আরমান কবীরঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির কৃষক উইং এর প্রধান সমন্বয়কারী ও মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানী।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর )রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।তিনি জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ও মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শের পক্ষাবলম্বনই আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের হাত ধরে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে আমি যুক্ত হয়েছিলাম। শুরু থেকেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত লড়াইয়ের এক ধারাবাহিক অধ্যায় হিসেবে আত্মস্থ করেছি। তেপ্পান্ন বছরের পুঞ্জীভূত বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখাই ছিল আমার সেই পথচলার প্রেরণা।’
তিনি আরও বলেন, ‘মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর দেখানো গণমানুষনির্ভর, আধিপত্যবাদ-সাম্রাজ্যবাদ ও বৈষম্যবিরোধী পালনবাদী রাজনীতির স্বপ্ন থেকেই প্রথমে জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে যুক্ত হই। সেই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় দলের কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বও গ্রহণ করি।’
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, বাস্তব অভিজ্ঞতায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা, গণমানুষের প্রতি দরদ ও ত্যাগের যে গভীরতা প্রয়োজন এখানে তার স্পষ্ট ঘাটতি আমি অনুভব করেছি। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত সাফল্য দেখা যায়নি।’
মওলানা ভাসানীর নাতি বলেন, ‘এই বাস্তবতায় বেশ কিছুদিন ধরে সরাসরি সক্রিয় না থেকেও দলটির সঠিক রাজনীতি ও সাফল্য কামনা করে গেছি। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ও মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শের পক্ষাবলম্বনই আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই দায় ও আদর্শের প্রতি অবিচল থাকতেই আজ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি।’
তিনি বলেন, ‘এনসিপির সঙ্গে আমার এই স্বল্পকালীন পথচলায় কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। তারুণ্যের অভিযাত্রী দলটির প্রতি রইলো আন্তরিক শুভকামনা। গণমানুষের রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রামে তারা যেন সঠিক পথ খুঁজে পায় এই প্রত্যাশাই থাকলো।’
এর আগে এ বছরের গত ৬ সেপ্টেম্বর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর অনুমোদনক্রমে কৃষক উইংয়ের প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে প্রধান সমন্বয়কারী করা হয়েছিল আজাদ খান ভাসানীকে।
আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমানে কার্য্যক্রম স্থগিত থাকা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী সদরের তার নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
এ সময় আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে আমি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলাম-নির্বাচনে অংশ নেবো কি নেবো না। আমি সবসময় জনগণের মতামত ও জনরায়কে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করি। আমার কর্মী-সমর্থক এবং এলাকার সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়েই আমি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দিবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে গণসংযোগ ও নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি। ঘোষণার সময় তার শুভানুধ্যায়ী ও কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে কালিহাতী আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াইয়ে পর পর চারটি যানবাহনের ধাক্কায় একটি প্রাইভেটকারের যাত্রী মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ফ্লাইওভারের পূর্বপাশে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হচ্ছেন- ফেনী জেলার জিসান কবির টিপুর স্ত্রী সাদিয়া কবির (৩৭) ও তাঁর ১০ মাস বয়সী কন্যা তাজরিয়া কবির পিয়ম।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিহত সাদিয়া কবির টাঙ্গাইলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে প্রাইভেটকারযোগে ঢাকার মিরপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মহাসড়কের গোড়াই ফ্লাইওভারের পূর্বপাশে পৌঁছালে তাদের বহনকারী সাদা রঙের (ঢাকা মেট্রো খ-১৩-০৪৩০) প্রাইভেটকারটি সামনে থাকা ঢাকাগামী (ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-৩৭৬৩) ট্রাককে ধাক্কা দেয়। ওই প্রাইভেটকারটিকে অপর একটি লাল রঙের (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪-৮৫৪৯) প্রাইভেটকার সজোরে ধাক্কা দেয়। অন্যদিকে পেছনে থাকা অপর একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৮২৩৮) লাল রঙের প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয়।
এ ঘটনায় সাদা প্রাইভেটকারে থাকা যাত্রী মা ও মেয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে রেকারের মাধ্যমে মহাসড়ক থেকে গাড়িগুলো সরিয়ে নিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ট্রাকের ড্রাইভার পলাতক রয়েছেন।
এ বিষয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সোহেল সারোয়ার বলেন, চারটি পরিবহন পর্যায়ক্রমে ধাক্কা দেয়। এতে দুইজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ পৌষের মাঝামাঝি সময়ে কনকনে হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে টাঙ্গাইলের দিগন্ত।
বুধবার(২৪ ডিসেম্বর) ভোররাত থেকেই জেলা শহরসহ ১২টি উপজেলার পথ-ঘাট ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
এদিন, বুধবার সকাল থেকে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। কুয়াশার তীব্রতায় দৃষ্টিসীমা কমে আসায় চালকরা হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা দেরি করছে। মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
মহাসড়কে চলাচলকারী নাদের পরিবহনের চালক সুমন মিয়া জানান, ঢাকা থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। মহাসড়কে ভোর থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কুয়াশা পড়েছে। ফলে গাড়ি চালাতে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত ঘনকুয়াশার কারণে সামনে কি আছে তা সহজে বোঝাও যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
সিলেট থাকা আসা পাবনাগামী ট্রাক চালক আব্দুল মোমেন জানান, ঘন কুয়াশার কারণে সামনে কী আছে তা বোঝা মুশকিল হয়ে পড়েছে। ধীর গতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব পর্যন্ত মহাসড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি। এ কারণে হেডলাইন জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
যমুনা নদীবেষ্টিত ভূঞাপুর ও কালিহাতী উপজেলার অংশে ঘন কুয়াশার কারণে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যমুনা বহমুখী সেতু এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোও ধীরগতিতে যাতায়াত করতে দেখাগেছে।
কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকরা। প্রচন্ড ঠান্ডায় বোরো ধানের চারা রোপণ ও সবজি ক্ষেতের পরিচর্যা করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষি শ্রমিকরা। কৃষি বিভাগ থেকে কুয়াশাজনিত রোগবালাই থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের দেখা মিললেও কুয়াশার দাপট পুরোপুরি কমেনি।
যমুনা সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানান, অতিরিক্ত কুয়াশা থাকলেও স্বাভাবিক মতোই যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া মহাসড়কে দুর্ঘটনারোধে সার্বক্ষণিক পুলিশ কাজ করছে।
টাঙ্গাইল আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যবেক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও গত কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত কুয়াশা পড়ছে। বুধবার টাঙ্গাইলে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি জানান, আগামি কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং কুয়াশায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রিয়াদ খান (২৫) নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক এক কর্মীকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের মল্লিক মার্কেট এলাকার একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক রিয়াদ খান উয়ার্শী গ্রামের শহীদুজ্জামান খানের ছেলে। সে উয়ার্শী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক হাদিউজ্জামান জানান, রিয়াদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী। তার নামে এর আগেও একটি মারামারি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। কোন মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বন্ধুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার(২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কালমেঘা-নলুয়া আঞ্চলিক সড়কের বেলতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার কালিদাস পানাউল্লাহ পাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে লিখন আহমেদ (১৫), একই গ্রামের বল্লাচালা পাড়ার মইনুদ্দিনের ছেলে আবির হোসেন (১৫) ও একই গ্রামের ফুলঝুঁড়িপাড়ার প্রবাসী আব্দুর রউফের ছেলে সাব্বির হাসান (২০)।
নিহত লিখন ও আবির কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও নিহত সাব্বির এইচএসসি পাস করে বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কালমেঘা-নলুয়া সড়কের বেলতলী এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই মোটরসাইকেলের আরোহী পাঁচজনকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবিরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাকি চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে লিখন ও সাব্বির মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন আবির ও আরেকটি মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন সাব্বির হাসান। নিহত দুই বন্ধু আবির ও লিখন একই মোটরসাইকেলে ছিলেন।
কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বাদল বলেন, নিহত লিখন ও আবির আমার প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিহত সাব্বির আমার প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী। দুই মোটরসাইকেলের তিনজন নিহত হলেও কাকতালীয়ভাবে তাদের সবার বাড়ি উপজেলার কালিদাস গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, দুটি লাশ থানায় নেওয়া হয়েছে। আরেকটি লাশ ঢাকা থেকে সখীপুর আসছে। পরবর্তীতে আইনানুগ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
সাহান হাসানঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপি’র মনোনীত দুই এমপি পদপ্রার্থী সহোদর দুই ভাই একসঙ্গে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই তারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। টাঙ্গাইল সদরকে ঐক্যবদ্ধ করে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য।
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসনে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে তারা নিজ নিজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
এ সময় তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদুল হক শাতিল, যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. আজগর আলী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই তারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। টাঙ্গাইল সদরকে ঐক্যবদ্ধ করে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, আবদুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি শিক্ষা উপমন্ত্রী এবং ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগ করেছেন।
অন্যদিকে, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবারই প্রথম টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫০টি মামলা হয়। তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে ১২ দফা কারাভোগ করেন। তিনি প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন। এছাড়া টানা ৪৬ দিন রিমান্ডেও থাকতে হয় তাকে।
আরমান কবীরঃ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির খুনিদের ফাঁসির দাবিতে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা
-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নগরজলফৈ বাইপাসে গিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে।
পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জুমআ’র নামাজ শেষে টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
পরে বেশ কিছুক্ষণ যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে ছাত্রজনতা। এ সময় মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধ তুলে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাবেশ করা হয়।
সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা অবিলম্বে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানান।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ী গ্রামে বসতভিটার সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা ও প্রাণনাশের হুমকিতে বাদী পরিবার বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর( বুধবার) বিকেলে কুইজবাড়ী গ্রামের বাদীর বাড়িতে তাদের শরিক অভিযুক্ত জাহিদ, শহিদ, তাদের পিতা হামেদ আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩–৪ জন সংঘবদ্ধ হয়ে বাদীর মা অনামিকা বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় অনামিকা বেগম প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে তাড়া করে বসতঘরে ঢুকে জোরপূর্বক টেনে-হেঁচড়ে বাড়ির উঠানে নিয়ে আসে এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও তলপেটে লাথি মারতে থাকে।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত জাহিদ অনামিকা বেগমের তলপেটে সজোরে লাথি দিলে তার পূর্বের সিজারিয়ান অপারেশনের সেলাই ছিঁড়ে গুরুতর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ সময় বিবাদীরা তার পরনের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটায়।
অনামিকা বেগমের চিৎকারে তার স্বামী জাহিদুর রহমান এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। অভিযুক্ত জাহিদ ও শহিদ তার ডান চোখে আঘাত করে চোখ নষ্ট করার চেষ্টা করলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। চার দিন চিকিৎসা শেষে আহতদের ছেলে রাব্বি বাদী টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ দায়েরের পর বিবাদীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে বাদী পরিবার, ঘরবাড়ি ছেড়ে কালিহাতী উপজেলার চিনামুড়া এলাকায় আশ্রয় নেয়।
আহত জাহিদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্ত জাহিদ বসতঘরে ঢুকে ট্রাংক ভেঙে নগদ ৮০ হাজার টাকা লুট করে এবং অভিযুক্ত শহিদ তার স্ত্রীর গলায় থাকা ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
অনামিকা বেগম বলেন, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও বিবাদীরা আমাদের ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারা এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা বর্তমানে বাড়িছাড়া।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং গ্রাম্য শালিসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে বাদী পরিবার এলাকা ছাড়া রয়েছে এবং তাদের নিরাপদে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (উপপরিদর্শক) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমীন বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
মঙ্গলবার(১৬ ডিসেম্বর )সকাল সাড়ে ৯টায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় র্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে জেলা বিএনপি এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সেখান থেকে একটি বিজয় র্যালি বের করা হয়, যা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর উদ্যানে অবস্থিত শহীদ স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শের জনক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এই বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে।
টুকু অভিযোগ করেন, আজ আমরা দেখছি একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গতকাল বিভিন্ন জায়গায় তারাই শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস নিয়ে আলোচনা করেছে। এটি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। যারা ঘাতক, তারাই আবার আলোচনা করে।
আগামী দিনের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমান যে স্লোগান দিয়েছেন ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে বুকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে ফিরবেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশের মানুষ আগামী বিজয় দিবস উদযাপন করবে।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে টুকু বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি গুলিবিদ্ধ হাদি ও এরশাদ উল্লাহর ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যারা গুপ্ত সংগঠন, তারাই এই কাজগুলো করে যাচ্ছে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং সকল মতভেদ ভুলে গিয়ে ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
এ সময় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইল প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা ১ মিনিটে টাঙ্গাইল জেলা সদরে জনসেবা চত্বরের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়েই আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। তাদের আদর্শ ধারণ করেই গণতন্ত্র, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, সহ-সভাপতি রঞ্জন কৃষ্ণ পণ্ডিত ও আরমান কবীর সৈকত, সাধারণ সম্পাদক আবু জোবায়ের উজ্জ্বল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুজ্জামান মোস্তফা ও আব্দুস সাত্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরুল হাসান বাবু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন পিন্টু, দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও সুলতান কবীর, কার্যকরী সদস্য নাহার চাকলাদার ও মো. কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে দুপুরে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে আলোচনায় সভা ও মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়।
আরমান কবীরঃ রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর)দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি বিক্ষোভ বের হয়। বিক্ষোভ মিছিলে জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।
কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিক্ষোভ মিছিলটি নেতৃত্বে দেন।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন,বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।
এ সময় টুকু বলেন, যারা এদেশে মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব চায় না, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করে নির্বাচনকে বানচাল করতে চায় তারাই শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলি চালিয়েছে। তাদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আমাদের এ ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র একমাত্র বিএনপির কাছে নিরাপদ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির সাথে রয়েছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিদায় করেছেন। আজ সমগ্র বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে স্বৈরাচার ও দোসরদের বিরুদ্ধে। আমরা শত শহীদের বিনিময়ে অর্জিত এই গণতন্ত্র যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবো ইনশাল্লাহ।