একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পথসভা করেছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ।
বৃহস্পতিবার (২০জুলাই) রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বরর্শিলা বাজারে এই পথসভার আয়োজন করে ৫নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ।
গোপালপুর উপজেলা শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফখরুদ্দিন শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও ভুঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ।
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন, ভুঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সরন দত্ত, গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ–সভাপতি হারুন অর রশিদ তালুকদার গোপালপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক, ভুঞাপুর উপজেলা যুগ্ম সম্পাদক সাহিনুল ইসলাম তরফদার বাদল, জেলা পরিষদের সদস্য খায়রুল ইসলাম তালুকদার বাবলু, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বাছেদ মন্ডল, অজুর্না ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মোল্লা, আলমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হালিম উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বাক আশরাফুজ্জামান আজাদ, নজরুল ইসলামসহ গোপালপুর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীবৃন্দ।
পথসভায় বক্তারা বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদকে মনোনয়ন দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পরে সরকার উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে তৈরি লিফলেট বিতরণ করা হয় স্থানীয়দের মাঝে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরের কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি এলাকায় দুই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দূর্বত্তরা।
বৃহস্পতিবার(২০ জুলাই )ভোরে স্থানীয়রা লাশ দুটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। স্থানীয়দের ধারণা, মধ্য রাতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
নিহতরা হলেন, সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে শাহজালাল (৩৫) ও নবু মিয়ার ছেলে মজনু মিয়া (৪৫)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায় , শাহজালাল বাঘেরবাড়ি বাংলা বাজারে মুদি দোকান ও বিকাশের ব্যবসা করতো। রাতে দোকান বন্ধ করে ওই দুই ব্যবসায়ী বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয়। পরে তারা আর বাড়িতে ফিরেনি। মধ্যরাতে তারা একটি নির্জন স্থানে পৌছালে, দূর্বত্তরা তাদের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। সকালে স্থানীয়রা লাশ দুটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। লাশ দুটির পাশে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পড়ে ছিল।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ আমরা বাংলাদেশকে শান্ত রাখতে চাই, স্থিতিশীল রাখতে চাই, একটি নির্বাচিত সরকার সেই সরকারের বিরুদ্ধে এক দাবী করেছে বিএনপি পদত্যাগ, এটি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি মন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক।
শনিবার (১৫ জুলাই )সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে একদিনে ১লক্ষ গাছ রোপন ও পৌর উদ্যানে বৃক্ষ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, বিএনপিসহ অন্য বিরোধী দল যারা বলছে এই সরকার পদত্যাগ করবে তাদের স্বপ্ন দু:স্বপ্নে পরিনত হবে। একটি নির্বাচিত সরকার কোন দিনই কারো দাবীতে পদত্যাগ করবে না। ২০১৪ ও ১৫ তে তাদের সন্ত্রাস আমরা দেখেছি। সন্ত্রাসকে এই দেশের মানুষ মোকাবেলা করতে পেরেছে। ইনশাআল্লাহ যারা এই পদত্যাগের দাবী করছে তাদের দাবী কোনদিনো পূরন হবে না। এটি একটি হাস্যকর বিষয়। অতএব, তারা সহযোগিতা করতে পারে কিভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু করা যায়।
এসময় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র সিরাজুল হক আলমগীর, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমূখ।
একতার কণ্ঠঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে যমুনা নদীতে গত কয়েক সপ্তাহে আশঙ্কাজনকহারে পানি বৃষ্টির কারণে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অংশে ব্যাপক আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে বসত-ভিটা, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মসজিদ, মন্দির ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা বিলীন হচ্ছে নদী গর্ভে। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের ভাঙন কবলিত মানুষ। এসব ভাঙন কবলিত পরিবারের লোকজন বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এমন অবস্থায় ভয়াবহ ভাঙনের শিকার শতশত পরিবার দিশেহারা হয়ে ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সোমবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯ টায় বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-ভূঞাপুর-এলেঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে এই আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরোধ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ অবরোধ কর্মসূচি বেলা প্রায় ১২ টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধটি তুলে নেয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
এরআগে খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডল ও স্থানীয় কয়েকটি এলাকার ইউপি সদস্যরা মানববন্ধনে আসে। পরে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বেলাল হোসেন উপস্থিত হন। তিনি তাৎক্ষণিক ভাঙন কবলিত এলাকায় আরও দ্রুত সময়ের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় তারা। অবরোধের ফলে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।
বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব সোনা মন্ডল ও শফিকুল বলেন, গত প্রায় একমাস থেকে এই এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনে আমাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। আমরা এ এলাকার অসংখ্য পরিবার নিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজ নিজ বাড়ি রক্ষায় তবদির করে জিওব্যাগ ফেলছে। এনিয়ে কিছু বলাও যায় না। তাই আপাতত জিওব্যাগ ফেলাসহ এলাকার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডল বলেন, প্রতি বছর পাটিতাপাড়া, মাটিকাটা, কোনাবাড়ি, পলশিয়া, দোভায়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা যায়। এবারও ব্যাপকহারে নদীর তীর ভাঙছে। যার ফলে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে এবার অসংখ্য ঘরবাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙনরোধে দ্রুত সময়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে অচিরেই নদীপারের ওই গ্রামগুলো গিলে ফেলবে যমুনা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করছিল উত্তর পাটিতাপাড়া এলাকার ভাঙন কবলিত লোকজন। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে তাৎক্ষণিক ভাঙনরোধে আরও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া ও ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন। যারা বসতভিটা ও ঘর-বাড়ী হারিয়েছে তাদের তালিকা করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া বিষয়টি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, যমুনা নদী থেকে সারা বছরই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে গোবিন্দাসী, নিকরাইল, গাবসারা ও অর্জুনা ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। এতে প্রতি বছরই শতশত বসত-ভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা বিলীন হয়ে যায়। এতে দিশেহারা ও নিঃস্ব হন নদীপাড়ের শতশত মানুষ। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বার বার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
একতার কণ্ঠঃ প্রমত্তা যমুনা নদীতে নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধনের পর থেকে গত ২৬ বছরে ৭ হাজার ৮৭৯ কোটি ২৯ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
১৯৯৮ সালের জুন মাস থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত যানবাহন পারাপার থেকে এ টোল আদায় করা হয়- যা সেতু নির্মাণে বিনিয়োগের প্রায় দ্বিগুণ। বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, প্রথমে এ সেতুর নাম ছিল ‘যমুনা বহুমুখী সেতু’। পরে এর নামকরণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু সেতু’। এ সেতু ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। এর নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল ৩ হাজার ৭৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
সেতু নির্মাণকালে ২৫ বছরে বিনিয়োগের টাকা তুলে আনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের ৭ বছর আগেই এর নির্মাণ ব্যয় উঠে আসে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সড়কপথে যোগাযোগের জন্য ১৯৯৪ সালে যমুনা নদীর ওপর এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
সেতুটি যমুনা নদীর পূর্ব তীরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী(যদিও কাগজে-কলমে ভূঞাপুর) এবং পশ্চিম তীরে সিরাজগঞ্জকে সংযুক্ত করে। ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন উদ্বোধনের পর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পর এবারের ঈদুল আজহায় ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২৭ জুন রাত ১২টা থেকে ২৮ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৪৮৮টি গাড়ি সেতু পারাপারের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ২০০ টাকা টোল আদায় হয়। এর আগে ২০২১ সালের ১৩ মে ২৪ ঘণ্টায় ৫২ হাজার ৭৫৩টি যানবাহন পারাপারের বিপরীতে টোল আদায় হয় ২ কোটি ৯৯ লাখ ১৮ হাজার ২৪০ টাকা।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের(বাসেক) বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, ১৯৯৮ সালের জুন মাসে ৯৮ লাখ টাকা টোল আদায় হয়। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে ৬১ কোটি ২৭ লাখ, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে ৬৬ কোটি ৯৪ লাখ, ২০০০-০১ অর্থবছরে ৮২ কোটি ৮৪ লাখ, ২০০১-০২ অর্থবছরে ৯৩ কোটি ৫৮ লাখ, ২০০২-০৩ অর্থবছরে ১০৮ কোটি ৭২ লাখ, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ১৩১ কোটি ৮ লাখ, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১৫২ কোটি, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ১৯৭ কোটি ৯৭ লাখ, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১৭৩ কোটি ৭৬ লাখ, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২০১ কোটি ৯৬ লাখ, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ২১৪ কোটি ৪২ লাখ, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২৪২ কোটি ৯৯ লাখ, ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৬৭ কোটি ১০ লাখ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩০৬ কোটি ২৩ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩২৭ কোটি ৯৮ লাখ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩২৫ কোটি ৩৮ লাখ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩৫১ কোটি ১৪ লাখ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪০৪ কোটি ৮৮ লাখ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৮৬ কোটি ৫২ লাখ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫৪৩ কোটি ৮০ লাখ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৭৫ কোটি ৩৪ লাখ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৬০ কোটি ২৮ লাখ, ২০-২১ অর্থবছরে ৬৫৪ কোটি ৮২ লাখ, ২১-২২ অর্থবছরে ৭০৪ কোটি ৫৫ লাখ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬৮০ কোটি ৭৫ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের ২৩টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন ১৮-২০ হাজার যানবাহন সেতু দিয়ে পারাপার হয়। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের ছুটিতে পরিবহনের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে প্রাইভেটকারের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক কলেজ ছাত্র রাফি নিহত হয়েছে।
রোববার (২ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার ধোপাজানি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কলেজ ছাত্রের নাম আশরাফুল ইসলাম রাফি (২০)। সে উপজেলার দিঘর ইউনিয়নের দিঘর গ্রামের হাসাজানি গ্রামের জুয়েল হোসেন (বাবলু) এর ছেলে।
রাফি ঢাকার একটি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়ালেখা করতো। রাফির বাবা র্যাব এ কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার দুপুরে রাফি মোটরসাইকেলে যোগে দিঘর থেকে ঘাটাইল শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। দুপুর ১২ টার দিকে মহাসড়কের ধোপাজনি এলাকায় পৌঁছালে টাঙ্গাইলগামী একটি চলন্ত প্রাইভেটকারের সাথে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডান পাশের দরজায় গিয়ে লাগে । এতে মোটরসাইকেলটি দুমরে মুচড়ে যায় ও চালক রাফি মহাসড়কে ছিটকে পড়ে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এ প্রসঙ্গে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান ,কোন অভিযোগ না থাকায় ময়না তদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ রাত পোহালে ঈদ আজহা। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে ঘরমুখো মানুষ। ঢাকা-টাঙ্গাইল- বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়ায় মহাসড়কের ২৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই ২৫ কিলোমিটারজুড়ে থেমে থেমে গাড়ি চলছে।
বুধবার (২৮ জুন) ভোর রাত ৪ টা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপার থেকে টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার ঘারিন্দা পর্যন্ত এই যানজটের সৃষ্টি হয়।
মহাসড়কে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহাসড়কে পরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, সেতুর উপরে পরপর দুর্ঘটনা, গাড়ি বিকল হওয়া, দফায় দফায় টোল আদায় বন্ধ এবং চালকদের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারনে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
মহাসড়কে যানজটের কারণে বিপাকে পড়েছে ঘরমুখো মানুষ। বিশেষ করে যারা বাস না পেয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপযোগে বাড়ি ফিরছেন বৃষ্টির কারণে তারা বেশি বিপাকে পড়েছেন।
জানা যায়, বুধবার ভোরে বঙ্গবন্ধু সেতুর উপর সংঘর্ষ ও এক পিকআপ গাড়ি বিকল হয়। পিকআপটি সরাতে এক ঘন্টার উপরে সময় লাগে। এতে ভোর রাত ৪ টা ১৫ থেকে ৪ টা ৫৩ পর্যন্ত টোল আদায় বন্ধ রাখে সেতু কর্তৃপক্ষ। এর আগেও কয়েক বার টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়। এতে যানজট শুরু হয় মহাসড়কে।
খোলা ট্রাকে পরিবার নিয়ে যাওয়া গন্তব্যে যাওয়া জাহিদ হোসেন জানান, বাস না পেয়ে ট্রাকে উঠেছি কিন্তু বৃষ্টি বিপাকে ফেলেছে। এই বৃষ্টি হচ্ছে এই হচ্ছে না। রাতে গাড়িতে উঠেছি কোনাবাড়ি থেকে এখন সকাল ৭টা বাজে এলেঙ্গাতে আছি।
বাসের চালকরা জানান, ঢাকা থেকে যানজট ঠেলে আসতেছি। মহাসড়কের চারলেন হলেও এলেঙ্গার যানজট মহাসড়কে গিয়ে ঠেকেছে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি জাহিদ হাসান জানান, সেতুর উপর ও মহাসড়কে দুর্ঘটনার কারণে যানজট শুরু হয়। গাড়ির টান শুরু হয়েছে আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক হবে।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে মহাসড়কে কখনো যানজট, ধীরগতি ও স্বস্তি ভোগ করছে ঘরমুখো মানুষ।
এনিয়ে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। এর বিপরীতে ৪২ হাজার ৫৬০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৬ জুন) সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। এর বিপরীতে ৪২ হাজার ৫৬০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।
তারমধ্যে সেতু পূর্ব টাঙ্গাইল অংশে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ হাজার ৮১৭টি যানবাহন পারাপার হয়। তার বিপরীতে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৯৪ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে এবং সেতু পশ্চিম সিরাজগঞ্জ অংশে ১৭ হাজার ৭৪৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীত টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫০ টাকা।
মঙ্গলবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসানুল কবীর পাভেল এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ঈদের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ যানবাহন বেশি পারাপার হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। এর বিপরীতে ৪২ হাজার ৫৬০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। যানজট এড়াতে উভয়পাড়ে অতিরিক্ত টোল বুথও বসানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সিজারিয়ান ছাড়াই একসঙ্গে তিন কন্যাসন্তান জন্ম দিয়েছেন শিউলি আক্তার (২৬) নামে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী।
বুধবার(২১ জুন) বিকেলে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে টাঙ্গাইল-ময়মেনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার ইছাপুর নামক স্থানে অ্যাম্বুলেন্সে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে তার কোলজুড়ে ফুটফুটে তিনটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।
শিউলি আক্তার কালিহাতী পৌরসভার থানা পাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী। একসঙ্গে তিন তিনটি কন্যা সন্তানের বাবা-মা হতে পেরে খুব খুশি দেলোয়ার-শিউলি দম্পতি। এই দম্পত্তির আগের ৮ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
গৃহবধু শিউলি আক্তারের ছোট বোন মুক্তি আক্তার শিল্পী জানান, শিউলি প্রসব বেদনায় অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে ঐদিন বিকেলেই সেখানে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পরে আরও দুইটি বাচ্চা পেটে থাকায় ডাক্তারের পরামর্শ ক্রমে শিউলিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেয়ার টাঙ্গাইল-ময়মেনসিংহ মহাসড়কের পথে ইছাপুর নামক স্থানে অ্যাম্বুলেন্সেই নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে দুইটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
তিনি আরও জানান, গৃহবধু শিউলি আক্তারসহ তিন নবজাতক মোটামুটি সুস্থ রয়েছেন।
কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সাহেদুর রহমান জানান, মাসহ তিন নবজাতকের চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন বিষয় প্রয়োজন হলে স্বাস্থ কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বিএনপি বলছে এ সরকারের প্রতি বিদেশিদের সমর্থন নেই, দেশের মানুষের সমর্থন নেই। বিদেশিদের সমর্থন দরকার নেই আমাদের। আমরা চাই দেশের জনগণের সমর্থন। জনগণ এদেশের মালিক। জনগণ নির্ধারণ করবে আমাদের প্রতি তাদের সমর্থন আছে কি না। সেটা নির্বাচনে প্রমাণ হবে।
শনিবার(২৪ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর অডিটোরিয়ামে শিক্ষক ফেডারেশনের আত্মপ্রকাশ ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বরের শেষে বা জানুয়ারির শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা আবার দেশটাকে উত্তাল করতে চায়। সংবিধানের আলোকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যারা বিদেশিদের কাছে হাত পাতছেন, তাদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন, তাদের কাছে ভিক্ষা চাচ্ছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও অনেক বিদেশি শক্তি আমাদের বিরুদ্ধে ছিল। সেই সময় দেশের জনগণ আমাদের পক্ষে ছিল। সরকার নির্বাচিত সরকার। এ সরকার জনগণের সরকার। জনগণের জানমাল, সম্পদ ও নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ১৪ ও ১৫ সালের মতো আর তাণ্ডব চালাতে দেব না বিএনপিকে। মানুষকে জীবন্ত হত্যা করবেন, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেবেন তা হবে না এখন। বর্তমান সরকার এগুলোকে প্রতিহত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি তারা আবার দেশটাকে উত্তাল করতে চাচ্ছে। তারা ১৪ সালে যে তাণ্ডব চালিয়েছে সে রকম আর তাণ্ডব চালাতে পারবে না। পুলিশকে হত্যা করবেন, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেবেন তা হবে না। বর্তমান সরকার দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে, উন্নয়ন করেছে, জনগণ সরকারের সঙ্গে রয়েছে, জনগণকে নিয়ে আমরা প্রতিরোধ করবো।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক বেশি সুশৃঙ্খল, অনেক বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে, অনেক বেশি সংগঠিত। তাদের দায়িত্ব বর্তমান সরকারকে নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তারা সে সক্ষমতা রাখে। তারা কোনো রাজনৈতিক অশ্লীলতা সৃষ্টি করতে পারবে না।
এ সময় মধুপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুশীল কুমার দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা গবেষণা কমিটির কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. আবু হাদী নুর আলী খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন ,মধুপুর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইয়াকুব আলী প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে অন্তত ২০জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টিয়ার গ্যাস ও গুলি ছুড়েন।
এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়ী, অন্তত ২০টি মটরসাইকেল, কাজী ডিজিটাল হাসাপাতাল, উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙ্গচুর করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার(১৩ জুন ) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে মধুপুর শহরে পৃথক সমাবেশ পালনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা হয়।

বিবাদমান দুই গ্রুপের এক পক্ষ স্থানীয় এমপি ও কৃষিমন্ত্রীর অনুসারী এবং আরেক পক্ষ মধুপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান আবুর সমর্থক।
জানা যায়, মধুপুর পৌর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে যৌথভাবে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আয়োজন করা হয়।
অপর দিকে, মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন মনি ও সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান আবু থানা মোড়ের দক্ষিণে পৃথকভাবে কর্মসূচির আয়োজন করে।
এ সভায় যোগদান করতে আসা ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পথিমধ্যে হামলার শিকার হন। এই ঘটনাকে ঘিরে মধুপুরে উত্তেজনা দেখা দেয়।
আহতরা হলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও লাউফুলা গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে খলিলুর রহমান (৩২), দামপাড়া গ্রামের মোর্শেদের ছেলে মাসরাফি (২৩), ইদিলপুর গ্রামের আহমেদ আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬০), ভবানটেকী গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে সোয়াইফ (২০), গাংগাইর গ্রামের খালেদ আহমেদের ছেলে মাসরুর আহমেদ প্রিতম (৩০), দানবাবান্দা গ্রামের আহসান আলীর ছেলে চাঁন মিয়া (৬৫)।

আহতদের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে । এ ছাড়া ইদিলপুর গ্রামের আহমেদ আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬০) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
মধুপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান জানান, আলোকদিয়া ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল হোসেনের নেতৃত্বে মটরসাইকেল ও অটোরিক্সা যোগে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের সমাবেশে আসার সময় থানা মোড়ে কতিপয় ছাত্র ও শ্রমিক নেতা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার নিকটে থাকা ৬০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। হামলাকারীরা সকলেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবুর নেতৃত্বাধীন কর্মী বলে দাবি করেন তিনি।
এই ঘটনার পর মধুপুর পৌরসভার মেয়র সমর্থিত নেতাকর্মীরা লাঠি-শোঠা নিয়ে এগিয়ে থানা মোড়ের দিকে এগিয়ে আসে। এরই মধ্যে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন ও সভা শেষে ছরোয়ার আলম খান আবুর নেতৃত্বাধীন মিছিলটি ফিরছিল। থানা মোড়ে মিছিল আসা মাত্রই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে । এ সময় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়। ভাঙ্গচুর করা হয় উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয়, তার ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি, অন্তত ২০টি মোটর সাইকেল, কাজী ডিজিটাল হসপিটাল। দুই গ্রুপের ইট পাটকেল নিক্ষেপ, পুলিশের গ্যাস গান ব্যবহারে থানা মোড় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পার্শ্ববর্তী বাসা বাড়ির লোকজন আতংকিত হয়ে পড়ে। মধুপুরের দোকান পাট মুহুর্তের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পাশ্ববর্তী থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পৌনে আটটা পর্যন্তও বিক্ষিপ্তভাবে ককটেল বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া যায়।
রাত আটটায় মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছরোয়ার আলম খান আবু তার বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশ করা সম্পূর্ণ সংগঠন বিরোধী। তাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করার এখতিয়ার নেই। তারপরও মেয়রের নেতৃত্বে গাড়ী, মটরসাইকেল, দোকান, হাসপাতাল ভাঙ্গচুর নেতাকর্মীদের পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটিয়েছে। সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের উপরে হামলা করে অন্তত ৫০ জনকে তারা আহত করেছে। তারা নিরাপত্তার কথা ভেবে বিভিন্নস্থানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান আবু আরো বলেন, পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান কৃষি মন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি ড. আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারী। এ ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ দিবো।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন মনি, সহসভাপতি কাজী আব্দুল মালেকসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে মধুপুর পৌরসভার মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে সংগঠন বিরোধী কার্যক্রম করার অপরাধে কেন বহিষ্কার করা হবে না মর্মে শোকজ করা হয়েছে। বর্তমানে দলীয় কার্যক্রম করার এখতিয়ার তিনি হারিয়েছেন। তাই উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের থানা মোড়ে আবুর কর্মীরা হামলা করে আহত করে। পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমি বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত করে ফিরিয়ে নিয়ে আসি।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মুরাদ হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি হয়েছে। কোন পক্ষই এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর)। তার হেফাজত থেকে দুটি পুলিশ পোষাক, একটি পুলিশ বেল্ট, একটি পুলিশ রিফ্ল্যাক্টিং বেল্ট ও পাঁচটি ছোরা জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (২৩ জুন)বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম মো. সোনাব আলী (৫০)। সে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার চরকুরকী গ্রামের মৃত জিলানীর ছেলে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি উত্তর) অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মো. মোশারফ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি প্রতিরোধ, অবৈধ মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান করা হয়। রাত সোয়া ১০ টার দিকে খবর আসে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাগমারী কলেজ মোড়ে কিছু ডাকাত পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে পুলিশের নকল পোষাক ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র, অন্যান্য মালামালসহ অবস্থান করছে। পরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কাগমারী কলেজ মোড় থেকে মো. সোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরো জানান,শুক্রবার এসআই মনির বাদি হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে সোনাব আলীকে কারাগারে পাঠানো হয়।পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি প্রস্তুতির সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।