একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল প্রেসক্লাব আঙ্গিনায় ফুল বাগান তৈরির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে বাসাইল প্রেসক্লাব আঙ্গিনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার ফুলের চারা রোপনের মধ্যদিয়ে ওই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মুসলিম উদ্দিন আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খায়রুল ইসলাম তালহা, সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপসহকারি কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন, উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন, সাবেক সভাপতি এম শহিদুল ইসলাম, সাবেক সম্পাদক এমকে ভূইয়া সোহেল,প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মাসুদ রানা, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল মিয়া, মিলন ইসলাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাসাইল প্রেসক্লাবের সামনে সৌন্দর্য বর্ধণ কার্যক্রমের অংশ হিসাবে ২টি কামিনী, ২০ টি গোলাপ, ৬০টি কসমস, ৬০টি সিলভিয়া, ১২০টি গাদা ফুলের চারা রোপন করে।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এখনও তৎপর। তারা বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে দেখতে চায়না। বাংলাদেশকে তারা পাকিস্থানের অঙ্গরাজ্য করতে চায়। বিএনপি একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচুত্য করতে চায়।
তিনি আরো বলেন, তাদের সে চেষ্টা কখনও সফল হবে না। কারন, দেশের মানুষ এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। দেশের উন্নয়নের উগ্রযাত্রা আরো বহুদুর এগিয়ে যাবে। কেউ এটাকে প্রতিরোধ করতে পারবে না। দেশকে আমরা আর অস্থীতিশীল করতে দেবো না।
শনিবার(৪ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য মন্ত্রী এই সব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙ্গালী জাতীর সবচেয়ে বড় অর্জন। এই অর্জনে মুল ভুমিকা রেখেছে ছাত্রলীগ। সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই নতুন নেতৃত্বই আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুসহ টাঙ্গাইল জেলার সংসদ সদস্যবৃন্দ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার মামুনুর রশীদ মামুন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্রাচার্য্য বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীসহ আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চলতি ভরা মৌসুমে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম বিপাকে পরেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সোমবার (৮ নভেম্বর) মির্জাপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার, ডিলারের দোকান এবং কৃষি অফিস ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় কৃষি বিভাগ, সারের ডিলার এবং হাট বাজারে চড়া দামেও সার পাচ্ছে না। সার সংকট থাকায় এ বছর মির্জাপুর উপজেলায় সরিষারসহ আলু ও শীতকালীন ফসলের আবাদ না হওয়ার আশংকা করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন,পরিবহন ধর্মঘটসহ গোডাউনে সার বিতরণে বিভিন্ন অংসগতির কারনে ডিলারগণ সার উত্তোলন করতে পারছেন না। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের ডিএপি এবং এমওপি সারসহ বীজ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে মির্জাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ৯ হাজার ৫০০শত হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। যা টাঙ্গাইল জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে সর্বাধিক।নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ হতে তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সরিষার আবাদ হয়ে থাকে। এ সময় ডিএপি এবং এমওপি সারের চাহিদা থাকে বেশী।
আগামী ১৫-২০ দিনের জন্য উপজেলায় সারের প্রয়োজন হবে ১১শ মেট্রিক টন থেকে ১৪শ মেট্রিক টন। এ বছর মৌসুমের শুরু থেকেই হঠাৎ করে সারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইল, জামালপুর ও নারায়নগঞ্জ গোডাউন থেকে ওই সারের সরবরাহ করার কথা থাকলেও গত ১০-১২ দিন ধরে সরবরাহ কমে গেছে। তবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চার হাজার ২১০ জন কৃষককে ২০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি এবং আলু বীজ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, এখন সরিষা বপনের ভরা মৌসুম। এই মৌসুমে ডিলার ও হাট বাজারে সারের দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে না। চড়া দাম দিয়ে সারের কোন সন্ধান না পাওয়ায় তারা চরম বিপাকে পরেছেন। সারের অভাবে সরিষা, আলুসহ শীতকালীন ফসলের আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টির নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা সার ডিলার মালিক সমিতির সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন এবং ডিলার মো. আব্দুল করিম বলেন, গত বছর এই মৌসুমে সারের বরাদ্দ ছিল ৫০ টন। চলতি মৌসুমে বরাদ্দ মাত্র ১৮ টন। বরাদ্দ কম এবং কৃষি বিভাগের গাফিলতির কারনে নির্ধারিত সময়ে সার পাওয়া যাচ্ছে না। গোডাউন থেকে সার উত্তোলন সমস্যা এবং পরিবহন সংকটসহ সুষ্ঠ তদারকির অভাবে সার সরবরাহ করতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।এলাকার কৃষকদের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানায়, পরিবহন সংকটসহ বিভিন্ন কারনে সরিষা মৌসুমের সময় সারের সাময়িক সংকট চলছে। তবে বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মধ্যে সরকারী প্রণোদনার বিনামূল্যে ৪ হাজার ২১০ জন কৃষককে ২০ কেজি হারে ডিওপি এবং১০ কেজি হারে এমওপি সারসহ বীজ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা যাতে হয়রানীর শিকার না হন এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভিত্তি ও শক্তি হল এদেশের জনগণ। জনগণের কল্যাণে ও জীবনমান উন্নয়নে আওয়ামী লীগ আন্দোলন, সংগ্রাম ও কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে দীর্ঘ ২১ বছরের শত জুলুম-নির্যাতনের মধ্যেও আওয়ামী লীগের পালানোর ইতিহাস নেই। আওয়ামী লীগ দেশ স্বাধীন করেছে; এই দল, দলের নেতাকর্মী ও দল প্রধান কোনদিন দেশ এবং জনগণকে ছেড়ে পালাবে না।
মির্জা ফখরুলকে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সবসময়ই পলায়নপর দল। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে ও দু:সময়ে তারা কখনই এগিয়ে আসে নি, বরং পালিয়ে পালিয়ে থেকেছে। দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বন্দুকের নলের মুখে- ক্যাণ্টনমেণ্টে। জনগণের সাথে আপনাদের কোন সম্পর্ক নেই। জনগণের কল্যাণে আপনারা কখনও কোন কাজ করেন নি। ধনী-বণিক ও সুযোগসন্ধানীদের জন্য কাজ করেছেন।
তাই আপনারা সবসময়ই জনবিচ্ছিন্ন ছিলেন- এখনও জনবিচ্ছিন্ন আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। মন্ত্রী বলেন, আপনাদের মুখে পালানোর কথা মানায়না, পালাবেন তো আপনারা। আপনাদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বিদেশে পালিয়ে থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে দল চালাচ্ছে। আপনারা আর কোনদিন এদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবেন না।
বুধবার(১৩ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় গরীব, অসহায় ও দু:স্থ ব্যক্তির মাঝে ঢেউটিন ও অর্থ সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ হীরা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল হক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামছুল হুদা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার জেব-উন-নাহার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর ফারুক আহমাদ প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের পাহাড়িয়া অঞ্চল মধুপুর ও ঘাটাইলের বাগান মালিকরা স্বপ্নের আগরগাছের বাগান করে এখন দুঃস্বপ্ন দেখছে। চারা লাগানোর ১০ বছরে বড় হয়ে পরিপক্ক হয়ে সুগন্ধি কষ বেড়োনোর কথা। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পাড় হওয়ায় পরও তার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা।
গাছগুলো পরিপক্ক হতেই আরও ৫-৬ বছর সময় লাগবে বলে বন বিভাগ সাফ বলে দিয়েছে। ফলে স্বপ্নের আগর বাগান তাদের কাছে এক দুঃস্বপ্নের গাছে পরিণত হয়েছে।
জানাগেছে, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বনবিভাগ আগর বনায়নের প্রকল্প হাতে নেয়। আগর মূলত একটি গাছের নাম। আগর শব্দের আভিধানিক অর্থ উৎকৃষ্ট বা সুগন্ধবিশিষ্ট কাঠ। ওই সময় মধুপুর ও ঘাটাইলের পাহাড়ি অঞ্চলের লালমাটির বেশ কিছু এলাকায় আগরের বাগান করা হয়।
এক প্রকার জোর করেই তাদের দিয়ে আগরের বনায়ন করানো হয়েছিল। মূল্যবান আগরগাছের বাগান করলে তাড়াতাড়ি ধনী হওয়া যাবে। ১১ বছরের মধ্যে গাছগুলোতে নম্বর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৩-১৪ বছরেও গাছে নম্বর ফেলানো হচ্ছে না। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বনবিভাগকে বার বার অনুরোধ করা হয়েছে।
ওই সময় বন বিভাগ থেকে বলা হয়েছিল, আগর চাষ দারুণ লাভজনক। এর কাঠ বিশেষ কায়দায় খ-বিখ- করে প্রসেসিংয়ের পর এর নির্যাস বাস্পীভবন ও শীতলীকরণের মাধ্যমে দামি সুগন্ধি আতর, ওষুধ, সাবান, শ্যাম্পু, পারফিউম এবং অবশিষ্ট অংশ আগরবাতি বানানোর কাজে ব্যবহৃত হবে।
এভাবে আগর চাষে বাগান মালিকদের ভাগ্য বদল হবে। সে সময় ভাগ্য বদলের স্বপ্নে অনেকেই আগর চাষ করেছিল। বর্তমানে গাছের বয়স ১৩-১৪ বছর হলেও আগরগাছগুলো এখনও পরিপক্ক বা কষ বেড় হওয়ার উপযুক্ত হয়নি। বনবিভাগ বাগানের আগরগাছ থেকে কষ বের করার জন্য পেরেক মারার কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।
আগর গাছের কোন নাম্বারিংও করেনি। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলায় আগরগাছ প্রসেসিংয়ের কোনো কারখানা নেই। মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় কারখানা থাকলেও ফরেস্ট ট্রানজিট রুলসের কারণে সেখানে গাছ সরবরাহ করা কষ্টসাধ্য।
সরেজমিনে জানা যায়, মধুপুর ও ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় সারি সারি আগরগাছ দাঁড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা করছে। তবে গাছগুলো এখনও পরিপক্ক বা প্রসেসিং করার উপযোগী হয়নি।
রোপণের সময় বন বিভাগ জানিয়েছিল, আগর চারা লাগানোর ১০ বছরের মধ্যে তা প্রসেসিংয়ের পর কষ থেকে সুগন্ধি তৈরি করা হবে- যার দাম লাখ লাখ টাকা, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
ঘাটাইলের সাঘরদিঘী রেঞ্জের কামালপুর গ্রামের বাগান মালিক কামরুল হাসান জানান, তিনি দেড় একর পৈত্রিক সম্পত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় খাস হওয়ার ভয়ে এক রকম বাধ্য হয়েই আগরগাছের বাগান করেন। যদিও বাগান করতে তখন তাকে লাখ লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখানো হয়।
কিন্তু লাভ তো দূরের কথা দীর্ঘ ১৩-১৪ বছরেও আগরগাছ পরিপক্কই হয়নি। দেড় একর জায়গায় আগরগাছ লাগিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এটা থেকে কোনো আয় হবে কি না সন্দেহ রয়েছে। শুধু তিনি নন এলাকার অনেকেই আগরগাছ লাগিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি জানান, আগরগাছ সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা ছিল না। বনবিভাগ জানিয়েছিল, এই গাছ থেকে এক ধরণের সুগন্ধি বের হবে- যা অনেক মূল্যবান।
কামরুল হাসান জানান, এক প্রকার জোর করেই তাদের দিয়ে আগরের বনায়ন করানো হয়েছিল। মূল্যবান আগরগাছের বাগান করলে তাড়াতাড়ি ধনী হওয়া যাবে। ১১ বছরের মধ্যে গাছগুলোতে নম্বর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৩-১৪ বছরেও গাছে নম্বর ফেলানো হচ্ছে না। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বনবিভাগকে বার বার অনুরোধ করা হয়েছে।
সাঘরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ওয়াজেদ আলী ও ভুক্তভোগী অপর বাগান মালিক আব্দুল খালেক জানান, আগর গছের জন্য যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল তা তিন বছর আগেই পাড় হয়েছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে আগরগাছের বাগান করা হয়েছিল।
বনবিভাগ বলেছিল এগুলো থেকে বহু টাকা আয় হবে। তখন বনবিভাগের সঙ্গে বাগান মালিকদের দলিলের মাধ্যমে চুক্তিনামা হয়েছিল। সেখানে গাছের ১০ বছরের মেয়াদ ছিল। কিন্তু এখন ১৩-১৪ বছর পাড় হলেও গাছের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। প্রথম দিকে বনবিভাগ খোঁজ-খবর নিলেও গত কয়েক বছরে তারা কোনো খোঁজই নেয়নি।
তারা জানান, ওই ভূমিতে অন্যান্য গাছ, বিভিন্ন সবজি বা ফল জাতীয় গাছ লাগালে ১৩ বছরে অনেক লাভবান হতে পারতেন। আগরগাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কষ বের হতে তারা দেখেন নাই। এ বিষয়ে বনবিভাগ কোন উদ্যোগও নেয়নি।
মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক জানান, বনবিভাগের প্রভাবে দীর্ঘ একযুগ আগে তিনি দেড় বিঘায় আগরগাছ লাগিয়েছেন। আগর গাছে না কি সোনা ফলে- সোনার দামে তো দূরের কথা, সস্তা জ্বালানি কাঠ হিসেবেও ওই গাছ বিক্রি করা যাচ্ছে না।
টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক জানান, মধুপুর ও ঘাটাইলের পাহাড়িয়া অঞ্চলে সরকারি আগর প্রকল্পের গাছ এখনও পরিপক্ক হয়নি। তাদের আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। এখনও আগর প্রডাশনের অবস্থায় আসেনি।আগর সত্যিই অতি মূল্যবান গাছ। যখন আগর প্রডাকশন হবে তখন তাদের ভুল ভেঙে যাবে। তারা লাভবান হবেন।তিনি আরও জানান, আগর গাছগুলো তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। গাছগুলো এখনও যথেষ্ট চিকন এবং অপরিপক্ক। পরিপক্ক হতে আরও সময় দিতে হবে।
আগামি ৫-৬ বছরের আগে গাছ পরিপক্ক হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জেলায় প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা করা হলে তা থেকে খুব একটা লাভবান হওয়া যাবে না। গাছগুলো থেকে পুরোপুরি লাভবান হতে হলে মৌলভীবাজারে পাঠাতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, তৃণমূলের কর্মীরা দলের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে। সামাজিক সম্মানটুকু ছাড়া আর কোন সুযোগ সুবিধা তারা পান না। কাজেই, তৃণমূলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন হবে, প্রার্থী মনোনয়ন করা হবে। আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খলিত একটি রাজনৈতিক দল। নতুন প্রজন্মের মেধাবী তরুণদের আওয়ামীলীগের পতাকাতলে নিয়ে আসতে হবে। এই মেধাবীরা আগামী দিনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামী নির্বাচনের আগে জেলার সম্মেলন শেষ করতে হবে। ।
রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা সদরে অবস্থিত টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ওই সব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন থেকে শুরু করে টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সম্মেলন শেষ করা হবে। দলকে সুশৃংখল এবং ঐক্যবদ্ধ করে নতুন ও শিক্ষিত তরুণ সমাজকে নেতৃত্বে আনা হবে। শিক্ষিত মানুষ দ্বারা দলকে পরিচালনা করতে হবে। তারা র্নিমোহ জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করবে। শুধু ধর্ম নিরপেক্ষতা বললেই মানবতাবাদী হবে না। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে জাতিকে মানবিক চেতনায় উদ্ধুদ্ব করতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, আগামীতে বিএনপি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও করতে চাইবে। তাদেরকে রাজনৈতিকভাবেই প্রতিহত করার জন্য নেতাকর্মীদের মোকাবেলা করার প্রস্তুত থাকতে হবে। অতীতেও আমরা টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, আগামীতেও বিএনপি জামাতের আন্দোলন প্রতিহত করতে হবে। বিএনপির মতো আওয়ামী লীগ কোনদিন চোরাগলি পথে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগ সবসময় সহজ-সরল পথে হেঁটে, গণতান্ত্রিকভাবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সরকার গঠন করেছে, দেশ পরিচালনা করেছে এবং এখনও করছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এখনো তৎপর। তারা এখনো নানান ষড়যন্ত্র করছে। তারা এখনো এই বাংলাদেশকে পাকিস্তানের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করছে। তাদের প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যারা আজও পর্দার অন্তরাল থেকে নীল কুটির, লাল কুটির ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায়। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।
বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, ছানোয়ার হোসেন এমপি, হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি, আতাউর রহমান খান এমপিসহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির নেতৃবৃন্দ।
একতার কন্ঠঃ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি নির্বাচনে আসে না- বরং নির্বাচনকে ভয় পায়। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে চোরাগলি পথে ক্ষমতায় আসতে নানা পায়তারা করছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসতে হলে তাদেরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জনগণের ভোটে জয়ী হয়েই আসতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের যে কোন নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। সেটি সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। বাংলাদেশে কোন নিরপেক্ষ সরকার হবে না। কোন তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না। বাংলাদেশে হবে সাংবিধানিক সরকার। সংবিধানের আলোকে আগামী দিনের নির্বাচন হবে।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবে নির্বাচন কমিশন। যে নির্বাচন কমিশনের উপরে কোন সরকার, কোন প্রধানমন্ত্রী, কোন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামরিক বাহিনী স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। এর ফলে সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের এখনও আড়াই বছর সময় রয়েছে। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারো বিএনপি আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে।
বিএনপির প্রতি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের ভয় আপনারা দেখাবেন না। কারণ আন্দোলন দেখে আমরা ভয় পাই না।
আপনাদের আন্দোলন ২০১৩ সালে মোকাবিলা করেছি, ২০১৬ সালেও করেছি। হেফাজতকে মোকাবিলা করেছি। ইনশাল্লাহ আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এখন অনেক সক্ষমতা। তারা অনেক সুশৃঙ্খল, তারা অনেক বড় বড় দায়িত্ব পালন করেছে। জঙ্গীদের মোকাবিলা করে সারা পৃথিবীতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রশংসা অর্জন করেছে।
শনিবার(১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মধুপুর পৌরসভা মিলনায়তন, দুপুরে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজ ও টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে তিনিটি পৃথক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপির দুঃশাসন, অপশাসন, সন্ত্রাস ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করার কারণে তাদের পায়ের নিচে থেকে মাটি সরে গেছে। তাদের সাথে জনগণ নেই। তারা আন্দোলনের ডাক দিলে জনগণ সাড়া দেয় না।
বিএনপি ২০১৫ সালে ৯০ দিনের হরতাল-অবরোধের নামে ৫০০ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এর চেয়ে বর্বরতা ও সহিংসতা কি হতে পারে? শ’ শ’ গাড়ি পুড়িয়েছে। ৯০ দিন দেশকে অচল করে রেখেছিল। সে সকল সন্ত্রাস মোকাবেলা করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের জন্য সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশ প্রশংসিত হচ্ছে। সারা পৃথিবী আমাদেরকে স্যালুট করে।
আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ড. রাজ্জাক বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ সহায়তা করা এবং সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেওয়া। রাজনৈতিকভাবে যদি কোনো আন্দোলন আসে, তাহলে আমরা সেই আন্দোলকে মোকাবিলা করব।
সংসদ ভবন এলাকায় জিয়াউর রহমানের কবরের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জিয়ার কবর নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। আমরা শুনেছি, অনেক বিএনপি নেতা বলেছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদও বলেছে- যে লাশটি এসেছিল সে লাশটি নাকি একজন সেনা কর্মকর্তার। তবে সেটি জিয়ার কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে অভুতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশে আজ খাদ্যের কষ্ট ও হাহাকার নেই। করোনা মহামারীর মধ্যেও উন্নত দেশের মানুষ হিমশিম খাচ্ছে।
জীবন ও জীবিকাকে সমন্বয় করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে একটি সুন্দর অবস্থানে রেখেছে- যে কারণে দেশে বিপর্যয় নেমে আসেনি।
পরে তিনি টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সবুর খান বীর বিক্রমের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
জেলা শ্রমিক ফেডারেশনর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বালা মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের) এমপি, জেলা আ’লীগের
সহ-সভাপতি মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, বিশিষ্ট কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বুলবুল খান মাহবুব, ৭১’- এ কাদেরিয়া বাহিনীর বেসামরিক প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মো. এনায়েত করিম প্রমুখ। সভায় শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে শনিবার সকালে মন্ত্রী মধুপুর পৌরসভা মিলনায়তনে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, দীর্ঘ দেড় বছরে ধরে চলা মহামারী করোনার প্রকোপে আওয়ামী লীগের অনেক জেলা, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন শেষ করা যায়নি।
বর্তমানে অনেক কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এখন করোনার সংক্রমণ অনেকটা কমে এসেছে- স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ শুরু করার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করে দলকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। একইসাথে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনকেও আরও সুসংগঠিত করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, দলের নতুন কমিটিতে তৃণমূলের পরীক্ষিত-নিবেদিত ও দু:সময়ে যারা পাশে ছিল- সেসব ত্যাগী কর্মীদেরকে দলে জায়গা করে দিতে হবে। অসৎ, সুযোগ সন্ধানী ও সুদিনের মৌমাছির মতো যারা দলে ভিড়েছে- তাদেরকে কোনভাবেই নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে না।
এছাড়াও কমিটিতে স্থান দিতে পারিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক আদর্শ বিবেচনায় আনতে হবে। বৃহস্পতিবার(১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মধুপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত বিশেষ বর্ধিত সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ড. রাজ্জাক বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা যাতে বিজয়ী হতে পারে- সেলক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সবাইকে দলের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। যারা আওয়ামী লীগ করেও নৌকার প্রার্থীদের হারানোর চেষ্টায় বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক দেশের রাজনীতিতে সবসময়ই অত্যন্ত শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ দল। আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জাতীয় স্বার্থে যে কোন ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। আওয়ামী লীগ জাতীয় স্বার্থে কখনও কোনদিন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে না।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ডক্টর আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের নামে গাড়িতে, বাড়িতে, রাস্তায় নিরপরাধ মানুষকে পুড়িয়ে মারার আগুন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যমূলক কর্মকান্ড থেকে আপনারা বিরত থাকুন।
আগামী ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। দেশের জনগণ আপনাদেরকে ভোটে বিজয়ী করলে আমরা আপনাদেরকে স্বাগত জানাব।
কিন্তু আন্দোলন-সংগ্রামের নামে সন্ত্রাস-নৈরাজ্যমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানোর দিবাস্বপ্ন ভুলে যান, বিএনপির সে শক্তি নেই।
মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু, পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান প্রমুখ। বিশেষ বর্ধিত সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ যমুনা, ধলেশ্বরী, ঝিনাই নদীর পানি কমায় টাঙ্গাইলের কয়েকটি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে নিন্মাঞ্চল হওয়ায় বাসাইল উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। এ উপজেলার অধিকাংশ এলাকা এখনও বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। এদিকে,পানি কমতে থাকায় এ উপজেলায় নদী ভাঙ্গন আবারো তীব্র আকার ধারন করেছে। বন্যা কবলিত এলাকার গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বানভাসি মানুষগুলো গবাদিপশু নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে।
পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে বীজতলা, রোপা আমন ধান ও সবজি খেত। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট। ভেঙ্গে গেছে রাস্তা-ঘাট। বানভাসিদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পারাপারের জন্য নৌকা কিংবা কলাগাছের ভেলাই একমাত্র ভরসা। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে বেশ কিছু এলাকায়।
উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকার মধ্যে বেশি দুর্ভোগের শিকার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের আদাজান, কোদালিয়াপাড়া, যৌতুকি,জিকাতলী পাড়া, মটেশ্বর, তারাবাড়ি, সৈদামপুর পুর্বপৌলী, সিঙ্গারডাক, কালাচান পাড়াসহ ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রাম। হাবলা ইউনিয়নের টেংগুরিয়াপাড়া, ছয়শত, জীবনেশ্বর, থুপিয়া, গুল্লা, বয়রা। ফুলকী ইউনিয়নের ফুলকী দক্ষিণপাড়া, বালিয়া, খাটরা, নিড়াইল, করোটিয়াপাড়া, ময়থা। কাশিল ইউনিয়নের ফুলবাড়ি, বাঘিল, স্থলবল্লা। কাউলজানী ইউনিয়নের বাদিয়াজান, সুন্না, বার্থা, গিলাবাড়ি, ডুমনীবাড়ি, কাঙ্গগাগলীছেও, এবং বাসাইল সদর ইউনিয়নের মিরিকপুর, রাশড়া, ইশ্বরগঞ্জ, হান্দুলী। এসব এলাকার মানুষের নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোন উপায় নেই।
বন্যা দুর্গত এলাকার কমলা রানী বলেন, গরু-বাছুর, হাস-মুরগী নিয়ে আমরা অনেক কষ্টে আছি। সবচেয়ে বেশি চিন্তা শিশু বাচ্চাদের নিয়ে। সব সময়ই আতংকে দিন কাটছে।
অসহায় ভূক্তভোগীরা জানান, করোনার ধকল না কাটতেই বন্যার জলে বন্ধি আমরা। কামাই-রোজি একবারে বন্ধ। অনেকেরই ঘরে চুলা জ্বলছে না। করোনার লকডাউন, আবার বন্যার পানি । জীবন আর চলে না।
কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন অর রশিদ জানান আমার ইউনিয়নে প্রায় প্রতিটি গ্রামের মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। পাকা কাঁচা রাস্তাগুলো তলিয়ে গেছে। কালর্ভাট ভেঙ্গে গেছে। রাস্তা ভেঙ্গে অনেকে জায়গায় বড়বড় খাদের সৃষ্টি হয়েছে। নৌকা ছাড়া চলাই যায় না।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ হতে আমরা বন্যা দুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রান পৌছে দিচ্ছি। ৩৩৩ নম্বরে কল দিলেও আমাদের পক্ষ হতে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়।ত্রাণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা উপজেলা প্রশাসনের রয়েছে।
বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, ভৌগলিক ভাবে বাসাইল একটি নীচু এলাকা। তাই প্রতি বছরই বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ করেই বাঁচতে হয়। এবারও উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। রাস্তা ঘাট ভেঙ্গে গ্রামীণ অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পানি-বন্ধি সহায়তার জন্য ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। এলাকায় আরও পর্যাপ্ত ত্রাণসহযোগিতার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কোথাও উন্নতি আবার কোথাও স্থিতিশীল রয়েছে। এতে চরম দূর্ভোগে রয়েছেন পানিবন্দি মানুষ। বন্যা কবলিত অধিকাংশ এলাকায়ই দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব। চলতি বন্যায় জেলার ৮০ কিলোমিটার নদী বিধৌত এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি কমলেও বংশাইসহ অন্যান্য শাখা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যমুনা নদীর পানি ২৪ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার, ঝিনাই নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার এবং ধলেশ্বরী নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৭২ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে বংশাই নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বংশাই নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, জেলার ভূঞাপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন, কালিহাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৭টি ইউনিয়ন, নাগরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন, বাসাইল পৌরসভাসহ ৬ টি ইউনিয়ন, মির্জাপুর উপজেলার ৪টি ইউানয়ন ও দেলদুয়ার উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন। চলতি বন্যায় জেলার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে নদী, খাল, বিল ও বাড়ির আঙিনা পানিতে থই থই করছে। এতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকায় এখনও লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এতে চরম দূর্ভোগে রয়েছেন পানিবন্দি মানুষ। অধিকাংশ এলাকায়ই দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব।

বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের উত্তর-পূর্বাংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাছ বেথইর এলাকায় বাঁধের ১০০মিটারে ভাঙনের কবলে পড়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়াও ভূঞাপুর, কালিহাতী, বাসাইল, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল সদর আর নাগরপুর অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে টাঙ্গাইল-পটলবাজার, টাঙ্গাইল-কাকুয়া, এলেঙ্গা-মগড়া, ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী বাজার থেকে ভালকুটিয়া পর্যন্ত পাকা সড়ক, বাসাইল পৌরসভার একটি ব্রিজ ও কাঞ্চনপুরের গ্রোথ সেন্টার-কাজিরাপাড়া সড়কে কালভার্ট প্রবল স্রোতে ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এসব এলাকার কাঁচা-পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানায়, জেলার ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর উপজেলার বন্যা দুর্গতদের জন্য ৪০ মে.টন খাদ্যশষ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের জন্য প্রতিটি উপজেলায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে যথাস্থানে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠানো হবে। এ ছাড়াও কালিহাতী উপজেলায় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ১১৮ টি পরিবারের মাঝে নগদ ৫ হাজার টাকা ও ঢেউটিন দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৯০টি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার জানান, চলতি বন্যার পানি এক সপ্তাহের মধ্যে নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৯০ হেক্টর জমির আবাদকৃত রোপা আমনের ৫০-৬০ ভাগ ধান রক্ষা পেতে পারে। তিনি জানান, পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে নাভি জাতের আমন রোপনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনার পাশাপাশি আগাম রবিশষ্য চাষে সহায়তা দিয়ে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন তারা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, জেলার ৮০ কিলোমিটার নদী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পানি কমে গেলে স্থায়ীভাবে নদী তীর সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে ৭টি উপজেলায় বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের কাঁচা-পাকা রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকে পাহাড়িয়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়ি ও উঁচু সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ এলাকায় পানীয় জল ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার্তদের জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় মাত্র ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দিয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, জেলার ভূঞাপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন, কালিহাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৭টি, নাগরপুর উপজেলার ৯টি, বাসাইল পৌরসভা সহ সবকটি(৬টি) ইউনিয়ন, মির্জাপুর ৪টি ও দেলদুয়ার উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে খাল, বিল, নদী ও বাড়ির আঙিনা পানিতে থই থই করছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের উত্তর-পূর্বাংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাছ বেথইর এলাকায় বাঁধের ১০০মিটারে ভাঙনের কবলে পড়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। ওই এলাকা দিয়ে পানি প্রবেশ করলে টাঙ্গাইল শহরে পানি ঢুকে পড়বে। এছাড়া যমুনায় ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
বন্যার পানিতে টাঙ্গাইল-পটলবাজার, টাঙ্গাইল-কাকুয়া, এলেঙ্গা-মগড়া, ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী বাজার থেকে ভালকুটিয়া পর্যন্ত পাকা সড়ক, বাসাইল পৌরসভার একটি ব্রিজ ও কাঞ্চনপুরের গ্রোথ সেণ্টার-কাজিরাপাড়া সড়কে কালভার্ট প্রবল স্রোতে ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এসব এলাকার কাঁচা-পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওইসব এলাকায় এখনও লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় এবার ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ করা হয়। এরমধ্যে ৭৯০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
এদিকে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও ধলেশ্বরী, ঝিনাই সহ অভ্যন্তরীণ সব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৭ সেণ্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৮ সেণ্টিমিটার ও ঝিনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৯২ সেণ্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা জানান, জেলার ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর এ চারটি উপজেলার বন্যা দুর্গতদের জন্য ৪০ মে.টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের জন্য প্রতিটি উপজেলায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে যথাস্থানে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার জানান, চলতি বন্যার পানি এক সপ্তাহের মধ্যে নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৯০ হেক্টর জমির রোপাআমনের ৫০-৬০ ভাগ ধান রক্ষা পেতে পারে। তিনি জানান, পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে নাভি জাতের আমন রোপনের জন্য তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনার পাশাপাশি আগাম রবিশস্য চাষে সহায়তা দিয়ে তারা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বন্যায় পানি বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেলার ৮০ কিলোমিটার নদী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পানি কমে গেলে স্থায়ীভাবে নদী তীর সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নে রাতের আঁধারে একটি সরকারি রাস্তা কেটে ফেলায় ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেই সাথে প্রবল পানির স্রোতে ভাঙ্গনের শংকায় পড়েছে অন্তত ২০ টি পরিবার।
জানা যায়, উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নের ভাদ্রা-টেপরি রাস্তার (পাতিলা পাড়া-বাদ বেহালী) সীমানায় পাতিলা পাড়া মসজিদ সংলগ্ন স্থানে কে বা কারা রাতের আঁধারে রাস্তাটি কেটে দেওয়ায় শেওলাইদ, বাদবেহালী, পাতিলা পাড়াসহ কয়েকেটি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙ্গনের হুমকিতে পড়েছে।
গ্রামবাসী জানায়, রবিবার (২২ আগস্ট) ভোরের দিকে একদল দুষ্কৃতিকারী সরকারি রাস্তাটি কেটে দিয়েছে। তারা ভোর রাতের দিকে অবৈধভাবে সরকারি রাস্তা কেটে দিয়ে পানির প্রবাহের গতিপথ পরিবর্তনের অপচেষ্টা চালিয়েছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ স্থানীয় এক ইউপি সদস্যর দিকে।স্থানীয়রা আরও দাবি করে, ওই ইউপি সদস্য কয়েক মাস পূর্বে খাল আটকে একটি বাধ নির্মাণ করে, সেই বাধকে রক্ষা করতে এই রাস্তা রাতের আঁধারে কেটে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ভাদ্রা ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, গতরাতে তিনি বাড়িতেই ছিলেন না। এ ঘটনাটি শুনেছেন, তবে ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি তিনি।
ভাদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব জানায়, রাতের আঁধারে কে বা কারা সরকারী রাস্তাটি কেটে ফেলেছে তাদেরকে সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে । এখন যেহেতু বর্ষাকাল চলছে তাই পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত রাস্তটি মেরামত করা যাচ্ছে না। পানি নেমে গেলে খুব দ্রুতই রাস্তাটি মেরামত করা হবে বলে তিনি জানান।