একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়ে মাঠে বজ্রপাতে বুলবুল আহমেদ (৫০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২২ জুন) দুপুরে উপজেলার সুন্যা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বুলবুল আহমেদ ওই গ্রামের ইসমাঈল হোসেনের ছেলে।
জানা যায়, বুলবুল সকালে সুন্যা উত্তরকোড় চকে ধানক্ষেত পরিস্কার করতে যায়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হলে বুলবুল বাড়িতে ফেরার জন্য রওনা দেন। এসময় রাস্তায় ওঠার আগেই বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিহতের পরিবার।
নিহতের চাচাতো ভাই স্কুলশিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, সকালে আমার ভাই ধানক্ষেত পরিস্কার করতে গিয়েছিলেন। পরে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি বাড়িতে ফেরার জন্য রওনা দেয়। এসময় বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রায় এক ঘণ্টা পর খবর পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচাতো ভাই নাইকানীবাড়ী আলহাজ্ব হায়দার হামিদ মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি কৃষি জমি আবাদ করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। এখন তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে অসহায় হয়ে পড়লেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনে বিবেকানন্দ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের (ভিএফসি) জার্সি উম্মোচন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, সদর উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ইসতিয়াক আহমেদ রাজীব, বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা পরিষদের সদস্য আকরাম হোসেন কিসলু।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অত্র কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে, ভিএফসির উপদেষ্টা মীর নাসিমুল ইসলাম। এ সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বর্ষের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে বিবেকানন্দ চ্যাম্পিয়নশীপ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌরউদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
প্রসঙ্গত, বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি ব্যাচ ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৫ টি টিম খেলায় অংশগ্রহণ করবে। আগামী ২৩ জুন থেকে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে এ খেলা শুরু হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রাইভেটকার ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত ও আটজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২১ জুন) সকালে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর পৌর এলাকার মালাউড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান।
এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান কামরুল ইসলাম। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর থানার জয়নাবাজার এলাকায়। তিনি ওই এলাকার একটি ভাতের হোটেলের কর্মচারী। অপরজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মধুপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মধুপুর পৌরশহরের মালাউড়ি এলাকায় পৌঁছালে টাঙ্গাইলগামী প্রাইভেটকারের সঙ্গে মধুপুরগামী যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। উভয় যান দ্রুতগতিতে থাকায় মাহিন্দ্রা ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। প্রাইভেটকার সড়কের কয়েক গজ দূরে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়। মাহিন্দ্রার যাত্রীরা ছিটকে সড়কে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দা মিলন হোসেন বলেন, ‘বিকট শব্দ শুনে আমরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই। অপরদিকে প্রাইভেটকারের চালক দ্রুত পালিয়ে গেলেও ভেতরে আটকা পড়া এক যাত্রিকে কাচ ভেঙে উদ্ধার করা হয়।’
প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার করা যাত্রীর নাম চিকিৎসক আদনান আহসান চৌধুরী। তাঁকে বের করার পরপরই প্রাইভেটকারটিতে আগুন ধরে যায়। এ সময় মধুপুর থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা এসে উদ্ধার তৎপরতা চালান বলে জানান মিলন হোসেন।
মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসেন মানিক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই একজনের মৃত্যু হয়েছে। ৯ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন, নেত্রকোনার ইমাম হোসেনের ছেলে আব্দুল হাশেম (৫৫), নেত্রকোনার বারহাট্টা এলাকার সুমন খানের ছেলে আব্দুল কদ্দুস, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আহাম্মদ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৫), মাহিন্দ্রা চালক মধুপুর উপজেলার লুচিয়া নগরবাড়ী এলাকার আরফান আলীর ছেলে মো. জালাল হোসেন (৩০), ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার আদনান আহসান চৌধুরী, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জয়নাতলী গ্রামের শহর আলীর ছেলে রুবেল মিয়া (৪০), একই উপজেলার নগর হাওলা গ্রামের রইজ উদ্দিনের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম (৪০) ও জয়নাবাজার এলাকার মইন উদ্দিনের ছেলে মো. সেলিম মিয়া।
এ প্রসঙ্গে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেই। আহতদের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে একজন ও ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে আরেকজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সংবাদকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করলেন বহুল প্রচারিত দৈনিক কালবেলার যুগ্ম-সম্পাদক মো. ইলিয়াস হোসেন। বুধবার (১৯ জুন) দুপুরে বাসাইল উপজেলার বাসুলিয়াতে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি মো.আবু জুবায়ের উজ্জল জেলার বিভিন্ন সংবাদের বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তুলে ধরেন। এরপর সকল উপজেলার প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে দৈনিক কালবেলার যুগ্ম-সম্পাদক মো. ইলিয়াস হোসেন জেলার দৈনিক কালবেলায় কর্মরত সকল সংবাদকর্মীদের বলেন, জ্ঞান গরিমা ও দক্ষতার দিক থেকে কালবেলার সাংবাদিকরা এগিয়ে যাবে। সাংবাদিকরা তাদের লেখনির মাধ্যমে সঠিক তথ্য তুলে ধরে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে। তাই সঠিক তথ্য প্রচারে আরো সচেষ্ট থাকতে হবে। এতে সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সকল উপজেলার সংবাদকর্মীদের নিয়ে ঈদ আনন্দে বাসুলিয়া বিলে নৌকা ভ্রমনে শামিল হন তিনি। এসময় জেলার সকল সংবাদকর্মীরা যুগ্ম-সম্পাদকের কাছ থেকে ঈদ শুভেচ্ছাও গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার মির্জাপুর উপজেলা প্রতিনিধি মো.মোজাম্মেল হক, সখীপুর প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান রিমন, ভূঞাপুর প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, গোপালপুর প্রতিনিধি নুর আলম প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ মাই টিভি’র টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর-দেলদুয়ার উপজেলা প্রতিনিধি আনিছ খানের স্ত্রী রুনি খন্দকার বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকালে ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন, (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৬ বছর। তিনি স্বামী, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্বীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
বৃহস্পতিবার বাদ যোহর টাঙ্গাইলের সন্তোষ জাহ্নবী স্কুল মসজিদের সামনে মরহুমার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক ইফতেখারুল অনুপম, মাই টিভির টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি মির্জা মাসুদ রুবলসহ সাংবাদিকবৃন্দ, মরহুমার আত্বীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীরা জানাজার নামাজে অংশ নেন।
জানাজার নামাজ শেষে টাঙ্গাইল বেবিস্ট্যান্ড কেন্দ্রীয় গোরস্থানে মরহুমার মরদেহ দাফন করা হয়।
তার মৃত্যুতে বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ও মরহুমার শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর পুকুর থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৭ জুন) রাতে উপজেলার কালিয়ানপাড়া তেঁতুলিয়াচালা এলাকায় বাড়ির পাশে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত গৃহবধূর নাম বিউটি আক্তার (৪০)। তিনি একই গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী।
নিহত গৃহবধূর ভাইয়ের দাবি, তাঁর বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলা হয়েছে।
নিহত গৃহবধূর বড় ভাই মাসুদ করিম দাবি করেন, ‘আমার বোনকে তার স্বামী বছরখানেক আগেও বেদম মারপিট করেছিল। ওই সময় বোনকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। আমার ধারণা, বোনকে তারা পরিকল্পিতভাবে মেরে লাশ গুম করার জন্য পুকুরে ফেলে।’
নিহতের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৬ জুন) সকালে গৃহবধূ বিউটি আক্তার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। ওই দিন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার সন্ধ্যার দিকে কালিয়ানপাড়া তেঁতুলিয়াচালা এলাকায় বাড়ির পাশে পুকুরে মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয় লোকজন। রাতে পুলিশ এসে গৃহবধূ বিউটির লাশ উদ্ধার করে। মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত গৃহবধূর স্বামী মিজানুর রহমানের দাবি, তাঁর স্ত্রী বিউটি আক্তার মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। নিখোঁজের পর সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় তাঁর স্ত্রীর মরদেহ পাওয়া গেছে। তাঁদের দুই মেয়ে আছে।
সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রভাষ কুমার বসু বলেন, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে এটা হত্যা না অপমৃত্যু, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মাহিন্দ্রা (পিকআপ) ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী প্রবাসী হেলাল উদ্দিন (৩৫) নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে সখীপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার নলুয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হেলাল উদ্দিন উপজেলার কালিদাস গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকায় মাহিন্দ্রা (পিকআপ) ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত হন সিঙ্গাপুর প্রবাসী হেলাল উদ্দিন। পরে স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নিহতের আত্মীয় জাহিদুল ইসলাম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত হেলাল উদ্দিন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার মৃত্যুতে ওই পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ঈদের বাকি আর মাত্র একদিন। তাই ঈদের আনন্দ পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে ঝুঁকি নিয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষজন। বাস ভাড়া বেশি হওয়ায় প্রচন্ড রোদে ট্রাক-পিকআপের যাত্রী হয়েও যাচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ বয়সের নারী ও পুরুষ।
সন্দেশ আলী নামের এক পিক-আপের যাত্রী বলেন, ঢাকা থেকে বাসে দুইগুণেরও বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এজন্য ঝুঁকি নিয়ে ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে প্রচন্ড রোদে ট্রাকে এসেছি।
শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাস স্টেশন, রাবনা বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস ও কালিহাতী উপজেলার সল্লা এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
সন্দেশ আলী সিরাজগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে সন্তান ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি চাকরি করি পোশাক কারখানায়। এবার বেতন-বোনাসসহ আমি ২০ হাজার টাকা হাতে পেয়েছি। ঢাকা আব্দুল্লাহপুর থেকে ২৫০ টাকা ভাড়ায় ব্যক্তিগত কাজে আশেকপুর বাইপাস এলাকাতে নেমেছি। আমি এ ঈদে স্বজনদের জন্য কেনাকাটায় ব্যয় করেছি ১২ হাজার টাকা। বাকি ৮ হাজার টাকা দিয়ে ঈদ খরচ ও ছুটি শেষে আমাকে ঢাকায় ফিরতে হবে। এ টাকা বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করে এসেছি।
আশেকপুর বাইপাস এলাকায় কথা হয় সুমন মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ২৫০ টাকার বাস ভাড়া ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ঈদে বাড়ি ফিরতে হবে এ জন্য অতিরিক্ত ভাড়া নিলেও কিছু করার নেই। পরিবারের সাথে ঈদ করতেই হবে।
ট্রাকচালক সোহাগ রহমান বলেন, আমি সব সময় বালু পরিবহন করি। এবার ঈদে গরু নিয়ে গাবতলী গরুর হাটে এসেছিলাম। ট্রাকে যাত্রী নেওয়ার কোন চিন্তা ভাবনা ছিল না। ফেরার পথে দুই যাত্রী থামিয়ে তাদের দুঃখের কথা বলেন। এজন্য ফ্রিতে তাদের ট্রাকে উঠাই। পরে স্ট্যান্ডে এলাকায় আসামাত্র যাত্রীরা তাড়াহুড়ো করে ট্রাকে ওঠেন। নামতে বললে তারা আমার উপর রেগে উঠে বলেন, আমরা তো ফ্রিতে যাবো না, ভাড়া দিব। পরে ভাড়া মিটিয়ে রওনা করেছি।
নাম প্রকাশ না শর্তে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সুমন পরিবহনের এক বাস চালক বলেন, ঈদের ছুটিতে যাত্রীদের চাপ ও মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। এ জন্য একটু বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মীর সাজেদুর রহমান বলেন, পিক-আপ ও খোলা ট্রাকের ছাদে করে যেন যাত্রী না নেয়া হয় সেজন্য বাঁধা দেয়া হচ্ছে। যারা কথা শুনছেন না তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দেয়া হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পৃথক পৃথক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৫ জন।
শুক্রবার (১৪ জুন) ভোরে কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া এলাকায় বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল কলেজের সামনে ভোররাতে ট্রাক ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাইভেট কারের চালকসহ ২ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
এদিকে সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার পুংলী এলাকায় উত্তরবঙ্গগামী একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫ জন আহত হয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অন্যান্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে
একই সময়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।
এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মো. সাজেদুর রহমান বলেন, মাঝ রাতের কোন এক সময় কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া এলাকায় একটি গরু বোঝাই ট্রাকের সাথে একটি প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ৬ জনকে নেওয়া হয়।
এ সময় জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ৬ জনের মধ্যে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন বলে নিশ্চিত করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এখনো নিহত দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কাভার্ডভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় গুরুত্বর আহত হয়েছেন আরও একজন।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকালে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার কদমতলী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাটাইল থানা পুলিশ জানায়, উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কদমতলী বাজারের উত্তর পাশে মেসার্স জামাল কয়েল এন্ড লাকড়ি মিলের পশ্চিম পাশে সড়কের উপর মধুপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি মিনি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো ১-১১-৩২০৮) ও কদমতলী থেকে ঘাটাইলের দিকে যাওয়া একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘাটাইল থানা পুলিশ ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গুরুত্বর আহত মোটরসাইকেল আরোহী তিনজনের দুইজনকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।
এদের মধ্যে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলমগীর হোসেন বাদশাকে (৪৮) মৃত ঘোষণা করে।
নিহত বাদশা উপজেলার গারট্ট গ্রামের মৃত জুলহাস উদ্দিনের ছেলে।
মোটরসাইকেলের অপর আরোহী জুয়েলকে (৪৫) কালিহাতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করে।
নিহত জুয়েল ঘাটাইল উপজেলার কাশতলা গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। তিনি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে গোপালপুরে কর্মরত ছিলেন।
দুর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত মোটরসাইকেল আরোহী শামসুজ্জামান আদিলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম মিয়া জানান, মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। চালককে আটক করাসহ ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টানা ২৯ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয় ভবনে কোচিং বাণিজ্য, উপবৃত্তির আবেদনের নামে টাকা নেওয়া, শিক্ষার্থী কমে যাওয়া, মাধ্যমিক পাশ করা পছন্দের ব্যক্তি টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেনকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনয়ন দেওয়াসহ গুরুত্বর অসংখ্য শিক্ষা নৈরাজ্যের অভিযোগ রয়েছে ভারপ্রাপ্ত ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এরপরও উচ্চ আদালতে পদ বহাল রাখার মামলা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল নামের ওই শিক্ষক।
পদটি বহাল রাখতে উচ্চ আদালতে নিজে বাদি হয়ে মামলা করে দায়িত্ব পালন করছেন রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। মামলাটি চলমান থাকায় অসংখ্য অভিযোগ সত্ত্বেও তাকে বদলী করতে পারছেন না বলেও জানান তারা।
যদিও ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়-২ শাখার জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে নূন্যতম স্নাতক ডিগ্রীধারী ব্যক্তি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমান সভাপতি টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচ.এস.সি পাশ বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার ওয়েবসাইটে পৌর পরিষদের মেয়র ও কাউন্সিলরগণের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখা থাকলেও টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেনের মোবাইল নম্বর ব্যতিত অন্য কোন তথ্য দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়ার বিধান থাকলেও এ বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই রয়েছে বঞ্চিত। অপরদিকে উপবৃত্তির আবেদনের নামে ৫০ থেকে ৩’শ টাকা ফি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, ১৯৯৪ সালে ৪২ শতাংশ জমির উপর টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নে স্থাপিত হয় অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৫ সালের ১১ মার্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল। তৎকালিন সময়ে এটি ছিল কমিউনিটি বিদ্যালয়। কিছুদিন পর এটি রেজিস্টার ও ২০১৩ সালে হয় জাতীয়করণ। বর্তমানে এর ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১১২জন। এর মধ্যে ৫ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে ২৬ জন। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ রয়েছেন চার জন সহকারি শিক্ষক।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ সালে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় দ্বিতল বিশিষ্ট অতিরিক্ত একটি শ্রেণী কক্ষ নির্মাণ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। আছে পাকা একটি সৌচাগারও। নেই পানিপানের কোন টিউবওয়েল। কোন এক সময় টিউবওয়েল থাকলেও স্মৃতি স্বরূপ এখন রয়েছে শুধু পাইপ।
ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, প্রায় তিন বছর যাবৎ আমাদের স্কুলের টিউবওয়েল নষ্ট হয়েছে। পানির অভাবে আমাদের ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। অন্যের বাড়িতে গিয়ে পানি খাই আমরা। এছাড়া আমাদের অনেকেই উপবৃত্তি পাচ্ছেনা। কাজল স্যারও প্রতিদিন স্কুলে আসেন না বলে জানায় তারা।
দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী নুসরাত, তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সামিরা, তানিসা আক্তার, জাকিয়া, চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী লামিয়া, জুঁই, ইব্রাহিম, শাহিন আলম,পঞ্চম শ্রেণীর সিহাব, সিয়ামসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে রয়েছে বঞ্চিত।
পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র রিফাতের মা বলেন, উপবৃত্তির জন্য ৫০ টাকা নিয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাজল মাস্টার। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত আমার ছেলে উপবৃত্তির টাকা পেলেও গত তিন বছর যাবৎ পাচ্ছেনা। কেন উপবৃত্তির টাকা আসছেনা জানতে গেলে স্যার শুধু বলেন আসবোনি।
৩য় শ্রেণীর ছাত্রী জাকিয়ার নানী ও অলোয়া গ্রামের শেরিনা বলেন, উপবৃত্তির জন্য আমার ও জাকিয়ার নানার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপিসহ জন্ম নিবন্ধনের জন্য কাজল স্যার আমার কাছ থেকে ২’শ টাকা নিয়েছেন। এরপরও আমার নাতনী উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছেনা।
চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র আহাদ এর বাবা সবুজ মিয়া বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে উপবৃত্তি পেলেও তৃতীয় আর চতুর্থ শ্রেণীতে উপবৃত্তি পায়নি। কেন পাচ্ছে জানতে চাওয়ায় কাজল স্যার আমার কাছে ইংরেজী ও বাংলা জন্মসনদ দাবি করেন। জন্মসনদ দেওয়ার পরও উপবৃত্তি পাচ্ছেনা আমার সন্তান। এখন স্যার বলেছেন এটি দেলদুয়ার প্রাথমিক অফিসের সমস্যা।
নাহিদ, জিহাদসহ একাধিক ৫ম শ্রেণীর ছাত্ররা জানায়, মাসে ৩’শ টাকা নিয়ে তাদের বিদ্যালয় ভবনে কোচিং করাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল। মোট ২৬জন ছাত্র-ছাত্রী পড়ছে এই কোচিং এ। সকাল ৬ টা থেকে ৮টা পর্যন্ত তাদের পড়ানো হচ্ছে। এছাড়া সাড়ে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত স্কুলে ক্লাস করে তারা।
অভিভাবক রিনা বলেন, টিউবওয়েল নেই, পায়খানায় তালা দিয়ে রাখাসহ বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করানোর পাশাপাশি ঠিক মত পড়াশোনা করানো হয়না। প্রতিবাদ ও বক্তব্য দেয়ার কারণে আমাদের সন্তানদের সমস্যা করবেন কাজল মাস্টার বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
জীবন সুত্রধর বলেন, ইউনিয়নের স্থায়ি লোক ছাড়া স্কুলে চাকুরি দেয়া হবেনা নিয়োগে এমন শর্ত ছিল সে সময়। কাজল মাস্টারের বাড়ি পৌরসভার অংশে পরায় চাকুরিটা হচ্ছিলানা তার। এ কারণে কাজল মাস্টার আমার বাবা প্রয়াত তারাপদ সুত্রধরের কাছে অনুরোধ করে ও টাকা ছাড়া পাথরাইল ইউনিয়নের অলোয়া তারিনীর তিন শতাংশ জমি লিখে নিয়ে স্থায়ি ঠিকানা দেখায়। চাকুরি পাওয়ার পর জমিটি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন কাজল মাস্টার। চাকুরি পেয়ে এখন জমিটি ফিরিয়ে দেয়ার কথাই বলছেননা। কাজল মাস্টার একজন প্রতারক। জমি লিখে নেয়ার বিষয়টি গ্রামের সকল মানুষই জানে বলে জানান তিনি। জমিটি ফিরে পেতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ শিক্ষা বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
স্থানীয় মাতাব্বর জুলহাস বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল ও সহকারি শিক্ষক কোরবান আলী এক হয়ে স্কুলে অনিয়ম ও দূর্নীতির স্বর্গ রাজ্য গড়ে তুলেছেন। উপবৃত্তির আবেদনের নামে টাকা নেয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের কারণে দিনদিন স্কুলের মান নিচের দিকে যাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা এখনও স্কুলের নামটিই ঠিক মত বলতে পারেনা, স্কুলের নাম বলে কাজল মাস্টারের স্কুল। ইতোপূর্বে আমরা তাদের অনিয়ম ও দূনীতির প্রতিবাদে লিখিত অভিযোগ করেছি, কিন্তু এরপরও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা হয়নি।
তিনি বলেন, এই স্কুলে চাকুরি নেয়ার জন্য পাথরাইল ইউনিয়নের স্থায়ি বাসিন্দা হওয়ার শর্ত ছিল। তবে কাজল মাস্টারের বাড়ি ছিল পৌরসভা এলাকায়। চাকুরি পেতে তিনি প্রয়াত তারাপদ সুত্রধরের কাছে অনুরোধ করে ও টাকা ছাড়া তিন শতাংশ জমি লিখে নিয়ে স্থায়ি ঠিকানা বানায়। চাকুরি পাওয়ার পর জমিটি ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল কাজল মাস্টার, কিন্তু চাকুরি পেয়ে এখন তার সন্তানদের জমিটি ফিরিয়ে দিচ্ছেননা তিনি।
তিনি আরও বলেন, কাজল মাস্টার নিজের পছন্দের লোকজন নিয়ে পরিচালনা কমিটি করে দূর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত তার অপসারণ ও সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
দিনদিন ছাত্র ছাত্রী কমে যাওয়ার কথা স্বাীকার করে ১৯৯৫ সাল থেকে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত কোরবান আলী বলেন, এর আগে আমাদের বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রী ছিল ১৮৫জন। এরপর কমে গত বছর হয় ১৩৫জন আর এখন আছে ১১২জন। পাশাপাশি অলোয়া তারিনী নূরাণী হাফিজিয়া মাদরাসা ও নতুন কূড়ি কিন্ডার গার্ডেন গড়ে উঠায় ছাত্র ছাত্রী কমছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের জামিদাতা ও পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি দশ বছর যাবৎ এ বিদ্যালয়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। আমি সভাপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জানতে পারি টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারুককে সভাপতি বানানো হয়েছে। কিভাবে আর কাদের নিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠণ করা হয়েছে, সেটি আমি বা স্থানীয় কেউই জানেন না।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল বলেন, মামলা চলমান থাকায় ২৯বছর যাবৎ আমি এ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সাক্ষাতে আপনার চাওয়া সকল তথ্য আমি দিব বলে আর যোগাযোগ করেননি।
একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলেও বিদ্যালয়ের সভাপতি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেন ফোন রিসিভ করেননি।
দেলদুয়ার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গৌড় চন্দ্র বলেন, আমরাও ওই শিক্ষকের অপকর্মের বেশ কিছু সংবাদ দেখেছি। তবে উচ্চ আদালতে উনার করা স্ব পদে বহাল রাখার একটি মামলা চলমান থাকায় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছিনা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিষয়টি আমি দেখবো এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে অবগত করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বনিক জানান, উচ্চ আদালতে স্ব পদে বহাল রাখার জন্য করা তার একটি মামলা চলমান থাকার সুযোগ নিয়ে রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এতদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওই মামলার কারণে উনাকে বদলীও করা যাচ্ছেনা।
তিনি বলেন, তবে উনার বিরুদ্ধে নানা ধরণের অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় শিক্ষকদের মানহানী হচ্ছে। শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করাসহ অনিয়মের বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জাতির গর্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখার দৃঢ় প্রত্যয়ে সকলকে সম্মিলিত ভাবে কাজ করায় সন্তুষ্ট প্রকাশ করছি। এর পাশাপাশি, আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য সকলের প্রতি আহবান করছি।
বুধবার (১২ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসে পরিদর্শন ও সেনাবাহিনী প্রধানের বিদায়ী দরবারে বক্তব্যের সময় তিনি এসব কথা বলেন।এসময় সেনা বাহিনী প্রধান বক্তব্য দেওয়ার সময় অশ্রু সিক্ত হয়ে পড়েন।
সেনাবাহিনী প্রধানকে স্বাগত জানায় ১৯ পদাতিক ডিভিশন এবং শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ মাসীহুর রহমান, এসজিপি, এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।
এরপর সেনাবাহিনী প্রধান ১৯ পদাতিক ডিভিশন এবং ঘাটাইল এরিয়ার সকল সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে বিদায়ী দরবার নেন।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ সহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।