/ হোম / জাতীয়
নিহত সেনা কর্মকর্তা তানজিমের বাবা-মায়ের কাছে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর - Ekotar Kantho

নিহত সেনা কর্মকর্তা তানজিমের বাবা-মায়ের কাছে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর

একতার কণ্ঠঃ দুর্বৃত্তদের আঘাতে নিহত টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের বাবা-মায়ের কাছে পূর্বাচলে অবস্থিত জলসিড়ি আবাসনের একটি ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সেনাসদরে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের চকরিয়ায় যৌথবাহিনীর ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনাকালে দুর্বৃত্তদের আঘাতে নিহত হন লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার (২৩)। তার নিহতের ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তি দেয় আইএসপিআর।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চকরিয়া উপজেলার অন্তর্গত ডুলহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পেয়ে চকরিয়া আর্মি ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল দ্রুত সেখানে যায়।

ভোর রাত ৪টার দিকে মাইজপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করার সময় ৭/৮ সদস্যের একটি ডাকাত দল সেনা টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন ডাকাত দলের কয়েকজনকে তাড়া করেন। এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করলে গুরুতর আহত হন এবং এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নির্জনকে উদ্ধার করে মালুমঘাট মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে তিন ডাকাতকে আটকসহ একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ৬ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও, ডাকাত সন্দেহে আরও তিন জনকে আটক করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশমাতৃকার সেবায় এ তরুণ সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এবং সেই সাথে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সব সদস্যের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের করের বেতকা এলাকার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সারোয়ার জাহান ও মাতা নাযমা বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে নির্জন একমাত্র ছেলে।

নির্জন পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন এবং ২০২২ সালের ৮ জুন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে আর্মি সার্ভিস কোর শাখায় কমিশন লাভ করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. জানুয়ারী ২০২৫ ১১:১৫:পিএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মাদক সেবন ও অশ্লীল নৃত্যের অভিযোগে ৭৬ বছরের পুরনো মেলা বন্ধ ঘোষণা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মাদক সেবন ও অশ্লীল নৃত্যের অভিযোগে ৭৬ বছরের পুরনো মেলা বন্ধ ঘোষণা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৭৬ বছরের পুরনো ফাইলা পাগলার মেলা বন্ধ ঘোষণা করেছে যৌথ বাহিনী। রবিবার (১২ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের দাড়িয়াপুরে অবস্থিত ফাইলা পাগলার মাজার প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশ অভিযান শেষে মেলা বন্ধের এ ঘোষণা দেন।

অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল রনী, সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন এ টি এম ফজলে রাব্বি প্রিন্স, সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ১৯৪৯ সালে উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামে প্রথম ফাইলা পাগলার মেলা শুরু হয়। প্রতিবছরের হিজরি রজব মাসের প্রথম দিন থেকে মেলা শুরু হয়ে মাসব্যাপী চলে এর কার্যক্রম। পূর্ণিমার রাতে হয় বড়মেলা। তবে মানতকারী, ভক্ত-দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে সারা মাস। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার লোক ব্যান্ডপার্টিসহ মানত করা মোরগ, খাসি, গরুসহ নানা পণ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হয়। মাজারের চারপাশের প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লোকজন মোরগ, গরু-খাসি জবাই করে মানত পূরণ করে।

এদিকে, মাজারঘেঁষেই পাগল ভক্তদের বসার আস্তানা। সেখানে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন করা হয়। এই সুযোগে দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্ত ও যুবকরা অনেকটা প্রকাশ্যেই মাদক সেবন করে। এ ছাড়া মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিরাতে অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন করা হয় বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিষয়টি নিয়ে সচেতন নাগরিক সমাজ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেয়। পরে রবিবার বিকালে যৌথ বাহিনী মেলা বন্ধে অভিযান চালায়। এ সময় ব্যবসায়ী ও মেলায় আগত দর্শনার্থীদের মেলাস্থল ত্যাগ করতে ১৫ মিনিট সময় বেঁধে দেওয়া হয়। পরে দোকানপাট সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের দুই ঘণ্টা সময় দেয় যৌথ বাহিনী। পরে মেলায় আসা লোকজন দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এ সময় মেলায় বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে আসা ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। পরে তারা মালামাল সরাতে দুই দিন সময় চান।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, ‘মেলার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ ছিল। আমরা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছি। এ কারণে মেলাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

তবে মাজার কমিটির সভাপতি কবির হাসান অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি মহল মেলাটি বন্ধ করার জন্য পাঁয়তারা করছে। মাজারের পাশ থেকে পাগল ভক্তদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও মেলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেলাটি বন্ধ করায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে ফাইলা পাগলার মাজারে পরপর দুটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে মাজারের খাদেমসহ আট জন নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ১৫ জন। এ হামলার পর কয়েক বছর মেলায় লোকজন কম হচ্ছিল। ধীরে ধীরে সেই ভয় কেটে যাওয়ার পর থেকে লোকজন মেলায় বেশি আসছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. জানুয়ারী ২০২৫ ০৪:৪৮:এএম ১ বছর আগে
সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সেই বাবা-মা-ছেলের দাফন সম্পন্ন হলো টাঙ্গাইলে - Ekotar Kantho

সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সেই বাবা-মা-ছেলের দাফন সম্পন্ন হলো টাঙ্গাইলে

একতার কণ্ঠঃ সাভারে অ‌্যাম্বু‌লে‌ন্সে আগুনে নিহত বাবা-মা ও ছে‌লেকে গ্রা‌মের বা‌ড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সামা‌জিক কবরস্থানে দাফন করা হ‌য়ে‌ছে। এর আগে স্থানীয় ভবনদত্ত সরকা‌রি প্রাথ‌মিক বিদ‌্যাল‌য়ে চারজ‌নের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিহত অপরজনকে গোপালপু‌রে দাফন করা হ‌য়ে‌ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি )রাত সোয়া ১১টার দি‌কে ঘাটাইল উপ‌জেলার ভবনদত্ত গ্রা‌মে সামা‌জিক কবরস্থানে নিহত তিনজ‌নের দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে অ্যাম্বুলেন্স গা‌ড়ি‌তে আগুনে নিহত চারজ‌নের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল থে‌কে গ্রা‌মের বাড়িতে আনা হয়।

নিহতদের জানাজায় উপ‌স্থিত ছি‌লেন— ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শার‌মিন ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার মানুষ।

নিহেতর এক স্বজন হা‌বিব সি‌দ্দিকী ব‌লেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ ক‌রে ঢাকা থে‌কে চারজ‌নের মরদেহ রা‌তে ঘাটাইলে আসে। প্রথমে বাবা ও ছে‌লের জানাজা হ‌য়ে‌ছে। এরপর দুইবো‌নের জানাজা হয়। প‌রে সামা‌জিক কবরস্থানে বাবা মা ও ছে‌লের দাফন করা হয়। আরেকজনের গ্রা‌মের বা‌ড়ি যেহেতু গোপালপুর সেহেতু সেখা‌নে তার মরদেহ নি‌য়ে যাওয়া হ‌য়ে‌ছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার পুলিশ টাউনের সামনে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স ও দুইটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন মারা যান। নিহতরা হলেন— ঘাটাইলের ভবনদত্ত গ্রা‌মের ফারুখ হোসেন সিদ্দিকী, তার স্ত্রী মহসিনা সিদ্দিকী, ছে‌লে ফুয়াদ সিদ্দিকী (১৪) ও মহসিনার বোন সীমা খন্দকার। সীমা খন্দকারের বাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলা গোপালপুরে বা‌ড়ি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. জানুয়ারী ২০২৫ ১১:২৫:পিএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহান ৩ দিনের রিমান্ডে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহান ৩ দিনের রিমান্ডে

একতার কণ্ঠঃ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানসহ ৩ জনকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলাম আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে কলাবাগান থানা পুলিশ।

অন্য আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল কবির (৪০) ও গোপালপুর উপজেলার ছাত্রলীগ কর্মী কবির হোসেন (২১)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক তারেক মোহাম্মদ মাসুম তাদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন পান্থপথের আল বারাকা রেস্টুরেন্টের সামনে পাকা রাস্তার ওপর এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতানামা ১০০ থেকে ১৫০ জন আসামি একত্রে সমবেত হয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ব্যানার ব্যবহার করে জনসম্মুখে সরকারের বিরুদ্ধে অপ-প্রচারের উদ্দেশ্যে এবং ছাত্রলীগের কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য মিছিল বের করে। আসামিরা বিভিন্ন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেয়। এছাড়া তাদের মিছিল ও স্লোগান ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার করতে থাকে। সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য তারা পরিকল্পনা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবির মুখে ‘সন্ত্রাসী’ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৩ অক্টোবর ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এ ছাড়া টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় স্কুল ছাত্র মারুফ হত্যা ও সন্ত্রাস দমন আইনে করা দুটি মামলা রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. জানুয়ারী ২০২৫ ১১:২৬:পিএম ১ বছর আগে
জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের দাবিতে টাঙ্গাইলে লিফলেট বিতরণ - Ekotar Kantho

জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের দাবিতে টাঙ্গাইলে লিফলেট বিতরণ

একতার কণ্ঠঃ ‘জুলাই এর প্রেরণা, দিতে হবে ঘোষণা’ স্লোগানে জুলাই ঘোষণাপত্রের গুরুত্বসহ ৭ দফা ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে লিফলেট বিতরণ বিতরণ করেছে টাঙ্গাইলের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি।

বৃহস্পতিবার(৯ জানুয়ারি )দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যোন থেকে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তারা লিফলেট বিতরণ করেন।

লিফলেটে তারা জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে আহতদের বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুচিকিৎসা প্রদানের প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করাসহ ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন।

লিফলেট বিতরণে টাঙ্গাইল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আল আমিন, সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির সভাপতি রাসেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় তারা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেনি। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. জানুয়ারী ২০২৫ ০৩:৫৭:এএম ১ বছর আগে
ছোট্ট ফাহিমকে একা রেখে পৃথিবী ছাড়লেন মা-বাবা ও বড়ভাই - Ekotar Kantho

ছোট্ট ফাহিমকে একা রেখে পৃথিবী ছাড়লেন মা-বাবা ও বড়ভাই

একতার কণ্ঠঃ ছোট্ট ফাহিমকে (৯) একা রেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন তার বাবা, মা ও বড়ভাই। একই পথের যাত্রী হয়েছেন তার খালাও।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি)দুপুরে ফাহিমদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে রাখা চারটি লাশের খাটিয়া। পাশেই সামাজিক কবরস্থানে চলছে কবর খোঁড়ার কাজ।

খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন স্বজনরা। এসেছেন এলাকাবাসীসহ শুভাকাঙ্ক্ষীরা। কিছুক্ষণের মধ্যে রবিন মিয়া নামে একজন গোপালপুর থেকে ফাহিমকে বাড়ি নিয়ে আসলেন। উঠোনে চেয়ারে বসতে দেওয়া হল তাকে। ঘিরে ধরলেন স্বজনরা। কেউ একজন পাশে থেকে বাবা-মা আর ভাইয়ের কথা তাকে জিজ্ঞেস করলে জবাবে সে জানায়, ‘মা-বাবা আর ভাই ঢাকা গেছে। লাশ আনতে গেছে মানুষ।’

এতটুকুর বাইরে ফাহিমের মুখ থেকে আর কোনো কথা বের হচ্ছিল না। মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। চাচি শিউলী বেগম বুকে জড়িয়ে ঘরে নিয়ে গেলেন সদ্য এতিম ফাহিমকে।

বুধবার রাতে সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তার বাবা ফারুখ হোসেন সিদ্দিকী (৪৭), মা মহসিনা সিদ্দিকী (৩৬), বড়ভাই ফুয়াদ সিদ্দিকী (১৪) ও খালা সীমা খন্দকার (৩৮)। ফারুখ তার পরিবার নিয়ে থাকতেন ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ভবনদত্ত গ্রামে। আর সীমা খন্দকারের বাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলা গোপালপুরে।

নিহত ফারুখ হোসেন সিদ্দিকী ছিলেন ভবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার ছোটভাই মামুন সিদ্দিকী বলেন, তারা তিন ভাই একবোন। বোন সবার বড়। ইতালি প্রবাসী। বড়ভাই ফারুখ হোসেন সিদ্দিকীর বড় ছেলে ফুয়াদ সিদ্দিকী স্থানীয় ভবনদত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মেধাবী ছাত্র। শ্রেণিতে তার রোল দুই। ছোট ছেলে ফাহিম সিদ্দিকী গোপালপুর উপজেলায় এক মাদ্রাসায় হোস্টেলে থেকে হেফজ পড়ছে। ফুয়াদ হঠাৎ করেই কিছুদিন থেকে অসুস্থ। শরীরে রক্ত কমে যায়। তবে ডাক্তার বলেছেন থ্যালাসেমিয়া নয়।

মামুন আরও জানান বুধবার মায়ের সঙ্গে নানার বাড়ি গোপালপুরে যান ফুয়াদ। ওই রাতে হঠাৎ করে বাথরুমে গিয়ে পড়ে যায় ফুয়াদ। দ্রুত রাত ১১টার দিকে তাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তার মা মহসিনা সিদ্দিকা ও খালা সীমা খন্দকার। পথে ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন ফারুখ সিদ্দিকী। মামুন জানান, রাতে তার কাছে ফোন করে সবাইকে দোয়া করতে বলেন। এরপর আর কোনো কথা হয়নি।

নিহত ফারুখ সিদ্দিকীর আরেক সহকর্মী তার চাচাতো বোন সোমা সিদ্দিকা বলেন, ভাইয়ের সঙ্গে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফোনে কথা হয়। এরপর রাতে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের ব্যবহৃত ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানান ঢাকায় পুলিশে কর্মরত নিহত সীমা খন্দকারের স্বামী।

নিহত ফারুক হোসেন সিদ্দিকীর আরেক সহকর্মী মো. রুবেল মিঞা বলেন, প্রধান শিক্ষক খুব নীতিবান ছিলেন। একজন নীতিবান মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এমন শিক্ষক আর হবে না। আমাদের সবসময় আগলে রাখতেন।

স্থানীয় দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন জানান, রাতে তিনি ফারুক সিদ্দিকীকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে বাড়ি আসেন। এক সঙ্গে চা পান করেছেন। তার ভাষ্য এলাকায় ফারুক সিদ্দিকীর মতো ভালো মানুষ আর হবে না। তার মৃত্যুতে কাঁদছে পুরো গ্রামের মানুষ।

প্রসঙ্গত, বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের ফুলবাড়িয়া পুলিশ টাউনের সামনে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স ও দুইটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন মারা যান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. জানুয়ারী ২০২৫ ০৩:২১:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে চরাঞ্চলের শীতার্তদের মাঝে জেলা প্রশাসকের কম্বল বিতরণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে চরাঞ্চলের শীতার্তদের মাঝে জেলা প্রশাসকের কম্বল বিতরণ

একতার কণ্ঠঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর ত্রাণ তহবিল হতে টাঙ্গাইল সদরের পশ্চিমের চরাঞ্চল কাকুয়া ও কাতুলী ইউনিয়নে অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারী)রাতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ও কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ৭৫০ জন ছিন্নমূল ও অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো; আব্দুল্ল্যাহ -আল-মামুন, টাঙ্গাইল সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ডেপুটি নেজারত কালেক্টর মো. আল আমিন কবির প্রমুখ।

এ প্রসঙ্গে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল হতে ১০ হাজার কম্বল বরাদ্দ পেয়েছিলাম। ১২ উপজেলায় ৫০০ করে ছয় হাজার বিতরণ করা হয়েছে। বাকিরা চার হাজার হতে কাকুয়া ও কাতুলী ইউনিয়নে অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ৭৫০ টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন,এছাড়াও শীতবস্ত্র কেনার জন্য সরকারিভাবে ১২ উপজেলায় তিন লাখ টাকা করে মোট ৩৬ লাখ ও পরবর্তীতে আরো ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া ১১টি পৌরসভার মধ্যে প্রথম শ্রেণির জন্য দুই লাখ করে, দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য দেড় লাখ করে ও তৃতীয় শ্রেণির জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. জানুয়ারী ২০২৫ ০৪:৫১:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে রবিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ছাত্রদল জেলা শাখার পক্ষ থেকে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কোরআন তেলাওয়াত, দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দলীয় সংগীত গাওয়া এবং কবুতর মুক্ত করে দিনের কর্মসূচি শুরু করা হয়।

পরে একটা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। শোভা যাত্রায় ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীসহ সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে।

পরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক দুর্জয় হোড় শুভ‘র সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন, বিএনপি’র ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো,জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ও জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এম এ বাতেন প্রমুখ।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলি, যুবদলের আহবায়ক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম ঝলক
জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক মনির প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচার আন্দোলন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ছাত্রদল বাংলাদেশের গনতন্ত্র রক্ষায় অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী শাহাদতবরণ করেছে। আর আন্দোলনের মুল দায়িত্ব পালন করেছে বিএনপি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র করে লাভ হবেনা। ছাত্রদল সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। এর জন্য নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. জানুয়ারী ২০২৫ ১০:২৩:পিএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঝটিকা মিছিল ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) ভোরে টাঙ্গাইল শহরে নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করে।

জানা গেছে, শনিবার ভোরে টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র নিরালার মোড় থেকে মিছিলটি বের করে নিষিদ্ধ সংগঠনটি। মিছিলটি নিরালার মোড়ে হয়ে মেইন রোডের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে গিয়ে পূণরায় ঘুরে জগলু রোডের দিকে চলে যায়। ‘জয় বাংলা’স্লোগান দিয়ে মিছিলটি বের করলেও বেশিক্ষণ শহরে অবস্থান করতে পারেনি তারা।এর আগে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়াসহ মিছিলের নেতৃত্ব দেয় শহর ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়ারেছুল হক তানজীল। কর্মসূচিতে ৮ থেকে ১০জন নেতাকর্মীউপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে।

এ দিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের হঠাৎ কর্মসূচি পালনে হতবাক টাঙ্গাইল শহরের সাধারণ মানুষ। এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে জেলায় ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ছাত্র ফেডারেশনের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ফাতেমা রহমান বিথী তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগের মিছিল ও পুষ্পস্তবক অর্পণের ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘টাঙ্গাইল ছাত্রলীগের আজকের মিছিল এটা। শহর ছাত্রলীগের সভাপতি তানজীলসহ বাকি গুন্ডা বাহিনী দিব্যি ঘুরে বেড়ায়, উদ্যানে এসে মুড়ি খেয়ে যায়। তাহলে টাঙ্গাইলের প্রশাসন আসলে কি করে?

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুরো শহরে টহল দেওয়া হয়েছে। তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য,গত ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর জেলায় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই ধরনের কর্মসূচি এই প্রথম পালন করা হলো।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জানুয়ারী ২০২৫ ১০:৩৬:পিএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে জেলা প্রশাসকের কম্বল বিতরণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে জেলা প্রশাসকের কম্বল বিতরণ

একতার কণ্ঠঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ত্রাণ তহবিল থেকে টাঙ্গাইলে অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(২ জানুয়ারি )রাতে শহরের টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গনে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে ৩২০ জনের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মো. আব্দুল্ল্যাহ-আল-মামুন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও )নাহিদা আক্তার, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ডেপুটি নেজারত কালেক্টর মো. আল আমিন কবির প্রমুখ।

এ প্রসঙ্গে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল হতে ১০ হাজার কম্বল বরাদ্দ পেয়েছিলাম। ইতিমধ্যে ১২ উপজেলায় ৫০০ করে ৬ হাজার বিতরণ করা হয়েছে। বাকিরা চার হাজার হতে হাসপাতালে অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ৩২০টি বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন,এছাড়াও শীতবস্ত্র কেনার জন্য সরকারিভাবে ১২ উপজেলায় তিন লাখ টাকা করে মোট ৩৬ লাখ ও পরবর্তীতে আরো ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া ১১টি পৌরসভার মধ্যে প্রথম শ্রেণির জন্য দুই লাখ করে, দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য দেড় লাখ করে ও তৃতীয় শ্রেণির জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. জানুয়ারী ২০২৫ ০৮:২৯:পিএম ১ বছর আগে
ম‌হেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণরত ১৪ কনস্টেবলকে অব্যাহতি - Ekotar Kantho

ম‌হেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণরত ১৪ কনস্টেবলকে অব্যাহতি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ম‌হেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণরত ১৪ কনস্টেবলকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অব‌্যাহ‌তি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে তাদেরকে অব‌্যাহ‌তি প্রদান করা হয়।

আদেশে বলা হ‌য়ে‌ছে, শৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত কারণে অদ্য ২ জানুয়ারি অপরাহ্ণ থেকে প্রশিক্ষণ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।

এদিকে, অব‌্যাহ‌তি পাওয়া প্রশিক্ষণরত কনস্টেবলরা রা‌তেই ট্রেনিং সেন্টার ত্যাগ ক‌রে যার যার বাড়িতে রওনা হ‌য়েছে বলে সূত্রে গেছে।

ম‌হেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন থেকে ৫৪তম ব্যাচের টাঙ্গাইলের ম‌হেড়া‌ পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ৭৯৩ জনের ছয় মাস মেয়াদি মৌ‌লিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এর মধ্যে ছয় জন অসুস্থ হওয়ায় তা‌দের বাদ দেওয়া হয়। পরে ৭৮৭ জন কনস্টেবল প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

১৯ ডিসেম্বর প্রশিক্ষণরত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলের (টিআরসি) সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও সে‌টির তারিখ বাতিল ক‌রে ১২ জানুয়ারি করা হয়।

অ্যাডিশনাল ডিআইজি মাহফুজা আক্তারের স্বাক্ষরিত বাতিল হওয়া কুচকাওয়াজের চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ প্রাপ্তদের ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ গত ২৪ জুন থেকে সাতটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহী; পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, (টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, খুলনা, রংপুর); পিএসটিএস, বেতবুনিয়া, রাঙামাটি ও এএসটিসি, খাগড়াছড়িতে চলমান রয়েছে। চলমান প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ নির্ধারিত ছিল। অনিবার্য কারণবশত সমাপনী কুচকাওয়াজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। উক্ত কুচকাওয়াজ আগামী ১২ জানুয়ারি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

অব‌্যাহ‌তি পাওয়া কনস্টেবলরা দাবি করেন, ১৯১‌ দিন প্রশিক্ষণ হ‌য়ে‌ছে। ৭৮৭ জন কনস্টেবলের প্রশিক্ষণ হ‌য়েছে। পা‌সিং প্যারেড হওয়ার কথা থাকলে সে‌টির তারিখও পরিবর্তন করা হ‌য়েছে। বৃহস্পতিবার হঠাৎ অব‌্যাহ‌তির চিঠি দেওয়া হয়। শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনও কাজ না ক‌রেও তাদের চাকরি থেকে অব‌্যাহ‌তি দেওয়া হলো। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগ হওয়ায় অব‌্যাহ‌তি দেওয়া হ‌য়েছে।

ম‌হেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ সুপার সা‌হেদ মিয়া জানান, এই বিষ‌য়ে পুলিশ হেড‌কোয়ার্টার ছাড়া আমরা কোনও বক্তব্য দি‌তে পার‌বো না।

ম‌হেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে বারবার যোগা‌যোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রি‌সিভ ক‌রেন‌নি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. জানুয়ারী ২০২৫ ০৭:৪৫:পিএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বেড়েছে শীতের তীব্রতা, জুবথুব জনজীবন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বেড়েছে শীতের তীব্রতা, জুবথুব জনজীবন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বেড়েছে শীতের তীব্রতা, সেই সাথে উত্তরের কনকনে হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। বিশেষ করে জেলার পশ্চিমের চরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি এলাকায় সবচেয়ে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। ফলে নিম্ন-আয়ের মানুষ, গৃহহীন ভাসমান মানুষ ও কৃষকরা সমস্যায় পড়ছে সবচেয়ে বেশি।

টাঙ্গাইল আবহাওয়া অফিসের সূত্রে জানা যায়, জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় তাপমাত্রা কমেছে ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকল ৯টা জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রার পতন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া অফিস।

জানা গেছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার জেলায় সূর্যের দেখা মেলেনি। সেই সাথে উত্তরের কনকনে হিমেল হাওয়ার কারনে জেলায় প্রচন্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। এর ফলে জেলার পশ্চিমের চরাঞ্চলে খুব সকালে কৃষকদের সবজির খেতে গিয়ে সবজি তুলে শহরের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে আনতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও জেলার পাহাড়ি এলাকায় ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় কারনে সন্ধ্যার পরে স্থানীয় মানুষ জন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না

স্থানীয়রা জানায়,শীতের দাপটে গ্রামাঞ্চলের অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টাও করছেন। তীব্র শীত উপেক্ষা ক‌রে জী‌বিকার তা‌গি‌দে কা‌জের সন্ধা‌নে বের হ‌য়ে‌ছেন খেটে খাওয়া মানুষগু‌লো। তাপমাত্রা কমার চেয়েও বেশি অসুবিধা হচ্ছে হিমশীতল বাতাসে। এর পাশাপাশি ঘন কুয়াশা থাকায় বাতাসে তা গায়ে কাঁটার মতো বিঁধতে থাকে। ঘরে ঘরে লেপ-কাঁথা নামানো হয়েছে। তবে গত কয়েকদিন থেকেই শীতের তীব্রতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন জেলার নিম্নআয়ের মানুষজন। খড়-কুঠো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে নিম্নে আয়ের মানুষ। সন্ধ্যার পর শহর খালি হয়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড শীত থেকে বাঁচতে সন্ধ্যার পর ঘরে থাকছে শহরের মানুষ। যার প্রভাব পড়েছে শহরের ব্যবসা-বাণিজেও।

টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে পান-সিগারেট বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন লাইলি বেগম (৭০)। পরিবার-পরিজন বিহীন ভাসমান লাইলি বেগম থাকেন শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে। তিনি জানান, এই শীতে কাঁপছেন তিনি। গায়ের পাতলা চাদরটা তার শীত নিবারণ করতে পারছে না। তার পরও বাধ্য হয়ে এই প্রচন্ড শীতে সকাল থেকে রাত অব্দি পান-সিগারেট বিক্রি করতে হচ্ছে জীবনধারণের প্রয়োজনে। তার আফশোস এই প্রচন্ড শীতে কেউ তাঁকে একটি শীত বস্ত্র দিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের বাগুনটাল গ্রামের কৃষক শাহাদাত হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার খুব ভোরে তার কপি খেতে গিয়েছিলেন কপি কেটে টাঙ্গাইল পার্ক বাজারে নিয়ে যাওয়া জন্য। প্রচন্ড শীতে কাঁপছে কাঁপতে তার পক্ষে আর সম্ভব হয়নি নদীর পাড়ের তার এই কপি খেতে থাকার। ফলে কপি না কেটেই বাসায় চলে এসেছেন তিনি। এ দিকে নির্দিষ্ট সময়ে কপি না তুললে বাজারে সঠিক দাম পাওয়া যাবে না বলে জানান তিনি। প্রচন্ড শীত তাঁদের জীবন যাপনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

শুকুর আলী টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় ব্যাটারি চালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার গ্রামের বাড়ি জেলার মধুপুর উপজেলায় হলেও টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম আকুর-টাকুর পাড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি জানান, এই প্রচন্ড শীতে শহরে মানুষ-জন বের হয় না। বিশেষ প্রয়োজনে যারা বের হচ্ছেন তারাও শহরে বেশী সময় থাকছে না। ফলে গত ৩ দিনে তার আয়-রোজগার প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে, এ ভাবে চলতে থাকলে আগামী মাসে তার বাড়ি ভাড়া দিতে সমস্যায় পড়তে হবে। এ ছাড়াও এই প্রচন্ড শীতে তার রিক্সা চালাতে সমস্যা হচ্ছে, ফলে সন্ধ্যার পর রিক্সা না চালিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
তিনি আরো জানান, কোন সংগঠনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের শীতের কাপড় কিম্বা আর্থিক সহযোগিতা পাননি তিনি।

জেলায় অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের তথ্য জানতে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হকের মুঠো ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. জানুয়ারী ২০২৫ ০৯:৫৬:পিএম ১ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।