আরমান কবীরঃ রাজধানী ঢাকার ভাটারায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন (৫৪) সহ তিন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির ভাটারা থানা পুলিশ।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক- এল এর ১০নং রোডের ২৫০১ নং বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভাটারা থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০টায় ভাটারা থানার জে ব্লকের ৯ নম্বর রোডের সড়কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মিঠুন ফকির (২৮) হামলায় আহত হন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ১৯ ডিসেম্বর ভাটারা থানায় একটি মামলা করেন। তদন্তাধীন এ মামলায় গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সালাউদ্দিন সালেক ওরফে সালেক ঢালী এ মামলায় এজাহারনামীয় ও এমপি ছানোয়ার হোসেন ও আবু মুসা আনসারী মামলার সন্দেহভাজন আসামি। গ্রেপ্তারকৃতদের রবিবার দুপুরে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, বিনা ভোটে নির্বাচিত টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি ছানোয়ার হোসেন গ্রেপ্তারের খবরে শহরে আনন্দ উৎসব হচ্ছে। আশা করি, অতি দ্রুত বিচার করে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
এদিকে, ছানোয়ার হোসেনের গ্রেপ্তারের খবরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ লাবলু মিয়া লাবুর নেতৃত্বে শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় ডেভিল হান্ট অপারেশনে বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের ২১জন নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যান, পৌরসভার কাউন্সিলররা রয়েছেন।
রাতভর অভিযানে আটক হওয়া নেতাকর্মীদের জেলার বিভিন্ন জায়গার নাশকতার মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলার স্ব স্ব থানা পুলিশ আটককৃতদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠিয়েছে।
জানা গেছে, সারাদেশে ডেভিল হান্ট অপারেশনের লক্ষে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। গ্রাম পর্যায়ে এসব অভিযানে আওয়ামী লীগের নেতাকমীদের আটক করা হয়। পরে আটক করা এসব নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জেলার কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ তালুকদার, দুর্গাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও কোকডহরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন।
ভূঞাপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তালুকদার এবং পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনকে আটক করা হয়। এছাড়া মধুপুরে ১জন, গোপালপুরে ৪জন, ঘাটাইলে ২জন, টাঙ্গাইল সদরে ৪জন, মির্জাপুরে ৩জন, সখীপুরে ১জন ও নাগরপুরে ১জন রয়েছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া জানান, আটক আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, আটককৃতরা টাঙ্গাইল সদর থানার নাশকতা মামলার আসামি। পরে তাদের টাঙ্গাইল সদর থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার করাতিপাড়া বাইপাসের পাশ থেকে অভিজিত কুমার (২৬) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে বাসাইল থানা পুলিশ।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের গুল্যা এলাকা থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত অভিজিত কুমার সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার পাঁচগাছি গ্রামের রিপন চন্দ্র সরকারের ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে যুবকের মরদেহ দেখতে পাই। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রথমে যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পরে তার প্যান্টের প্যাকেটে থাকা জন্ম সনদ, সার্টিফিকেট দেখে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমে যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা যাইনি। পরে তার প্যান্টের প্যাকেট থেকে কাগজ দেখে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শহর শাখার সহ-সভাপতি ইকবাল হায়াতকে(৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে পৌর শহরের বটতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত হায়াত, পৌর এলাকার ১৬ নং ওয়ার্ডের আকুর-টাকুর পাড়া এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে শহরের বটতলা এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল শহর শাখার সহ-সভাপতি ইকবাল হায়াতকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইকবালকে গত বছরের ১৩ নভেম্বর দায়ের করা (মামলা নং ১৮) দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি)দুপুরে ইকবাল হায়াতকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িতে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা জড়িত নয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে।
শনিবার(৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তেন জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমন্বয়করা সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি করেন তারা।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অন্যতম সমন্বয়ক আল আমিন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িতে ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনায় আমরা জড়িত নই। কিছু নামধারী সমন্বয়ক এ কাজ করতে পারে। যারা এ সব কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রশাসনের সাথে কথা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে শনিবার থেকে অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরু হবে। আমরা এ অভিযানের সফলতা কামনা করছি।
এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমন্বয়ক মনিরুল ইসলাম, নবাব আলী, আল আমিন সিয়ামসহ অন্যান্য সমস্বয়করা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভেকু দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খানের বাড়িতে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এবং পৌরসভার সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরনের বাড়িতেও লুটপাট চালানো হয়।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র অবকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বিএনপি’র মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ভাইঘাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ধনবাড়ী উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র উদ্যােগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়৷
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান। ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান সুরুজ, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।
এসময় বক্তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করেন। ড.ইউনুসকে বলেন, দেশ সংস্করণ করতে হলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজন। তাই অতিদ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এসময় ধনবাড়ী ও মধুপুর উপজেলার বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন
আরমান কবীরঃ: বিএনপির নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, বিএনপি দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে। বিএনপি কোনো চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয়না। জনগনের অধিকার আদায়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনকে যারা বিতর্কিত করতে চায় তাদের সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকবে হবে। বিএনপি জনগনের দল। জনগণের জানমালের ক্ষতি হয়- এমন কোন কাজে যারা নিয়োজিত থাকবেন তারা সাবধানে পথ চলবেন। জনগনের জানমালের ক্ষতি হবে এমন কোন কর্মকান্ড বিএনপি সহ্য করবেনা।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের শহীদ জগলু রোড়ে মির্জা আবু রায়হান জগলুর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এরআগে তিনি জেলা বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে একটি র্যালি নিয়ে শহরের জগলু রোডে ছাত্রদল নেতা শহীদ মির্জা আবু রায়হান জগলুর স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুব দলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিগত স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদী সরকার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের পায়ের নিচে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পিষ্ট করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ দেশনায়ক তারেক রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রেতাত্মারা এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যাতে তারা এই দেশে কোনভাবেই আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। যারা নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে তাদের বিচার এই দেশের মাটিতে অবশ্যই হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশের পথ সুগম হয়েছে। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে, শহিদ হয়েছে। গণমানুষের সেই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এখনও চলছে।
তিনি আরো বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। যে বাংলাদেশে সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে। সকলে ভাই-ভাই হিসেবে আগামি দিনে দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে সকল বৈষম্যমুক্ত গণতান্ত্রিক একটি দেশ গড়ে তুলবো ইনশাল্লাহ।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট
ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক শানু, কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী যুবদলের নির্বাহী সদস্য সৈয়দ শহিদুল আলম টিটু প্রমুখ।
প্রকাশ, ১৯৮৭ সালের এই দিনে তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদের আমলে বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশের নির্বিচারে গুলিবর্ষণে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা মির্জা আবু রায়হান জগলু নিহত হন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত “জিতবে এবার নৌকা’ ” গান বাজিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে টাঙ্গাইল পৌর শহরের মেইন রোডে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এই ভাঙচুর চলাকালীন পুরো সময় বিভিন্ন ধরনের গান বাজিয়ে ও নেচে গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন উপস্থিত ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধরা মাটিকাটার যন্ত্র (ভেকু) দিয়ে শুরু করেন কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ। এর কিছু সময় পর শহরের থানা পাড়ায় অবস্থিত জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত ফজলুর রহমান খান ফারুকের বাসাও ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার বাড়ি জ্বলছিল। এ সময়ও ছাত্র-জনতা গান বাজিয়ে আনন্দ উল্লাস করে।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একই এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং টাঙ্গাইলের সাবেক পৌর মেয়র জামিলুর রহমান মিরনের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বাড়ি ভাঙচুরের পর সেখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের ভাসানী হলের সামনে স্থাপিত শেখ কামালের মুরাল ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র-জনতার অভিযোগ, ‘টাঙ্গাইলে যারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ছিল, তাদের আস্তানা আমরা বাংলার মাটিতে রাখবো না। জেলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অফিসও আমরা ভেঙে ফেলবো।’
জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি জানান, ‘আমরা টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের কোনো অফিস রাখব না। এখন আওয়ামী লীগ অফিস ভেঙেছি। আওয়ামী লীগের যত নেতা আছে, তাদের বাসাও ভেঙে ফেলা হবে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, ‘ভাঙচুরের বিষয়ে শুনেছি, তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে যেতে পারিনি।
আরমান কবীরঃ বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির(বিটিএ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় শামীম আল মামুন জুয়েলকে টাঙ্গাইলে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি)দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের হুগড়া হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারীবৃন্দ, ম্যানেজিং কমিটি ও ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে এ গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোরশেদ আলম দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর এ আলম তুহিন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ গোলাম রব্বানী, জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর মনিরুজ্জামান, নাগরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস- চেয়ারম্যান মাহে আলম সাবু, শিক্ষক সমিতির সদর উপজেলার শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টাঙ্গাইলের ছাত্র প্রতিনিধি আল-আমিন, মনিরুল ইসলাম ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তামান্না ইসলাম তরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আল মামুন জুয়েল বলেন, আমাকে সম্বর্ধিত করায় আমি সম্মানিত বোধ করছি। আমার এই বিজয় টাঙ্গাইল বাসীর বিজয়। আপনার দোওয়া করবেন আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যেন আমি যথাযথ ভাবে পালন করতে পারি। বিশেষ করে সারা বাংলাদেশের ৬৪ জেলার শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে আমি আগেও যেমন সোচ্চার ছিলাম, এবার বৃহদ পরিসরে আর বেশি সোচ্চার হব। হুগরা বাসীর কাছে আমি বিশেষ ভাবে ঋণী। যে ঋণ কোনভাবে শোধ হবার নয়। আমার সব সময় চেষ্টা থাকবে কি ভাবে সেই ঋণ কিছুটা পরিশোধ করা যায়।
উল্লেখ, হুগড়া ইউনিয়নের হুগড়া হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আল মামুন জুয়েল এর আগে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরমান কবীরঃ জাতীয় পার্টি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক বলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়া বাড়ী ইউনিয়নের এসডিএসের সহযোগিতা প্রতিষ্ঠান ইসলামিক রিসার্চ ইনিস্টিটিউটের ৮ একর জায়গার ক্রয় সূত্র বৈধ মালিক তিনি। এই জমি ক্রয়ের সমস্ত বৈধ দলিল থাকা সত্ত্বেও একটি মহল তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য প্রতিনিয়ত অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর প্রতিবাদে ইতিমধ্যে গত মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি)টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। প্রয়োজনে এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি।
এ প্রতিবেদকের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকার তিনি বলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়া বাড়ী ইউনিয়নের গদুরগাতি ও পোড়াবাড়ী মৌজায় ১২৫ একর জমির ওপর এসডিএসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইসলামিক রিসার্চ ইনিস্টিটিউট(আইআর আই)এর গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। পরে তাদের মুল প্রতিষ্ঠান এসডিএস অর্থনৈতিকভাবে দেওলিয়া হয়ে গেলে এই জায়গা দীর্ঘ দিন পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। ইসলামিক রিসার্চ ইনিস্টিটিউটের মহাপরিচালক হচ্ছেন মোঃ নুরুল ইসলাম। তিনি জেলার সখীপুর উপজেলার আড়াই পাড়া গ্রামের আনসার আলী ছেলে। বর্তমানে পোড়াবাড়ী থাকেন।
তিনি আরো বলেন, এসডিএস অর্থনৈতিকভাবে দেওলিয়া হলে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোঃ ইসমাইল হোসেন সিরাজী তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইসলামিক রিসার্চ ইনিস্টিটিউটের মহাপরিচালক নুরুল ইসলাম মাধ্যমে বিক্রির প্রস্তাব করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানের ১২৫ একর জমির মধ্যে ৮ একর জায়গা আমার পছন্দ হওয়াতে আমি উক্ত ভুমি ক্রয় করিতে রাজি হই। পরে গত ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৩ তারিখে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা মূল্যে সাফ কওলা দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে উক্ত ভুমি মালিক হই। যার দলিল নাম্বার – ৪৪৬। এই ১২৫ জমির মালিক ছিল ইসলামিক রিসার্চ ইনিস্টিটিউটের এবং মহাপরিচালক হচ্ছেন মোঃ নুরুল ইসলাম। এ ছাড়াও সোশাল ডেভেলপমেন্ট সংসদ এসডিএসের গত ৪ মার্চ ২০১৩ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদের এক সভায় নানা ধরনের অর্থনৈতিক অনিমের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন সিরাজীকে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন ভাইস-চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলামকে সর্ব-সম্মতিক্রমে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের বৈধতা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, এর মধ্যে হঠাৎ করে গত বছর ইসমাইল হোসেন সিরাজী নিজেকে ইসলামিক রিসার্চ ইনিস্টিটিউটের মালিক দাবি করে ১১ মার্চ টাঙ্গাইল যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে মোঃ নুরুল ইসলামের সাথে সম্পাদিত উক্ত ভুমির সাব কাওলা দলিল পন্ড চাহিদা
মামলা দায়ের করে। একই সাথে আমার ক্রয়কৃত ভুমিতে কোন প্রকার স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে ১৪৪ ধারা চাহিদা আরও একটি মামলা দায়ের করে। পরে মাননীয় আদালত কোন ধরনের ১৪৪ ধারার গ্রাউন্ড না পেয়ে মামলাটি খারিজ করে দেন। বর্তমানে দলিল পন্ডের মামলাটি চলমান। এছাড়া গাজীপুর জেলার মজুখান এলাকার মোঃ নাজমুল হুদা নামে জনৈক ব্যক্তিকে গত ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের ১০ তারিখে প্রতিষ্ঠানের পুরো জমির পাওয়ার অব এটনি প্রদান করে। যা সম্পূর্ণ ভাবে অবৈধ। এই পাওয়া অব এটনি পাওয়া ব্যক্তি আমার নামে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। আমি আমার রেজিস্ট্রিকৃত জমি ভোগ দখল করে আসছি। আমার প্রয়োজনে এখান থেকে মাটি কাটছি, ইতিপূর্বে এই বিষয়ে ১৪৪ ধারায় মামলা করলেন মহামান্য আদালত সেটা খারিজ করে দেন।আমি আশা করি, মাননীয় আদালত ন্যায্য বিচার করবেন।
তিনি বলেন, আমি বিরক্ত হয়ে ইসমাইল হোসেন সিরাজীকে অভিযুক্ত করে ২০১৮ সালে ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় মামলা দায়ের করি। যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি ইসলামিক রিসার্চ ইনিস্টিটিউটের/এসডিএসের বেশ কিছু জমি সাব-কাবলা দলিলের মাধ্যমে বিক্রির করেছে পরিচালক নুরুল ইসলাম। যেখানে ১ নম্বর সাক্ষী ছিলেন ইসমাইল হোসেন সিরাজী। জমির মালিক যদি সিরাজী হয় তাহলে তিনি সাক্ষী হবেন কেন? একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদের বিক্রির পাওয়ার অব এটনি কিভাবে ইসমাইল হোসেন সিরাজী দেন, তিনি তো ঐ সম্পত্তির আইনগত ভাবে একক মালিক নন?
তিনি আরো বলেন,,উক্তি জমি ক্রয়ের বৈধ কাগজপত্র ও খাজনা পরিশোধ ও খারিজ আমার নামে হওয়া সত্বেও একটি শ্রেণী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের লিপ্ত রয়েছে, যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও আমাকে রাজনৈতিক ভাবে হয়রানি করার জন্য। আমি টাঙ্গাইল বাসীর কাছে এই অপপ্রচারে কান না দেওয়ার অনুরোধ করছি।এ বিষয়ে দ্রুতই টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সবার কাছে বিষয়টি তুলে ধরবো।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে শতাধিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মাঝে জি আর চাল বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(৩০ জানুয়ারি )দুপুরে সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের অয়নাপুর বাজারে জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে এ চাল বিতরণ করা হয়।
জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব আইয়ুব আলী হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন ।
আরমান কবীরঃ দেশের সংবিধান এবং ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর বিধান পরিপন্থি বক্তব্য দেওয়ায় টাঙ্গাইলের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) মো. সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটির উপসচিব মো. মাহবুব আলম শাহ নির্দেশনাটি পাঠিয়েছেন।
নির্দেশনায় বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৯ (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত। তদনুযায়ী সঠিক ও নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি-২০২৫ মোতাবেক বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারযোগ্য ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ ও সুপারভাইজার কর্তৃক তা যাচাই ২০ জানুয়ারি শুরু হয়েছে। শেষ হবে ৩ ফেব্রুয়ারি। নিবন্ধন কার্যক্রম ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান থাকবে।
ভোটার তালিকা বিধিমালা, ২০১২ এর বিধি-৪(৪) অনুসারে উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার ও রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান, সরকারি বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুল বা কলেজ বা সমপর্যায়ের মাদ্রাসা, সরকারি বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৬ নং অনুচ্ছেদ বলা আছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে। ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯-এর ১৯ ধারায় বলা আছে, যদি কোনো ব্যক্তি ভোটার তালিকা প্রণয়ন, পুনঃপরীক্ষণ, সংশোধন বা হালনাগাদকরণ কার্যে কাহাকেও কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক এক বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
এ অবস্থায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এবং ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯-এর বিধান পরিপন্থি বক্তব্য পেশ করায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে হবে।
জানা গেছে,মো. সাহাব উদ্দিন গত ২১ জানুয়ারি একটি স্কুল পরিদর্শনকালে বলেন, কিছু শিক্ষক ভোটার তালিকা হালনাগাদ কাজে সম্ভবত চলে গেছেন, তো এই কাজটা শিক্ষকরা এইভাবে করতে পারে না। প্রথমত, শিক্ষকদেরকে দিয়ে এই কাজটি করানোর বোধহয় বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ, শিক্ষিত বেকার যুবকেরা এ কাজটি করার কথা, অতীতে এইভাবে হয়েছে। এরপরেও আমাদের অনেক শিক্ষক আছেন ইন্টারেস্টেড হয়ে ইলেকশন অফিসে বা পরিসংখ্যান অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। এই রকমও আছেন আবার অনেক শিক্ষক করতেও চায় না বা অনেক শিক্ষক না জেনে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর/মন্ত্রণালয় এই বছর এই ব্যাপারে তেমন কিছু বলেছেন কিনা আমার জানা নেই। তবে সাধারণত বলেন তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য। সহযোগিতা মানে এই না, তারা স্কুল ছেড়ে দিয়ে ফিল্ডে গিয়ে কাজ করবে। তারা প্রচার-প্রচারণা করবে শিশুদের মাধ্যমে, কমিউনিটির মাধ্যমে, এটার নাম সহযোগিতা। যাই হোক, যাদের নাম দেয়া হয়েছে তারা প্রথমত যে কাজটি করবে সেটি হলো স্কুল আওয়ারের আগে এবং স্কুল সময়ের পরে তারা হালনাগাদ করবে। স্কুল সময়ে কখনো স্কুল ত্যাগ করতে পারবে না। এর পরেও যদি কারো এই সময়ে বাধ্যবাধকতা থাকে তাহলে অবশ্যই ছুটি নিয়ে এই কাজ করতে হবে। ছুটি ছাড়া সে স্কুল ত্যাগ করতে পারবে না।
একজন লোক শিক্ষকের বেতন নিবে আবার ওইদিকে নির্বাচন কমিশন থেকে বেতন নিবে, এক সঙ্গে একই সময়ে দুইটা সুবিধা পাওয়ার ট্রেজারি রুলের ভাষায় কোনো বিধি-বিধান নাই এবং এটা সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। টিইও সাহেবরা এবং এইউইও সাহেবরা এটা কঠোরভাবে দেখেন। যদি কোনো স্কুলে এরকম পাওয়া যায়। তাহলে ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো এবং প্রমাণিত হবে আপনি আমি সবাই মিলে অসৎ কাজে আমরা সহযোগিতা করছি।