আরমান কবীর/সাহান হাসানঃ আগামী ৩১মে (শনিবার) টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২৫ (বিবিএফসি) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান গেয়ে দর্শকদের মাতাবেন নগর বাউল ব্র্যান্ডের রক তারকা জেমস।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান, বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫ এর চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক মিয়া।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান খান, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট আলী ইমাম তপন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদ হক সানু, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন দুরন্ত-১৬ ব্যাচের অসিফ তুষার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০১৬ সালে বিন্দুবাসিনীর ২০০৮ সালের এসএসসি ব্যাচের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এই বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন শুরু করা হয়। এ বছর এই চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হচ্ছে দুরন্ত-১৬ (এসএসসি ব্যাচ-২০১৬)। এবারের আসরে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের মোট ২৫টি দল অংশগ্রহণ করবে।
লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, আগামী ৩১মে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্য দিয়ে বিবিএফসি-২০২৫ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে । ঈদুল আজহার পরবর্তী তিনদিনব্যাপী এই টুর্নামেন্ট চলবে। টুর্নামেন্টের সমাপ্তি হবে চূড়ান্ত পর্ব ও জমকলো সমাপ্তি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীর টাঙ্গাইলে প্রেমিকাকে(২৫) ভিডিও কলে রেখে এক কিশোর প্রেমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরকিয়া প্রেমের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই প্রেমিকাকে গাছে বেঁধে রাখে স্থানীয়রা । পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তানভীর আহমেদ।
নিহত ঐ কিশোরের নাম রাসেল মিয়া (১৬)। সে দরুন উত্তর পাড়া এলাকার মোঃ চাঁন মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। রাসেল পেশায় একজন অটোরিকশা মেকানিক ছিল।
স্থানীয়রা জানায়,প্রেমের সম্পর্ক ছিল রাসেল ও স্থানীয় মারিয়ার মধ্যে। মারিয়ার বিয়ে হয়ে গেছে এক প্রফেসরের সঙ্গে এবং একটি ছেলেও আছে তাদের। এদিন হঠাৎ সকাল ১১টার সময় খবর পাই রাসেল আত্মহত্যা করেছে। তখন মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে দেখতে পাই মারিয়ার সঙ্গে কথোপকথন।
রাসেল ও মারিয়ার মধ্যে ঝগড়া চলছিল মনে হয়। রাসেল আত্মহত্যা করার সময় মারিয়ার সঙ্গে কথাও বলেছে। আত্মহত্যার বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। অপরদিকে, প্রেমিকা মারিয়াকে এলাকাবাসী আটক করে গাছের সঙ্গে বেধে রাখে।
নিহতের পিতা চাঁন মিয়া জানান, তিনি ঈদ উপলক্ষে তার বড় ছেলের শশুর বাড়ী ঘাটাইল বেড়াতে গিয়েছিলেন। টাঙ্গাইলের অন্য একটি বাড়িতে তার স্ত্রী ও মেঝ ছেলে ছিল । ছোট ছেলে রাসেল একাই বাড়িতে ছিল। বুধবার সকালে তার মেঝ ছেলে বাড়ি গিয়ে রাসেলের ঘর ভিতর থেকে বন্ধ দেখে, বাহির থেকে ডাকাডাকি শুরু করে। রাসেলের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে তারা ঘরের খোলা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে রাসেলকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখে। পরে তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে ঘরের দরজা ভেঙে রাসেলকে সিলিং ফ্যান থেকে নামিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
তিনি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে রাসেল অভিমান করে মঙ্গলবার বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিট থেকে বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে যে কোন সময় আত্মহত্যা করেছে।আমি এই ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছি।
টাঙ্গাইল সদর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পিতা চাঁন মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীরঃ ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেই কোনো যানজট। কোথাও কোনো ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়লেও স্বাভাবিক গতিতেই চলছে যানবাহন।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বিকেলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেকটা কম থাকলেও সময়ের সাথে সাথে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। মহাসড়কে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। মহাসড়কে কোন যানজট নেই। যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দে যার যার কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌছাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদযাত্রায় মহাসড়কে দ্বিগুণ হয়েছে যানবাহনের সংখ্যা, যাত্রীবাহী বাস ছাড়াও ট্রাক, পিকআপ, বিভিন্ন সড়কের লোকাল বাস, লেগুনায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। যানবাহনে করে গন্তব্যে যাচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও পুরুষরা। পাশাপাশি যাত্রী পরিবহন করছে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার। মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ এবং ট্রাফিক পুলিশ নিরলস কাজ করছে।
এছাড়াও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর টহলও পরিলক্ষিত হয়।
জানা যায়, মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সুবিধা থাকলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চারলেন প্রকল্পের দুই লেনের কাজ চলমান রয়েছে। যার ফলে চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে আসতে পারলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রাস্তায় ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েই গেছে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ জানান, মহাসড়কে স্বাভাবিক ভাবেই যানবাহন চলাচল করছে। রাস্তায় যানবাহনের চাপ থাকলেও কোন যানজট নেই। যানজট যাতে না হয় সেজন্য হাইওয়ে পুলিশ ২৪ ঘন্টা নিরলস ভাবে কাজ করেছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পর্যাপ্ত পরিমাণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদ জেলা শাখার ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ মার্চ) বিকেলে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের হলরুমে আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলার সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ, আলোকিত কালিহাতীর সভাপতি ও দৈনিক যুগধারার নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল আলীম, দৈনিক আজকের টেলিগ্রামের সম্পাদক সাহাব উদ্দিন মানিক।
ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাপ্তাহিক ইন্তিজারের সম্পাদক এবি এম আব্দুল হাই, সময় তরঙ্গের সম্পাদক কাজী হেমায়েত হোসেন হিমু, দৈনিক টাঙ্গাইল প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক মো. মোস্তাক হোসেন, দৈনিক টাঙ্গাইল সমাচারের সম্পাদক মো. মাসুদুল হক, সাপ্তাহিক সমাজ চিত্রের সম্পাদক মামুনুর রহমান, সাপ্তাহিক লোকধারার সম্পাদক এনামুল হক দীনা, সাপ্তাহিক পাপিয়ার সম্পাদক সেলিম তরফদার, সাপ্তাহিক জাহাজমারার সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান, সাপ্তাহিক কালেরস্বরের সম্পাদক কবি শামছুজ্জামান, সাপ্তাহিক আমাদের টাঙ্গাইলের সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগধারা পত্রিকার সম্পাদক সরকার হাবিব।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের বহুল প্রচারিত পাঠক প্রিয় সাপ্তাহিক সমাজ চিত্র পত্রিকার ৩য় বর্ষে পর্দাপণ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপদযাপণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ইয়াসির আরাফাত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজয়ান।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, মানবজমিন পত্রিকার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি কবি বুলবুল খান মাহবুব, নিউ এইজ পত্রিকার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি হাবিব খান, ডেইলি স্টার পত্রিকার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মির্জা শাকিল ও একুশে টেলিভিশনের কাজী রিপন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সাপ্তাহিক সমাজ চিত্র পত্রিকার সম্পাদক মামুনুর রহমান মামুন।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের পাঠাগার ও দপ্তর সম্পাদক অরণ্য ইমতিয়াজ।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ যথাযথ মর্যাদায় টাঙ্গাইলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। ২৬ মার্চ (বুধবার) সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের শুরু হয়।
এরপর ভোরে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসন শরিফা হক, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক মনোজ্ঞ কুচকাওয়াচ ও শরীর চর্চা প্রর্দশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক শরিফা হক। পরে কুচকাওয়াচে জেলা পুলিশ, আনসার-ভিডিপিসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।
এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি টাঙ্গাইল জেলা শাখা, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
সাহান হাসানঃ ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার) গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ (বুধবার) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে গণহত্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক হামিদুল হক মোহন বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যথানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। এটাই সঠিক ইতিহাস নয়। মুক্তিযুদ্ধে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীসহ আরো অনেকের অবদানও কম ছিল না। এ সব বিষয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জানতে দেওয়া হয়নি। এ জন্য তিনি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জেনে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু এক রাতের হত্যাকান্ডই ছিলনা, এটা ছিল মূলতঃ বিশ্ব সভ্যতার জন্য এক কলংকজনক জঘন্যতম গণহত্যার সূচনা মাত্র। ২৫ মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা গণহত্যার ইতিহাসে এক জঘন্যতম ভয়াবহ ঘটনা।
বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, আ.ন.ম বজলুর রহমান প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রচনা ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বই বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ চব্বিশের আন্দোলনে সকল শহীদ ও আহতদের স্মরণে দোয়া ও নতুন বাংলাদেশের মঙ্গল কামনায় ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন টাঙ্গাইল জেলা।
রবিবার (২৩ মার্চ) বিকালে টাঙ্গাইল শহীদ স্বৃতি পৌরউদ্যানে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক আলামিন, সদস্য সচিব আবু আহমেদ শেরশাহ, মূখ্য সংগঠক সৈয়দ ইমতিয়াজ জাবেদ, মূখপাত্র ইফফাত রাইসা নূহা, সিনিয়র যুগ্ম সাইদুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব সেজান প্রমূখ।
ইফতারপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আলামিন বলেন, যেমনভাবে আমরা হাতে-হাত রেখে, কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে স্বৈরাচার পতন করেছি, তেমনি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবো৷ একইসাথে সকল রাজনৈতিক সংগঠককে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি জারি রাখার আহ্বান জানাই। গত জুলাই-আগস্টের মতো আমাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সবাইকে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত হওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে রঞ্জু খন্দকার (৩৫) নামের এক মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৩ মার্চ) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার (২২ মার্চ) রাতে উপজেলার কাশিল পশ্চিমপাড়া এলাকার মনির খানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রঞ্জু খন্দকার জেলার ভূঞাপুর উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামের রাজ্জাক খন্দকারের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল শহরের বৃজ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কাশিল পশ্চিমপাড়া এলাকার মনির খানের মাদকাসক্ত ছেলে ফরিদ খানকে টাঙ্গাইল শহরের বৃজ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে যোগাযোগ করেন। সেই প্রেক্ষিতে গত শনিবার (২২ মার্চ) রাতে বৃজ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের ছয় জন ব্যক্তি মনির খানের বাড়িতে যান। পরে মনিরের ছেলে ফরিদকে ঘর থেকে বের করার সময় তার চিৎকারে পাশের বাড়ির পলাশ, রিপন ও তালেব খানসহ কয়েকজন এগিয়ে আসে। পরে ফরিদ, পলাশ, রিপন ও তালেব খানসহ কয়েকজনে মিলে বৃজ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের ওপর অতর্কিহামলা চালায়। এ সময় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের কর্মচারী রঞ্জু খন্দকার মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। সেখানে তার সঙ্গে থাকা অপর লোকজন স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিরাময় কেন্দ্রের আরও চারজন আহত হন।
এদিকে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২৩ মার্চ) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে রঞ্জু খন্দকারের মৃত্যু হয়। পরে সোমবার (২৪ মার্চ) সকালে তার লাশ বাসাইল থানায় আনা হয়। পুলিশ তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফরিদ ও পলাশ মাদক কারবারি বলে স্থানীয়দের দাবি।
টাঙ্গাইল শহরের বৃজ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের মালিক খন্দকার মজিবর রহমান তপন বলেন, মাদকাসক্ত ফরিদকে বৃজ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে দেওয়ার জন্য তার বাবা মনির খান আমাদের কাছে আবেদন করেন। সেই প্রেক্ষিতে আমাদের মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের ছয়জন ফরিদকে আনতে তাদের বাড়িতে যান। সেখানে ফরিদকে আনার জন্য চেষ্টা করলে আমাদের লোকজনের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রঞ্জুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিসি) ইফতার মাহফিলে ও কেন্দ্রীয নেতাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২২ মার্চ) বিকালে টাঙ্গাইলে শিশু একাডেমী অডিটোরিয়ামে এ সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মূখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, যুগ্ম মূখ্য সংগঠক আলী নাসের, মুখ্য যুগ্ম সংগঠক অলিক, সংগঠক আজাদ খান ভাসানী, কেন্দ্রীয় সদস্য মেজর সালাউদ্দিন, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আগামী দিনে অবশ্যই নাগরিক পার্টির বিকল্প নেই। তাই আগামী দিনে সবাই পার্টির পাশে থাকবেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির টাঙ্গাইল জেলার সংগঠক মাসুদুর রহমান রাসেল।স
আরমান কবীরঃ ফিলিস্তিনের গাজায় গণহত্যা ও ভারতের নাগপুরে মুসলিম নিপীড়নের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২১ মার্চ) দুপুরে জুমার নামাজের পর টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় মিছিলে তৌহিদি জনতার ব্যানারে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস ও সাধারণ ছাত্র-জনতা।
বিক্ষোভ মিছিলে স্লোগান দেওয়া হয়, ফিলিস্তিনের গাজায় হামলা কেন, জাতিসংঘ জবাব চাই, ভারতের নাগপুরে মুসলিম নিপীড়ন কেন, জাতিসংঘ জবাব চাই? বয়কট বয়কট ইসরায়েল বয়কট, বয়কট বয়কট ভারত বয়কট।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, খেলাফতে মজলিসের টাঙ্গাইলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনসার আলী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির কল্যাণ ও অর্থ সম্পাদক এস এম কামরুল ইসলামসহ তৌহিদি জনতা।
এদিকে ফিলিস্তিনের সাধারণ অধিবাসীদের ওপর ইসরাইলের নৃশংস হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

শুক্রবার (২১ মার্চ) বাদ জুমা জেলা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে শহরের কলেজ মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন, ইসলামি ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি মাজহারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, অর্থ সম্পাদক আব্দুল আলিম প্রমুখ। এসময় ছাত্রশিবিরের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আমরা কবীরঃ টাঙ্গাইলে ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের করা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকায় দুপুর পৌনে ১২টা থেকে শুরু করে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে।
এই মহাসড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গমুখী দু’পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, মঙ্গলবার হাইকোর্ট ৩০ শতাংশ পদ দিয়ে ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের পদন্নোতির পক্ষে রায় দিয়েছেন। এতে তারা প্রমোশন পেয়ে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হবে। আর এই পদটি হচ্ছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য। যারা ডিপ্লোমা পাস করে বের হবে তাদের চাকরির শূন্য পদ ৩০ শতাংশ কমে গেল। হাইকোর্টের এমন রায় টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে আমরা টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীদের সব ক্লাস এবং চলমান পর্ব মধ্য পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বর্জন করছি। দাবি না মানলে মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করব না।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।