬ জুন নিজ দায়িত্বে ও নিজ খরচে ফৌজদারি রিভিশন মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়। অনুমোদন পাওয়ার পর হাইকোর্টে আপিল দায়ের করি।
আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৩ জুলাই বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আহমেদ সুমন মজিদের আপিল আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ জুলফিকার আলম শিমুল এবং বাদীপক্ষে ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তাঁর কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মাহফীজুর রহমান ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আমানুরদের চার ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
আরমান কবীরঃ খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকসহ সমাজের অশুভ কাজ থেকে বেড়িয়ে আসা সম্ভব বলে মনে করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে নাটোর শহরের কানাইখালী মিনি স্টেডিয়ামসহ দেশের ১৪টি মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
নবনির্মিত স্টেডিয়ামগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে ক্রীড়া উপদেস্টা বলেন, মাঠগুলোতে ক্রীড়াবিদরা যেনো নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারেন। উপজেলা পর্যায়ে মাঠগুলো ব্যবহার হলে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক মানের খেলোয়ার পাওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে যেসব মাঠ নির্মাণাধীন রয়েছে, সেগুলোর নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ হবে। পাশাপাশি দেশের যেসব উপজেলায় স্টেডিয়াম নেই, সেই উপজেলা গুলোতে স্টেডিয়াম তৈরী করা হবে।
জুমের মাধ্যমে টাঙ্গাইল সদর প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল্যাহ আল মামুন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা আক্তার , সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মকবুল হোসেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ, দাইন্যা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু সাঈদসহ উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের দপ্তর প্রধানগণ, এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
আরমান কবীরঃ গাজীপুরে ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে বিরুপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এতে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ, সাংবাদিক কাজী তাজউদ্দিন রিপন, মামুনুর রহমান মামুন, শামিম আল মামুন মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক তুহিনকে যেভাবে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা একটি স্বাধীন দেশে কল্পনাও করা যায় না। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সারা দেশে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় মানববন্ধন থেকে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের এনায়েতপুরস্থ হযরত ফাতেমা (রা.) মাদ্রাসার হিফজ শাখার এক শিশু শিক্ষার্থীকে (১০) যৌন নিগ্রহের অভিযোগে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ (২৫) ও তার বড় ভাই ওই মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের এনায়েতপুর (বৈল্যা) থেকে ওই মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহকে ও বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে অভিযুক্ত শিক্ষক ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, শহরের এনায়েতপুর (বৈল্যা) পালপাড়ার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদুল্লাহ ধুলেরচর মাদ্রাসার পাশে হযরত ফাতেমা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করে পরিচালক হিসেবে চালাচ্ছিল। পরে তার ছোট ভাই ওবায়দুল্লাহকে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি নানা অজুহাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া, অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া ইত্যাদি অপকর্ম করে আসছিলেন।
গত ২৭ জুলাই আবাসিকে থেকে মাদ্রাসার হিফজ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে ‘জিনের’ ভয় দেখিয়ে চোখ বেঁধে পড়নের কাপড় খুলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ সহ যৌন নিগ্রহের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে ওই শিশু শিক্ষার্থী পালিয়ে কক্ষ থেকে দৌঁড়ে বেড়িয়ে গিয়ে নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করে। পরে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে তার মাকে ঘটনা খুলে বলে। তার মা স্থানীয় মাতব্বরদের সঙ্গে পরামর্শ করে মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লার কাছে বিচার চান। পরিচালক মাদ্রাসার ওই শিক্ষক তার ভাই হওয়ায় এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) মাদ্রাসার পরিচালকের কাছে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চায়।
এ সময় পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহ তার ভাই ওবায়দুল্লাহকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে বলেন, শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ পালিয়ে গেছে, সে যদি অপরাধী হয়ে থাকে আইন তাকে শাস্তি দিবে- আপনারা থানায় যান।
এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোহাম্মদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই শিশুশিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নং-৮, তাং-৬/৮/২০২৫ইং) দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পর বুধবার বিকালে পুলিশ মাদ্রাসার শিক্ষক ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে।
এলাকাবাসী জানায়, হযরত ফাতেমা (রা.) মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ মাদ্রাসার ওয়াশরুমে ক্যামেরা লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের নগ্ন ভিডিও ধারণ করে ‘জিনের’ ভয় দেখিয়ে অনৈতিক অপকর্ম করে। ইতোপূর্বে ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীকে তিনি শিকার বানিয়েছেন। মাদ্রাসার পরিচালকের কাছে অভিযোগ করা হলে মোহাম্মদুল্লাহ সব ক্ষেত্রেই ঘটনা ধামাচাপা দেন। হিফজ শ্রেণির শিক্ষার্থীর ঘটনাটিও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীর বুদ্ধিমত্তা ও অভিভাকদের সচেতনতায় এবার তিনি সফল হতে পারেনি। এলাকাবাসী শিক্ষা প্রতিষ্ঠনটির পরিচালক ও তার লম্পট ভাইয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
যৌন নিগ্রহের শিকার শিশু শিক্ষার্থীর মা ও মামলার বাদী জানান, লম্পট শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ ইতোপূর্বেও এ ধরণের কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছে। কোনটিরই বিচার হয়নি। শাস্তি না হওয়ায় সাহসী হয়ে তার শিশুকন্যাকে তার লালসার শিকার বানিয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহাম্মেদ জানান, মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিগ্রহ করার চেষ্টার অভিযোগে তার মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহ ও তার ভাই ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।