আরমান কবীরঃ দেশের পরিবেশ রক্ষায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ রোপন করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (২২ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার ধুলেরচর মাদ্রাসা, গালা ইউনিয়নের আহসানুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়, রসুলপুর বাছিরন নেছা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা রোপন করা হয় ।
এসময় সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আমাদের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান থাকবে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলাকে একটি আদর্শিক টাঙ্গাইল হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। কোন চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের জায়গা এই টাঙ্গাইলে হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিক, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদ আলম রাশেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় হোড় শুভ প্রমুখ।
এই বৃক্ষ রোপন কর্মসূচীতে ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপি ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রয়াত সামসুল হকের স্মরণে শামসুল হক স্মৃতি মিনি ফ্লাট লাইট ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে শামছুল হক স্মৃতি সংসদের আয়োজনে ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের (ডিএফএ) সার্বিক সহযোগিতায় টুর্নামেন্টির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল ডিএফএ এর সভাপতি এডভোকেট আলী ইমাম তপন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলি, জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন টাঙ্গাইল জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল-আমিন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, শামসুল হক স্মৃতি মিনি ফ্লাট লাইট ফুটবল টুর্নামেন্টের আহবায়ক ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।
এই উদ্বোধনী খেলায় অংশগ্রহণ করেন, সুপ্রভাত রাইডার্স বনাম হেলিপ্যাড লায়ন’স ও ভাসানী ক্লাব বনাম টাইগার সুলতানা স্পোর্টিং ক্লাব।
এই টুর্নামেন্টে চারটি গ্রুপে মোট ১৭টি দল অংশগ্রহণ করছে। আগামী ৮ জুলাই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলো হচ্ছে, গ্রুপ-ক : শতায়ু অঙ্গন ক্লাব, সোনালী সকাল ক্রীড়া সংঘ, আরামবাগ ক্লাব, শুভ সকাল ক্লাব।
গ্রুপ-খ : সুপ্রভাত রাইডার্স, হেলিপ্যাড লায়ন্স, হেলিপ্যাড টাইগার’স, ফতেপুর পল্লীমা সংস্কৃতিক সংসদ।
গ্রুপ-গ: দেহঘড়ি শরীর চর্চা ক্লাব, নুরা পরিবার ক্লাব, সু-প্রভাত জুনিয়র, পার্ক বাজার সমবায় সমিতি লিমিটেড।
গ্রুপ-ঘ : ভাসানী ক্লাব, টাইগার সুলতানা স্পোর্টিং ক্লাব, সৈয়দ জালাল ক্লাব, সুপ্রভাত কিংস, অফিসার্স ক্লাব টাঙ্গাইল।
উল্লেখ্য, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর জামাতা শামসুল হক টাঙ্গাইল পৌরসভার দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৯০ সাল ও ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইল পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৮ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। মরহুম সামসুল হক টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুর পিতা।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের ‘পোড়াবাড়ী জনকল্যাণ সংস্থার’ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন মো. রাজিবুল ইসলাম রানা ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. আকিবুর রহমান।
শুক্রবার (৬ জুন) সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের বড় বেলতা ঈদগাহ্ মাঠে এই কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর সিকদার, সহ-সভাপতি মো. ইব্রাহিম মিয়া, মো. বুলবুল হাসান, মো. সুমন জোয়ারদার, মো. সমশের আলী, মো. রেজাউল করিম, মো. রুবেল মিয়া, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. সুমন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন জোয়ারদার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম রানা, মো. উজ্জ্বল হাসান, মো. মুছা বেপারি, মো. পারভেজ মিয়া, মো. লালন মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসিফ, মো. রকি, কোষাধক্ষ রাসেল রানা, দপ্তর সম্পাদক মো. খোকোন মিয়া, আইন সম্পাদক হৃদয় মিয়া, প্রচার সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, ক্রিয়া সম্পাদক মো. সোহেল রানা।

সাধারণ সদস্যরা হলেন, হৃদয় হাসান, সবুজ খান, মনিরুল ইসলাম, মো. সুজাত হাসান, মো. মানিক মিয়া, মো. জাহিদ হাসান, মো. রিপন সিকদার, মো. মাসুদ মিয়া, মো. মুসতাক হাসান, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. সজিব হাসান, মো. আজাদ মিয়া, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. সাদ্দাম হোসেন, মো. সোহেল রানা, মো. মেহেদী হাসান, মো. সেরাজুল ইসলাম, মো. আজিজুল ইসলাম, মো. রাজিব হাসান, মো. শাকিল হাসান, মো. জুয়েল রানা, মো. সোহেল রানা, মো. মাজিদুল ইসলাম।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের গোল চত্বর বিএনপি কার্যালয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাহমুদনগর ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী মহিলাদল আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমানের সঞ্চালনায়
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজ করিম, সদর থানা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার কবিরুজ্জামান কবির, সদস্য সচিব ইকবাল তালুকদার প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে মহিলা কর্মীদের হাতে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী তুলে দেন নেতৃবৃন্দরা।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বিবেকানন্দ হাই স্কুল এন্ড কলেজের (ভিএফসি) ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১১ জুন) রাতে টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভিএফসির চেয়ারম্যান ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, যুবদলের আহবায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সিনিয়র- যুগ্ম আহবায়ক জাহিদ হাসান মালা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই এই ফুটবল টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণকারী সকল দলের জার্সি উন্মোচন করা হয়। একই সাথে টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করেন অতিথিবৃন্দ।
পরে বিবেকানন্দ স্কুলের শিক্ষার্থী, টাঙ্গাইল ক্লাব রোড ব্যান্ড ও জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘ওয়ারফেজ’ সঙ্গীত পরিবেশন করে।
এই জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে পৌর উদ্যানকে মুখরিত করে তোলে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া এলাকার যৌনপল্লিতে বাসনা আক্তার (১৯) নামে এক যৌনকর্মীর রহস্য জনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
মঙ্গলবার (১০ জুন) বিকেল আনুমানিক ৫ টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। তবে যৌনকর্মীদের অভিযোগ বাসনা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তার কথিত প্রেমিক মাসুদ।
তবে পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটির বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে।
জানা গেছে, বাসনা আক্তারের মা-বাবা নেই। ছোটবেলা থেকেই শহরের কান্দাপাড়া যৌনপল্লিতে বড় হয়েছে সে। পরে সেখানেই যৌনকর্মী হিসেবে যোগ দেন তিনি। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চর খিদিরপুর গ্রামের মৃত মোঃ লাল মিয়ার ছেলে মাসুদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বাসনা। মাসুদ পেশায় একজন রিকশাচালক।
ঘটনা প্রসঙ্গে কর্মরত যৌনকর্মীরা জানায়, প্রতিনিয়তই বাসনার ঘরে যাতায়াত করতেন মাসুদ। তাদের মধ্যে প্রায় সব সময়ই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। মঙ্গলবার দুপুরে মাসুদকে বাসনা কয়েকবার ফোন দিয়ে আসতে বলেন। বারবার ফোন দেওয়ার ফলে মাসুদ সেখানে আসতে বাধ্য হয়। পতিতালয়ের পাশেই বিক্রি হয় রেক্টিফাইড স্পিরিট। সেই দোকান থেকে মাসুদ রেক্টিফাইড স্পিরিট নিয়ে আসেন। তারপর তারা বেশ কিছুক্ষণ বাসনার ঘরে অবস্থান করেন। কিছুক্ষণ পরে মাসুদ ডাক চিৎকার শুরু করেন। তার ডাক চিৎকারে আশেপাশের যৌনকর্মীরা বাসনার ঘরের কাছে ছুটে আসেন। তারা এসে বাসনাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা মাসুদকে ঘরের বাহিরে এনে হাত-পা বেঁধে মারধর করেন। ঘরের মালিক টাঙ্গাইল সদর থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্ত মাসুদকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তানবীর আহাম্মেদ মুঠোফোনে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা একটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাসনা আক্তারের কথিত প্রেমিক মাসুদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আরমান কবীরঃ যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আযহা’র জেলার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭জুন)সকাল আটটায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মুফতি সোলাইমান, নামাজ শেষে দেশ-জাতির কল্যান কামনা ও বিশ্বের মুসলিম উম্মার জন্য দোয়া করা হয়।
ঈদ জামাত শেষে একে অপরের সাথে কোলা-কুলি ও কুশল বিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইলের উপপরিচালক ও টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক মো: শিহাব রায়হান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: আব্দুল্যাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: মাহবুব হাসান, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।
এ ছাড়াও জেলার এই প্রধান ঈদ জামাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নানা শ্রেণী পেশার সহস্রাধিক মানুষ এতে অংশ নেয়।
প্রসঙ্গত,টাঙ্গাইল জেলার এবার ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ৫৩২টি ঈদগাঁ মাঠে শনিবার (৭ জুন) সকালে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে কালিহাতী উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৪২টি এবং ধনবাড়ী উপজেলায় সর্বনিম্ন ১৬টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এ হিসাবের বাইরেও গ্রাম-পাড়া-মহল্লার অনেক স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আরমান কবীরঃ আর মাত্র কয়েক দিন পরেই মুসলমানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব ‘ঈদুল আজহা’। এই উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা কোরবানীর পশু ক্রয়ের জন্য বিভিন্ন হাটে হাটে দোড়ঝাপ শুরু করেছেন। অন্যদিকে, কোরবানির পশু জবাই ও মাংস বানানোর জন্য বিভিন্ন সরঞ্জামাদি বানাতে ও কিনতে ছুটছেন কামারের দোকান গুলোতে। তবে কামাররা জানান, এখনো আশানুরূপ ক্রেতার দেখা মিলছে না দোকান গুলোতে।
সরেজমিনে টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের কামারের দোকান গুলো ঘুরে দেখা যায়, দা, বটি, চাপাতি, ছুরি, দেশি কুড়াল,চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদির পসরা সাজিয়ে বসে আছেন কামাররা।
ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও জমে উঠেনি আগের মতো কামারিদের দোকানগুলো। কামার শিল্পীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ২’শ থেকে ৩’শ টাকা, দা ৬’শ থেকে ৯’শ টাকা, বটি ৯’শ থেকে হাজারেরও উপরে, পশু জবাই ছুরি ৮’শ থেকে দেড় হাজার টাকা, চাইনিজ কুড়াল ৮’শ, দেশিও কুড়াল ৬’শ টাকা দরে বিক্রি করছেন তারা।
তাদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, তাদের সকলেরই পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া এ পেশা। তাই তারা ঐতিহ্য হিসাবে ধরে রাখছেন এ পেশাকে।
কামার সত্যরঞ্জন দাস ও উদয় সরকারের সাথে কথা হয়। তাঁরা ৪০ বছর ধরে এই পেশার সাথে জড়িত।
তারা জানান, আগের মত আর তেমন কাজ নেই। এখন আমাদের এ পেশায় নুন আনতে পানতা ফুরানোর মত অবস্থা। সারা বছর কাজ না থাকায় মুসলমানদের ধর্মীয় এ উৎসবের অপেক্ষায় থাকি। তাতে কিছুটা হলেও পুষিয়ে উঠা যায়। বাপ-দাদার পেশা, এ পেশাই জীবন বাঁচাই, ছাড়তেও পারি না। তারপরেও কয়লার দাম বেশী হওয়ায় আমাদের হিমশিম খেতে হয়। এর সাথে কাজ করা লোক ও এখন আর পাওয়া যায় না, পরিশ্রম বেশি তাই এ পেশা থেকে লোক সরে যাচ্ছে । আগে কয়লা ও লোহার দাম কম ছিল তাই খাটা খাটনি করে ভালো দাম পাওয়া যেত। এখন তেমন টা হয় না।
তারা আরও বলেন, বাপ দাদার পৈত্তিক এই পেশায় জীবন বাঁচানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি সরকার। তাই পেটের দায়ে পৈত্রিক পেশা ছেড়ে বাধ্য হয়ে অনেকেই এখন অন্য পেশায় ঝুকছেন।
টাঙ্গাইল পার্ক বাজারে কথা হয় জেলা সদর থেকে আসা ক্রেতা আব্দুর রহমানের সাথে তিনি জানান, গরু কোরবানীর জন্য দা, ছুরি ও চাপাতির অর্ডার দিয়েছি। ঈদ আসলে দাম একটু বাড়ে। তবুও আমাদের বানাতে হয়। কোরবানীর পশু কেনার যে সময় লাগে এখন তার চেয়ে বেশী সময় লাগে সরঞ্জামাদি বানাতে ।
তিনি আরও বলেন, তবে গতবারের তুলনায় এবার দাম একটু কম বলেই মনে হচ্ছে। এছাড়া এবার কামারের দোকান গুলোতে ভীড়ও কম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলায় ২ লাখ ১১ হাজার ৯৭৪টি কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০টি পশু। তবে জেলায় কত পরিবার কামার পেশার সাথে যুক্ত আছেন সে তথ্য জানাতে পারেননি সরকারের সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান দপ্তর।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জাতীয় পার্টির (কাদের) চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের রংপুরের বাসভবনে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) সকালে শহরের ছয়আনী বাজার রোডস্থ পার্টি কার্যালয়ে জেলা জাতীয় পার্টির আয়োজনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টি জেলা কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান যুবরাজ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, দপ্তর সম্পাদক হুমায়ুন কবির, জাতীয় মহিলা পার্টি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মনোয়ারা খন্দকার প্রমুখ।
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সলিমুল্লাহ খান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের রংপুরের বাসভবনে হামলার ঘটনাটি কাপুরুষিত ঘটনা। অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।অন্যথায় এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত দেবে টাঙ্গাইল জেলা কমিটির উদ্যোগে সেটা কঠোরভাবে পালন করা হবে বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করা হয় প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় পার্টি শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন করেছে। এই আন্দোলনে দলের নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করে। তারপরও জাতীয় পার্টিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলাটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
প্রতিবাদ সমাবেশে জাতীয় পার্টির টাঙ্গাইল জেলা শাখা ও উপজেলা কমিটির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ওএসডি হওয়া শিক্ষক নাদিরা ইয়াসমিনকে টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত কলেজে বদলির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
সোমবার (২ জুন) সকালে কলেজের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীরা ওই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। এসময় শিক্ষার্থীরা নাদিরা ইয়াসমিনকে যোগদান করতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তাকে চাকরিচ্যূত করার দাবি জানান।
কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন, কলেজের শিক্ষার্থী ফাহাদ, জিয়াদ মিয়া, শাহরিয়ার, তরিকুল ইসলাম টুটুল প্রমুখ।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, নাদিরা ইয়াসমিন ইসলাম ধর্ম, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া কুরআনের উত্তরাধিকার আইন নিয়েও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন। ফলে তার উপস্থিতি কলেজের ধর্মীয় পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা কোনোভাবেই এমন বিতর্কিত শিক্ষককে কলেজে স্থান দেবো না।
পরে কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মিয়ার কাছে দুই দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করে শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, রবিবার (১ জুন) ধর্ম অবমাননার অভিযোগের পর ওএসডি হওয়া ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে সংযুক্ত থাকা সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিনকে টাঙ্গাইলের সা’দত সরকারি কলেজে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি জানাজানি হলে সন্ধ্যার পর থেকে সরকারি সা’দত সরকারি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে রবিবার রাত ৯টার দিকে কলেজের ওয়াজেদ আলী খান পন্নী হলের সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচি থেকে নাদিরা ইয়াসমিনের সরকারি সা’দত কলেজে যোগদানের প্রজ্ঞাপন ৪ জুনের আগেই বাতিলের দাবি জানান তারা।
সরকারি সা’দত কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ তালুকদার বলেন, বিষয়টি আসলে বিব্রতকর। যদি নাদিরা ইয়াসমিনকে যোগদানকে কেন্দ্র করে কোনো বাঁধা আসে, তাহলে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রয়োজনে যোগদান না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবো হবে।
এরআগে, ২৫ মে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের পর শিক্ষক নাদিরা ইয়াসমিনকে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই আবার নতুন আদেশে তাকে বদলি করা হয়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ‘হিস্যা’ নামে একটি ম্যাগাজিনে ‘বিতর্কিত লেখা’ ছাপানোর অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানায় হেফাজতে ইসলাম। হেফাজতে ইসলামের ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের’ আলটিমেটাম দেওয়ার পর নরসিংদী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিনকে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে রানা আহাম্মেদ নামের এক ঠিকাদারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও ফাঁকা গুলির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৬ মে) দুপুরে শহরের বেলটিয়াবাড়ী এলাকার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের বেলটিয়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত রানা আহাম্মেদ (৫৫) শহরের পলাশতলী এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারী পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী হাসান সাদিক বলেন, ‘রানাসহ আমরা পাঁচজন ঠিকাদার বেলটিয়া মোড়ের একটি চায়ের দোকানে একত্রে বসে ছিলাম। এসময় সন্ত্রাসীরা রানাকে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে রড দিয়ে পেটাতে শুরু করে। ভয়ে তার কাছে যেতে পারিনি। পরে আমাদের ডাক-চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে ৬ থেকে ৭ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দুইটি রিভলবার দিয়ে চার থেকে পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে দ্রুত একটি অটোরিকশায় করে রাবনা বাইপাসের দিকে চলে যায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রানা আহাম্মেদের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি পক্ষের সাথে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, জমি সংক্রান্ত বা ঠিকাদারী কোনো দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
হামলায় আহত রানা আহাম্মেদ বলেন, পেশাগত কাজে আমি বেলটিয়াবাড়ী মোড় বিদ্যুৎ অফিস থেকে বের হলে কয়েকজন সন্ত্রাসী আমাকে ঘিরে ধরে। তাদের মধ্যে দুইজন দুই দিক থেকে দুটি পিস্তল আমার মাথায় ঠেকায়, তারপর ২ থেকে ৩ জন আমাকে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। পরে আমি মাটিতে লুটিয়ে পরি।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক হাশিম রেজা বলেন, তার শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
এই বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহম্মেদ জানান, ঘটনা শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়ে।ছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে টাঙ্গাইল থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশ।
রবিবার (২৫ মে) রাতে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম হায়দার রহমান জয় (২১)। সে টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সারুটিয়া এলাকার মো. নাহিদা মিয়ার ছেলে। জয় করটিয়া সাদা’ত কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র। বর্তমানে তার পরিবার টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার ছাতা মসজিদ সংলগ্ন মো. শিকদার মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানায় লিখিত অভিযোগটি করেন বিএনপি’র মহাসচিবের পক্ষে তার চাচাতো ভাই নূর-এ-শাহাদাৎ স্বজন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তানভীর আহাম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রবিবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের একটি দল হায়দার রহমান জয়কে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত জয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া জব্দকৃত মোবাইল ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় ল্যাবে পাঠানো হবে।
লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চাচাতো ভাই নূর-এ-শাহাদাৎ স্বজন উল্লেখ করেছেন, গত ১৭ মে ২০২৫ রাত আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি জানতে পারেন যে, ‘জয় খান’ (হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর : ০১৭০৪-৫৫৩০৫৫) নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এবং শাকিল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি (পরিচয় ও ঠিকানা অজ্ঞাত) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি তৈরি করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ভুয়া আইডি ব্যবহার করে প্রতারকচক্র নিজেদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং সংসদ সদস্যের মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চাঁদা দাবি করছিল। অভিযুক্তরা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে সাইবার স্পেসে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রূপ ধারণ করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তদবিরের কথা বলে অর্থ দাবি করছিলেন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। ভবিষ্যতে তার নাম ভাঙিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।
নূর-এ-শাহাদাৎ স্বজন জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই তাকে এ প্রতারণার বিষয়টি জানান। সে ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি৷
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরোয়ারে আলম খান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে হায়দার রহমান জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।