/ মূলপাতা / জাতীয়
টাঙ্গাইলে মোটরসাইকেল ও অটোভ‍্যানের মুখোমুখি সংর্ঘষে নিহত ১ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মোটরসাইকেল ও অটোভ‍্যানের মুখোমুখি সংর্ঘষে নিহত ১

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারি চালিত অটোভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভ্যান চালক নিহত হয়েছে।

শনিবার (১০ জুন) রাতে উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের রক্তিপাড়া তারা ফিলিং স্টেশনের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ভ্যান চালকের নাম আ. সোবহান (৭০)। তিনি উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের রক্তিপাড়া গ্রামের মৃত কাইঞ্চা শেখের ছেলে।

এই ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ও অপর মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছে।

গুরুতর আহতরা হলেন, মোটরসাইকেল চালক উপজেলার কাকরাইদ গ্রামের মোঃ আশরাফুল ইসলামের ছেলে মোঃ বিপ্লব(২২) ও মোটরসাইকেল আরোহী ঘাটাইল উপজেলার টিলা বাজার গ্রামের মোছাঃ আনজুম (২০)

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার রাত ৯ টার দিকে ভ্যানচালক সোবাহান ভ্যান নিয়ে রক্তিপাড়া নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। এসময় অপরদিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ভ্যানটির মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক সোবাহান নিহত হয়।

এসময় স্থানীয়রা মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে কত্যর্বরত চিকিৎসক আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মুরাদ হোসেন জানান, রাত ৯টার দিকে রক্তিপাড়া এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যান চালক মারা যায়। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনা হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষনিকভাবে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. জুন ২০২৩ ০৬:০৮:পিএম ৯ মাস আগে
গোপালপুরে আওয়ামীলীগের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী মাসুদের পথসভা - Ekotar Kantho

গোপালপুরে আওয়ামীলীগের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী মাসুদের পথসভা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পথসভা করেছে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাদুসুল হক মাসুদ।

শনিবার (১০ জুন) বিকেলে উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার উপলক্ষে এই পথসভার আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ (ভূঁঞাপুর-গোপালপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, গোপালপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক লুৎফুর রহমান, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সরন দত্ত, যুগ্ম সম্পাদক সাহিনুল ইসলাম তরফদার বাদল, ভূঞাপুর পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল বাছেদ মিঞা, অজুর্না ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মোল্ল্যা, গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকরাম উদ্দিন তারা মৃধা, সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিন, গোপালপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান আজাদ প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে উপজেলার আলমনগর, মির্জাপুর ইউনিয়ন ও গোপালপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাধারণ মানুষজনের মাঝে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড নিয়ে তৈরি করা লিফলেট বিতরণ করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. জুন ২০২৩ ০৩:৪৭:এএম ৯ মাস আগে
অসহনীয় লোডশেডিং এর প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিএনপির অবস্থান ধর্মঘট - Ekotar Kantho

অসহনীয় লোডশেডিং এর প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিএনপির অবস্থান ধর্মঘট

একতার কণ্ঠঃ দেশব্যাপী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুতখাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদে অবস্থান ধর্মঘট করেছে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি।

বৃহস্পতিবার(৮ জুন) দুপুরে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের রেজিস্ট্রিপাড়ায় সিলমি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।

এই অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দেশটা চোরে ভরে গেছে আমরা শহরে দুই চার ঘন্টা বিদ্যুত পেলেও গ্রামে তাউ পাচ্ছে না। আগামী তিন দিনের মধ্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত ব্যবস্থা না করা হলে জেলার সকল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বক্তারা আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এদেশে কোন নির্বাচন হবে না। আর জোর করে নির্বাচন দেয়ার চেষ্টা করলে আমরা যে কোন কিছুর বিনিময়ে তা প্রতিহত করবো।

এই কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু, জেলা বিএনপি নেতা জিয়াউল হক শাহীন, আবুল কাশেম, আতাউর রহমান জিন্নাহ, শ্রমিকদল নেতা একেএম মনিুরুল হক, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম ঝলক, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সাধারন সম্পাদক আব্দুর রৌফ, শহর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান আলিম, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি শাহ আলম, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভ প্রমুখ।

এছাড়া বিএনপির সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. জুন ২০২৩ ১০:২২:পিএম ৯ মাস আগে
টাঙ্গাইলে শখের মোটরসাইকেলে ছেলেকে হারানোর পর পাগলপ্রায় মা-বাবা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শখের মোটরসাইকেলে ছেলেকে হারানোর পর পাগলপ্রায় মা-বাবা

একতার কণ্ঠঃ মা–বাবা মোটরসাইকেল কিনে দিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু কিশোর সাব্বির আলম (১৭) নাছোড়বান্দা। ছেলের জেদে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল কিনে দেন বাবা। এরপর ছয় মাসও যায়নি। শখের সেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই প্রাণ গেল সাব্বির আলম ও তাঁর বন্ধু হামিদের (১৭)। ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় সাব্বিরের মা–বাবা। হামিদের বাড়িতেও চলছে মাতম।

সাব্বিরদের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার টেপিকুশারিয়া গ্রামে। সে ঘাটাইল জিবিজি সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. সুরুজ্জামান পেশায় রংমিস্ত্রি। মা গৃহিণী। সাব্বিরের বন্ধু হামিদ পার্শ্ববর্তী মানিকপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। সে ছনখোলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

সাব্বিরের বাবা মো. সুরুজ্জামান কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ছেলেরে শখ পূরণ করতে মোটরসাইকেল কিইনা দিলাম, সেই মোটরসাইকেলেই তাঁর জীবন গেল।’

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত রোববার(৪ জুন) সকালে সাব্বির তাঁর বন্ধু হামিদ ও সাদিককে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হয়। তারা মধুপুরের রাবারবাগান এলাকায় ঘুরে বাড়ির দিকে ফিরছিল। পথে মধুপুরের মহিষমারা ইউনিয়নের হাজিবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলে সাব্বির ও হামিদ নিহত হয়। অপর বন্ধু সাদিক আহত হয়। তবে সে শঙ্কামুক্ত।

মধুপুর থানায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার সন্ধ্যায় সাব্বিরের লাশ টেপিকুশারিয়ায় তাদের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। হামিদের লাশ নেওয়া হয় মানিকপুরের গ্রামের বাড়িতে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রোকিবুল ইসলাম জানান, এ সময় উভয়ের বাড়িতে স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে। উভয়ের বাড়িতে করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়। গ্রামের মানুষ তাদের লাশ দেখতে ভিড় করে। সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে নিজ নিজ গ্রামে তাদের দাফন করা হয়।

নিহত সাব্বিরের চাচা নুরুল ইসলাম বলেন, সাব্বির ছিল মা–বাবার বড় সন্তান। তার সাত বছর বয়সী আরেক ভাই রয়েছে। নিহত হামিদের ছোট এক বোন ও এক ভাই রয়েছে। ছোট ভাইটি মানসিক প্রতিবন্ধী।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, ঘাটাইল ও মধুপুর এলাকায় কিশোর মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ঘাটাইল থানা সূত্র জানায়, সাব্বির, হামিদ ছাড়াও গত ১৯ মাসে ঘাটাইলে অন্তত ১০ জন কিশোর-যুবক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। তারা সবাই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঘাটাইল উপজেলার গুণগ্রামে দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কা লাগে। এতে ওই মোটরসাইকেল আরোহী সোনা মিয়া (২০), শামীম (২২) ও আলমগীর (৩০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তাঁরা ঘাটাইলে একটি ওয়ার্কশপের শ্রমিক ছিলেন।

২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর একই সড়কের ঘাটাইলের বানিয়াপাড়া এলাকায় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী সাকিম হাসান (১৭) ও সুমন (১৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তাঁরা দুজনেই ঘাটাইল গণ উচ্চবিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর ঘাটাইলের ধলাপাড়া চেয়ারম্যানবাড়ির মোড়ে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তিনজন স্কুলছাত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তারা হচ্ছে শরীফ (১৬) আবু বক্কর (১৭) ও সাইম (১৬)।

এ ছাড়া প্রতিনিয়ত ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যেসব দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে না, তার রেকর্ড থানা পর্যন্ত আসে না বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ঘাটাইলে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বেশি মোটরসাইকেল চললেও এখানে ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্টের পদে কোনো কর্মকর্তা নেই। ট্রাফিক বিভাগ একজন শহর উপপরিদর্শক (টিএসআই) ও তিনজন ট্রাফিক কনস্টেবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের কার্যক্রম উপজেলা সদরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

এ ছাড়া প্রতিনিয়ত ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যেসব দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে না, তার রেকর্ড থানা পর্যন্ত আসে না বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন, অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। স্কুল–কলেজপড়ুয়া সন্তানদের মোটরসাইকেল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. জুন ২০২৩ ০৬:২৭:পিএম ৯ মাস আগে
আওয়ামী লীগের কর্মসূচির কারণে টাঙ্গাইলে সমাবেশ করতে পারেনি গণতন্ত্র মঞ্চ - Ekotar Kantho

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির কারণে টাঙ্গাইলে সমাবেশ করতে পারেনি গণতন্ত্র মঞ্চ

একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগের ‘শান্তি’ সমাবেশের কারণে টাঙ্গাইলে নির্ধারিত সমাবেশ করতে পারেনি গণতন্ত্র মঞ্চের রোডমার্চের বহর। রোববার(৪ জুন) বিকেল চারটায় ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার করাতিপাড়ায় গণতন্ত্র মঞ্চের সমাবেশ করার কথা ছিল।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ একই সময়ে করাতিপাড়ায় ‘শান্তি’ সমাবেশ করায় রোডমার্চের বহর সেখানে না থেমে বিকেল সোয়া চারটার দিকে ওই এলাকা অতিক্রম করে। পরে তারা শহরের অদূরে সন্তোষে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এ সময় সেখানেও ছাত্রলীগ কর্মীদের মহড়া দিতে দেখা যায়।

মাওলানা ভাসানীর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘আমরা রোডমার্চ করছি গণতন্ত্র মঞ্চের ১৪ দফা মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য। সরকারের পদত্যাগ, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর—এসব ব্যাপারে মানুষ যে ঐক্যবদ্ধ, সেটা সরকার বুঝতে পারছে। তাই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ভয় পাচ্ছে। নানাভাবে কর্মসূচিতে বাধার সৃষ্টি করছে।’

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা একটি রোডমার্চে আছি। আমরা সফরকারী। সফরে থাকতে আমরা একটা কর্মসূচির জায়গা ঠিক করেছি। পুলিশের দায়িত্ব আমাদের সেই জায়গায় নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেখানে “শান্তি” সমাবেশ ঘোষণা করে। সেখানে পুলিশ তাদের সহযোগী ছিল। আমরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। অন্যত্র তারা স্থান ঠিক করে দিক। পুলিশ সে বিষয়ে কোনো সহযোগিতা করেনি।’

জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি ছিল ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের। সেটা করেছি। সেখানেও দেখেছি, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি হয়েছে। নানা দিক থেকে একটা হুমকির পরিস্থিতি তৈরি করে রাখা হয়েছে। যেহেতু মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত, দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়। তাই ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার বিষয়ে আমরা সচেতন ছিলাম।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. জুন ২০২৩ ০৬:০০:পিএম ৯ মাস আগে
জনবল সঙ্কটে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল - Ekotar Kantho

জনবল সঙ্কটে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সহ জনবলের অভাবে পুরোপুরিভাবে স্বাস্থ্য সেবা চালু হচ্ছেনা। চাহিদা অনুযায়ী জনবল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও ফলপ্রসূ হয়নি।

ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশালকায় ভবন এক প্রকার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পাশে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১৫তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। ২০১৮ সালের শেষ দিকে ভবন নির্মাণ শেষ হয়। ২০২২ সালের ২২ মার্চ হাসপাতাল ভবন কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয় গণপুর্ত বিভাগ।

সূত্রমতে, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মেডিসিন বিভাগ চালু করা হয়। এছাড়া শিশু, ডায়রিয়া, কার্ডিওলজি, অবস(গাইনী), চক্ষু, নাক, কান, গলা, পোস্ট অপারেটিভ, আইসিইউ, সিসিইউ, সার্জারী, অনক্লোনজি ও অর্থপেডিক ওয়ার্ড চালুর প্রক্রিয়া চলছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের ২১ জুন থেকে হাসপাতালের বহিঃবিভাগে মেডিসিন, শিশু, গাইনী, সার্জারী, চক্ষু, ডেন্টাল, বক্ষব্যাধি, নিউরোলজি, ইউরোলজি, মানসিক, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, ফিজিক্যাল মেডিসিন, চর্ম ও যৌন, কার্ডিওলজি, নেফরোলজি, অর্থপেডিক, অনক্লোনজি(ক্যান্সার) সেবা চালু রয়েছে। গত বছরের শুরু থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, সিটিস্ক্যান, এক্সরে সহ বিভিন্ন পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ১০টি আইসিইউ বেড, সিসিইউ ও ১৫টি অপারেশন থিয়েটার চালু করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জনবল সঙ্কটে হাসপাতালে পুরোপুরি স্বাস্থ্য সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ৬৫ জন ডাক্তার প্রয়োজন। সেখানে রয়েছে ৬১ জন। তারা নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন না। অনেকে ঢাকা থেকে এসে অফিস করেন।

১৬৫ জন নার্সের মধ্যে মাত্র ৩৯ জন নার্স রয়েছে। তাদের মধ্যে চার জন প্রশিক্ষণে ও দুই জন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এবং দুই জন ইনচার্জে দায়িত্ব পালন করছেন। ৩৭৭ জন আউটসোর্সিং জনবলের মধ্যে ৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আয়া, সুইপার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাবে হাসপাতালের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ওয়ার্ডের ময়লা-আবর্জনা রোগীদের পাশেই রাখা হচ্ছে। দুর্গন্ধে শৌচাগারে প্রবেশ করা যায় না।

স্থানীয়রা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নামে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও পুরোপুরি চিকিৎসা দেওয়া শুরু না হওয়ায় টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রোগীদের ঢাকাসহ আশপাশের বিভাগীয় শহর থেকে কাঙ্খিত সেবা নিতে হচ্ছে। ফলে আশঙ্কাজনক রোগী ও স্বজনরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পুরোপুরি মানসম্মত চিকিৎসা সেবা চালু করার দাবি জানায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় বহিঃবিভাগের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে রোগীদের ব্যাপক চাপ দেখা যায়। তাদের মধ্যে কালিহাতী উপজেলার পাইকরা গ্রামের কামরুল হাসান জানান, টাঙ্গাইলের গণমানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে টাঙ্গাইলে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র জনবল সঙ্কটের কারণে তারা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না। ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় সহ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি হাসপাতালে দ্রুত পুর্নাঙ্গ চিকিৎসা সেবা চালুর দাবি জানান।

ভবনের লিফট ও আশপাশের দেওয়ালে পানের পিক ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। ধুলাবালির কারণে ভবনের বিভিন্ন গ্রিলে মরিচা ধরতে শুরু করেছে। ভবনের ১০ম তলায় মেডিসিন বিভাগে নারী ও পুরুষ রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্র্ডে ৮৪টি নির্ধারিত বিছানা বরাদ্ধ থাকলেও অতিরিক্ত মিলে প্রায় আড়াইশ’ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের বিছানার পাশে ও শৌচাগারসহ বিভিন্ন কক্ষের সামনে ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। উৎকট দুর্গন্ধে শৌচাগার ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

নারী ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত বিছানার পাশাপাশি মেঝেতে বিছানা পেতে নারী রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেখানেও ময়লা-আবর্জনার একইচিত্র বিদ্যমান। হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষের সামনের দেওয়ালের টাইলস খসে পড়ছে। তার সামনের কক্ষের দরজার হাতল ভাঙা। এছাড়া দরজায় কাঠের জোড়ার অংশ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষসহ বিভিন্ন দেওয়ালের টাইলস খসে পড়ছে।

টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম জানান, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। সেখানে হাসপাতাল ভবনসহ ২৭টি ভবনের নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ২৮৪ কোটি টাকা। ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। বাকি ১০৮ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আলী খান জানান, হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা পুরোপুরি চালু করতে পর্যাপ্ত জনবলের প্রয়োজন। জনবলের জন্য মন্ত্রণালয়ে বার বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। জনবল পেলেই পুরোপুরি স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি জানান, হাসপাতালে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি সবই আছে। কিন্তু জনবলের অভাবে পুরোপুরি স্বাস্থ্য সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতালের সভাপতি কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি’র সভাপতিত্বে একটি সভা করার পর আর কোন সভা এখনও হয়নি। দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা কেউ দায়িত্ব পালন করেননি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জুন ২০২৩ ০৪:৫৩:এএম ৯ মাস আগে
টাঙ্গাইলের মধুপুর যেন অনলাইন স্ক্যামিংয়ের ‘স্বর্গরাজ্য’ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের মধুপুর যেন অনলাইন স্ক্যামিংয়ের ‘স্বর্গরাজ্য’

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে নিষিদ্ধ অনলাইন স্ক্যামিং ব্যবসার ভয়াল থাবা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে জেলার মধুপুর উপজেলা এখন স্ক্যামারদের স্বর্গরাজ্য।

এসব সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দেশে যেমন রেমিট্যান্স আসে, তেমনি লাখো যুবকের কর্মসংস্থান হয়। তাই সরকার এ বৈধ পেশাকে নানাভাবে উৎসাহিত করে চলেছে। কিন্তু স্ক্যামিং অনলাইনে একটি প্রতারণামূলক অবৈধ ব্যবসা। টিনএজার পর্নো, অ্যাডাল্ট সাইট এবং ডেটিং সাইট নিয়ে স্ক্যামাররা কাজ করে থাকে। এটি এক ধরনের অন্ধকার জগতের ব্যবসা। আর এ পেশায় যৌনতা নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানায়, মধুপুর উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার কিশোর ও তরুণ নিষিদ্ধ অনলাইন স্ক্যামিংয়ে জড়িত। সাইবার অপরাধের মাধ্যমে ডলার আয়ের ধান্ধায় এখন স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা এমনকি গৃহবধূরাও এতে যুক্ত হচ্ছেন। এই স্ক্যামিং যেমন নব্য ধনকুবের তৈরি করছে, তেমনি মাদক, জুয়াসহ নানা সামাজিক ব্যাধি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে আইটি বিশেষজ্ঞ তৌফিক-ই- হাসেম শরীফ জানান, স্ক্যামাররা সাধারণত আমেরিকান মডেল, পর্নোস্টার বা এসকর্টদের নগ্ন ছবি, ভিডিও বা নানা তথ্য ওয়েবসাইট থেকে কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে অ্যাডাল্ট ডেটিং সাইটে আইপি হাইড করে পোস্ট দেয়। এরপর টেক্সট নাউ নামের ভার্চুয়াল নাম্বার সার্ভিসের মাধ্যমে স্ক্যামাররা এসকর্ট সেজে হাজির হয়। যাদের এসকর্ট সার্ভিস দরকার সেই গ্রাহকরা নক করলে এসকর্ট সাজা স্ক্যামাররা ব্যক্তিগত সময় কাটানোর জন্য গ্রাহকের সঙ্গে ডলার নিয়ে দর কষাকষি শুরু করে। নগ্ন ছবি ও ভিডিও শেয়ারের পরেও অনেক গ্রাহক ভিডিও বা ভয়েস কলে রিয়েল পার্সন ভেরিফাই করতে চায়। রোবট সফটওয়্যার দিয়ে ভয়েস বা ভিডিও কল ভেরিফিকেশনেও গ্রাহকরা সন্তুষ্ট না হলে ভাড়াটে নারীদের হাজির করে স্ক্যামাররা। এসব নারীরা স্বল্প আলোতে ন্যুড হয়ে গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করে। এরপর গ্রাহকের কাছ থেকে কিছু ডলার অ্যাডভান্স নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। স্ক্যামাররা এসব ডলার রিসিভ করে বিভিন্ন ক্যাশ অ্যাপ, কার্ড বা বিট কয়েনের মাধ্যমে। এরপর বিশেষ কায়দায় ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট খুলে ডলার বিট কয়েনে কনভার্ট করে বাংলাদেশি টাকায় রুপান্তর করে।

মধুপুরের একজন স্ক্যামার জানান, অভিজ্ঞ স্ক্যামাররা গ্রাহকদের সঙ্গে চ্যাট করে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, এসএসএস উইথ সেলফি সংগ্রহের পর বিশেষ কায়দায় গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডের সমুদয় ডলার হাতিয়ে নেয়।

স্ক্যামার রনি সরকার জানান, ডেটিং স্ক্যাম ছাড়াও স্ক্যামাররা আমেরিকায় সম্পত্তি কেনা-বেচা, বাড়ি ভাড়া বা রিয়েল এস্টেট সাইটে গিয়ে ক্রেগলিস্ট অর্গানাইজেশনের আইপি হাইড করে লোভনীয় তথ্যে পোস্ট দেয়। আর একই কায়দায় অ্যাডভান্স ডলার নিয়ে কেটে পড়ে তারা। আমেরিকার জনপ্রিয় ক্লাসিফায়েড সাইট ব্যাকপেইজ ডটকমের আদলে মধুপুরের স্ক্যামাররা ক্লাসিফায়েড ডেটিং সাইট তৈরি করে প্রতারণামূলকভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, টু ব্যাকপেইজ ডটকম, ব্যাকলিস্ট টোয়েন্টিফোর ডটকম এবং স্কিপ দ্য গেইমস ডটকম নামের সাইটগুলোর মালিক মধুপুরের কয়েকজন স্ক্যামার। এরা এখন শত শত কোটি টাকার মালিক।

সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন মধুপুর পৌরশহরের নয়াপাড়া ও মাস্টারপাড়া মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পর্নো ও ডেটিং সাইট ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একজন স্ক্যামারকে ১২ লাখ টাকা আয় করার প্রমাণ পান।

মধুপুর ছাড়াও ঘাটাইল, গোপালপুর, ধনবাড়ী, কালিহাতী ও ভূঞাপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে এই স্ক্যামিং ব্যবসা। মধুপুরের একটি বেসরকারি আর্কিটেক্ট কনসালটেন্টের তথ্যে দেখা যায়, দেড় বছরে মধুপুর উপজেলায় তিন শতাধিক বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে, যার প্রায় সবগুলোই স্ক্যামিং পার্টির।

স্থানীয়ভাবে স্ক্যামারদের বলা হয় নেট ব্যবসায়ী। দুই বছর আগে যারা রিকশা চালাতেন, ইটভাটায় কাজ করতেন, তার এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন নিজেদের বহুতল ভবনে বসবাস করেন। দামি গাড়িতে চড়েন। অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শোরুম ও কারখানাও গড়ে তুলেছেন।

বি জেড এম গ্রাফিক্সের কর্ণধার প্রযুক্তিবিদ আপেল মাহমুদ জানান, স্ক্যামারদের এখনি থামাতে না পারলে ফ্রিল্যান্সিং পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। আস্থার সংকটে পড়ে এ শিল্প ধ্বংস হবে। ফরেনাররা তখন কাজ দেবে না।

মধুপুরের ফ্রিল্যান্সার ও ওয়েব ডেভেলপার সবুজ মিয়া জানান, তার প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যারা ফাইভার থেকে ভালো আয় করছিলেন, তারাও কু-মতলবে স্ক্যামিংয়ে চলে যাওয়ায় তার প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।

মধুপুরের নকরেক আইটির কর্ণধার সুবীর নকরেক জানান, যেখানে বৈধ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে প্রচুর আয় করা যায়, সেখানে স্ক্যামিংয়ের মতো প্রতারণামূলক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হওয়ার কোনো যুক্তি নেই। এতে দেশের ইমেজ ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এর একটি নেগেটিভ রেজাল্ট আসবে শিগগিরই।

শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানান, অনলাইন স্ক্যামিংয়ের টাকা এখন হাওয়ায় উড়ছে। এক শ্রেণির কিশোর ও যুবকের হাতে অঢেল অর্থ আসায় মাদক, জুয়াসহ নানা অসামাজিক কাজ বেড়ে গেছে। এর ফলে সমাজে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে।

মধুপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেন জানান, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে পুলিশ কাজ করেছে।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীমা ইয়াসমিন পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে জানান, অবৈধ স্ক্যামিং ব্যবসার কাঁচা টাকা ভয়াবহ মাদকের প্রসার ঘটাচ্ছে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে না গিয়ে প্রতারণা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬ জন স্ক্যামারকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। কিছু ভবন সিলগালা এবং স্ক্যামারদের যেন বাড়ি ভাড়া না দেওয়া হয়, সেজন্য অনেক ভবন মালিককে সতর্ক করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জুন ২০২৩ ০৩:২৫:এএম ৯ মাস আগে
টাঙ্গাইলে বাস চাপায় একই পরিবারের তিনজন সহ নিহত চার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বাস চাপায় একই পরিবারের তিনজন সহ নিহত চার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাস চাপায় একই পরিবারের তিন জনসহ চার জন নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(১ জুন) বেলা আড়াইটার দিকে টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার গাংগাইরের গোমা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন জেলার ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের পাইটকা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মাইন উদ্দিন (৪২)। মাইন উদ্দিনের স্ত্রী ছালেহা বেগম (৩০), ও তাদের সন্তান সিয়াম (৬) এবং ভ্যান চালক একই গ্রামের দরাজ আলীর ছেলে ফরহাদ হোসেন (৪০)।

মধুপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন মাস্টার হেমায়েল কবির জানান, মধুপুর থেকে ঢাকাগামী বিনিময় পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-১৪-৩৬৪১) টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের গাংগাইর গোমা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা ব্যাটারি চালিত অটোভ্যান রিক্সাকে চাপা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরো জানান,এতে ঘটনাস্থলেই অটোভ্যানের চালকসহ তিনজন নিহত হন। আহত এক শিশুকে উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুটির মৃত্যু হয়।

মধুপুর থানার উপ-পরিদর্শক আপেল মাহমুদ জানান, ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে। চালক পলাতক রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. জুন ২০২৩ ১১:৪৩:পিএম ৯ মাস আগে
টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের সভাপতি পারভেজ সম্পাদক বিপ্লব - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের সভাপতি পারভেজ সম্পাদক বিপ্লব

একতার কণ্ঠঃ আগামী তিন বছরের জন্য টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

মো. মাসুদ পারভেজকে সভাপতি এবং আবু সাইম তালুকদার বিপ্লবকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি ঘোষণা করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

বুধবার(৩১ মে) যুবলীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কমিটিতে মো. মনিরুজ্জামান খান মিন্টুকে সহসভাপতি, নুর মোহাম্মদ সিকদার মানিককে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্র বরাবর জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৭ মে) টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩১. মে ২০২৩ ০৭:০২:পিএম ৯ মাস আগে
টাঙ্গাইলে বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলতে নেমে হিটস্ট্রোকে ছাত্রীর মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলতে নেমে হিটস্ট্রোকে ছাত্রীর মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলতে নেমে হিটস্ট্রোকে মাঠেই রিয়া আক্তার (১০) নামের এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার(২৯ মে) দুপুরে উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের দ্বীমুখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।এদিকে মঙ্গলবারের (৩০ মে) খেলায় সদর উপজেলার এক ছাত্রী মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

রিয়া আক্তার কালিহাতীর ছুনুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী এবং একই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।

ছুনুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে দ্বীমুখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলা ছিল। রিয়া মাঠে খেলতে নেমে হঠাৎ মাটিতে পড়ে যায়। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোঘণা করেন।

প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, মরদেহ সোমবারই দাফন করা হয়েছে।আমরা রিয়ার বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করছি।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রচণ্ড গরমে খেলতে গিয়ে মেয়েটি মারা গেছে। মঙ্গলবারের খেলায় সদর উপজেলার একটি মেয়ে মাঠে বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টটি আগামী ১২ জুনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে।

প্রচণ্ড রোদে ছাত্রীদের খেলতে অসুবিধার বিষয়টি আমরা ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।
রিয়া আক্তারকে খেলতে নামতে বাধ্য করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি অস্বীকার করেছেন।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুজা উদ্দিন তালুকদার বলেন, এখনকার বাচ্চারা রোদের মধ্যে এ ধরনের খেলায় অভ্যস্ত নয়। প্রচণ্ড রোদে হঠাৎ করে মাঠে খেলতে নামলে তাদের জীবন ঝুঁকি থাকে। রোদের তাপে অতিরিক্ত ঘাম, ডিহাইড্রেশন এমনকি হিটস্ট্রোকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে পারে।

তাই রোদের মধ্যে এভাবে বাচ্চাদের দিয়ে খেলানো উচিত নয়। বিষয়টি নীতি নির্ধারকদের বিবেচনা করা দরকার।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩১. মে ২০২৩ ০৫:০৫:পিএম ৯ মাস আগে
টাঙ্গাইলে কাভার্ডভ্যানের চাপায় ঘুমন্ত মা-মেয়ে নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে কাভার্ডভ্যানের চাপায় ঘুমন্ত মা-মেয়ে নিহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা বসতঘরে উপর উঠে গেলে ঘুমন্ত মা-মেয়ে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বাবা খোকন চন্দ্র রবি দাস।

সোমবার (২৯ মে) দিনগত রাত ৩টার দিকে টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার নল্লা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- খোকন চন্দ্র রবি দাসের স্ত্রী ফুল রানী (৪২) ও মেয়ে রাধিকা রানী দাস (১২)। আহত খোকন চন্দ্র রবি দাস ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা উপজেলার নল্লা এলাকার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (৩০ মে) সকালে ধনবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম জসিম উদ্দিন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে ধনবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম জসিম উদ্দিন জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী একটি পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নল্লা বাজার এলাকার খোকন চন্দ্র রবি দাসের বাড়ীতে উঠে পড়ে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা মা ও মেয়ে মারা যান। গুরুতর আহত হয় বাবা। পরে আহত খোকনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চালক পালিয়ে গেছে। নিহত মা-মেয়ের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. মে ২০২৩ ০৬:৫৭:পিএম ৯ মাস আগে
টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি পদক প্রপ্তির ৫০ বছর উদযাপন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি পদক প্রপ্তির ৫০ বছর উদযাপন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২৮ মে) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় ।

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একুশে পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ ছানোয়ার হোসেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ওলিউজ্জামান,পৌর মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম) শরফ উদ্দীন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) হাসান বীন মুহাম্মদ আলী, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ ।

সভায় বঙ্গবন্ধুর পদক প্রাপ্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আলোচনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ওলিউজ্জামান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ছানোয়ার হোসেন এমপি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, তোমাদের মত বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধু সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করতেন। দেশের স্বার্থে বঙ্গবন্ধু ১৪ টি বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। এমন নিঃস্বার্থ রাজনীবিদ বর্তমানে বিরল। তোমরা বঙ্গবন্ধুর জীবন থেকে শিক্ষা নিবে।

তিনি আরও বলেন, শান্তি পরিষদের তৎকালিন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি পদক প্রদান করেন। বিশ্বের শান্তির জন্য সর্বোচ্চ পদক হল জুলিও কুরি পদক। এই পদক বিশ্বের বরেণ্য ব্যাক্তিরাই পেয়ে থাকেন।

উল্লেখ, ১৯৭৩ সালের ২৩ মে বিশ্ব শান্তি পরিষদের পক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করা হয়।
বঙ্গবন্ধু এই পদকপ্রাপ্তির আগে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো, ভিয়েতনামের সংগ্রামী নেতা হো চি মিন, চিলির গণ-আন্দোলনের নেতা সালভেদর আলেন্দে, ফিলিস্তিনের জনদরদি নেতা ইয়াসির আরাফাত প্রমুখ এই পদকপ্রাপ্ত হয়েছেন। মূলত, সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধিতা এবং মানবতার ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, তাঁরা এই পদকে ভূষিত হয়ে আসছিলেন ১৯৫০ সাল থেকে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. মে ২০২৩ ০৩:২১:এএম ৯ মাস আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।