আরমান কবীরঃ দেশের মধ্যাঞ্চলে টাঙ্গাইল জেলার অবস্থান হওয়ায় এবং সড়ক, নদীপথ ও রেলপথের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক থাকায় মাদক চোরা চালানের নিরাপদ রুট হিসেবে মাদক ব্যবসায়ীরা বেছে নিয়েছে এই জেলাকে। ফলে জেলায় প্রতিনিয়ত নদী, রেল ও সড়ক পথে আসছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। এই জেলায় জালের মতো ছড়িয়ে আছে নদী। এইসব নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে মাদকের হট-স্পট।
জেলার নাগরপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নদী সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং শহরের কান্দাপাড়া যৌনপল্লী, রাবনা বাইপাস ও আশেকুর বাইপাসকে বেছে নিয়েছে মাদক কারবারিরা। সুযোগ বুঝে মাদক পাচারের জন্য সড়ক পথকে ব্যবহার করছে এইসব মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদক পাচারের রুট হিসেবে এই জেলাকে ব্যবহারের কারণে জেলায় বেড়েছে ব্যাপক মাদকের সরবরাহ। বিশেষ করে উঠতি বয়সের কিশোর-যুবকদের টার্গেট করা হচ্ছে মাদক বিক্রির জন্য। শহরে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হিরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে মাদক ঢুকছে টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার খ্যাত এলেঙ্গা, টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস ও আশেকুর এলাকায়। এরপর এই স্থান গুলো থেকেই ঢাকা, গাজীপুরসহ টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিনব পদ্ধতিতে মাদক ছড়িয়ে পরছে । শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় রাতের আধারে অলিগলিতে বিক্রয় হচ্ছে সর্বনাশা এইসব মাদক। আবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে হাতেহাতে। এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রে বাড়িতেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদক।
বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া, বেড়াডোমা, কাগমারা, সাহাপাড়া, শান্তিকুঞ্জ মোড়, মাঝিপাড়া, হাজেরাঘাট, দক্ষিণ কলেজপাড়া (মহিষ খোলা), ধুলেরচর, বইল্লা এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের কেনা-বেচা চলে বলে জানা গেছে। এইসব এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি।
জানা গেছে, মাদকদ্রব্য পরিবহনে নিরাপদ রুট হিসাবে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলা হয়ে নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র, চর সলিমাবাদ, আটাপাড়া, শাহাজানি চরাঞ্চল, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলি, কাকুয়া, হুগড়া, ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল, গোবিন্দাসী, অর্জুনা, গাবসারা, কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি যমুনা নদীর চরাঞ্চল মাদক পাচারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক নির্মূলে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র্যাব পৃথকভাবে কাজ করছে। গত সাত মাসে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ ২’শত ৮ কেজি গাঁজা, ৫৭ হাজার ২’শত ৬৫ পিস ইয়াবা, ৭২৫.১০ গ্রাম হেরোইন, ১০৮৫.৩৬ লিটার দেশি-বিদেশি মদ ও ৫৯৫ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
এসব মাদকের বেশিরভাগ বড় বড় চালান উদ্ধার ও মাদক কারবারিদের আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার অভিযানে গত সাত মাসে ৪৭৩ জন মাদক কারবারির নামে ৩৩৮ টি মামলা রজ্জু করেছে জেলা পুলিশ ।
অপরদিকে, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত সাত মাসে ৩৮ কেজি গাঁজা, ৫ হাজার ৭’শত ৭৪ পিস ইয়াবা, ৮৫.৫ গ্রাম হেরোইন, ৪১.২৫ লিটার মদ, ১০ বোতল ফেনসিডিল, টাপেন্টাডল ৩ হাজার ৪ শত ৮৮ টি ট্যাবলেট, ১০ হাজার লিটার ওয়াশ জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে।অভিযানে মাদক কারবারিদের থেকে নগদ ১৪ লক্ষ ৩১ হাজার টাকাসহ উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজার মূল্য ৪৭ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। উদ্ধার অভিযানে গত সাত মাসে ১৯৭ জন মাদক কারবারির নামে ১৯৬ টি মামলা রজ্জু করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
এদিকে র্যাব ১৪, সিপিসি- ৩ সূত্রে জানা গেছে, গত সাত মাসে ৮২ কেজি গাঁজা, ৪৭৪৯ পিস ইয়াবা, ১৬৭ গ্রাম হেরোইন, ৯৮ লিটার দেশি মদ ও ৪৩১ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। উদ্ধার অভিযানে এই সাত মাসে ৭ জন মাদক কারবারির নামে ৩ টি মামলা রজ্জু করতে সহায়তা করেছে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ত্রিমুখী অভিযানে বড় বড় মাদকের চালান উদ্ধার ও মাদক কারবারিদের আটকের পরেও থামছেনা জেলায় মাদকের ভয়াল থাবা। আইনের ফাঁকফোকড়ে আবারো বেরিয়ে আসছে মাদক কারবারিরা। আবার নতুন উদ্যেমে ভিন্নতর কৌশলে শুরু করছে মাদক ব্যবসা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, টাঙ্গাইলবাসীর জন-জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে প্রতিনিয়ত কাজ করছে জেলা পুলিশ। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ধর্মীয় উপাসনালয় মসজিদ-মন্দিরে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে।
তিনি আরও জানান, মাদক ব্যবসায়িদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে হবে । আবার তাদেরকে সুযোগও দিতে হবে সুপথে ফেরার। মাদক ব্যবসায়ির তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। সন্তান কার সাথে মিশে তা খেয়াল রাখতে হবে অভিভাবকদের। পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে মাদক নির্মূলে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই মাদক নির্মূল হবে।
আরমান কবীরঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, আমার বাড়ি ভেঙেছে আরও ভাঙুক। বঙ্গবন্ধুর ৩২-এর বাড়িতে গিয়েছিলাম, আমার গাড়ি ভেঙেছিল। আরও ভেঙে যদি দেশে শান্তি স্থাপিত হয়, দেশের কল্যাণ হয়, আমি সব সময় রাজি আছি।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের কবি নজরুল সরণির (জেলা সদর সড়ক) বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সাবেক সংসদ সদস্য বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
এর আগে শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত একটার দিকে কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বাসার কর্মচারীরা জানান, শনিবার রাতে কাদের সিদ্দিকী বাসায় ঘুমাচ্ছিলেন। রাত একটার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল বাসায় ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। তারা মই দিয়ে বাসার গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। হামলাকারীদের মুখ বাঁধা এবং কয়েকজন হেলমেট পরা ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী বলেন, গত রাতে আমার বাড়িতে হামলা করেছে। কারা করেছে জানি না। ১০ থেকে ১২ জন লোক, তার মধ্যে বেশি বাচ্চা ছিল। ঢিল মেরেছে, গাড়ি ভেঙেছে। কোটাবিরোধী আন্দোলন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরে আমরা এই স্বৈরাচারী মনোভাব আশা করিনি। আওয়ামী লীগ যদি স্বৈরাচার হয়, তাহলে আজকের কর্মকাণ্ডকে আমরা কী বলে অভিহিত করব।
কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, ২৬ বছর হয়েছে নতুন দল করেছি। রাত–দিন সংগ্রাম করেছি। আওয়ামী লীগ আমাদের বহু প্রোগ্রাম করতে দেয়নি। তারপরও যদি সবাইকে আওয়ামী লীগের দোসর বানানো হয়, তা হলে তো আমি মনে করব বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে ব্যর্থ করার জন্য, ধ্বংস করার জন্য এটা কোনো ষড়যন্ত্র কি না! আমার কাছে মনে হয়, দেশটাকে অস্থিতিশীল করার জন্য, জাতীয় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ খুঁজছে। সেই সুযোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দিচ্ছে কি না আমি ঠিক বলতে পারব না। আমার মতো মানুষের, যাকে রাষ্ট্র সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব দিয়েছে, তার বাড়ি যদি নিরাপদ না থাকে, আমার সাধারণ গরিব–দুঃখী মানুষের বাড়ি নিরাপদ কীভাবে হয়।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, কয়েক দিন আগে মঞ্চ ৭১–এর সভায় আমাদের নেতা, আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী আলোচক হিসেবে গিয়েছিলেন। তাঁদের সব আলোচককে গ্রেপ্তার করেছে। যাঁরা শ্রোতা হিসেবে গিয়েছিলেন, তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু যাঁরা মব সৃষ্টি করেছেন, যাঁরা বাধা দিয়েছেন, তাঁদের কিছু বলা হয়নি। এটা একটা ন্যায়নীতির ব্যত্যয়, আইনের ব্যত্যয়। এখান থেকে আমি সরকারকে সরে আসতে বলব। আমার বাড়ির ওপর হামলার মধ্য দিয়েই এই চোরাগোপ্তা হামলা বন্ধ করা হোক। এটা সরকারের কাছে আমার নিবেদন। দেশবাসীর কাছে আমার নিবেদন যে আপনারা জাগ্রত হোন, রুখে দাঁড়ান। এ রকম অন্যায়কে সহ্য করলে পরবর্তী বংশধরদের জীবন–সম্পদ–সম্মান—সব হুমকির মধ্যে পড়বে।
এক প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী জানান, তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি মামলা করবেন। সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকীর ছোট ভাই কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজাদ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে রবিবার কাদের সিদ্দিকীর নির্বাচনী এলাকা বাসাইলে কাদেরিয়া বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল কাদের সিদ্দিকীকে। কিন্তু ‘ছাত্র সমাজের’ ব্যানারে একই সময় একই স্থানে ছাত্রসমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ অবস্থায় রবিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাসাইল শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় দুর্বৃত্তরা ঢিল ছুড়ে কাদের সিদ্দিকীর দুটি গাড়ি ও দোতালার চারটি জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের জেলা সদর রোডস্থ কাদের সিদ্দিকীর নিজ বাসভবন ‘সোনার বাংলায়’
এ ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাড়ির কেয়ার টেকার জানান, ১৫-২০ জনের একটি দল এসে বাহির থেকে প্রথমে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। তারপর দুই-তিনজন মই দিয়ে গেট টপকে ভেতরে ঢুকে গাড়িও ভাঙচুর করে। পরে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গেট টপকে পালিয়ে যায়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী এই ঘটনা ঘটিয়েছি। বাসভবনের সামনে একটি গাড়ির গ্লাসসহ বাসভনের কয়েকটি জানালার গ্লাস ভেঙেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান,সারারাত বাসভবনে পুলিশ পাহারা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী উদযাপন করা হয়েছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন সকাল ৭টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ ও নাতে রাসুল পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ করা হয়। পবিত্র ধর্ম ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর জীবন ও কর্মের উপর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আলেম ও পীরমাশায়েখরা আলোচনায় অংশ নেন। অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
হাজীবাগ দরবার শরীফের পীরে তরিকত আলহাজ্ব প্রফেসর আব্দুল কুদ্দুস খসরুর সভাপতিত্বে দিবসের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হাই। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, করটিয়া আহমাদাবাদ শরীফের বিশিষ্ট খলিফা মোহাম্মদ শাহজালাল।
অন্যদের মধ্যে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, আলালপুর ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল আলহাজ্ব শাহ সুফি মাওলানা আব্দুল ওহাব সিরাজি, করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. সাইফুল মালেক আনসারী, ঘাটাইলের আমুয়াবইদ মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা হারুন অর রশিদ, ময়মনসিংহ দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মাহবুব আল হুসাইন, টাঙ্গাইল কাদেরিয়া তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সুপার হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জালালী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, টাঙ্গাইল জেলা তাহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত যুব পরিষদের আহ্বায়ক ডা. মোহাম্মদ মোরশেদ আলম মাসুদ।
এরআগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। পরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং তাবারক বিতরণ করা হয়।
আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইলের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং শ্যামা বাবুর খাল উদ্ধার ও দখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে টাঙ্গাইল নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির ব্যানারে ঘন্টা ব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে টাঙ্গাইল শহরের মাঝখান দিয়ে এককালে প্রবাহিত শ্যামা বাবুর খাল উদ্ধার, ভাসানী হল ও ব্রাহ্ম সমাজের মন্দিরসহ হারিয়ে যাওয়া ও দখল হওয়া সকল ঐতিহ্য রক্ষার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়াও মানববন্ধন থেকে—সকল প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি, অবৈধ দখলদার ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—টাঙ্গাইল নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন, কবি ও সাংবাদিক অ্যাডভোকেট খান মোহাম্মদ খালেদ, টাঙ্গাইল কালচারাল রিফর্মেশন ফোরামের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, নাগরিক অধিকার সুরক্ষার সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ রাজ্য, সদস্য ফরহাদ হোসেন, এবং পরিবেশবিদ ফজলে সানি প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জেলা বাসীর বহুল প্রতিক্ষিত জরুরী বিভাগে সার্বক্ষনিক চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল হতে জরুরী বিভাগে সার্বক্ষনিক চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ দিকে জরুরী বিভাগের সার্বক্ষনিক চিকিৎসা সেবা শুরু হওয়ায় জেলাবাসীর মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: মো: আব্দুল কুদ্দুছ।
তিনি জানান,হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, কনসালটেন্ট, আরপি-আরএস, সহকারী সার্জন, নার্সিং সুপারভাইজার, বিভিন্ন বিভাগের ইনচার্জ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আউটসোর্সিং সুপারভাইজারদের অবগতির জন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে জরুরী বিভাগে সার্বক্ষনিক চিকিৎসা সেবার নির্দশনার কথা জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সপ্তাহে সাত দিন জরুরী বিভাগে সকল প্রকার রোগীদের সার্বক্ষনিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে।
চিকিৎসা সেবা পাওয়া রোগী ও স্বজনরা জানান, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি কয়েক বছর আগের চালু হলেও এখানে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা পাওয়া যেত না। সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: মো: আব্দুল কদ্দুস বলেন, আমাদের চিকিৎসক সংকটসহ জনবল সংকট রয়েছে। তারপরেও জনস্বার্থে জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করার চেষ্টা চলছে। আশা করি, খুব শিগগিরই জরুরী বিভাগে পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা প্রদান সম্ভব হবে।
আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির(কাদের) অফিস ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধ করে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের থানার পাশে ছয় আনি বাজার রোড অবস্থিত জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করা হয়।
জানা যায়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ শতাধিক নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য জাতীয় পার্টি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক হামলার প্রতিবাদে জেলা গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে সকাল ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নিরালা মোড় পার হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার পাশে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে যায়। এসময় নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর এলাকায় গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে নেতা-কর্মীরা। প্রায় ঘন্টা খানেক সেখানে খানেক অবস্থানের পর সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় নেতা-কর্মীরা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহম্মেদ বলেন, আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলাম। বর্তমানে ঐ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করাহয়েছে।
শনিবার সকালে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা ও ভাংচুর চালায় গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা
আরমান কবীরঃ বর্তমানে চব্বিশের আন্দোলনকারীদের ব্যবহারে দেশবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইলে জেলা সদর রোডে অবস্থিত নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি দেশবাসী ও আন্তর্জাতিকভাবে বলতে চাই, ২৪শের আন্দোলন আমি দেশ স্বাধীন হওয়ার কাছাকাছি মনে করি। তাদের সমর্থন করি আমি, কিন্তু বর্তমানে চব্বিশের আন্দোলনকারীদের ব্যবহারে দেশবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আমি তো ভেবেছিলাম তাদের এই বিজয় হাজার বছর চিরস্থায়ী হবে কিন্তু এক বছরে তাদের এই বিজয় ধ্বংসের দিকে চলে যাবে এইটা আমরা আশা করি নাই, আর যদি বলা যায় আওয়ামী দোসর থেকে বর্তমান সরকারের দোসররা তো বড় স্বৈরাচার।
এ সময় বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেমন নাহলে দেশ স্বাধীন হতো না, তেমনিভাবে লতিফ সিদ্দিকীর জন্ম না হলে টাঙ্গাইল হতো না, আমরা রাজনীতি করতে পারতাম না। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের অবস্থা তৈরি করা দরকার, নিরাপত্তা অবস্থা জোরদার করা দরকার।’
লতিফ সিদ্দিকীর ইস্যুতে কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, ‘সকালে ৭১ মঞ্চের আয়োজনে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে যাওয়া হলে মব সৃষ্টি করে লতিফ সিদ্দিকীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই সম্মানের সঙ্গে তাকে ছেড়ে দেওয়া হোক। যদি তার নামে কোনো মামলা থাকে তাহলে আমরা আইনিভাবে লড়বো।’
সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্ম: ইউনিয়ন বি-১৯২৫ সিবিএ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত কর্মচারী ইউনিয়নের আয়োজনে কর্মচারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট ) বিকেলে টাঙ্গাইল বিআরডিবি মহিলা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের হলরুমে এই কর্মচারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়ন বি-১৯২৫ সিবিপি, টাঙ্গাইল জেলার সহ-সভাপতি আবু বকর সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরডিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নির্বাহী সদস্য এ. কে. এম. মনিরুল হক মনির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ. কে. এম. মনিরুল হক মনির বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসলে সকল প্রকল্প ও কর্মচারী জনবলসহ বিআরডিবিকে অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পজীক, পদাবিক, সদাবিক, পিইপি সকল প্রকল্প / কর্মসূচিতে কর্মরত জনবলের ন্যায় সংগত সকল দাবী বাস্তবায়ন করা হবে। বিআরডিবিতে আয় হতে দায় শোধের মত কোন প্রকল্প গ্রহণ করা হবেনা।
এসময় জেলা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম-সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: জাহিদ হোসেন, অর্থ সম্পাদক মো: আলতাফ হোসেন, নির্বাহী সদস্য মো. বরকত আলী, নির্বাহী সদস্য মো. নুরুল আলম সবুজসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন (জাসাস) এর টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্সের কাশফুল প্রজেক্টের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার (বিএম) শাহারুল ইসলাম মিলনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার (২৪ আগস্ট) বাদ যোহর পাড়দিঘুলিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে বেবিস্ট্যান্ড কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে রবিবার ভোর ৬টার দিকে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন মিলন (৪৮)। তিনি মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যু কালে তিনি বাবা-মা, ভাই বোন, স্ত্রী ও এক ছেলে সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মিলনের জানাজা নামাজে জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক এড.ফরহাদ ইকবাল, শহর বিএনপি’র সভাপতি মেহেদী হাসান আলিমসহ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে কাতুলী ইউনিয়নের চৌবাড়ীয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহম্মেদ।
গ্রেপ্তারকৃত যুবলীগ নেতা আবুল কাশেম একই ইউনিয়নের চৌবাড়ীয়া গ্রামের কুরবান আলীর ছেলে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহম্মেদ জানান, গত বছরের ৪ আগস্ট জেলা সদর রোডে অবস্থিত বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার ঘটনায় আহত লাল মিয়ার দায়ের করা মামলায় যুবলীগ নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল মেজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত জেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি আমীর হামজাকে (৭৯) কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ।
বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শহরের পার্ক বাজারের মাছের আড়ৎ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আমীর হামজা শহরের বেপাড়ী পাড়া এলাকার মৃত আমজাত আলীর ছেলে ও জেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহাম্মেদ জানান, গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আদালত প্রাঙ্গনের দক্ষিণ পাশের ‘টাঙ্গাইল কিচেন’ নামের একটি রেস্তোর সামনে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা করা হয়েছিলো।
তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় আব্দুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলায় মঙ্গলবার দুপুরে আমীর হামজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।