একতার কণ্ঠঃ হিন্দু ধর্মের প্রশ্ন সম্বলিত ইসলাম ধর্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পেলেন এসএসসির মডেল টেস্ট পরীক্ষার্থীরা। সোমবার (১৩ মার্চ) ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের বাগবাড়ি চৌবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে এর প্রতিবাদ করায় পরীক্ষা স্থগিত ও পূনরায় ওই পরীক্ষা নেয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও এর কঠোর বিচার দাবি করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত বলে দাবি করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, ১৯৩৫ সালে স্থাপিত হয় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের বাগবাড়ি চৌবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত এ উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৪০০ জন। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০০জন। ৫০০ টাকা বেতনে বিদ্যালয়ের এসএসসি কোচিং শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫০ জন।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীরা জানায়, সোমবার (১৩ মার্চ) ছিল আমাদের ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষা। কেন্দ্রে প্রশ্ন পাওয়ার পর আমরা দেখি ইসলাম ধর্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে হিন্দু ধর্মের প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করায় পরীক্ষা নেয়া বন্ধ করেছেন কর্তৃপক্ষ। এরপর জানায় পরীক্ষাটি পরে নেয়া হবে। তবে প্রশ্নপত্র আমাদের হাতে দেয়ার আগে কর্তৃপক্ষ কেন সেটি আগে যাচাই করলেন না এমন প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
কাতুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রিপন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমি হিন্দু ধর্মের প্রশ্ন দিয়ে ইসলাম ধর্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়া হয়েছে বিষয়টি জানতে পারি। আমি এলাকায় ছিলাম না, পরবর্তীতে কি হয়েছে এর বাইরে আমি আর কিছুই জানি না। তবে ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
কাদের, ইউসুফসহ বেশ কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, সামনেই এসএসসি পরীক্ষা দেবে আমাদের শিক্ষার্থীরা। তাদের ফলাফল ভালো হওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিদ্যালয়ে কোচিং করানো হচ্ছে। প্রতিমাসে কোচিং ফি বাবদ টাকাও নিচ্ছেন বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের মান যাচাই করতে বিদ্যালয় থেকে মডেল টেস্ট পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১৩ মার্চ) ছিল ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষা। ওই পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দেখে ইসলাম ধর্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে হিন্দু ধর্মের প্রশ্ন। প্রশ্ন পরে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করার পর প্রশ্নপত্রটি দেখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ দায়িত্বরত শিক্ষকরা।
এ অভিযোগ পেয়ে আমরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে সাথে দেখা করলে তিনি জানান প্রশ্নগুলো ঢাকা থেকে কিনে এনে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এ কারণে সমস্যাটি হয়েছে।
তারা বলেন, মডেল টেস্টের প্রশ্ন কেন কর্তৃপক্ষ নিজেরা না করে কিনে এনে পরীক্ষা নিচ্ছেন। তাহলে কেন বিদ্যালয়ের বেতন, পরীক্ষার ফিসহ কোচিং এর জন্য টাকা দিচ্ছি আমরা ? আমাদের শিক্ষার্থীদের কি শিক্ষা দিচ্ছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
তারা আরও বলেন, ইসলাম ধর্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে হিন্দু ধর্মের প্রশ্ন এটি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা। চরম দায়িত্ব অবহেলায় লিপ্ত এই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এমন ভুলের বিষয়টি কি দেখেননি আমাদের জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ কর্তৃপক্ষরা এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ইসলাম ধর্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে হিন্দু ধর্মের প্রশ্ন থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাগবাড়ি চৌবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছানোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, ঢাকার প্রশ্নঘর থেকে ২৫ টাকা দরে প্রতিসেট প্রশ্নপত্র কেনা হয়েছে। অন্যান্য পরীক্ষার প্রশ্ন ঠিক থাকলেও ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার প্রশ্নপত্রে এমন ভুল হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ পুনরায় নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষাটি নেয়া হবে। বিষয়টি প্রশ্নঘর মালিক পক্ষকে জানানো হয়েছে।
বাগবাড়ি চৌবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি নায়েব আলী সরকার বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্খিত ভুল। পরবর্তিতে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানিক কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকেয়া খাতুন জানান, বিষয়টি আমি জানিনা। আগামীকাল সকালে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে এর বিরুদ্ধে পরবর্তি ব্যবস্থা নিব।
একতার কণ্ঠঃ বিয়ের আশ্বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুর হোসেন।
সোমবার (১৩ মার্চ) দুপুরে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ আব্দুল আহাদ শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে বাসাইলের সাবেক ওই ইউএনও উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। সোমবার উচ্চ আদালতের দেয়া জামিনের শেষ দিনে নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক সেই জামিন আদেশ বহাল রেখেছেন
ইউএনও মঞ্জুর হোসেন রাজবাড়ীর পাংশা থানার চরঝিকড়ী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি হিসেবে সংযুক্ত আছেন তিনি।
সম্প্রতি টাঙ্গালের বাসাইলের সাবেক ইউএনও মঞ্জুর হোসেনের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন জেলার মির্জাপুর উপজেলার এক কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী।
পরে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২৩ জানুয়ারি টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা সুলতানা তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস আকবর আলী খান জানান, ইউএনও মঞ্জুর হোসেন উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। সোমবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। পরে উভয়পক্ষের বিস্তারিত শুনানি শেষে বিচারক ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৬ মার্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ইউএনও। উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ থাকায় বিচারক সোমবার শুনানির ধার্য করেছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঞ্জুর হোসেন ২০২১ সালে বাসাইলে ইউএনও হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ফেসবুকের মাধ্যমে মির্জাপুরের এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মনজুর হোসেন বিভিন্ন সময় ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। তাকে নিয়ে ভারতে ভ্রমণে যান। টাঙ্গাইল শহরে বাসা ভাড়া করে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা একত্রে কয়েক মাস বসবাসও করেন। পরে ওই কলেজছাত্রী বিয়ের জন্য চাপ দিলে মনজুর হোসেন তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২১ জুন ওই কলেজছাত্রী আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।
একতার কণ্ঠঃ মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে টাঙ্গাইলে শিক্ষকদের মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সোমবার(১৩ মার্চ) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যেগে দুই ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মীর মো. আশরাফ হোসেন, সহ-সভাপতি গোলাম রাব্বানী, শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি শামীম আল মামুন জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মীর মনিরুজ্জামান, সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
মানববন্ধনে আন্দোলনকারীদের বহন করা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিলো এক দফা এক দাবি জাতীয়করণ কবে করবি, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য মানিনা মানবো না, বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন করতে হবে জাতীয়করণ, প্রতিষ্ঠানের আয় জমা নিন জাতীয়করণ উপহার দিন, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে জাতীয়করণ চাই, এক দেশে দুই শিক্ষানীতি চলবে না চলবে না, আমাদের দাবি মানতে হবে জাতীয়করণ করতে হবে।
এরপর মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন উপজেলার সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) বগুড়া এ্যাসোসিয়েশন অব এমবিএসটিইউ স্টুডেন্টস এর নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের সাদিক আহম্মেদ (২০১৬-২০১৭ সেশন) ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়ের দৌলা রিওন (সেশন ২০১৭-১৮) ।
শনিবার (১১ মার্চ) বিকালে বগুড়া এ্যাসোসিয়েশন অব এমবিএসটিইউ স্টুডেন্টস এর দায়িত্ব গ্রহন করেন নবনিযুক্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
এ ছাড়াও সহ-সভাপতির দায়িত্বে ইএস আরএম বিভাগের জাহিদ হাসান ও অর্থনীতি বিভাগের শাওন সরকার নির্বাচিত হন। যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পদে শাকিল আহম্মেদ (পদার্থবিজ্ঞান), আরশাফুল ইসলাম নয়ন (ব্যবসায় প্রশাসন) ও তোফায়েল আহমেদ (পরিসংখ্যান) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জুনায়েদ হাসান (সিএসই), সাদিয়া ফেরদৌসি (বিএমবি) , হাসিবুল হাসান (ফার্মেসী) ও ওয়াসিফ শাহরিয়ার সিরাত (আইসিটি) নির্বাচিত হন।
কমিটি গঠনে সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা মাভাবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো: সিরাজুল ইসলাম ও সংগঠটির সাবেক সভাপতি এস.এম ফারহান সাজ্জাদ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. তুহিন ইসলাম সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দের উপস্থিত ছিলেন।
এসময়ই নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ (২০২২-২৩) এর একাংশ ঘোষণা করা হয়।
সংগঠনের দায়িত্ব পাওয়া সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের দৌলা রিওন বলেন, করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবে আমাদের ক্যাম্পাস অনেক দিন বন্ধ ছিল যার জন্য আমাদের ক্যাম্পাসের প্রায় সকল এ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম কিছুটা বাধার সম্মুখীন হয়েছে। আমার আহবান থাকবে নতুন কমিটির নির্বাচিত সকলের প্রতি, সবাই মিলে সংগঠনটি অনেক দূরে এগিয়ে নেওয়ার। আমার বিশ্বাস বগুড়ার সকল উপদেষ্টা শিক্ষকমহল এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বগুড়া এ্যাসোসিয়েশন অফ এমবিএসটিইউ স্টুডেন্টস মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আইডল হয়ে থাকবে।
সভাপতি সাদিক আহম্মেদ বলেন, আমি প্রথমেই ধন্যবাদ জানাতে চাই বগুড়া এ্যাসোসিয়েশনের পূর্ব কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ সকল সদস্যদের যারা আমাকে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যপ্রণালী চালিয়ে যাবার যোগ্য মনে করেছেন এবং বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই এ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা, প্র. ড. মো: সিরাজুল ইসলাম স্যারকে। একইসাথে আমি অভিবাদন জানাই নতুন কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের যারা সংগনের সার্বিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনাতে আমাকে সহযোগিতা করবেন। এবং আমন্ত্রণ জানাই বগুড়ার নবীন শিক্ষার্থীদের যারা কিনা সংগঠনকে পরিপূর্ণ করবে এবং খুঁজে পাবে নিজ এলাকার সম্পৃক্ততা। বগুড়ার সকল শিক্ষার্থী ও উপদেষ্টা শিক্ষকমহলের অবদানে, বগুড়া এ্যাসোসিয়েশন অফ এমবিএসটিইউ স্টুডেন্টস মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে গুরুত্বপূর্ণ নজির রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।
একতার কণ্ঠঃ সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন সহ ১০ দফা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি-নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কমানোর দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি।
শনিবার(১১ মার্চ ) সকালে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের বেপারীপাড়া শান্তিকুঞ্জ মোড় এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, শহর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান আলীম, জেলা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি একেএম মনিরুল হক মনির, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি শাহ আলম, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নিলুফার ইয়াসমিন খান, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক দুর্জয় হোড় শুভ।
মানববন্ধনে বিএনপি সহ দলের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমেদ আযম খান বলেন, দুর্নীতি রাহুগ্রাস করে ফেলেছে তার প্রতিবাদে এই সরকারের পতনের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে আছি। আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম জনগনের মুক্তির জন্য, জনগনের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্যে, আমাদের সংগ্রাম জনগনের জন্যে।
আজকে চাল, ডাল, তেলসহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে জনগণ হতাশ হয়ে পরেছে। মানুষ ভোট দিতে চায়, নির্বাচন আসে নির্বাচন যায় মানুষ ভোট দিতে পারে না।
তিনি আরো বলেন,আমারা ২০১৪ তে দেখেছি নির্বাচন ছাড়া এ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আবার ২০১৮তে দেখেছি দিনের ভোট আগের রাতে লুট করে নিয়ে গেছে। আবার নতুন করে সরকার ষড়যন্ত্র করছে ২০২৩ এর শেষের দিকে অথবা ২০২৪ এর প্রথম দিকে যে নির্বাচন হবে কিভাবে সেই ভোটকে লুট করে জনগনের অধিকার বঞ্চিত করা যায়। সেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে সরকার।
একতার কণ্ঠঃ এসো হে নবীন, এগিয়ে চল অবিরাম, অন্তহীন ভোরের সুর্যের প্রথম আলো, স্বপ্নডানা মেলে জয়ের অগ্নি হৃদয়ে ঢালো এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার বানিজ্যিক এলাকা করটিয়া এইচ এম স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবীন বরণের মাধ্যমে কলেজে ভর্তি হওয়া নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের বরণ করে নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১১ মার্চ) দুপুরে স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতায় বরণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন, কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাংসদ ছানোয়ার হোসেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা আক্তার, করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম আনছারী প্রমুখ।
অনুষ্ঠান টি সঞ্চালনা করেন, কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম ও প্রভাষক মো. সোলায়মান দেওয়ান।
এসময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মণ্ডলী, ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক বিমল চন্দ্র সুত্র ধর সহ অনেক শিল্পী গান পরিবেশন করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
শনিবার (১১ মার্চ) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের কাগমারী-চারাবাড়ী সড়ক ৩ ঘন্টা অবরোধ করে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা- কাগমারী মোড় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকে পুলিশ বক্স স্থাপন, গতিরোধক ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবস্থা, প্রধান ফটক থেকে দ্বিতীয় গেটে পর্যন্ত ফুটপাত স্থাপন ও বিশ্ববিদ্যালয় দিঘী সংলগ্ন দোকান অপসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইমনকে ধাক্কা দেওয়া সিএনজি অটোরিকশা চালকের বিচারসহ ৫ দফা দাবি জানান তারা।
এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের দাবির সঙ্গে একমত। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। এছাড়া সিএনজি চালকসহ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার জন্য আইনের আশ্রয় নেব।
কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মো. মুছা মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা মানিক শীল ও হুমায়ূন কবির।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের কাছে গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. ইমন সিএনজি অটোরিকশার চাপায় আহত হন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে ইমনের মাথায় রক্তক্ষরণের অপারেশন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ব্যবসায়ী কহিনূর হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুইজনকে আটক করেছে র্যাব-১৪।
আটককৃতরা হলেন, উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রবিন হায়দার চৌধুরি সাদি (৪৩)। তিনি মামলার প্রধান আসামি সামী চৌধুরির বড় ভাই। অপরজন হলেন, বায়েজিদ হোসেন বাজে (৪৫)। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ)রাতে পৃথক জায়গা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব।
শুক্রবার (১০ মার্চ) দুপুরে তাদের ঘাটাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, টাঙ্গাইল র্যাব-১৪ মামলার অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃত ২ আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের শুক্রবার (১০ মার্চ) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যম জানায়,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে কহিনুর আলী হত্যা মামলার ২ ও ৩ নম্বর আসামীকে গ্রেফতার করে র্যাব । গ্রেফতারকৃতরা হলো, ঘাটাইল উপজেলার উত্তর ধলাপাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে বায়োজিত ওরফ বাজ (৪৫) ও একই এলাকার মৃত বজলুল হায়দার চৌধুরীর ছেলে ববিন হায়দার চৌধুরী। বায়োজিত ওরফে বাজকে ঘাটাইল উপজলার মমিনপুর এলাকা এবং ববিন হায়দার চৌধুরীকে টাঙ্গাইল শহরের পলিটেকনিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব আরা জানায়, শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের ঘাটাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) আদিবাসী ছাত্র সংগঠনের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রুবাইয়াৎ ফেরদৌস, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম ও ময়মনসিংহের কারিতাসে আঞ্চলিক পরিচালক অপূর্ব ম্রং।
স্বাগতিক বক্তা হিসেবে আদিবাসী ছাত্র সংগঠন সাবেক সাধারণ সম্পাদক বকুল চন্দ্র বর্মণ ও সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন আনসেং দালবত ও স্নেহা স্নাল।
প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান হিসেবে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় আদিবাসী ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ডেভিড নোয়েল বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আমাদের বাংলা ভাষার পাশাপাশি নিজেদের মাতৃভাষাতেও কথা বলতে হবে। যদি পারি তবে ইংরেজি ভাষাতেও কথা বলতে হবে। বর্তমানে আমাদের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সেগুলো গ্রহণ করতে হবে এবং সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে টাঙ্গাইলের চার নারী বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছ। বুধবার (৮ মার্চ) বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সম্বর্ধনা প্রদান করা হয়।
সংবর্ধিত চার বীর নারী মুক্তিযোদ্ধারা হচ্ছেন- ঘাটাইল উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরা খাতুন, সখীপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছা. ফাতেমা খাতুন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শেফালী ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল গ্রামের রবিজান বেওয়া।
এদেরকে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের পক্ষ থেকে নতুন শাড়ি ও উত্তরীয় পরিয়ে, ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে সন্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্বর্ধনা পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিজান বেওয়া তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এতো সম্মান পাবো সেই লোভে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেইনি। তারপরও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সময়ে আমরা অনেক সম্মান পাচ্ছি। এ জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যার শেখ হাসিনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাতেমা খাতুন বলেন, দেশকে ভালবেসে ও দেশ মাতৃকাকে রক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। বর্তমান সরকার আমাদের যে সম্মান করছে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অন্য কোন সরকার আমাদের এতো সম্মান করেনি। বর্তমান জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার প্রতিটি ভালো কাজে আমাদের সাথে রাখায় আমরা গর্বিত।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শেফালী বলেন, গত ১৪ বছরে অনেক সম্মান পেয়েছি। আমার বাড়ি ঘরের অবস্থা ভাল নয়। আমাকে সরকারিভাবে বীর নিবাস করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, টাঙ্গাইলের আট নারী বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে দুই জন নিহত ও দুই জন অসুস্থ থাকায় বাকি চার নারী মুক্তিযোদ্ধাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে সংবর্ধনা জানাতে পারায় জেলা প্রশাসন গর্বিত।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ দিবস পালন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৭ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শামীম আরা রিনি, টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আহসানুল বাসার, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ফজলুল হক বীর প্রতীক, সাবেক ডেপুটি জেলা কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ বীর বিক্রম ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ। পরে এক মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এর আগে সকালে জেলা প্রশাসনের জনসেবা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সকালে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের ভুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চুরির ঘটনায় ১২ ল্যাপটপ উদ্ধারসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর)। সোমবার(৬ মার্চ) বিকেলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের বিচারক ৩ জনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়াও চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। চুরির ঘটনায় গত ২৬ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এপ্রিল পল মৃ বাদি হয়ে মধুপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, মধুপুর উপজেলার ভুটিয়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে মো. রেজাউল করিম (২১),শোলাকুড়ি কুড়ালিয়া গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে শরীফ ওরফে শুভ (২০),ধনবাড়ী উপজেলার উখারিয়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মুক্তার হোসেন (২৪),মমিনপুর কাউচিবাজার গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মো. ইমরান (১৯) একই গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মো.খায়রুল ইসলাম (১৯) মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু সাইদ (২২), ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর নয়াপাড়া গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে ওমর সানি (২৫)।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তরের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, গত ২২ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের যে কোন সময় ভুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার তলায় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব থেকে ১৬ টি ল্যাপটপ চুরি হয়। ল্যাপটপ সহ যার আনুসাঙ্গিক মালামালের আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ টাকা। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করা হয়। চুরির ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারের নির্দেশনায় দ্রুত মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম এস আই মনির হোসেনের নেতৃত্বে নিরন্তর চেষ্টা চালায়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে চুরির ঘটনার সাথে জড়িত মো. রেজাউল করিমকে রবিবার ভোর রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রেজাউলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানা এলাকার ওমর সানি ও আবু সাইদকে গ্রেফতার করা হয়। আসামীদের দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে মুক্তার হোসেন, মো. ইমরান, মো. খায়রুল ইসলাম ও মো. শরীফ ওরফে শুভকে জেলার মধপুর ও ধনবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সোমবার সকালে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, রেজাউল করিমের হেফাজতে থাকা ৬টি ,ওমর সানির কাছ থেকে ২ টি ও আবু সাইদ, ইমরান, খায়রুল মুক্তারের নিকট থেকে ১টি করে চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিজ্ঞ আদালতের বিচারক রেজাউল, ওমর সানি ও আবু সাইদকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এছাড়াও বাকি চার জন চোরাইকৃত ল্যাপটপ ক্রেতা ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।