আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের রসুলপুরে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’ শুরু হয়েছে। স্থানীয় রসুলপুর বাছিরন নেছা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে রবিবার (২৭ এপ্রিল) পর্যন্ত। এই মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ (সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে) রসুলপুরে এই জামাই মেলা বসে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের অন্তত ৩০ গ্রামের জামাইয়েরা শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসেন। তারাই মেলার মূল আকর্ষণ। আর মেলায় জমায়েত হন ৩০ গ্রামের জামাইয়েরা। এ মেলার বয়স দেড়শ বছরেও বেশি হবে। এ এলাকার মানুষের কাছে ঈদ বা পূজাপার্বণের মতোই এই মেলা উৎসবের। মেলাটি বৈশাখী মেলা হিসেবে ব্রিটিশ আমলে শুরু হলেও এখন এটি ‘জামাই মেলা’ হিসেবে পরিচিত। মেলাকে সামনে রেখে রসুলপুর ও এর আশপাশের বিবাহিত মেয়েরা তাদের স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন। আর জামাইকে মেলা উপলক্ষে বরণ করে নেওয়ার জন্য শ্বশুর-শাশুড়িরা বেশ আগে থেকেই নেন নানা প্রস্তুতি। এছাড়া রসুলপুরসহ আশপাশের গ্রামের যুবকদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করা হয়ে থাকে। এতে করে মেলার পরিবেশ স্বাভাবিক থাকে।
এছাড়া মেলার দিন শাশুড়ি মেয়ের জামাইয়ের হাতে কিছু টাকা দেন। সেই টাকা দিয়ে জামাই বাজার করে এনে শ্বশুরবাড়ির লোকদের খাওয়ান। এ কারণেই মেলাটি ‘জামাই মেলা’ হিসেবে পরিচিত। তিন দিনে রসুলপুরসহ আশপাশের গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে এই মেলায়।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনী, মুড়ি-মুড়কি, আকড়ি, চিনির সাজ, বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকানসহ ছোট-বড় দেড় শতাধিক দোকান বসেছে। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন দোকানিরা। মিষ্টি জাতীয় পণ্যের দোকানও আছে। এছাড়া এ মেলায় একাধিক ফার্নিচারের দোকানও বসেছে। বড়দের পাশাপাশি ছোট ছেলে-মেয়েরাও এ মেলা উপভোগ করছে। তবে মেলার স্থানটি ছোট হওয়ায় ও প্রচন্ড গরমের কারণে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নাজেহাল অবস্থা। এছাড়া শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়াতে মেলায় তিল ধারনের জায়গা নেই। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে মেলায় ঢুকতে না পেরে মন খারাপ করে ফিরে চলে যাচ্ছে। এদিকে মেলায় কোন ধরনের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই পাশের পেট্রলপাম্পসহ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশেই গাড়ি রেখে মেলায় প্রবেশ করছে।
স্থানীয় রসুলপুর গ্রামের রবীন মিয়া বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখনও দাদার কাছে এই মেলার কথা শুনেছি। বাড়ির মেয়ের জামাইরা মেলাকে কেন্দ্র করে বাড়ি আসায় ও মহাসড়কের পাশে হওয়ায় মেলাটি প্রতিবছর জমে উঠে। এটি টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও বড় মেলা।
কালিহাতী থেকে আসা আদর ঘোষ (এলাকার জামাই) বলেন, প্রতিবছরই আমরা শ্বশুরবাড়ি থেকে মেলায় আসার দাওয়াত পাই। এই মেলা আমাদের জামাইদের কাছে খুব আকর্ষণীয়। মেলাকে কেন্দ্র করে অনেক আত্মীয়র সঙ্গে দেখা হয়, তাদের সঙ্গে ভাব বিনিময় হয়। সব মিলিয়ে আমরা মেলার এই তিন দিন আনন্দে মেতে উঠি।
টাঙ্গাইল শহর থেকে মেলায় ঘুরতে আসা চাকরিজীবী শিরীন আক্তার বলেন, এই মেলাটি একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মেলা শুনে প্রথমবারের মত ঘুরতে এসেছি। তবে মেলায় কিছুটা অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আশাকরি, মেলা কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলিকে নজরে আনবেন। বিশেষ করে, যদি সম্ভব হয় মেলাটি আরো বড় জায়গায় আয়োজন করলে অনেক সুন্দরভাবে দর্শনার্থীরা এই মেলাটি উপভোগ করতে পারবে। আমি এই মেলার সর্বাঙ্গিন সাফল্য কামনা করছি।
মেলায় ঘুরতে আসা স্থানীয় আছমা বেগম বলেন, এটি টাঙ্গাইল জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। শুক্রবার দুপুর থেকেই নারী পুরুষ, শিশু থেকে বৃদ্ধ সব শ্রেণি পেশার মানুষ মেলায় ভিড় করছে। তারা বিভিন্নভাবে মেলায় বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখছেন। কেওবা তাদের পছন্দের সামগ্রী কেনাকাটা করছেন ।
মেলায় আসা আকড়ি ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, অন্যান্য কাজের পাশাপাশি মেলা আসলে একটু বাড়তি লাভের আশায় কয়েক বছর যাবত এই মেলায় আকড়ি বিক্রি করে আসছি। বর্তমানে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে আকড়ি বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যবসা ভালোই হচ্ছে। অন্যান্য মেলার চেয়ে এ মেলা অনেক নিরাপদ।
মেলা কমিটির আহ্বায়ক ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এবারের মেলায় দেড় শতাধিক দোকান বসেছে। এই মেলায় মিষ্টি জাতীয় খাবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। মেলায় খাবার আইটেম, খেলনাসহ বিভিন্ন ফার্নিচারও পাওয়া যায়। মেলায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মেলার নিরাপত্তার জন্য বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তবে প্রচন্ড গরম পড়ায় মেলায় আগত দর্শনার্থীদের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। এবছর অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি লোকজনের ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সাইফুল আলম (৪০) নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার ডুবাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল আলম টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাকরাইল পশ্চিম পাড়া এলাকার মৃত সাব্বির আহমেদের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে তিন টার দিকে সাইফুল আলম এক জেলেকে সাথে নিয়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাযোগে মির্জাপুরের একটি হ্যাচারিতে মাছের রেনু কিনতে যাচ্ছিলেন। মহাসড়কের ডুবাইল এলাকায় পৌঁছলে তিন ছিনতাই মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। সাইফুল আলম তাদের বাঁধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। পরে সাইফুল আলমকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেব খান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের উত্তরের প্রবেশদ্বার রাবনা বাইপাস ও দক্ষিণের প্রবেশদ্বার বেবিস্ট্যান্ড এলাকা। এই শতাব্দি প্রাচীন পৌর শহরের এই ২টি প্রবেশদ্বারে অপরিকল্পিতভাবে শহরের বর্জ্য ফেলে ময়লার ভাগারে পরিণত করেছে টাঙ্গাইল পৌর কর্তৃপক্ষ।
টাঙ্গাইল পৌর শহরের উত্তর কিংবা দক্ষিণ দিক দিয়ে নতুন কেউ প্রবেশ করলে এই জেলা শহর সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এছাড়া এই রাস্তায় চলাচলকারী শহরবাসীকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ সহ্য করে চলাচল করতে হয়। অনেকটা যেন দুর্গন্ধ দিয়ে তাদের আমন্ত্রণ জানায় এই পৌর শহরটি।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে খোলাস্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। দুর্গন্ধে স্থানীয় মানুষ ও পথচারীরা অতিষ্ট। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জোরালো দাবি থাকলেও এখনো করতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল পৌরসভাটি ১৮৮৭ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৯ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৌরসভায় ২ লাখেরও বেশি লোকের বসবাস। মোট ভোটার ১ লাখ ৪০ হাজার ২৩১ জন। এ পৌরসভায় ১৩৮ বছরেও গড়ে উঠেনি আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান। নেই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাবনা বাইপাসের রাস্তার পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে ময়লার স্তুপ। শহরের ময়লাগুলো পৌরসভার ভ্যানে করে খোলাভাবে ঢেলে ফেলা হচ্ছে। জেলার উত্তরের ৬ উপজেলা ও উত্তরবঙ্গের মানুষ শহরে যাতায়াত করেন এই সড়কটি দিয়ে। যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে নাকে কাপড় চেপে যাচ্ছেন। পথচারীরা এ এলাকায় একমিনিটের জন্যও দাঁড়াচ্ছেন না।
ময়লার মধ্যে পড়ে আছে গরু-শকুরের মরদেহ। এদিকে এরমধ্যেই টোকাইরা ময়লা থেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত জিনিস খুঁজছে।
অপরদিকে, শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ পাশের খালে প্রতিনিয়ত ময়লা ফেলা হচ্ছে। টাঙ্গাইলের নাগরপুরসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ কাগরামী সড়কে যাতায়াত করেন। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি এমএম আলী কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা এ পথেই চলাচল করেন। দুর্গন্ধে আশপাশের বসতি ও দোকানদারদের করুণ অবস্থা।
বেবিস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের কি যে খারাপ লাগে সেটা বলে বোঝোতে পারবো না। ঘরে থাকা, রান্না ও খাওয়া কিছুই তৃপ্তি সহকারে করতে পারিনা। অনেকবার বলেছি কোন লাভ হয়নি।
আসিফ হোসেন নামের এক স্কুল ছাত্র বলেন, এখান দিয়ে স্কুলে যাবার সময় দুর্গন্ধে পেট ফুলে যায়। বাতাসে দুর্গন্ধ বাড়িতে চলে আসে। এখানে ময়লা না ফেলার অনুরোধ করি।
রাবনা বাইপাস এলাকার দোকানদার সরোয়ার হোসেন বলেন, ময়লার জন্য দোকানে গ্রাহক আসতে চায় না। দোকানের খাবারের মধ্যে মাছি বসে। দোকানদারি করা খুব কষ্টের। তবুও পেটের দায়ে দুর্গন্ধের সাথে থাকতে হচ্ছে।
আকবর আলী নামের এক অটোরিকসা চালক বলেন, আমি এ সড়কেই প্রতিদিন গাড়ি চালাই। দুর্গন্ধে অবস্থা ভয়াবহ। যাত্রীরা উঠতে চায় না।
বারেক মিয়া নামে এক যাত্রী বলেন, শহরে ঢোকার মূল রাস্তায় এমন ভাগাড় সত্যিই অশোভন।
পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল। রাবনা বাইপাস এলাকা এবং কাগমারী এলাকায় যেভাবে বর্জ্য ডাম্পিং করা হচ্ছে তাতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। শহরের প্রবেশ পথে বর্জ্য ফেলার কারণে জীববৈচিত্রসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এভাবে ডাম্পিং বন্ধ করে পৌরসভার নিজস্ব জায়গায় ডাম্পিং করার দাবি করছি। পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষার্থে আইনি প্রয়োগও দরকার। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করে স্বাস্থ্য বান্ধব করতে পৌরসভাইে মূল ভূমিকা নিতে হবে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাইন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. সাইফুল্লাহ বলেন, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলার কারনে দুর্গন্ধ ও রোগ জীবানু ছড়ায়। ময়লার ভাগাড় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানকার মাটি হারাচ্ছে উর্বরতা। অন্যদিকে প্লাস্টিক বর্জ্য নালায় ঢুকে সৃষ্টি করছে জলাবদ্ধতা।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: সুজাউদ্দিন তালুকদার বলেন, খোলা ময়লা আবর্জনা থেকে রোগ জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে মানুষসহ পাখ-পাখালির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসে বিভিন্ন জটিল রোগ হতে পারে। বায়ু দূষনের কারনে এলার্জি এবং এজমার সমস্যা প্রকট হচ্ছে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। বাতাসে ভারী ধাতু ছড়িয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করছে। ফলে লিভার-কিডনির রোগ, ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, খোলা জায়গায় ময়লা আবর্জনা ফেলার কারনে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। বিগত সরকার এবং পৌর কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারনেই শতাব্দী প্রাচীন এই পৌরসভায় যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেনি।
টাঙ্গাইল পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শিহাব রায়হান বলেন বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের কাছে জায়গা চাওয়া আছে। সেইসাথে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে কাজ শুরু হবে। আশাকরি, খুব দ্রুতই ভোগান্তির সমাধান এবং শহরবাসী একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পাবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার আলোচিত নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহম্মেদ আজমীকে রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
১৭ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবয় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. কবীর উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়।
একই আদেশে রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ্জাহান আলীকে শিব্বির আহম্মেদ আজমীর স্থলে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, আগামী ২৯ এপ্রিলের (মঙ্গলবার) মধ্যে আজমীকে তার বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় আগামী ৩০ এপ্রিল (বুধবার) বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) বলে গণ্য হবেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে শিব্বির আহম্মেদ আজমী বলেন, ইতিমধ্যে আমি অফিস আদেশের কপিটি হাতে পেয়েছি। অফিস আদেশের নির্দেশ মোতাবেক নতুন কর্মস্থলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যোগদান করবো।
উল্লেখ্য, দুর্ণীতি প্রমানিত হওয়ার পরেও স্বপদে বহাল হয়েছিলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার আলোচিত বেড়াডোমা ব্রিজের দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহম্মেদ আজমী। বুধবার (১৬ এপ্রিল) লঘুদন্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সচিব মো.রেজাউল মাকসুদ জাহেদী স্বাক্ষরিত এক আদেশে তিনি বহাল হন। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে রাজধানীর নওহাটা পৌরসভায় বদলি করা হয়।
প্রকাশ, টাঙ্গাইল শহরের আলোচিত বেড়াডোমা ব্রিজের দায়িত্ব পালনকালে নির্মাণাধীন অবস্থায় ঢালাইকাজের পূর্বেই সেন্টারিং-এ ড্রইং ও ডিজাইন অনুসারে না করে গাছের বল্লী ও বাঁশের খুটি ব্যবহারে ঠিকাদারকে শুধু চিঠির মাধ্যমে নিষেধ করেন আজমী। ঢালাই কাজ বন্ধ না করে এবং ঢালাইয়ের সময় উপস্থিত না থাকায় চরম দায়িত্বে অবহেলা করেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহম্মেদ আজমী। একারণে টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৯৯২ সালের বিধি ৪০-এর উপ বিধি (ক) ও (খ) অনুয়ায়ী দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য ওই প্রকৌশলীর নামে বিভাগীয় মামলা (নং-৪/২০২৩) দায়ের করা হয়।
পরে মামলাটি ২০২৩ সালের ১১ জুলাই শুনানীতে অভিযোগ প্রমানিত হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি তদন্ত শুরু করলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হয় এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে বিভাগীয় কর্মকর্তা টাঙ্গাইল পৌরসভার বরখাস্তকৃত ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ, কারণ দর্শানোর জবাব, বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনাক্রমে বর্নিত দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় পৌরসভার কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা ১৯৯২ এর বিধি ৪০-এর উপ বিধি ক’ ও খ; অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা এবং অসদাচারনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পৌরসভার কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা ১৯৯২ এর বিধি ৪১-এর উপ বিধি (ই) অনুযায়ী আদেশ জারির তারিখ হতে ০১ (এক) বছরের জন্য বেতন বর্ধন স্থগিত রাখার লঘুদন্ড প্রদান করেন এবং বরখাস্তকালীন সময় অসাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে বহাল রাখেন তাকে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৩২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪), সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সাগরদীঘি বাজার থেকে ৩২ কেজি গাঁজাসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চট্রগ্রামের বুজপুর উপজেলার উদিয়া পাথর গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে ইব্রাহিম খলিল (৩৫) ও জোড়ারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সোনাই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে বেলাল হোসেন (২৮)।
র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল অফিস সুত্রে জানা যায়, র্যাবের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী-ভালুকা-ঘাটাইল আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত মেসার্স হাজী থাই এ্যালুমিনিয়াম এন্ড টাইলস হাউজের সামনে পাকা রাস্তার উপর হতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৩২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে । উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ৯,৬০,০০০/-(নয় লাখ ষাট হাজার টাকা)। এ সময় ৩২ কেজি গাঁজা ও মাদকদ্রব্য গাঁজা বহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক এবং গাড়িতে রক্ষিত ১৪ টন সরিষাসহ আটক করা হয়।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৪, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. কাওসার বাঁধন জানান, এ ঘটনায় ঘাটাইল থানায় মামলা দায়েরর্পূবক আসামী ও আলামত হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ দুর্ণীতি প্রমানিত হওয়ার পরেও স্বপদে বহাল হলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার বেড়াডোমা ব্রিজের দায়িত্বরত প্রকৌশলী শিব্বির আহম্মেদ আজমী। বুধবার (১৬ এপ্রিল) লঘুদন্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সচিব মো.রেজাউল মাকসুদ জাহেদী স্বাক্ষরিত এক আদেশে তিনি বহাল হন।
জানাযায়, টাঙ্গাইল শহরের আলোচিত বেড়াডোমা ব্রিজের দায়িত্ব পালনকালে নির্মাণাধীন অবস্থায় ঢালাইকাজের পূর্বেই সেন্টারিং-এ ড্রইং ও ডিজাইন অনুসারে না করে গাছের বল্লী ও বাঁশের খুটি ব্যবহারে ঠিকাদারকে শুধু চিঠির মাধ্যমে নিষেধ করেন তিনি। ঢালাই কাজ বন্ধ না করে এবং ঢালাইয়ের সময় উপস্থিত না থাকায় চরম দায়িত্বে অবহেলা করেন পৌর প্রকৌশলী শিব্বির আহম্মেদ আজমী। একারণে টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৯৯২ সালের বিধি ৪০-এর উপ বিধি (ক) ও (খ) অনুয়ায়ী দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য ওই প্রকৌশলীর নামে বিভাগীয় মামলা (নং-৪/২০২৩) দায়ের করা হয়।
পরে মামলাটি ২০২৩ সালের ১১ জুলাই শুনানীতে অভিযোগ প্রমানিত হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি তদন্ত শুরু করলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হয় এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে বিভাগীয় কর্মকর্তা টাঙ্গাইল পৌরসভার বরখাস্তকৃত ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ, কারণ দর্শানোর জবাব, বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনাক্রমে বর্নিত দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় পৌরসভার কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা ১৯৯২ এর বিধি ৪০-এর উপ বিধি ক’ ও খ; অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা এবং অসদাচারনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পৌরসভার কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা ১৯৯২ এর বিধি ৪১-এর উপ বিধি (ই) অনুযায়ী আদেশ জারির তারিখ হতে ০১ (এক) বছরের জন্য বেতন বর্ধন স্থগিত রাখার লঘুদন্ড প্রদান করেন এবং বরখাস্তকালীন সময় অসাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে বহাল রাখেন তাকে।
এদিকে, অভিযুক্ত ওই প্রকৌশলীকে বহালের খবরে টাঙ্গাইল পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এঘটনায় অভিযুক্ত টাঙ্গাইল পৌরভার প্রকৌশলী শিব্বর আহম্মেদ আজমী মুঠোফোনে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহতীত প্রমানিত হওয়ায় পৌর কর্মচারী আইন অনুযায়ী বিভাগীয় কর্মকর্তা বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে। তিনি রবিবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় যোগদান করবেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌসভার প্রসাশক মো. শিহাব রাহয়ান মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে পৌরসভার প্রকৌশলীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার হয়েছে। তবে অফিসিয়ালভাবে তিনি কোন চিঠি বা কাগজপত্র পাননি।
আরমান কবীরঃ ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের করা মামলায় হাইকোর্টের রায় বাতিলসহ ৬ দফা দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টাঙ্গাইল পলিটেকনিক থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের রাবনা বাইপাস এলাকা অবরোধ করে। এসময় মহাসড়কের দুই পাশে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের।
এর আগেও টাঙ্গাইল পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। তখন প্রশাসন তাদের আশ্বাস দিলে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করে।
এদিকে অবরোধের কারণে মহাসড়কের রাবনা বাইপাসের উভয়দিকে ১০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এক পর্যায়ে প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হলে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় শিক্ষার্থীরা।
পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা বলেন, সম্প্রতি হাইকোর্ট ৩০% পদ দিয়ে ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের পদোন্নোতির পক্ষে রায় দেয়। ফলে তারা প্রমোশন পেয়ে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হবে। আর এই পদটি হচ্ছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য। যারা ডিপ্লোমা পাস করে বের হবে তাদের চাকরির শূন্য পদ ৩০% কমে গেল। হাইকোর্টের এমন রায় টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না। হাইকোর্টের রায় বাতিল করতে হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে। এছাড়া ৬ দফা যে দাবি ঘোষণা করা হয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে।
অবরোধের ফলে মহাসড়কে পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রী ও চালকরা।
চালকরা জানান, শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। এতে যে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে সেটা চিন্তা করছে না।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো. শরীফ জানান, অবরোধের কারণে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরে অবরোধ তুলে নেয়ার পর দুপুর আড়াইটা থেকে যান চলাচল শুরু হয়।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রার পরিবর্তে শুধুমাত্র শোভাযাত্রা করেছি। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আগামীর বাংলাদেশ হবে গণতন্ত্রের বাংলাদেশ।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে নববর্ষের শোভাযাত্রা শেষে সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, সকলে মিলে সন্ত্রাস মুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত, নৈরাজ্য মুক্ত এবং কিশোর গ্যাং মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। পতিত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ দোসরদের প্রতি বিএনপি সচেতন রয়েছে এবং ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এর আগে শহরের শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন।
এ ছাড়া শোভাযাত্রায় জেলা বিএনপি সভাপতি হাসানুজ্জামান শাহীন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল , সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে ১৪৩২ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার সকালে একটি বর্ণাঢ্য রেলি বের করা হয়।রেলিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন করে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে জনসেবা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে লোকজ মেলা উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান,পৌর প্রশাসক শিহাব রায়হান প্রমূখ।
সোমবার সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে দিনটি উপলক্ষে জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য রেলি বের করা হয়। রেলিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে পুনরায় শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়। পরে এখানে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য লাঠি বারির আয়োজন করা হয়।
এ দিকে টাঙ্গাইলের পৌরসভার চাউল্ডহুড ও স্টার ওয়ার্ল্ডের আয়োজনে এ ঘোড়া রেলির আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নুরুল ইসলাম,রুবেল,মোহাব্বত হোসেন,মহিউদ্দিন সুমন,বাতেন,শামীম আল মামুন, শাফিউজ্জামান মোস্তফা প্রমূখ।
অন্যদিকে, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলা শুভ নববর্ষ ১লা বৈশাখ-১৪৩২ পালন করা হয়েছে।
সকাল ১০ টায় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল আজীম আখন্দ-এর নেতৃত্বে বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিন করে মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় সকল অনুষদের ডিনবৃন্দ, গ্রন্থাগারিক, শিক্ষার্থীকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, অফিস প্রধান এবং অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া নববর্ষ উপলক্ষে মুক্তমঞ্চে মাভাবিপ্রবি সাহিত্য সংসদের নববর্ষ বই মেলা, রোটারেক্ট ক্লাব অব মাওলানা ভাসানীর খেলাধুলা ও খাবারের দোকান, ধ্রুবতারার আয়োজনে পান্তা-ইলিশ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বা শেখ হাসিনা গণহত্যা করে টিকে থাকতে পারেনি। তেমনি গাজায় গণহত্যা চালিয়ে ইসরায়েলও টিকে থাকতে পারবে না।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলা ছাত্রদলের আয়োজনে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফিলিস্তিন মুসলিমদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কেউ এই গণহত্যা সমর্থন করে নাই। আমরা কোনো গণহত্যাকে প্রশ্রয় ও সমর্থন দেব না। আজকে সারা বিশ্বের মানুষ ইসরায়েলি পণ্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। ছাত্র জনতার আন্দোলনে খুনি হাসিনার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এখন তার দোসররা বিভিন্ন কায়দায় মিছিল থেকে দোকানপাটে হামলা ও লুটতরাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
টুকু আরও বলেন, যারা এই আন্দোলনের নামে ভাঙচুর লুটপাট করছেন তারা কখনো মুসলিম হতে পারেন না। যারা ভাঙচুর করছেন তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চান।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দূর্জয় হোড় শুভর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এম এ বাতেনের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশ আরও বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল ও সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ ফিলিস্তিনের গাজা ও রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর গণহত্যার প্রতিবাদে দিনব্যাপী বিক্ষোভে উত্তাল ছিল টাঙ্গাইল শহর।
সোমবার (৭ এপ্রিল) বৈশ্বিক ধর্মঘট কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে টাঙ্গাইলে দিনব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
দুই হাজারের বেশি ছাত্র-ছাত্রী সোমবার সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ফিলিস্তিনের গাজায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। পরে উপস্থিত পথচারীদের মাঝে ফিলিস্তিনের ওপর নৃশংসতার কথা ব্যক্ত করেন তারা।
পরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের ময়মনসিংহ রোড হয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়।
মিছিলের ধ্বনি ছিল ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহ্ আকবার, মুসলিমদের ওপর অত্যাচার বন্ধ হউক, ইহুদিরা নিপাত যাক। বিশাল এই মিছিলটি টাঙ্গাইলের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ব্যানারে আয়োজন করা হয়।
সোমবার বাদ জোহর একই দাবিতে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখা ও জেলা ইমাম মোয়াজ্জেম সমিতি। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।
এরপর বিকালে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার পক্ষ থেকে একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
একই দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ সমাবেশে করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন টাঙ্গাইল জেলা শাখা ও সৃষ্টি একাডেমিক স্কুল। এই মিছিলে সহস্রাধিক ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে।
আরমান কবীরঃ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল জেলা শাখার নেতা সাদ্দাম হোসেন (৩০) ওরফে স্বাক্ষর রাজধানী ঢাকার উওরায় পুলিশের এক মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।
বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন সোনারগাঁও রোডের জমজম টাওয়ারের সামনে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত সাদ্দাম হোসেন টাঙ্গাইল পৌর শহরের পূর্ব আদালত পাড়া এলাকার এডভোকেট মকবুল হোসেন চৌধুরীর ছেলে।
স্বাক্ষর টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির ও তার বড় ভাই টাঙ্গাইল শহর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্যও ছিলেন।
তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় ধারা-৩৬ (৫) মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানায় উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভির আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারের বিষয়টি আমি অবগত নই।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ আগষ্ট বড় মনিরের সাথে টাঙ্গাইল শহরের বড় কালী রোডে ছাত্র জনতার উপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় স্বাক্ষর। গত ৫ আগষ্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। স্বাক্ষর ছাত্র জনতার উপর হামলার মামলায় অভিযুক্ত আসামী।