/ হোম / সদর
টাঙ্গাইলে আড়ংয়ের ২৮তম আউটলেটের উদ্বোধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে আড়ংয়ের ২৮তম আউটলেটের উদ্বোধন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে উদ্বোধন হয়ে গেলো দেশের বৃহত্তম লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ংয়ের ২৮তম আউটলেট। অত্যাধুনিক নির্মাণশৈলীর ১৪ হাজার ৯৮ বর্গফুটের তিনতলা বিশিষ্ট শহরের বড় কালীবাড়ি রোডের সিটি সেন্টারে এই আউটলেটে নারী-পুরুষ ও শিশুদের পোশাক, বাড়ির সাজসজ্জা, গহনাসহ আড়ংয়ের সাব-ব্র্যান্ড তাগা, তাগা ম্যান, এবং আড়ং আর্থ এর পণ্যগুলো পাওয়া যাবে।

শনিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে আউটলেটটির উদ্বোধন করেন আড়ংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল আলম। এছাড়াও এসময় ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আশরাফুল আলম বলেন, ক্রেতাদের ঈদ উদযাপনকে মাথায় রেখে ঈদ শপিংয়ের একদম উপযুক্ত এই সময়ে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং নানা কারুশিল্পে সমৃদ্ধ টাঙ্গাইলে আড়ংয়ের এই আউটলেটটি খুলতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা আশা করি, নতুন আউটলেটটি এই প্রাণবন্ত শহরের বাসিন্দাদের কেনাকাটার জন্য অন্যতম প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠবে এবং একইসঙ্গে টাঙ্গাইলবাসীর ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ভিত্তিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

এছাড়াও গ্রাহকরা সীমিত সময়ের জন্য ৫০০০ টাকা বা তার বেশি কেনাকাটা করে আড়ংয়ের কাস্টমার লয়্যালটি প্রোগ্রাম ‘মাই আড়ং রিওয়ার্ডস কার্ড’-এর সদস্য হতে পারবেন এবং বছরব্যাপী বিশেষ সুযোগ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। তাছাড়া ‘মাই আড়ং রিওয়ার্ডস কার্ড’-এর অন্তর্ভুক্ত সদস্যরা আড়ং টাঙ্গাইল আউটলেটে প্রতিটি কেনাকাটায় দ্বিগুণ পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন। এই অফারটি ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।

আড়ং বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এর একটি সামাজিক উদ্যোগ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. এপ্রিল ২০২৩ ০২:১৩:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে আ.লীগ নেতার ফাঁসির দাবীতে নারীদের প্রতিবাদ মিছিল - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে আ.লীগ নেতার ফাঁসির দাবীতে নারীদের প্রতিবাদ মিছিল

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে টাঙ্গাইলের সচেতন নারী সমাজ।

শুক্রবার (৭ এপ্রিল) সকালে প্রথমেই শহরের ভাসানী হলের সামনে থেকে সচেতন নারী সমাজের ব্যানারে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয়। পরে শহিদ মিনারের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করে তারা।

এ সময় মানব বন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনি ও তার ভাই ছোট মনির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তার সত্যতা নিশ্চিত করে ফাঁসির দাবি জানান। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, বুধবার (৪ এপ্রিল) রাত ১০ টার দিকে টাঙ্গাইল সদর থানায় শহর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে এক তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। তরুণী দাবি করেন, ধর্ষণের ফলে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং ডাক্তারী পরীক্ষাতেও এর প্রমাণ মিলেছে। তারপর থেকে শহরে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

গোলাম কিবরিয়া বড়মনি টাঙ্গাইল-২ গোপালপুর ভূঞাপুর আসনের সাংসদ তানভীর হাসান ছোট মনির বড় ভাই।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. এপ্রিল ২০২৩ ০২:৪৪:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইল কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল কারাগারে লাল মিয়া (৩৮) নামে এক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৭ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। টাঙ্গাইলের জেল সুপার মকলেছুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লাল মিয়া বাসাইল উপজেলার খাটোরা গ্রামের মৃত নাসিম উদ্দিনের ছেলে।

জেল সুপার জানান, লাল মিয়া অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৭ টায় তার মৃত্যু হয়। আইনী পক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ জুন বাসাইল উপজেলার কাউলজানী গ্রামের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার দায়ে তার ভায়রাকে আমৃত্যু কারাদন্ড এবং শ্যালিকাসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাসুদ পারভেজ। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদন্ডের কথা রায়ে বলা হয়েছে।

এরআগে ২০১০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাসাইলের কাউলজানী গ্রামের আবু বক্কর ভূঁইয়ার ছেলে মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া নিখোঁজ হন। তিনদিন পর পাশের মহেশখালী গ্রামের জমির আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা আবু বক্কর ভূঁইয়া বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে বাসাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে এ হত্যার সঙ্গে মনিরুজ্জামানের ভায়রা রেজাউল ইসলাম, শ্যালিকা আলো বেগমসহ আরো কয়েকজনের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ৮ জুন এই রায় দেন বিচারক।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের মো. শামছু মিয়ার ছেলে রেজাউল ইসলাম রেজাকে আমৃত্যু দন্ড এবং রেজাউলের স্ত্রী আলো বেগম, বাসাইল উপজেলার খাটোরা গ্রামের মৃত নাসিম উদ্দিনের ছেলে লাল মিয়া, যশিহাটি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রেজভী ও দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেনকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. এপ্রিল ২০২৩ ০২:০৫:এএম ৩ বছর আগে
কালিহাতীতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ৫টি ভেকু বিনষ্ট - Ekotar Kantho

কালিহাতীতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ৫টি ভেকু বিনষ্ট

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলনের দায়ে পৃথক পৃথক স্থানে টাঙ্গাইল জেলা ও কালিহাতী উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ৫টি ভেকু, ১টি ড্রেজার মেশিন ও ১ হাজার ফুট পাইপ লাইন বিনষ্টসহ দুইজনকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পৌলী নদীতে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক ও সিনথিয়া হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসময় ভ্রাম্যমান আদালত পৌলী নদীর পশ্চিম পাশে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ৩টি ভেকু বিনষ্ট করে। পরে দুইজনকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জরিমানা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বিশ্বাস বেতকার সিদ্দিকুর রহমান রানাকে ১ লাখ ও কালিহাতী উপজেলার পৌলী গ্রামের মোঃ শফিকুল ইসলামকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অপরদিকে একই সময়ে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার চরভাবলা হাকিমপুর এলাকায় একটি ভেকু ও বাঁশি এলাকায় একটি ভেকু এবং একটি ড্রেজার মেশিনসহ এক হাজার ফুট পাইপ লাইন বিনষ্ট করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাহিদ হোসেন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা বন্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. এপ্রিল ২০২৩ ০২:১৩:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে আ.লীগ নেতা বড় মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা, অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে আ.লীগ নেতা বড় মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা, অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন এক কিশোরী।

ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার (৫ এপ্রিল) রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়েছে।

গোলাম কিবরিয়া টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই এবং টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।

টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট লুৎফুন্নাহারকে প্রধান করে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে। এ বোর্ড ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করবে।

ওই কিশোরী নিজে বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেছেন, বড় মনি তাদের আত্মীয় এবং পূর্ব পরিচিত। হোয়াটসঅ্যাপে তাদের কথা হতো। ওই কিশোরীর ভাইয়ের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ হয়। ওই কথা বড় মনিকে জানানোর পর তিনি সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে গত ১৭ ডিসেম্বর শহরের আদালতপাড়ায় বড় মনির নিজের বাড়ির পাশে একটি ১০ তলা ভবনের চতুর্থ তলা ফ্ল্যাটে যেতে বলেন।

সেখানে যাওয়ার পর শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর কক্ষে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে কারো কাছে এ ঘটনা প্রকাশ করতে নিষেধ করেন। প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন।

তার পর প্রতিনিয়ত তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্রথমবার ধর্ষণের সময় তোলা ছবি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করতেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, এই ধর্ষণের ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এ কথা বড় মনিকে জানালে তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ ও হুমকি দিতে থাকেন। কিন্তু সন্তান নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ রাত ৮টার দিকে বড় মনি তার শ্বশুরবাড়ি আদালতপাড়ায় তুলে নিয়ে যান। সেখানে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

রাজি না হওয়ায় ওই বাসায় এক কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে তাকে সেখানে আবার ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর বড় মনির স্ত্রী তাকে মারপিট করেন। এতে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ৩টার দিকে বাসায় পৌঁছে দেন। তার পর থেকে তাকে নানা হুমকি দেওয়া হতো। শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকার জন্য মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন।

মামলা প্রসঙ্গে গোলাম কিবরিয়া বড় মনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. এপ্রিল ২০২৩ ০৯:০০:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ডাকাতির ঘটনায় ৪ জন গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ডাকাতির ঘটনায় ৪ জন গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার দলপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো. রতন (২১), মাইজবাড়ী গ্রামের জহু মিয়ার ছেলে আরিফ হোসেন (২৬), ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৫) ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার খেরুয়া আলম গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে সুজন মিয়া (২২)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান,ডাকাতি ঘটনার পর ওই বাসের যাত্রী আরিফুর রহমান বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি মামলা করেন।ঘটনার পর থেকে মধুপুর থানা এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) সমন্বয়ে একটি দল তদন্তে নামে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়। বুধবার সকাল সাতটার দিকে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মোনতলা গ্রাম থেকে প্রথমে রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে চোরাই মুঠোফোন ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পরে রতনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুজন মিয়া ও আরিফ হোসেনকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর উড়ালসড়ক এলাকা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ বেলা একটার দিকে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরো জানান,, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই চারজন ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ওই দিন তাঁরা আটজন ডাকাতিতে অংশ নেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। ওই বাস থেকে তাঁরা ১৩টি মুঠোফোন, একটি স্বর্ণের চেইনসহ প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল লুট করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে নিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত ১০টার দিকে ঢাকার মহাখালী থেকে ইমন পরিবহনের একটি বাস ৩০ জন যাত্রী নিয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে বাইপাইল কাউন্টার থেকে আরও কয়েকজন ওই বাসে ওঠেন। ওই যাত্রীদের মধ্যে সাত–আটজন ডাকাত দলের সদস্য ছিলেন। বাসটি ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে ডাকাত দলের সদস্যরা চালককে মারধর করে দেশি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। পরে তাঁরা চলন্ত বাসে যাত্রীর কাছ থেকে মুঠোফোন, স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করেন। এ সময় কয়েক যাত্রী বাধা দিতে গেলে ডাকাত দলের সদস্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের আঘাত করেন। পরে মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া পেট্রলপাম্পের কাছে বাস থামিয়ে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. এপ্রিল ২০২৩ ০২:০৭:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ওলামা লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ওলামা লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের প্রথম ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সফল করার লক্ষে টাঙ্গাইলে মত বিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার(৪ এপ্রিল) বিকেলে শহরের হাবিবুর রহমান প্লাজা হল রুমে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ টাঙ্গাইল জেলা শাখা ও জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ মত বিনিময় ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

ওলামা লীগের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মাও: আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ওলামা লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাও: মোহাম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী, যুগ্ম আহবায়ক মাও: আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় ওলামা লীগের জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মাও: ড. আব্দুল মোমেন সিরাজী, সদস্য সচিব মাও: দেলোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক মাও: আব্দুল কাইয়ুম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাও: আব্দুর রাজ্জাক শরিফ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, আগামী ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের প্রথম ত্রি-বাষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. এপ্রিল ২০২৩ ০২:৩৬:এএম ৩ বছর আগে
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে জননেতা আব্দুল মান্নানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত - Ekotar Kantho

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে জননেতা আব্দুল মান্নানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

একতার কণ্ঠঃ নানা কর্মসূচিতে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা আব্দুল মান্নানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার(৪ এপ্রিল) সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে জননেতা আব্দুল মান্নান হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ ফরহাদ হোসেন, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ আর এম সোলাইমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও জননেতা আব্দুল মান্নান হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মোঃ মাসুদার রহমানকে নিয়ে মরহুমের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধা এবং জননেতা আব্দুল মান্নানসহ তার পরিবারের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এছাড়া বাদ ইশা জননেতা আব্দুল মান্নান হল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি রয়েছে।

সকল কর্মসূচিতে জননেতা আব্দুল মান্নান হলের হাউজ টিউটর, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।

উল্লেখ্য,টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান জননেতা আব্দুল মান্নান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. এপ্রিল ২০২৩ ১০:৪০:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মাকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি ছেলে গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মাকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি ছেলে গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকরা ইউনিয়নের কালোহা গ্রামের মা তমিরন নেছাকে হত্যা মামলার আসামি ছেলে বাদশা মিয়া (৫৫)কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

শনিবার (১ এপ্রিল)মধ্য রাতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার কান্দাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল র‌্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃত বাদশা মিয়া কালিহাতী উপজেলার পাইকরা ইউনিয়নের কালোহা গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে।

টাঙ্গাইল র‌্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী অধিনায়ক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান,বাদশা মিয়ার সাথে তার ছোট বোন কহিনুর বেগমের পারিবারিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঘটনার দিন বাড়ির উঠানে বাদশা মিয়ার তার ছোট বোনের সাথে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে ছোট বোনকে বাঁশ দিয়ে আঘাত করতে গেলে তাদের মা নিহত তমিরন নেছা বাদশাকে থামানোর চেষ্ঠা করে। তখন বাদশা উঠানে থাকা ধারালো দা দিয়ে ছোট বোন কোহিনুরকে কোপ দিতে গেলে তাদের মা বাঁধা দেয়। এসময় বাদশা ক্ষিপ্ত হয়ে মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

তিনি আরো জানান,এ ঘটনার কালিহাতী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। এরপর থেকে বাদশা পলাতক ছিল। পরে নিজের নাম পরিবর্তন করে আলী আকবর পরিচয় নিয়ে ঢাকা মহানগরের বাড্ডা এবং পরবর্তীতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার কান্দাইল এলাকায় আত্নগোপন করে। এই মামলার বিচার শেষে ২০০৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালত বাদশাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে।

তিনি জানান,বাদশা মিয়াকে কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. এপ্রিল ২০২৩ ১০:০৫:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ৫ হাজার পিস ইয়াবা সহ আটক ২ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ৫ হাজার পিস ইয়াবা সহ আটক ২

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৫ হাজার ৩৮০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানাধীন গোলচত্বর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার বিজুল কঞ্চিহাগি গ্রামের মৃত নজিবুদ্দিনের ছেলে আকরামুল (৪৭) ও একই উপজেলার দিওর গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে মোক্তার হোসেন (২৮)।

র‌্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী অধিনায়ক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের রবিবার (১ এপ্রিল) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানাধীন গোল চত্বর এলাকায় অভিযান চালালে দৌঁড়ে পালানোর সময় তল্লাশি চালিয়ে ৫ হাজার ৩৮০ পিস ইয়াবাসহ তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, আটককৃতরা অভিনব কৌশলে ঢাকা থেকে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করে আসছিল। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. এপ্রিল ২০২৩ ০১:৫২:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের’ উদ্যোগে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের’ উদ্যোগে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ

একতার কণ্ঠঃ রমজান মাস আসলে সমাজের অনেক অবহেলিত, অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল মানুষগুলোর ইচ্ছে থাকলেও সামর্থ্য না থাকায় উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে ইফতার করতে পারেন না। তাই তাদের ইচ্ছে পূরণে রমজানের পুরো মাসজুড়ে এসব মানুষদের মাঝে বিনামূল্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন টাঙ্গাইলের ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। শুধু তাই নয়, টাঙ্গাইল ছাড়াও দেশের ১১টি জেলায় ইফতার সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন এ সংগঠনটি।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার (৩১ মার্চ) বিকাল থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত টাঙ্গাইল পৌর শহরের নিরালা মোড় (কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর), নতুন ও পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, পার্ক বাজার, বেবিস্ট্যান্ড মোড় ও রেজিস্ট্রি পাড়াসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা। বিনামূল্যে এই ইফতার সামগ্রী বিতরণের বিষয়টি সাধুবাদ জানিয়েছেন সুধিজনরা।

ইফতার সামগ্রী পাওয়া পৌর শহরের বস্তি এলাকার আছিয়া বেগম বলেন, ইফতারের সময় হলেই একদল ছেলে-মেয়ে ইফতারের প্যাকেট নিয়ে ছুটে আসে। তারা প্রথত রোজা থেকেই ইফতার সামগ্রী দিচ্ছে। এমন উন্নতমানের ইফতার সামগ্রী আমাদের পক্ষে কেনা সম্ভব হয় না। তাদের দেয়া ইফতার পেয়ে প্রতিদিন ইফতার করে আসছি।

পৌর শহরের নিরালা মোড় থেকে ইফতার নেয়া কদবানু বেগম বলেন, আমি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে টাকা তুলে যা হয় তা দিয়ে কোন রকম দিনাতিপাত চলে। কিন্তু ইফতার কেনার সামর্থ হয় না। প্রতিদিন সন্ধ্যার আগে ওদের দেয়া ইফতার পেয়ে নিশ্চিন্তে সন্তানদের সাথে নিয়ে ইফতার করতে পারি। এরআগেও তারা বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন।

স্বেচ্ছাসেবক আহসান খান মিলন ও রিমি আক্তার রিমি জানান, গত ৩ বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে খুব ভালো লাগছে। মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করাও মানবতা। ছিন্নমূল মানুষকে ইফতার করিয়ে নিজেদের ইফতার করার মধ্যে এক আত্মতৃপ্তি থাকে। যে আত্মতৃপ্তি পেয়ে নিজেরা খুবই গর্বিত। আমাদের জন্য দোয়া করেন।

এ বিষয়ে ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’ ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ মির্জা তৌহিদুল ইসলাম সুলভ জানান, প্রতি বছর রমজানের ন্যায় এবারও আমরা বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায়ও ইফতারের আয়োজন করছি। এমন কাজে সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে এ মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানাই।

শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মুঈদ হাসান তড়িৎ জানান, গত ৯ বছর ধরে টাঙ্গাইল ছাড়াও দেশের আরও ১০ জেলায় প্রায় ৫ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে বিভিন্ন মানবিক কাজে অংশ নিয়ে আসছে এ সংগঠনটি। তারই ধারাবাহিকতায় নিজেরা রান্না করে সমাজের অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত ছিন্নমূল, অসহায় ও দরিদ্রদের খুঁজে খুঁজে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, টাঙ্গাইল ছাড়াও দেশের ১১টি জেলায় প্রায় ৯ হাজার মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও ঈদ উপলক্ষে ছিন্নমূল মানুষ ও শিশুদের মাঝে নতুন জামা ও ঈদের বাজার দেওয়া হবে। এতে থাকবে- পোলাও চাল, মুরগি, দুধ, চিনি ও সেমাই। পাশাপাশি ঈদের দিন রাস্তায় থাকা ভাসমান মানুষ ও মানুষিক রোগীদের দেওয়া হবে পোলাও, রোস্ট, ডিমের কোরমা ও ফিরনি বিতরণ করার হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. এপ্রিল ২০২৩ ০২:০৭:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ডা. জাহাঙ্গীর আলম - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ডা. জাহাঙ্গীর আলম

একতার কণ্ঠঃ স্বপ্ন বাস্তবায়নে অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ)।

তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন সহধর্মীনি ডা. জাহিদা বেগম সুইটি। তিনি একই হাসপাতালের প্রভাষক (এনাটমি বিভাগ)। তাদের স্বপ্ন পূরণ হিসেবে টাঙ্গাইলে যাত্রা শুরু করে ‘প্রত্যাশা স্পেশাল স্কুল এন্ড থেরাপি সেন্টার’। সেখানে অটিস্টিক শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হয়।

ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা নিতে অনেকেই ছুটে যান ঢাকা। অনেকেই আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে চিকিৎসা করাতে পারেন না। এসব চিন্তা ও সন্তানের শারিরিক সমস্যা দেখে স্বপ্ন জাগে টাঙ্গাইলে একটি প্রতিষ্ঠান করার। সেই লক্ষে ২০১৭ সালে টাঙ্গাইল পৌর শহরের সাবালিয়াতে নিজের বাসায় শুরু করেন। নাম দেন ‘প্রত্যাশা স্পেশাল স্কুল এন্ড থেরাপি সেন্টার’। ২০১৮ সালে এটি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন পায়।

ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘প্রত্যাশা স্পেশাল স্কুল এন্ড থেরাপি সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার গল্প।

তিনি জানান, ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা। তার স্ত্রী প্রথম সন্তান প্রসব করেন। সন্তানের নাম রাখেন জাইদি। সন্তানকে নিয়ে হাসি-খেলার মধ্যদিয়ে তাদের সময় কাটতে থাকে। দেখতে দেখতে দেড় বছর কেটে যায়। তিনি লক্ষ্য করেন, জাইদি অতিরিক্ত ভয় পায়। সব কাজে অতিরিক্ত সচেতন, ওর খেলনার সামগ্রী জুতা, পাতিল, চামিচ। সময় চলে যায় কিন্তু সে কথা বলে না। সবাই বলেন অনেকে দেরিতে কথা বলে। কিন্তু অপেক্ষার প্রহর আর শেষ হয় না। শুরু হয় জাইদিকে নিয়ে যুদ্ধ। এই ডাক্তার, সেই ডাক্তার দেখানো, চিকিৎসার জন্য অনেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সবাই বললেন ঠিক হয়ে যাবে। কিছু কমন কথা এবং প্রচুর ওষুধ। কিছুতেই কিছু হলো না। জাতীয় মানসিক সাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগি অধ্যাপক ডাক্তার হেলাল আহমেদ প্রথম বললেন, আপনার ছেলে সবার থেকে একটু আলাদা, ওকে ঢাকা নিয়ে যান। টাঙ্গাইলে এর চিকিৎসা হবে না। তারপর তিনি বললেন, আপনার ছেলে অটিস্টিক। এ কথা শুনে আঘাত পেলেও তারা স্বামী-স্ত্রী কেউ ভেঙে পড়েননি।

সেদিনই ঢাকা চলে গেলেন। বিভিন্ন সেন্টারে যোগাযোগ করলেন। অবশেষে জাইদির চিকিৎসা শুরু হলো। মিরপুর crp তে জাইদিকে occupational এবং speech therapy দেওয়া শুরু হলো। ভর্তি করা হলো ঢাকা প্রয়াশ স্কুলে। অনেক কঠিন যুদ্ধ। ঢাকা আসা-যাওয়া, থাকা, প্রচুর অর্থ খরচ। ঢাকাতে তিনটা বছর কাটে।

এদিকে নিজেদের চাকরি, সংসার, ছোট বাচ্চা, সব মিলিয়ে হাঁপিয়ে উঠেন তারা। ফিরে আসেন টাঙ্গাইল। কিন্তু এখানে কোন special school speech therapy এবং occupational therapy নেই।

তিনি শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হওয়ায় প্রায় লক্ষ্য করতেন, তার ছেলের মতো টাঙ্গাইলে আরো অনেক শিশু রয়েছে। তাদের অভিভাবক সন্তানের চিকিৎসা ঠিকভাবে করাতে পারছে না। ঢাকায় নিয়মিত চিকিৎসা করানো অনেকের জন্য কঠিন। তাছাড়া এ চিকিৎসা ব্যয়বহুলও। এ অবস্থায় তার মাথায় একটি স্বপ্ন বাসা বাধে- টাঙ্গাইলে এরকম একটা theraty center হবে। যার মাধ্যমে তার সন্তানের সাথে সাথে অন্যদের সন্তান চিকিৎসা পাবে। শুরু করে দেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ।

ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের দেশে occupational এবং speech therapist এর সংখ্যা খুবই কম। অনেক কষ্টে therapist পেয়ে গেলাম। তারপর আল্লাহর অশেষ রহমতে একজন স্পেশাল এডুকেশন শিক্ষক পেলাম। আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতে থাকে প্রত্যাশা। বর্তমানে ঢাকা থেকে ছয়জন প্রশিক্ষিত থেরাপিস্ট আসছেন। তাদের পাশাপাশি লোকাল চারজন কাজ করছেন।
বর্তমানে সাবালিয়াতেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেন্টারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তার নিজস্ব জায়গায় প্রত্যাশা স্পেশাল স্কুল এন্ড থেরাপি সেন্টারের পরিকল্পিত ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন।

বিশেষ শিশু যারা ঠিকমত কথা বলতে পারেনা, অস্বাভাবিক আচারণ করে, ঠিকমত হাটা-চলা করতে পারেনা, অনুভূতির সমস্যা, অতিরিক্ত ভয় পাওয়া, অতিরিক্ত অস্থির প্রকৃতির- তাদেরকে অতি যত্ন সহকারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিশেষজ্ঞ থেরাপিস্ট দ্বারা থেরাপি দেওয়া হয় প্রত্যাশা স্পেশাল স্কুল এন্ড থেরাপি সেন্টারে। গড়ে ৮০ জন শিশু এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানান সেন্টার কর্তৃপক্ষ।

ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, বিশেষ শিশুটিকে আড়ালে না রেখে প্রকাশ করুন, বিকশিত হবেই।’ এটাই আমাদের শ্লোগান এবং এই মূল মন্ত্রটিকে ধারণ করেই আমাদের অগ্রযাত্রা। শারীরিক প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সাহায্য করা।’‌

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. এপ্রিল ২০২৩ ০১:৫১:এএম ৩ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।